স্টাফ রিপোর্টার
বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত প্রসেস সার্ভেয়ার (জারি কারক) দিপক চন্দ্র দাসকে ঘিরে নানা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে নিজ বাড়ির পাশের অফিসে কর্মরত থাকার সুযোগে তিনি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে শক্তিশালী বলয় তৈরি করে অঘোষিত নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অস্বাভাবিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তিনি পুরো উপজেলা প্রশাসনকে কার্যত জিম্মি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।” “তার প্রভাব নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও দৃশ্যমান নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।” সূত্র জানায়, বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানের দায়িত্বকালীন সময়ে ২০১৭ সালের শেষ দিকে ডিসি অফিসের সাবেক বিতর্কিত নাজির হাবিবের তদবিরে নাইট গার্ড পদে চাকরি পান দিপক চন্দ্র দাস। চাকরিতে যোগদানের আগে তিনি বরিশাল ডিসি অফিসে ওমেদার হিসেবে কাজ করতেন। এমনকি কিছুদিন ডিসি বাংলোতেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত আছেন তিনি। তার বাড়ি উপজেলা পরিষদ ও ইউএনও বাংলোর দুই মিনিটের পথ হওয়ায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের অভিযোগ, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হলেও তিনি কার্যত ইউএনও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতীত ও বর্তমান একাধিক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নীরব সহযোগিতা ও প্রশ্রয়ে দিপক চন্দ্র দাস বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইউএনওদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি বিভিন্ন কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ইউএনওদের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং অভিযোগকারীরাই বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দিপক একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হলেও তিনি নিজেকে অনেকটা কর্মকর্তার মতো আচরণ করেন। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, প্রকল্পের কাজ, আর্থিক কাগজপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন সিদ্ধান্তমূলক কার্যক্রমেও তার অস্বাভাবিক প্রভাব রয়েছে।” হিসাব সহকারী ও অফিস সহকারীদের দায়িত্ব থাকা বিভিন্ন ফাইলও দিপক নিজেই পরিচালনা করেন। এমনকি প্রকল্প সংক্রান্ত নথি টাইপিং, বিল প্রস্তুত ও চেক লেখার কাজও তাকে করতে দেখা যায়। সরেজমিনে গতকাল ১৬ মে শনিবার সরকারি ছুটির দিনে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিস সহকারী (নাজির) সৈয়দ বসির আহমেদের কম্পিউটারে বসে বিভিন্ন প্রকল্পের কাগজপত্র টাইপ করছেন দিপক চন্দ্র দাস। এ সময় তাকে ইউএনও’র স্বাক্ষরযুক্ত ঠিকাদারদের বিল সংক্রান্ত চেক প্রস্তুত করতেও দেখা যায়। এ সংক্রান্ত ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ৪র্থ শ্রেণীর এ কর্মচারী প্রায় প্রতিদিনই অফিসের কর্মকর্তাদের চেয়ার দখল করে নিজেই কর্মকর্তা বনে গিয়ে ইউএনও অফিসের বেশিরভাগ ফাইল করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর এমন অস্বাভাবিক ক্ষমতা ও দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল থাকা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দিপক চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসমূহ খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জানাগেছে, একই স্থানে প্রায় ৮ বছর ধরে কর্মরত থাকায় তিনি প্রশাসনের ভেতরে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরের বরাদ্দ,
প্রকল্প, বিল-ভাউচার ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) ছবি রানী প্রায় আড়াই বছর আগে আমতলী থেকে বদলি হয়ে বাবুগঞ্জ ইউএনও অফিসে আসলেও তার বেশির ভাগ ফাইল দিপক করেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছবি রানীকে শুধু চেয়ার টেবিল দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি বরিশাল সদর উপজেলা থেকে বদলি হয়ে হিসাব সহকারী মোঃ ফারহান বাবুগঞ্জ ইউএনও অফিসে যোগদান করলে তাকেও কোন দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তার বেশিরভাগ ফাইল অঘোষিতভাবে করে যাচ্ছেন জারি কারক দিপক চন্দ্র দাস। গত ৯ মাস পূর্বে বাকেরগঞ্জ উপজেলা থেকে বদলি হয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যোগদান করা অফিস সহকারী এনামুল হককেও শুধু চেয়ার টেবিল দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। যদিও অফিস সহকারী এনামুল হক কয়েক দিন পূর্বে বরিশাল ডিসি অফিসে বদলি হয়ে আসেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দিপকের বাড়ি উপজেলা পরিষদের পাশে হওয়ায় সার্বক্ষনিক ইউএনও’র চোখের সামনেই থাকেন তিনি। ‘‘যে কারনে বাবুগঞ্জে আসা সকল ইউএনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।” একাধিক সূত্রের দাবি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, উপজেলা বন কর্মকর্তা, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকাণ্ডেও প্রভাব বিস্তার করে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোনো কর্মকর্তা তার কথামতো না চললে তাদের বিরুদ্ধে ইউএনও’র কাছে নেতিবাচক তথ্য দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে এ পিওনের বিরুদ্ধে। এছাড়া স্থানীয় কতিপয় সাংবাদিককে ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের চাপে রাখার অভিযোগও উঠেছে। তবে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তার দ্বারা হয়রানীর শিকার একাধিক কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি বার্তা বিভাগের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বরাদ্দ ও বিল-ভাউচারের অর্থ আত্মসাতে অফিস সহকারী (নাজির) সৈয়দ বসির আহমেদের সঙ্গে দিপকের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে সূত্রের দাবী। আপ্যায়ন খাত, টিএ বিল, প্রসেস বিল, কম্পিউটার মেরামত, অফিস সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাতের সরকারি বরাদ্দের অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তোলন ও ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা সভা, সমন্বয় সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতের বরাদ্দ থেকেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে দিপক-বসিরের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দিপক দাস পূর্বের ন্যায় বর্তমান ইউএনও স্যারের কাছের লোক। তার মাধ্যমে সকল আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। ৫ আগস্টের পর দিপক উপজেলার সকল অফিসারের দপ্তর থেকে বরাদ্দ নিয়ে লুটপাট করেছেন। বেশিরভাগ বরাদ্দ নিয়েছেন পিআইও অফিস ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে। বরাদ্দ ভাগিয়ে তার ঘনিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের প্রকল্পের সিপিসি বানিয়ে প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে দিপকের বিরুদ্ধে। একই সাথে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের সাথে আতাত করে প্রকল্প ভাগিয়ে নিয়ে কাজ না করেই বিল তুলে ভাগভাটোয়ার করেছেন বলে একাধিক সূত্র দাবী করেছেন। তার মূল দায়িত্ব চিঠিপত্র বিলি করা হলেও সে মেতেছে লুটপাটের মহাৎসবে। প্রতিটি চিঠি জারির জন্য সরকার থেকে ৪৫০ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়। প্রতিবছর বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার অধিক বরাদ্দ আসে। অভিযোগ উঠেছে অর্থ বরাদ্দের সমপরিমান চিঠি উপজেলায় জারি না হলেও অফিস সহকারী সৈয়দ বসির আহমেদ ভুয়া বিলের মাধ্যমে উক্ত টাকার তুলে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ারা করে আত্নসাত করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে যত বরাদ্দ আসে, তা দিয়ে প্রতি অর্থ বছরে অফিসের কাজ না করে উক্ত টাকা দিপক ও নাজির আত্নসাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাজির বসিরও এই উপজেলায় সাড়ে ৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর এমন অস্বাভাবিক ক্ষমতা, ৮ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল থাকা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বিরুদ্ধে এত বিস্তর অভিযোগ ওঠার পরও দীর্ঘদিন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই অভিযোগসমূহ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।” এসব অভিযোগের বিষয়ে দিপক চন্দ্র দাস এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এমন কোন ক্ষমতা নেই। কেউ আপনাকে ভুল তথ্য দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনার সরকারী নাম্বারে একাধিকবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক : আবু নাসের মোঃ রহমাতুল্লাহ বরিশাল মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন—এই আলোচনাটি বরিশাল অঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে বেশ জোরালো এবং এর যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বরিশালের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
আবু নাসের মোঃ রহমাতুল্লাহ বরিশাল মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন—এই আলোচনাটি বরিশাল অঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে বেশ জোরালো এবং এর যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বরিশালের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে আসার ক্ষেত্রে তাঁর সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
কমিটি পুনর্গঠন ও আলোচনার শীর্ষে: বরিশাল মহানগর বিএনপির পূর্ববর্তী মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত করার পর থেকেই নতুন নেতৃত্বের খোঁজ চলছে। দলের তৃণমূল কর্মী থেকে শুরু করে হাইকমান্ডের আলোচনায় আবু নাসের মোঃ রহমাতুল্লাহর নাম শীর্ষস্থানীয় নেতাদের তালিকায় রয়েছে।
তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশ ও আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশে থাকায় সাধারণ কর্মীদের মাঝে তাঁর প্রতি বেশ ভালো সমর্থন সৃষ্টি হয়েছে। কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে দলের একটি বড় অংশ তাঁকে মহানগরের শীর্ষ নেতৃত্বে দেখতে চায়।
সাংগঠনিক সক্রিয়তা ও কেন্দ্রীয় আস্থা: দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় বরিশালে নিয়মিত সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে তিনি নিজের অবস্থানকে শক্ত করেছেন। দলের ভেতর বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজের সফল দায়িত্ব পালনের কারণে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের কাছেও তিনি বেশ আস্থাশীল।
সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক তৎপরতা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল-৫ (সদর) আসনের একজন শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী। একই সাথে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) ঘিরেও তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতা ও লবিং বেশ দৃশ্যমান।

দলটির হাইকমান্ড যেকোনো মুহূর্তে বরিশাল মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিগত দিনের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার মূল্যায়নে আবু নাসের মোঃ রহমাতুল্লাহর বরিশাল মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কোনো শীর্ষ পদে (যেমন সভাপতি/আহ্বায়ক বা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী পদ) আসার সম্ভাবনা প্রবল।

 

বরিশাল কাউনিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে থানাধীন পলাশপুর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাউনিয়া থানার এসআই মো. সাইফুল্লাহ’র নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে মোট ২৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কাউনিয়া থানার জামাইগলি এলাকার মো. নুরু মিয়া ওরফে রুহুল আমিন (৩০), পিতা মৃত নাসির মিয়া; মোসা. সোহাগী (২৭), পিতা মনসুর সরদার; মোসা. কমলা বেগম (৪১), পিতা মো. নাসির গাজী এবং মোসা. জুঁই আক্তার ওরফে জুলি (২৭), পিতা মো. জসীম উদ্দিন। বাকি তিনজনের বাড়ি নগরীর পোর্ট রোড এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে তথ্য ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। শনিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

বরিশালের রাজপথে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং দলীয় দুঃসময়ে সাহসী ভূমিকা রাখার কারণে পরীক্ষিত নেতা বেলায়েত হাওলাদারকে নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চায় তৃণমূল যুবদলের নেতাকর্মীরা। নগরী ও জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন একটাই আলোচনা, “ত্যাগীদের মূল্যায়ন চাই, মাঠের কর্মীদের নেতৃত্বে আনতে হবে।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যখন অনেকেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তখনও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বেলায়েত হাওলাদার। আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল-মিটিং, সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাহস জুগিয়ে তিনি নিজেকে একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, দল যখন কঠিন সময় পার করেছে, তখন বেলায়েত হাওলাদার মামলা-হামলা, রাজনৈতিক চাপ ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে দলের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার এই ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

একাধিক নেতাকর্মী বলেন, “বেলায়েত হাওলাদার শুধু একজন নেতা নন, তিনি মাঠের একজন কর্মীবান্ধব সংগঠক। সুখে-দুঃখে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। দলের দুর্দিনে যারা রাজপথে ছিল, তাদেরই নেতৃত্বে আনা সময়ের দাবি।”

স্থানীয় যুবদলের অনেক কর্মী মনে করেন, নতুন নেতৃত্বে তরুণ ও ত্যাগী নেতাদের প্রাধান্য দিলে সংগঠন আরও গতিশীল হবে। তারা বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে যাদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এবং যারা দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন, তাদের মূল্যায়ন করলে দল আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, বর্তমান সময়ে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন নেতারাই ভবিষ্যতে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে পারেন।

এদিকে বেলায়েত হাওলাদারের অনুসারীরা জানান, ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং দল ও সংগঠনের স্বার্থকে সবসময় প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ফলে নতুন কমিটিতে তাকে মূল্যায়ন করা হলে নেতাকর্মীদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা যাবে।

তৃণমূল যুবদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলের জন্য নিবেদিত, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর সেই বিবেচনায় বেলায়েত হাওলাদারকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চায় বরিশালের যুবদলের বৃহৎ একটি অংশ।

 

শহরের রাস্তায় সাধারণ নারীরা কতটা নিরাপদ, তা সরেজমিনে যাচাই করতে এক অভিনব ও সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের হায়দরাবাদের মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার সুমতি। তেলঙ্গানা ক্যাডারের এই সিনিয়র আইপিএস কর্মকর্তা গভীর রাতে সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে একাকী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে সমাজের প্রকৃত চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

গত ১ মে দায়িত্ব গ্রহণের পর নারী নিরাপত্তার বাস্তব অবস্থা বুঝতে তার এই তিন ঘণ্টার অভিযানে উঠে এসেছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র। কোনো নিরাপত্তা রক্ষী বা পুলিশের প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন প্রায় ৪০ জন পুরুষ তাকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করে এবং সরাসরি কুপ্রস্তাব দেয়।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মালকাজগিরি থানার কাছে একটি বাসস্ট্যান্ডে এই পর্যবেক্ষণমূলক অভিযান পরিচালনা করেন সুমতি। ছদ্মবেশে থাকায় উপস্থিত পুরুষদের কেউ বুঝতে পারেননি যে তারা একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন।

কমিশনারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ৩ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তার কাছে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে যেমন নেশাগ্রস্ত লোক ছিল, তেমনি অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণও ছিল। কেউ কেউ স্বাভাবিক আলাপের ছলে এগিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত অশালীন আচরণ বা কুপ্রস্তাব প্রদান করেন। শুধু অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে ফিল্ড পর্যায়ে নারী নিরাপত্তার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতেই তিনি এই উদ্যোগ নেন।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এই অভিযানের পর উত্যক্তকারী বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে পুলিশ কমিশনার তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের না করে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্তদের থানায় ডেকে নিয়ে বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং জনসমক্ষে নারীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সুমতি মনে করেন, অপরাধীদের শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঘটার আগে সেই এলাকাগুলোতে টহল জোরদার এবং অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনা।

হায়দরাবাদের নারী আইপিএস সুমতির এমন সাহসী উদ্যোগ এই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি যখন কাজিপেট রেলওয়ে স্টেশনে ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখনও নিরাপত্তার মান যাচাই করতে একই ধরনের ছদ্মবেশি অভিযান চালিয়েছিলেন।

মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার এই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ স্থানীয় নারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি এবং বিশেষ পুলিশি টহল দল বা ‘শি টিম’-এর তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ডিআইজি মোঃ গোলাম রউফ খান পিপিএম (বার) এনডিসিকে ঘিরে আবারও প্রশাসনিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। বাধ্যতামূলক অবসরের সম্ভাব্য তালিকায় তার নাম থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় মহল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে “অন্যায় ও বৈষম্যমূলক” হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ডিআইজি গোলাম রউফ খানের চাকরির মেয়াদ এখনো প্রায় নয় বছরের বেশি রয়েছে। এমন অবস্থায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরের আলোচনায় আনা প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, দীর্ঘ কর্মজীবনের মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়ে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে খুলনা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার নাম আলোচনায় আসে। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের প্রথম দিকের ধাপগুলোতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এর পরপরই তাকে “বিএনপি-জামায়াতপন্থী” আখ্যা দিয়ে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

খুলনা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে তাকে বরিশালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয় তাকে। পরে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) হিসেবে প্রায় সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময়ে তিনি কঠোর পেশাদারিত্ব, সততা ও জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন।

তবে তার কর্মজীবনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ২০১৮ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপি ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তাকে হঠাৎ করেই সরিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক সপ্তাহ আগে, ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই, তাকে তড়িঘড়ি করে বরিশাল থেকে বদলি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একদিনের মধ্যে বরিশাল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হয়নি। পরে তাকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসনের ভেতরে নিরপেক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের অনেক সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় চাপের মুখে পড়তে হয় এবং ডিআইজি গোলাম রউফ খানও তার ব্যতিক্রম নন। প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় স্বীকার করেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় তিনি বারবার বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, ডিআইজি গোলাম রউফ খান পিপিএম (বার) এনডিসি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই একজন সৎ, নির্ভীক ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার দায়িত্বশীল আচরণ ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের স্মৃতি এখনো সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচিত হয়। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতাকে মূল্যায়ন না করে তাকে বিতর্কিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা প্রশাসনের জন্য নেতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে।

 

বরিশাল নগরীতে একদিনের ব্যবধানে দুই স্কুল শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলো—এ আর এস স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনিয়া আক্তার এবং কালেক্টর স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌরভ দাস।

জানা গেছে, গত ১ মে সাগরদী এলাকা থেকে মুনিয়া আক্তার নিখোঁজ হয়। এর পরদিন ২ মে ভাটিখানা এলাকার নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হয় সৌরভ দাস। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে নগরবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত শিক্ষার্থীদের সন্ধান ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এক ক্ষুদে বার্তায় বিএমপির ডিসি (নর্থ) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আশা রাখছি অনতিবিলম্বে উদ্ধার করতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ। এবিষয়ে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

অপরদিকে নগরবাসী এ ঘটনায় পুলিশের সুস্পষ্ট বক্তব্য ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।