দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আরাফাত রহমান কোকো এবং চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি মোঃ শহীদুল শিকদারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন টুমচর বাজার বায়তুল আমান জামে মসজিদে মাগরিব নামাজের পর এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় মুসল্লি ও বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ আবদুল কাদের মোল্লা। দোয়া মাহফিলে মরহুমদের আত্মার শান্তি ও জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এসময় দেশ, জাতি ও দলের শান্তি, কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনাও করা হয়।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল নগরীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক কারবার চালানোর অভিযোগে ছাত্রদল নেতা তমালকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা। আটককৃত তমাল বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও বিএনপি সভানেত্রী, নগরীর ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর শরিফ তাসলিমা পলির ছেলে। অভিযোগ উঠেছে, পরিবারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রশ্রয়ে সে দীর্ঘদিন ধরে এমন অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।

আজ শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১টার দিকে বরিশাল কাউনিয়া থানাধীন বিসিসি ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাজেরা খাতুন স্কুল সড়কে পলি ম্যানশনের সামনে সড়কের ওপর অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানে তার দেহ তল্লাশি করে ১০ অ্যাম্পুল জি-মরফিন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশালের পরিচালিত এই অভিযানে রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার ছত্রছায়া কোনো কাজে আসেনি। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় তমাল এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল এবং পরিবারের সমর্থনেই সে বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

আটক ব্যক্তি মোঃ শাহরিয়ার রায়হান তমাল (৩৫), পিতা আবুল কালাম, মাতা তাসলিমা পলি। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কাউনিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনায় নগরজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পারিবারিক প্রভাব ব্যবহার করে আর কতদিন মাদক কারবারিরা আইনের চোখ ফাঁকি দেবে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শুধু গ্রেপ্তারেই সীমাবদ্ধ না থেকে এর পেছনের নেটওয়ার্ক ও আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

 

এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ইং, মঙ্গলবার বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের পরিবর্তন এবং স্বদেশ নামক একটি অনলাইন পোর্টালসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে “বিসিসির মিস্টার ২ পার্সেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার” শিরোনামে যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।

প্রকাশিত সংবাদের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। প্রকৃতপক্ষে, আমি কর্মজীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্ব পালনকালে কখনো অন্যায়, দুর্নীতি কিংবা কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আপস করিনি। সর্বদা সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে এসেছি।

আমি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একজন দায়িত্বশীল নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সিটি কর্পোরেশনের নীতিমালা অনুসরণ করে সকল উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি ও বাস্তবায়ন করে থাকি। নগর পিতার নির্দেশনা অনুযায়ী এবং নিজ নিজ দায়িত্বের সীমার মধ্যে থেকেই প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করেছি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কখনোই ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেইনি।

বাস্তবতা হলো, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত থেকে উন্নয়নমূলক কাজের সার্বক্ষণিক তদারকি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। সেই ক্ষুব্ধ ও কুচক্রি মহলই আমার দীর্ঘদিনের সৎ ও সম্মানজনক চাকরি জীবনে অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য সরবরাহ করে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি একজন সরকারি কর্মকর্তার পেশাগত সম্মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমি উক্ত অসত্য, অযৌক্তিক ও মানহানিকর সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে—কোনো সংবাদ প্রকাশের পূর্বে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চা করবেন। এতে যেমন সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা পাবে, তেমনি সমাজও উপকৃত হবে।

নিবেদক
মোঃ আবুল বাশার
নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল)
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, বরিশাল

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক //

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়িত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এখন দুর্নীতির জ্বলন্ত উদাহরণ। মাঠে কোনো কাজ না করেই কাগজে-কলমে শতভাগ বাস্তবায়ন দেখিয়ে সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রকল্পের নামে উন্নয়ন নয়, চলছে নির্লজ্জ অর্থ আত্মসাৎ।

উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের পূর্ব রাজকর খলিল মিয়ার বাড়ি থেকে পশ্চিম রাজকর মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার কাঁচা সড়কটি আজও বেহাল। খানাখন্দে ভরা এই সড়কে উন্নয়নের কোনো চিহ্ন নেই। অথচ ২০২৩–২৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে এখানে মাটি ফেলে সড়ক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ লাখ টাকা। বাস্তবে এক ট্রাক মাটিও ফেলা হয়নি, অথচ পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের নথিপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল ছাড় করা হয়। কাগজে উন্নয়ন, বাস্তবে প্রতারণা—এভাবেই সরকারি অর্থ গিলে খাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

তদন্তে বেরিয়ে আসে, একই কৌশলে রহমতপুর ইউনিয়নের আরও তিনটি এবং দেহেরগতি ইউনিয়নের একটি কাঁচা সড়কে কোনো কাজ ছাড়াই অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। মোট পাঁচটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ভুয়া বাস্তবায়ন দেখিয়ে প্রায় ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন পিআইও ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত সিপিসির প্রত্যক্ষ যোগসাজশেই এই লুটপাট সম্ভব হয়েছে।

অনিয়মের তালিকায় থাকা অন্যান্য সড়কগুলোর অবস্থাও একই—রহমতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাসেমের বাড়ি থেকে নতুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক, করিমের খেয়াঘাট থেকে রাজগুরু সেতু পর্যন্ত সড়ক, শাহজাহানের বাড়ি থেকে কালু হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক এবং দেহেরগতি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এসডিএফ অফিস থেকে মুন্সী বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা সড়ক। কোথাও উন্নয়নের কোনো আলামত নেই, অথচ সব জায়গাতেই কাজ শেষের সিল মারা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় বাবুগঞ্জ উপজেলায় মোট ৩১টি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাগজপত্র দেখানো হয়। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫২ লাখ ১২ হাজার টাকা। বাস্তবে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ প্রশ্নবিদ্ধ।

বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনে ৩১টির মধ্যে ২১টি প্রকল্প শতভাগ এবং বাকি ১০টি ৮০ শতাংশ বাস্তবায়িত দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আলোচিত পাঁচটি সড়কে উন্নয়ন কাজের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও একাধিক প্রকল্প সভাপতি অভিযোগ করেছেন, প্রতিটি প্রকল্প থেকে ১৩ শতাংশ হারে ভ্যাট ও আয়কর কেটে নেওয়ার নামে অর্থ আদায় করা হয়েছে। বিল পাসের পর ওই টাকা নির্দিষ্ট জায়গায় না দিলে নানা ধরনের চাপ ও হয়রানি চালানো হতো।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন প্রকাশ্য অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক //ঝালকাঠির মতো একটি ছোট জেলা শহরে দায়িত্বের পোশাককে ঢাল বানিয়ে যে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য চলেছে, তার মূল কারিগর ছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট হাসান। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর দায়িত্বে থেকেও তিনি সাধারণ মানুষ ও পরিবহন খাতকে জিম্মি করে গড়ে তুলেছিলেন একটি সংগঠিত মাসোয়ারা ব্যবস্থা। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ট্রাফিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে ন্যস্ত করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে ঝালকাঠিবাসীর প্রশ্ন থামেনি, বরং আরও গভীর হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশে সার্জেন্ট পদটি নন-গেজেটেড এবং জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী গ্রেড–৯ ভুক্ত। এই গ্রেডে একজন সার্জেন্টের মূল বেতন প্রায় ২২ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ যোগ হলেও মোট মাসিক আয় সীমিত পর্যায়ের মধ্যেই থাকে। এই আয়ে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব হলেও বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস, উচ্চ ব্যয়ের জীবনধারা ও বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া স্বাভাবিক নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সার্জেন্ট হাসান ঝালকাঠি শহরের প্রাণকেন্দ্র ফায়ার সার্ভিস মোড়ের একটি বিলাসবহুল ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।ওই ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ছিল ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার বসবাস ছিল আড়ম্বরপূর্ণ। স্থানীয়দের ভাষায়, তার পরিবারের জীবনযাপন ছিল প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের মতো।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, খুবই অস্বচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসা এই হাসান কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে এত সম্পদের মালিক হলেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজের নামের পাশাপাশি স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করে বেনামে গড়ে তুলেছেন জমি, ফ্ল্যাট ও নগদ অর্থসহ নানা সম্পদ। এসব সম্পদের বৈধ উৎস আজও স্পষ্ট নয়।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বকে ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করতেন। মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড, বাস টার্মিনাল ও রিকুইজিশন স্লিপ বিক্রি ছিল তার ব্যক্তিগত আয়ের বড় উৎস। দূরপাল্লার বাস, টমটম, কাভার ভ্যান ও ট্রাক থেকে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় ছিল নিয়মিত ঘটনা।
শহরের প্রবেশপথে গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে হয়রানি, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দিকে চোখ বন্ধ রাখা এবং সাধারণ চালকদের ওপর বাড়তি চাপ ছিল তার কার্যক্রমের অংশ। এসব অনিয়মের ফলেই গড়ে উঠেছে তার বিলাসী জীবন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এই প্রসঙ্গে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ট্রাফিক বিভাগে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সার্জেন্টকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি প্রশাসনিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
তবে ঝালকাঠিবাসীর দাবি এখানেই শেষ নয়। তারা মনে করেন, শুধু দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়। সার্জেন্ট হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান চালাতে হবে। অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের উৎস বের করে রাষ্ট্রের কোষাগারে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঝালকাঠির সচেতন মহলের মতে, গ্রেড–৯ এর একজন সার্জেন্ট যদি এভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ার হাতিয়ারে পরিণত করতে পারেন, তাহলে তা পুরো ব্যবস্থার জন্যই একটি অশনিসংকেত। দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই ঘুষের চক্র থামবে না বলেই তাদের মত।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশালে নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোড়দারে ১৩টি স্থানে চেকপোস্ট-তল্লাশি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার প্রবেশপথগুলোয় ১৩টি স্থানে চেকপোস্ট (নিরাপত্তাচৌকি) বসিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার সকাল থেকে এই তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম। তিনি, বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তাচৌকি বসিয়ে তল্লাশি বেগবান করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

যেসব জায়গায় চেকপোস্টগুলো বসেছে, নগরীর নথুল্লাবাদ, গড়িয়ারপাড়, আমতলার মোড়, জিলা স্কুল মোড়, জেলখানার মোড়, তালতলী ব্রিজ, কাশিপুর, দিনারের পুল, মরখখোলার পোল, চৌমাথা, দপদপিয়া ব্রিজ, কালিজিরা, রহমতপুর।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে শনিবার বন্দর থানাধীন দিনারের পুল জিরোপয়েন্ট এলাকায় চেকপোস্ট বসায় থানা পুলিশ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমিশনারের কঠোর নজরদারির নির্দেশনা থাকলেও ঢিলেঢালাভাবে চেকপোস্ট পরিচালনা করে বন্দর থানা পুলিশ। এ সময় আটো রিকশা, প্রাইভেটকার, মোটর সাইকেল আরোহী ও চালকদের তল্লাশি করলেও দুর-দুরান্ত থেকে আসা কাভার্ডভ্যান-ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয়নি। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই কঠোর তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছে বরিশালবাসী।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল সদর (৫) আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল একাধিক নাম নিয়ে। দলের ভেতরে শক্ত অবস্থান ও তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ারকে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন প্রদান করা হয়।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মহানগর ও সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সাধারণ নেতাকর্মীদের আলোচনায় ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। দু’জন নেতারই মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা ছিল—ঐক্যের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার। অবশেষে সেই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে সম্প্রতি আয়োজিত এক কর্মসূচিতে।
নেতাকর্মীরা জানান, বরিশাল সদর আসনে চরমোনাইয়ের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করিম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপির ভোটের সমীকরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে তৃণমূল পর্যায়ে ধারণা ছিল, রহমাতুল্লাহ ও সরোয়ার এক মঞ্চে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।
এই প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। তার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।
বরিশাল নগরীর গির্জা মহল্লা এলাকার এ.কে স্কুল মাঠে আয়োজিত এ শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন,
“বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের এক অগ্রণী রক্ষক ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি বরিশালের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বরিশালের মানুষের হৃদয়ে তিনি গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছেন।”
অনুষ্ঠানের আয়োজক ও সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন,
“বেগম খালেদা জিয়া সবসময় ঐক্যের কথা বলেছেন। কারাগারে যাওয়ার আগেও তিনি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন, মুক্তির পরও রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলেছেন। আমরা ঐক্যবদ্ধ না হলে তা তাঁর প্রতি অবমাননা হবে। আজ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।”
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ধানের শীষ প্রতীক সম্বলিত একটি চাঁদর মজিবর রহমান সরোয়ারকে পরিয়ে দেন। এ দৃশ্য দেখে মাঠজুড়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

নেতাকর্মীরা জানান, দুই নেতাকে এক মঞ্চে ঐক্যবদ্ধভাবে দেখে তারা নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই ঐক্যের মধ্য দিয়েই বরিশাল সদর আসনে ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করবে এবং নির্বাচনী মাঠে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।

 

নিজস্ব প্রতিবেদন:
সহকর্মীর সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন দৈনিক আজকের সুন্দরবনের সহ নির্বাহী সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান শেখ। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি গুরুতর অসুস্থ দৈনিক শাহনামার সিনিয়র ফটো সাংবাদিক মোঃ আশরাফ সুমনের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে আসাদুজ্জামান শেখ জানান, সাংবাদিক আশরাফ সুমন বর্তমানে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঁচ তলার পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।

সহকর্মীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন সংবাদকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান সহ নির্বাহী সম্পাদক আসাদুজ্জামান শেখ। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক মিরাজ, তানভীর আহমেদ অভি, শাওন ও সোহাগ। তারা হাসপাতালে গিয়ে সুমনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

পোস্টে আসাদুজ্জামান শেখ লেখেন, একজন মিডিয়া কর্মীর বিপদে আরেকজন মিডিয়া কর্মীর পাশে দাঁড়ানোই উচিত। পারস্পরিক বন্ধন ও সহমর্মিতা বজায় থাকলে মিডিয়া জগত আরও শক্ত ও সঠিক পথে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও লেখেন, “সবাই সুমনের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে সে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারে।”

একজন পেশাদার ফটো সাংবাদিক হিসেবে মোঃ আশরাফ সুমন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁর অসুস্থতার খবরে সাংবাদিক মহলে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

ইতোমধ্যে সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া ও সমর্থন জানাচ্ছেন। সবার প্রত্যাশা, দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও ক্যামেরা হাতে সংবাদ জগতে ফিরে আসবেন এই সাহসী সাংবাদিক।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক//

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়নাধীন বরিশাল–ভোলা–ঝালকাঠি–পিরোজপুর জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরিশালের চরকাউয়া ইউনিয়নে খাল খননের কাজ এখন ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষকের পানি সংকট দূর করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রকল্পই এখন পরিণত হয়েছে একটি প্রভাবশালী মহলের ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে চরকাউয়া ইউনিয়নের কাউয়ারচর মৌজায় ২ কিলোমিটার স্বনির্ভর খাল খননের কাজ অনুমোদন পায়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে বিএডিসি বরিশাল নির্মাণ জোন। ঠিকাদারি কাজ পায় মেসার্স আজমাইন এন্টারপ্রাইজ, ৩০৭/১ মেরাদিয়া, খিলগাঁও, ঢাকা। প্রকল্পের নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, মূল ম্যাপ ও নকশা অনুযায়ী খাল খনন করতে হবে।

এই খাল খননের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পানি সংকটে থাকা হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি সেচের আওতায় আনার কথা ছিল। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনের পরই এই প্রকল্প অনুমোদন পায়। কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো এবং কৃষি উৎপাদন টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কিন্তু কাজ শুরু হতেই বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, মূল ম্যাপ অনুসরণ না করে পরিকল্পিতভাবে খালের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। যেসব জমির ওপর দিয়ে ম্যাপ অনুযায়ী খাল যাওয়ার কথা, সেসব জমি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়ে অন্য সাধারণ কৃষকের জমির ভেতর দিয়ে খাল কাটা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিরীহ কৃষকরা।

এই অনিয়মের মূল নেপথ্যে রয়েছেন চরকাউয়া ইউনিয়নের প্রভাবশালী ২নং ওয়ার্ডের সাগর মেম্বার। এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, তার সরাসরি নির্দেশেই খাল খননের দিক পরিবর্তন করা হচ্ছে। ম্যাপ অনুযায়ী সাগর মেম্বারের নিজের জমির ওপর দিয়ে খাল প্রবাহিত হওয়ার কথা থাকলেও তা এড়িয়ে পাশের জমিতে খনন চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে সাগর মেম্বার প্রায় ১০০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে প্লট ব্যবসা শুরু করেন। ওই জমির মধ্য দিয়ে খালের অস্তিত্ব থাকলেও তিনি খাল দখল করে নিজের উদ্যোগে একটি কালভার্ট নির্মাণ করেন এবং সীমানা প্রাচীর গড়ে তোলেন। মূল ম্যাপ অনুযায়ী খাল খনন হলে সেই কালভার্ট ও স্থাপনা খালের ভেতরে পড়ে যাওয়ার কথা। এই কারণেই খাল ঘুরিয়ে অন্যের জমির ভেতর দিয়ে কাটার অভিযোগ উঠেছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাব-কন্ট্রাক্ট নেওয়া একটি চক্র এই অপকর্ম বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের নকশা ও নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাগর মেম্বারের জমি রক্ষায় প্রকল্পের কাঠামো বদলে দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সাগর মেম্বারের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাব খাটিয়ে কীর্তনখোলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, জমি দখল, পরিবহন স্ট্যান্ড দখলসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ এলাকাজুড়ে আলোচিত। রাজনৈতিক মামলায় কারাভোগের পর মুক্ত হলেও এলাকায় তার দাপট কমেনি। বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি সক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কৃষকের স্বার্থে নেওয়া একটি সেচ প্রকল্পকে ব্যক্তি সাগর মেম্বারের জমি ও অবৈধ স্থাপনা রক্ষার হাতিয়ার বানানো হয়েছে। খাল খননের নামে কৃষকের জমি কেটে নেওয়া হলেও প্রকৃত উপকার পাচ্ছেন না প্রকৃত কৃষকরা।
এ ব্যাপারে খাল খননের সাব কন্ট্রাক্টর রাহাত জানান,সাগর মেম্বারের জমির ওইখান থেকে একটু ভুল হয়েছে।পরবর্তীতে আমরা ঐখান থেকে কাটবো।

এই অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। তারা চান, মূল ম্যাপ অনুযায়ী খাল খনন, সাগর মেম্বারের ভূমিকা তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা। অন্যথায় কৃষি উন্নয়নের নামে চলমান এই প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্নীতি ও দখলবাজির দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
এ ব্যাপারে চড়কাউয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, শুনেছি খাল খননে অনিয়ম হয়েছে।তবে কেউ অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে জানার জন্য সাগর মেম্বারের মুঠোফোনে কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশালে বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন রূপাতলীর বাসিন্দা জুয়েল (২৮) ও রুইয়ার পোল এলাকার বাসিন্দা রাসেল (২৫)।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে নগরীর রূপাতলী এলাকার উকিল বাড়ি সড়কের সামনে ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, জুয়েল ও রাসেল রূপাতলী এলাকার এসিআই এনিমেল হেলথের একটি স্টোরে হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতেও অফিস শেষ করে তারা মোটরসাইকেলে করে রূপাতলী বাস টার্মিনালের দিকে নাস্তা করতে যাচ্ছিলেন।

নিহতদের সহকর্মী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জিহাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ঝালকাঠিগামী একটি মালবোঝাই ট্রাক (কুষ্টিয়া-ট ১১-২৫৪৫) বেপরোয়া গতিতে এসে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাসেল নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় জুয়েলকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি রেখে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।