নিজস্ব প্রতিবেদক :: রাজধানীর মিরপুর কাফরুলে চালকের মাথায় আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে (২৭) আটক করেছে র‌্যাব-৪।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ দিনে রাতে র‍্যাব-৪ এর একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

র‌্যাব জানায়, সম্প্রতি মোটরসাইকেল চালকের মাথায় আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি আলোচনায় আসার পর র‌্যাব-৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানতে পারে, ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে ভুক্তভোগী রাফির সঙ্গে অভিযুক্তদের আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন আগেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় কালু, পারভেজ ও তাদের সহযোগীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করে। কালু ব্যর্থ হলে কিছুটা সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো ছুড়ে রাফির মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে অভিযুক্তরা আহত রাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

র‌্যাব আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও আটক অভিযান শুরু করা হয়। আটককৃত ফয়সাল ওরফে কালুর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

 

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন।

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফায় দফায় বৈঠকের পরও দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে রোববার থেকে তারা এ ধর্মঘটে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পরিবহন নেতারা।

ধর্মঘট শুরু হলে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলা-বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশালে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ৩ দফা দাবিগুলো হল-

১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা।

২. আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।

 

শ্রমিক নেতা শহীদুল ইসলাম বলেন, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে সরকারি ১৮টি বিআরটিসি বাস চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে চলছে তার চেয়ে বেশি। মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রিহুইলারগুলো নিয়মিত চলাচল করছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ২০২৪ সাল থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সাতটি বাস মালিক সমিতি ও সাতটি শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েক দফা সভা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসন বারবার শুধু আশ্বাসের বাণীই শুনিয়েছে, কোনো সুরাহা করতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলার মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে গত ২০ মে একটি জরুরি সভা করে ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে চিঠি দিয়ে স্ব স্ব জেলার প্রশাসনকেও জানানো হয়।

“আমরা আশা করেছিলাম ১১ জুনের আগে প্রশাসন সমস্যার সমাধান করবে। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবির বিষয়গুলো সমাধান না করায় আগামী ১৪ জুন ভোর ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, বাস মালিক সমিতির তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে একটি বৈঠকও হয়েছে।

তিনি বলেন, “আগামী ১৪ জুন থেকে মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট যাতে না হয় তার উদ্যোগ নিচ্ছি। আশা করছি আগেই সমাধান হয়ে যাবে।”

 

 

 

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর এলাকায় ইয়েস পরিবহন ও মাদারীপুরগামী একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি লোকাল বাস গোপালপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ইয়েস পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

 

 

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় এক বিধবা নারীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ২ বছরের শিশুকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মোঃ নাছির (৩৫) নামের ১ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  শুক্রবার (১২ জুন) ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নাছির উপজেলার ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বাঁশখাইল্যাঝিরি পাড়ার বাসিন্দা মজু মাঝির ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার (১০ জুন) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বাঁশখাইল্যারিরি পাড়ায় ১ বিধবা নারী বাড়ির পাশের বিলে তরকারি কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ মোঃ নাছির পিছন থেকে এসে তাকে জাপটে ধরেন। এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ধর্ষণে বাধা দিলে অভিযুক্ত নাছির একটি ধারালো ছুরি বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে ওই নারী জীবন বাঁচাতে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

তিনি আরো দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত তার পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ফের ওই নারীর ২ বছরের শিশুসন্তানকে অপহরণেরও চেষ্টা চালায় মোঃ নাছির। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নাছির গা ঢাকা দেয়।

পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টার দিকে মোঃ নাছিরের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১২ জুন) ভোর তিনটার দিকে কুমারী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ জামিল আহমেদ’ র নেতৃত্বে সঙ্গীয় সদস্যরা অভিযান চালিয়ে নাছির’কে গ্রেফতার করেন।

বিধবা নারী’কে ধর্ষণ চেষ্টা ও শিশু অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে নাছির’কে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেন লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল। তিনি বলেন, গ্রেফতার নাছির’কে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

 

সুন্দরবনের জলদস্যুদের অস্ত্র ও খাদ্য সরবরাহকারী চক্রের অন্যতম হোতা সবুর শেখকে (৩৫) ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার গানসহ গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৬।

​র‍্যাব-৬ এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
​অভিযান ও উদ্ধারে

র‍্যাব সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সুন্দরবনের সক্রিয় জলদস্যু ও ডাকাত দলগুলোকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন রসদ সরবরাহ করে আসছিল। এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে।

​অবশেষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সবুর শেখকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি ও তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে রাখা ০৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়।

​র‍্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সবুর শেখ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুন্দরবনের জলদস্যুদের সাথে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছে। সে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে দস্যুদের কাছে অস্ত্র বিক্রি এবং দুর্গম বনের ভেতরে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিত।

​”সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত এবং জেলে-বাওয়ালীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের এই ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল সংকট ও এলসি সংকটের কারণে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক নোটিশে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, উৎপাদন বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। একইসাথে সব শ্রমিক তাদের প্রাপ্য পাওনা যথাযথ সময় পেয়ে যাবেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শ্রমিকদের নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে যাওয়া বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশালের সমন্বয়ক ড. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, মূলত প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্মচারীদের আন্দোলনের এই নেতা আরো বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিনশ’ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তাই আমাদের দাবি, মালিকানা পরিবর্তন হলে পরবর্তী মালিককে ওইসব শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। একইসাথে শ্রমিকদের পাওনা কতোদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়েও নিশ্চয়তা দিতে হবে।

 

বরিশাল নগরীর কেডিসি কলোনির একসময়ের চিহ্নিত মাদক কারবারি ছিলেন আব্দুল মালেক ওরফে গাঁজা মালেক। ইতোপূর্বে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে নগরীসহ গোটা বরিশাল অঞ্চলে মাদকের হোলসেলার ছিলেন।

পরবর্তীতে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন মাদক সম্রাট গাঁজা মালেক। তার মৃত্যুর পর স্বামীর মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করেন স্ত্রী নিলুফা বেগম নিলু। পরবর্তীতে তিনি সাইদুল ইসলামকে বিয়ে করেন। এরপর দুজনে মিলেই নগরীসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে গাঁজার হোলসেল করতেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।
এদিকে অভিযান চালিয়ে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা। উদ্ধার হওয়া গাঁজার মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে নগরীর কেডিসি বালুর মাঠ এলাকায় শিল্পকলা একাডেমির পেছনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। তবে অভিযান টের পেয়ে আগেভাগেই আত্মগোপনে চলে যায় মাদকের ডিলার সাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নিলুফা বেগম নিলু।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) আব্দুল মান্নান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মো. ছগির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে দোতলা টিনশেড ঘরে তল্লাশি করে পাটের বাস্তা এবং ব্যাগের মধ্য থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। যার মূল্য ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নিলুফা বেগম নিলুসহ তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

তাছাড়া মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাইদুল ও তার স্ত্রী নিলুফাকে নামধারী এবং অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নিলুফা এবং সাইদুল দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে নিলুফার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৯টি এবং সাইদুলের বিরুদ্ধে একই থানায় ১২টি মাদক মামলার তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। অন্য থানায় আরও মামলা আছে কিনা সেগুলো খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

খেলনা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত এনায়েত খান (৫০) স্থানীয়দের ম্যানেজ করে বিষয়টি রফাদফার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ব্যর্থ হয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন। ঘটনাটি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের কাজীরহাট থানার।

খবর পেয়ে কাজীরহাট থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠিয়েছেন। এর আগে বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কাজীরহাট এলাকায় এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে।

এ ঘটনায় শিশুর দাদা বাদি হয়ে কাজীরহাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ওই এলাকার আক্কেল আলী খানের ছেলে এনায়েত খানকে (৫০) আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও মামলার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে শিশুটির মা কাজে বের হন। পরবর্তীতে এনায়েত খান শিশুটিকে খেলনা দেওয়ার কথা বলে বাহিরে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে চলে যায় এনায়েত।

পরে শিশুটির মা বাড়ি ফিরে মেয়ের কান্না শুনে তাকে খুঁজে পেয়ে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এ সময় বিষয়টি জানাজানি হয়। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পল্লী চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুলিশে খবর দিতে এবং বরিশালে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে শিশুর অভিভাবকরা লোকলজ্জার ভয়ে শুরুতে থানায় অভিযোগ করতে রাজি হননি। এদিকে বুধবার রাতে এনায়েত খান স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বিষয়টি টাকা-পয়সা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজীরহাট থানা পুলিশ শিশুটিকে অভিভাবকসহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

কাজীরহাট থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 


বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ এক সফল অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবাসহ এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।

​থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০:১৫ ঘটিকায় এয়ারপোর্ট থানাধীন ডেফুলিয়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) আখতার হোসেন, এএসআই (সহকারী উপ-পরিদর্শক) হালিম, এএসআই সুমন মিয়া-১ এবং এএসআই সুজন সহ পুলিশের একটি চৌকস টিম ডেফুলিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে কুদঘাটা ২৭নং ওয়ার্ডের ডেফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শওকত হোসেন হাওলাদার (৪৮)-কে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।

​গ্রেফতারকৃত আসামির ​নাম: মোঃ শওকত হোসেন হাওলাদার (৪৮)​পিতা: মৃত আঃ আজিজ হাওলাদার​ মাতা: মোসাঃ শামসুন নাহার ​ঠিকানা: সাং-ডেফুলিয়া, কুদঘাটা ২৭নং ওয়ার্ড, বিসিসি,থানা-এয়ারপোর্ট, জেলা-বরিশাল।

গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

​বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ পৃথক দুটি সফল অভিযান চালিয়ে ৭৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। গত ৯ ও ১০ জুন গভীর রাতে থানার কাশিপুর ও ডেফুলিয়া এলাকায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানার এসআই (নিঃ) মোঃ আল মোমেন, এএসআই (নিঃ) মোঃ দেলোয়ার হোসেন, এএসআই (নিঃ) মোঃ সুমন মিয়া এবং কং/১৩৪৪ মোঃ রনি’র সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।

​গত ৯ জুন (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় এয়ারপোর্ট থানাধীন ২৮নং ওয়ার্ডের কাশিপুর তেতুলতলা হাউজিং এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালানো হয়। সেখানে মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের বসতবাড়ির সামনের রাস্তা থেকে মাদক বিক্রির সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় মোঃ ওমর ফারুক (৩০) নামের এক যুবককে। ধৃত ওমর ফারুক বরিশাল কোতয়ালী থানার জাগুয়া ইউনিয়নের আস্থাকাঠী এলাকার মৃত জয়নাল খানের ছেলে। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ২৫ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

ডেফুলিয়ায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক কালু ​এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর, ১০ জুন (বুধবার) রাত ৩:৩০ ঘটিকায় এয়ারপোর্ট থানার একই টিম ২৭নং ওয়ার্ডের ডেফুলিয়া এলাকার দরগা বাড়িতে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়ার বর্তমান বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়াকে (৪১) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত কালু মিয়া নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার কুমরাদি এলাকার মৃত হিরন মিয়ার ছেলে। সে বর্তমানে বরিশালের ডেফুলিয়া এলাকার দরগা বাড়িতে বসবাস করে আসছিল।

​এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত উভয় আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১০(ক) ধারায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বিএমপির এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।