TT Ads

 

 

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসের ইউনিয়ন ভ‚মি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মোঃ আশরাফ আলী খানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে স্থানীয় মহল, ভূমি অফিস সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা আর্থিক সাম্রাজ্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পটুয়াখালী পৌরসভার ভিআইপি এলাকা খ্যাত বনানী এলাকার ৪৯৪ নম্বর কলেজ রোডে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ‘তুষার ভবন’ নামের একটি দৃষ্টিনন্দন পাঁচতলা ভবন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রায় ৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এ ভবনে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে তার বড় ছেলে তুষারের নামে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, অবসারপ্রাপ্ত সেনা সদস্য স্থানীয় খালেক দালালের কাছ থেকে জমি ক্রয়ের পর সেখানে এই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এত বড় বিনিয়োগের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। শুধু বহুতল ভবনই নয়, অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সন্তানদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিপুল ব্যয়ও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, আশরাফ আলী খান তার দুই ছেলে তুহিন ও আকাশকে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য গত সাড়ে ৪ বছর পূর্বে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছেন। দুই দফায় তাদের বিদেশে পাঠানো এবং সেখানে পড়াশোনার পেছনে কোটি কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

এদিকে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের দাবি, পটুয়াখালী পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন আশরাফ আলী খান। অভিযোগ রয়েছে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের এফডিআর রয়েছে। স্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালংকার। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট কিনে সেগুলো ভাড়ার মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক আমানত ও স্বর্ণালংকার সংক্রান্ত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, আশরাফ আলী খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ নতুন নয়। তিনি বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর ঘুষের দর-কষাকষি সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিতর্কের জন্ম নেয়। গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশের পর তাকে শাস্তি স্বরুপ ভোলায় বদলি করা হয়। সেখান থেকে গত মাস তিনেক পূর্বে মির্জাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসেন সে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, ঘুস লেনদেনের ভিডিও ফাঁসে বদলি হলেও বদলায়নি তার কর্মকাণ্ডের ধরন। বরং পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন আরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। প্রকাশ্যে নয়, আড়ালে-আবডালে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেন পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার চাকরিজীবনের আয় দিয়ে কীভাবে বহুতল ভবন, মূল্যবান জমি, বিদেশে সন্তানদের উচ্চশিক্ষা, বিপুল ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য সম্পদের ব্যবস্থা করা সম্ভব হলো? তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এবিষয়ে মোঃ আশরাফ আলী খানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *