TT Ads

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:

বরিশাল নগরীতে পুলিশি অভিযানের সময় পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে রাশেদ খান মেনন (৪২) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার খান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত রাশেদ খান মেনন বরিশাল মহানগরের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম প্রকৌশলী হেমায়েত উদ্দিন বাদশার ছেলে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে কাউনিয়া থানার ৯ থেকে ১০ সদস্যের একটি পুলিশ দল তার বাসভবনে অভিযান চালায়। পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে পাশের একটি ভবনের দিকে যাওয়ার সময় নিচে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পশ্চিম কাউনিয়া এলাকায় আত্মীয়-স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে রোববার রাশেদ খান মেননের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়।

তবে এ ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজীব কুমার নাথ বলেন, “রাশেদ খান মেনন দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তার বাড়িতে যায়। তবে পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বাসায় নেই। পরে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। এরপর তিনি পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি।”

এদিকে, নিহতের পরিবারের দাবি, পুলিশি অভিযানের সময় আতঙ্কিত হয়ে পালাতে গিয়েই এ দুর্ঘটনা ঘটে। তারা ঘটনার জন্য পুলিশের দায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় রাশেদ খান মেননের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশি অভিযান, পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *