নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আলোচিত মাহবুব আলম রাডী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. বজলুর রশিদ বয়াতী (৩৮) কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৮।

র‍্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে র‍্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-৮, সদর কোম্পানি, বরিশাল এবং র‍্যাব-১০, সদর কোম্পানি, কেরানীগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ৪ জুলাই ২০২৬ বিকেলে ঢাকা মহানগরীর গেন্ডারিয়া থানার হরিণচরণ রায় সড়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত বজলুর রশিদ বয়াতীকে গ্রেফতার করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জুন মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সাদেকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাহবুব আলম রাডীর ভোগদখলীয় জমিতে দোকানঘর নির্মাণে বাধা দেয় অভিযুক্তরা। এর জেরে গত ২৩ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চুনারচর এলাকার আক্তার পোদ্দারের দোকানের সামনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাহবুব আলম রাডীর ওপর হামলা চালানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত বজলুর রশিদ বয়াতী লোহার রড দিয়ে মাহবুবের মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ জুন সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসক মাহবুব আলম রাডীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে মেহেন্দীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র‍্যাব-৮ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত বজলুর রশিদ বয়াতীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৫ কেজি গাঁজাসহ মো. সোহেল (২৭) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ জুলাই) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে মেহেন্দিগঞ্জ থানাধীন ১২ নম্বর দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দড়িচর খাজুরিয়া লঞ্চঘাট সংলগ্ন নতুনহাট বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেলোয়ার বেপারীর চায়ের দোকানের সামনে ইট সলিং রাস্তার ওপর অভিযান চালিয়ে দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সোহেলকে আটক করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি নেভি ব্লু রঙের ব্যাগ তল্লাশি করে খাকি রঙের কস্টেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি প্যাকেট থেকে মোট ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেহেন্দিগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

বরগুনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবার নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ জুলাই ২০২৬ বরগুনা সদর থানাধীন ৮ নম্বর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরতবক এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এসআই (নিরস্ত্র) গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স রুবেল খানের বসতঘরের সামনের উঠানে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে মোসা. সাথী বেগম এবং মো. আল-আমিন আকন (৩৫)-কে ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারিত্ব ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

বরিশাল মহানগরে ছোট ও মাঝারি ধরনের অপরাধ দমনে সংক্ষিপ্ত বিচার বা সামারি ট্রায়াল কার্যক্রম আরও সক্রিয় হয়েছে। আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে পরিচালিত এই বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাদক, চুরি, ছিনতাই এবং অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ও আইনের প্রতি আস্থা বাড়ছে। আদালত ও পুলিশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল মহানগর পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সহযোগিতায় বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সামারি ট্রায়াল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলতি বছরের জুন মাসে, অর্থাৎ ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে, বরিশাল মহানগরে সামারি ট্রায়ালের আওতায় মোট ১৬৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব মামলায় ৪৫৭ জন আসামিকে অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মো. কামরুল হাসান জানান, বরিশাল মহানগর দায়রা জজ মীর মো. এমতাজুল হকের নির্দেশনা এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জহির উদ্দিনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মহানগরে অপরাধ দমনে সামারি ট্রায়াল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বরিশাল মহানগর পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য দপ্তরের সহায়তায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরিয়তুল্লাহ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিরাজুল ইসলাম রাসেল এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নূরুন নাজনীন গুরুত্বের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তার ভাষ্য, এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় শুধু জুন মাসেই ৪৫৭ জন আসামিকে দ্রুত সাজা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতেও সামারি ট্রায়াল কার্যক্রম একইভাবে সক্রিয় থাকবে। সংক্ষিপ্ত বিচার ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রভাবের কথাও তুলে ধরেছেন বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম।

তিনি বলেন, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় জুনজুড়ে মাদক, চুরি, ছিনতাই ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দ্রুত সাজা দেওয়ায় মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, এই বিচারপ্রক্রিয়ার ফলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। একই ধারা অব্যাহত থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

এদিকে, আইনজীবী ও আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে ছোট অপরাধগুলোর দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। পাশাপাশি অপরাধীদের বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও কমবে, যা নিরাপদ সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

​বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার একজন অসহায় ও প্রবীণ মা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাঁর এই কষ্টের খবর পাওয়া মাত্রই তাঁর পাশে ছুটে যান বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের নারী সংরক্ষিত ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জিতু।
​তিনি কেবল ওই মায়ের খোঁজখবরই নেননি, বরং তাঁর চিকিৎসা সহায়তার জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক অনুদানও প্রদান করেন।
​ জান্নাতুল ফেরদৌস জিতুর প্রতিশ্রুতি:
​”অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা মানবিকতারই অংশ। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী আপনাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।”
​আসুন, আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই

 

 

 

বরিশাল শহরের অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনার পরিচালকের (এমডি) অন্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু যুবদলের নেতা বলে অনেকে দাবি করেছে। তবে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত জনৈক মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বরিশাল মহানগর যুবদলের কোনো পদেই কখনো ছিলেন না।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে একথা জানান যুবদল সভাপতি।

মোনায়েম মুন্না বলেন, বরিশাল সদরের অগ্রণী হাউজিংয়ের এমডির কাছ থেকে চেক সই করে নেওয়ার সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বরিশাল মহানগর যুবদলকে জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার করছে। আমি যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত জনৈক মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বরিশাল মহানগর যুবদলের কোনো পর্যায়ের পদ পদবীতে কখনোই ছিল না।

মুন্না বলেন, আমি বরিশাল মহানগরীর পুলিশ প্রশাসনকে অভিযুক্ত এই ব্যক্তিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ::: ঝালকাঠির নলছিটিতে ফুটবল খেলা নিয়ে তর্কের জেরে ব্রাজিল সমর্থক এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আর্জেন্টিনা সমর্থকের বিরুদ্ধে। এতে তার নাকের হাড় ভেঙে গেছে বলে দাবি স্বজনদের।

শুক্রবার বিকালে উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের সরই গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

আহত হাসিবুল ইসলাম (২০) বারইকরণ গ্রামের ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের ছেলে। তিনি ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক বলে জানান স্বজনরা।

স্বজনদের অভিযোগ, খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পাশের সরই গ্রামের আর্জেন্টিনা সমর্থক এক যুবক হাসিবুলকে ঘুষি মারেন। এতে তিনি নাকে প্রচণ্ড আঘাত পান। স্থানীয়রা তাকে প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্বজনদের দাবি, চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসিবুলের নাকের হাড় ভেঙে গেছে।

নলছিটি থানার ওসি তৌহিদুজ্জান বলেন, আহত ব্যক্তিকে আগে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে। পরে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ঘুমন্ত এক বৃদ্ধাকে শিল-পাটা দিয়ে আঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী গ্রাম থেকে ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয় বলে জানান মির্জাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খান মোঃ নুরুল ইসলাম।

নিহত উত্তম দেবনাথ (৬০) ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। আটক ছেলের নাম তাপস দেবনাথ (৩৮)।

পুলিশ পরিদর্শক নুরুল ইসলাম বলেন, উত্তম দেবনাথের প্রথম ঘরের সন্তান তাপস দেবনাথ। তাপসকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হচ্ছে। তার এক বোন তাপসি দেবনাথ ঢাকা থাকেন। তিনি রওনা হয়েছেন। তিনি আসার পরেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে উত্তম দেবনাথের দ্বিতীয় স্ত্রী কানন দেবনাথ মানসিকভাবে সুস্থ নন বলে জানান তিনি।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার শেষ করে উত্তম দেবনাথ ও তার ছেলে তাপস একই ঘরে ঘুমাতে যান। আর কানন দেবনাথ ঘরের পেছনের বারান্দায় ঘুমাচ্ছিলেন। ভোর ৪টার দিকে তাপস ঘরে থাকা শিল-পাটা নিয়ে তার ঘুমন্ত বাবার কপালে আঘাত করেন। এ সময় তার ডাক-চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে স্ত্রী কানন ছুটে গিয়ে উত্তমকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে তিনিও চিৎকার শুরু করেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানান। তবে এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই উত্তম মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পুলিশ পরিদর্শক নুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাপসকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে ভিক্ষুক সেজে এক বৃদ্ধার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে গভীর রাতে তাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে স্বর্ণালংকার লুট এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গুরুতর আহত সাফিয়া খাতুন (৭০) বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত সাফিয়া খাতুন ওই গ্রামের ফুল শরিফের স্ত্রী।

গত ১ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইউনিয়নের মক্রমপ্রতাপ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে একই ইউনিয়নের বুখাইনগর ইছাগুড়া গ্রামের বাসিন্দা রুমা বেগম (৪৫) ও তার ছেলে মো. শাকিলকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মা-ছেলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা করেছেন আহত বৃদ্ধার ভাই আশরাফ আলী সিকদার।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মামলার বাদী আশরাফ আলী সিকদার জানান, অভিযুক্তরা চরমোনাই এলাকার বাসিন্দা। তবে ঘটনার চার থেকে পাঁচ দিন আগে রুমা বেগম নিজেকে ঝালকাঠির বাসিন্দা, অসহায় ও ভিক্ষুক পরিচয় দিয়ে সাফিয়া খাতুনের বাড়িতে রাতযাপনের জন্য আশ্রয় চান। সরল বিশ্বাসে বৃদ্ধা তাকে নিজের বাড়িতে থাকতে দেন। পরদিন সকালে রুমা ভিক্ষাবৃত্তির কথা বলে চলে যান। পরে ১ জুলাই রাত ৮টার দিকে তিনি আবারও দুটি কাপ আইসক্রিম নিয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে এসে রাত কাটানোর অনুরোধ করেন। এ সময় তার ছেলে শাকিল বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রুমার দেওয়া আইসক্রিম খাওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে বৃদ্ধা নিজ কক্ষে কিছুটা অচেতন হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে শাকিল ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর রুমা বৃদ্ধার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন খুলে নেন। পরে কানের দুল খুলতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে বৃদ্ধা রুমার হাত চেপে ধরেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মা-ছেলে কানের দুল ও গলার চেইন ছিনিয়ে নেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাফিয়া খাতুন বাধা দিলে ঘরে থাকা একটি বটি দিয়ে তার পেটে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যারও চেষ্টা করা হয়।

বৃদ্ধার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে অভিযুক্ত মা-ছেলে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা সাফিয়া খাতুনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে সেদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, বৃদ্ধা বাড়িতে একাই থাকতেন। সেই সুযোগে ভিক্ষুকের পরিচয়ে আশ্রয় নিয়ে এ অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত নারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে শুক্রবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে মা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কাটপট্টি এলাকায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় মা—ছেলেসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, কাটপট্টি এলাকার দেলোয়ার ফকিরের ছেলে আকাশ ফকির, রিয়াদ ফকির এবং তাদের মা নেহার বেগম। আহতদের মধ্যে আকাশকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরপক্ষ নাটকীয়ভাবে আহত হয়ে মেডিকেল ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় ৮–৯ মাস আগে স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন মৃধা আকাশ ফকিরের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা ধার নেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত না দেওয়ায় ঘটনার দিন রাতে আকাশ টাকা চাইতে গেলে শাহীন মৃধাসহ শামীম মৃধা, জিহাদ মৃধা, নাহিদ হাওলাদার, রাকিব, রাজিন হাওলাদার, নাসিমা এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আকাশের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। তার চিৎকার শুনে মা নেহার বেগম ও ছোট ভাই রিয়াদ এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আকাশকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, অপর পক্ষ শাহীন মৃধা ও তার মা নাসিমা চিকিৎসার জন্য শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ নিজেদের আহত দাবি করে নাটকীয়ভাবে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ অভিযোগেরও স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে আহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।