ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারে বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান উল্লাহর সর্বোচ্চ নির্দেশনা ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন এক সিআইডি কর্মকর্তা।

মামলার আসামিদের না ধরতে পারলে চাকরি খাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ক্রসফায়ারে ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন এই সিআইডি কর্মকর্তা। নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) হিসেবে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন তিনি। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বরিশাল জেলার গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন।

এ মামলায় চার আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিন।

পলাতকরা হলেন- বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান উল্লাহ।

জবানবন্দিতে সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ অফিসে আমাকে ডাকেন বরিশাল জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহ। তার অফিসে যাওয়ার পর দেখি আগৈলঝাড়া থানার আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ও এসআই মো. নজরুল ইসলাম। পুলিশ সুপার আমাকে বলেন যে, ‘বাকেরগঞ্জ ও আগৈলঝাড়া থানার দুটি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। আসামিদের যেকোনো মূল্যে ধরতে হবে। না ধরলে চাকরি থাকবে না। ওপরের অনেক চাপ আছে। তোমরা দুজনে ঢাকা ডিবি অফিসে যাবা। ডিএমপির ডিসি (ডিবি) স্যার ও ডিবির মুখপাত্র মনিরুজ্জামান স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে’। এসপি স্যারের নির্দেশে আমি ও আগৈলঝাড়া থানার এসআই নজরুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ডিএমপির ডিসির (ডিবি) সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমাদের এসি মহরমের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেন। পরে এসি স্যারের নির্দেশে আমরা কাজ করি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিদের স্থান শনাক্ত করেন এসি মহরম স্যার। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টার দিকে আশুলিয়ার কুরগাঁও পুরাতন পাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকা থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে এসি মহরম স্যারের হেফাজতে নেই আমরা। একই রাত আড়াইটায় কেরানীগঞ্জ থানাধীন মধ্যেরচর থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই দুজনকে ধরার সময় আমাদের সঙ্গে ডিবির সদস্যরাও ছিলেন।

সাক্ষ্যে তিনি উল্লেখ করেন, আসামিদের নিয়ে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে যান তারা। এরপর একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে টিপু ও কবিরকে নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়। তবে ভুরঘাটার আগে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের সামনে নেমে যান সিআইডির এই উপপরিদর্শক। পরে আসামিদের নিয়ে চলে যান এসআই নজরুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স।

সিআইডি কর্মকর্তা আরও বলেন, আমি লোকমুখে ও গণমাধ্যমে জানতে পারি যে, গ্রেপ্তার টিপু ও কবিরকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। মূলত এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সরাসরি নির্দেশে তৎকালীন এসপি এহসান উল্লাহর হুকুমে উজিরপুর থানার মাহাবুল ও জসিম এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জাসতে পেরেছি। তবে টিপু ও কবির ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকায় তাদের সুনাম ছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন। জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ জুলাই দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

 

বরিশাল মহানগর যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম খোকন ওরফে মামা খোকনকে গ্রেপ্তার করেছে কাউনিয়া থানা পুলিশ। রোববার রাতে তাকে শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ অনুসারী খোকন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাত নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তিনি একাধিক মামলায় জড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।

এই যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সোমবার নিশ্চিত করেন কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি সনজিত নাথ।

 

 

মোঃ নুরুল হক খান:
বরিশালের মুলাদী উপজেলা-এর অন্তর্গত চরকালেখা ইউনিয়ন একসময় একটি আদর্শ, শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী জনপদ হিসেবে সুপরিচিত ছিল। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে শিক্ষিত, সচেতন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত অসংখ্য মানুষের বসবাস রয়েছে। সচিব, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার গুণী মানুষের জন্মস্থান হিসেবে এই ইউনিয়নের ছিল আলাদা সুনাম। শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এটি একটি অনুসরণীয় ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল।
কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে এই ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়নে মাদক, জুয়া ও সুদের ব্যবসার ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু ও প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলেও নানা ভয় ও চাপের মুখে নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে ইউনিয়নের তরুণ ও যুব সমাজ। মাদক সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় অনেক যুবক বিপথগামী হয়ে পড়ছে। এতে পরিবারে অশান্তি, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক অবক্ষয় উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে জুয়ার আসর ও সুদের কারবার সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। অনেকে সুদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন, আবার জুয়ার নেশায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চরকালেখা ইউনিয়নের সামাজিক পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হবে। একসময়কার শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ এই ইউনিয়ন ধীরে ধীরে অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী, জুয়ার আসরের আয়োজক এবং সুদের কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি যুব সমাজকে রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তার এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে চরকালেখা ইউনিয়নকে পুনরায় একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:

বরিশাল নগরীতে পুলিশি অভিযানের সময় পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে রাশেদ খান মেনন (৪২) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার খান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত রাশেদ খান মেনন বরিশাল মহানগরের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম প্রকৌশলী হেমায়েত উদ্দিন বাদশার ছেলে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে কাউনিয়া থানার ৯ থেকে ১০ সদস্যের একটি পুলিশ দল তার বাসভবনে অভিযান চালায়। পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে পাশের একটি ভবনের দিকে যাওয়ার সময় নিচে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পশ্চিম কাউনিয়া এলাকায় আত্মীয়-স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে রোববার রাশেদ খান মেননের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়।

তবে এ ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজীব কুমার নাথ বলেন, “রাশেদ খান মেনন দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তার বাড়িতে যায়। তবে পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বাসায় নেই। পরে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। এরপর তিনি পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি।”

এদিকে, নিহতের পরিবারের দাবি, পুলিশি অভিযানের সময় আতঙ্কিত হয়ে পালাতে গিয়েই এ দুর্ঘটনা ঘটে। তারা ঘটনার জন্য পুলিশের দায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় রাশেদ খান মেননের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশি অভিযান, পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি-

বরিশালের বাকেরগঞ্জে আদালতের বিধি মোতাবেক  দেওয়া এক মাসের সাজা এড়াতে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে আত্মগোপনে থাকা এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের রানীরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেফতারকৃত পলাতক আসামি উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের চরাদি গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে আল আমিন(৩৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আল আমিন একটি চেক জালিয়াতি মামলায় আদালত কর্তৃক এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি সাজা এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন ধরে তার অবস্থান শনাক্তে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন জানান,
এক মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আল আমিন প্রায় ছয় মাস ধরে পলাতক ছিলেন।গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রোববার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকরের জন্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি-

স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য ও পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানের জনক বাদল সিকদার (৪৬) নামের এক ব্যক্তি শ্বশুরবাড়িতে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।

শুক্রবার সকালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ৪নং বিরাঙ্গল গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

এদিকে আত্মহত্যার একদিন আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে নিজ বাড়ীতে ফিরিয়ে নিতে শশুর বাড়িতে গিয়েছিলেন বাদল সিকদার।

জানা যায়,বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৯নং কলসকাঠী ইউনিয়নের ঢাপরকাঠী গ্রামের মৃত আতাহার সিকদারের ছেলে বাদল সিকদারের সঙ্গে দীর্ঘ ২১-২২ বছর পূর্বে একই উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বিরঙ্গল গ্রামের মৃত আবদুস সালাম সিকদারের কন্যা মাহামুদা বেগম সাথে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বাদল সিকদার ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার সাথে স্ত্রীর প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো। সেই কলহের জেরে স্ত্রী মাহমুদা বেগম গত কয়েকদিন আগে বাপের বাড়ি চলে আসেন। স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে বাদল বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে যান। শুক্রবার সকালে তার স্ত্রী তার বাড়িতে ফিরবে না বলে জানালে শ্বশুরবাড়ির উঠানে দাঁড়িয়েই তিনি বিষপান করেন। সেখানে বিষ খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকেন।শ্বশুর বাড়ি ও আশপাশের লোকজন তাকে বাঁচাতে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন জানান,শুক্রবার সকালে বাদল শ্বশুরবাড়িতে বিষপান করলে নিটাত্মীয়রা হাসপাতালে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

 

বরিশাল নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)।

শনিবার বিএমপির মিডিয়া সেলের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যদিও পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই দিন মিছিল, সমাবেশসহ অপতৎপরতা ঠেকাতে চিরুনি অভিযান চলছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯ জুন বরিশাল মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পৃথক অভিযানকারী টিম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৩ জন, নিয়মিত মামলায় (আগের মামলাসহ) ৫৭ জন, বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে ৬ জন এবং অন্যান্য আইনে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ৭৭ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

এ ব্যাপারে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বরিশাল মহানগর পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমনে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৬০০ (ছয়শত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি চৌকস অভিযানিক দল অদ্য ২০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানাধীন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ ঘোটাবাছা নামক এলাকায় কুয়াকাটা-বরিশালগামী মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার হেফাজত হতে ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোঃ নুরুজ্জামান হাওলাদার (৩২) তিনি মহিপুর থানার মিস্ত্রিপাড়া (লতাচাপলী) এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলম হাওলাদার ওরফে শাহ-আলম হাওলাদারের ছেলে। বর্তমানে তিনি কলাপাড়া থানাধীন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ এলাকার ৫নং ওয়ার্ডে বসবাস করছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কুয়াকাটা ও আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহের সাথে জড়িত। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটসমূহ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং মাদকবিরোধী অভিযানে ডিবি পুলিশের এ ধরনের তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তার সাথে জড়িত অন্যান্য মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার করা হবে এবং সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

 

মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে তিন বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাউরগাতি গ্রামে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ধর্ষক নিজ এলাকা থেকে আত্মগোপন করেছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে নির্যাতিতা শিশুর চাচী জানান, শিশুটিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। নির্যাতিত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে প্রতিবেশী মৃত আজাহার সিকদারের ছেলে জালাল সিকদার (৬৫) তিনবছরের ওই শিশু কন্যাকে মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বসত ঘরের ভেতরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষকের একাধিক বিয়ে থাকলেও বর্তমানে তার ঘরে কোন স্ত্রী নেই।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তৌকির আহমেদ জানান, শিশু কন্যাটির যৌনাঙ্গ ফোলা ও রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজনরা ওইদিন রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গৌরনদী মডেল থানার এসআই মো. ফিরোজ আলম বলেন, খবর পেয়ে ওই রাতেই আমি গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে নির্যাতিতা শিশুর চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্তকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ-জালিয়াতির এমন কোনো স্তর নেই যেখানে হাত দেননি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেব। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও ক্যাডার পরিচয় ধারণ, জ্যেষ্ঠতা জালিয়াতি এবং কাজ না করেই কোটি কোটি টাকার বিল তুলে নেওয়ার এক ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া এক সাম্প্রতিক অভিযোগে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি একাধিক খাতের অন্তত ১৬টি প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই ৫ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরাসরি আত্মসাৎ করেছেন। কেবল তাই নয়, প্রতিটি প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই ১০ শতাংশ কমিশন নিশ্চিত করা এবং নিজস্ব সিন্ডিকেটের বাইরে কাউকে কাজ না দেওয়ার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছেন।

ক্যাডার না হয়েও নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেবের উত্থানের গল্পটি সিনেমাটিক হলেও এর পরতে পরতে রয়েছে জালিয়াতির ছাপ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কোনো বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবে অবৈধভাবে ক্যাডার পদে নিয়োগ পান। এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি; ২৭তম বিসিএস কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা অর্জন করেন এবং দ্রুততম সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। একজন নন-ক্যাডারের এভাবে ক্যাডার পরিচয়ে পদোন্নতি পাওয়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থের ১৬টি উন্নয়ন ও মেরামত কাজে আবু তালেবের দুর্নীতির সবচেয়ে নগ্ন চিত্র ফুটে ওঠে। নিয়ম অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে বিল পরিশোধের কথা থাকলেও তিনি কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারদের যোগসাজশে পুরো বিল তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ৫৬.৩ লাখ টাকা এবং ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৩৬.১২ লাখ টাকার মেরামত কাজ। সরেজমিনে এসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে, নথিপত্রে কাজ সমাপ্ত দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো সংস্কার কাজই করা হয়নি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মেরামত কাজের সম্পূর্ণ অর্থই এভাবে হরিলুট করা হয়েছে।

কাজ না করে বিল উত্তোলনের বিষয়টি গোপন করতে আবু তালেব আশ্রয় নিয়েছেন নথিপত্র জালিয়াতির। কাজ শেষ হয়েছে এমন মর্মে ‘ব্যাকডেটেড’ বা পূর্ববর্তী তারিখের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে নথিতে যুক্ত করেছেন তিনি। এটি সরকারি ক্রয় আইন এবং দণ্ডবিধির চরম লঙ্ঘন। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি অংশকে ম্যানেজ করে তিনি দিনের পর দিন এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো ঠিকাদার এর প্রতিবাদ করলে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গণপূর্তের ই/এম বিভাগ-৮ এ আবু তালেব কায়েম করেছেন ‘কমিশন রাজ’। প্রতিটি প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই তাকে ১০ শতাংশ নগদ কমিশন দিতে হয়। তার নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট রয়েছে, যার বাইরে কোনো সাধারণ ঠিকাদারের পক্ষে কাজ পাওয়া অসম্ভব। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি গত কয়েক বছরে রাষ্ট্রের শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, আবু তালেবের দুর্নীতির কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা আজ ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আবু তালেবের জীবনযাপন অত্যন্ত বিলাসবহুল। অবৈধ নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি তার বৈধ আয়ের তুলনায় কয়েকশ গুণ বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও এর আশপাশে তার নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার এই সম্পদের উৎস খুঁজতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থা।

আবু তালেবের বিরুদ্ধে ওঠা এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জারি করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, অভিযোগের সত্য

তা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।