ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি হেরে গেছেন। তিনি ভবানিপুর আসনে নির্বাচন করেছিলেন। সেখানে বিজেপি ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শুভেন্দুর থেকে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি।

এরআগে ২০২১ সালে নন্দিগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরেছিলেন মমতা। এরপর ভবানিপুরে উপনির্বাচনে জয় পেয়ে বিধানসভার সদস্য ও পরবর্তীতে টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন।

তবে তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয় হওয়ায় এবার তার শাসনামলের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে আজ ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা হচ্ছে। একটি আসনে ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যে ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা হচ্ছে সেখানে ২০৪টি আসনে এগিয়ে আছে বিজেপি। অপরদিকে মাত্র ৮৪টি আসনে এগিয়ে তৃণমূল।

ভবানিপুরের ২০ রাউন্ড ভোগ গণনার মধ্যে ১৯ রাউন্ডের গণনা শেষে শুভেন্দুর চেয়ে ৩ হাজার ৮০০ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন মমতা। তখনই তার পরাজয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। জিততে হলে ২০তম ও শেষ রাউন্ডে তাকে বড় চমক দেখাতে হতো। কিন্তু সর্বশেষ রাউন্ডে ব্যবধান আরও অনেক বাড়ে।

বিজেপির বিরুদ্ধে একশরও বেশি আসন লুটের অভিযোগ মমতার

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একশরও বেশি আসন লুট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এছাড়া তিনি ধাক্কা দেওয়া  মারারও অভিযোগ করেছেন।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় সেখানে নির্বাচন হয়। আর আজ হয় ভোট গণনা। আজকের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৫টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে। অপরদিকে তৃণমূল মাত্র ৮৪টি আসন পাচ্ছে।

এরমধ্যেই ফলাফল কারচুপির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, মমতা কালিঘাটে তার বাড়িতে চলে গেছেন। এরআগে সাখাওয়াত নামে একটি গণনা কেন্দ্রে আসেন তিনি। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়।

ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করেছেন দক্ষিণের জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয়। সবশেষ পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের ‘দ্রাভিদা মুনেত্রা কাজাগাম’ (ডিএমকে) জোটকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে এককভাবে শীর্ষে রয়েছে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজয় ও তার দল এখন পর্যন্ত ৮৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে এআইএডিএমকে জোট ৭৫টি আসনে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কিন্তু বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন ডিএমকে। গত নির্বাচনে ১৩৭টি আসনে জিতলেও এবার এখন পর্যন্ত তারা মাত্র ৫৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য আইডিয়াল ফিগার হলো ১১৮টি আসন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজনীতিতে নামার ঘোষণা দিয়ে বিজয় জানিয়েছিলেন, এটি তার কাছে কোনো শখের কাজ নয় বরং জনগণের সেবা করার একটি ‘মিশন’। অভিনয়ের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেই তিনি রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন।

বিজয়ের এই আকস্মিক উত্থানকে বিশ্লেষকরা তামিল রাজনীতির একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন। ইশতেহারে তরুণ, নারী ও মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সুবিধার প্রতিশ্রুতি বিজয়ের এই সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বিজয়ের ‘হুইসেল’ বিপ্লব তামিলনাড়ুর মসনদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে কি না, তা নিয়ে এখন পুরো ভারতে চলছে ব্যাপক উত্তেজনা।

 

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি। কাজের ফাঁকে সবটুকু সময় সন্তানদের নিয়ে কাটান তিনি। ছেলে পূণ্য ও দত্তক নেওয়া কন্যা প্রিয়মকে নিয়ে এখন তার সংসার। অভিনেতা শরীফুল রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানকে নিয়ে একা হাতেই সব দায়িত্ব পালন করছেন এই নায়িকা।

অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সক্রিয় পরীমণি। মাঝে মাঝেই সন্তানদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন তিনি। এবার মেয়ে প্রিয়মের জন্মদিনে একগুচ্ছ ছবি ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন পরী।

মেয়ের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে পরীমণি আবেগঘন ক্যাপশন লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার মা। আমার ছোট্ট রঙিন প্রজাপতি। আমার বাচ্চা, আম্মু তোমাকে অনেক ভালোবাসি। হ্যাপি বার্থডে আমার পুতুল।’

শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, নীল ও সাদা বেলুনে সাজানো একটি মনোমুগ্ধকর ব্যাকড্রপের সামনে মেয়েকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন পরীমণি। সামনে সাজানো টেবিলে রয়েছে সুন্দরভাবে তৈরি একটি থিম কেক, যা পুরো আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে পরীমণির এই ভালোবাসা নতুন নয়। ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার পরপরই তা ভক্তদের ভালোবাসায় ভেসেছে। অনেকেই প্রিয়মকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরীর মাতৃত্বকে প্রশংসা করেছেন।

মৌলভীবাজারে পাকা বোরো ধান ঘরে তোলার আগেই কয়েকদিনের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে জেলার হাওরাঞ্চল। সোমবার (৪ মে) পানি কিছুটা কমায় ও দিনভর হালকা রোদ থাকায় কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। যেসব ধান কাটার পর রোদের অভাবে নষ্ট হচ্ছিল এসব ধান কিছুটা হলেও শোকাতে পাড়ছেন কৃষকরা। হাওরে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাসতে শুরু করছে পঁচে নষ্ট হয়ে যাওয়া ধান।

কৃষকরা জানান, এক সপ্তাহ পর আজ কিছুটা রোদে ধান শোকানো গেছে। যেসব কৃষক কষ্ট করে বুকসমান পানি থেকে ধান কেটে এনেছিলেন তাদের ধান রোদের অভাবে নষ্ট হচ্ছিল। অনেক ধান থেকে চারা গজিয়েছে। এক সপ্তাহ পর রোদে ধান শোকাতে পেরে স্বস্তি জানিয়েছেন তারা। তবে বেশিরভাগ ধান হাওরের পানির নিচে তলিয়ে আছে। জেলায় অন্তত ২০ হাজার কৃষক একেবারে ধান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২৫৯৭ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১৮ হাজার ৫০০টি।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার হাকালুকি, কাউয়াদিঘী, হাইল হাওর, কেওলার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান নিমজ্জিত রয়েছে। পানি কিছুটা নামতে শুরু করায় কিছু কিছু এলকায় ধান ভাসতে শুরু করেছে। তবে বেশিরভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এক সপ্তাহ পর রোদের দেখা পাওয়ায় ধানের ঢিবি থেকে রোদে শোকাতে দিয়েছেন।

কৃষকরা বলেন, কৃষি অফিস ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য উপস্থাপন করছে না। তারা সবসময় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এড়িয়ে যায়। হাওরের ৫০ শতাংশ কৃষক ধান কাটতে পারেননি। অথচ কৃষি অফিস থেকে বলা হচ্ছে ৮৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে হাওরে। অনেক মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আবার কেউ কেউ এনজিওর ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। এখন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এসব কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

কৃষক কামাল আহমেদ বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় একসপ্তাহ ধরে হাওর এলাকাসহ বিস্তীর্ণ বোরো ফসল পানির নিচে থাকায় সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা ধান কেটেছিলেন তরা শোকাতে পারেননি। আজ সকালে বৃষ্টির পর কিছুটা রোদ উঠেছে। হাওরের পানিও কমতে শুরু করেছে তবে ধান নষ্ট হয়ে গেছে একেবারে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জেলায় ২ হাজার ৫৯৭ হেক্টর জমির ধান পচে নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বছর হাওরে ধান অনেক ভালো হয়েছিল। তবে প্রকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভালোভাবে ধান ঘরে তোলা যায়নি।

চোখ বাঁধা অবস্থায় দ্রুততম সময়ে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে গিনেস বুকে নাম তুলেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের সিফাত আকন (১৮)। ১০টি মাস্ক পরতে তার সময় লেগেছে ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ড।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন তিনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বীকৃতি আসে গত ২৮ এপ্রিল।

এ বিষয়ে সিফাত আকন বলেন, বছর চারেক আগে পত্রিকায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আমার চোখে পড়ে। সেখান থেকে পরিকল্পনা শুরু করি। তখন ছিল করোনা কাল, তাই মাস্ক-সংক্রান্ত কিছু করার কথাই সবার আগে মাথায় এসেছিল। ঠিক করি, মাস্ক পরে রেকর্ড গড়বো।

তিনি বলেন, এই রেকর্ডটা প্রথম করেছিল একজন ভারতীয়। তিনি সম্ভবত ১১ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডে করেছিলেন। তখনই আমি রেকর্ড ভাঙার কথা চিন্তা করি। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও কোথাও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাই নাই। তখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সম্পর্কে ধারণা পেতে ফেসবুক, ইউটিউবে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করি। সেখানেও কোনো পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন মেলেনি।

সিফাত আরও বলেন, হাল না ছেড়ে পুরো প্রচেষ্টায় শুরু করি, শুরুর দিকে ২৫-২৬ সেকেন্ড লেগে যেত। কারণ চ্যালেঞ্জ মূলত দুটি। প্রথমত চোখ বাঁধা থাকার কারণে মাস্ক হাতে তুলে নিতে সময় লেগে যায়। দ্বিতীয়ত, মাস্কটি ঠিকভাবে পরাও কঠিন। অনুশীলনের সময় মা, ছোট ভাই আর বন্ধু ইমনের উৎসাহ পাই। ১৮ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় নথিসহ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য আবেদন করি। তিন মাস পর ২৮ এপ্রিল রাতে ই-মেইলে আমার রেকর্ডকে স্বীকৃতি দেয় গিনেস। খবর শুনে আমার চেয়েও বেশি খুশি হয়েছিলেন আমার মা।

সিফাত উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে পড়তে চান। সিফাতের বাবা আবদুল জলিল একজন বনরক্ষী। আর মা গৃহিণী।

সিফাতের মা বেগম সুরমা বলেন, সামনে সিফাতের আরও রেকর্ড গড়ার ইচ্ছা। এক মিনিটে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে জড়িয়ে ধরার রেকর্ড নিয়ে ভাবছেন সে। করতে চান এক মিনিটে সর্বোচ্চ ‘হ্যান্ডশেক’ এর রেকর্ডও।

সিফাতের বাবা জলিল আকন জানান, তার ছেলের সাফল্যে খুশি। গর্বের বিষয় সে ১০ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরিধান করে রেকর্ড গড়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করবে এই প্রত্যাশা করেন।

ফুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন হোসেন বলেন, সিফাত আমাদের এলাকারই সন্তান। অনেক অধ্যবসায় করার ফলে তিনি ১০ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরিধান করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে, এটি আমাদের এলাকার গর্ব। আমি ওর রেকর্ডটি নিজ চোখে দেখেছি। ভবিষ্যতে যেন ভালো কিছু করতে পারে, এটাই প্রত্যাশা করি।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার এই রেকর্ডের জন্য সিফাত আকনকে কার্যালয়ে ডেকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। তাকে সব রকমের সহযোগিতা দিয়ে তার পাশে থাকার কথা বলেন ইউএনও।

বৃষ্টি ম‌্যাচে প্রভাব রাখতে পারে তা আগে থেকেই ধারণা ছিল দুই দলের। তাইতো বিকল্প পরিকল্পনা ছিল দুই দলেরই। কিন্তু বাংলাদেশ যেভাবে খেলল তাতে মনেই হলো না ম‌্যাচটায় বাংলাদেশ টিকে আছে। বৃষ্টি স্রেফ এলোমেলো করে দিল স্বাগতিকদের সিরিজ জয়ের স্বপ্ন।

 

গুমোট আবহওয়ায় টস জয় মানেই অনেকটা এগিয়ে যাওয়া। ভাগ্য এদিন নিউ জিল‌্যান্ডের পক্ষে। নিক কেলি টস জিতে বাংলাদেশকে ব‌্যাটিংয়ে পাঠালেন। ব‌্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা একেবারেই মন্দ বাংলাদেশের। ৩৫ রান তুলতে নেই ৩ উইকেট। এরপর বৃষ্টির বাগড়া। সেই বৃষ্টিতেই তছনছ সব। পরে বাংলাদেশ লড়াইয়ের চেষ্টা করেও পারেনি।

 

১৫ ওভারে নেমে আসা ম‌্যাচে বাংলাদেশ ১৪.২ ওভারে অলআউট মাত্র ১০২ রানে। শেষ ২৫ বলে মাত্র ১৬ রান তুলতে হারায় ৬ উইকেট।

স্বল্প সেই পুঁজি নিয়ে পেসার শরিফুল ইসলাম আগুণ ঝরালেন। ২৫ রানে তুলে নিলেন ৩ উইকেট। এরপর অধিনায়ক নিক কেলিকে বোল্ড করলেন স্পিনার মাহেদী। শুরুর লড়াইয়ে বড় আশায় বুক বাঁধছিল বাংলাদেশ। স্টেডিয়ামের প্রায় ১৮ হাজার দর্শকও সেই একই আশাতে। কিন্তু বেভন জ‌্যাকবস পাঁচে নেমে লণ্ডভণ্ড করে দিলেন সব। ৩১ বলে ৬২ রান করলেন ৫ চার ও ৩ ছক্কায়। তাতে বাংলাদেশের হাত থেকে বেরিয়ে যায় সিরিজ নির্ধারণী ম‌্যাচ।

 

ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে নিউ জিল‌্যান্ড ৬ উইকেটে ম‌্যাচ জিতে ১-১ সমতায় শেষ করলো টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ম‌্যাচসেরা হয়েছেন জ‌্যাকবস। আর ৮৪ রান নিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছেন তাওহীদ হৃদয়।

বৃষ্টির আগে-পরে ব‌্যাটিং ব‌্যর্থতায় বাংলাদেশ সিরিজ হারিয়েছে। ২ চারে ১৬ রান করে সাইফ আউট হন লেনক্সের বলে এগিয়ে এসে ছক্কা উড়াতে চেয়ে। তানজিদ ১০ বলে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। লিটন আশা দিয়েছিলেন বড় কিছু করে দেখাবেন। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৭ বলে ২৬ রান করেন। কিন্তু বাংলাদেশের অধিনায়ককে থেমে যেতে হয় সেখানেই।

 

এরপর বৃষ্টিতে বাংলাদেশের স্বপ্ন ধূলিষাৎ হয়ে যায়। তাওহীদের ৩৩ রান বাদে বাকিরা কেউ দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। উইকেটের মিছিলে পুরো ইনিংস ব্যাটিংও করতে পারেননি। তাতে অল্পরানেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের স্বপ্ন। নিউ জিল‌্যান্ডের হয়ে পেসার জস ক্লার্কসন ৯ রানে ৩ উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট নেন নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স।

শরিফুল বল হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। নিজের প্রথম ওভারে পান জোড়া সাফল‌্য। উইকেটের পেছনে তালুবন্দি করান কেটেন ক্লার্ক (১) ও ডেন ক্লেভারকে (১)। পরের ওভারে ফিরে টম রবিনসনকে (২৩) বোল্ড করেন বাঁহাতি পেসার। মনে হচ্ছিল নিউ জিল্যান্ড তখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু ম‌্যাচটা যেহেতু বাংলাদেশের ছিল না তাই কেউ না কেউ লড়াই করবেই। নিউ জিল‌্যান্ডের ত্রাতা হয়ে আসলেন জ‌্যাকবস। প্রতি আক্রমণে গিয়ে ২২ গজকে রানের ফোয়ারা বানিয়ে ছাড়লেন। ৫ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসটি ছিল পয়সা উসুলের। তাকে সঙ্গ দিয়ে ডেন ফক্সক্রফট ১৫ বলে ১৫ রান করেন। ১১.৪ ওভারেই জয় ছিনিয়ে নেয় তারা।

 

ওয়ানডে সিরিজ হারানোর পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র করে সফরের শেষটা রাঙাল নিউ জিল‌্যান্ড। এ জয়ে নিশ্চিতভাবেই তাদের আত্মবিশ্বাসে জোয়ার পাবে। অন‌্যদিকে ভালো অবস্থানে থেকেও সিরিজ হারিয়ে নিশ্চিতভাবেই হতাশায় ডুবে থাকবে বাংলাদেশ।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আজ রবিবার রাতেই পর্দা নামছে এবারের পাকিস্তান সুপার লিগের জমজমাট আসরের। ৪৪ ম্যাচের দীর্ঘ লড়াই শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হায়দরাবাদ কিংসম্যান ও পেশোয়ার জালমি। একদিকে প্রথম আসরেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি, অন্যদিকে পুরনো গৌরব ফেরানোর লক্ষ্য।

 

এই মৌসুমে লিগে আর্থিক কাঠামোতেও এসেছে পরিবর্তন। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ লাখ ডলার, রানার্সআপ ৩ লাখ ডলার। আর খেলোয়াড় তৈরিতে সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি পাবে ২ লাখ ডলার। খেলোয়াড়দের জন্য আলাদাভাবে রাখা হয়েছে ৫ লাখ ডলারের পুরস্কারভান্ডার। যা লিগের পেশাদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

 

পেশোয়ার জালমি পুরো আসরজুড়ে ছিল সবচেয়ে স্থিতিশীল দলগুলোর একটি। অধিনায়ক বাবর আজম সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে করেছেন ৫৮৮ রান। যা তাকে আসরের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বানিয়েছে। তার পাশে সমান তালে পারফর্ম করেছেন কুশল মেন্ডিস, যার সংগ্রহ ৫৪১ রান। বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন সুফিয়ান মোকিম। ২১ উইকেট নিয়ে তিনি জালমির বোলিং আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু।

 

১০ ম্যাচে ৮ জয়, তার মধ্যে টানা ৭ ম্যাচ জয়ের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা; এই ছন্দ নিয়েই ফাইনালে উঠেছে জালমি। কোয়ালিফায়ারে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ৭০ রানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে তারা। উপরন্তু, গতিময় পেসার নাহিদ রানা দলে ফেরায় শক্তি আরও বেড়েছে। যিনি মাত্র ৪ ম্যাচেই ৭ উইকেট নিয়েছেন।

অন্যদিকে, হায়দরাবাদ কিংসম্যানের গল্পটা যেন পুরোপুরি নাটকীয়। শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। টানা ৩ হারের পর জালমির বিপক্ষে শেষ বলে হার। মোট ৪ ম্যাচে পরাজয়। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। টানা ৪ জয়ে ফিরে আসে প্রতিযোগিতায়। পরে শেষ লিগ ম্যাচে ১০৮ রানের বড় জয়ে নেট রানরেটে এগিয়ে গিয়ে পেছনে ফেলে দেয় লাহোরকে।

 

অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন দলের এই যাত্রাকে দেখছেন ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের ফল হিসেবে। তার ভাষায়, দলটি ওঠানামার মধ্য দিয়েই নিজেদের শক্তি খুঁজে পেয়েছে।

নকআউটে এসে আরও চমক দেখায় কিংসম্যান। এলিমিনেটরে মুলতানকে হারিয়ে, পরে ইসলামাবাদের বিপক্ষে ২ রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে নিশ্চিত করে ফাইনাল। এই ধাক্কা সামলে ওঠার মানসিক শক্তিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

 

অভিজ্ঞতা বনাম গতি- কার হাতে ট্রফি?
একদিকে জালমির ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে কিংসম্যানের লড়াকু মনোভাব ও গতি; সব মিলিয়ে ফাইনাল হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। দর্শকে ভরা স্টেডিয়ামে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হবে মহারণ।

শেষ পর্যন্ত কে হাসবে শেষ হাসি- অভিজ্ঞ জালমি, নাকি স্বপ্ন দেখা নবাগত কিংসম্যান; তার উত্তর মিলবে আজ রাতেই।

স্প্যানিশ লিগের শিরোপা লড়াই এখন কার্যত একপেশে। শনিবার রাতে বার্সেলোনা শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ওসাসুনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

 

ম্যাচের বড় সময় জুড়েই গোলশূন্য ছিল লড়াই। তবে শেষ ১০ মিনিটে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ৮১ মিনিটে বদলি নামা মার্কাস রাশফোর্ড ডান দিক থেকে নিখুঁত ক্রস তুলে দেন। আর সেই বল হেডে জালে জড়িয়ে দেন রবার্ট লেভানডোভস্কি। গোলটি যেন জমে থাকা চাপ এক মুহূর্তেই ভেঙে দেয়।

 

 

এরপর মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেরান তোরেস। যদিও ম্যাচের ৮৯ মিনিটে রাউল গার্সিয়া একটি গোল শোধ করেন। তবু তাতে ফল বদলায়নি। ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সা।

 

এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ পয়েন্টে। হাতে আছে আর মাত্র ৪ ম্যাচ। অর্থাৎ, হিসাব এখন পরিষ্কার। রিয়াল যদি পরের ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে জয় না পায়, তাহলে এই সপ্তাহেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাবে বার্সেলোনার।

আর যদি রিয়াল জয় পায়, তাহলে শিরোপা নির্ধারণ গড়াবে আরও এক সপ্তাহ। যেখানে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হবে এল ক্লাসিকোতে। সেই ম্যাচ হতে পারে মৌসুমের সবচেয়ে বড় নির্ধারণী লড়াই।

জার্মানির সর্বোচ্চ স্তরের ক্লাব প্রতিযোগিতা বুন্দেস লিগায় তিন মৌসুম খেলতে পারেনি শালকে। গতকাল (শনিবার) দ্বিতীয় স্তরের বুন্দেস লিগার শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করার মাধ্যমে তারা মূল প্রতিযোগিতায় ফিরেছে। শালকে এদিন ফরচুনা ডুসেলডর্ফকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। যদিও লিগে দলটির আরও তিন ম্যাচ বাকি, তবে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষেও শালকে টেবিলের দুইয়ে থাকা নিশ্চিত করেছে। 

ম্যাচের ১৩তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেছেন অধিনায়ক কেনান কারামান। এই জয়ে জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা হ্যানোভারের চেয়ে শালকে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে গেল। যেখানে হ্যানোভারের হাতে এখনও তিনটি ম্যাচ বাকি এবং শালকের রয়েছে দুটি। নিয়ম অনুযায়ী লিগের শীর্ষ দুই দল সরাসরি শীর্ষ বিভাগে উন্নীত হবে।

জয়ের নায়ক কারামান ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানালেন এভাবে, ‘এটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ক্লাব হিসেবে, শহর হিসেবে, আমাদের চারপাশের সবার জন্য আমরা অনেকদিন ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলাম। ঘরের মাঠে শেষ ধাপটা পার করতে পেরে আমি খুবই খুশি, কারণ সমর্থকরা এটা প্রাপ্য।’ এই ম্যাচে সমর্থকদের মাঠে না নামার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল এবং নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন ছিল শত শত স্টুয়ার্ড। ফলে সমর্থকরা গ্যালারিতেই আতশবাজি, গান আর উদ্‌যাপনে মেতে ওঠে।

 

গত গ্রীষ্মে ক্রীড়া পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ব্যোমান মিরন মুসলিচকে নিয়োগ দেওয়ার পর শালকে ঘুরে দাঁড়ায়। ৪৩ বছর বয়সী মুসলিচ সংকটে থাকা দলকে উন্নীত হওয়ার প্রাপ্য দলে পরিণত করেন। শালকে এখন দ্বিতীয় বিভাগের শিরোপা জয়ের দৌড়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে আছে প্যাডারবর্ন।

এ ছাড়া গত জানুয়ারিতে জেকোর চমকপ্রদ অন্তর্ভুক্তি শালকের এই মৌসুমের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। ৪০ বছর বয়সী এই বসনিয়ান ফরোয়ার্ড লিগে ৯ ম্যাচে ৬টি গোল করেন। তবে ৩১ মার্চ ইতালির বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্লে-অফ ম্যাচে কাঁধে চোট পাওয়ার পর থেকে তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। জেকোর অনুপস্থিতিতে কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেয় অন্য সতীর্থরা। বিশেষ করে মালির ফরোয়ার্ড মুসা সিলা শেষ ছয় ম্যাচে ৩টি-সহ মোট ৭ গোল করেছেন।

গত পাঁচ বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার দ্বিতীয় বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় উঠল শালকে। ২০২১ সালে বুন্দেসলিগা থেকে অবনমনের পর তারা পরের মৌসুমেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরে আসে, কিন্তু ২০২৩ সালে আবার অবনমিত হয়। ২০২৬-২৭ মৌসুমে আবারও তারা শীর্ষ লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

সবকিছু যেন ঠিক পথেই এগোচ্ছিল। নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম জয় পাওয়ার স্বপ্ন প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল ইন্টার মায়ামি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচই হয়ে উঠল এক দুঃস্বপ্ন। যেখানে ৩-০ ব্যবধানও নিরাপদ থাকল না। আর ইতিহাস লিখল প্রতিপক্ষ অরল্যান্ডো সিটি।

 

ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি মিয়ামির দখলে। লিওনেল মেসি নিজের শততম ক্লাব ম্যাচে একটি গোলের সঙ্গে যোগ করেন ২টি সহায়তা। আর তার ছন্দে ভর করে দ্রুত ৩-০ লিড নেয় স্বাগতিকরা। ইয়ান ফ্রেই ও তেলাস্কো সেগোভিয়ার গোল যেন জয় নিশ্চিতই করে দিয়েছিল।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পুরো বদলে যায়। একাই ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দেন মার্টিন ওহেদা, যিনি করেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক। মিয়ামির রক্ষণভাগকে একের পর এক আঘাত করে তিনি দলকে ফিরিয়ে আনেন সমতায়। এরপর যোগ করা সময়ে ৯৩তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন টাইরিস স্পাইসার। আর তাতেই সম্পূর্ণ হয় অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন।

 

ফলাফল ৪-৩। যা শুধু একটি জয় নয়, বরং লিগের ইতিহাসে বিরল কীর্তি। ৩-০ ব্যবধান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জেতা দল হিসেবে অরল্যান্ডো এখন ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল।

এই হার মিয়ামির জন্য আরও হতাশার। কারণ, নতুন স্টেডিয়ামে এখনো জয়ের মুখ দেখেনি তারা ৪ ম্যাচে ১ হার ও ৩ ড্র। অথচ এর আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে অপরাজিত ছিল দলটি, লিগেও টানা ৯ ম্যাচ হারেনি।

 

ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাননি খেলোয়াড়রা। জানা গেছে, ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উদ্দেশে এই ফলাফলকে “গ্রহণযোগ্য নয়” বলে মন্তব্য করেছেন মেসি।

যে রাতে মিয়ামির জন্য ইতিহাস গড়ার কথা ছিল। সেই রাতেই ইতিহাস গড়ে দিল অরল্যান্ডো। আর ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিল, শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই নিশ্চিত নয়।