নিজস্ব প্রতিবেদক: পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে আলোচিত নমিতা রানী হত্যা মামলার মূলহোতা ও প্রধান আসামি মো. কামাল পঞ্চায়েতকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮। শনিবার (১৪ জুন) রাতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার শ্রীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৮ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে র্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইন্দুরকানী উপজেলার দক্ষিণ চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা কামাল পঞ্চায়েতকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত নমিতা রানী পালের (৬০) পুত্রবধূ বন্যা রানী পালের (৩২) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কামাল পঞ্চায়েতের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের কারণে কামাল প্রায়ই নমিতা রানীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি নিয়ে নমিতা রানী ও তার স্বামী আপত্তি জানালে অভিযুক্তরা তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং হত্যার পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ মে বিকেল থেকে রাতের মধ্যে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় নমিতা রানী পালকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহে গলায় নখের আঁচড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
ঘটনার পর নিহতের স্বামী বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর কামাল পঞ্চায়েত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে র্যাব-৮, সিপিএসসি বরিশালের একটি চৌকস দল গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত কামাল পঞ্চায়েতকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইন্দুরকানী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


