নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি চাকরি আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) চিফ অ্যাসেসর মো. নুরুল ইসলামকে প্রশাসক দপ্তরে বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন ২০২৬) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, মো. নুরুল ইসলামের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

আদেশে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগ ও প্রকাশিত সংবাদের কারণে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাকে প্রশাসক মহোদয়ের দপ্তরে বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান-উজ্জামান এবং আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শাহ আমিনুল ইসলামকে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, তথ্য-উপাত্ত ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি শহরের শীতলাখোলা এলাকা থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কালিবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত সুমন চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত সুমন চক্রবর্তী ঝালকাঠি কালিবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ঝালকাঠি আদি সাবিহা কেমিক্যাল ওয়ার্কসের ম্যানেজার মিঠুন চক্রবর্তীর শ্যালক।

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শীতলাখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন চক্রবর্তীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে গ্রেফতার হওয়া সুমন চক্রবর্তীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল সদর উপজেলার ৩ নম্বর চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কাকাসুরা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সেকান বয়াতির ছেলে রিয়াজ বয়াতি, যিনি এলাকায় “গাঁজা রিয়াজ” নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।

সম্প্রতি প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তার আরেক সহযোগীকে নিয়ে গ্রামের একটি মাঠের পাশে বসে গাঁজা সেবন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিডিওটি সামাজিকভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন কর্মকাণ্ড নতুন নয়; দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও কেনাবেচার ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাঁজার তীব্র গন্ধে আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, মাদক সেবনের কারণে এলাকার পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে এবং তরুণ সমাজ বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

এলাকার এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একাধিকবার এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সতর্ক করার পরও তিনি তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা বলছেন, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে তরুণদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং কাকাসুরা গ্রামকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

 

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নে ৩২ পিস ইয়াবাসহ সিরাজ গাজী ওরফে সিজন গাজী নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে উপজেলার চরামদ্দি পুলিশ ক্যাম্পের এস আই আলমগীরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৩২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। রবিবার সকালে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আটক সিরাজ গাজী ওরফে সিজন গাজী চরামদ্দি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের দিয়ারচর পশ্চিম চরামদ্দি এলাকার জব্বার গাজীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, সিরাজ গাজী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তিনি একাধিকবার মাদকদ্রব্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

 

বরিশাল মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এ সময় মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও রুপা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বরিশাল মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিএমপির চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫৫ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১ কেজি ২২০ গ্রাম গাঁজাসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অভিযানের সময় নগদ ৪৭ হাজার টাকা, ২ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার এবং ৩ ভরি ৮ আনা রুপা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৩ জন, নিয়মিত মামলায় ৪ জন এবং বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বরিশাল মহানগর পুলিশ জানায়, নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

 

 

খুলনা মহানগরীর চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে র‌্যাব-৬ এর মিডিয়া সেল থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-৬ ও র‌্যাব-৮ এর সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে বরিশাল থেকে তাকে আটক করে।

র‌্যাব জানায়, নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় সংঘটিত শাশুড়ি ও সৎ দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডে আলোচিত ১ নম্বর আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬, সদর কোম্পানি ও র‌্যাব-৮ এর যৌথ আভিযানিক টিম বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল নগরীর কোতোয়ালি থানার কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম হাওলাদার খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকার আলমগীর হাওলাদারের ছেলে। সে পেশায় একজন ট্রাকচালক। তাকে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে রাতে পুলিশ নগরীর সোনাডাঙ্গার দারুল আমান মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বেবী বেগম (৫৮) ও তার দুই নাতি শামীম (১৩) ও মুস্তকিমের (৪) মরদেহ উদ্ধার করে। এদের মধ্যে বেবী বেগমের মুখ ও নাকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। বাকি দুজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সে পলাতক ছিল।

 

মহানগরীর কোতয়ালী থানা এলাকায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৮) গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩১২ বোতল নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল সদৃশ ‘উইনসেরেক্স’ ও ‘এসকাফ’ কাফ সিরাপসহ চারজন সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা।
র‍্যাব-৮, বরিশাল সদর কোম্পানীর নায়েব সুবেদার মোঃ বাবুল খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল ২৩ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাগরদী দরগাবাড়ী রোডের ‘শরীফ ভিলা’ নামক বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে ভাড়াটিয়া সিদ্দিকুর রহমান ওরফে জুয়েল এর শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ৩১১ বোতল ‘WINCEREX’ এবং ১ বোতল ‘ESKuf’ কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে জুয়েল (৩৭), কোতয়ালী, বরিশাল। বিশ্বজিৎ কুমার দাস (৪৫), দক্ষিণ সাগরদী, কোতয়ালী, বরিশাল। মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৩৬), কোতয়ালী, বরিশাল। মোঃ লাল্টু মিয়া (৪২), বেণুমরজিয়া বেগম, জীবননগর, ভোলা (বর্তমানে বরিশালে অবস্থানরত)।
অভিযানের সময় মাদক বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নগদ টাকা, বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন ও বাটন ফোন, একটি পেশাদার ‘PRESS’ কার্ড এবং একটি অপেশাদার মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্সও জব্দ করা হয়েছে।
র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারী ও খুচরা মূল্যে এই নিষিদ্ধ মাদক সরবরাহ ও বিক্রয় করে আসছিল।

র‍্যাব-৮-এর পক্ষ থেকে নায়েব সুবেদার মোঃ বাবুল খান কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃতরা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

 

বরিশাল শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জক স্মৃতি কলোনি (কেডিসি) এলকা থেকে ইয়াবা ও গাঁজাসহ তনহাদ আহমেদ নীরব (২৫) নামের একজন পুলিশ কনস্টেবল আটক হয়েছেন। মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডল থানা পুলিশের আওতাধীন এলাকা থেকে তাকে বৃহস্পতিবার স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের একটি টিম আটক করে।

তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনসের রেশন স্টোরে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।

বিস্তারিত আসছে…

 

 

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) এলাকার এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মধ্য বকশীরচর ৬ নং ওয়ার্ডের নুরুল হকের ছেলে
মোঃ সাগর আহম্মেদ নয়ন (২৩),

সারশী (৫ নং ওয়ার্ডের মোঃ জব্বার হাওলাদার ছেলে মোঃ নাঈম হাওলাদার (২৭) তারা উভয়েই বিএমপির এয়ারপোর্ট থানার বাসিন্দা।

গ্রেফতারের সময় আসামিদের হেফাজত থেকে ২৪১ পিস নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ ১,৯৫,৩৮০/- (এক লক্ষ পঁচানব্বই হাজার তিনশত আশি) টাকা উদ্ধার করা হয়।

​এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান  জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

​আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

 

 

পর্ব ১

​আসাদুজ্জামান শেখ //

​শিক্ষিত ও হজ পালনকারী হয়েও অন্ধ বিশ্বাসের আশ্রয় নিয়ে মেয়ের জামাই এবং জামাইয়ের মাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক (জাদুটোনা) করে পঙ্গু ও বোবা বানিয়ে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক ইঞ্জিনিয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর পশ্চিম বগুড়া রোডের মুন্সি গ্যারেজ এলাকার সালমা প্যালেসে।

ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক ও তার স্ত্রী সালমা (জোসনা)। তারা দুজনেই হজ পালন করেছেন (হাজী)। তাদের মেয়ে এশা (ছদ্মনাম) পেশায় একজন চিকিৎসক এবং জামাই একটি সরকারি দপ্তরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

​অনুসন্ধানে জানা যায়,বিয়ের পর থেকেই মায়ের প্ররোচনায় ডাক্তার মেয়ে এশা তার স্বামীর সংসারে অশান্তি করে আসছিলেন। জামাইয়ের বাড়ির লোকজনকে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছিলেন না এশার মা সালমা। জামাইকে সম্পূর্ণ নিজেদের কব্জিতে আনা এবং দাম্পত্য কলহ দূর করার অজুহাতে গত এপ্রিল মাসে এই ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি এক কবিরাজের শরণাপন্ন হন।

​শুরুতে কবিরাজকে তারা বলেন,মেয়ের সাথে জামাইয়ের বনিবনা হচ্ছে না, সংসারে অশান্তি লেগে থাকে। এর একটা ব্যবস্থা করে দিন। কবিরাজ মালামাল জোগাড়ের জন্য অগ্রিম টাকা দাবি করলে দম্পতি তা পরিশোধ করেন এবং কবিরাজও এক মাস ধরে তদবিরের কাজ চালান।

​ঘটনার এক মাস পর মে মাসে ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি কবিরাজের কাছে গিয়ে তাদের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করেন। তারা জামাইয়ের মায়ের মোট চার কপি ছবি কবিরাজের হাতে তুলে দিয়ে বলেন,মেয়ের শাশুড়িকে ব্ল্যাক ম্যাজিক করে চিরতরে পঙ্গু এবং বোবা বানিয়ে দিতে হবে।

​এহেন অমানবিক ও নৃশংস দাবি শুনে বিস্মিত হন কবিরাজ। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন,আমি ঘর-সংসারে মিল মহব্বত ফিরিয়ে আনার কাজ করি, কোনো ব্ল্যাক ম্যাজিক বা জাদুটোনা করে মানুষের ক্ষতি আমার দ্বারা সম্ভব নয়।

​পরবর্তীতে গত ২৪ মে (রবিবার) কবিরাজ অগ্রিম নেওয়া সমস্ত টাকা ইঞ্জিনিয়ার দম্পতিকে ফেরত দেন এবং এ বিষয়ে আর কখনো তার কাছে না আসার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি জামাইয়ের সরকারি পদের প্রভাব খাটিয়ে কবিরাজকে দেখে নেওয়ার হুমকি ও ধমক দিয়ে চলে আসেন।

​​এই বিষয়ে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার ফারুক সাহেবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাংবাদিকের জেরার মুখে একপর্যায়ে ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করেন। তার স্ত্রী সালমা জোসনার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেন।

​একজন উচ্চশিক্ষিত ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হয়ে কীভাবে এই ধরনের কাজ করতে পারলেন,এমন প্রশ্নের জবাবে এই দম্পতি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং গণমাধ্যমে নিউজ না করার জন্য আকুতি জানান। জামাই বা তার পরিবারের লোকজন এই বিষয়ে কিছু জানেন কি না জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক বলেন, দয়া করে আমার জামাই বা তাদের বাড়ির লোকজনকে ফোন দিয়ে এসব বলবেন না। তাহলে আমাদেরই ক্ষতি হবে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক মোটামুটি শান্ত প্রকৃতির মানুষ হলেও তার স্ত্রী সালমা অত্যন্ত চতুর, দাম্ভিক ও উগ্র স্বভাবের। মুন্সি গ্যারেজ এলাকার আশেপাশের বাড়ির মালিকদের সাথে তো বটেই, এমনকি নিজেদের ভবনের ভাড়াটিয়াদের সাথেও তিনি অত্যন্ত রুঢ় আচরণ করেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাড়িওয়ালা জানান,আমরা বাধ্য না হলে ওই পরিবারের সাথে কথাই বলি না। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রীর চালচলন ও কথাবার্তা সম্পূর্ণ উগ্র।

​সুশীল সমাজের ধিক্কার ​একজন প্রকৌশলী ও একজন চিকিৎসকের বাবা-মা হয়ে কীভাবে এমন বিকারগ্রস্ত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার পরিচয় দিতে পারলেন, তা নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই দম্পতির এমন হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন এবং তাদের এই মানসিক বিকারগ্রস্ততা থেকে বেরিয়ে এসে সুবুদ্ধির উদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘটনার পরবর্তী আপডেট এবং জামাই ও কবিরাজের বিস্তারিত বক্তব্য নিয়ে আসছি চোখ রাখুন আগামী পর্বে।