বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী উত্তর আমানতগঞ্জ সিকদার পাড়া জামে মসজিদের ৩১৩ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে গঠিত এ কমিটির মাধ্যমে মসজিদের ধর্মীয়, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে মসজিদের বিপুল সংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত কমিটিতে মো. ফারুক সিকদারকে প্রধান উপদেষ্টা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলামকে সভাপতি এবং পোর্ট রোডের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. জহির সিকদারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মসজিদের মোহতাল্লি বোর্ডের সিনিয়র সদস্য মো. নওয়াব হোসেন সিকদার আনুষ্ঠানিকভাবে নবগঠিত কমিটির নাম ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাইদুল ইসলাম।

সভায় বক্তারা বলেন, মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং সমাজের ঐক্য, সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধের অন্যতম কেন্দ্র। তারা আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত কমিটি মসজিদের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার মাধ্যমে এলাকার মুসল্লিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ মসজিদের উন্নয়ন, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, মুসল্লিদের সেবার মান বৃদ্ধি এবং মসজিদের সার্বিক পরিবেশ সংরক্ষণে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

 

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) তিনটি প্রকল্পের কাজে উপজেলা পরিষদের সিএ (সাট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর) ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ঠিকাদারদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সিএকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান। এর আগে সকালে স্থানীয় ঠিকাদাররা ইউএনওর কাছে এই বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ জানান।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, জিয়ানগর উপজেলার এডিবি প্রকল্পের কাজ উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসির আরাফাত তাঁর নিজ উপজেলা নাজিরপুরের ঠিকাদারদের অসাধু উপায়ে পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঠিকাদাররা জানান, এই প্রকল্পের কাজের দরপত্রে পিরোজপুর জেলার সব লাইসেন্সধারী ঠিকাদারের অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত লটারিতে জিয়ানগর উপজেলার কোনো ঠিকাদারের লাইসেন্স ছিল না। উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসির আরাফাত তাঁর নিজ এলাকার পছন্দের ঠিকাদারকে অসদুপায়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এলজিইডির পাসওয়ার্ড এই কর্মচারীর কাছে থাকার কোনো বৈধতা নেই। এরপরও কীভাবে তিনি সরকারি একটি দপ্তরের গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঠিকাদাররা। তাঁরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

এই ঘটনায় জিয়ানগর উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ঠিকাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় ঠিকাদাররা ইউএনওর কাছে মৌখিক অভিযোগ দেওয়ার পর ইউএনও হাসান মো. হাফিজুর রহমান প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং সিএ ইয়াসির আরাফাতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফারুক হোসেন বলেন, এডিবি প্রকল্পের মূল কথা ছিল জিয়ানগর উপজেলায় যেসব লাইসেন্স আছে, সেগুলো এসডিয়ারের মাধ্যমে লটারি করে কাজ বণ্টন করা হবে। কিন্তু সিএ আরাফাত সেখানে জালিয়াতি করে জিয়ানগর উপজেলার কোনো লাইসেন্স চূড়ান্ত লটারির জন্য না রেখে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মেসার্স হাওলাদার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আসলাম হোসেন অভিযোগ করেন, এই আরাফাত এর আগেও নাজিরপুর উপজেলায় একাধিক দুর্নীতি করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত আরাফাত জিয়ানগরে এসেও একই কাজ শুরু করেছেন। তিনি অবৈধভাবে অন্যকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসির আরাফাতের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এলজিইডির জিয়ানগর উপজেলা প্রকৌশলী এমরান আহম্মেদ খান বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দরপত্রের কার্যক্রমটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে অল্প সময়ের কাজে এরকম কম-বেশি ভুল হতে পারে।

জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ই-জিপিতে (e-GP) যে দরপত্রটি হয়েছিল, সেখানে স্থানীয় কোনো ঠিকাদার বিজ্ঞপ্তি বা নোটিফিকেশন পাননি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। জিয়ানগর উপজেলার সব যোগ্য ঠিকাদারের দরপত্রে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকার কথা। ঠিকাদারদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হলে সাবেক নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের সিএ ও বর্তমানে জিয়ানগর উপজেলা পরিষদের সিএ আরাফাত হোসেনের সংশ্লিষ্টতা ও অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি বিধিবিধান ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান ও সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে নাজিরপুরেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ওই সব দুর্নীতির কারণে তিনি বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে নাজিরপুর থেকে জিয়ানগরে বদলি করা হয়েছিল।

 

আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে বিলম্ব করার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনামের বিরুদ্ধে।

এর আগে বরগুনা পাথরঘাটা থানায় যাওয়ার পথে মামলার বাদী এক নারীর ওপর হামলা করে মামলার প্রধান আসামি বাদশা আকন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে পাথরঘাটা থানায় আসার পথে তার পথরোধ করে মারধর করে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পরে পাথরঘাটা থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি  নিশ্চিত করে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী জানান, হামলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে বাদীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামিকে বুধবার রাতে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পরদিনই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, বরগুনার এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুর রহমান গত ২০ মে ফাতিমা জামাদ্দার অর্পার দায়ের করা অভিযোগকে এফআইআর (FIR) হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামকে নির্দেশ দেন। এতে পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকার বাদশা আকন, হারুন অর রশিদ জোমাদ্দার ও হাসান জোমাদ্দারকে আসামি করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

তবে অর্পার অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে বিলম্ব করা হয়। আদালতের আদেশ নিয়ে থানায় গেলে সহযোগিতা পাওয়ার পরিবর্তে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন। তার দাবি, ওসি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার!”। এতে তিনি অপমানিত ও বিব্রতবোধ করেন। এ সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।

অর্পা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৪ জুন মামলার বিষয়ে কথা বলতে ওসির সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাননি। পরে ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করলে মামলার বিষয়ে কথা বলার পরিবর্তে কেন ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তাকে জবাবদিহি করতে বলা হয়। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডও তিনি সাংবাদিকদের সরবরাহ করেছেন বলে দাবি করেন।

 

সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, “আমার উপস্থিতিতে ওসি মোহাম্মদ এনাম মামলার বাদী অর্পাকে উদ্দেশ্য করে ‘আপনি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্য শুনে আমি এবং সেখানে উপস্থিত সবাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। আদালতের নির্দেশনা যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো পরবর্তীতে হামলার মতো ঘটনা ঘটত না।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, “বাদীর পথরোধ করে হামলার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওসির বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ওসির সরকারি ফোনে পাওয়া যায় না প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওসির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও শোনা গেছে।

 

ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে কারিমা (২৫) নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত কারিমা ভোলা সদরের চরসামাইয়া ইউনিয়নের  শান্তিরহাট প্রবাসী ফরিদ ভূইয়ার স্ত্রী ও শহরের আদর্শ একাডেমী এলাকার মো. রাকিবের মেয়ে। কয়েকমাস আগে তাদের বিয়ে হয়।

এটি হত্যা নাকি ভিন্ন কিছু তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না কেউ। তবে নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহতের মা আসমা বেগম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা সদরের ওয়েস্টার্ন পাড়া আদর্শ একাডেমী থেকে কারিমা তার স্বামীর বাড়িতে যায়, সেখানে ৩ দিন অবস্থান করে বাবার  বাসায় ফিরছিলেন। এরপর তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি।

ভোলা সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রিমা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টায় অচেতন অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়, এরপর তার চিকিৎসা চলে। সকাল সাড়ে ৮ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোলা শহরের আলীনগর সড়কে অচেতন অবস্থায় এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করায়। তবে তখন তার কোন স্বজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহতের শরীরে কোন আঘাতে চিহ্ন নেই। তবে আমরা বিষয়টার তদন্ত।করছি। ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এ ব্যাপরে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম।

 

র‌্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার মামলায় ২ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মো. আমজাদ (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। মামলাটি আব্দুর রহীম ওরফে ভূট্টো হত্যা সংক্রান্ত।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, পলাতক আসামি মো. আমজাদ চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের আবুল হোসেন মার্কেট এলাকায় অবস্থান করছেন।

এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭-এর একটি আভিযানিক দল গেল বুধবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত মো. আমজাদ ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর এলাকার আলতাফ রাড়ীর ছেলে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আরও পড়ুন: শ্রীরামচন্দ্রের চিত্রপট অবমাননার প্রতিবাদে রাউজানে বিক্ষোভ

র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাটহাজারী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

ভোলায় ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয়ে প্রবাসীর কোটি টাকা, সম্পদসহ স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নকিব কসাই নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সাইবার নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সৌদি প্রবাসী নুরে আলম।

 

ভোলা শহরের একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার নিকট আত্মীয় হাসান ভূঁইয়া।

লিখিত বক্তব্যে নুরে আলম অভিযোগ করেন, তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। একই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দালাল বাজার এলাকার নকিব কসাই ও তার সহযোগীরা প্রতারণা, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ এবং অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

নুরে আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নকিব কসাই নিজেকে ‘জিনের বাদশা’ ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রীর আস্থা অর্জন করেন। পরে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির ৩৩ লাখ টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং গত তিন বছরের উপার্জিত প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলম দাবি করেন, তার স্ত্রী সাহিদা (৩৮) ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা সন্তানকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্তরা। বর্তমানে নকিব কসাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করা হলেও তাদের মধ্যে কোনো আইনগত বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার অপরাধের শামিল। এতে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নুরে আলম আরও বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ফেরত চাইলে নকিব কসাই, সিরাজ ওরফে ‘জিনের বাদশা’ এবং তাদের সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। পাশাপাশি মিথ্যা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে

 

 

ঢাকার নিউ মার্কেট থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ঝালকাঠি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকিরসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারততেরা হলেন- জেলা যুবলীগ নেতা মো. মেহেদী হাসান মুন্না (২৯), রাজাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. আহসান হাবিব রুবেল (৩৭) ও জেলা যুবলীগ সদস্য শাহজাদা মহসিন পরাগ (৪৪)।

 

ডিবির উপ-পরিদর্শক মো. সুজন হকের নেতৃত্বে একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে।

নিউ মার্কেট থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মো. শাহজাহান আলী (২৪) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় এই মামলাটি করা হয়েছিল। এই মামলায় উল্লেখিত ৪ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার গ্রেপ্তারদের ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে সোপর্দ করা হবে।

উল্লেখ্য গ্রেপ্তারকৃত জাকির ও পরাগের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি থানায়ও একাধিক মামলা রয়েছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে আলোচিত নমিতা রানী হত্যা মামলার মূলহোতা ও প্রধান আসামি মো. কামাল পঞ্চায়েতকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮। শনিবার (১৪ জুন) রাতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার শ্রীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৮ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে র‌্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইন্দুরকানী উপজেলার দক্ষিণ চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা কামাল পঞ্চায়েতকে আটক করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত নমিতা রানী পালের (৬০) পুত্রবধূ বন্যা রানী পালের (৩২) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কামাল পঞ্চায়েতের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের কারণে কামাল প্রায়ই নমিতা রানীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি নিয়ে নমিতা রানী ও তার স্বামী আপত্তি জানালে অভিযুক্তরা তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং হত্যার পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ মে বিকেল থেকে রাতের মধ্যে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় নমিতা রানী পালকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহে গলায় নখের আঁচড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

ঘটনার পর নিহতের স্বামী বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর কামাল পঞ্চায়েত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে র‌্যাব-৮, সিপিএসসি বরিশালের একটি চৌকস দল গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত কামাল পঞ্চায়েতকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইন্দুরকানী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলায় অবৈধভাবে পাচারকালে ১৩ ব্যারেল রেণু পোনা জব্দ করা হয়েছে। গতকাল রোববার মধ্যরাতে বরিশালের দোয়ারিকা শিকারপুর ব্রিজের টোল প্লাজায় একটি ট্রাক যোগে ১৩টি ব্যারেল রেণু পোনা পাচার হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় এনএসআই। এ সময় ট্রাকে থাকা ৬-৭ জন শ্রমিক ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জব্দ মাছের রেণু পোনা বরিশাল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কীর্ত্তণখোলা নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

বরিশাল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জামাল হোসাইন বাসস’কে বলেন, ভোলা থেকে অবৈধভাবে ট্রাকযোগে পাচারকালে এ সব রেণু পোনা এনএসআই এর সহযোগীতায় জব্দ করা হয়। উদ্ধার ১৩ ব্যারেলের প্রায় তিন লাখ রেণু পোনার আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকা। পরে বরিশালের কীর্ত্তণখোলা নদীতে এ সব রেণু পোনা অবমুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১ কেজি গাঁজাসহ আহম্মদ আলী (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) রাত ২টা ৪০ মিনিটে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। আটক আহম্মদ আলী মৃত হোসেন আলী বেপারীর ছেলে। তার মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম। তিনি মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা।

অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এ ঘটনায় মেহেন্দীগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এফআইআর নম্বর-১৪, তারিখ ১৫ জুন ২০২৬ এবং জিআর নম্বর-১৪৫, তারিখ ১৫ জুন ২০২৬।

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।