বরিশালে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ এক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।

গত রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি কামরুল ইসলাম ওরফে কিসলু (৪২)। তিনি কাউনিয়া থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুমিয়ার পোল এলাকার বাসিন্দা।অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৪ হাজার ৩২৫ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এসময় পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, কামরুল ইসলাম ওরফে কিসলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১৭টি মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  মিজানুর রহমান জানান—অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

স্টাফ রিপোর্টার:
নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বরিশালের রূপাতলীর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এখন চরম অনিয়ম, দখলদারিত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নগ্ন উদাহরণে পরিণত হয়েছে। জনস্বার্থে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি ব্যবহার হচ্ছে ব্যক্তিগত পশুর খামার হিসেবে—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ সরাসরি গিয়ে পড়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্লান্টের নির্ধারিত জমির একটি বড় অংশ দখল করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে দুম্বা, ছাগল ও ভেড়ার খামার। শুধু পশু পালনেই থেমে নেই, বরং খামারটিকে টেকসই করতে প্লান্টের ভেতরেই ঘাস চাষ করে পশুখাদ্যের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অর্থাৎ জনকল্যাণের প্রকল্পকে পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তরের অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—এই খামার পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের বেতনভুক্ত কর্মচারীদের। অন্তত চারজন কর্মচারী নিয়মিতভাবে পশু পরিচর্যা, খাবার দেওয়া ও খামার দেখভালের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরেই গড়ে উঠছে এক ধরনের ‘অবৈধ সংস্কৃতি’, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মতো অতিসংবেদনশীল স্থাপনার ভেতরে পশু পালন শুধু অনৈতিক নয়, বরং এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। পশুর বর্জ্য থেকে নির্গত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, অ্যামোনিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের রোগ, চর্মরোগ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া সবচেয়ে বড় আশঙ্কা—বৃষ্টির পানির সঙ্গে পশুর মলমূত্র মিশে প্লান্টের পানি উৎস দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা। যদি এই দূষণ পানির পরিশোধন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, তাহলে পুরো নগরবাসীই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অর্থাৎ একটি অব্যবস্থাপনা থেকে তৈরি হতে পারে জনস্বাস্থ্যের বড় ধরনের বিপর্যয়।

এদিকে প্লান্ট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, খামার থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দিনের পর দিন বর্জ্য অপসারণ না করায় পরিবেশ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে।

আইন ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি প্রকল্পের জমি দখল করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা সরাসরি দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা দুর্নীতি দমন কমিশনের আওতায় তদন্তযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পরিবেশ দূষণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে কঠোর শাস্তির বিধানও রয়েছে।

বিসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম বিষয়টি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন দাবি করে বলেন, এই খামারের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং পশুগুলো প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বলে উল্লেখ করেন।

তবে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রতিক্রিয়া এসেছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারীর কাছ থেকেই। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উল্টো সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে বসেন, “এসব বিষয় নিয়ে আপনাদের মাথাব্যথা কেন? যা পারেন করেন।” তার এই বক্তব্য শুধু দায়িত্বহীনতারই পরিচয় দেয়নি, বরং পুরো ঘটনাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

বরিশাল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না, তবে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে ব্যক্তিগত খামারে রূপান্তরের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়—এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতার চরম ব্যর্থতার প্রতিফলন। তারা অবিলম্বে প্রকল্প এলাকা দখলমুক্ত করা, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পুরো বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নগরবাসীর প্রশ্ন এখন আরও তীব্র—যে স্থাপনা তাদের বিশুদ্ধ পানি দেওয়ার কথা, সেটিই যদি পরিণত হয় দূষণ ও অনিয়মের উৎসে, তাহলে তাদের নিরাপত্তা কোথায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপই এখন নির্ধারণ করবে, এই অনিয়মের শেষ কোথায় গিয়ে থামবে।

 

 

স্টাফ রিপোর্টার:

অভাব-অনটনের সংসার থেকে উঠে আসা এক তরুণ—যার শৈশব কেটেছে টানাপোড়েনে, কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় জীবনের লক্ষ্য। স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই টাকার প্রতি অস্বাভাবিক আকর্ষণ ছিল তার। আর সেই আকর্ষণই যেন ধীরে ধীরে তাকে ঠেলে দিয়েছে এক অন্ধকার জগতে। সেই তরুণই এখন বরিশাল বিআরটিএ কার্যালয় ঘিরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী দালালচক্রের নিয়ন্ত্রক—মোটরযান পরিদর্শক সৌরভ কুমার সাহা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া সৌরভের বাবা ছিলেন একজন হকার। সংসারে স্বচ্ছলতা ছিল না, বরং প্রতিদিনের লড়াই ছিল টিকে থাকার। কিন্তু এই বাস্তবতা তাকে সংগ্রামী না করে বরং অন্য পথে হাঁটার মানসিকতা তৈরি করে দেয়—এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর। ছোটবেলা থেকেই ছিল তার চালাক-চতুর আচরণ, অর্থ উপার্জনের অদ্ভুত কৌশল রপ্ত করার প্রবণতা। এলাকাবাসীর অনেকেই বলেন, তার বুদ্ধির কাছে ছোটবেলায়ই নাজেহাল হতে হয়েছে অনেককে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেই কিশোর বয়স থেকেই ‘কিভাবে সহজে টাকা আয় করা যায়’—এই চিন্তাই তাকে তাড়িত করত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রবণতা আরও গভীর হয়েছে। আর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পর যেন সেই সুযোগকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছেন এক বিশাল অবৈধ বাণিজ্য নেটওয়ার্ক।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বরিশাল কার্যালয় ঘিরে বর্তমানে যে দালালচক্র সক্রিয়, তার মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে উঠে এসেছে সৌরভ সাহার নাম। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দফায় দফায় অবৈধ গাড়ির নিবন্ধন দিয়েছেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি ১৯১টি অটোরিকশার অবৈধ নিবন্ধনের ঘটনায় সৌরভসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। শুধু তাই নয়, আমদানি ছাড়াই ২০৬টি থ্রি-হুইলার জাল কাগজে নিবন্ধন দেওয়ার প্রমাণও প্রাথমিক তদন্তে পেয়েছে দুদক।

স্থানীয়দের দাবি, গত ১১ বছরে সৌরভ তার বাবা, শ্বশুর ও অন্যান্য আত্মীয়দের নামে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। কিনেছেন ১০টি বাস, চারটি প্রাইভেট কার এবং একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা। নিজে ব্যবহার করছেন প্রায় অর্ধকোটি টাকার পাজেরো গাড়ি। অথচ একজন হকারের পক্ষে এমন সম্পদ অর্জন বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ফরিদপুরে তার ভগ্নিপতি অটোরিকশা বাণিজ্য দেখভাল করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবহন ব্যবসায় রয়েছে তার গোপন বিনিয়োগ। মাসে অবৈধভাবে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিআরটিএ বরিশাল কার্যালয়ে দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনায় তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে—সঞ্জীব কুমার দাস, আলাউদ্দীন, জাকির, আসাদুল ও হৃদয়। এদের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস ও নিবন্ধন কার্যক্রমে চলে ব্যাপক অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, আদায়কৃত ঘুষের ৮০ শতাংশই যায় সৌরভের পকেটে, বাকি ২০ শতাংশ ভাগ হয় দালালদের মধ্যে।

দুদকের অভিযানে ২০২৫ সালের ৭ মে দালাল সঞ্জীব কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করা হলেও দালালচক্র বন্ধ হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, সৌরভের ছত্রচ্ছায়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এ চক্র।

দুদকের বরিশাল কার্যালয়ের উপপরিচালক রাজকুমার সাহা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। প্রাথমিকভাবে সৌরভ সাহার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে। তবে মামলার পরও তাকে দায়িত্বে বহাল রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক এমডি শাহ আলমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক। তার অবসরের পরপরই বরিশাল কার্যালয়ে যোগ দেন সৌরভ, আর এরপর থেকেই নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে এই চক্র—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে সৌরভ সাহা দাবি করেছেন, দালালদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বাবার নামে বাস থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।

অভাবের সংসার থেকে উঠে আসা এক তরুণ—যার শৈশব ছিল সংগ্রামের, সেই গল্প এখন ঢেকে গেছে কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্যের ভারে। প্রশ্ন উঠেছে, এই উত্থান কি শুধুই পরিশ্রমের, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে সুপরিকল্পিত দুর্নীতির দীর্ঘ ছায়া?

 

 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বরিশাল কার্যালয় ঘিরে গড়ে ওঠা দালালচক্রের নিয়ন্ত্রক সেখানকার মোটরযান পরিদর্শক সৌরভ কুমার সাহা। দফায় দফায় অবৈধ গাড়ির নিবন্ধন করায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় জামিন নিয়ে আবারও অবৈধ বাণিজ্যে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন সৌরভ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯১টি অটোরিকশার অবৈধ নিবন্ধন দেওয়ায় ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সৌরভসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।এ মামলায় গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্ত হন সৌরভ।  এ ছাড়া আমদানি ছাড়াই তাঁর মাধ্যমে ২০৬টি থ্রি-হুইলার জাল কাগজে নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়টিও দুদকের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১১ বছরে সৌরভ বাবা, শ্বশুর, শ্যালকসহ অন্য আত্মীয়দের নামে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। কিনেছেন ১০টি বাস, চারটি প্রাইভেট কার, কিছু সিএনজিচালিত অটোরিকশা।
ফরিদপুরে নিজ এলাকায় সৌরভের ভগ্নিপতি অটোরিকশা বাণিজ্য দেখভাল করেন। সৌরভ নিজের জন্য কিনেছেন অর্ধকোটি টাকার পাজেরো গাড়ি। বিআরটিএর  উত্তরা, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে চাকরি করেছেন তিনি। মাসে অবৈধভাবে কামান ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, দুদকের অভিযানে বিআরটিএ বরিশাল কার্যালয় থেকে ২০২৫ সালের ৭ মে গ্রেপ্তার করা হয় দালাল সঞ্জীব কুমার দাসকে। অবৈধ গাড়ির নিবন্ধন অনুমোদনের কাগজপত্রসহ তাঁকে আটকের পর এক মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। দুদক সঞ্জীবের দালালি রোধ করতে পারেনি। কারণ তাঁর পেছনে আছেন এই সৌরভ সাহা। শুধু সঞ্জীবই নন, সৌরভের হয়ে বরিশাল বিআরটিএতে দালালি করেন আলাউদ্দীন, জাকির, আসাদুল ও হৃদয়।তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এ কার্যালয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস ও নিবন্ধনসহ অন্যান্য সেবাকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য এই দালালদের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করেন সৌরভ। দুদকের  বরিশাল কার্যালয়ের উপপরিচালক রাজকুমার সাহা বলেন, ‘সৌরভ সাহার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি করা মামলাটির প্রতিবেদন দাখিল করার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অপরাধে তিনি জড়িত—এটা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করা হবে। সৌরভ সাহা জামিনে রয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে মামলার পরও কর্তৃপক্ষ তাঁকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করেনি কেন, এটা তাদের ব্যাপার। তবে আমরা তাঁকে নজরদারিতে রেখেছি।’
জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি দুর্নীতির মামলায় বরিশাল বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক এমডি শাহ আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এমডি শাহ আলম বিআরটিএর বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশাল কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ৩৪৪টিসহ প্রায় আড়াই হাজার গাড়ির ভুয়া নিবন্ধন দেওয়ার মামলায় তিনি অভিযুক্ত হন। গত বছর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। চাকরির শেষ আট বছরে শাহ আলমের বিরুদ্ধে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও চট্টগ্রাম বিআরটিএতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বরিশাল বিআরটিএ থেকে অবসরে যান শাহ আলম। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে বরিশাল বিআরটিএতে মোটরযান পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন সৌরভ।
জানা গেছে, সৌরভ তাঁর নিজ এলাকা ফরিদপুরে শ্রীময়ী পরিবহন কম্পানির কয়েকটি বাস কিনেছেন। এগুলো তিনি কেনেন তাঁর বাবার নামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বাবা একজন হকার ছিলেন। লাখ লাখ টাকা দিয়ে গাড়িগুলো কেনা তাঁর বাবার পক্ষে কোনোক্রমেই সম্ভব ছিল না। এর বাইরেও হাওলাদার পরিবহন নামের ঢাকা-বরিশাল রুটের একটি গাড়িতে বেশির ভাগ শেয়ার রয়েছে সৌরভের। ২০১৪ সালে বিআরটিএ নোয়াখালী অফিসে মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলেন সৌরভ। পদোন্নতি পেয়ে ২০২৩ সালে বরিশালে মোটরযান পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন।
জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিআরটিএর চিহ্নিত দালাল আলাউদ্দীন, জাকির, আসাদুল ও হৃদয়। এরপর শুরু হয় বাণিজ্য। আদায়কৃত ঘুষের ৮০ শতাংশই নেন সৌরভ। বাকি ২০ শতাংশ বণ্টন করা হয় দালালদের মধ্যে।
দুর্নীতির অভিযোগ এনে দুদক তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে স্বীকার করে সৌরভ সাহা গত শনিবার বলেন, ‘ওই মামলায় বর্তমানে জামিনে আছি। দালালদের চিনলেও তাঁদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই।’ তাঁর বাবার নামে ফরিদপুরে বাস রয়েছে বলে স্বীকার করেন সৌরভ। তবে হাওলাদার পরিবহনের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক // জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে ডিজেল ও পেট্রোল মজুদ করে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট থেকে রাত ১০টা ১০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাটের পূর্ব পাশের এলাকায় মেসার্স হাওলাদার স্টোর ও সিকদার স্টোরে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও এনএসআইয়ের যৌথ টিম।

অভিযানে স্থানীয় ডিলার আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার ও মো. সাইদুর রহমান সিকদারকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী মোট ৮ হাজার টাকা (৫ হাজার + ৩ হাজার) জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের নিকট থেকে মজুদকৃত ২৪০০ লিটার ডিজেল ও ৬০০ লিটার পেট্রোল (মোট ৩০০০ লিটার) জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত জ্বালানি তেল স্থানীয় ট্রলার চালক, ট্রাক্টর চালক, স্পিডবোট চালক ও আলফা চালকদের মাঝে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে ৩ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা পাওয়া যায়, যা নিয়ম অনুসারে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দুই ডিলার বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট এলাকার মিশু ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে এনে ফেরিঘাট সংলগ্ন নিজ দোকানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। গোপন পর্যবেক্ষণের পর আজ তাদের দোকানে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে।

অভিযানে বরিশাল জেলা এনএসআই কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি রোধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে যেকোনো তথ্য দিলে গোপনীয়তা রক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলে স্থানীয় ট্রলার ও নৌযান চালকরা প্রশংসা করেছেন।

 

মামুনুর রশিদ নোমানী //

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির চক্র এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে টেন্ডার কারসাজি, জালিয়াতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অন্তত ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। তদন্তের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে বেরিয়ে আসছে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের নাম, যা নগরজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন সচিব মাসুমা আক্তার, প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির, সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমান, জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল, সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান শাকিল, উপসহকারী প্রকৌশলী এইচ এম কামাল, সাইফুল ইসলাম মুরাদ, সার্ভেয়ার সাইদুর রহমান, প্ল্যান শাখার সহকারী খায়রুল হাসান এবং কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ হোসেন।

এই তালিকা সামনে আসতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বিসিসির ভেতরে একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মে জড়িত ছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র থেকে শুরু করে সম্পত্তি বরাদ্দ, ক্রয় প্রক্রিয়া থেকে নিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই এই চক্রের প্রভাব ছিল বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো হলেও অন্তত ১০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া কয়েকজনের ক্ষেত্রে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের নামে নাটক সাজিয়ে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রেও ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়েছে। ল্যাপটপ, ড্রোন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করে সরকারি অর্থ লুটপাটের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের পুনঃনিয়োগ এবং উৎসবভিত্তিক ব্যয়ে অস্বচ্ছতার মতো ঘটনাও এই দুর্নীতির চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে। সব মিলিয়ে বিসিসির প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে গভীরভাবে প্রোথিত অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে অভিযুক্তদের দুদক কার্যালয়ে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার অসামঞ্জস্য ধরা পড়ায় তদন্ত আরও জোরালো হয়।

এই তলবের পর থেকেই বিসিসির ভেতরে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

বর্তমানে অনুসন্ধান রিপোর্ট অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই মামলা দায়ের, চার্জশিট প্রস্তুত এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। চার্জশিট আদালতে গৃহীত হলে সংশ্লিষ্টদের সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে স্থায়ী অপসারণের পথও খুলে যাবে।

এই ঘটনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে। দুর্নীতির এই জাল ভেঙে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কিনা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র : ইত্তেহাদ নিউজ

 

 

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
বরিশাল নগরীর বুকেই প্রকাশ্যে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর জুয়ার সাম্রাজ্য। ‘ওয়ান-টেন’ নামের এই অবৈধ জুয়ার আসর ঘিরে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে রফিক সিন্ডিকেট। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেনের এই খেলায় সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসছে শত শত পরিবার। অথচ সবকিছু যেন দেখেও না দেখার ভান করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে ক্ষোভ, আতঙ্ক আর হতাশায় ফুটছে পুরো নগরবাসী।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বাঘিয়া খ্রিষ্টান কলোনির একাধিক স্থানে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হয়েছে এই জুয়ার জাল। স্থানীয় রফিক যিনি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করছেন এই সিন্ডিকেট। নগরীর ভাটার খাল ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকা, কাটপট্টি এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি স্পটে নিয়মিত বসছে এসব জুয়ার বোর্ড। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় জুয়ার আসর, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে নির্বিঘ্নে।

তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ান-টেন’ নামের এই জুয়ার ফাঁদ মূলত সাধারণ মানুষকে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে টেনে আনে। শুরুতে সামান্য জিতিয়ে আসক্ত করে ফেলে, এরপর ধাপে ধাপে নিঃস্ব করে দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। অনেকেই নিজের সঞ্চয় শেষ করে, এমনকি ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করেও বাজি ধরছে। ফলে পরিবারে নেমে আসছে চরম আর্থিক ও সামাজিক বিপর্যয়।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব জুয়ার আসর পরিচালনায় রয়েছে সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। সিন্ডিকেটটির রয়েছে নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী, যারা জুয়ার বোর্ড পাহারা দেয় এবং বাইরের কেউ যেন বাধা দিতে না পারে তা নিশ্চিত করে। স্থান পরিবর্তন করে প্রতিদিন নতুন নতুন জায়গায় বসানো হয় বোর্ড, যাতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়। তবে স্থানীয়দের দাবি—এত বড় পরিসরে এই কর্মকাণ্ড চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অজানা থাকার কোনো সুযোগ নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জুয়ার আসর ঘিরে আশপাশে বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন ও বখাটেপনা। সন্ধ্যার পর থেকেই সাধারণ মানুষ চলাচলে ভয় পাচ্ছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন। অনেক পরিবারে অশান্তি, বিচ্ছেদ ও সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কোনো গোপন যোগসাজশ রয়েছে? নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য কারণে থমকে আছে আইন প্রয়োগ?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের অজ্ঞাতসারে এত বড় জুয়ার সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। পুলিশ সব জানে, কিন্তু কোনো অজানা কারণে তারা নীরব। আমরা এখন আর কোথাও বিচার পাচ্ছি না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান না চালালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। একটি নগরীর সামাজিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—সবকিছুই হুমকির মুখে পড়বে।

এখন প্রশ্ন একটাই—বরিশাল কি জুয়ার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে, নাকি প্রশাসন জেগে উঠবে?

এ ব্যাপারে রফিক কে ফোন দেওয়া হলে সে ফোন রিসিভ করেনি।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঝালকাঠির বাসন্ডা এলাকায় অবস্থিত আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজে উন্নয়ন বরাদ্দের নামে বড় ধরনের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে “মসজিদ উন্নয়ন” খাতে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য থাকলেও বাস্তবে ওই নামে কোনো মসজিদ বা নামাজের স্থানই নেই—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ঝালকাঠি জেলা পরিষদ থেকে কলেজটির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে এডিবির বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে “আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন জামে মসজিদ” উন্নয়নের নামে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

সরেজমিনে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ওই নামে কোনো মসজিদ তো দূরের কথা, নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত কোনো স্থাপনাও নেই। কলেজের আশপাশ ঘুরেও এমন কোনো স্থাপনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও রহস্যজনক করে তুলেছে জেলা পরিষদের তৎকালীন এক কর্মকর্তার বক্তব্য। তিনি জানিয়েছেন, এই নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। এমনকি পুরো ঝালকাঠি জেলাতেও এই নামে কোনো মসজিদ নেই বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সরকারি অর্থ লুটপাটের একটি কৌশল। তাদের মতে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তুষ্ট রাখতে তৎকালীন প্রশাসক, প্রকৌশলী এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এই ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এলাকার একাধিক শিক্ষানুরাগী বলেন, যেখানে বাস্তবে কোনো স্থাপনা নেই, সেখানে উন্নয়নের নামে টাকা ব্যয় দেখানো মানেই সরাসরি দুর্নীতি। এই অর্থ কোথায় গেছে, কারা উত্তোলন করেছে এবং কীভাবে বিল পাস হয়েছে—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য আরও কঠোর। তাদের অভিযোগ, কলেজে উন্নয়নের নামে একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দ এলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ রয়েছে। অনেক কাজই কাগজে সীমাবদ্ধ, মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই। ফলে এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একটি সুসংগঠিত অনিয়মের চক্র কাজ করছে বলে ধারণা করছেন তারা।

সচেতন মহল বলছে, সরকারি অর্থের এমন অপব্যবহার শুধু অনিয়ম নয়, এটি জনস্বার্থের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তারা দ্রুত এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তদন্তের দাবিতে স্থানীয়রা দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ যুথিকা মন্ডলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। কলেজের অফিস নম্বর ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি, যা পুরো ঘটনার সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে।

অন্যদিকে, ঝালকাঠি জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো ভুয়া প্রকল্প বা ভৌতিক বিল পাস করা হবে না। সকল প্রকল্প কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন একটাই—যে ১৫ লাখ টাকা ইতোমধ্যে খরচ দেখানো হয়েছে, তার জবাব কে দেবে? আর এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কবে নেওয়া হবে দৃশ্যমান ব্যবস্থা? এসব প্রশ্নের উত্তর না মিললে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

সূত্র : ইত্তেহাদ নিউজ

 

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বরিশালের বানারীপাড়ায় অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে এক ডিলারকে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আলম কমিশনারের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাইজিদুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও এনএসআই-এর যৌথ অভিযানে স্থানীয় ডিলার মো. শামসুল আলম শিমুকে আটক করা হয়।

অভিযানে জানা যায়, শামসুল আলম শিমুর নামে সর্বোচ্চ ৪০টি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের অনুমতি থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২০০০ থেকে ২৫০০টি সিলিন্ডার অবৈধভাবে নিজ বাড়িতে মজুদ করে রেখেছিলেন। এসব সিলিন্ডার তিনি উপজেলা সদরের বন্দর বাজারের ফেরিঘাট সংলগ্ন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘বৈশাখী প্লাস’ থেকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন।

এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪০ ও ৪৩ ধারায় তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে তার বাড়ি ও দোকানে অভিযান চালিয়ে মজুদকৃত সিলিন্ডার দ্রুত বাজারে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অনুমতিপত্র অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার শর্তে ১ হাজার টাকার মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে জেলা এনএসআই বরিশাল কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসন ও বানারীপাড়া থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক// বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদকৃত ডিজেল ও মবিল জব্দ এবং অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত গৌরনদী উপজেলার ৫নং ওয়ার্ডের সুরেন শিকদার হাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে স্থানীয় হালিম মিয়ার দোকান ও বাসায় তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৩০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, এনএসআই সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নজরদারিতে রাখছিলেন। পরে ছদ্মবেশে তেল ক্রয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে, প্রতিষ্ঠানটি কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছে।

ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধভাবে মজুদকৃত তেল জব্দ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে দোকানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এদিকে একই অভিযানের অংশ হিসেবে গৌরনদীর শরিকল বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগে আল মদিনা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও নবীন স্টোরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানকে যথাক্রমে ৫ হাজার ও ৩ হাজার টাকা, মোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।