জার্মানির সর্বোচ্চ স্তরের ক্লাব প্রতিযোগিতা বুন্দেস লিগায় তিন মৌসুম খেলতে পারেনি শালকে। গতকাল (শনিবার) দ্বিতীয় স্তরের বুন্দেস লিগার শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করার মাধ্যমে তারা মূল প্রতিযোগিতায় ফিরেছে। শালকে এদিন ফরচুনা ডুসেলডর্ফকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। যদিও লিগে দলটির আরও তিন ম্যাচ বাকি, তবে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষেও শালকে টেবিলের দুইয়ে থাকা নিশ্চিত করেছে। 

ম্যাচের ১৩তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেছেন অধিনায়ক কেনান কারামান। এই জয়ে জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা হ্যানোভারের চেয়ে শালকে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে গেল। যেখানে হ্যানোভারের হাতে এখনও তিনটি ম্যাচ বাকি এবং শালকের রয়েছে দুটি। নিয়ম অনুযায়ী লিগের শীর্ষ দুই দল সরাসরি শীর্ষ বিভাগে উন্নীত হবে।

জয়ের নায়ক কারামান ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানালেন এভাবে, ‘এটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ক্লাব হিসেবে, শহর হিসেবে, আমাদের চারপাশের সবার জন্য আমরা অনেকদিন ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলাম। ঘরের মাঠে শেষ ধাপটা পার করতে পেরে আমি খুবই খুশি, কারণ সমর্থকরা এটা প্রাপ্য।’ এই ম্যাচে সমর্থকদের মাঠে না নামার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল এবং নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন ছিল শত শত স্টুয়ার্ড। ফলে সমর্থকরা গ্যালারিতেই আতশবাজি, গান আর উদ্‌যাপনে মেতে ওঠে।

 

গত গ্রীষ্মে ক্রীড়া পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ব্যোমান মিরন মুসলিচকে নিয়োগ দেওয়ার পর শালকে ঘুরে দাঁড়ায়। ৪৩ বছর বয়সী মুসলিচ সংকটে থাকা দলকে উন্নীত হওয়ার প্রাপ্য দলে পরিণত করেন। শালকে এখন দ্বিতীয় বিভাগের শিরোপা জয়ের দৌড়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে আছে প্যাডারবর্ন।

এ ছাড়া গত জানুয়ারিতে জেকোর চমকপ্রদ অন্তর্ভুক্তি শালকের এই মৌসুমের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। ৪০ বছর বয়সী এই বসনিয়ান ফরোয়ার্ড লিগে ৯ ম্যাচে ৬টি গোল করেন। তবে ৩১ মার্চ ইতালির বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্লে-অফ ম্যাচে কাঁধে চোট পাওয়ার পর থেকে তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। জেকোর অনুপস্থিতিতে কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেয় অন্য সতীর্থরা। বিশেষ করে মালির ফরোয়ার্ড মুসা সিলা শেষ ছয় ম্যাচে ৩টি-সহ মোট ৭ গোল করেছেন।

গত পাঁচ বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার দ্বিতীয় বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় উঠল শালকে। ২০২১ সালে বুন্দেসলিগা থেকে অবনমনের পর তারা পরের মৌসুমেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরে আসে, কিন্তু ২০২৩ সালে আবার অবনমিত হয়। ২০২৬-২৭ মৌসুমে আবারও তারা শীর্ষ লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

সবকিছু যেন ঠিক পথেই এগোচ্ছিল। নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম জয় পাওয়ার স্বপ্ন প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল ইন্টার মায়ামি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচই হয়ে উঠল এক দুঃস্বপ্ন। যেখানে ৩-০ ব্যবধানও নিরাপদ থাকল না। আর ইতিহাস লিখল প্রতিপক্ষ অরল্যান্ডো সিটি।

 

ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি মিয়ামির দখলে। লিওনেল মেসি নিজের শততম ক্লাব ম্যাচে একটি গোলের সঙ্গে যোগ করেন ২টি সহায়তা। আর তার ছন্দে ভর করে দ্রুত ৩-০ লিড নেয় স্বাগতিকরা। ইয়ান ফ্রেই ও তেলাস্কো সেগোভিয়ার গোল যেন জয় নিশ্চিতই করে দিয়েছিল।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পুরো বদলে যায়। একাই ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দেন মার্টিন ওহেদা, যিনি করেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক। মিয়ামির রক্ষণভাগকে একের পর এক আঘাত করে তিনি দলকে ফিরিয়ে আনেন সমতায়। এরপর যোগ করা সময়ে ৯৩তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন টাইরিস স্পাইসার। আর তাতেই সম্পূর্ণ হয় অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন।

 

ফলাফল ৪-৩। যা শুধু একটি জয় নয়, বরং লিগের ইতিহাসে বিরল কীর্তি। ৩-০ ব্যবধান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জেতা দল হিসেবে অরল্যান্ডো এখন ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল।

এই হার মিয়ামির জন্য আরও হতাশার। কারণ, নতুন স্টেডিয়ামে এখনো জয়ের মুখ দেখেনি তারা ৪ ম্যাচে ১ হার ও ৩ ড্র। অথচ এর আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে অপরাজিত ছিল দলটি, লিগেও টানা ৯ ম্যাচ হারেনি।

 

ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাননি খেলোয়াড়রা। জানা গেছে, ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উদ্দেশে এই ফলাফলকে “গ্রহণযোগ্য নয়” বলে মন্তব্য করেছেন মেসি।

যে রাতে মিয়ামির জন্য ইতিহাস গড়ার কথা ছিল। সেই রাতেই ইতিহাস গড়ে দিল অরল্যান্ডো। আর ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিল, শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই নিশ্চিত নয়।

প্রায় এক বছর বয়সি পুত্র জিবরান আনামকে কোলে নিয়ে বসে আছেন নগরবাউল জেমস। তাদের সামনে রাখা বাদ্যযন্ত্র ড্রামস। ছোট্ট জিবরানের দুই হাতে ড্রামসের দুটো স্টিক। জিবরান নিজে থেকে স্টিক দিয়ে ড্রামসে আঘাত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

 

এরপর জেমস ছেলের হাত ধরে স্টিক দিয়ে ড্রামসে আঘাত করেন। খানিকটা বাজিও দেখান কিংবদন্তি এই তারকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ছেলের সঙ্গে তারকা বাবার এমন মিষ্টি মুহূর্ত দেখে প্রশংসায় ভাসছেন নেটিজেনরা।

 

একজন লেখেন, “এ তো রক্তের সঙ্গে রক্তের টান।” অন্যজন লেখেন, “রকের উত্তরাধিকার যেন আগেই তৈরি হয়ে গেছে।” কেউ লিখেছেন, “রকস্টারের ছেলে, খেলনার মতোই দেখছে ড্রামসকে।” এমন অসংখ্য মন্তব্য ভাইরাল ভিডিওর কমেন্ট বক্সে শোভা পাচ্ছে।

 

১৯৯১ সালে অভিনেত্রী রথির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জেমস। ২০০৩ সালে এ সংসার ভেঙে যায়। ২০০০ সালে জেমসের সঙ্গে পরিচয় হয় বেনজীর সাজ্জাদের; পরবর্তীতে আমেরিকায় গিয়ে তারা বিয়ে করেন। ২০১৪ সালে এই সংসারেরও ইতি ঘটে।  প্রথম সংসারে জেমসের একটি পুত্র ও এক কন্যাসন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় সংসারে রয়েছে একটি কন্যাসন্তান।

২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নামিয়া আমিনের সঙ্গে জেমসের প্রথম পরিচয়। সেই পরিচয় থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, পরে প্রণয়। ২০২৪ সালে বিয়ে করেন তারা। ২০২৫ সালের ৮ জুন জেমস-নামিয়া দম্পতির কোলজুড়ে আসে একটি পুত্রসন্তান। এ সন্তানের নাম রাখা হয়েছে জিবরান আনাম। তার বয়স এখনো এক বছর পূর্ণ হয়নি।

আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘নাকফুলের কাব্য’। আলোক হাসান পরিচালিত এই সিনেমায় প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন আদর আজাদ ও পূজা চেরি।

 

বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটির গল্প ও সংলাপ লিখেছেন ফেরারী ফরহাদ। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, সমাজের রক্ষক বা মোড়লদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এক অমর প্রেম ও বিরহের গল্প উঠে এসেছে সিনেমাটিতে।

যদিও এটি আদর-পূজা জুটির প্রথম কাজ হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে, এর আগে তাদের অভিনীত ‘লিপস্টিক’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে।

 

২০২২ সালে শ্রীমঙ্গলে শুরু হয় সিনেমাটির শুটিং, যেখানে টানা ২০ দিন চিত্রধারণ চলে। পরবর্তীতে ঢাকায় বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে আরও অভিনয় করেন গাজী রাকায়েত, লুৎফর রহমান জর্জ, আলী রাজ, এল আর খান সীমান্ত ও শিখা মৌ।

প্রেম, সামাজিক বাধা ও মানবিক টানাপোড়েনের গল্পে নির্মিত ‘নাকফুলের কাব্য’ ঈদে দর্শকদের জন্য একটি আবেগঘন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে— এমনটাই আশা নির্মাতাদের।

দুই বছর আগে ‘ফ্ল্যাশব্যাক’ সিনেমায় অভিনয় করেন শবনম বুবলী। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার ওপার বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

জানা গেছে, আগামী মে মাসেই পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। পাশাপাশি বাংলাদেশেও সিনেমাটির মুক্তির পরিকল্পনা চলছে। এই সিনেমার মাধ্যমে টলিউডে অভিষেক হবে ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা শবনম বুবলীর। এটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের নির্মাতা রাশেদ রাহা।

২০২৪ সালে শুটিং শেষ হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ছিল—কবে বড়পর্দায় আসবে সিনেমাটি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।

নির্মাতা রাশেদ রাহা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শেষে খুব শিগগির আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে। এরপর বাংলাদেশে মুক্তির প্রক্রিয়াও শুরু হবে।

থ্রিলারধর্মী এই সিনেমায় বুবলীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় নির্মাতা-অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলি এবং অভিনেতা সৌরভ দাস। চিত্রনাট্য লিখেছেন খায়রুল বাসার নির্ঝর।

এ সিনেমায় বুবলীর চরিত্রের নাম শ্বেতা, যে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। কৌশিক গাঙ্গুলিকে দেখা যাবে অঞ্জন চরিত্রে এবং সৌরভ দাস অভিনয় করেছেন ডিকে চরিত্রে। ভিন্ন জীবনধারার তিন মানুষের গল্প একসময় গিয়ে মিশে যায় পাহাড়ি এক জনপদে, সেখান থেকেই গল্প নেয় নতুন মোড়।

এদিকে, দেশে আগামী ৮ মে মুক্তি পাচ্ছে বুবলী অভিনীত সিনেমা ‘সর্দারবাড়ির খেলা’। লোকজ ঐতিহ্য লাঠিখেলাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন জিয়াউল রোশান। নির্মাতা রাখাল সবুজ পরিচালিত সিনেমাটিতে আরো অভিনয় করেছেন—শহীদুজ্জামান সেলিম, আজাদ আবুল কালাম প্রমুখ।

‘সর্দারবাড়ির খেলা’ সিনেমার প্রচারে বুবলীকে দেখা না যাওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই গুঞ্জন চলছে, দ্বিতীয়বারের মতো মা হতে চলেছেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি এই অভিনেত্রী।

কিছুদিন আগে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। প্রথমে বাংলাদেশে অস্ত্রোপচার হয় এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতে তার অস্ত্রোপচার হয়। বর্তমানে চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে।

 

তানিয়া বৃষ্টি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। শনিবার (২ মে), এ অভিনেত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুকে তার অ্যাডমিনের পক্ষ থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। তাতে জানানো হয়, তানিয়া বৃষ্টি কিছুটা অসুস্থ, সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

 

 

লেখার শুরুতে বলা হয়েছে, “আসসালামু আলাইকুম। আমাদের সবার প্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি আপু শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতার মধ্যে আছেন। তবে চিন্তার তেমন কিছু নেই, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে আছেন।”

 

দোয়া চেয়ে এ স্ট্যাটাসে বলা হয়েছে, “তিনি তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, যেন তিনি খুব দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।”

গত মাসের শুরুতে তানিয়া বৃষ্টির তৃতীয় অস্ত্রোপচারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখনো এটি সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে তানিয়া বৃষ্টি বলেছিলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমার দ্বিতীয় সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় সার্জারিটিও করতে হবে, তবে এখনই নয়—নিউরোসার্জন প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কয়েক মাস সময় লাগবে।”

 

মুন্সিগঞ্জের মেয়ে তানিয়া বৃষ্টি ২০১২ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন। এরপর নাম লেখান টিভি নাটকে। তবে বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে নজর কাড়েন। পরবর্তীতে অভিনয়েও নিজেকে প্রমাণ করেন।

২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন তানিয়া বৃষ্টি। এরপর বেশ কটি সিনেমায় কাজ করেন। তবে বড় পর্দার চেয়ে টিভি নাটকে অভিনয় করে অধিক খ্যাতি কুড়ান এই অভিনেত্রী।

 

২০১৯ সালে মুক্তি পায় তানিয়া বৃষ্টি অভিনীত ‘গোয়েন্দাগিরি’ সিনেমা। এটি তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা। দীর্ঘ বিরতির পর ফের বড় পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমায় তার কাজের কথাও ছিল। আর এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লেন তানিয়া বৃষ্টি।

রাজধানীকে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়া চক্রমুক্ত করতে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

 

রবিবার (৩ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

 

তিনি বলেন, “ঢাকা মহানগরী আমাদের সবার। এই শহরের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১ মে  থেকে ডিএমপি মহানগরজুড়ে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে।”

 

তিনি বলেন,“ সাম্প্রতিক সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন, অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএমপি তাৎক্ষণিকভাবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—অপরাধচক্রের মূল উৎপাটন, নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকাকে আরও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা।”

তিনি জানান, চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান ও আকস্মিক ব্লক রেইড পরিচালনা গোয়েন্দা নজরদারী ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, “গত ৪৮ ঘণ্টার আমাদের উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত এবং ৯৪ জন তালিকা বহির্ভূত চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে চাঁদা আদায়ের খাতা, লেনদেনের তথ্য, ভিডিও ক্লিপ এবং অন্যান্য আলামত।এছাড়া, মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

 

অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িত চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, সার্ভার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া, এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার, নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসিলা ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।  এসব এলাকায় চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং সেল কাজ করছে। বাজার ও জনবহুল স্থানে দৃশ্যমান পুলিশিং বৃদ্ধি করা হয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণ নতুন এলাকা চিহ্নিত করে আরও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং তথ্যভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্দেহজনক ব্যক্তি, চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া বা প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ থানা বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানাতে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে  ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস. এন. মো. নজরুল ইসলাম, ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম  উপস্থিত ছিলেন।

চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

রবিবার (৩ মে) সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

 

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণ জনগণের সঙ্গে প্রধান সেতুবন্ধন। জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে জন রায়ের প্রতিফলন ঘটে।”

 

তিনি বলেন, “সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়।” দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে ডিসিরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

 

এর আগে শনিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সম্মেলনের বিস্তারিত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি।

মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে প্রতি বছর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

যুদ্ধ পরিস্থিতি বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

 

রবিবার (৩ মে) সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত দিনে দেশ ছিল আমদানিনির্ভর। আমরা সেই নির্ভরতা কমিয়ে আনতে কাজ করছি।”

 

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে জনরায়ের সঠিক প্রতিফলন হয় নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়েছে।’

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি পদকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।”

 

সুশাসনকে সরকারের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

বাজার নিয়ন্ত্রণে ডিসিদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইচ্ছেমতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো, সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট রোধে নিয়মিত বাজার তদারকি করতে হবে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নিয়মিত ও দৃশ্যমান করুন।”

 

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিভিন্ন সেক্টর চিহ্নিত করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার কাজ শুরু করেছে।

জুলাই সনদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।”

 

চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। সম্মেলনে আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিরা অংশ নিয়েছেন।

ইরান থেকে তেল আমদানির অভিযোগ চীনের পাঁচটি বেসরকারি তেল শোধনাগারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষায় পাল্টা আইনি আদেশ জারি করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 

রবিবার (৩ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে মার্কিন অর্থ দপ্তর চীনের পাঁচটি তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনে ইরানি সামরিক বাহিনীকে কয়েক শ’ কোটি ডলারের রাজস্ব জোগাতে সহায়তা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যায় এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করা যে কাউকে শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

শনিবার (২ মে) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা একটি ‘প্রতিরোধমূলক আদেশ’ জারি করেছে। এই আদেশ অনুযায়ী, মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা চীনে স্বীকৃত হবে না এবং কোনো প্রতিষ্ঠান এটি মেনে চলতে বাধ্য নয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, মার্কিন এই একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং বিশ্ব রাজনীতির মৌলিক রীতির পরিপন্থি। বেইজিং-এর মতে, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা সার্বভৌম দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।

চীনের এই আদেশের ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে সুরক্ষা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারি, শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুকিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংক্সিং কেমিক্যাল।

 

আল-জাজিরার প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চীন তাদের প্রয়োজনীয় তেলের অর্ধেকেরও বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করে, যার একটি বড় অংশ আসে ইরান থেকে। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর মতে, ২০২৫ সালে ইরান যত তেল রপ্তানি করেছে তার ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে চীন।

চীনের এই তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং এগুলো সিনোপেক-এর মতো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশাল তেল কোম্পানিগুলোর তুলনায় সাধারণত আকারে ছোট। বড় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এই ছোট শোধনাগারগুলোই ইরান, রাশিয়া এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশ থেকে ছাড়ে তেল সংগ্রহ করে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।

 

চীনের মোট শোধনাগার সক্ষমতার এক-চতুর্থাংশই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলে। এসব প্রতিষ্ঠান খুব সামান্য লাভে কাজ করে এবং সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় এগুলো বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই শোধনাগারগুলো অতিরিক্ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, বিশেষ করে তাদের উৎপাদিত পরিশোধিত পণ্যগুলো সঠিক উৎপত্তিস্থল বা অরিজিনাল মার্কিং ব্যবহার করে বিক্রি করার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।