​নিজস্ব প্রতিবেদক /

​বরিশাল নগরীর কাজীপাড়া এলাকার চেরাগ আলী সড়কে নিজ বাসভবন থেকে রাহাত হোসেন আজাদ (৪০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত আজাদ ওই এলাকার মৃত চেরাগ আলী হাওলাদারের পুত্র।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ কক্ষের আড়ার সাথে আজাদকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।

প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,আজাদ বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিলেন। অভিযোগ উঠেছে,এই আত্মহত্যার পেছনে শ্লীলতাহানির অপবাদ ও পারিবারিক বিরোধের বড় ভূমিকা রয়েছে।

​স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,আজাদের বড় ভাই হুমায়ুন কবির ও ভাবি পারভীন বেগম ও এলাকাবাসির মাধ্যমে জানাজানি হয় আজাদ একই এলাকার দুই সন্তানের জননী তানিয়া নামক এক নারীর শ্লীলতাহানি করেছেন। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত সোমবার (১০ মার্চ) ভুক্তভোগী নারী কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে এলাকায় গেলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। ধারণা করা হচ্ছে,সামাজিক লোকলজ্জা এবং নিকটাত্মীয়দের তোলা এই অপবাদ সইতে না পেরেই আজাদ আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

মৃত আজাদের আর দুই ভাই ভাবি অভিযোগ করে বলেন আমাদের ভাই আত্মহত্যা করতে পারে না ওকে কেউ মেরে ঘরের আরাড় সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। সঠিক তদন্ত করলে ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসবে এমনটাই দাবি করেছেন তারা।

ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেছেন আজাদের স্ত্রীর এক সন্তান রয়েছে। আজাদ একটু মাদকাসক্ত বিদায় স্ত্রীর রাগ হয়ে চট্টগ্রামের চলে যান সেখানেই বসবাস করেন তিনি। মৃত্যুর খবর স্ত্রী সন্তানকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে রওনা করেছেন তারা বরিশালের উদ্দেশ্যে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান,খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি বরাদ্দ প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নলছিটি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়, নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি ভরাটের একটি টিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার কাজ বরাদ্দ হয়। তবে ওই কাজের বিপরীতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন অতিরিক্ত খরচ বাবদ মোট ৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী অলিউল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে এবং বিভিন্ন চাপের কারণে তারা বাধ্য হয়ে ওই টাকা দেন। ধর্মীয় উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এমনভাবে ঘুষ নেওয়া অনৈতিক এবং সরকারি সেবার পরিপন্থি বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেনকে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিডি এলজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। পরে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে

 

মামুনুর রশীদ নোমানী :
বরিশাল সিটি করপোরেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনকে কেন্দ্র করে নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থাপনের চেয়ে অতিরিক্ত সংখ্যা দেখিয়ে এবং প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি বিল করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও আইটি কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) আহসান উদ্দিন রোমেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালন করার আড়ালে তিনি ঠিকাদারি কাজেও জড়িত এবং বিভিন্ন প্রকল্পে নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

সিটি করপোরেশনের ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়, রোমেলের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রমও ভেস্তে যায়। প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবা চালুর সব প্রস্তুতি শেষ হলেও উদ্বোধনের ঠিক আগমুহূর্তে পুরো কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়। এতে সিটি করপোরেশনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর সময়ে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে একবার চাকরি হারানো এই কর্মকর্তা পরবর্তীতে আবার প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই আইটি খাতসহ বিভিন্ন প্রকল্পে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজের প্রতিষ্ঠান পিপলো বিডির মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন আইটি প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করেন রোমেল। গোপনে নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে আইটি বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের সুযোগ-সুবিধা নেন। এক পর্যায়ে পিপলো বিডির করা প্রকল্পের বিল আটকে দেয় সিটি করপোরেশনের সচিব মাসুমা আক্তার। পরে ভাগাভাগির মাধ্যমে সেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। কমিশনের সম্পর্কের জেরে রোমেল জনসংযোগ কর্মকর্তার পাশাপাশি আইটি বিভাগের দায়িত্বও নিজের হাতে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইটি বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা প্রকল্পে অতিরিক্ত বিল, ভুয়া ভাউচার এবং কাগুজে খরচ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে। মেয়রের ঈদ শুভেচ্ছা ব্যানার, সাইনবোর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত প্রচারণার নামে বিপুল অঙ্কের বিল তোলা হয় বলে জানা গেছে।

নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য দুই লাখ টাকা বিল দেখিয়ে মাত্র ৭৬ হাজার টাকার কাজ সম্পন্ন করে বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঈদ শুভেচ্ছা ব্যানার, সাইনবোর্ড ও ফেস্টুন বাবদ ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে প্রায় ৭ লাখ টাকার ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামমাত্র বুস্টিং করে এক লাখ ৫৮ হাজার ২৩৭ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এদিকে রোমেলের নানা অপকর্মের তথ্য জানতে সম্প্রতি তরিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছেন। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্প, বিল ও আইটি খাতের ব্যয়ের হিসাব চেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জমা দেন।

অন্যদিকে সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও রোমেলের বিষয়টি সামনে আসে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবিই ছিল দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আহসান উদ্দিন রোমেলকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা।

সব মিলিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভেতরে জনসংযোগ কর্মকর্তা রোমেলকে ঘিরে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি দায়িত্বে থেকে ঠিকাদারি, বিল জালিয়াতি ও প্রকল্প বাণিজ্যের অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ্রকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব, ক্ষমতার দাপট এবং সিটি কর্পোরেশনের এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এখন বিসিসির ভেতরেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক কানাঘুষা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিগত স্বৈরাচার আমলে সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সুপারিশে ২০১৯ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে স্বাস্থ্যকর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ্র। অভিযোগ রয়েছে, মেয়রের আশীর্বাদ পেয়ে অল্প সময়েই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি। ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে নানা রাজনৈতিক তৎপরতায়ও সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে খুশি করতে শেরে-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু ক্লাবের পরিচালনা কমিটিতে সদস্য পদও বাগিয়ে নেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ক্লাবের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার নানা ছবি ও বক্তব্যও প্রচার করেন। এমনকি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া তার রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এরই মধ্যে বিসিসির স্বাস্থ্য শাখার এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সঙ্গে ডা. শুভ্রর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী কর্মচারীকে প্রায়ই নিজের কক্ষে ডেকে দীর্ঘ সময় কাটাতেন তিনি। শুধু অফিসেই নয়, নগরীর বেলভিউ এলাকায় তার ব্যক্তিগত চেম্বারেও ওই নারীকে নিয়ে সময় কাটানোর গুঞ্জন রয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, (ছদ্মনাম) মিতা নামে ওই কর্মচারীর একটি সন্তান রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে ওই যুবক জানতে পারেন, গোপনে ডা. শুভ্রর সঙ্গেও তার সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

তিনি আরও জানান, মিতা যখনই ছুটি চাইতেন, ডা. শুভ্র তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন দিতেন। অনেক সময় তাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার কথাও শোনা গেছে। এমনকি অফিসে ডা. শুভ্রর কক্ষে ওই নারী কর্মচারীর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করার ঘটনাও অনেকের নজরে এসেছে। ফলে বিসিসির ভেতরে ডা. শুভ্রর ব্যক্তিগত আচরণ ও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কর্মচারীদের ভাষ্য, বাহ্যিকভাবে মার্জিত ও সুদর্শন চেহারার আড়ালে ডা. শুভ্র একজন নারীলোভী চরিত্র বহন করেন বলেও অনেকের মন্তব্য।

সূত্র আরও জানায়, এর আগেও ডা. শুভ্রর বিরুদ্ধে নারী সংশ্লিষ্টতা ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। তবে তৎকালীন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি।

অন্যদিকে বিসিসির ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগের এক নেতাকে দীর্ঘ আট বছর ধরে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন দায়িত্বে রাখার পেছনেও তার প্রভাব রয়েছে।

এ নিয়ে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পৃক্ত থাকার পরও সরকার পরিবর্তনের পরেও ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ্র এখনো সিটি কর্পোরেশনে বহাল রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ্রর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

 

 

 

সূত্র : দৈনিক সময়ের বার্তা

 

 

রাজধানীর গুলশানে পুলিশি অভিযান চলাকালে ফোনে হুমকি পাওয়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক আলমকে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে ডিএমপির আরও তিন কর্মকর্তাসহ মোট চারজন ডিসিকে বিভিন্ন বিভাগে রদবদল করা হয়েছে।

রবিবার (১ মার্চ) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, গুলশান বিভাগের ডিসি রওনক আলমকে মহানগর ডিবির (লালবাগ) বিভাগে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রমনা বিভাগের (ট্রাফিক) ডিসি এম তানভীর আহমেদকে গুলশান বিভাগে, ডিবি লালবাগ বিভাগের ডিসি মো. মোস্তাক সরকারকে মিরপুর বিভাগে এবং মিরপুর বিভাগের ডিসি মো. মইনুল হককে রমনা বিভাগে (ট্রাফিক) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদেশটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গুলশান এলাকায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানের সময় গুলশান ডিসি রওনক আলম একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি ও কাগজপত্র যাচাই করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তির পক্ষে বিদেশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোনের মাধ্যমে ডিসি রওনক আলমকে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় হুমকি দেন। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ফোনের অপর পাশে থাকা ব্যক্তি ডিসিকে শাসিয়ে বলছেন, ‘আপনার নাম কী? আপনি কোন ব্যাচের পুলিশ? আপনি কার সঙ্গে কথা বলছেন জানেন?’ এর জবাবে ডিসি রওনক আলমকে শান্তভাবে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ব্যাচ জেনে আপনি কী করবেন? আমি ২৮তম ব্যাচের।’ কথোপকথনের একপর্যায়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিটি ডিসির অবস্থান এবং ডিউটি সম্পর্কেও আক্রমণাত্মক প্রশ্ন তোলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, এটি সংস্থার চলমান প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নেওয়া একটি স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের বদলি হয়ে থাকে এবং এখানে অন্য কোন বিষয় নেই।

 

 

 

স্ত্রীর মামলায় ওয়ারেন্ট জারির পর থানা পুলিশ গ্রেফতর করে সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে আদালতে সোর্পদ করে স্বামী সফিকুল ইসলামকে (৪১)।

আদালত থেকে ওইদিন বিকেলে জামিনে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে সিএনজিযোগে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সফিকুল ও তার চাচী রিজিয়া পারভীন নিহত এবং আরো দুইজন আহত হয়েছেন।

নিহত সফিকুল ইসলাম বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চরদিয়াশুর গ্রামের হাচেন বেপারীর ছেলে। তিনি (সফিকুল) দীর্ঘদিন থেকে কর্মের সুবাদে সৌদি আরবে ছিলেন। অপর নিহত রিজিয়া পারভীন সফিকুলের প্রতিবেশী চাচা মজিবর ফরাজীর স্ত্রী।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সফিকুল ইসলাম ছুটিতে বাড়িতে আসেন।

একটি ওষুধ কোম্পানির পিকআপের সাথে যাত্রীবাহি সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষের এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট নামক এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেদ আহমেদ জানান, গত দুই বছর পূর্বে প্রবাসী সফিকুলের প্রথম স্ত্রীর লাশ ড্রাম ভর্তি অবস্থায় যাত্রীবাহী একটি লোকাল বাস থেকে ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে সফিকুল ছুটিতে দেশে ফিরে তার শিশু সন্তানদের কথা চিন্তা করে দ্বিতীয় বিয়ে করে পুনরায় সৌদি আরবে পাড়ি জমায়।

সূত্রে আরো জানা গেছে, বিদেশে থাকা অবস্থায় সফিকুলের সাথে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মনোমালিন্য হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সফিকুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত থেকে সফিকুলের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়।

এরইমধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সফিকুল ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে রবিবার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে গৌরনদী মডেল থানার এসআই শিমুল হোসেন আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সফিকুলকে নিজবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন।

সোমবার গ্রেফতারকৃত সফিকুলকে আদালতে সোর্পদ করার পর তার জামিন মঞ্জুর হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সাথে সিএনজিযোগে বাড়ি ফেরার পথে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী সফিকুল ইসলাম ও তার চাচী রিজিয়া পারভীন নিহত হন। অপর আহত দুইজনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

 

স্টাফ রিপোর্টার:
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আওয়ামী সরকারে সময়ে সুবিধাভোগী ও দমন পীড়নে জড়িত কর্মচারীরা এখনো বহাল তবিয়তে। কেউ কেউ ভোল পাল্টে রাতারাতি হয়ে গেছে বিএনপি কিংবা জামায়াত। এভাবে এখনো যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সেই সময়ে বিএনপি জামায়াত ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা হওয়া কর্মচারীরা।
শেবাচিম সূত্রে জানা গেছে, কিছু দিন পূর্বে চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের একটি কমিটি পাশ করানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের দারস্থ হয় একটি মহল। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের সংস্লিষ্টতা থাকার তথ্য পেয়ে তাদেরকে এড়িয়ে যান সরোয়ার। এরপর এই চক্র বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লার দারস্থ হয়। তাকে ভুলভাল বুঝিয়ে তার মাধ্যমে কমিটি করে। কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের দু’একজন বিএনপি পন্থী হলেও বাকী অধিকাংশ সদস্য ঘোর আওয়ামী পন্থী। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী ক্যাডার ডা. সায়েম ও ইউসুফ আলী মিলনের ছত্রছায়ায় কাজ করতো। তাদের মধ্যে ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, আল মামুন রাব্বি, সিদ্দিকুর রহমান, মনিরুল ইসলাম সহ আরো অনেকে। বিগত দিনে নানা অপকর্মে জড়িত ছিল তারা। বার বার ধরা খেলেও তৎকালী স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি আবুল হাসানত আবদুল্লাহ এবং সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর হস্তক্ষেপে পার পেয়ে যেত। আওয়ামী পরিচয় ব্যবহার করে অনেকে হয়েছেন ধনকুবের মালিক। এদের মধ্যে অন্যতম বিতর্কিত ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম মল্লিক ওরফে ফেরদৌস অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরি, ডিসপেন্সরী থেকে ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরি, অবৈধ সুবিধা নিয়ে আউটসোর্সিং নিয়োগসহ নানা কান্ডে আলোচিত। তাছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক (ফাসিস্ট) মেয়র ও মহানগর আ.লীগের সেক্রেটারি সাদিক আবদুল্লাহর বিশ্বস্ত লাঠিয়াল ছিলেন তিনি। জুলাই বিপ্লবের পর ভোল পাল্টে এখন পুরো হাসপাতালের চার্জ নিয়ে টাকা কামাচ্ছেন দু’হাতে। ফেরদৌসের অন্যতম সহযোগী তাইজুল ছিটকে পড়লেও ফেরদৌস এখনো রয়েছে দুধে-ভাতে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১ মার্চ হাসপাতলের ঔষধ চুরির সময় হাতেনাতে ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌসকে আটক করে যৌথবাহিনী। এরপরে শেবাচিমের তৎকালীন উপ-পরিচালক ডাঃ সুভাস দাশ কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। যার নং ৩২৫৯/০৭। সেখানে ফেরদৌসের বিরূদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরির কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তিতে জেলা আ.লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর হস্তক্ষেপে সেসব অভিযোগ গিলে ফেলে ফেরদৌস।
এদিকে ২০২১ সালে করোনা ওয়ার্ড থেকে ১০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরির অভিযোগ ওঠে ফেরদৌসের বিরূদ্ধে। তখন তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। সেই কমিটি তদন্তকালে ফেরদৌসের সরাসরি সম্পৃক্ততা পেলে বিসিসির তৎকালীন মেয়র সাদিকের হস্তক্ষেপে সেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এসব নানা অপকের্মর প্রেক্ষিতে ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌসকে মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার অন্যত্র বদলীর আদেশ দিলেও সাদিক আবদুল্লাহ তার পিতাকে দিয়ে সেসব বদলি অর্ডার বাতিল করান। সাদিকের জন্মদিন পালন, বিসিসি নির্বাচন কালীন সময়ে দিনরাত ডিউটি ফেলে সাদিকের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল ফেরদৌস। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতা দমনে সাদিক ও সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতের সাথে হামালায় সরাসরি অংশ নেয় ফেরদৌস। ৩ আগস্ট চৌমাথা এলাকায় বিএনপি নেতা জিয়া শিকদারের উপর হামলার ঘটনায়ও সাজ্জাদ সেরনিয়াতাবাতের সাথেই ছিল ফেরদৌস ও তার ছেলে ১২ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল প্রিন্স। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এসব দাগী ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগার এখনও শেবাচিম হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকে কিভাবে ?
এ ব্যাপারে ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস বলেন, আমাকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী এটা সত্য। আমি সেই মামলায় খালাস পেয়েছি। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে যেসব অভযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনুসন্ধান করারও অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শেবাচিম হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. আব্দুল মোনেম সা’দ বলেন, ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস এর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমিও শুনছি। বিতর্কিত কয়েকজনকে ডিউটিস্থল পরিবর্তন করেও দিয়েছি। হাসপাতালে জনবল সংকট থাকায় এসব লোক দিয়েই সার্ভিস চালাতে হচ্ছে। ডিজি হেলথ থেকে যদি লোক পরিবর্তন করে দেয় তাহলে সার্ভিস আরো ভালো করা সম্ভব।

 

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী ইউনিয়নে ছাত্রদল সভাপতিকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কর্মীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে মধ্যরাতে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

আহত ফাহাদ চরাদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চরাদী ইউনিয়নে ফাহাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

ফাহাদের স্বজনরা জানান, যুবলীগ কর্মী আরিফ, জাতীয় পার্টির কর্মী ও চরাদী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রানা, রিয়াজ ও চাদমারী এলাকার বাপ্পিসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রাতেই পরিবারের সদস্যরা তাকে রাজধানীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল ৯টায় হলতা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চরাদী ইউনিয়ন ছাত্রদল। সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, ফাহাদের ওপর হামলার বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চকবাজারের বিউটি রোড আবারও অস্থির। দীর্ঘদিনের জমি ও মালিকানা বিরোধ এবার রূপ নিলো ভয়াবহ অগ্নিসংযোগে। অভিযোগ উঠেছে, দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে বিউটি সুপার মার্কেটের নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের পার্টনার আবুল হাসান কুদ্দুস জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে দুর্বৃত্তরা মার্কেট ভবনে আগুন লাগায়। অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি হয়নি, তবে পুড়ে গেছে মালামাল, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামো।

চুক্তি, দানপত্র ও দখল চেষ্টা: পুরনো বিরোধের বিস্ফোরণ। অভিযোগ অনুযায়ী, বিউটি সুপার মার্কেট নির্মাণের জন্য অভিযুক্ত সৈয়দ আশিক চৌধুরীর বাবা জুলফিকার আলী চৌধুরীর সঙ্গে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চুক্তি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জমির মালিক একই জমি তার ছেলে সৈয়দ আশিক চৌধুরী ও মেয়ে কামরুন্নাহার চৌধুরীর নামে দানপত্র দলিল করে দেন। সেই দলিল দেখিয়ে সৈয়দ আশিক চৌধুরী মালিকানা দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ।

ডেভেলপারদের দাবি, গত বছরের ৯ ও ১০ মে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক নিয়ে নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে হামলা চালানো হয়। প্রথম তলার ছাদ ও নিচতলার অফিস ভাঙচুর করা হয়, লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয় এবং সে ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

তাদের ভাষ্য, সেই বিরোধের ধারাবাহিকতাতেই এবার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। “হামলা-মামলায় ক্ষ্যান্ত হয়নি, শেষ পর্যন্ত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে,” অভিযোগ কুদ্দুসের।
ঘটনার পর আবুল হাসান কুদ্দুস কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ দখলের উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির ছবি তুলেছে বলে জানা গেছে।

নগরবাসীর প্রশ্ন, বারবার হামলা-ভাঙচুর ও মামলা চলার পরও কেন বিরোধের সমাধান হলো না? কারা এই অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত? দখল-বাণিজ্যের আড়ালে কারা মদদ দিচ্ছে?

বিউটি রোডের ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কে। তারা দ্রুত তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। নগরীর ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এমন অগ্নিসংযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও বড় সতর্কবার্তা।

 

 

নির্দিষ্ট রেটে ঘুস নেন বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া। প্রায় তিন বছর ধরে বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার হিসাবে থাকা এই কর্মকর্তা নিয়মিত ঘুস নিয়ে আসছেন। তার এই ঘুস বাণিজ্যের কারণে বরিশাল সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিস ও দশটি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিস অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বদলি বাণিজ্য, দলিল প্রতি ঘুস, নকল উঠাতে ঘুস ও দলিল লেখকদের কাছ থেকে বাৎসরিক টাকা নেওয়া এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধভাবে এসব টাকা হাতিয়ে নেয় জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া। আর তার এই নিয়ম বাঁধা ঘুস আদায়ের জন্য দুজন সহযোগী রয়েছে। তারা হলেন-বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী হালিম সিপাহি ও মহাদেব। মোহছেন মিয়ার নির্দিষ্ট ঘুসের টাকা আদায় করেন তারা। মোহছেন মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগে গত বছরের ১৬ এপ্রিল অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে অভিযানের টের পেয়ে সটকে যায় মোহছেন মিয়া।

জানা যায়, বরিশাল জেলার আওতাধীন কর্মকর্তাদের বদলির নামে বাণিজ্য করে এই মোহছেন। এছাড়া দলিল প্রতি ২শ টাকা, নকল উঠানো বাবদ ৩৫ টাকা, ৩শ দলিল লেখকদের কাছ থেকে বাৎসরিক নবায়ন বাবদ দেড় হাজার করে টাকা আদায় করা হয়। এসব ঘুস বাণিজ্য এখন জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার নিয়মে পরিণত হয়েছে।

যদিও ঘুস বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অস্বীকার করেন তিনি। তবে দুদকের অভিযানের সময় সটকে পরার বিষয়ে বলেন, ওইদিন আমি ঢাকায় ছিলাম। বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের তথ্য অনুসারে দুদকের অভিযানের সময় অফিসেই ছিলেন তিনি। এসব প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর বরিশাল জেলার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি ওপেন ঘুস বাণিজ্য করে সেখানে তার অধীনস্থ যারা তারা তো ঘুসের রামরাজত্ব চালু রাখবে এটাই স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশন এসব দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে সামনে ভয়াল আকার ধারণ করবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবরেজিস্ট্রার অফিসের একাধিক কর্মচারী বলেন, মোহছেন মিয়া বরিশালে যোগদানের পর থেকেই বদলি বাণিজ্য করছেন। ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে এসব বদলি করেন তিনি। এছাড়া বরিশাল সাবরেজিস্ট্রার অফিসে তিনশত দলিল লেখক রয়েছে, তাদের কাছ থেকে বাৎসরিক লাইসেন্স নবায়ন বাবদ দেড় হাজার করে টাকা নেয় মোহছেন মিয়া।

বরিশাল সদর অফিস থেকে দুর্নীতির দায়ে বদলি হওয়া শাহিনকে চার লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে আবারও অফিস সহকারী হিসাবে যোগদান করায় মোহছেন মিয়া। ঘুসের টাকা না পেয়ে মিজানুর রহমান নামের এক অফিস সহকারীকে বদলি করায় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ওই ভুক্তভোগী। আর রেকর্ড কিপার বিধান চন্দ্রকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে বরিশাল সদর অফিসে বদলি করা হলেও একমাস পরে যোগদান করতে হয় তাকে। এরপর যোগদানের দু’মাস পরেই বিধান চন্দ্র সুতারকে হিজলায় বদলি করেন তিনি।

সম্প্রতি হিজলা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের নকলনবিশ দিলিপ চন্দ্রকে মোহরার পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিনিময়ে দশ লাখ টাকা ঘুস নেয় মোহছেন মিয়া। এছাড়া আগৈলঝাড়া সাবরেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী ফাতেমাতুজ জোহরাকে আট লাখ টাকার বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়ার বন্দোবস্ত করেছে জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া। বরিশাল সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সাবেক পিওন জাহাঙ্গীর হোসেন অবসরে যাওয়ার সময় তার পেনশনের টাকা উঠানোর জন্য ছয় লাখ টাকা ঘুস দাবি করে মোহছেন। পরে তার ছেলে জাহিদের মাধ্যমে চার লাখ টাকা ঘুস দিয়ে মোহছেন মিয়ার সঙ্গে রফাদফা করতে বাধ্য হয় পিয়ন জাহাঙ্গীর। মোহছেন মিয়ার এসব ঘটনায় ঢাকা আইজিআর অফিসে অভিযোগ গেলেও লালন নামের তৎকালীন এক অফিস সহকারী টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করেন তিনি। দলিল করতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, এরকম একজন দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারকে বদলি করা না হলে বাড়বে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।

 

 

 

সূত্র : দৈনিক যুগান্তর