TT Ads

 

আসাদুজ্জামান শেখঃ

যে কোন রাষ্ট্রের সুবিধা অসুবিধা তুলে ধরে সমাজকে একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রের পরিণত করেন তারাই হচ্ছে সাংবাদিক। যদি কখনো কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটে তখন প্রথম যে দুটি পক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি হলো প্রশাসন অন্যটি হলো গণমাধ্যম।একজন আইন প্রয়োগ করে আরেকজন সত্য তুলে ধরে।এই দুইয়ের সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয় দায়িত্বের সংঘাতের নয় সহযোগিতার।সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করেন বলেই রাষ্ট্র জানতে পারে কোথায় অন্যায় হচ্ছে কোথায় আইন ভাঙা হচ্ছে কোথায় মানুষ নির্যাতনের শিকার।

সেই তথ্য প্রচারিত হয় বলেই প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে।বহু বিক্ষোভ আন্দোলন কিংবা জনসমাবেশে আমরা দেখেছি পুলিশ ও সাংবাদিক পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কাজ করছেন।একজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন অন্যজন তা নথিবদ্ধ করছেন।কিন্তু আজ যে ভিডিওটি সামনে এসেছে তা এই সহযোগিতার সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ভিডিওতে সু-পষ্ট দেখা যাচ্ছে একজন দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীকে পুলিশ সদস্য সরাসরি লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিচ্ছেন।তিনি কোনো অস্ত্রধারী নন হামলাকারী নন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী নন তিনি একজন সাংবাদিক।তাঁর হাতে ছিল ক্যামেরা অস্ত্র নয়।তাঁর কাজ ছিল সত্য তুলে ধরা রাষ্ট্রকে দুর্বল করা নয়।প্রশ্ন জাগে এই কেমন পুলিশ এই পুলিশ নাকি রাষ্ট্র রক্ষা করবে। রাষ্ট্র কি সেই জায়গায় নিরাপদ যেখানে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করলেই লাথি খেতে হয়।

রাষ্ট্র কি শক্তিশালী যদি তার রক্ষকরাই তথ্যের শত্রু হয়ে ওঠে।একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয় এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এটি জনগণের জানার অধিকারের ওপর আঘাত।আজ যদি সাংবাদিক লাথি খায় কাল সাধারণ নাগরিক প্রশ্ন করলেই কি তাকেও লাথি খেতে হবে।

পুলিশের দায়িত্ব জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া আইন প্রয়োগ করা ক্ষমতার অপব্যবহার করা নয়। আর কেউই অন্যায় করলে তাকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা করা।একজন সাংবাদিককে মারধর করে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হয় না বরং তা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে পুলিশের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।এই ঘটনাকে কোনোভাবেই ভুল বোঝাবুঝি বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।কারণ ভিডিও মিথ্যা বলে না।এখানে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে ক্ষমতার প্রয়োগ নয় ক্ষমতার অপব্যবহার।রাষ্ট্র যদি সত্যিই শক্তিশালী হতে চায় তাহলে তাকে সমালোচনাকে সহ্য করতে শিখতে হবে।

গণমাধ্যমকে ভয় নয় সম্মান করতে হবে।কারণ সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের শত্রু নয় তারা রাষ্ট্রের আয়না।আজ সেই আয়নায় একটি অস্বস্তিকর চিত্র ধরা পড়েছে।এখন প্রশ্ন একটাই এই ঘটনার দায় কে নেবে দোষী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কি আইনগত ব্যবস্থা হবে নাকি আবারও আমরা নীরবতা দিয়ে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব।রাষ্ট্র রক্ষা মানে শুধু ইউনিফর্ম পরা নয় রাষ্ট্র রক্ষা মানে ন্যায় দায়িত্ববোধ এবং সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা।আর সেই পরীক্ষায় আজ কেউ কেউ ব্যর্থ হয়েছে এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক সত্য।

TT Ads