বাংলাদেশ পুলিশের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ডিআইজি মোঃ গোলাম রউফ খান পিপিএম (বার) এনডিসিকে ঘিরে আবারও প্রশাসনিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। বাধ্যতামূলক অবসরের সম্ভাব্য তালিকায় তার নাম থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় মহল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে “অন্যায় ও বৈষম্যমূলক” হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ডিআইজি গোলাম রউফ খানের চাকরির মেয়াদ এখনো প্রায় নয় বছরের বেশি রয়েছে। এমন অবস্থায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরের আলোচনায় আনা প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, দীর্ঘ কর্মজীবনের মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়ে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে খুলনা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার নাম আলোচনায় আসে। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের প্রথম দিকের ধাপগুলোতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এর পরপরই তাকে “বিএনপি-জামায়াতপন্থী” আখ্যা দিয়ে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
খুলনা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে তাকে বরিশালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয় তাকে। পরে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) হিসেবে প্রায় সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময়ে তিনি কঠোর পেশাদারিত্ব, সততা ও জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
তবে তার কর্মজীবনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ২০১৮ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপি ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তাকে হঠাৎ করেই সরিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক সপ্তাহ আগে, ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই, তাকে তড়িঘড়ি করে বরিশাল থেকে বদলি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একদিনের মধ্যে বরিশাল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হয়নি। পরে তাকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসনের ভেতরে নিরপেক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের অনেক সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় চাপের মুখে পড়তে হয় এবং ডিআইজি গোলাম রউফ খানও তার ব্যতিক্রম নন। প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় স্বীকার করেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় তিনি বারবার বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, ডিআইজি গোলাম রউফ খান পিপিএম (বার) এনডিসি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই একজন সৎ, নির্ভীক ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার দায়িত্বশীল আচরণ ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের স্মৃতি এখনো সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচিত হয়। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতাকে মূল্যায়ন না করে তাকে বিতর্কিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা প্রশাসনের জন্য নেতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে।


