বরিশালে ক্যান্সারে আক্রান্ত ২৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি মামুন তালুকদারকে দেখতে আজ সোমবার হাসপাতালে ছুটে যান বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার। তার এই মানবিক উদ্যোগ দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনদের মাঝে গভীরভাবে আলোচিত হয়েছে।

নগরীর রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন মামুন তালুকদারের কেবিনে গিয়ে তিনি বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন। অসুস্থ নেতার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে চলমান চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার বলেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী যখন কঠিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেন, তখন তার পাশে দাঁড়ানো শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, মানবিক কর্তব্যও। তিনি মামুন তালুকদারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন এবং পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও সাহস রাখার আহ্বান জানান। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজন হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন (বিএনপি),(যুবদল) ও (ছাত্রদল)-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শারমিন আক্তার সংসদ সদস্যকে চিকিৎসা সংক্রান্ত সার্বিক বিষয় অবহিত করেন।

নেতাকর্মীরা বলেন, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার সবসময়ই দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখেন। ব্যস্ত রাজনৈতিক সূচির মধ্যেও হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানো তার নেতৃত্বের মানবিক দিককেই আরও স্পষ্ট করেছে।

মামুন তালুকদারের পরিবার ও স্বজনরা তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছেন।

 

তেতুলিয়া এলজিইডির প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম,দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে শত কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে জানাগেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, তেতুলিয়া উপজেলা এলজিইডির  প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান  পাবনা সদরের হেমায়েতপুরের দরিদ্র কৃষক আকবর আলী খানের পুত্র। সামান্য একটু কৃষিজমি ছাড়া পিতার তেমন কোন জমি জমা ছিল না । অর্থসংকটের ভেতরেই জীবন অতিবাহিত হয়েছে ইদ্রিস আলী খানের। তবে এলজিইডির  প্রকৌশলী হওয়ার পরে পরিবারে ফিরে আসতে শুরু করে আর্থিক স্বচ্ছলতা। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সাবেক সংসদ সদস্য পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার গোলাম ফারুক প্রিন্সের ছত্রছায়ায় হয়ে ওঠেন ব্যাপক প্রভাবশালী ।

অভিযোগ আছে, ইদ্রিস আলী খান পাবনায় এলজিডি প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজের সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করেন ও সড়কের নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার গোলাম ফারুক প্রিন্সের প্রভাবে সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যায় এবং তাকে সেখান থেকে বদলি করা হয় তেতুলিয়ায়।  ৫ ই আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পতনের পর ভোল পাল্টিয়ে  নিজেকে প্রচার করেন বিএনপিপন্থী প্রকৌশলী হিসেবে।

তেঁতুলিয়ার প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের  পরই এখানেও শুরু করে দেন নানা অনিয়ম দুর্নীতি। তবে বরাবর তিনি থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাহিরে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে তেতুলিয়ায় সড়ক নির্মাণের ১৫ দিনের ভিতর দেবে যায়, তখন এই অনিয়মের সংবাদ গত মে মাসে  গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে , চলতি অর্থবছরে বুড়াবুড়ি বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৬৫ মিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য ১ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ১৭৯ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, এই বরফদের বড় একটা অংশ ইদ্রিস আলী খান কমিশন হিসেবে ঘুষ নেন তখন এটা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল তবে সেই ঘটনা তিনি ধামাচাপা দিয়ে  থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
অভিযোগ আছে, গত ১৮ জুলাই তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনই আরএন্ডএইচ-সিপাইপাড়া রোড হয়ে কাশিমগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি সড়ক প্রকল্পে কাজের এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন না করে  কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছিল। এটা নিয়ে পঞ্চগড়ে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়।

প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান  বিবাহ করেছেন পাবনা সদরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতিয়ানীর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মৃত ওয়াজ উদ্দিন শেখের কন্যা রোকেয়া বেগম স্বপ্নাকে। এখানেই তিনি করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ।  রয়েছে তার একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি,  গাড়ি, ছেলেদের জন্য ক্রয় করে রেখেছেন ছয়টি মোটরসাইকেল। চলাচলের জন্য রয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা দামের একটি আলিশান গাড়ি।  যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ ১৬-৪৩৪৫। এখানে তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। গাড়িটি ক্রয় করেছেন: মোঃ মনোয়ার হোসেন পাইলট, পিতা মোঃ মুখলেসুর রহমান, ঠিকানা বাড়ি ৪০/৪২, সেকশন ৭, আরামবাগ মিরপুর ঢাকা। কিন্তু গাড়িটি ক্রয় করার পর তিনি নাম পরিবর্তন করেননি।  একটি স্টাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে মালিকানা করে নিয়েছেন। কারণ তার নামে রেজিস্ট্রেশন হলে এই অর্থের হিসাব তিনি দিতে পারবেন না।  এটা সম্পূর্ণ অবৈধ অর্থে ক্রয় করা। এই মালিকানা পরিবর্তন না করার জন্য তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গাড়িটি ভাড়া দিতে পারেননি।তিনি এলাকায় কারো সঙ্গে তেমন একটা চলাফেরা বা কথা বলেন না । বিশেষ করে ৫ ই আগস্টের পরে খুব সতর্ক অবস্থায় থাকেন। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তার মোট তিনটি বাড়ি রয়েছে।  একটি  আট তালা বাড়ি  নির্মানাধীন; যেখানে প্রায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করছেন। বড় ছেলে ইমন একটি ব্যয়বহুল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়নরত । ছোট ছেলে শিরোন উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে । দুই ছেলের বিলাসিতার জন্য ছয়টি মোটরসাইকেল ক্রয় করে দিয়েছেন। স্ত্রী সন্তানদেরকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান দেশ-বিদেশ। পাবনা মেইন শহরে তার তিনটি দোকান রয়েছে; যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা। পাবনা সদর ও আশেপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলায়  স্ত্রী সন্তান ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার।

ইদ্রিস আলীর এলাকার একজন  বাসিন্দা বলেন,তিনি  কারোর সঙ্গে তেমন কথা বলেন।  তার বাড়িতে কোন লোকজনকে সহজে ঢুকতে দেন না।  সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার গোলাম ফারুক প্রিন্সের নির্বাচনে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন। এছাড়াও ইদ্রিস আলী ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে  অবৈধ  অর্থ ব্যয় করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে।

এ বিষয়ে প্রকৌশলী ইদ্রিস আলীর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:-ঢাকার কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়সাল আহমেদকে ঘিরে তার পেশাগত উত্থান, সম্পদ বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক একটি মামলায় আসামি হওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি বরিশালের একটি মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ—এর কোতোয়ালি থানার ওসি ফয়সাল আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে বরিশাল বন্দর থানাধীন চাঁদপুর ইউনিয়নের বিশ্বাসের হাট এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার—এর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের আটক ও হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে।আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে পথরোধ, হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ, মারধর করে জখম এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৬৫, ৩২৩, ৩০৭, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানায় কর্মরত অবস্থায় ফয়সাল আহমেদ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।সেই সময় বিরোধী নেতা কর্মীদের অবৈধভাবে পথরোধ, হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ, মারধর করে জখম এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এ ঘটনায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালনকালে ফয়সাল আহমেদের পেশাগত উন্নতি দ্রুত ঘটে। একই সঙ্গে তার সম্পদ বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, থানাকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার এবং মামলা সংক্রান্ত তদবিরের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করেছিলেন তিনি। এতে সাধারণ মানুষ অনেক সময় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি ফয়সাল আহমেদ বলেন,“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি সবসময় আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি।”
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ও সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি করে থাকে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের অভিমত, আলোচিত অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং জনমনে বিদ্যমান প্রশ্নের সমাধান হবে।

বরিশাল নগরীতে পরিকল্পিতভাবে নারীকে ব্যবহার করে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নগরীর পৃথক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম। তিনি জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি এক ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, পরিচয়ের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—গৌরনদী উপজেলার কাশেমাবাদ গ্রামের হাকিম পেদার ছেলে ঝাড়ুদার শাহিন, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার পালক গ্রামের কবির হাওলাদারের ছেলে সাগর হাওলাদার এবং বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের উলালগুনি গ্রামের মকবুল জোমাদ্দারের ছেলে সাইফুল ইসলাম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মূল অভিযুক্ত শাহিন তার স্ত্রীকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করত। সর্বশেষ ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার সুলতান দারোগার ছেলে ফয়জুল কবিরের সঙ্গে মোবাইলে পরিচয় গড়ে তোলা হয়। একপর্যায়ে তাকে বরিশালে ডেকে নগরীর কলেজ রো এলাকার একটি বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে কৌশলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শহরে এ ধরনের প্রতারণা বাড়ছে উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তির ডাকে সাড়া দেওয়ার আগে পরিচয় যাচাই এবং সন্দেহজনক প্রস্তাব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

 

আসাদুজ্জামান শেখঃঃ

রাজনীতিতে পদের চেয়ে বড় পরিচয় হলো জনগণের ভালোবাসা এবং দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য। গত তিনটি মাস আমরা এক ভিন্ন রূপের আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ভাইকে দেখেছি। সংসদ নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না হয়েও, দলের স্বার্থে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা পালনে তিনি যেভাবে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছেন, তা কেবল একজন আদর্শবান নেতার পক্ষেই সম্ভব। 🌾

নিজের কোনো চাওয়া-পাওয়াকে বড় না করে, সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি বরিশালের অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন। তৃণমূলের কর্মীদের সাথে তাঁর এই মিশে যাওয়া, কোনো অহংকার ছাড়া সাধারণ মানুষের সাথে একাত্ম হওয়া এবং একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখা—বর্তমান সময়ে বিরল এক দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে তাঁর যে ‘ক্লিন ইমেজ’ বা নিষ্কলঙ্ক রাজনৈতিক জীবন, তা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় গর্বের জায়গা।

বরিশাল একটি বিভাগীয় শহর, আমাদের প্রাণের স্পন্দন। এই শহরের আধুনিকায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এমন একজন নেতৃত্ব প্রয়োজন যিনি স্মার্ট, আধুনিক চিন্তাচেতনার অধিকারী এবং যাঁর কাছে নগরীর সাধারণ মানুষের সরাসরি প্রবেশাধিকার রয়েছে। একজন মানুষ, যিনি কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়াননি এবং যাঁর ভিশন অত্যন্ত স্বচ্ছ।

আমরা বিশ্বাস করি, দলের সর্বোচ্চ স্বার্থে এবং বরিশালের সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্য তাঁর মতো একজন গতিশীল ও শিক্ষিত নেতার বিকল্প নেই। বরিশালের উন্নয়নের যে স্বপ্ন আমরা দেখি, সেই স্বপ্নের সফল রূপকার হওয়ার সবটুকু যোগ্যতা তাঁর মধ্যে বিদ্যমান।

সময় এসেছে বরিশালের তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার এই চমৎকার সমন্বয়কে কাজে লাগানোর। জনগণের দোয়া আর কর্মীদের ভালোবাসাই হোক তাঁর আগামীর পথচলার শক্তি। ইনশাআল্লাহ, বরিশালের এই নতুন পথচলায় আমরা আপনার পাশে আছি।

 

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর বোনের মেয়েকে (ভাগনি) ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এজন্য তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে তারা।

বরিশালে স্ত্রীর বোনের কিশোরী মেয়েকে (ভাগনি) ধর্ষণের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আদালতের সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চলতি সপ্তাহেই চার্জশিট গ্রহণ করা হয়েছে। তবে মামলাটি এখনও বিচারিক ফাইলে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

জানা গেছে, সাবেক ছাত্রদল নেতা সবুজ আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাটি প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব পান বরিশাল মেট্রোপলিটনের কাউনিয়া থানার উপ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক গাজী অহিদুল ইসলাম অহিদ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক গাজী অহিদুল ইসলাম অহিদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, আসামি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সবুজ আকনের স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালে তার সেবাযত্নের জন্য স্ত্রীর বোনের মেয়েকে বাসায় রাখা হয়। সেই সুযোগে সবুজ আকন কিশোরীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। পরে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বরিশাল নগরীর এসআর রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার কথা কাউকে না বলার জন্য ভুক্তভোগী ও তার মাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর, ২৬ মে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ ওঠার পর গতবছর ২৫ মে সবুজ আকনকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতিসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে বহিষ্কারের পরও তিনি ছাত্রদলের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
অভিযুক্ত সবুজ আকন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে করা হয়েছে। আমাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়েও আমি নিশ্চিত নই। খোঁজ নিয়ে দেখব।

 

 

২০১৫ সালে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষে (রাজউক) সহকারী অথরাইজড অফিসার পদে যোগ দেন পলাশ সিকদার। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বেতন-ভাতা হিসেবে পেয়েছেন ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৪১ টাকা। অথচ বাড়ি-গাড়িসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তার। এসব সম্পদ তিনি ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। সংস্থাটির উপপরিচালক মানসী বিশ্বাস অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন। দুদক ও রাজউক থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাজউকের উত্তরা জোনের অথরাইজড অফিসার পলাশ সিকদারের বিরুদ্ধে পৌনে ১ কোটি টাকা মূল্যের হ্যারিয়ার গাড়ি, প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করে গ্রামে ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণসহ আরও অনেক সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ জমা পড়েছে দুদকে।

সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরই অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাসকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগের বিষয়ে ২০২৩ সালের ২১ জুন পলাশ সিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

দুদকের টেবিলে থাকা অভিযোগে বলা হয়, পলাশ সিকদার ২০১৫ সালে রাজউকের সহকারী অথরাইজড অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তিনি সংস্থাটির পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় রাজউকের আওতাধীন এলাকায় বিভিন্ন ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি ২০২১ সালে অথরাইজড অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর রাজউকের উত্তরা জোনে বদলি করা হয়। তিনি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বিসি কমিটির (ভবন নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদন কমিটি) সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

দুদকের তথ্যমতে, সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে পলাশ সিকদারের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ার পর তার সম্পদের বিস্তারিত জানতে চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দেশের সব ব্যাংক, রাজউক, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, পোস্ট অফিস ও রিহ্যাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পলাশ সিকদারের সম্পদ অর্জনের তথ্য বিভিন্ন দপ্তর থেকে দুদকে পাঠানো হয়। এর মধ্যে রাজউক থেকে পাঠানো বেতন-ভাতার হিসাবে বলা হয়েছে, তিনি ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত সময়ে বেতন-ভাতা হিসেবে পেয়েছেন ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৮১ টাকা। অথচ তার কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

দুদকের টেবিলে থাকা অভিযোগে বলা হয়, পলাশ সিকদারের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পাটিকেলবাড়ী। তার পরিবার ১৯৮৮-৮৯ সালে ভূমিহীন হিসেবে ১০০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নিয়েছিল। এখন সেই পরিবার বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক। রাজউকে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর যেসব সম্পদের মালিক হয়েছে পলাশ সিকদারের পরিবার, তার মধ্যে রয়েছে গ্রামের বাড়িতে ২ কোটি টাকা খরচ করে দোতলা বাড়ি নির্মাণ, বাবার নামে ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে নেছারাবাদ উপজেলার ব্যাসকাঠি মৌজায় ১ একর ২৫ শতাংশ জমি ক্রয়, মেজো বোন সেলিনা আক্তার রেবুর জন্য ৫০ লাখ দিয়ে দোতলা বাড়ি নির্মাণ, স্ত্রীর ছোট ভাইয়ের নামে বসুন্ধরার এন-ব্লকে পাঁচ কাঠার প্লটে ভবন নির্মাণকাজ শুরু করা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, পলাশ সিকদার যে হ্যারিয়ার গাড়িটি (নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৭-৭৯০২) ব্যবহার করেন, তার মূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) তথ্য বলছে, গাড়িটি তার নিজের নামে কেনা হয়নি, এটি আফসানা মরিয়মের নামে এক নারীর নামে কেনা হয়েছে। পলাশ সিকদারের বাবা নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনকালে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করেন। এ ছাড়া তিনি শ^শুরবাড়িতে অনেক সম্পদ কিনেছেন এবং ব্যাংক-ব্যালান্স করেছেন। সব মিলিয়ে তার কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

রাজউক ও দুদকের তথ্যমতে, পলাশ সিকদার রাজউকে নকশা অনুমোদন ও ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের দালালি করতেন। এ ছাড়া তিনি টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ভবনের নকশার অনুমোদন দিতেন। তার বিরুদ্ধে রাজউক চেয়ারম্যানের দপ্তরে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ জমা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। মন্ত্রণালয় সে অভিযোগের তদন্ত করছে। তদন্তকালে তাকে ওএসডি করা হয়।

এদিকে, পলাশ সিকদারের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দশতলা ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ার ঘটনায় আরও একটি অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংস্থাটির একজন উপপরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল বিকেলে পলাশ সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল–৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার বিজয়ী হওয়ায় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাকিব আহমেদ। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরপরই নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সরোয়ারকে শুভেচ্ছা জানান এবং বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

এ সময় সাকিব আহমেদ বলেন, এই বিজয় শুধু একজন প্রার্থীর নয়, এটি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিজয়। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করার ফলেই এডভোকেট সরোয়ার আজ জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলেও জানান সাকিব। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে উৎসাহ দেওয়া, নানা জটিলতায় সহায়তা করা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সাকিব আহমেদ আরও বলেন, তরুণ প্রজন্ম সব সময় গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও ন্যায়ের পক্ষে। বরিশাল–৫ আসনের মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে রায় দিয়েছেন, সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বিজয়ী প্রার্থীর নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদানকালে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় সাকিব আহমেদের নেতৃত্বে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত সাকিব আহমেদ বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে আগামী দিনেও বরিশালের মানুষের পাশে থাকবেন তারা। বিজয়ের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

বরিশাল-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে বরিশাল মহানগর ছাত্রদল। নির্বাচনে জয়লাভের পর সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।

এ সময় ছাত্রদল নেতারা বলেন, এই বিজয় গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তারা আশা প্রকাশ করেন, মজিবর রহমান সরোয়ার সংসদে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

শুভেচ্ছা গ্রহণ করে মজিবর রহমান সরোয়ার নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও সমর্থনই তার শক্তি। সবার সহযোগিতায় বরিশাল-৫ আসনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী প্রার্থী এডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন।

নির্বাচনে বিজয়ের পর সৌজন্য সাক্ষাতে মাসুদ হাসান মামুনের পক্ষ থেকে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধিকে অভিনন্দন জানান এবং আগামী দিনে বরিশালের উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদানকালে যুবদল নেতারা বলেন, জনগণের রায়ে বিজয়ী হওয়ায় এডভোকেট সরোয়ারের প্রতি তাদের আস্থা ও সমর্থন আরও দৃঢ় হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বরিশাল-৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।

এদিকে শুভেচ্ছা গ্রহণ করে এডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।