মামুনুর রশিদ নোমানী //
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম আনসার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার ও বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের নামে অর্থ লেনদেন, ঘুষ এবং কাজ না করেই বিল উত্তোলনের মতো অনিয়ম চলে আসছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির আড়ালে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই কর্মকর্তা। বরিশাল ও ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বিভিন্ন স্থানে জমি, প্রায় দুই শত ভরি স্বর্ণ এবং ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। বরিশাল নগরীর সদর রোডের একটি বহুতল ভবনেও রয়েছে তার ফ্ল্যাট। এছাড়া আত্মীয়স্বজনের নামেও সম্পদ থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

“ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না”

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট হারে অর্থ কেটে রাখা হয়। প্রকল্পভেদে ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা “অফিস খরচ” বা অনানুষ্ঠানিকভাবে দিতে হয়।
একজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“প্রকল্প শেষ করেও পুরো টাকা পাওয়া যায় না। বিল নিতে গেলেই নানা অজুহাতে টাকা কেটে রাখা হয়।”

আরেক জনপ্রতিনিধির ভাষ্য,
“কাজ ঠিকমতো করলেও নির্দিষ্ট অংশ না দিলে বিল আটকে রাখা হয়।”

টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে গরমিল

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ টিআর ও কাবিখা প্রকল্প নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনেক প্রকল্প কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই।
স্থানীয়দের ভাষায়,
“কাগজে কাজ হয়, মাঠে গেলে কিছুই পাওয়া যায় না।”

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সভাপতি ও দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে যোগসাজশে কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হচ্ছে এবং সেই অর্থ ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে।

“আগে টাকা, পরে কাজ”

একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, প্রকল্প শুরু বা ফাইল অগ্রসর করতে আগেই অর্থ দিতে হয়।
একজন ঠিকাদার বলেন,
“কিছু না দিলে ফাইল নড়ে না—এটাই এখন নিয়ম হয়ে গেছে।”

এমনকি প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও বিল পেতে আবারও অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বরাদ্দের সিংহভাগ তছরুপের অভিযোগ

মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশই অনিয়মের মাধ্যমে তছরুপ হচ্ছে বলে দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের কাজ না করেই ভুয়া বিল দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।

সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বেতনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এই বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ যাচাইয়ে আয়কর নথি, সম্পত্তির দলিল এবং ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখা জরুরি।

প্রশাসনের নীরবতা

এত অভিযোগের পরও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
একজন বাসিন্দা বলেন,
“অভিযোগ বহুদিনের, কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।”

স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি

সুশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উপজেলা পর্যায়ের প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল মনিটরিং, সামাজিক নিরীক্ষা এবং নিয়মিত অডিট বাধ্যতামূলক করা জরুরি। তা না হলে উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর জনসাধারণের আস্থা নষ্ট হবে।

বক্তব্য মেলেনি

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পিআইও এইচ এম আনসারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

 

সূত্র ইত্তেহাদ নিউজ

 

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি, প্রতারণা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অবশেষে আইনের জালে ধরা পড়লেন ভোলার মনপুরা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিজন কৃষ্ণ খরাতী। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বরিশাল নগরীর লুৎফর রহমান সড়কের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানা।

পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে নজরদারি চালিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বিজন কৃষ্ণ খরাতীর বিরুদ্ধে বরিশালের এয়ারপোর্ট থানায় একটি, ঝালকাঠিতে তিনটি এবং বরগুনার বামনা থানায় সাতটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চেক জালিয়াতি, প্রতারণা এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এসব মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি কর্মস্থল থেকে উধাও হয়ে যান এবং গত দুই সপ্তাহ ধরে অনুপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। এতে করে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণও মিলেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার মাধ্যমে প্রতারণা চক্রের আরও সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন জালিয়াতি ও দুর্নীতির ঘটনায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এবার নিশানা করা হলো এক নিরীহ স্কুল শিক্ষার্থীকে। প্রকাশ্যে, দিনের আলোয়, স্কুল মাঠ থেকে ডেকে নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক দম্পতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে) উপজেলার ১ নম্বর বিবিচিনি ইউনিয়নের রানিপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী এমএম আন (৯) স্থানীয় গড়িয়া বুনিয়া ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত শিক্ষার্থীর পিতা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে প্রতিবেশী মোখলেছুর রহমান হাওলাদারের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং বর্তমানে মামলাও চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ মোখলেছুর রহমান প্রায়ই আমিনুল ইসলামের পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন। এমনকি প্রাণনাশের ভয়ভীতিও দেখানো হতো বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

ঘটনার দিন সকালেই নিয়মমতো স্কুলে যায় এমএম আন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সাড়ে ১১টার দিকে ক্লাস শেষে স্কুল মাঠে বের হলে অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান হাওলাদার ও তার স্ত্রী ময়না বেগম তাকে ডেকে নিজেদের কাছে নেয়। এরপরই শুরু হয় বর্বর নির্যাতন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে ময়না বেগম একটি লাঠি দিয়ে শিশুটিকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে মোখলেছুর রহমান হাওলাদার তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। অসহায় শিশুটি তখন প্রাণ বাঁচাতে ছটফট করতে থাকে।

এসময় ঘটনাস্থল দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে এক পথচারীর নজরে আসে পুরো দৃশ্যটি। তিনি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।

আহত শিক্ষার্থীর মা তাসনিপা একজন স্কুল শিক্ষিকা। সন্তানের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু একটি নিরীহ শিশুর ওপর এভাবে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বেতাগী থানায় এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

একটি জমি বিরোধ কীভাবে একটি শিশুর জীবনের ওপর সরাসরি আঘাত হয়ে দাঁড়াতে পারে, এই ঘটনা তার নির্মম উদাহরণ হয়ে থাকলো। এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে এই নৃশংস ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে পারে।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (রাত ৭টা) উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের পশ্চিম মলুহার গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই), বরিশাল জেলার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনীবের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও এনএসআই’র যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তালুকদার কবিরের বাড়ি সংলগ্ন একটি মাদ্রাসার নিচতলায় অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ সময় লাইসেন্সবিহীনভাবে গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণের দায়ে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. আমান (পিতা: মৃত আব্দুর রাজ্জাক) কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, মো. আমান নিজ এলাকায় ব্যবসায়ী হলেও বানারীপাড়ার আবাসিক এলাকায় গোপনে একটি গোডাউন ভাড়া নিয়ে প্রায় ১৮০ থেকে ২০০টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার মজুদ করে আসছিলেন। গোপন নজরদারির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে কৌশলে তাকে ঘটনাস্থলে এনে হাতেনাতে আটক করা হয়।

অভিযানের সময় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যথাযথ নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় লাইসেন্সবিহীনভাবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন মজুদ এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার বিকেল ২টা ৩৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলার সরিকল বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই), বরিশাল জেলার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও এনএসআই যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে মেসার্স রহমান ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী আ. রহমানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার ইলেকট্রনিকসের দোকানে কোনো ধরনের লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড এলাকার “খান এন্টারপ্রাইজ”-এর নামে মেঘনা অয়েল ডিপো থেকে ২ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল, ৬০০ লিটার পেট্রোল এবং ২০০ লিটার অকটেন সংগ্রহ করে গৌরনদীতে এনে মজুদ করেন।

পরে এনএসআই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায়সহ জ্বালানি তেল ন্যায্যমূল্যে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়া বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সরিকল বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে এনএসআই বরিশাল জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসন এবং গৌরনদী থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবান ফ্যাক্টরি মসজিদ গলিতে সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গিয়ে উল্টো হামলার শিকার হয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্য। ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় রশিদ ব্যাপারীর বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন আলামিন দম্পতি। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আলামিনের সঙ্গে রূপা নামের এক নারীর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধে রূপাকে আশ্রয় দেন তার দুলাভাই খলিল।

ঘটনার দিন ১৪ এপ্রিল স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিএনপির কর্মী পরিচয়ধারী মেহেদির মধ্যস্থতায় একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রূপা তার সঙ্গে ২০-২৫ জন যুবক নিয়ে আলামিনের বাসায় চড়াও হন।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে আলামিনের স্ত্রী ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় জানালার ফাঁক দিয়ে তার চুল ও হাত ধরে টানাটানি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ঘটনাস্থলেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রতিবেশী কবির মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম, তার সন্তান নিরব নিলয় ও জামাতা আদিব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের ওপরই চড়াও হয় হামলাকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে চারজন আহত হন।

আহতদের রক্ষা করতে গিয়ে রিনা বেগম তার সন্তানদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। এরপরও হামলাকারীরা থেমে থাকেনি। পরে তারা দলবল নিয়ে কবির মিয়ার বাড়িতে গিয়ে গেট, গ্রিল ও দেয়ালে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে না পারলেও ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন চালানো হয়।

ঘটনার ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যায়—পরবর্তীতে সুযোগ পেলে আবারও হামলা চালানো হবে।

এ ঘটনায় আহত পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কবির মিয়া ও তার স্ত্রী জানিয়েছেন, তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন। ইতোমধ্যে কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সালিশে উপস্থিত মেহেদি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের কারণে। তিনি বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, একটি সালিশ বৈঠক কীভাবে মুহূর্তেই সহিংসতায় রূপ নিল—তা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের বেপরোয়া হামলা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না এলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব মোহনকাঠী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভীর নলকূপে (টিউবওয়েল) বিষাক্ত পদার্থ ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ঘটনার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা টিউবওয়েল থেকে পানি তুলতে গেলে পানির রং ও গন্ধে সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন যে পানিতে বিষ মেশানো হয়েছে।

পরে খবর পেয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে টিউবওয়েলের পানিতে বিষাক্ত পদার্থ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ। সময়মতো বিষয়টি শনাক্ত না হলে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারত।

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

কিছুতেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না বরিশাল আনসার বাহিনীর। এবার প্রকাশ্যে এসেছে সদর উপজেলার কর্নকাঠিতে একটি প্রকল্পে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আনসার ক্যাম্পের ইনচার্জ পিসি জসিম উদ্দিন অর্ধ লাখ টাকার বদৌলতে তিন আনসার সদস্য শুভ, জাহিদ এবং তাপসকে নিয়োগ পেতে সহযোগিতা করেন।

জেলা আনসার কর্মকর্তাকে ম্যানেজের নামে দুজনের কাছ থেকে ৪০ হাজার এবং একজনের কাছ থেকে আরও ১৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বলে এই অর্থ নেওয়া হলেও চার মাসের মাথায় চায়না ন্যাশনাল বিজিবি ক্যাম্প কার্যক্রম বন্ধ হতে যাওয়া এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় পিসি জসিম বেকায়দায় পড়েছেন। সংক্ষুব্ধ তিন আনসার সদস্য তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত চেয়েছে, যা নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল ওই প্রকল্পে নিয়োজিত পিসি হুমায়নের মধ্যস্ততায় স্থানীয় তালুকদার মার্কেটে সমঝোতা বৈঠক করে জসিম।

আনসার নিয়ে ঘুষ বাণিজ্য এবং সেই টাকা নিয়ে গন্ডগোল পরিশেষে সমঝোতা বৈঠকের ঘটনাটি প্রকাশ পেতেই বাহিনীটির শুরু হয়েছে তোলপাড়। এবং এই ঘুষ বাণিজ্যের ঘটনাটি শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সংক্ষুব্ধ করে তুলেছে বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ঘুষখোর পিসি জসিম এর আগেও বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগপন্থী এই আনসার কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে আন্দোলনের নামে বিভিন্নভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপদে ফেলারও চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু সেখানে তিনি ব্যর্থ হয়ে চাকরি রক্ষার্থে একপর্যায়ে চেপে ঘুস বাণিজ্যের পথ বেচে নিয়েছেন।

পিসি জসিম যে বিতর্কিত কর্মকর্তা এবং স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর তা বরিশাল জেলা আনসার অফিসের একাধিক কর্মকর্তা এবং চায়না ক্যাম্পে নিয়োজিত তার সহকর্মীরাও নিশ্চিত করেন। শুভ-তাপস এবং জাহিদ অভিযোগ করেন, গত ১ জানুয়ারি তাদের তিনজনকে চায়না ন্যাশনাল বিজিবি ক্যাম্পে নিয়োগ পেতে সহযোগিতা করে মোট সাতান্ন হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। একই কর্মস্থলে এক বছর থাকতে হলেও জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাকিবুল ইসলামকে ম্যানেজ করতে হবে বলে এই অর্থ নেওয়া হয়। কিন্তু চার মাস অতিক্রম হওয়ার আগেই তাদের সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিবেশ তৈরি হলে ঘুষের লেনদেনের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এবং তিন আনসার সদস্য পিসি জসিমের কাছে টাকা ফেরত চেয়ে চাপপ্রয়োগ করতে থাকেন। এনিয়ে কিছুদিন নিজেদের মধ্যেকার সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে গত ১৩ এপ্রিল চায়না ক্যাম্পের ইনচার্জ হুমায়ন কবিরের মধ্যস্ততায় তালুকদার মার্কেটে একটি সমঝোতা বৈঠক বসানো হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পিসি জসিম শুভ এবং তাপসের ৪০ হাজারের ১২ হাজার টাকা এবং জাহিদের ১৭ হাজার টাকার ৪ হাজার ফেরত দিতে সম্মত হন। এবং বাকি টাকা জেলা আনসার কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম নিয়েছেন, যা আর ফেরত আনা সম্ভবপর নয় বলে সরল স্বীকারোক্তি দেন পিসি জসিম।

কিভাবে ঘুষ বাণিজ্য হয় এবং পিসি হুমায়নের মধ্যস্ততায় তালুকদার মার্কেটে সমঝোতা বৈঠকে অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে ভুক্তভোগী তিন আনসার সদস্য খোলামেলা কথা বলেছেন, যার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। পিসি জসিম প্রথমে এই ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যোগাযোগ করে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ রাখেন এবং আর্থিক সমঝোতার প্রস্তাবও দেয়া হয়। ফলে এই গোটা ঘুষ বাণিজ্য যে তার মাধ্যমে হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তাছাড়া সমঝোতা বৈঠকে মধ্যস্ততা করা পিসি হুমায়নও ঘুস বাণিজ্যে জসিম জড়িত থাকার বিষয়টি এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে অঙ্গীভুত আনসার কর্মকর্তা পিসি জসিমের এই ঘুষ বাণিজ্য সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. রাকিবুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পিসি জসিমের ঘুষগ্রহণ এবং সেই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বৈঠক হওয়ার খবর বিভিন্ন মাধ্যম শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন, ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

ঘুষের টাকার অধিকাংশ আপনাকে দিয়ে ম্যানেজ করা হয়, জসিমের এমন বক্তব্য অস্বীকার করেছেন জেলা কর্মকর্তা। অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিয়োগে এর আগেও একাধিক ঘুষ লেনদেনসহ ব্যাপক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে জেলা উপজেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা, যা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একাধিক শিরোনাম হয়।

কিন্তু সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরেও এই আনসার নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ঘুষের রীতি চলমান থাকায় বাহিনীটির স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। এখন দেখা যায়, আদর্শচ্যুৎ এবং নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বাহিনীর তরফ থেকে কি ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

 

 

স্টাফ রিপোর্টার:
গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বরিশাল মহানগরীর বাজার রোড এলাকায় অবৈধভাবে ভোজ্য তেল মজুদের অভিযোগে দুইটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে লাইসেন্সবিহীন মজুদ এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুজ্জামান পলিন। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বরিশাল জেলা কার্যালয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে বাজার রোড এলাকার “মেসার্স মোল্লা ব্রাদার্স” নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক শুক্কুর মোল্লাকে মজুদের বৈধ লাইসেন্স ছাড়া নিজস্ব গোডাউনে ৯০ ব্যারেল ভোজ্য তেল মজুদ করার অপরাধে কৃষি বিপণন আইন, ২০০৮ অনুযায়ী ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া একই এলাকার “মেসার্স আবির ব্রাদার্স” নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সন্তোষ মিত্র খুচরা ব্যবসার লাইসেন্স ব্যবহার করে নিজ বাসার গোডাউনে অবৈধভাবে ৫০ ব্যারেল ভোজ্য তেল এবং ১৩ দশমিক ৭৫ টন চিনি মজুদ করেন। এ অপরাধে তাকে একই আইনে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের ওপর গোপন নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

অভিযানে এনএসআই বরিশাল জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যারা অবৈধ মজুদে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক //

বরিশাল নগরীজুড়ে বিস্তৃত অবৈধ জুয়ার সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক নাম—‘জুয়া শহীদ’। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে শহীদই নিয়ন্ত্রণ করছেন নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা জুয়ার বোর্ড, যেখানে প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতা এবং কথিত ‘ম্যানেজমেন্ট’-এর সুযোগে এই চক্র দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর গির্জা মহল্লা, বাজার রোড, কাঠপট্টি, ভাটার খাল সংলগ্ন এলাকা, ঈদগাহ মাঠের পাশ, ঘোরাচাঁদ রোড, কাউনিয়া, ভাটিখানা, বেলতলা ও তালতলীতে নিয়মিত বসছে এসব জুয়ার আসর। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকায় জমে ওঠে ‘ওয়ান-টেন’সহ বিভিন্ন ধরনের জুয়ার আসর। শুধু বরিশাল নগরী নয়, আশপাশের উপজেলা ও জেলার খেলোয়াড়রাও এখানে ভিড় জমাচ্ছে।

রফিক নামের এক ব্যবসায়ী বলছে, এই বিশাল নেটওয়ার্কের মূল নিয়ন্ত্রক শহীদ, যিনি ‘জুয়া শহীদ’ নামেই বেশি পরিচিত। তার ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে পুরো সিন্ডিকেট। শহীদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে স্বর্ণকার শাহীন, স্বর্ণকার রিয়াজ, পোর্ট রোডের ইলিয়াস চায়ের দোকানের শাহীন এবং কাউনিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি বোর্ড পরিচালনা করে, আবার কেউ অর্থ লগ্নি ও সুদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।

বিশেষ করে মুক্তি টিউবওয়েল লিটন, শামীম এবং স্বর্ণকার রিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তারা জুয়ার বোর্ডে তাৎক্ষণিকভাবে হেরে যাওয়া খেলোয়াড়দের চড়া সুদে টাকা ধার দেয়। এতে করে একবার জুয়ার ফাঁদে পা দিলেই খেলোয়াড়রা ঋণের জালে আটকে পড়ে এবং ধীরে ধীরে সর্বস্বান্ত হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শহীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের রয়েছে একটি সুসংগঠিত কাঠামো। প্রতিটি বোর্ডে থাকে নির্দিষ্ট লোকবল, লাঠিয়াল বাহিনী এবং নজরদারি টিম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির খবর পেলেই দ্রুত স্থান পরিবর্তন করা হয়। কখনো দোকানের আড়ালে, কখনো আবাসিক এলাকার ভেতরে, আবার কখনো নির্জন স্থানে বসানো হয় জুয়ার বোর্ড।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—এই জুয়ার সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে শহীদ প্রশাসন ও কিছু অসাধু সাংবাদিককে নিয়মিত ‘ম্যানেজ’ করে থাকেন। স্থানীয়দের দাবি, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যায়, ফলে বোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে বছরের পর বছর ধরে চললেও কার্যত কোনো বড় ধরনের অভিযান চোখে পড়ছে না।

এদিকে, এই জুয়ার আসরের ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অসংখ্য মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। কেউ জমি বিক্রি করছে, কেউ ঘরের আসবাবপত্র, আবার কেউ ধার-দেনায় ডুবে পরিবারসহ মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক পরিবারে ভাঙন, দাম্পত্য কলহ ও সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে আশপাশে বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন এবং বখাটেপনা। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, শুরুতে অল্প লাভ দেখিয়ে মানুষকে জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট করা হয়। পরে বড় অঙ্কের টাকার খেলায় টেনে এনে সর্বস্বান্ত করা হয়। একবার ঋণের ফাঁদে পড়লে বের হওয়ার আর কোনো পথ থাকে না।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, এত বড় পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার কার্যক্রম চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অজানা থাকার কোনো সুযোগ নেই। ফলে জনমনে সন্দেহ জোরালো হচ্ছে—এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ রয়েছে কিনা।

মুঠোফোনে শহীদসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কেউই ফোন রিসিভ করেননি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই যদি এই জুয়ার গডফাদার শহীদ ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান না চালানো হয়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। একটি শহরের সামাজিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—সবকিছুই হুমকির মুখে পড়বে।

বরিশালবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন—জুয়া শহীদের দাপটে নগরী কি এভাবেই জিম্মি থাকবে, নাকি প্রশাসন অবশেষে কঠোর অবস্থান নেবে?

 

এ ব্যাপারে শহীদের সাথে মোবাইলে কথা বললে সে জানান, আগে আমি এর সাথে জড়িত ছিলাম কিন্তু এখন করি না। তবে আপনি নিউজ লিখতে চাইলে লিখতে পারেন।