নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোড এলাকায় বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিপা আক্তার (৪৬) নামে এক দুই সন্তানের জননী নিহত হয়েছেন। তিনি সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের একজন প্রশিক্ষক ছিলেন।
গত সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৯ঃ৩০ মিনিটের দিকে নবগ্রাম রোডের শামসু মিয়ার গ্যারেজ সংলগ্ন ‘মাইন্ড কেয়ার’ হাসপাতালের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নিপা আক্তার স্থানীয় বাসিন্দা এবং বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সপেক্টর মোস্তফা জামানের সহধর্মিণী। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী ও দুই অবুঝ সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে সন্তানকে কোচিং থেকে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন নিপা আক্তার। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তিনি শক্ত রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে রেফার করেন। পরে ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রাত ২টা ৩০ মিনিটে উপস্থিত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় চরম শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নবগ্রাম রোড এলাকায় ইদানীং কিশোর ও তরুণদের বেপরোয়া বাইক চালানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে।
প্রতিনিয়ত গতিসীমা অমান্য করে বাইক চালানোর কারণে সাধারণ পথচারীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।
এলাকাবাসী এই সড়ক দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়ী মোটরসাইকেল চালক তামিমের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

