ববি প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের জন্য এক বছরের নতুন পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ তামিম ইকবাল রাজু এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের তানভীর হাসান রিহাম।

গত ১২ জুলাই বিদায়ী কমিটির সভাপতি আকাশ আলমগীর মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাকিল আহমেদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টা মণ্ডলীর উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সংগঠনকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ তামিম ইকবাল রাজু বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। এই দায়িত্ব কেবল একটি পদ নয়, বরং কুষ্টিয়া জেলার শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ঐক্য ও কল্যাণের প্রতি একটি বড় অঙ্গীকার। নতুন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা, প্রয়োজনে পাশে থাকা এবং ক্যাম্পাসে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরাই হবে আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”

সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান রিহাম বলেন, “একটি সংগঠনের শক্তি তার পদে নয়, বরং সদস্যদের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক আস্থায়। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্মুক্ত, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি দক্ষতা বিকাশ, নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে নিয়মিত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

নবগঠিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন: সহ-সভাপতি শাকিল আহমেদ (২০২১-২২), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশিক উদ্দিন (২০২২-২৩), সাংগঠনিক সম্পাদক আরেফিন জুবায়ের রাজিন (২০২২-২৩), দপ্তর সম্পাদক মোঃ তৌফিক রহমান (২০২৩-২৪), প্রচার সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম আশিক (২০২৩-২৪) এবং অর্থ সম্পাদক মোঃ ইভন ইসলাম (২০২৩-২৪)।

এছাড়া ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ফাতিন আহমেদ, মোঃ ওবায়দুল্লাহ, টিপু সুলতান, রাশেদ আহমেদ এবং মোঃ আশিকুর রহমান।

নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. মোঃ খোরশেদ আলম (সহযোগী অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ), মোঃ মেহেদী হাসান (সহযোগী অধ্যাপক, মার্কেটিং বিভাগ), মোঃ আবু সালেম (সহকারী অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ) এবং মোঃ ছোটন আলী (প্রভাষক, আইন বিভাগ) আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত কমিটি কুষ্টিয়া জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক // সরকারি স্কেলে বেতন পান কয়েক হাজার টাকা। পদবি—ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ‘ড্রাইভার’। অথচ তার চালচলন, আভিজাত্য আর অর্জিত সম্পদের ফিরিস্তি হার মানায় রাষ্ট্রের শীর্ষ আমলা কিংবা বড় কোনো শিল্পপতিকেও। রাজধানীর বছিলার অভিজাত গার্ডেন সিটিতে প্রায় ২ কোটি টাকার সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের বিশাল ফ্ল্যাট ও শেওড়াপাড়ায় কোটি টাকার ফ্ল্যাটের পাশাপাশি গ্রামের বাড়িতে আলিশান বাগানবাড়ি, যে বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করা অর্থের পরিমাণ অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বাড়ির চেয়েও বেশি। বরিশাল শহরেও তার নামে রয়েছে দামি জমি। এর সবই তিনি গড়েছেন নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে।

 

রূপকথার মতো এ রাজকীয় জীবনের মালিক ফায়ার সার্ভিসের ড্রাইভার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে প্রভাবশালীদের সন্তুষ্ট করে এবং তাদের ক্ষমতার স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বরিশালের উজিরপুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবার সন্তান সাখাওয়াত। আর এ সম্পদ গড়েছেন ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পদে নিয়োগ, বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে। নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে বারবার বরখাস্ত এবং বিভাগীয় মামলা হলেও তার বিরুদ্ধে নেই কোনো বড় ধরনের ব্যবস্থা। এই ড্রাইভারের ক্ষমতা এতই যে, তার দাপটে তটস্থ থাকেন ফায়ারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।

একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (গাড়িচালক) থেকে কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন সাখাওয়াত হোসেন, তার বিস্তারিত উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক সাখাওয়াত সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, তার উত্থান শুরু হয় জালজালিয়াতির মাধ্যমে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করেছিলেন সাখাওয়াত। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে একাধিক বিভাগীয় মামলাও হয়েছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়েও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়া এ সাখাওয়াতই পড়ে হয়ে ওঠেন নিয়োগ বাণিজ্যের হোতা।

উজিরপুরে আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি: সাখাওয়াতের সম্পদের তথ্য খুঁজতে গিয়ে তার দুর্নীতির সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী দেখা যায় তার নিজ জেলা বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। এ উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাঠি গ্রামে তিনি গড়ে তুলেছেন চোখধাঁধানো ডুপ্লেক্স বাগানবাড়ি। প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর নির্মিত বাড়ির ভেতরে ও বাইরে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়িটির দোতলার কাজ শেষে এখন তৃতীয়তলার কাজ চলছে। প্রথম ও দ্বিতীয় তলা গড়ে তোলা হয়েছে ডুপ্লেক্স বাড়ির আদলে। বাড়িটির বিশাল কক্ষগুলোতে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট। বাড়ির জানালায় দামি গ্লাস বা কাঁচ ব্যবহারের পাশাপাশি টয়লেটসহ বাড়িটির সব কক্ষেই দামি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। আছে বিশেষ লাইটিং বা আলোকসজ্জাও। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি সাধারণ কোনো বাড়ি নয়, একটি রাজকীয় বাড়ি।

 

বিলাসবহুল বাড়িটি নির্মাণে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, তা অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বাড়ির চেয়েও বেশি। ভবনের ভেতর ও বাইরে যে ধরনের ডিজাইন এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার দেখা গেছে, তা কোনো মন্ত্রী বা শিল্পপতির বাড়ির চেয়ে কম নয়। স্থানীয়দের মতে, বাড়িটি নির্মাণে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যা একজন সাধারণ ড্রাইভারের সারা জীবনের উপার্জনেও অসম্ভব। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা কালবেলাকে বলেন, একজন সাধারণ ড্রাইভার হয়ে সাখাওয়াত কয়েক কোটি টাকা খরচ করে আলিশান বাড়িটি নির্মাণ করেছেন। এ বাড়ি এমপি-মন্ত্রীদের বাড়ির চেয়েও উন্নত। বড় বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মন্ত্রীর বাড়িও এ বাড়ির কাছে হার মানাবে।

গ্রামে গিয়ে সাখাওয়াতের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি চাকরি দিতে পারেন—এটা গ্রামের প্রায় সবাই জানে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী সাখাওয়াতের বাড়ি উজিরপুর উপজেলার মশাংয়ে। তারা বাবা মৃত আনছার আলী মল্লিক ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সাখাওয়াত ড্রাইভারের চাকরি পাওয়ার পর থেকে পাল্টে যায় তার ভাগ্যের চাকা। তার গ্রামের একাধিক ব্যক্তি কালবেলাকে বলেন, টাকা নিয়ে তিনি আত্মীয়স্বজনসহ এলাকার অনেককে চাকরি দিয়েছেন। তাদের পারিবারিক অবস্থা অতটা ভালো ছিল না, সাখাওয়াত ফায়ার সার্ভিসে চাকরি পাওয়ার পর থেকে অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। তিনি মূলত অনেক ব্যক্তিকে ফায়ার সার্ভিসে চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন।

বরিশালের আলেকান্দায়ও রয়েছে জমি: বরিশাল শহরের মেইন পয়েন্ট আলেকান্দায়ও জমি কিনেছেন সাখাওয়াত। জাকির শরীফ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের দাগ নম্বর ৬৭৯৪-এর জমিটি কেনেন তিনি। জমি বিক্রেতা মোহাম্মদ জাকির শরীফ বলেন, ২০০৭-৮ সালের দিকে তিনি আমার কাছ থেকে ৭ শতক জমি কিনেছিলেন, বর্তমানে এ জমির দাম কোটি টাকার ওপরে। এ ছাড়া বরিশালের চৌমাথায়ও তিনি অনেক জমি কিনেছেন বলে শুনেছি।

তিনি বলেন, সাখাওয়াত নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে জাহির করতেন। প্রায়ই বরিশাল ডিসি অফিসের একজন পিয়ন জুয়েলকে সঙ্গে নিয়ে আসতেন, যাকে তিনি কোনো এক ম্যাজিস্ট্রেটের আত্মীয় বা ভাতিজা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপট দেখাতেন। সাখাওয়াত তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতেন।

রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও বছিলায় বিশাল ফ্ল্যাট: এলাকার পাশাপাশি সম্পদ গড়েছেন রাজধানী ঢাকায়ও। রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও বছিলা এলাকায় ফ্ল্যাট রয়েছে সাখাওয়াতের। সরেজমিন দেখা যায়, মোহাম্মদপুর সংলগ্ন বছিলা গার্ডেন সিটিতে গার্ডেন রাজধানী বিল্ডার্স নামে একটি ভবনে ৩ হাজার ৫০০ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন ড্রাইভার সাখাওয়াত। ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।

রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ১ হাজার ৪৫০ বর্গফুটের আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে সাখাওয়াতের। ৭ হাজার টাকা বর্গফুট দরে কেনা এ ফ্ল্যাটটির মূল্য ১ কোটি টাকারও বেশি। এ ছাড়া রাজধানীর ডেমরা কোনাবাড়িতে ‘মিনি কক্সবাজার’খ্যাত এলাকার একটি ডেভেলপার প্রজেক্টে তার চারটি শেয়ার ছিল, যার মধ্যে দুটি তিনি সম্প্রতি পুলিশের এক কর্মকর্তার কাছে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এ ছাড়া তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এবং নামে-বেনামে আরও প্রচুর সম্পদ এবং রাজধানীতে আরও ফ্ল্যাট থাকার গুঞ্জন রয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সাখাওয়াত একজন সাধারণ গাড়িচালক হলেও বছিলা বা শেওড়াপাড়ার প্রতিবেশীরা তাকে চিনতেন ফায়ার সার্ভিসের একজন ‘বড় অফিসার’ হিসেবে। তিনি প্রায় সময় ল্যান্ড ক্রুজার বা প্রাডোর মতো দামি গাড়ি নিয়ে ফ্ল্যাটে যাতায়াত করেন। কিন্তু আশপাশের কেউ জানতেন না তিনি পেশায় একজন ড্রাইভার। তার চলাফেরায়ও আভিজাত্যের ছোঁয়া স্পষ্ট। ডিউটির বাইরে তিনি সবসময় ফিটফাট হয়ে চলাফেরা করেন এবং বিলাসবহুল হোটেলে রয়েছে সাখাওয়াতের নিয়মিত যাতায়াত।

ড্রাইভারের আড়ালে ‘নিয়োগ সম্রাট’: একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়ে সাখাওয়াত কীভাবে এ বিশাল সম্পদের মালিক হলেন, তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের ভেতরে ঊর্ধ্বতন থেকে শুরু করে নিচের পদের কর্মচারীদের সমন্বয়ে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা সংস্থাটির নিয়োগ এবং বদলি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। সাখাওয়াত ড্রাইভারের আড়ালে এ সিন্ডিকেটের ‘নিয়োগ সম্রাট’। অবৈধ এসব কাজে জড়িত সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেন এ সাখাওয়াত। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে তিনি ফায়ার সার্ভিসে ‘নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের’ অঘোষিত সম্রাট হয়ে ওঠেন। শুধু ফায়ার সার্ভিস নয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও তিনি যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের সাবেক এক মহাপরিচালকের (ডিজি) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বা ‘ডান হাত’ ছিলেন সাখাওয়াত। ওই ডিজির দুই বছরের মেয়াদে সাখাওয়াত একাই নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে সাত থেকে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি কর্মকর্তাদের কক্ষের গতিবিধি নজরদারি করার জন্য নিজস্ব ‘স্পাই’ বা গোয়েন্দা বাহিনীও গড়ে তুলেছিলেন, যাদের কাজ ছিল তাদের রুমে কারা আসছেন-যাচ্ছেন, সেগুলো নজরদারি করা। একজন গাড়িচালক হলেও সাখাওয়াতের প্রভাব অনেক, ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাদের নিজস্ব পদোন্নতি বা বদলির বিষয়ে ড্রাইভার সাখাওয়াতের শরণাপন্ন হন। এ ছাড়া নিবন্ধনহীন অনলাইন ও ভুয়া সাংবাদিকদের দিয়ে সাখাওয়াত বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ব্ল্যাকমেইল করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাখাওয়াত ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ‘ডেপুটেশনে’ থেকে সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের গাড়ি চালাতেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনদের ড্রাইভার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি, সেই সুযোগটি তিনি সুকৌশলে তার এসব নিয়োগ বাণিজ্যের কাজে ব্যবহার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান শিকদারের বাড়িও উজিরপুর হওয়ায় তার ক্ষমতার অপব্যবহার সবচেয়ে বেশি করেছেন সাখাওয়াত। এভাবে বড় কর্মকর্তাদের সান্নিধ্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ফায়ার সার্ভিসে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে তোলেন। সেই প্রভাবে ড্রাইভার হয়েও তিনি নিয়মিত গাড়ি চালাতেন না। বেশিরভাগ সময় তিনি এসব কাজে ব্যস্ত থাকতেন।

ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা এবং তার পরিচিতজনরা কালবেলাকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। বারবার তার এ অপরাধ প্রমাণিত হলেও তার বিরুদ্ধে কখনো বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা জানান, মূলত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক এবং তাদের সন্তুষ্ট রেখে অপরাধ করেন। সাখাওয়াত হোসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খুশি করতে নিয়মিত বিভিন্ন উপঢৌকন দিতেন। যার যেটা পছন্দ সাখাওয়াত তাদের সেটা সরবরাহ করতেন। বেশিভাগ ক্ষেত্রে তিনি কর্মকর্তাদের বাসায় ভোলা থেকে বড় বড় ইলিশ মাছ পাঠাতেন। এ ছাড়া নারী, মদ এবং আর্থিক সাপোর্টও দিতেন। এভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য চালাতেন।

নিজের চাকরি দিয়েই প্রতারণা ও জালিয়াতি শুরু: ফায়ার সার্ভিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাখাওয়াতের এ উত্থানের শুরুই হয়েছিল জালিয়াতির মাধ্যমে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করেছিলেন সাখাওয়াত। পরে এ জালিয়াতি প্রমাণ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী আইনে ২০০৭ সালে বিভাগীয় মামলা হয়। শাস্তি হিসেবে এক বছরের বেতন কর্তন এবং তিরস্কারের দণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকায় একাধিক বিভাগীয় মামলা: বিভিন্ন সময়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক রেকর্ড রয়েছে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে। নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভাগীয় মামলা হয়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে রিয়াদ আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে ফায়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চুক্তি করেছিলেন সাখাওয়াত। মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ডের সন্দেহ হলে সেই চুক্তির কথা স্বীকার করে নিয়োগপ্রার্থী রিয়াদ। পরবর্তী সময়ে এ অপরাধে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। কিন্তু শুধু ‘তিরস্কার দণ্ড’ দিয়েই বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।

এতেও থামেননি সাখাওয়াত। মো. আনিসুর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তার ভাগনে মো. রণ মাহবুবকে ফায়ার সার্ভিসে ফায়ারফাইটার পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন সাখাওয়াত। আনিসুর রহমানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আবারও সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুধু ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেন তৎকালীন ডিজি। এভাবে বারবার নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে বড় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অপরাধ করেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও থামেনি। এখনো তিনি নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। সবশেষ চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করায় তার বিরুদ্ধে ফের তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন। বরাখাস্তের পর তাকে সুনামগঞ্জে শাল্লায় বদলি করা হলেও তিনি কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে বদলিকৃত স্থানে যোগদান করেন।

ব্যক্তিগত জীবনেও নৈতিক স্খলন, মামলা: সাখাওয়াত হোসেন শুধু দুর্নীতির মাধ্যমেই সম্পদ গড়েননি, বরং তিনি পেশাগত শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং পারিবারিক সহিংসতার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন, যার ফলে তাকে ফায়ার সার্ভিস থেকে বরখাস্ত হতে হয়েছে এবং একাধিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সম্প্রতি তার স্ত্রী আফরোজা খানম তার বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও পরকীয়ার অভিযোগে একাধিক মামলা করেছেন। পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং বদলিকৃত স্থান সুনামগঞ্জের শাল্লায় যোগদান না করে সরকারি আদেশ অমান্য করায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি সাময়িক বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল কালবেলাকে বলেন, সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এবার অত্যন্ত কঠিনভাবে দেখা হচ্ছে। এর আগে তাকে ছোটখাটো শাস্তি বা তিরস্কার করে ছেড়ে দেওয়া হলেও এবার তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সাখাওয়াতের অস্বাভাবিক সম্পদের বিষয়ে ডিজি বলেন, আমাদের কাছেও বিভিন্ন সময় অনেক তথ্য ও নথি আসে, সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে ওঠা নিয়োগ বাণিজ্য এবং শৃঙ্খলাভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে তাকে প্রাথমিকভাবে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

সাখাওয়াতকে সুনামগঞ্জের শাল্লায় বদলি করা হলেও সেখানে তার যোগদান না করার বিষয়ে ডিজি বলেন, তিনি কেন জয়েন করেননি বা কেন অনুপস্থিত আছেন, তা আমাদের আইনগত পদ্ধতির মাধ্যমেই আমরা দেখছি। ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে সাখাওয়াতের মতো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিষয়ে ডিজি বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ ধরনের অনিয়মগুলো বন্ধ করার এবং অধিদপ্তরে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। রাতারাতি সব পরিবর্তন সম্ভব না হলেও যথাযথভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও সেটা সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত একাধিক নম্বরে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, সাখাওয়াত কিছুদিন পর নম্বর পরিবর্তন করেন এবং অপরিচিত নম্বরের কল ধরেন না। কয়েক মাধ্যমে চেষ্টার পর তার একটি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে কল দেওয়া সম্ভব হয়। তবে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেনি। পরবর্তী সময়ে পরিচয় দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলেও সাড়া মেলেনি সাখাওয়াত হোসেনের।

 

তথ্যসূত্র:- দৈনিক কালবেলা।

 

 

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেছেন, বরিশালবাসী ভোটের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যে আস্থা ও সম্মান দেখিয়েছেন, বরিশালের উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনের মাধ্যমে সেই সম্মানের প্রতিদান দেওয়া হবে।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরীর বিবির পুকুরের দক্ষিণ পাশে সোহেল চত্বর থেকে তারেক রহমানের বরিশাল আগমন উপলক্ষে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর নেতৃত্বে এক বিশাল শুভেচ্ছা র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যালিতে বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সোহেল চত্বর থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি নগরীর লঞ্চঘাট, বেলস পার্ক ও শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাপ্ত হয়।

র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রত্যাশা করে বলেন, বরিশালবাসী ভোটের মাধ্যমে তারেক রহমানের প্রতি যে ভালোবাসা, আস্থা ও সম্মান প্রকাশ করেছেন, তিনি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করবেন। বরিশালের জলাবদ্ধতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য বরিশাল গড়ে তোলাই বিএনপির লক্ষ্য।

মোঃ নুরুল হক খান, স্টাফ রিপোর্টার:
বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় তাঁর জন্মভূমি চরকালেখানসহ পুরো মুলাদী উপজেলায় আনন্দের জোয়ার বইছে।

দীর্ঘদিন সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করে তিনি উপ-সচিব পদ থেকে সম্প্রতি যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তাঁর এ সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মরহুম ফ্লাইট সার্জেন্ট (অব.) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এবং রত্নগর্ভা মা জাহানারা ইসলামের জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের তিন সন্তানের প্রত্যেকেই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত। মেজ ছেলে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহা পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ছোট ছেলে মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

একই পরিবারের তিন সন্তানের এমন গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য চরকালেখান ইউনিয়নের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের এই পদোন্নতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয়।

তাঁর সততা, কর্মনিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতা ভবিষ্যতেও দেশের প্রশাসনিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং চরকালেখান ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং কর্মজীবনের আরও সাফল্য কামনা করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, ভিডিও কলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা, পরে সম্পর্কের অবনতি এবং সেই সূত্র ধরে একের পর এক মামলা, ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ। এমন নানা অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে কর্মরত বাংলাদেশ রেলওয়ের এক নারী কর্মচারী সাবিনা ইয়াসমিনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত বিভিন্ন নথি, আদালতে দায়ের করা একাধিক মামলার কপি, ভিডিও ও স্থিরচিত্র, ভুক্তভোগী দাবি করা কয়েকজন ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার পর নানা ধরনের জটিলতায় ফেলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোই এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো বিচারাধীন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অভিযুক্ত সাবিনা ইয়াসমিনের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কুমারিয়া জোলা এলাকার মহিষচরণী গ্রামে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন লেভেল ক্রসিং গেটকিপার হিসেবে দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় কর্মরত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে অভিযোগ

অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, অভিযুক্ত নারী বিভিন্ন নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। বিশেষ করে ফেসবুক ও টিকটকের মাধ্যমে নতুন ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর দীর্ঘ সময় চ্যাটিং, ভিডিও কল এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আর্থিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দাবি করা ব্যক্তিরা।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে ভিডিও কল বা ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশ সংরক্ষণ করে তা ভবিষ্যতে চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সেনাসদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ

অনুসন্ধানে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে সেনাবাহিনীর সদস্যদের নাম। একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত নারী সাধারণ ব্যক্তিদের তুলনায় সেনাসদস্যদের প্রতিই বেশি আগ্রহ দেখাতেন। পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলে পরবর্তীতে বিরোধ সৃষ্টি হলে মামলা বা অভিযোগের পথ বেছে নেওয়া হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বলেন,

“আমাদের জানা মতে, একাধিক সেনাসদস্য একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পরে মামলা, ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, সব ক্ষেত্রেই একটি মিল পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থার গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত।”

সাদেকের পরিবারের অভিযোগ

মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের এক সেনাসদস্য সাদেক (ছদ্মনাম) এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সাদেকের পরিবারের দাবি, ফেসবুকে পরিচয়ের পর দীর্ঘদিন যোগাযোগ ছিল। পরে সম্পর্কের অবনতি হলে বিভিন্ন সময় অর্থ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে আদালতে মামলা এবং বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ পাঠানো হয়।

তবে মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

আরেক সেনাসদস্যের পরিবারও একই অভিযোগ তুলেছে

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার এক সেনাসদস্য এবং তার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য পিতার বিরুদ্ধেও একই ধরনের মামলা রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

পরিবারটির দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হলেও পরবর্তীতে তা ভেঙে গেলে পুরো পরিবারকে আসামি করে মামলা করা হয়।

পরিবারের এক সদস্য বলেন,

“আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতেই সত্য বেরিয়ে আসবে। তবে একই ধরনের অভিযোগে একাধিক পরিবারের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি তদন্ত হওয়া দরকার।”

আরও অভিযোগ

অনুসন্ধান চলাকালে ময়মনসিংহ অঞ্চলের আরেক সাবেক সেনাসদস্যের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও একই ধরনের অভিযোগ করেন। যদিও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

ভুক্তভোগী দাবি করা একাধিক ব্যক্তি বলেন, অভিযুক্ত নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বলে তাদের ধারণা।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ নিয়ে রেলওয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত হওয়ার সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।”

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার সাবিনা ইয়াসমিনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোনে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় খুদে বার্তাও পাঠানো হয়। পরে সংক্ষিপ্তভাবে যোগাযোগ হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশেষজ্ঞদের মত

আইনজীবীদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সম্পর্ক, ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আদায় কিংবা মিথ্যা মামলা, সবই গুরুতর অভিযোগ। তবে যেহেতু এসব বিষয়ে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলমান, তাই কোনো পক্ষকে আদালতের রায়ের আগে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যায়িত করা সমীচীন নয়।

তাদের মতে, একই ধরনের অভিযোগ যদি একাধিক ব্যক্তি করে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তদন্তকারী সংস্থার উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।

(চলবে…)

বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে মাদক পরিবহনের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে তৈরি একটি পিকআপ গাড়ির চেসিসের গোপন চেম্বার থেকে প্রায় ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৮। অভিযানের সময় গাড়ির চালক ও তার সহযোগীরা পিকআপ ফেলে পালিয়ে গেলেও উদ্ধার করা হয়েছে মাদকভর্তি গাড়িটি।

র‌্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মজুতদারি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধ দমনে র‌্যাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় মাদক নিয়ন্ত্রণে বাহিনীটি উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে।

র‌্যাব-৮, সিপিএসসি বরিশাল এবং র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল সোমবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কয়েকজন মাদককারবারী ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে একটি বড় মাদকের চালান নিয়ে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের পায়রা সেতুর টোল প্লাজার সামনে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।

রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে বরিশাল থেকে পটুয়াখালীগামী ঢাকা মেট্রো-ঠ ১১-৪৩৯৬ নম্বরের একটি নীল-সাদা রঙের পিকআপ গাড়িকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে চালক প্রথমে গতি কমিয়ে পরে দ্রুতগতিতে চেকপোস্ট অতিক্রম করে দুমকি-বাউফল সড়কের দিকে পালিয়ে যায়। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা পিকআপটির পিছু ধাওয়া করেন।

প্রায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার ধাওয়ার পর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া বাজার সংলগ্ন আঙ্গারিয়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছে দেখা যায়, পিকআপটি ব্রিজের ওপর ফেলে চালকসহ তিনজন পালিয়ে গেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে র‌্যাব জানতে পারে, গাড়ির চালক দুমকি উপজেলার বাসিন্দা মো. হীরা (৩০)। তার সঙ্গে থাকা আরও দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পিকআপটি তল্লাশি চালিয়ে চেসিসের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন প্রকোষ্ঠ থেকে খাকি স্কচটেপ ও আকাশি নীল পলিথিনে মোড়ানো ৩২টি পোটলায় মোট প্রায় ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত গাঁজা ও পিকআপ গাড়িটি জব্দ করে দুমকি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে আলামত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-৮ জানিয়েছে, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও একইভাবে পরিচালনা করা হবে।

 

বরিশাল নগরীর সদর রোড এলাকায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিচালিত এ অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামানের নেতৃত্বে অনুমোদনহীন হলুদ অটোরিকশা চলাচল, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন ছাড়া হলুদ অটোরিকশা পরিচালনার দায়ে কয়েকজন চালককে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৯২(৩) ধারায় অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

একই সঙ্গে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা। এ সময় চালকদের সরকারি নির্ধারিত ভাড়া মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানের আরেকটি অংশে জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৯২(৭) ধারায় অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, নগরীতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

 

 

​আসাদুজ্জামান শেখ //

বরিশালের আগৈলঝাড়ার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে চরম বিতর্ক, অব্যবস্থাপনা এবং বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ক্ষুণ্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে বর্তমান প্রধান শিক্ষক ও সাবেক আওয়ামী লীগ পন্থী উপজেলা চেয়ারম্যান যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রির বিরুদ্ধে।

বর্তমানে ওই একাডেমিতে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে টেন পর্যন্ত পড়াশুনা করেন প্রায় সাতশোর অধিক শিক্ষার্থী। ​প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ১,৪০০-এর বেশি পলিথিন ব্যাগে চাল ও ডাল বিতরণ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই বিতরণের নামে প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০ টাকা করে (সর্বমোট প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা) একপ্রকার জোরপূর্বক বা চাপ সৃষ্টি করে আদায় করা হয়েছে। যেখানে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এভাবে অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।

​বিদ্যালয়টির মূল ভিত্তি ছিল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি। তবে অভিযোগ উঠেছে, অনুষ্ঠানের তবারক রান্নার দায়িত্বে থাকা সিরাজ নামের এক মুসলিম বাবুর্চির সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তাকে ৪-৫ ঘণ্টা খাটিয়ে নিয়ে রাত ১২টায় বিদায় করে দেওয়া হয়, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​গত সোমবার (৬ তারিখ) সকালের নির্ধারিত পরীক্ষা কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই দুপুর ২টায় নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ায় চরম মানসিক চাপ ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। অভিভাবকরা একে প্রধান শিক্ষকের চরম খামখেয়ালিপনা ও স্বেচ্ছাসারিতা বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে এবং প্রধান শিক্ষক একক সিদ্ধান্তে সবকিছু পরিচালনা করছেন।

​অর্থ আদায় ও সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রি (যতিন স্যার) কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। উল্টো আদি আমলের নিয়মের দোহাই দিয়ে দাম্ভিকতার সুরে বলেন-আমাদের স্কুলের বয়স ১০০ বছরের উপরে, আদি আমলের নিয়ম অনুসারে এখন পর্যন্ত আমরা এই কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা চাইলে নিউজ করতে পারেন।

​এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহবুব বলেন,আমি বিষয়টি শুনেছি এবং সত্যতা যাচাই করছি। শিক্ষার সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা আছে—কোনোভাবেই ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে নিয়মনীতি বহির্ভূত টাকা-পয়সা নেওয়া যাবে না। তদন্তে সরকারি নিয়মের লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠের সুনাম রক্ষার্থে এবং প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশালের হিজলা উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত নাজির ওদুদ মুন্সির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ আরও বিস্তৃত আকারে সামনে আসছে। প্রথম পর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ব্যক্তি নতুন করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে পুঁজি করে অবৈধ অর্থ আদায়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, খাজনা পরিশোধ, পর্চা উত্তোলন, রেকর্ড যাচাই, দাখিলা সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গেলে দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজ দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।

একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, সরকারি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে তারা নিজেদের অসহায় মনে করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলেও ছোটখাটো ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যরা অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে আগাম তথ্য জেনে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ দ্রুত করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। অভিযোগ রয়েছে, এই দালালদের সঙ্গে অফিসের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনের হাতে আসেনি।

স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, ভূমি সংক্রান্ত কাজ এমনিতেই জটিল। তার ওপর যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তারা বলেন, দুর্নীতির কারণে অনেক মানুষ মাসের পর মাস অফিসে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না।

এদিকে ওদুদ মুন্সির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে প্রভাবশালী সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। সেই প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি নথি বা আদালতের রায় পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, কেউ অনিয়মের প্রতিবাদ করলে বা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাজ আরও বিলম্বিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া কিংবা নতুন নতুন জটিলতা তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এছাড়া স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের মালিক হয়েছেন ওদুদ মুন্সি। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানী ঢাকা ও বরিশালে বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা দুদকের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কিছু স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত আচরণ এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেও এলাকায় নানা বিতর্ক রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের মতে, ভূমি অফিস এমন একটি দপ্তর যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ সেবা নিতে আসেন। সেখানে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম কিংবা হয়রানির অভিযোগ উঠলে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা বলেন, অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্মান রক্ষা হবে, আর সত্য হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তাদের মতে, ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি দালালচক্র নির্মূল, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সরকারি সেবার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নাজির ওদুদ মুন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তিনি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দিলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, হিজলা উপজেলা ভূমি অফিসে ওঠা সব অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত পরিচালনা করা হোক। তাদের বিশ্বাস, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে একদিকে যেমন নির্দোষ ব্যক্তির সম্মান অক্ষুণ্ন থাকবে, অন্যদিকে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পথ সুগম হবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আলোচিত মাহবুব আলম রাডী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. বজলুর রশিদ বয়াতী (৩৮) কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৮।

র‍্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে র‍্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-৮, সদর কোম্পানি, বরিশাল এবং র‍্যাব-১০, সদর কোম্পানি, কেরানীগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ৪ জুলাই ২০২৬ বিকেলে ঢাকা মহানগরীর গেন্ডারিয়া থানার হরিণচরণ রায় সড়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত বজলুর রশিদ বয়াতীকে গ্রেফতার করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জুন মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সাদেকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাহবুব আলম রাডীর ভোগদখলীয় জমিতে দোকানঘর নির্মাণে বাধা দেয় অভিযুক্তরা। এর জেরে গত ২৩ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চুনারচর এলাকার আক্তার পোদ্দারের দোকানের সামনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাহবুব আলম রাডীর ওপর হামলা চালানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত বজলুর রশিদ বয়াতী লোহার রড দিয়ে মাহবুবের মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ জুন সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসক মাহবুব আলম রাডীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে মেহেন্দীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র‍্যাব-৮ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত বজলুর রশিদ বয়াতীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।