পর্ব ১

​আসাদুজ্জামান শেখ //

​শিক্ষিত ও হজ পালনকারী হয়েও অন্ধ বিশ্বাসের আশ্রয় নিয়ে মেয়ের জামাই এবং জামাইয়ের মাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক (জাদুটোনা) করে পঙ্গু ও বোবা বানিয়ে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক ইঞ্জিনিয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর পশ্চিম বগুড়া রোডের মুন্সি গ্যারেজ এলাকার সালমা প্যালেসে।

ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক ও তার স্ত্রী সালমা (জোসনা)। তারা দুজনেই হজ পালন করেছেন (হাজী)। তাদের মেয়ে এশা (ছদ্মনাম) পেশায় একজন চিকিৎসক এবং জামাই একটি সরকারি দপ্তরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

​অনুসন্ধানে জানা যায়,বিয়ের পর থেকেই মায়ের প্ররোচনায় ডাক্তার মেয়ে এশা তার স্বামীর সংসারে অশান্তি করে আসছিলেন। জামাইয়ের বাড়ির লোকজনকে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছিলেন না এশার মা সালমা। জামাইকে সম্পূর্ণ নিজেদের কব্জিতে আনা এবং দাম্পত্য কলহ দূর করার অজুহাতে গত এপ্রিল মাসে এই ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি এক কবিরাজের শরণাপন্ন হন।

​শুরুতে কবিরাজকে তারা বলেন,মেয়ের সাথে জামাইয়ের বনিবনা হচ্ছে না, সংসারে অশান্তি লেগে থাকে। এর একটা ব্যবস্থা করে দিন। কবিরাজ মালামাল জোগাড়ের জন্য অগ্রিম টাকা দাবি করলে দম্পতি তা পরিশোধ করেন এবং কবিরাজও এক মাস ধরে তদবিরের কাজ চালান।

​ঘটনার এক মাস পর মে মাসে ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি কবিরাজের কাছে গিয়ে তাদের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করেন। তারা জামাইয়ের মায়ের মোট চার কপি ছবি কবিরাজের হাতে তুলে দিয়ে বলেন,মেয়ের শাশুড়িকে ব্ল্যাক ম্যাজিক করে চিরতরে পঙ্গু এবং বোবা বানিয়ে দিতে হবে।

​এহেন অমানবিক ও নৃশংস দাবি শুনে বিস্মিত হন কবিরাজ। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন,আমি ঘর-সংসারে মিল মহব্বত ফিরিয়ে আনার কাজ করি, কোনো ব্ল্যাক ম্যাজিক বা জাদুটোনা করে মানুষের ক্ষতি আমার দ্বারা সম্ভব নয়।

​পরবর্তীতে গত ২৪ মে (রবিবার) কবিরাজ অগ্রিম নেওয়া সমস্ত টাকা ইঞ্জিনিয়ার দম্পতিকে ফেরত দেন এবং এ বিষয়ে আর কখনো তার কাছে না আসার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি জামাইয়ের সরকারি পদের প্রভাব খাটিয়ে কবিরাজকে দেখে নেওয়ার হুমকি ও ধমক দিয়ে চলে আসেন।

​​এই বিষয়ে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার ফারুক সাহেবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাংবাদিকের জেরার মুখে একপর্যায়ে ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করেন। তার স্ত্রী সালমা জোসনার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেন।

​একজন উচ্চশিক্ষিত ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হয়ে কীভাবে এই ধরনের কাজ করতে পারলেন,এমন প্রশ্নের জবাবে এই দম্পতি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং গণমাধ্যমে নিউজ না করার জন্য আকুতি জানান। জামাই বা তার পরিবারের লোকজন এই বিষয়ে কিছু জানেন কি না জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক বলেন, দয়া করে আমার জামাই বা তাদের বাড়ির লোকজনকে ফোন দিয়ে এসব বলবেন না। তাহলে আমাদেরই ক্ষতি হবে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক মোটামুটি শান্ত প্রকৃতির মানুষ হলেও তার স্ত্রী সালমা অত্যন্ত চতুর, দাম্ভিক ও উগ্র স্বভাবের। মুন্সি গ্যারেজ এলাকার আশেপাশের বাড়ির মালিকদের সাথে তো বটেই, এমনকি নিজেদের ভবনের ভাড়াটিয়াদের সাথেও তিনি অত্যন্ত রুঢ় আচরণ করেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাড়িওয়ালা জানান,আমরা বাধ্য না হলে ওই পরিবারের সাথে কথাই বলি না। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রীর চালচলন ও কথাবার্তা সম্পূর্ণ উগ্র।

​সুশীল সমাজের ধিক্কার ​একজন প্রকৌশলী ও একজন চিকিৎসকের বাবা-মা হয়ে কীভাবে এমন বিকারগ্রস্ত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার পরিচয় দিতে পারলেন, তা নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই দম্পতির এমন হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন এবং তাদের এই মানসিক বিকারগ্রস্ততা থেকে বেরিয়ে এসে সুবুদ্ধির উদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘটনার পরবর্তী আপডেট এবং জামাই ও কবিরাজের বিস্তারিত বক্তব্য নিয়ে আসছি চোখ রাখুন আগামী পর্বে।

 

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বরিশালে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। বেচাকেনাও চলছে, তবে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর। বিশেষ করে তিন থেকে পাঁচ মণ ওজনের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে দরদাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার সব ধরনের গরুর দামই তুলনামূলক বেশি হাঁকানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, গো-খাদ্যের দামবৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গরুর দামও বেড়েছে।

বরিশ‍াল সদর ‍উপজেলার চরমোনাই, সুগন্ধা  পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি গরুর বেচাকেনা শুরু হলেও বড় গরুর বাজার এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তবে বড় গরুর ক্রেতারা হাটে এসে গরু দেখছেন, দাম যাচাই করছেন।

আমতলী থেকে আসা পাইকারি বেপারী মনির হোসেন জানান, তিনি এবার ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনটি গরু বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, বাজারে এখন মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। দামও মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

খুলনা থেকে আসা বেপারী হোচেন মিয়া বলেন, হাটে ক্রেতা আসতে শুরু করেছেন, অনেকে কিনছেনও। দাম খুব বেশি ভালো না, আবার খারাপও না। খরচের তুলনায় মাঝামাঝি দাম পাওয়া যাচ্ছে। এখন ক্রেতা বাড়ছে, এটিই ইতিবাচক দিক।

অন্যদিকে পিরোজপুর থেকে বড় তিনটি গরু নিয়ে আসা হোসাইন জানান, এখন পর্যন্ত তিনি কোনো গরু বিক্রি করতে পারেননি। তিনি বলেন, ক্রেতারা এখন কম দাম বলছেন। হয়তো বাজার যাচাই করছেন। বড় গরু সাধারণত ঈদের এক-দুই দিন আগে বেশি বিক্রি হয়। ২৬ তারিখের পর বড় গরুর বিক্রি বাড়তে পারে। তবে এবার গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় ভালো দাম না পেলে লোকসান গুণতে হবে।

দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারাও। চরমোনাই হাটে গরু দেখতে আসা মিজানুর রহমান বলেন, বেপারীরা এবার অনেক বেশি দাম বলছেন। সবাই গো-খাদ্যের দাম বাড়ার কথা বলছেন। আমরা দুই পরিবারের জন্য দুটি গরু কিনতে এসেছি। একটি মাঝারি গরু কিনেছি, আরেকটি কিনতে চাই। কিন্তু যেখানে যাচ্ছি, দাম গতবারের তুলনায় অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে।

 

ঈদুল আযহার বাকি আর মাত্র তিন দিন। কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি মাংস কাটতে খাটিয়ার (গাছের গুঁড়ি) গুরুত্ব অপরিহার্য। তাই কোরবানি উপলক্ষে বরিশালে তেঁতুল গাছের খাটিয়ার কদর সবচেয়ে বেশি। পশু জবাইয়ের পর ভাগবাটোয়ারার জন্য মাংসের টুকরা করতে গাছের এসব খাটিয়ার প্রয়োজন হওয়ায় অনেকেই ভীড় করছে নগরীর মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছে।

নগরীর চাঁদমারি, সাগরদীর পোল, নাজিরের পোল, বটতলা মোড়, জেলে বাড়ির পােল, বাংলা বাজার, চৌমাথা এলাকায় খাটিয়া বিক্রি করছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

আকারভেদে একেকটি খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ থেকে ১ হাজার টাকা দরে। আবার ছোট আকারের খাটিয়া ১৫০-২শ’ টাকায় মিলছে। বিক্রিও বেশ ভালো হওয়ায় খুশি বিক্রেতারাও।

খাটিয়ার পাশাপাশি হোগলা, খড়ও বিক্রি হচ্ছে। ছোট থেকে বড় আকারের হোগলা ১৫০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক আটি কুঠা বিক্রি হচ্ছে ১শ’ টাকা দরে।

মৌসুমি খাটিয়া ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর গাছের দাম বেশি। কিন্তু খাটিয়ার দাম আগের মতই আছে। বর্তমানে বেচাবিক্রি ভালো চলছে। তবে কোরবানির একদিন আগে বেচাকেনা আরো বাড়বে বলে জানান তারা।

খাটিয়া কিনতে আসা ক্রেতা রুবেল হোসেন জানিয়েছেন, গতবছরের মত এ বছরও একই দামে হোগলা ও খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে। কোরবানির আনুসঙ্গিক সরঞ্জাম হিসেবে এগুলো কিনতে আসছেন তারা। যেহেতু কোরবানির পশুর মাংস্য কাটতে খাটিয়া প্রয়োজন তাই তারা কিনে নিচ্ছেন।

কোরবানি উপলক্ষে নগরীতে প্রায় শতাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে খাটিয়ার ব্যবসা করেন।

 

বরিশালের সাগরদী এলাকায় ডিম বিক্রির আড়ালে ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৮। রোববার রাতে নগরীর সাগরদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, সিদ্দিকুর রহমান জুয়েল, বিশ্বজিৎ কুমার দাস, জাহিদুল ইসলাম ও লাল্টু মিয়া। সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৮ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ির চৌকির নিচ থেকে ৩১২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইকও জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা আলামতসহ তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

পর্ব ১

​বরিশাল প্রতিনিধি:

বরিশাল নগরের ধোপা বাড়ির মোড় এলাকায় মোসাঃ শাম্মী আক্তার (৪৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সহায়তায় তিনি একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এই প্রতারণার কারণে ৫ থেকে ১০টি পরিবার চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

​ব্যবসার নামে ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ​অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল কোতোয়ালী থানার নবগ্রাম রোডের মানু মিয়ার লেনের বাসিন্দা মোসাঃ লিজা (৪০) (স্বামী: মোঃ সিদ্দিক খিজির মিয়া) এর সাথে শাম্মী আক্তারের একসময় পারিবারিক সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সুবাদে ব্যবসার কথা বলে শাম্মী আক্তার লিজার কাছ থেকে দুই দফায় মোট ৪৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নেন এবং এর বিপরীতে দুটি ব্যাংকের চেক প্রদান করেন।

​১. প্রথম দফায় সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্স ব্যাংকের (হিসাব নং: ০১১২০০০০০৫৩৫৫৬, চেক নং: SBA-0431507) মাধ্যমে ৪০ লক্ষ টাকা নেন।
২. দ্বিতীয় দফায় পূবালী ব্যাংক বরিশাল শাখার (হিসাব নং: ০৩৭৪১০১২৬৩১৭২, চেক নং: BF-29554) মাধ্যমে আরও ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নেন।

​ভুক্তভোগী লিজা জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে চেক দুটি ব্যাংকে নগদায়ন করতে গেলে জানা যায় শাম্মী আক্তারের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। এরপর লিজা ও তার স্বামী সিদ্দিক টাকা ফেরত চাইলে শাম্মী আক্তার বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন।
​চেক উদ্ধারের নামে পাল্টা ‘ভুয়া’ মামলা ও আইনি লড়াই
​টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শাম্মী আক্তার উল্টো লিজা ও তার স্বামী সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চেক চুরির অভিযোগ এনে একটি ভুয়া মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে আদালতে এই সংক্রান্ত একাধিক মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে এমপি মামলা নং- ২৯/২০২৬ এবং এমপি মামলা নং- ২২/২০২৬ অন্যতম। পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার লিজা নিজে বাদী হয়ে টাকা উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেন। ​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে এবং তার পিসিআর (স্থায়ী অপরাধ রেকর্ড) যাচাই করলে সত্যতা পাওয়া যায়।

​বাড়িওয়ালার নারাজি ও শাম্মী আক্তারের চাতুরি
​ভুক্তভোগী লিজা অভিযোগ করে বলেন,
​”পারিবারিক সম্পর্কের খাতিরে আমরা তাকে বিশ্বাস করে এই বিশাল অঙ্কের টাকা দিয়েছিলাম। বিনিময়ে তিনি আমাদের চেক দিয়েছেন। আর এখন বলছেন তার বাসা থেকে নাকি চেক হারিয়ে গেছে! তিনি আমাদের নামে মিথ্যা মামলা পর্যন্ত করেছেন। তিনি অত্যন্ত চতুর ও প্রতারক প্রকৃতির নারী।”

​আরও জানা গেছে, শাম্মী আক্তার যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন, সেই বাড়ির মালিক (এক ভদ্রমহিলা) কে ভুল বুঝিয়ে নিজের পক্ষে মামলার সাক্ষী করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে ঘটনার আসল সত্যতা জানতে পেরে ওই বাড়িওয়ালা নিজেকে শাম্মী আক্তারের দায়ের করা মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং আদালতে নারাজি দেন।
​নেপথ্য পরিচয় ও বর্তমান পরিস্থিতি ​অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোসাঃ শাম্মী আক্তার, বরিশাল গোরস্থান রোডের ধোপা বাড়ির মোড় এলাকার শামসুল হক হাওলাদার ও মোসাঃ লুৎফুন্নেসা ভূঁইয়ার কন্যা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাম্মী আক্তারের প্রথম স্বামী পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে অর্থলিপ্সার কারণে তাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য একজনকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্বামীর সাথেও বেশ কয়েক বছর মামলা-মোকদ্দমা চলার পর বর্তমানে আবারও তার সাথেই সংসার করছেন।

​এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত শাম্মী আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার আমার কাছে কোন টাকা পাবে না সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। তাহলে চেক গুলো তাদের দিয়েছে কে এমন প্রশ্নের জবাবে ডাক্তার দেখাচ্ছি বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনটা কেটে দেন। এমনকি ধোপা বাড়ির মোড় এলাকায় তার বর্তমান ভাড়া বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো

 

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের (সংরক্ষিত নারী আসন-২) সর্বস্তরের জনগণকে পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু। ঈদ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি ওয়ার্ডবাসীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও মানবিক ওয়ার্ড গঠনে জনগণের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

শুভেচ্ছা বার্তায় জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার এক অনন্য শিক্ষা বহন করে। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান ত্যাগের আদর্শ আমাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মত্যাগ ও মানবকল্যাণে কাজ করার শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র উৎসবের মাধ্যমে সমাজের ধনী-গরিব সকল মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগের মহিমা উপলব্ধি করা এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সমাজের সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে যদি আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াই, তাহলেই ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পাবে। আমি চাই ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে একটি মানবিক, উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠুক।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাই আগামী দিনে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে তিনি ওয়ার্ডবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন। বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তা, যুবসমাজের উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান।

জিতু বলেন, “আমি নেতৃত্বকে কখনও ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় হিসেবে দেখি না। জনগণের সেবা করাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তাই আপনাদের দোয়া ও সমর্থন পেলে ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, স্মার্ট ও রোল মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সুপেয় পানির সুবিধা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

ঈদের শুভেচ্ছা বার্তায় জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় শক্তি এই এলাকার সাধারণ মানুষ। আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার অঙ্গীকার। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই একটি সুন্দর, উন্নত ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভেদ, হিংসা ও প্রতিহিংসা পরিহার করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে। ঈদুল আযহার শিক্ষা ধারণ করে সবাইকে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করেন, পবিত্র ঈদুল আযহার বরকতে যেন সকলের জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। দেশ ও জাতির উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ এবং একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান কাউন্সিলর প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু।


আসাদুজ্জামান শেখঃ

​বরিশালের চরমোনাই মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক ভবনের ছয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে রিমি আক্তার (১৫) নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। গত শুক্রবার (২২ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসার ভেতরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে।

​এদিকে ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও, এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা থাকতে পারে বলে দাবি করছে শিক্ষার্থীর পরিবার।

​নিবিড় পর্যবেক্ষণে রিমি, যেকোনো সময় লাইফ সাপোর্ট
​হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহত রিমি আক্তারের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও মুমূর্ষু। উপর থেকে পড়ার কারণে তার ডান হাত ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় যেকোনো মুহূর্তে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
​আহত রিমি আক্তার বরিশালের চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাটি গ্রামের দিনমজুর মাসুদ হাওলাদারের মেয়ে। সে ওই মাদ্রাসার আবাসিক হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত।

​পরিবার ও মায়ের দাবি নেপথ্যে ‘ক্যাপ্টেন’ পদের দ্বন্দ্ব
​রিমির মা রেশমা বেগম এই ঘটনাটিকে রহস্যজনক দাবি করে বলেন,
​আমার মেয়েটা খুবই ভালো ও শান্ত স্বভাবের। গত কয়েকদিন ধরে মাদ্রাসার ‘ক্যাপ্টেন’ পদ নিয়ে অন্য ছাত্রীদের সাথে ওর তুমুল দ্বন্দ্ব চলছিল। আফিয়া নামের এক ছাত্রী এবং মাদ্রাসার শিক্ষিকারা সব কিছু জানেন। আমাদের জানানো হয়েছিল রিমি লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কেন সে আত্মহত্যা করবে? আজ (শনিবার) তো তার স্বাভাবিকভাবে বাড়ি আসার কথা ছিল।
​তিনি আরও যোগ করেন,আমাদের জানামতে ওর কোনো প্রেমের সম্পর্ক বা অন্য কোনো জটিলতা ছিল না। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এটাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে দায় এড়াতে চাইছে। আমাদের সন্দেহ—এটা আত্মহত্যা নয়, এর পেছনে অন্য কিছু আছে। আমরা গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মাধ্যমে সঠিক তদন্ত ও এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

​মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা
​ঘটনার পর থেকেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। মুমূর্ষু অবস্থায় এক নারী শিক্ষার্থী হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়লেও তার পাশে মাদ্রাসার কোনো নারী শিক্ষক বা দায়িত্বশীল গভর্নিং বডির কাউকে দেখা যায়নি।

​হাসপাতালে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট একজন পুরুষ শিক্ষককে তদারকি করতে দেখা গেলেও, গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। অনেক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কর্তৃপক্ষের এমন রহস্যজনক নীরবতা এবং দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা পুরো ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
​পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
​এই বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদ্রাসা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়নি।

​ওসি বলেন বিষয়টি আমাদের নলেজে ছিল না। তবে লোকমুখে ও বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর আমরা এর সত্যতা ও পেছনের মূল কারণ খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধ লুকিয়ে আছে—তা উদঘাটনে পুলিশি তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে রিমির পরিবার ও এলাকাবাসী।

 

বরিশালের উজিরপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগিদের হামলার শিকার হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। অভিযানের সময় ডিবি পুলিশের এক কনস্টেবলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২২ মে) দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল জেলা ডিবির সাত সদস্যর একটি আভিযানিক দল উজিরপুর পৌরসভার খেয়াঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

এসআই আরসেলের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মাদক উদ্ধারের সময় উজিরপুর পৌর শ্রমিকদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ মোল্লার নেতৃত্বে তার সহযোগি শামীম মোল্লা ও মুনসুর মোল্লা, আলাউদ্দিন পুলিশের কাজে বাঁধা প্রদান করে।

পুলিশের দাবি, অভিযানের একপর্যায়ে ডিবি সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

এ সময় শ্রমিক দল নেতা আরিফ মোল্লা তার কাছে থাকা মাদকের একটি পোটলা পাশের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেয়। পরে ডিবির কনস্টেবল মৃনাল চন্দ্র পুকুর থেকে ওই মাদকদ্রব্য উদ্ধারের চেষ্টাকালে আরিফ তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হয়।

খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত কনস্টেবল মৃনালকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ওসি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় মাদক উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আরিফ মোল্লার নেতৃত্বে উজিরপুরে দীর্ঘদিন থেকে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযোগ পেয়ে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তবে অভিযোগের ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি থানা হাজতে আটককৃত আরিফ মোল্লা।

 

বরিশাল নগরীর চরমোনাই ট্রলারঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক কেজি গাঁজাসহ বেবি আক্তার (২৩) নামে এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চরমোনাই ট্রলারঘাট এলাকার আবুল মিয়ার অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক বেবি আক্তার বেবি আক্তার চরমোনাই ট্রলারঘাট এলাকার আজাহার মৃধার মেয়ে বলে জানা গেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে বেবি আক্তারকে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

 

বরিশাল নগরীর প্যারারা রোড এলাকায় তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ কীট ব্যবহার, টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং যথাযথ সনদ না থাকার অভিযোগে মোট ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিচালিত এ যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী। অভিযানটি পরিচালিত হয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) বরিশাল জেলা কার্যালয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে।

অভিযানে জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, দি হিউম্যান কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস-কে ৭ হাজার টাকা, মেট্রো ডায়াগনস্টিক সেন্টার-কে ২০ হাজার টাকা এবং সাউথ এভার কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এনএসআই সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সদস্যরা গোপন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে, প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ কীট ব্যবহার, টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং প্রয়োজনীয় সনদ ছাড়াই নিম্নমানের সেবা দিয়ে আসছিল। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হলে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে জেলা এনএসআই বরিশাল কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সদস্য এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স অংশ নেয়।

এদিকে গোয়েন্দা সদস্যরা জানিয়েছেন, অসাধু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাদের গোপন নজরদারি অব্যাহত থাকবে।