রাজধানীর গুলশানে পুলিশি অভিযান চলাকালে ফোনে হুমকি পাওয়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক আলমকে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে ডিএমপির আরও তিন কর্মকর্তাসহ মোট চারজন ডিসিকে বিভিন্ন বিভাগে রদবদল করা হয়েছে।

রবিবার (১ মার্চ) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, গুলশান বিভাগের ডিসি রওনক আলমকে মহানগর ডিবির (লালবাগ) বিভাগে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রমনা বিভাগের (ট্রাফিক) ডিসি এম তানভীর আহমেদকে গুলশান বিভাগে, ডিবি লালবাগ বিভাগের ডিসি মো. মোস্তাক সরকারকে মিরপুর বিভাগে এবং মিরপুর বিভাগের ডিসি মো. মইনুল হককে রমনা বিভাগে (ট্রাফিক) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদেশটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গুলশান এলাকায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানের সময় গুলশান ডিসি রওনক আলম একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি ও কাগজপত্র যাচাই করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তির পক্ষে বিদেশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোনের মাধ্যমে ডিসি রওনক আলমকে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় হুমকি দেন। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ফোনের অপর পাশে থাকা ব্যক্তি ডিসিকে শাসিয়ে বলছেন, ‘আপনার নাম কী? আপনি কোন ব্যাচের পুলিশ? আপনি কার সঙ্গে কথা বলছেন জানেন?’ এর জবাবে ডিসি রওনক আলমকে শান্তভাবে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ব্যাচ জেনে আপনি কী করবেন? আমি ২৮তম ব্যাচের।’ কথোপকথনের একপর্যায়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিটি ডিসির অবস্থান এবং ডিউটি সম্পর্কেও আক্রমণাত্মক প্রশ্ন তোলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, এটি সংস্থার চলমান প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নেওয়া একটি স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের বদলি হয়ে থাকে এবং এখানে অন্য কোন বিষয় নেই।

 

 

 

স্ত্রীর মামলায় ওয়ারেন্ট জারির পর থানা পুলিশ গ্রেফতর করে সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে আদালতে সোর্পদ করে স্বামী সফিকুল ইসলামকে (৪১)।

আদালত থেকে ওইদিন বিকেলে জামিনে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে সিএনজিযোগে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সফিকুল ও তার চাচী রিজিয়া পারভীন নিহত এবং আরো দুইজন আহত হয়েছেন।

নিহত সফিকুল ইসলাম বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চরদিয়াশুর গ্রামের হাচেন বেপারীর ছেলে। তিনি (সফিকুল) দীর্ঘদিন থেকে কর্মের সুবাদে সৌদি আরবে ছিলেন। অপর নিহত রিজিয়া পারভীন সফিকুলের প্রতিবেশী চাচা মজিবর ফরাজীর স্ত্রী।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সফিকুল ইসলাম ছুটিতে বাড়িতে আসেন।

একটি ওষুধ কোম্পানির পিকআপের সাথে যাত্রীবাহি সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষের এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট নামক এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেদ আহমেদ জানান, গত দুই বছর পূর্বে প্রবাসী সফিকুলের প্রথম স্ত্রীর লাশ ড্রাম ভর্তি অবস্থায় যাত্রীবাহী একটি লোকাল বাস থেকে ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে সফিকুল ছুটিতে দেশে ফিরে তার শিশু সন্তানদের কথা চিন্তা করে দ্বিতীয় বিয়ে করে পুনরায় সৌদি আরবে পাড়ি জমায়।

সূত্রে আরো জানা গেছে, বিদেশে থাকা অবস্থায় সফিকুলের সাথে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মনোমালিন্য হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সফিকুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত থেকে সফিকুলের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়।

এরইমধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সফিকুল ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে রবিবার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে গৌরনদী মডেল থানার এসআই শিমুল হোসেন আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সফিকুলকে নিজবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন।

সোমবার গ্রেফতারকৃত সফিকুলকে আদালতে সোর্পদ করার পর তার জামিন মঞ্জুর হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সাথে সিএনজিযোগে বাড়ি ফেরার পথে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী সফিকুল ইসলাম ও তার চাচী রিজিয়া পারভীন নিহত হন। অপর আহত দুইজনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

 

স্টাফ রিপোর্টার:
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আওয়ামী সরকারে সময়ে সুবিধাভোগী ও দমন পীড়নে জড়িত কর্মচারীরা এখনো বহাল তবিয়তে। কেউ কেউ ভোল পাল্টে রাতারাতি হয়ে গেছে বিএনপি কিংবা জামায়াত। এভাবে এখনো যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সেই সময়ে বিএনপি জামায়াত ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা হওয়া কর্মচারীরা।
শেবাচিম সূত্রে জানা গেছে, কিছু দিন পূর্বে চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের একটি কমিটি পাশ করানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের দারস্থ হয় একটি মহল। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের সংস্লিষ্টতা থাকার তথ্য পেয়ে তাদেরকে এড়িয়ে যান সরোয়ার। এরপর এই চক্র বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লার দারস্থ হয়। তাকে ভুলভাল বুঝিয়ে তার মাধ্যমে কমিটি করে। কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের দু’একজন বিএনপি পন্থী হলেও বাকী অধিকাংশ সদস্য ঘোর আওয়ামী পন্থী। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী ক্যাডার ডা. সায়েম ও ইউসুফ আলী মিলনের ছত্রছায়ায় কাজ করতো। তাদের মধ্যে ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, আল মামুন রাব্বি, সিদ্দিকুর রহমান, মনিরুল ইসলাম সহ আরো অনেকে। বিগত দিনে নানা অপকর্মে জড়িত ছিল তারা। বার বার ধরা খেলেও তৎকালী স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি আবুল হাসানত আবদুল্লাহ এবং সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর হস্তক্ষেপে পার পেয়ে যেত। আওয়ামী পরিচয় ব্যবহার করে অনেকে হয়েছেন ধনকুবের মালিক। এদের মধ্যে অন্যতম বিতর্কিত ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম মল্লিক ওরফে ফেরদৌস অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরি, ডিসপেন্সরী থেকে ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরি, অবৈধ সুবিধা নিয়ে আউটসোর্সিং নিয়োগসহ নানা কান্ডে আলোচিত। তাছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক (ফাসিস্ট) মেয়র ও মহানগর আ.লীগের সেক্রেটারি সাদিক আবদুল্লাহর বিশ্বস্ত লাঠিয়াল ছিলেন তিনি। জুলাই বিপ্লবের পর ভোল পাল্টে এখন পুরো হাসপাতালের চার্জ নিয়ে টাকা কামাচ্ছেন দু’হাতে। ফেরদৌসের অন্যতম সহযোগী তাইজুল ছিটকে পড়লেও ফেরদৌস এখনো রয়েছে দুধে-ভাতে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১ মার্চ হাসপাতলের ঔষধ চুরির সময় হাতেনাতে ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌসকে আটক করে যৌথবাহিনী। এরপরে শেবাচিমের তৎকালীন উপ-পরিচালক ডাঃ সুভাস দাশ কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। যার নং ৩২৫৯/০৭। সেখানে ফেরদৌসের বিরূদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরির কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তিতে জেলা আ.লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর হস্তক্ষেপে সেসব অভিযোগ গিলে ফেলে ফেরদৌস।
এদিকে ২০২১ সালে করোনা ওয়ার্ড থেকে ১০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরির অভিযোগ ওঠে ফেরদৌসের বিরূদ্ধে। তখন তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। সেই কমিটি তদন্তকালে ফেরদৌসের সরাসরি সম্পৃক্ততা পেলে বিসিসির তৎকালীন মেয়র সাদিকের হস্তক্ষেপে সেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এসব নানা অপকের্মর প্রেক্ষিতে ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌসকে মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার অন্যত্র বদলীর আদেশ দিলেও সাদিক আবদুল্লাহ তার পিতাকে দিয়ে সেসব বদলি অর্ডার বাতিল করান। সাদিকের জন্মদিন পালন, বিসিসি নির্বাচন কালীন সময়ে দিনরাত ডিউটি ফেলে সাদিকের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল ফেরদৌস। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতা দমনে সাদিক ও সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতের সাথে হামালায় সরাসরি অংশ নেয় ফেরদৌস। ৩ আগস্ট চৌমাথা এলাকায় বিএনপি নেতা জিয়া শিকদারের উপর হামলার ঘটনায়ও সাজ্জাদ সেরনিয়াতাবাতের সাথেই ছিল ফেরদৌস ও তার ছেলে ১২ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল প্রিন্স। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এসব দাগী ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগার এখনও শেবাচিম হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকে কিভাবে ?
এ ব্যাপারে ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস বলেন, আমাকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী এটা সত্য। আমি সেই মামলায় খালাস পেয়েছি। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে যেসব অভযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনুসন্ধান করারও অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শেবাচিম হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. আব্দুল মোনেম সা’দ বলেন, ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস এর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমিও শুনছি। বিতর্কিত কয়েকজনকে ডিউটিস্থল পরিবর্তন করেও দিয়েছি। হাসপাতালে জনবল সংকট থাকায় এসব লোক দিয়েই সার্ভিস চালাতে হচ্ছে। ডিজি হেলথ থেকে যদি লোক পরিবর্তন করে দেয় তাহলে সার্ভিস আরো ভালো করা সম্ভব।

 

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী ইউনিয়নে ছাত্রদল সভাপতিকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কর্মীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে মধ্যরাতে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

আহত ফাহাদ চরাদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চরাদী ইউনিয়নে ফাহাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

ফাহাদের স্বজনরা জানান, যুবলীগ কর্মী আরিফ, জাতীয় পার্টির কর্মী ও চরাদী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রানা, রিয়াজ ও চাদমারী এলাকার বাপ্পিসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রাতেই পরিবারের সদস্যরা তাকে রাজধানীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল ৯টায় হলতা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চরাদী ইউনিয়ন ছাত্রদল। সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, ফাহাদের ওপর হামলার বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চকবাজারের বিউটি রোড আবারও অস্থির। দীর্ঘদিনের জমি ও মালিকানা বিরোধ এবার রূপ নিলো ভয়াবহ অগ্নিসংযোগে। অভিযোগ উঠেছে, দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে বিউটি সুপার মার্কেটের নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের পার্টনার আবুল হাসান কুদ্দুস জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে দুর্বৃত্তরা মার্কেট ভবনে আগুন লাগায়। অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি হয়নি, তবে পুড়ে গেছে মালামাল, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামো।

চুক্তি, দানপত্র ও দখল চেষ্টা: পুরনো বিরোধের বিস্ফোরণ। অভিযোগ অনুযায়ী, বিউটি সুপার মার্কেট নির্মাণের জন্য অভিযুক্ত সৈয়দ আশিক চৌধুরীর বাবা জুলফিকার আলী চৌধুরীর সঙ্গে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চুক্তি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জমির মালিক একই জমি তার ছেলে সৈয়দ আশিক চৌধুরী ও মেয়ে কামরুন্নাহার চৌধুরীর নামে দানপত্র দলিল করে দেন। সেই দলিল দেখিয়ে সৈয়দ আশিক চৌধুরী মালিকানা দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ।

ডেভেলপারদের দাবি, গত বছরের ৯ ও ১০ মে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক নিয়ে নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে হামলা চালানো হয়। প্রথম তলার ছাদ ও নিচতলার অফিস ভাঙচুর করা হয়, লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয় এবং সে ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

তাদের ভাষ্য, সেই বিরোধের ধারাবাহিকতাতেই এবার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। “হামলা-মামলায় ক্ষ্যান্ত হয়নি, শেষ পর্যন্ত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে,” অভিযোগ কুদ্দুসের।
ঘটনার পর আবুল হাসান কুদ্দুস কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ দখলের উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির ছবি তুলেছে বলে জানা গেছে।

নগরবাসীর প্রশ্ন, বারবার হামলা-ভাঙচুর ও মামলা চলার পরও কেন বিরোধের সমাধান হলো না? কারা এই অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত? দখল-বাণিজ্যের আড়ালে কারা মদদ দিচ্ছে?

বিউটি রোডের ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কে। তারা দ্রুত তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। নগরীর ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এমন অগ্নিসংযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও বড় সতর্কবার্তা।

 

 

নির্দিষ্ট রেটে ঘুস নেন বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া। প্রায় তিন বছর ধরে বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার হিসাবে থাকা এই কর্মকর্তা নিয়মিত ঘুস নিয়ে আসছেন। তার এই ঘুস বাণিজ্যের কারণে বরিশাল সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিস ও দশটি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিস অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বদলি বাণিজ্য, দলিল প্রতি ঘুস, নকল উঠাতে ঘুস ও দলিল লেখকদের কাছ থেকে বাৎসরিক টাকা নেওয়া এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধভাবে এসব টাকা হাতিয়ে নেয় জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া। আর তার এই নিয়ম বাঁধা ঘুস আদায়ের জন্য দুজন সহযোগী রয়েছে। তারা হলেন-বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী হালিম সিপাহি ও মহাদেব। মোহছেন মিয়ার নির্দিষ্ট ঘুসের টাকা আদায় করেন তারা। মোহছেন মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগে গত বছরের ১৬ এপ্রিল অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে অভিযানের টের পেয়ে সটকে যায় মোহছেন মিয়া।

জানা যায়, বরিশাল জেলার আওতাধীন কর্মকর্তাদের বদলির নামে বাণিজ্য করে এই মোহছেন। এছাড়া দলিল প্রতি ২শ টাকা, নকল উঠানো বাবদ ৩৫ টাকা, ৩শ দলিল লেখকদের কাছ থেকে বাৎসরিক নবায়ন বাবদ দেড় হাজার করে টাকা আদায় করা হয়। এসব ঘুস বাণিজ্য এখন জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার নিয়মে পরিণত হয়েছে।

যদিও ঘুস বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অস্বীকার করেন তিনি। তবে দুদকের অভিযানের সময় সটকে পরার বিষয়ে বলেন, ওইদিন আমি ঢাকায় ছিলাম। বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের তথ্য অনুসারে দুদকের অভিযানের সময় অফিসেই ছিলেন তিনি। এসব প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর বরিশাল জেলার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি ওপেন ঘুস বাণিজ্য করে সেখানে তার অধীনস্থ যারা তারা তো ঘুসের রামরাজত্ব চালু রাখবে এটাই স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশন এসব দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে সামনে ভয়াল আকার ধারণ করবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবরেজিস্ট্রার অফিসের একাধিক কর্মচারী বলেন, মোহছেন মিয়া বরিশালে যোগদানের পর থেকেই বদলি বাণিজ্য করছেন। ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে এসব বদলি করেন তিনি। এছাড়া বরিশাল সাবরেজিস্ট্রার অফিসে তিনশত দলিল লেখক রয়েছে, তাদের কাছ থেকে বাৎসরিক লাইসেন্স নবায়ন বাবদ দেড় হাজার করে টাকা নেয় মোহছেন মিয়া।

বরিশাল সদর অফিস থেকে দুর্নীতির দায়ে বদলি হওয়া শাহিনকে চার লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে আবারও অফিস সহকারী হিসাবে যোগদান করায় মোহছেন মিয়া। ঘুসের টাকা না পেয়ে মিজানুর রহমান নামের এক অফিস সহকারীকে বদলি করায় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ওই ভুক্তভোগী। আর রেকর্ড কিপার বিধান চন্দ্রকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে বরিশাল সদর অফিসে বদলি করা হলেও একমাস পরে যোগদান করতে হয় তাকে। এরপর যোগদানের দু’মাস পরেই বিধান চন্দ্র সুতারকে হিজলায় বদলি করেন তিনি।

সম্প্রতি হিজলা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের নকলনবিশ দিলিপ চন্দ্রকে মোহরার পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিনিময়ে দশ লাখ টাকা ঘুস নেয় মোহছেন মিয়া। এছাড়া আগৈলঝাড়া সাবরেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী ফাতেমাতুজ জোহরাকে আট লাখ টাকার বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়ার বন্দোবস্ত করেছে জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া। বরিশাল সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সাবেক পিওন জাহাঙ্গীর হোসেন অবসরে যাওয়ার সময় তার পেনশনের টাকা উঠানোর জন্য ছয় লাখ টাকা ঘুস দাবি করে মোহছেন। পরে তার ছেলে জাহিদের মাধ্যমে চার লাখ টাকা ঘুস দিয়ে মোহছেন মিয়ার সঙ্গে রফাদফা করতে বাধ্য হয় পিয়ন জাহাঙ্গীর। মোহছেন মিয়ার এসব ঘটনায় ঢাকা আইজিআর অফিসে অভিযোগ গেলেও লালন নামের তৎকালীন এক অফিস সহকারী টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করেন তিনি। দলিল করতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, এরকম একজন দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারকে বদলি করা না হলে বাড়বে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।

 

 

 

সূত্র : দৈনিক যুগান্তর

 

বরিশালে ক্যান্সারে আক্রান্ত ২৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি মামুন তালুকদারকে দেখতে আজ সোমবার হাসপাতালে ছুটে যান বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার। তার এই মানবিক উদ্যোগ দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনদের মাঝে গভীরভাবে আলোচিত হয়েছে।

নগরীর রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন মামুন তালুকদারের কেবিনে গিয়ে তিনি বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন। অসুস্থ নেতার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে চলমান চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার বলেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী যখন কঠিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেন, তখন তার পাশে দাঁড়ানো শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, মানবিক কর্তব্যও। তিনি মামুন তালুকদারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন এবং পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও সাহস রাখার আহ্বান জানান। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজন হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন (বিএনপি),(যুবদল) ও (ছাত্রদল)-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শারমিন আক্তার সংসদ সদস্যকে চিকিৎসা সংক্রান্ত সার্বিক বিষয় অবহিত করেন।

নেতাকর্মীরা বলেন, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার সবসময়ই দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখেন। ব্যস্ত রাজনৈতিক সূচির মধ্যেও হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানো তার নেতৃত্বের মানবিক দিককেই আরও স্পষ্ট করেছে।

মামুন তালুকদারের পরিবার ও স্বজনরা তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছেন।

 

তেতুলিয়া এলজিইডির প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম,দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে শত কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে জানাগেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, তেতুলিয়া উপজেলা এলজিইডির  প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান  পাবনা সদরের হেমায়েতপুরের দরিদ্র কৃষক আকবর আলী খানের পুত্র। সামান্য একটু কৃষিজমি ছাড়া পিতার তেমন কোন জমি জমা ছিল না । অর্থসংকটের ভেতরেই জীবন অতিবাহিত হয়েছে ইদ্রিস আলী খানের। তবে এলজিইডির  প্রকৌশলী হওয়ার পরে পরিবারে ফিরে আসতে শুরু করে আর্থিক স্বচ্ছলতা। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সাবেক সংসদ সদস্য পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার গোলাম ফারুক প্রিন্সের ছত্রছায়ায় হয়ে ওঠেন ব্যাপক প্রভাবশালী ।

অভিযোগ আছে, ইদ্রিস আলী খান পাবনায় এলজিডি প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজের সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করেন ও সড়কের নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার গোলাম ফারুক প্রিন্সের প্রভাবে সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যায় এবং তাকে সেখান থেকে বদলি করা হয় তেতুলিয়ায়।  ৫ ই আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পতনের পর ভোল পাল্টিয়ে  নিজেকে প্রচার করেন বিএনপিপন্থী প্রকৌশলী হিসেবে।

তেঁতুলিয়ার প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের  পরই এখানেও শুরু করে দেন নানা অনিয়ম দুর্নীতি। তবে বরাবর তিনি থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাহিরে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে তেতুলিয়ায় সড়ক নির্মাণের ১৫ দিনের ভিতর দেবে যায়, তখন এই অনিয়মের সংবাদ গত মে মাসে  গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে , চলতি অর্থবছরে বুড়াবুড়ি বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৬৫ মিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য ১ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ১৭৯ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, এই বরফদের বড় একটা অংশ ইদ্রিস আলী খান কমিশন হিসেবে ঘুষ নেন তখন এটা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল তবে সেই ঘটনা তিনি ধামাচাপা দিয়ে  থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
অভিযোগ আছে, গত ১৮ জুলাই তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনই আরএন্ডএইচ-সিপাইপাড়া রোড হয়ে কাশিমগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি সড়ক প্রকল্পে কাজের এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন না করে  কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছিল। এটা নিয়ে পঞ্চগড়ে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়।

প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান  বিবাহ করেছেন পাবনা সদরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতিয়ানীর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মৃত ওয়াজ উদ্দিন শেখের কন্যা রোকেয়া বেগম স্বপ্নাকে। এখানেই তিনি করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ।  রয়েছে তার একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি,  গাড়ি, ছেলেদের জন্য ক্রয় করে রেখেছেন ছয়টি মোটরসাইকেল। চলাচলের জন্য রয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা দামের একটি আলিশান গাড়ি।  যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ ১৬-৪৩৪৫। এখানে তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। গাড়িটি ক্রয় করেছেন: মোঃ মনোয়ার হোসেন পাইলট, পিতা মোঃ মুখলেসুর রহমান, ঠিকানা বাড়ি ৪০/৪২, সেকশন ৭, আরামবাগ মিরপুর ঢাকা। কিন্তু গাড়িটি ক্রয় করার পর তিনি নাম পরিবর্তন করেননি।  একটি স্টাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে মালিকানা করে নিয়েছেন। কারণ তার নামে রেজিস্ট্রেশন হলে এই অর্থের হিসাব তিনি দিতে পারবেন না।  এটা সম্পূর্ণ অবৈধ অর্থে ক্রয় করা। এই মালিকানা পরিবর্তন না করার জন্য তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গাড়িটি ভাড়া দিতে পারেননি।তিনি এলাকায় কারো সঙ্গে তেমন একটা চলাফেরা বা কথা বলেন না । বিশেষ করে ৫ ই আগস্টের পরে খুব সতর্ক অবস্থায় থাকেন। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তার মোট তিনটি বাড়ি রয়েছে।  একটি  আট তালা বাড়ি  নির্মানাধীন; যেখানে প্রায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করছেন। বড় ছেলে ইমন একটি ব্যয়বহুল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়নরত । ছোট ছেলে শিরোন উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে । দুই ছেলের বিলাসিতার জন্য ছয়টি মোটরসাইকেল ক্রয় করে দিয়েছেন। স্ত্রী সন্তানদেরকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান দেশ-বিদেশ। পাবনা মেইন শহরে তার তিনটি দোকান রয়েছে; যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা। পাবনা সদর ও আশেপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলায়  স্ত্রী সন্তান ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার।

ইদ্রিস আলীর এলাকার একজন  বাসিন্দা বলেন,তিনি  কারোর সঙ্গে তেমন কথা বলেন।  তার বাড়িতে কোন লোকজনকে সহজে ঢুকতে দেন না।  সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার গোলাম ফারুক প্রিন্সের নির্বাচনে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন। এছাড়াও ইদ্রিস আলী ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে  অবৈধ  অর্থ ব্যয় করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে।

এ বিষয়ে প্রকৌশলী ইদ্রিস আলীর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:-ঢাকার কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়সাল আহমেদকে ঘিরে তার পেশাগত উত্থান, সম্পদ বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক একটি মামলায় আসামি হওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি বরিশালের একটি মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ—এর কোতোয়ালি থানার ওসি ফয়সাল আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে বরিশাল বন্দর থানাধীন চাঁদপুর ইউনিয়নের বিশ্বাসের হাট এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার—এর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের আটক ও হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে।আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে পথরোধ, হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ, মারধর করে জখম এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৬৫, ৩২৩, ৩০৭, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানায় কর্মরত অবস্থায় ফয়সাল আহমেদ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।সেই সময় বিরোধী নেতা কর্মীদের অবৈধভাবে পথরোধ, হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ, মারধর করে জখম এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এ ঘটনায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালনকালে ফয়সাল আহমেদের পেশাগত উন্নতি দ্রুত ঘটে। একই সঙ্গে তার সম্পদ বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, থানাকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার এবং মামলা সংক্রান্ত তদবিরের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করেছিলেন তিনি। এতে সাধারণ মানুষ অনেক সময় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি ফয়সাল আহমেদ বলেন,“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি সবসময় আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি।”
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ও সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি করে থাকে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের অভিমত, আলোচিত অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং জনমনে বিদ্যমান প্রশ্নের সমাধান হবে।

বরিশাল নগরীতে পরিকল্পিতভাবে নারীকে ব্যবহার করে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নগরীর পৃথক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম। তিনি জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি এক ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, পরিচয়ের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—গৌরনদী উপজেলার কাশেমাবাদ গ্রামের হাকিম পেদার ছেলে ঝাড়ুদার শাহিন, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার পালক গ্রামের কবির হাওলাদারের ছেলে সাগর হাওলাদার এবং বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের উলালগুনি গ্রামের মকবুল জোমাদ্দারের ছেলে সাইফুল ইসলাম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মূল অভিযুক্ত শাহিন তার স্ত্রীকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করত। সর্বশেষ ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার সুলতান দারোগার ছেলে ফয়জুল কবিরের সঙ্গে মোবাইলে পরিচয় গড়ে তোলা হয়। একপর্যায়ে তাকে বরিশালে ডেকে নগরীর কলেজ রো এলাকার একটি বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে কৌশলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শহরে এ ধরনের প্রতারণা বাড়ছে উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তির ডাকে সাড়া দেওয়ার আগে পরিচয় যাচাই এবং সন্দেহজনক প্রস্তাব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।