নিজস্ব প্রতিবেদক |বরিশাল মহানগরীর ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রিয়াজের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জোহর নামাজ শেষে নগরীর খালেদাবাদ কলোনি মসজিদে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মিজানুর রহমান রিয়াজ বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সদস্য ও বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শুভ শিকদার, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির রহমান, ১৪নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম, এবং বিএনপি নেতা মিঠু খান ও হারুন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ১৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ইমরান হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শামীম মল্লিক, মামুন মল্লিক, শ্রমিক দল নেতা ইব্রাহিম হাওলাদারসহ ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মোনাজাতে উপস্থিত সকলে মিজানুর রহমান রিয়াজের শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য মহান আল্লাহতালার দরবারে প্রার্থনা করেন। নেতৃবৃন্দ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবদান স্মরণ করে বলেন, “রিয়াজ ভাই দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। আমরা মহান রবের কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে পুনরায় আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।”

দোয়া শেষে উপস্থিত মুসল্লি ও নেতাকর্মীদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাস।

ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে গাফিলতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তিনি চাকুরীর শুরু থেকেই বরিশাল জেলায় ঘুরে ফিরে রয়েছেন। চাকুরীর শুরু উপজেলা মুলাদী থেকে শুরু করে বরিশাল ও বাবুগঞ্জে বিতর্ক আর প্রতিরোধের মুখে বদলী হয়েছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নাই।

বাবুগঞ্জ থেকে বাকেরগঞ্জে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত আচরন শুরু করেন।তার ওপরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকলেই ক্ষুব্ধ। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা।

বরিশাল ও বাবুগঞ্জের মত বাকেরগঞ্জে ও  তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা হয়নি।  জানা গেছে, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন  একই জেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় নানা অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও কর্মচারীদের প্রতি অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে আলোর মুখ দেখেনি। ডা.সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ওপর  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনার চিকিৎসা সেবা প্রদানের দায়িত্ব থাকলেও তিনি নিয়মিতভাবে তা পালন করছেন না।  যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ।

বরিশাল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মেহবুব মোর্শেদের সাথে সু সম্পর্ক থকার কারনে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন। এতে করে সাধারন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নিয়মিত ইউনিয়নগুলোতে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করেই ভুয়া টিএ (ভ্রমণ ভাতা) ও ডিএ (দৈনিক ভাতা) বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিকবার একই ধরণের বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটের প্রমাণ রয়েছে বলে জানা যায়। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে হরহামেশাই খারাপ আচরন করে থাকেন। এমনকি রোগীকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ব্যাপারে জানা যায়, দীর্ঘ মেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ইমপ্লান্ট পড়ানো ও খোলা দুইটিই ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের দায়িত্ব থাকলেও এফডাব্লিউভি (পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা) দ্বারা জোরপূর্বক তা করিয়ে থাকেন। যার ফলে প্রায়শই ব্যবস্থাটি ত্রুটিপূর্ন হয়ে থাকে। যা নিয়ে হর-হামেশাই সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বাবুগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে মাধবপাশা ইউনিয়ন থেকে ইমপ্লান্ট এর চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রাবেয়া নামে এক নারী জানিয়েছিলেন আগে দুইবার এ পদ্ধতি নিলেও এইবারের মতো কষ্ট কখোনই পাইনি। ডা.নিজে তার কাজ না করে অনভিজ্ঞদের দ্বারা ইমপ্লান্ট পড়ায়। এতে অসহ্য রকমের ব্যাথা অনুভূত হয়। এভাবেই বাকেরগঞ্জে তিনি কর্ম করে যাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারীদের টিএ বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিলের ৩০-৪০% টাকা ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনকে ঘুষ দিতে হয়। কারন হিসেবে তিনি বলেন এ অর্থ বরিশাল অফিসে ও হিসাব শাখায় জমা দিতে হয়। এ টাকা কেউ না দিতে চাইলে তাকে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের রোষাণলে পরতে হয়। এমনকি বিল আটকে দেয়ার হুমকিও প্রদান করা হয়। এছাড়াও কথায় কথায় কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার ও অসংখ্য নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়,মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা (সোনিয়া) কর্মস্থলে অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন, টি.এ বিল আত্মসাৎ করেন, এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ (খারা ৩ ও ৭)-এর পরিপন্থী। তিনি চিকিৎসা সেবা সম্পর্কেও দায়িত্বহীন আচরণ করেন, ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বহুবার উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, বরিশাল বরাবর মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও, তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা দুর্নীতি দমন আইন ও সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।আবেদনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন।

প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: 

অন্যদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়—

মুসলিম নারী কর্মীদের পোষাক নিয়ে বিদ্রুপ আচরন

ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আচরণ

গর্ভবতী কর্মীদের অপমান করা

হিন্দু কর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া

এছাড়া তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থেকে তার ঘনিষ্ঠ সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সবুর হোসেনের মাধ্যমে অফিস পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সবুর হোসেনের মাধ্যমে কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা আমি জানিনা।তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার জন্য আমার বিভাগ তদন্ত করে যে শাস্তি দিবে তা মেনে নিবো।তিনি বলেন, আমি কর্মস্থলেই আছি,ফাঁকি কেন দিবো।

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূত্র ইত্তেহাদ নিউজ

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফের প্রায় ৬ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে জেলেদের উপস্থিতিতে বস্তা গণনার সময় এই অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় তোপের মুখে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

কালাইয়া ইউপি সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৯২১ জন। তাদের জন্য মোট ৭৩.৬৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের মোট ২ হাজার ৪৫৬ বস্তা চাল ছাড় করা হয়।

কালাইয়া ইউপি সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৯২১ জন। তাদের জন্য মোট ৭৩.৬৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের মোট ২ হাজার ৪৫৬ বস্তা চাল ছাড় করা হয়।

কিন্তু বিকেল ৪টার দিকে ইউপি কার্যালয়ের সামনে জেলেদের উপস্থিতিতে বস্তা গণনা করতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২ হাজার ২৬৪ বস্তা চাল রয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ১৯২ বস্তা চাল কম পাওয়া যায়, যার পরিমাণ ৫.৭৬ মেট্রিক টন। বর্তমান বাজারমূল্যে এই চালের দাম আনুমানিক ২ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা।

চাল গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার, ইউপি সচিব আবু বক্কর ছিদ্দিক এবং তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন।

তদারকি কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক বস্তা আলাদা করার পর গণনায় ঘাটতি ধরা পড়ে। নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ১৯২ বস্তা কম পাওয়া গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকেই সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে চালের একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবালুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ইউপি সচিব আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, “গুদাম থেকে নির্ধারিত সব চালই গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ১৯২ বস্তা চাল কোথায় গেল, তা আমরা নিশ্চিত নই।”

এ প্রসঙ্গে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ভুল হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এমন আর হবে না।” এ সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

 

বরিশাল: শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মো. সোহাগ নামে এক  কর্মচারী দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করছেন—যা একটি জাল সনদপত্রের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।

সোহাগ বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মগড়পাড়া গ্রামের মো. আবদুল মহিন আকন ও রহিমা খাতুনের ছেলে। সূত্র জানায়,  তিনি লাকুটিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮ম শ্রেণি পাসের সনদপত্র জমা দিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে কোনো প্রক্রিয়া বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই তিনি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ একটি দাপ্তরিক প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন, মো. সোহাগ কখনোই মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেননি। নথিপত্র বা রেজিস্টারও তার ছাত্রত্বের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “একজন ভুয়া সনদধারীর দীর্ঘকাল সরকারি চাকরিতে থাকা প্রশাসনিক চরম অবহেলার পরিচয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়, সরকারি ব্যবস্থার এক গভীর ফাঁক।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা এবং যাচাই ব্যবস্থার ত্রুটি এই ধরনের ঘটনা জন্ম দেয়।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “ভুয়া সনদ ও দীর্ঘকাল চাকরিতে থাকার ঘটনা শুধু বরিশাল নয়, সারাদেশে সরকারি নিয়োগে সম্ভাব্য দুর্নীতির প্রতীক। সমন্বিত যাচাই-বাছাই, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ছাড়া এই ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করা যাবে না।”

এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজে ক্ষোভের স্রোত তৈরি হয়েছে। বহু নাগরিক মনে করছেন, শুধু অভিযুক্তকে বরখাস্ত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রশাসনিক দায়িত্ব ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুনঃমূল্যায়ন জরুরি।

জাল সনদ ও দীর্ঘকাল চাকরিতে থাকার এই কাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি দাবি করছে।

 

ঝালকাঠির নলছিটিতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব রুম্পা সিকদারকে শাস্তি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

লঘুদণ্ড হিসেবে তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নলছিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

তার দায়িত্বকালেই আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ে মোট ৩০২টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে পরবর্তীতে নতুন ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। দেখা যায়, বরাদ্দ পাওয়া ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘরের কোনো নির্মাণকাজই হয়নি।

এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অনির্মিত ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে ঘরপ্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হিসেবে এবং পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রুম্পা সিকদার অনির্মিত ঘরগুলোর বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, ঘর নির্মাণের অর্থ রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে ৫৫টি ঘরের কাজ সম্পন্ন হয়নি। এমনকি বদলির সময় তিনি এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দাপ্তরিক নথিতে লিপিবদ্ধ করেননি।

এসব কারণে তার প্রশাসনিক দক্ষতার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। পরে সব দিক বিবেচনায় এনে তাকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  দেশের অন্যতম গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) বরিশাল অঞ্চলের  উপ-পরিচালক মোঃ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি,দালালি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পদোন্নতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ,অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পিডিবিএফ‑এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা‑কর্মচারীরা তার দুর্নীতি ও অনিয়মে অতিষ্ঠ।

পিডিবিএফের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, নিজামুল হক এক আত্মীয়ের প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন অভিযোগগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বদলি, পদায়ন এবং পদোন্নতির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখনো বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হয়নি।

 

নিজামুল হকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: 

 পিডিবিএফ‑এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আত্মীয়ের প্রভাবে তিনি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন। প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক ক্ষেত্রেও অনিয়োমের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ সমস্ত বিষয়ে অনেক অভিযোগ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে।  একাধিক লিখিত অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। কিন্তু তার আত্মীয় থাকার কারণে এই অভিযোগের কোন সুরাহা হয়নি এখন পর্যন্ত।

এছাড়া  নিজামুল হকের বিরুদ্ধে –

১. দালালি, বদলি ও নিয়োগ‑সংক্রান্ত অভিযোগ

পিডিবিএফ‑এর কর্মকর্তারা জানান যে, নিজামুল হক বিভিন্ন কর্মকর্তা ও  কর্মচারীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেয়ার মাধ্যমে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি  পিরোজপুর অঞ্চলের পিডিবিএফ কর্মচারী নাসিমা বেগম, রুমু‑দে, তুনু রানি বিশ্বাস, মন্নান হোসেন, নার্গিস আক্তার, জাহিদ হোসেন, মিলেশ নন্দী বরিশাল  অঞ্চলের সেলিনা বেগম, রিতা রানী, ইয়াকুব হোসেনসহ আরো ৩ জনের কাছ থেকে বদলীর জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এদের দাবি, বদলির নামে একদিকে টাকা নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে দ্রুত বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হবে। অথচ এখনো তাদের বদলী করা হয়নি।টাকাও ফেরৎ দেয়নি নিজামুল হক।

২. পুরাতন মালামাল বিক্রয় ও অর্থের অপব্যবহার

অভিযোগে বলা হয়, পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের উপ পরিচালকের  অফিসে থাকা পুরাতন মালামাল নিয়ম মেনে বিক্রয়ের বদলে তা থেকে অর্জিত অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবহারে ও অস্বচ্ছভাবে ব্যক্তিগতকরণ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বক্তব্য, টাকা ব্যয় সংক্রান্ত ভাউচার দেখিয়ে তা অফিস খাতের ব্যয়ের মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।বিভিন্ন সময়ে পুরাতন মালামাল বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে মোটা অংকের ভাউচার দেখিয়ে সেগুলোকে তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

৩. ঋণ ও সম্পত্তি বিরোধ

এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন যে ২০১৮‑১৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা কর্মরত অবস্থায় তার সহকর্মীর কাছ থেকে অফিসের মাধ্যমে নেয়া ঋণে নিজামুল হকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ক্রয় করা হয়। সেই টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি, এবং ঋণ সংক্রান্ত দলিলপত্র ও ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে।

৪. ব্যাঙ্ক লেনদেন ও সন্দেহজনক অর্থপ্রাপ্তি

অভিযোগ অনুযায়ী, বানারীপাড়া সোনালী ব্যাংক হিসাব নম্বর ০৫০৭৮২০১০১৮৩০ থেকে চেক নং ৮৭৩১৪০৮‑এর মাধ্যমে ১,২০,০০০ টাকার বিনিময়ে বদলী করা হয়েছে।
যাদের দু’জনকে স্বরূপকাঠি ও গৌরনদীর উপজেলায় পদায়ন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।

৫. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য

কর্মকর্তারা বলেন, উপ-পরিচালক কর্মকর্তাদের হয়রানি করেন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে
নিজের ব্যক্তিগত কাজে অফিস সময় ও সম্পদ ব্যবহার করেন। এসব আচরণের ফলে অফিসের কর্মপরিবেশে ‘ভয়ের পরিবেশ’ সৃষ্টি হয়েছে এবং কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

পিডিবিএফ পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ: 

পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী:

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে
অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিরাপদ সাক্ষাৎকার গ্রহণ,
সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক লেনদেন, হিসাব ও ভাউচার যাচাই‑বাছাই,
প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার ও অনিয়মের দায়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ।

তারা মনে করেন, প্রমাণ‑ভিত্তিক তদন্ত হলে “যে কেউ হোক, যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”।

উপ-পরিচালক নিজামুল হকের প্রতিক্রিয়া

এ ব্যাপারে নিজামুল হক অভিযোগগুলো  অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সব নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। এই অভিযোগগুলো ভুল তথ্যভিত্তিক ও অসত্য”

তবে তিনি কোনো প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি।

কর্মকর্তারা বলেন, “ভয়ের পরিবেশের কারণে কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন দেশের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এর অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো প্রভাবিত হয়। তাই নিজামুল হকের বিরুদ্ধে  অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করেন পিডিবিএফ বরিশাল অঞ্চলের সাধারন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। মাসিক বেতন মাত্র ৬০ হাজার টাকা হলেও তিনি গড়ে তুলেছেন প্রায় ৭০ কোটির সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, মিজানের নামে-বেনামে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং জমি রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক হিসাবেও রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ঠিকাদারি কাজ থেকে কমিশন নেওয়া, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি এই সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।দুদক ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সম্পদের হিসাব চাওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে তার ঘনিষ্ঠদের নামেও থাকা সম্পদ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এ বিষয়ে ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর শাস্তির বিকল্প নেই।

 

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে ৫ জন নারীসহ ৬ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হলেও এখনো পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেফতার করেনি। আহত ময়না বেগম (৪০), খুকু বেগম (৩৫), রেশমি বেগম (২৮) ও মিথিলা বেগম (১৯) রক্তাক্ত জখম হলে চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া হেলাল খান (৪৮) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলার পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৮ টার সময় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত মোঃ হেলাল উদ্দিন খান বাদী হয়ে ১২-১৩ জনকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৩৩।

মামলা সুত্রে জানা যায়, উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামের মোঃ হেলাল খানের সাথে জমিজমার ভাগ বটন নিয়া একই বাড়ীর মোঃ জহিরুল ইসলাম লিটন খানের বিরোধ চলছে। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করিয়া আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম লিটন খান, জাহাঙ্গীর হোসেন খান ও আব্দুল্লাহ খানের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার সময় পরিকল্পিতভাবে হাতে দা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে হেলাল উদ্দিনের বসতবাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করে তার শালিকা রেশমি বেগমকে অতর্কিতভাবে কিল ঘুষি লাথি মারিয়া ফুলা জখম করে। ওই সময় তার ডাক চিৎকার শুনিয়া ময়না বেগম, খুকু বেগম, মিথিলা বেগম এগিয়ে এলে খুনের উদ্দেশ্যে তাদেরকে দা দিয়ে কোপ দেয়। এতে ৩ জনের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।

আহত মোঃ হেলাল উদ্দিন খান জানান, স্বাধীনতা দিবসের দিন তার স্বাধীনতা খর্ব করে আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাকে ও তার স্ত্রী খাদিজাকে মারধর করে। ওইদিন তিনি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে ওই সুযোগে সন্ত্রাসীরা তার মেয়ে ও শালিকাসহ আরও ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো পুলিশের সহযোগিতায় আসামিরা তাদেরকে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং তাদেরকে গুম খুন করবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। তিনি ও তার পরিবার এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার কে এম সোহেল রানা বলেন, চরামদ্দি গ্রামে মারামারির ঘটনায় থানায় একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ঝালকাঠির উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল কর্তৃক নির্ধারিত ১২৩ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনিয়মভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন নিবন্ধন ফি ১২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ২৭৫ টাকা ফি নেওয়া শুরু করলে, সংশোধিত নির্দেশনা ৫ ফেব্রুয়ারি পাওয়ার পরও তারা পূর্বের হারেই অর্থ আদায় অব্যাহত রাখে। এতে অভিভাবকরা প্রায় দ্বিগুণের বেশি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অভিভাবক লিটন হোসেন বলেন, বোর্ড নির্ধারিত ফি ১২৩ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং আমাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশ জানান, প্রথমে যে নির্দেশনাটি পেয়েছিলাম সেখানে ২৭৫ টাকা ফি উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে সংশোধিত চিঠিটি আমরা পাঁচ দিন পরে দেখেছি। তাই আগের নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা সমন্বয় করে টাকা ফেরত দিয়ে দিবো। তবে কেন পাঁচ দিন পরে চিঠি দেখলেন, তা নিয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, অভিযোগ এসেছে, তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা প্রশাসনিক দায়িত্ব। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। সভায় উপস্থাপন করে অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুদ রাখার অভিযোগে হান্নান হাওলাদার নামে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তার বাড়ি থেকে ৫৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।

বুধবার(১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে  উপজেলার লোহালিয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করে রেখেছিলেন ওই ব্যবসায়ী। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এ সময় হান্নান হাওলাদারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তার ঘর থেকে উদ্ধার করা ৫৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত তেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানাগেছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না জানান, জনস্বার্থবিরোধী এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে মজুদদারদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর সাথে  বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।