নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় লাইসেন্সবিহীনভাবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন মজুদ এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার বিকেল ২টা ৩৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলার সরিকল বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই), বরিশাল জেলার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও এনএসআই যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে মেসার্স রহমান ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী আ. রহমানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার ইলেকট্রনিকসের দোকানে কোনো ধরনের লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড এলাকার “খান এন্টারপ্রাইজ”-এর নামে মেঘনা অয়েল ডিপো থেকে ২ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল, ৬০০ লিটার পেট্রোল এবং ২০০ লিটার অকটেন সংগ্রহ করে গৌরনদীতে এনে মজুদ করেন।

পরে এনএসআই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায়সহ জ্বালানি তেল ন্যায্যমূল্যে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়া বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সরিকল বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে এনএসআই বরিশাল জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসন এবং গৌরনদী থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবান ফ্যাক্টরি মসজিদ গলিতে সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গিয়ে উল্টো হামলার শিকার হয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্য। ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় রশিদ ব্যাপারীর বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন আলামিন দম্পতি। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আলামিনের সঙ্গে রূপা নামের এক নারীর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধে রূপাকে আশ্রয় দেন তার দুলাভাই খলিল।

ঘটনার দিন ১৪ এপ্রিল স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিএনপির কর্মী পরিচয়ধারী মেহেদির মধ্যস্থতায় একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রূপা তার সঙ্গে ২০-২৫ জন যুবক নিয়ে আলামিনের বাসায় চড়াও হন।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে আলামিনের স্ত্রী ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় জানালার ফাঁক দিয়ে তার চুল ও হাত ধরে টানাটানি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ঘটনাস্থলেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রতিবেশী কবির মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম, তার সন্তান নিরব নিলয় ও জামাতা আদিব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের ওপরই চড়াও হয় হামলাকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে চারজন আহত হন।

আহতদের রক্ষা করতে গিয়ে রিনা বেগম তার সন্তানদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। এরপরও হামলাকারীরা থেমে থাকেনি। পরে তারা দলবল নিয়ে কবির মিয়ার বাড়িতে গিয়ে গেট, গ্রিল ও দেয়ালে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে না পারলেও ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন চালানো হয়।

ঘটনার ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যায়—পরবর্তীতে সুযোগ পেলে আবারও হামলা চালানো হবে।

এ ঘটনায় আহত পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কবির মিয়া ও তার স্ত্রী জানিয়েছেন, তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন। ইতোমধ্যে কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সালিশে উপস্থিত মেহেদি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের কারণে। তিনি বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, একটি সালিশ বৈঠক কীভাবে মুহূর্তেই সহিংসতায় রূপ নিল—তা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের বেপরোয়া হামলা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না এলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব মোহনকাঠী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভীর নলকূপে (টিউবওয়েল) বিষাক্ত পদার্থ ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ঘটনার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা টিউবওয়েল থেকে পানি তুলতে গেলে পানির রং ও গন্ধে সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন যে পানিতে বিষ মেশানো হয়েছে।

পরে খবর পেয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে টিউবওয়েলের পানিতে বিষাক্ত পদার্থ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ। সময়মতো বিষয়টি শনাক্ত না হলে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারত।

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

কিছুতেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না বরিশাল আনসার বাহিনীর। এবার প্রকাশ্যে এসেছে সদর উপজেলার কর্নকাঠিতে একটি প্রকল্পে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আনসার ক্যাম্পের ইনচার্জ পিসি জসিম উদ্দিন অর্ধ লাখ টাকার বদৌলতে তিন আনসার সদস্য শুভ, জাহিদ এবং তাপসকে নিয়োগ পেতে সহযোগিতা করেন।

জেলা আনসার কর্মকর্তাকে ম্যানেজের নামে দুজনের কাছ থেকে ৪০ হাজার এবং একজনের কাছ থেকে আরও ১৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বলে এই অর্থ নেওয়া হলেও চার মাসের মাথায় চায়না ন্যাশনাল বিজিবি ক্যাম্প কার্যক্রম বন্ধ হতে যাওয়া এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় পিসি জসিম বেকায়দায় পড়েছেন। সংক্ষুব্ধ তিন আনসার সদস্য তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত চেয়েছে, যা নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল ওই প্রকল্পে নিয়োজিত পিসি হুমায়নের মধ্যস্ততায় স্থানীয় তালুকদার মার্কেটে সমঝোতা বৈঠক করে জসিম।

আনসার নিয়ে ঘুষ বাণিজ্য এবং সেই টাকা নিয়ে গন্ডগোল পরিশেষে সমঝোতা বৈঠকের ঘটনাটি প্রকাশ পেতেই বাহিনীটির শুরু হয়েছে তোলপাড়। এবং এই ঘুষ বাণিজ্যের ঘটনাটি শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সংক্ষুব্ধ করে তুলেছে বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ঘুষখোর পিসি জসিম এর আগেও বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগপন্থী এই আনসার কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে আন্দোলনের নামে বিভিন্নভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপদে ফেলারও চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু সেখানে তিনি ব্যর্থ হয়ে চাকরি রক্ষার্থে একপর্যায়ে চেপে ঘুস বাণিজ্যের পথ বেচে নিয়েছেন।

পিসি জসিম যে বিতর্কিত কর্মকর্তা এবং স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর তা বরিশাল জেলা আনসার অফিসের একাধিক কর্মকর্তা এবং চায়না ক্যাম্পে নিয়োজিত তার সহকর্মীরাও নিশ্চিত করেন। শুভ-তাপস এবং জাহিদ অভিযোগ করেন, গত ১ জানুয়ারি তাদের তিনজনকে চায়না ন্যাশনাল বিজিবি ক্যাম্পে নিয়োগ পেতে সহযোগিতা করে মোট সাতান্ন হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। একই কর্মস্থলে এক বছর থাকতে হলেও জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাকিবুল ইসলামকে ম্যানেজ করতে হবে বলে এই অর্থ নেওয়া হয়। কিন্তু চার মাস অতিক্রম হওয়ার আগেই তাদের সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিবেশ তৈরি হলে ঘুষের লেনদেনের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এবং তিন আনসার সদস্য পিসি জসিমের কাছে টাকা ফেরত চেয়ে চাপপ্রয়োগ করতে থাকেন। এনিয়ে কিছুদিন নিজেদের মধ্যেকার সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে গত ১৩ এপ্রিল চায়না ক্যাম্পের ইনচার্জ হুমায়ন কবিরের মধ্যস্ততায় তালুকদার মার্কেটে একটি সমঝোতা বৈঠক বসানো হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পিসি জসিম শুভ এবং তাপসের ৪০ হাজারের ১২ হাজার টাকা এবং জাহিদের ১৭ হাজার টাকার ৪ হাজার ফেরত দিতে সম্মত হন। এবং বাকি টাকা জেলা আনসার কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম নিয়েছেন, যা আর ফেরত আনা সম্ভবপর নয় বলে সরল স্বীকারোক্তি দেন পিসি জসিম।

কিভাবে ঘুষ বাণিজ্য হয় এবং পিসি হুমায়নের মধ্যস্ততায় তালুকদার মার্কেটে সমঝোতা বৈঠকে অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে ভুক্তভোগী তিন আনসার সদস্য খোলামেলা কথা বলেছেন, যার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। পিসি জসিম প্রথমে এই ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যোগাযোগ করে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ রাখেন এবং আর্থিক সমঝোতার প্রস্তাবও দেয়া হয়। ফলে এই গোটা ঘুষ বাণিজ্য যে তার মাধ্যমে হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তাছাড়া সমঝোতা বৈঠকে মধ্যস্ততা করা পিসি হুমায়নও ঘুস বাণিজ্যে জসিম জড়িত থাকার বিষয়টি এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে অঙ্গীভুত আনসার কর্মকর্তা পিসি জসিমের এই ঘুষ বাণিজ্য সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. রাকিবুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পিসি জসিমের ঘুষগ্রহণ এবং সেই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বৈঠক হওয়ার খবর বিভিন্ন মাধ্যম শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন, ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

ঘুষের টাকার অধিকাংশ আপনাকে দিয়ে ম্যানেজ করা হয়, জসিমের এমন বক্তব্য অস্বীকার করেছেন জেলা কর্মকর্তা। অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিয়োগে এর আগেও একাধিক ঘুষ লেনদেনসহ ব্যাপক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে জেলা উপজেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা, যা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একাধিক শিরোনাম হয়।

কিন্তু সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরেও এই আনসার নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ঘুষের রীতি চলমান থাকায় বাহিনীটির স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। এখন দেখা যায়, আদর্শচ্যুৎ এবং নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বাহিনীর তরফ থেকে কি ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

 

 

স্টাফ রিপোর্টার:
গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বরিশাল মহানগরীর বাজার রোড এলাকায় অবৈধভাবে ভোজ্য তেল মজুদের অভিযোগে দুইটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে লাইসেন্সবিহীন মজুদ এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুজ্জামান পলিন। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বরিশাল জেলা কার্যালয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে বাজার রোড এলাকার “মেসার্স মোল্লা ব্রাদার্স” নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক শুক্কুর মোল্লাকে মজুদের বৈধ লাইসেন্স ছাড়া নিজস্ব গোডাউনে ৯০ ব্যারেল ভোজ্য তেল মজুদ করার অপরাধে কৃষি বিপণন আইন, ২০০৮ অনুযায়ী ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া একই এলাকার “মেসার্স আবির ব্রাদার্স” নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সন্তোষ মিত্র খুচরা ব্যবসার লাইসেন্স ব্যবহার করে নিজ বাসার গোডাউনে অবৈধভাবে ৫০ ব্যারেল ভোজ্য তেল এবং ১৩ দশমিক ৭৫ টন চিনি মজুদ করেন। এ অপরাধে তাকে একই আইনে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের ওপর গোপন নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

অভিযানে এনএসআই বরিশাল জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যারা অবৈধ মজুদে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক //

বরিশাল নগরীজুড়ে বিস্তৃত অবৈধ জুয়ার সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক নাম—‘জুয়া শহীদ’। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে শহীদই নিয়ন্ত্রণ করছেন নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা জুয়ার বোর্ড, যেখানে প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতা এবং কথিত ‘ম্যানেজমেন্ট’-এর সুযোগে এই চক্র দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর গির্জা মহল্লা, বাজার রোড, কাঠপট্টি, ভাটার খাল সংলগ্ন এলাকা, ঈদগাহ মাঠের পাশ, ঘোরাচাঁদ রোড, কাউনিয়া, ভাটিখানা, বেলতলা ও তালতলীতে নিয়মিত বসছে এসব জুয়ার আসর। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকায় জমে ওঠে ‘ওয়ান-টেন’সহ বিভিন্ন ধরনের জুয়ার আসর। শুধু বরিশাল নগরী নয়, আশপাশের উপজেলা ও জেলার খেলোয়াড়রাও এখানে ভিড় জমাচ্ছে।

রফিক নামের এক ব্যবসায়ী বলছে, এই বিশাল নেটওয়ার্কের মূল নিয়ন্ত্রক শহীদ, যিনি ‘জুয়া শহীদ’ নামেই বেশি পরিচিত। তার ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে পুরো সিন্ডিকেট। শহীদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে স্বর্ণকার শাহীন, স্বর্ণকার রিয়াজ, পোর্ট রোডের ইলিয়াস চায়ের দোকানের শাহীন এবং কাউনিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি বোর্ড পরিচালনা করে, আবার কেউ অর্থ লগ্নি ও সুদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।

বিশেষ করে মুক্তি টিউবওয়েল লিটন, শামীম এবং স্বর্ণকার রিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তারা জুয়ার বোর্ডে তাৎক্ষণিকভাবে হেরে যাওয়া খেলোয়াড়দের চড়া সুদে টাকা ধার দেয়। এতে করে একবার জুয়ার ফাঁদে পা দিলেই খেলোয়াড়রা ঋণের জালে আটকে পড়ে এবং ধীরে ধীরে সর্বস্বান্ত হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শহীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের রয়েছে একটি সুসংগঠিত কাঠামো। প্রতিটি বোর্ডে থাকে নির্দিষ্ট লোকবল, লাঠিয়াল বাহিনী এবং নজরদারি টিম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির খবর পেলেই দ্রুত স্থান পরিবর্তন করা হয়। কখনো দোকানের আড়ালে, কখনো আবাসিক এলাকার ভেতরে, আবার কখনো নির্জন স্থানে বসানো হয় জুয়ার বোর্ড।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—এই জুয়ার সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে শহীদ প্রশাসন ও কিছু অসাধু সাংবাদিককে নিয়মিত ‘ম্যানেজ’ করে থাকেন। স্থানীয়দের দাবি, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যায়, ফলে বোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে বছরের পর বছর ধরে চললেও কার্যত কোনো বড় ধরনের অভিযান চোখে পড়ছে না।

এদিকে, এই জুয়ার আসরের ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অসংখ্য মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। কেউ জমি বিক্রি করছে, কেউ ঘরের আসবাবপত্র, আবার কেউ ধার-দেনায় ডুবে পরিবারসহ মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক পরিবারে ভাঙন, দাম্পত্য কলহ ও সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে আশপাশে বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন এবং বখাটেপনা। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, শুরুতে অল্প লাভ দেখিয়ে মানুষকে জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট করা হয়। পরে বড় অঙ্কের টাকার খেলায় টেনে এনে সর্বস্বান্ত করা হয়। একবার ঋণের ফাঁদে পড়লে বের হওয়ার আর কোনো পথ থাকে না।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, এত বড় পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার কার্যক্রম চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অজানা থাকার কোনো সুযোগ নেই। ফলে জনমনে সন্দেহ জোরালো হচ্ছে—এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ রয়েছে কিনা।

মুঠোফোনে শহীদসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কেউই ফোন রিসিভ করেননি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই যদি এই জুয়ার গডফাদার শহীদ ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান না চালানো হয়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। একটি শহরের সামাজিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—সবকিছুই হুমকির মুখে পড়বে।

বরিশালবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন—জুয়া শহীদের দাপটে নগরী কি এভাবেই জিম্মি থাকবে, নাকি প্রশাসন অবশেষে কঠোর অবস্থান নেবে?

 

এ ব্যাপারে শহীদের সাথে মোবাইলে কথা বললে সে জানান, আগে আমি এর সাথে জড়িত ছিলাম কিন্তু এখন করি না। তবে আপনি নিউজ লিখতে চাইলে লিখতে পারেন।

 

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:

বাংলা নববর্ষের উৎসবমুখর আবহে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে নতুন এক আশার নাম হয়ে উঠছেন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু। পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে তার আন্তরিক শুভেচ্ছা বার্তা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ইতিবাচক সাড়া জাগিয়েছে।

নববর্ষকে কেন্দ্র করে দেওয়া তার বার্তায় ছিল না কোনো রাজনৈতিক কৌশলের কড়াকড়ি ভাষা, বরং ছিল একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের আন্তরিকতা, একজন নারীর সহমর্মিতা এবং একজন সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধির দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি দ্রুতই হয়ে উঠছেন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য একটি নাম।

গণমাধ্যমে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। এই উৎসব আমাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে, নতুনভাবে ভাবতে শেখায় এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা বাড়িয়ে দেয়। নতুন বছর ১৪৩৩ সবার জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা বয়ে আনবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতের সব সংকীর্ণতা ও বিভেদ ভুলে গিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ, উন্নত ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার এখনই সময়। তার ভাষায়, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবনমান, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির উন্নয়নই প্রকৃত অগ্রগতি।

নগরীর ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় নাগরিক সেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের সুযোগ থাকলেও অনেক সমস্যাই এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। এমন বাস্তবতায় একজন সচেতন, সক্রিয় এবং মানুষের পাশে থাকা প্রার্থীর প্রতি মানুষের প্রত্যাশা দিন দিন বাড়ছে। আর ঠিক এই জায়গাতেই জিতু নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জিতু দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে পরামর্শ দেওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

একজন গৃহিণী বলেন, “আমরা এমন একজন কাউন্সিলর চাই, যিনি আমাদের কথা বুঝবেন, আমাদের পাশে থাকবেন। জিতুকে দেখে মনে হয়, তিনি আমাদের মনের কথা বোঝেন।”
একজন তরুণ ভোটার জানান, “নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এমন প্রার্থী খুব দরকার। জিতু আপা সেই জায়গায় এগিয়ে আছেন।”

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় গুণ হলো মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার ক্ষমতা। শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় নয়, বরং সারাবছর মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাই একজন নেতাকে আলাদা করে তোলে। এই দিক থেকে জিতুর কার্যক্রম ও বক্তব্য তাকে একটি ইতিবাচক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।

নববর্ষের শুভক্ষণে দেওয়া তার বার্তায় তিনি বরিশাল নগরীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে চান তিনি।

নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়েও তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী—তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। তাই নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করতে চান।

নতুন বছরের এই শুভক্ষণে তিনি ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি সবাইকে উৎসবমুখর পরিবেশে, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আহ্বান জানান।

নির্বাচনের আগমুহূর্তে যখন নানা প্রতিশ্রুতি আর প্রতিযোগিতার ভিড়ে প্রার্থীরা ব্যস্ত, তখন জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতুর এই মানবিক ও ইতিবাচক বার্তা অনেকের কাছেই ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তার এই সহজ-সরল উপস্থাপন, মানুষের প্রতি আন্তরিকতা এবং উন্নয়ন ভাবনা তাকে ইতোমধ্যে ভোটারদের কাছে সম্ভাবনাময় এক প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

সময়ই বলে দেবে নির্বাচনের ফলাফল কী হবে। তবে এটুকু স্পষ্ট, নববর্ষের শুভেচ্ছার মাধ্যমে যে আস্থার বীজ তিনি বপন করেছেন, তা ধীরে ধীরে শক্ত ভিত্তিতে পরিণত হচ্ছে।

 

 

বরিশালে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ এক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।

গত রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি কামরুল ইসলাম ওরফে কিসলু (৪২)। তিনি কাউনিয়া থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুমিয়ার পোল এলাকার বাসিন্দা।অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৪ হাজার ৩২৫ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এসময় পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, কামরুল ইসলাম ওরফে কিসলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১৭টি মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  মিজানুর রহমান জানান—অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

স্টাফ রিপোর্টার:
নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বরিশালের রূপাতলীর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এখন চরম অনিয়ম, দখলদারিত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নগ্ন উদাহরণে পরিণত হয়েছে। জনস্বার্থে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি ব্যবহার হচ্ছে ব্যক্তিগত পশুর খামার হিসেবে—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ সরাসরি গিয়ে পড়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্লান্টের নির্ধারিত জমির একটি বড় অংশ দখল করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে দুম্বা, ছাগল ও ভেড়ার খামার। শুধু পশু পালনেই থেমে নেই, বরং খামারটিকে টেকসই করতে প্লান্টের ভেতরেই ঘাস চাষ করে পশুখাদ্যের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অর্থাৎ জনকল্যাণের প্রকল্পকে পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তরের অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—এই খামার পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের বেতনভুক্ত কর্মচারীদের। অন্তত চারজন কর্মচারী নিয়মিতভাবে পশু পরিচর্যা, খাবার দেওয়া ও খামার দেখভালের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরেই গড়ে উঠছে এক ধরনের ‘অবৈধ সংস্কৃতি’, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মতো অতিসংবেদনশীল স্থাপনার ভেতরে পশু পালন শুধু অনৈতিক নয়, বরং এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। পশুর বর্জ্য থেকে নির্গত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, অ্যামোনিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের রোগ, চর্মরোগ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া সবচেয়ে বড় আশঙ্কা—বৃষ্টির পানির সঙ্গে পশুর মলমূত্র মিশে প্লান্টের পানি উৎস দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা। যদি এই দূষণ পানির পরিশোধন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, তাহলে পুরো নগরবাসীই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অর্থাৎ একটি অব্যবস্থাপনা থেকে তৈরি হতে পারে জনস্বাস্থ্যের বড় ধরনের বিপর্যয়।

এদিকে প্লান্ট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, খামার থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দিনের পর দিন বর্জ্য অপসারণ না করায় পরিবেশ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে।

আইন ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি প্রকল্পের জমি দখল করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা সরাসরি দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা দুর্নীতি দমন কমিশনের আওতায় তদন্তযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পরিবেশ দূষণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে কঠোর শাস্তির বিধানও রয়েছে।

বিসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম বিষয়টি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন দাবি করে বলেন, এই খামারের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং পশুগুলো প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বলে উল্লেখ করেন।

তবে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রতিক্রিয়া এসেছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারীর কাছ থেকেই। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উল্টো সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে বসেন, “এসব বিষয় নিয়ে আপনাদের মাথাব্যথা কেন? যা পারেন করেন।” তার এই বক্তব্য শুধু দায়িত্বহীনতারই পরিচয় দেয়নি, বরং পুরো ঘটনাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

বরিশাল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না, তবে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে ব্যক্তিগত খামারে রূপান্তরের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়—এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতার চরম ব্যর্থতার প্রতিফলন। তারা অবিলম্বে প্রকল্প এলাকা দখলমুক্ত করা, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পুরো বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নগরবাসীর প্রশ্ন এখন আরও তীব্র—যে স্থাপনা তাদের বিশুদ্ধ পানি দেওয়ার কথা, সেটিই যদি পরিণত হয় দূষণ ও অনিয়মের উৎসে, তাহলে তাদের নিরাপত্তা কোথায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপই এখন নির্ধারণ করবে, এই অনিয়মের শেষ কোথায় গিয়ে থামবে।

 

 

স্টাফ রিপোর্টার:

অভাব-অনটনের সংসার থেকে উঠে আসা এক তরুণ—যার শৈশব কেটেছে টানাপোড়েনে, কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় জীবনের লক্ষ্য। স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই টাকার প্রতি অস্বাভাবিক আকর্ষণ ছিল তার। আর সেই আকর্ষণই যেন ধীরে ধীরে তাকে ঠেলে দিয়েছে এক অন্ধকার জগতে। সেই তরুণই এখন বরিশাল বিআরটিএ কার্যালয় ঘিরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী দালালচক্রের নিয়ন্ত্রক—মোটরযান পরিদর্শক সৌরভ কুমার সাহা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া সৌরভের বাবা ছিলেন একজন হকার। সংসারে স্বচ্ছলতা ছিল না, বরং প্রতিদিনের লড়াই ছিল টিকে থাকার। কিন্তু এই বাস্তবতা তাকে সংগ্রামী না করে বরং অন্য পথে হাঁটার মানসিকতা তৈরি করে দেয়—এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর। ছোটবেলা থেকেই ছিল তার চালাক-চতুর আচরণ, অর্থ উপার্জনের অদ্ভুত কৌশল রপ্ত করার প্রবণতা। এলাকাবাসীর অনেকেই বলেন, তার বুদ্ধির কাছে ছোটবেলায়ই নাজেহাল হতে হয়েছে অনেককে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেই কিশোর বয়স থেকেই ‘কিভাবে সহজে টাকা আয় করা যায়’—এই চিন্তাই তাকে তাড়িত করত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রবণতা আরও গভীর হয়েছে। আর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পর যেন সেই সুযোগকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছেন এক বিশাল অবৈধ বাণিজ্য নেটওয়ার্ক।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বরিশাল কার্যালয় ঘিরে বর্তমানে যে দালালচক্র সক্রিয়, তার মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে উঠে এসেছে সৌরভ সাহার নাম। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দফায় দফায় অবৈধ গাড়ির নিবন্ধন দিয়েছেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি ১৯১টি অটোরিকশার অবৈধ নিবন্ধনের ঘটনায় সৌরভসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। শুধু তাই নয়, আমদানি ছাড়াই ২০৬টি থ্রি-হুইলার জাল কাগজে নিবন্ধন দেওয়ার প্রমাণও প্রাথমিক তদন্তে পেয়েছে দুদক।

স্থানীয়দের দাবি, গত ১১ বছরে সৌরভ তার বাবা, শ্বশুর ও অন্যান্য আত্মীয়দের নামে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। কিনেছেন ১০টি বাস, চারটি প্রাইভেট কার এবং একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা। নিজে ব্যবহার করছেন প্রায় অর্ধকোটি টাকার পাজেরো গাড়ি। অথচ একজন হকারের পক্ষে এমন সম্পদ অর্জন বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ফরিদপুরে তার ভগ্নিপতি অটোরিকশা বাণিজ্য দেখভাল করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবহন ব্যবসায় রয়েছে তার গোপন বিনিয়োগ। মাসে অবৈধভাবে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিআরটিএ বরিশাল কার্যালয়ে দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনায় তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে—সঞ্জীব কুমার দাস, আলাউদ্দীন, জাকির, আসাদুল ও হৃদয়। এদের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস ও নিবন্ধন কার্যক্রমে চলে ব্যাপক অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, আদায়কৃত ঘুষের ৮০ শতাংশই যায় সৌরভের পকেটে, বাকি ২০ শতাংশ ভাগ হয় দালালদের মধ্যে।

দুদকের অভিযানে ২০২৫ সালের ৭ মে দালাল সঞ্জীব কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করা হলেও দালালচক্র বন্ধ হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, সৌরভের ছত্রচ্ছায়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এ চক্র।

দুদকের বরিশাল কার্যালয়ের উপপরিচালক রাজকুমার সাহা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। প্রাথমিকভাবে সৌরভ সাহার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে। তবে মামলার পরও তাকে দায়িত্বে বহাল রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক এমডি শাহ আলমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক। তার অবসরের পরপরই বরিশাল কার্যালয়ে যোগ দেন সৌরভ, আর এরপর থেকেই নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে এই চক্র—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে সৌরভ সাহা দাবি করেছেন, দালালদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বাবার নামে বাস থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।

অভাবের সংসার থেকে উঠে আসা এক তরুণ—যার শৈশব ছিল সংগ্রামের, সেই গল্প এখন ঢেকে গেছে কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্যের ভারে। প্রশ্ন উঠেছে, এই উত্থান কি শুধুই পরিশ্রমের, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে সুপরিকল্পিত দুর্নীতির দীর্ঘ ছায়া?