নিজস্ব প্রতিবেদক: পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে আলোচিত নমিতা রানী হত্যা মামলার মূলহোতা ও প্রধান আসামি মো. কামাল পঞ্চায়েতকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮। শনিবার (১৪ জুন) রাতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার শ্রীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৮ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে র‌্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইন্দুরকানী উপজেলার দক্ষিণ চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা কামাল পঞ্চায়েতকে আটক করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত নমিতা রানী পালের (৬০) পুত্রবধূ বন্যা রানী পালের (৩২) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কামাল পঞ্চায়েতের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের কারণে কামাল প্রায়ই নমিতা রানীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি নিয়ে নমিতা রানী ও তার স্বামী আপত্তি জানালে অভিযুক্তরা তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং হত্যার পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ মে বিকেল থেকে রাতের মধ্যে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় নমিতা রানী পালকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহে গলায় নখের আঁচড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

ঘটনার পর নিহতের স্বামী বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর কামাল পঞ্চায়েত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে র‌্যাব-৮, সিপিএসসি বরিশালের একটি চৌকস দল গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত কামাল পঞ্চায়েতকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইন্দুরকানী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলায় অবৈধভাবে পাচারকালে ১৩ ব্যারেল রেণু পোনা জব্দ করা হয়েছে। গতকাল রোববার মধ্যরাতে বরিশালের দোয়ারিকা শিকারপুর ব্রিজের টোল প্লাজায় একটি ট্রাক যোগে ১৩টি ব্যারেল রেণু পোনা পাচার হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় এনএসআই। এ সময় ট্রাকে থাকা ৬-৭ জন শ্রমিক ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জব্দ মাছের রেণু পোনা বরিশাল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কীর্ত্তণখোলা নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

বরিশাল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জামাল হোসাইন বাসস’কে বলেন, ভোলা থেকে অবৈধভাবে ট্রাকযোগে পাচারকালে এ সব রেণু পোনা এনএসআই এর সহযোগীতায় জব্দ করা হয়। উদ্ধার ১৩ ব্যারেলের প্রায় তিন লাখ রেণু পোনার আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকা। পরে বরিশালের কীর্ত্তণখোলা নদীতে এ সব রেণু পোনা অবমুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১ কেজি গাঁজাসহ আহম্মদ আলী (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) রাত ২টা ৪০ মিনিটে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। আটক আহম্মদ আলী মৃত হোসেন আলী বেপারীর ছেলে। তার মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম। তিনি মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা।

অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এ ঘটনায় মেহেন্দীগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এফআইআর নম্বর-১৪, তারিখ ১৫ জুন ২০২৬ এবং জিআর নম্বর-১৪৫, তারিখ ১৫ জুন ২০২৬।

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

বরিশাল নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডস্থ রিফুজি কলোনীতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের  মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ঐ এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি রফিক ওরফে গাজা রফিকের স্ত্রী, ছেলে সহ ৫ (পাঁচ) মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। রবিবার (১৪) জুন রাতে নগরীর রিফিউজি কলোনীর গাঁজা রফিকের মালিকানাধীন স্নেহা ভবনের ২য় তলা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকৃতরা হলেন, বাপ্পি হাওলাদার (২৪), রফিকুল ইসলাম প্যাদার ছেলে মো: রাতুল ইসলাম (২৪), উজ্জ্বল হাওলাদার (২৫),  ইমন হাওলাদার (১৯) এবং রফিকুল প্যদার স্ত্রী অনু বেগম (৩৮)। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রবিবার রাতে নগরীর রিফিউজি কলোনি এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তিনি আরও জানান, পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে নগরীর রিফিউজি কলোনীর গাঁজা রফিকের মালিকানাধীন স্নেহা ভবনের ২য় তলায় অভিযান চালিয়ে নারী সহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৬২ পিস ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।

এসময় অভিযান পরিচালনা করেন এসআই গোলাম মোঃ নাসিম, এসআই আবু তালেব, এসআই নাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোঃ সাইফুল, এএসআই আল আমিন, এএসআই আরিফ, এএসআই বাবুল, এএসআই জুয়েল শেখ ও নারী কনস্টেবল সুমি আক্তার।

আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

 

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসের ইউনিয়ন ভ‚মি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মোঃ আশরাফ আলী খানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে স্থানীয় মহল, ভূমি অফিস সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা আর্থিক সাম্রাজ্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পটুয়াখালী পৌরসভার ভিআইপি এলাকা খ্যাত বনানী এলাকার ৪৯৪ নম্বর কলেজ রোডে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ‘তুষার ভবন’ নামের একটি দৃষ্টিনন্দন পাঁচতলা ভবন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রায় ৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এ ভবনে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে তার বড় ছেলে তুষারের নামে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, অবসারপ্রাপ্ত সেনা সদস্য স্থানীয় খালেক দালালের কাছ থেকে জমি ক্রয়ের পর সেখানে এই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এত বড় বিনিয়োগের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। শুধু বহুতল ভবনই নয়, অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সন্তানদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিপুল ব্যয়ও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, আশরাফ আলী খান তার দুই ছেলে তুহিন ও আকাশকে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য গত সাড়ে ৪ বছর পূর্বে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছেন। দুই দফায় তাদের বিদেশে পাঠানো এবং সেখানে পড়াশোনার পেছনে কোটি কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

এদিকে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের দাবি, পটুয়াখালী পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন আশরাফ আলী খান। অভিযোগ রয়েছে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের এফডিআর রয়েছে। স্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালংকার। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট কিনে সেগুলো ভাড়ার মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক আমানত ও স্বর্ণালংকার সংক্রান্ত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, আশরাফ আলী খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ নতুন নয়। তিনি বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর ঘুষের দর-কষাকষি সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিতর্কের জন্ম নেয়। গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশের পর তাকে শাস্তি স্বরুপ ভোলায় বদলি করা হয়। সেখান থেকে গত মাস তিনেক পূর্বে মির্জাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসেন সে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, ঘুস লেনদেনের ভিডিও ফাঁসে বদলি হলেও বদলায়নি তার কর্মকাণ্ডের ধরন। বরং পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন আরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। প্রকাশ্যে নয়, আড়ালে-আবডালে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেন পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার চাকরিজীবনের আয় দিয়ে কীভাবে বহুতল ভবন, মূল্যবান জমি, বিদেশে সন্তানদের উচ্চশিক্ষা, বিপুল ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য সম্পদের ব্যবস্থা করা সম্ভব হলো? তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এবিষয়ে মোঃ আশরাফ আলী খানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।

 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের এ সফল অভিযানে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মঠবাড়িয়া ও আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিকভাবে মাদকের বড় বড় চালান জব্দ হচ্ছে। সর্বশেষ এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, এত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মঠবাড়িয়ায় প্রবেশ করছে কীভাবে? একের পর এক মাদকের চালান উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে, এ অঞ্চলে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাদের মতে, শুধুমাত্র খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূল হোতা ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে মাদক সরবরাহের উৎস ও নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়ে মঠবাড়িয়াকে মাদকমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ২ নং মগর ইউনিয়নের রায়াপুর সৈয়দ আব্দুল লতিফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এবং গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে সভাপতি পদের জন্য একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তালিকায় ক্রমানুসারে মো. অহিদুজ্জামান ওয়াহিদ, মো. হাফিজুর রহমান পারভেজ এবং জহিরুল ইসলাম খান বাপ্পীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ২১ মে ২ নং মগর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মো. জালাল দেওয়ানের পরামর্শ ও অনুমতিক্রমে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদের জন্য এই তিনজনের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

এ সময় প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের সর্বসম্মতিতে খসড়া কমিটি ও রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেন সামাজিক,রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন মো. নুরুজ্জামান চান মিয়া, আব্দুল মতিন, মো. অহিদুজ্জামান, ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হালিম হাওলাদার, অসীম কুমার রায়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. জহিরুল ইসলাম বাপ্পি,বর্তমান ইউপি সদস্য মো. চুন্নু হাওলাদার,সাবেক সদস্য মো. নিজাম শিকদারসহ আরও অনেকে।

সভায় উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে একটি পক্ষ সভাপতি পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, “স্থানীয় ণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতামত ও ঐকমত্যকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও উন্নয়নের ধারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বার্থে সৎ, মেধাবী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করার জোর দাবি জানিয়েছে

 

বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টায় কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খালপাড় সড়ক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে খালপাড় এলাকার বাসিন্দা মৃত কামরু গাজীর ছেলে সজল গাজী (৩০)-এর কাছ থেকে ১১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ তাকে আটক করা হয়।

কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মাদক জব্দ করা হয়েছে এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মাদক নির্মূলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

 

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরপরই তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

শনিবার (১৩ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

 

ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি ও পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা ও ভাই দীর্ঘদিন ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সেই সূত্রে ওই শিশুরও তদন্ত কেন্দ্রে যাতায়াত ছিল।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম শিশুটিকে বিভিন্ন সময় তার বাসায় ডেকে নিতেন। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।ভুক্তভোগীর পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, ঘটনাগুলো কাউকে না জানানোর জন্য অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে হুমকি দিতেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় টাকা দেয়ার প্রলোভনও দেখানো হতো বলে দাবি করা হয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী হিমেল বলেন, এ ঘটনায় হাতিয়া ও আশপাশ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন আরও বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় শাশুড়ি ও মেয়ে জামাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় স্বর্ণা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ি মুনজুমা বেগম (৪০) ও ননদ জামাই সৌরভসহ (৩০) শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বর্ণার স্বামী রাকিবকে আটকের পর কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এনে থানায় একটি মামলা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের সি—কেওয়াবুনিয়া বাজারে মানববন্ধন করেন নিহত গৃহবধূ স্বর্ণার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, শাশুড়ি মুনজুমার মেয়ে মারুফা প্রবাসে থাকার সুযোগে জামাই ও শাশুড়ির মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জেনে ফেলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন স্বর্ণা। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন বলেন, এই পরিবারটা খুবই অসহায়। তবে ওরা অত্যন্ত ভদ্র এক পরিবার। মেয়েটা অনেক নম্র—ভদ্র ছিল। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কঠোর বিচার হওয়া প্রয়োজন।

নিহত স্বর্ণার বাবার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার কবর স্থানের পাশে মাটিতে লুটিয়ে কাঁদছেন তার মা।

স্বর্ণার মা রিনা বেগম কান্না বিজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ওই বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। তখন স্বর্ণা আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে বলে— মা, এখানে আমার ভালো লাগে না। আমারে ১০ হাজার টাকা দিবা? আমি তোমার জামাইকে নিয়া ঢাকা যামু। কারণ জানতে চাইলে স্বর্ণা বলে —মা তোমার কাছে বলতে আমার লজ্জা লাগে, তবুও বলছি, আমার শাশুড়ি আর আমার ননদের জামাই অবৈধ সম্পর্ক করে, আমি দুই—তিন দিন দেখছি। এ কথা বলার সময় ওই গৃহবধূর শাশুড়ি তা শুনে ফেলেন। পরের দিন ওর শাশুড়ি আমাকে জোর করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই শুনি আমার মেয়ে নাকি গলায় ফাঁস দিয়েছে। কিন্তু আশপাশের লোকজন বলছে, তারা কেউ ওরে গলায় ফাঁস লাগা অবস্থায় দেখেনাই। আমার মাইয়াটারে ওরা শাশুড়ি—জামাই মিলে মাইরা ফালাইছে। আমার এত আদরের মেয়েটা এইভাবে চইলা গেল, এভাবে ওরে মাইরা ফালাইলো। প্রশাসনের কাছে আমি এর বিচার চাই।’

স্বর্ণার বাবা কাঠমিস্ত্রি কামাল হাওলাদার কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি লোকজনের কাছে হাত পেতে চান্দা উঠাইয়া আমার মাইয়াটারে বিয়া দিছিলাম। কে জানতো এমন করে ওরা আমার মাইয়াটারে মাইরা ফালাইবে? আমার অনেক কষ্টের মাইয়া। ওরে সবসময় পর্দায় রাখছি, ওরা এইভাবে ওরে মাইরা ফালাইলো মানতে পারি না। আচ্ছা, গরিবের জন্য কি কোনো বিচার নাই? ওরা শাশুড়ি—জামাই কীভাবে পালিয়ে যায়? আমি ওদের বিচার চাই।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১০ জুন) স্বামীর বাড়ি পশুরীবুনিয়া এলাকা থেকে গুরুতর অবস্থায় স্বর্ণাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান প্রতিবেশীরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ। ঘটনার পর স্বর্ণার স্বামীকে আটক করা হলেও অভিযুক্ত শাশুড়ি মুনজুমা ও ননদ জামাই সৌরভ পলাতক রয়েছেন। স্বর্ণার শ্বশুর খালেক মিরা (৬০) পূর্ব থেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাশুড়ি ও ননদ জামাইয়ের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে শ্বশুর খালেক মিরার মুঠোফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে নিহতের স্বামীকে আটক করার পরে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যার মূল কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।