নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশালে বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন রূপাতলীর বাসিন্দা জুয়েল (২৮) ও রুইয়ার পোল এলাকার বাসিন্দা রাসেল (২৫)।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে নগরীর রূপাতলী এলাকার উকিল বাড়ি সড়কের সামনে ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, জুয়েল ও রাসেল রূপাতলী এলাকার এসিআই এনিমেল হেলথের একটি স্টোরে হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতেও অফিস শেষ করে তারা মোটরসাইকেলে করে রূপাতলী বাস টার্মিনালের দিকে নাস্তা করতে যাচ্ছিলেন।

নিহতদের সহকর্মী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জিহাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ঝালকাঠিগামী একটি মালবোঝাই ট্রাক (কুষ্টিয়া-ট ১১-২৫৪৫) বেপরোয়া গতিতে এসে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাসেল নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় জুয়েলকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি রেখে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক //
বরিশালে বদলি ঠেকানোর উদ্দেশ্যে সরকারি স্কুলের তিন শিক্ষক যে নাটক সাজিয়েছেন, তা প্রশাসনিক দুর্নীতির এক ভয়ংকর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। কাগজে-কলমে গ্রেফতার, আদালতে হাজিরা ও জামিনের পুরো প্রক্রিয়া দেখানো হলেও বাস্তবে এই তিন শিক্ষক থানার গারদে যাননি, এমনকি কোথাও তাদের আটক হওয়ার দৃশ্যও নেই। এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের একটি অংশ, দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বদলি কার্যকর হওয়ার আগেই পরিকল্পিতভাবে তিন শিক্ষক নিজেদের নামে ফৌজদারি মামলা দেখিয়ে গ্রেফতার নাটক সাজান। অভিযুক্তরা হলেন বরিশাল জিলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন, রূপাতলি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আকতারুজ্জামান এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. এ রাজ্জাক। ১০ ডিসেম্বর শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে তাদের তিনজনকে ভিন্ন তিন জেলায় বদলি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শাহাদাৎ হোসেনকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ওছখালী খান সাহেব ছৈয়াদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে, আকতারুজ্জামানকে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সতেন্দ্র নাথ বন্দোপাধ্যায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং মো. এ রাজ্জাককে ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। বদলির কয়েকদিনের মধ্যেই এই নাটকীয় গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে।
১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে নগরীর টাউন হল এলাকায় উচ্চৈঃস্বরে কথা বলার অভিযোগে তিন শিক্ষককে ৮১ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন আদালত থেকে তাদের জামিন নেওয়ার কাগজপত্র তৈরি করা হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই দিন তারা কোতয়ালী মডেল থানার হাজতে ছিলেন না। একই দিনে থানায় আটক থাকা অন্য আসামিদের বক্তব্য এবং থানা রেকর্ড পর্যালোচনায় এই তিন শিক্ষকের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল টাউন হল, কোতয়ালী থানা এবং আদালত চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায়ও তাদের যাতায়াতের কোনো দৃশ্য ধরা পড়েনি। এতে স্পষ্ট হয়, পুরো বিষয়টি ছিল কাগুজে নাটক। বিপুল অর্থের বিনিময়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, গ্রেফতারের বিষয়ে দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ্যে অজ্ঞতা দেখালেও ১৪ ডিসেম্বর দুপুরেই শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি স্থগিতের জন্য সুপারিশপত্র পাঠানো হয়। এতে প্রমাণ মেলে, গ্রেফতারের নাটক সম্পর্কে তারা আগে থেকেই অবগত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম এবং রূপাতলি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা বেগম এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এই ঘটনায় বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানার কতিপয় পুলিশ সদস্যের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। মামলার এজাহারে স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও থানার শীর্ষ পর্যায় থেকে ঘটনাটি অস্বীকার করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাবকে আরও স্পষ্ট করে।
সরকারি শিক্ষক বদলির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঠেকাতে যদি এভাবে ভুয়া গ্রেফতার দেখানো যায়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি নিরপেক্ষ ও গভীরভাবে তদন্ত না হলে এই ধরনের দুর্নীতির চক্র আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন মোবাইল ফোনে প্রথমে গ্রেফতার হয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে তাকে বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজে আপনাদের গ্রেফতারের কোনো তথ্য নেই কেন? এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বাকি দুই শিক্ষককে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠালেও তারা জবাব দেননি। পরে প্রতিষ্ঠানে গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। তিনজন সরকারি স্কুলের শিক্ষক গ্রেফতার হলে তো পুলিশ ও মিডিয়ায় জানার কথা। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

বরিশাল বিআরটিসি অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে চালাচ্ছে ম্যানেজার জুলফিকারের দুর্নীতি।

বরিশাল বিআরটিসি অনিয়ম দুর্নীতির আখড়া। তারেক রহমানের নাম ভাঙ্গিয়ে চুষে চুষে খাচ্ছে ম্যানেজার জুলফিকার।

কথায় কথায় কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালজ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এলাকার লোক বলে জাহির করা। চালক কন্ডাকটরদের জিম্মি করে চোঙ্গির নামে চাদাবাজী করা। ভুয়া ভাউচার তৈরি করে টাকা পকেটে ভরা ।

 

বরিশাল ডিপোর আওতাধীন খুলনা টু পাথরঘাটা রুটের চলাচলরত বাসের বডি চাকা ইঞ্জিন খুলে বিক্রির সহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছে বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর ম্যানেজার জুলফিকার। গত ১১ সেপ্টেম্বর বিআরটিসি ঢাকা হেড অফিস চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল বাস ডিপোতে বদলি করেন। আর যোগদান করেই এসব অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর কর্মচারী, চালক ও কন্ডাকটররা। এখানেই শেষ নয় এই নব্য যোগদানকারী জুলফিকারের সে ইতিমধ্যে বাস ডিপোতে গড়ে তুলেছে এক অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য।

 

বিগত আলীগ সরকারের সময় কর্মচারীদের নিয়ে তৈরি করেছে এক বাহিনী। সে এতোটাই বেপারোয়া হয়েগেছে কোন সংবাদ কর্মী ডিপোতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলেই হতে হয় নাজেহাল। সম্প্রতি বরিশাল আর টিভির সংবাদ কর্মী বাস ডিপোতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যায় তখন তাকে জুলফিকার সহ তার বাহিনী দ্বারা হেনেস্তার শীকার হতে হয়। পরে সমযোতার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেন বলে বিআরটিসির বাস ডিপোর সূত্র নিশ্চিত করছে।

বিআরটিসি বাস ডিপো সূত্র জানান,টিআই পদ থেকে গত ১১ বরিশাল বাস ডিপোতে আলীগ পন্থী জুলফিকার ম্যানেজার অপারেশন পদে যোগদান করেন। এরপরই ডিপো শৃঙ্খলার নামে শুরু করেন প্রভাব বিস্তার। এতে তিনি কর্মচারী থেকে শুরু করে চালক কন্ডাকটর সাথে নিয়মিত খারাপ ব্যবহারে পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। গালিগালাজ তার শেষ নয় সে চেয়ারম্যান নাম ভাঙ্গিয়ে ডিপোতে শুরু করেছেন চোঙ্গির নামে বাসের ট্রিপ প্রতি চাঁদাবাজি। নাম প্রকাশ না শর্তে একাধিক কর্মচারী চালকরা অভিযোগ করে বলেন বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন ৫৩ টি বাস যাত্রী সেবা প্রদান করছে। চালক কন্ডাকটর অভিযোগ করে জানান প্রতি রুটে বাস যাত্রী সেবা প্রদান করে ডিপোতে বাস ফিরে আসে।

 

গেট দিয়ে বাস ডিপোতে ঢুকলেই জবের নামে ৫০০ টাকা দিয়ে ফোরম্যান দপ্তরে। এছাড়াও রাজস্ব দিতে প্রতি ট্রিপে। আর রাজস্ব প্রদান করার সময় হিসাব বিভাগের ফারুক ম্যানেজার ও চেয়ারম্যানের নাম করে ট্রিপ প্রতি ১০০০ টাকা আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে এই টাকা প্রদান না করলে চালক ও কন্ডাকটর নেমে আসে নানা নির্যাতনের খোরাগ। এতে ক্ষ্যান্ত নন টিআই জুলফিকার সে নিজেকে জাহির করতে আরেক পদ বেচে নিয়েছেন। জুলফিকারের বাড়ী বগুড়া হওয়ায় সে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ভাঙ্গিয়ে ডিপোতে চালিয়ে আসছে বেপরোয়া কার্যক্রম। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাস ডিপোর সকলে।

এদিকে বিআরটিসি বাস ডিপোর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করছে ২০১১ সনে আলীগ সরকারের সময় আলীগের প্যাডে জুলফিকার এটিও পদে বিআরটিসি তে চাকুরী নেয়। চাকুরিতে যোগদান পর থেকে যে ডিপোতে কর্তব্য পালন করছে যে ডিপোতে সেই ডিপোতে চালিয়েছে আলীগের প্রভাব। বিআরটিসিতে চাউর রয়েছে বিগত আলীগ সরকারের সময় এই জুলফিকার তার ফেইসবুকে পলাতল মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে তোলা ছবি আপলোড করে নিজেকে আলীগের জাহির করতো। আর যে ডিপোতে কর্তব্য পালন করতো সেখানে ওবায়দুল কাদেরের নাম ভাঙ্গিয়ে বেপরোয়া কার্যক্রম চালাতো।

সূত্র আরাও জানায় ডিপোর বিভিন্ন রুটে চলাচলরত বাস মেরামতের নামে যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে টাকা পকেটে পুড়ছে। এছাড়াও সে নিজের মনপুত কোম্পানি থেকে রিসাইকল টায়ার ক্রয় করছে। যা অন্য কোম্পানির রিসাইকল টায়ার দর অনেক বেশি । কম টাকায় নিম্ন মানের টায়ার ক্রয় করে দর বেশি দেখিয়ে বাকী টাকা পকেটে পুড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে এই জুলফিকারের বিরুদ্ধে। এদিকে বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর আওতাধীন খুলনা টু পাথরঘাটা রুটের চলাচলরত বাস ঢাকা মেট্রো ব – ২১৯৪ চাকা বডি ও ইঞ্জিন খুলে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সংবাদ প্রকাশ হলে ঐ রাতের আধারে খুলনা সোনাডাঙা থেকে খুলনা বিআরটিসি বাস ডিপোতে নিয়ে আসে।

সংশ্লিষ্ট বিষয় জানতে ম্যানেজার জুলফিকারের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন কোন চোঙ্গি বা চাঁদা নেয়না। এই প্রতিবেদককে অফিসে আসার কথা বলে মুঠো ফোন কেটে দেয়। এরপর আর মুঠোফোন রিসিভ করেনি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন এর (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা জানান আনিত অভিযোগ প্রমান পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

 

 

বরিশালে দত্তকের আড়ালে শিশু নির্যাতন ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ভয়াবহ অভিযোগে এডলিন বিশ্বাস নামে এক বিতর্কিত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে গোপনে চলা এই মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আদালতের কার্যক্রমে।
৩০ ডিসেম্বর বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মাজেদের নেতৃত্বে পুলিশ নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ রোড এলাকা থেকে এডলিন বিশ্বাসকে আটক করে।
থানা সূত্র জানায়, নগরীর পোর্ট রোডের একটি হোটেলে কর্মরত শ্রমিক ময়িয়মের কন্যা এনজেল ওরফে মিমকে পড়াশোনার কথা বলে দত্তক নেওয়া হয়। শর্ত ছিল—শিশুটিকে লেখাপড়া করানো হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ধর্মান্তর করা হবে না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে নোটারির মাধ্যমে শিশুটিকে খ্রিস্টান ধর্মে রূপান্তর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, পড়াশোনার সুযোগ না দিয়ে মিমকে গৃহকর্মে বাধ্য করা হয়। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে মিম এডলিন বিশ্বাসের বাসা থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার ভয়াবহতা আরও বেড়ে যায় যখন অপরাধ আড়াল করতে উল্টো শিশুটিকে ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এডলিন বিশ্বাস। পরে পুলিশ মিমকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। আদালতে ২২ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে মিম স্পষ্টভাবে নির্যাতন ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলে ধরে।
মিমের জবানবন্দি আমলে নিয়ে আদালত এডলিন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করে পুলিশ তাকে আটক করে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এডলিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মুসলিম নারীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে খ্রিস্টান ধর্মে রূপান্তরের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি শিল্পপতি, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করে নগদ অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শিশু নির্যাতন ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মতো গুরুতর অভিযোগে এই ঘটনায় নগরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি—এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শুধু একজন নয়, এর পেছনে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

 

আসাদুজ্জামান শেখ ::

বরিশাল নদীবন্দর থেকে ঘন কুয়াশা ও নদীপথে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সকল ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

বিআইডব্লিউটি এর বরিশাল নদী বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চত করেছেন। তিনি বলেন,
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বরিশাল থেকে ঢাকা ও ঢাকা থেকে বরিশাল অভ্যন্তরীণ সকল রুটে লঞ্চ চলাচল স্থগিত থাকবে।

হঠাৎ লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণায় বরিশাল নৌ-বন্দরে ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত যাত্রী। অনেক যাত্রী টিকিট কেটে লঞ্চে উঠলেও পরে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ বিকল্প সড়কপথে যাত্রার চেষ্টা করছেন।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়,পরবর্তীতে কুয়াশার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় লঞ্চ চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

সরকারি স্থাপনা নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে যাঁর দায়িত্ব, সেই কর্মকর্তাই যদি দুর্নীতির মাধ্যমে কোটিপতি বনে যান—তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি পৌরসভায় কর্মরত উপ-প্রকৌশলী মো. মামুন খান মাত্র ২২ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করেও অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
হাতে আসা তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১০ম গ্রেডভুক্ত এই কর্মকর্তা ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই অর্থেই তিনি জমি, বাড়ি, গাড়ি এবং পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় একাধিক হোটেল ও রিসোর্টে শেয়ার কিনেছেন বলে জানা গেছে।
কুয়াকাটায় রিসোর্ট, জমি ও শেয়ারের পাহাড়
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মামুন খান কুয়াকাটার হোটেল সাম্পান অ্যান্ড রিসোর্টে প্রায় ২০ লাখ টাকার একটি শেয়ার এবং হোটেল রোমান্টিকায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার দুটি শেয়ারের মালিক। এছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ৮ শতাংশ জমিও তাঁর নামে রয়েছে।
আরও জানা গেছে, পটুয়াখালীর খেপুপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল (ক্রমিক ৫১৮২, বহি-১, দলিল নং ৫১৭৯/২২) অনুযায়ী ২০২২ সালে ৯ জন শেয়ারহোল্ডারের সঙ্গে মামুন খান ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, যার মোট মূল্য দেখানো হয় ৪৮ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে ওই জমির খাজনাও পরিশোধ করেছেন তিনি।
ব্যাংক লেনদেনেও মিলছে অস্বাভাবিকতা
হোটেল সাম্পান অ্যান্ড রিসোর্টের অনুকূলে রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের একটি হিসাবে ২০২৩ সালের বিভিন্ন তারিখে মামুন খানের পক্ষ থেকে একাধিকবার অর্থ জমার তথ্য পাওয়া গেছে। ২ ফেব্রুয়ারি ৫০ হাজার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩০ হাজার, ৫ মার্চ এক লাখ, ২৯ মার্চ ৪০ হাজার এবং ২৬ জুন ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে। মাত্র ২২ হাজার টাকা বেতনের একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে এই ধরনের লেনদেন স্বাভাবিক কি না—সে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
“সবাই জানে, কিন্তু কেউ মুখ খোলে না”
স্বরূপকাঠি পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন,
“উপ-প্রকৌশলী হিসেবে মামুন খান ঠিকাদারদের নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা, অথচ উল্টো ঠিকাদাররাই তার কাছে জিম্মি। কাজ পেতে হলে কমিশন দিতে হয়—এটা ওপেন সিক্রেট।”
স্থানীয় এক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ে না। এই টাকাতেই আজ তিনি কোটিপতি।”
প্রশ্নের মুখে সরকারি বিধিমালা
সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবসায় যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরূপকাঠি পৌরসভার পৌর প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান,
“আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর উপ-প্রকৌশলী মামুন খান কোনো ব্যবসা বা বিনিয়োগের জন্য লিখিত অনুমতি নেননি।”
এ বিষয়ে মামুন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো তথ্যদাতার পরিচয় জানতে চান এবং প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
দুদকের তদন্ত দাবি
এলাকাবাসী ও পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি তদন্ত প্রয়োজন। তাঁদের ভাষ্য, সরকারি বেতনের সঙ্গে সম্পদের এই অস্বাভাবিক ব্যবধান রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
এখন দেখার বিষয়—অভিযোগের পাহাড়ের মুখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দুদক আদৌ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয় কি না, নাকি ২২ হাজার টাকার বেতনে কোটিপতি হওয়ার এই রহস্য চাপা পড়েই থেকে যায়।

 

সূত্র: দৈনিক সময়ের বার্তা

 

এস এম মিরাজ // শহিদ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বরিশাল নগরীতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ছাত্র-জনতার আন্দোলন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল তিনটা থেকে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামে শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের দুই প্রান্তে শত শত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকে পড়ে, সৃষ্টি হয় চরম জনদুর্ভোগ।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রজমোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এ আন্দোলনে অংশ নেন। প্রথমে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নথুল্লাবাদ গোলচত্বরে জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। পরে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে একপর্যায়ে সড়কে বসে পড়ে অবরোধ শুরু করে তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, “ওসমান বিন হাদি আমাদেরই ভাই। দিনের আলোতে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, অথচ এখনও প্রধান খুনিসহ জড়িতরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আমরা আর কোনো আশ্বাস চাই না, আমরা চাই দৃশ্যমান বিচার।”
এক শিক্ষার্থী আরও বলেন, “এটি কেবল একটি হত্যার বিচার নয়, এটি ন্যায়ের আন্দোলন। প্রশাসন যদি ব্যর্থ হয়, তবে ছাত্রসমাজ রাজপথেই দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার আদায় করবে।”
অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আতিক আব্দুল্লাহ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বিএম কলেজ শাখার সভাপতি জিয়াউর রহমান নাঈম, বিএম কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ মুহসীন উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই শহিদ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। খুনিরা প্রকাশ্যে হত্যা করে পালিয়ে গেলেও এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া লজ্জাজনক।”
তারা দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন—বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
এদিকে অবরোধের ফলে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বরিশাল নগর পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এয়ারপোর্ট থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “মহাসড়কে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।” একই সঙ্গে মহাসড়ক স্বাভাবিক রেখে আন্দোলন চালানোর আহ্বান জানান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের মাধ্যমে স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।

বরিশাল নগরীতে ১২২ পিস ইয়াবাসহ নোমান খান (২৮) নামে এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগরীর বাংলাবাজার এলাকার বাজারসংলগ্ন সবদুল মহাজন বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক নোমান খান ওই এলাকার কবির খানের ছেলে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর হেলালুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নোমান খানের কাছ থেকে ১২২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে শনিবার আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নোমান খান দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা তার কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করত, যার ফলে এলাকায় বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। নোমান গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক //বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ এখন আর উন্নয়ন বাস্তবায়নের দপ্তর নয়, এটি পরিণত হয়েছে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নিরাপদ ঘাঁটিতে। সেই ঘাঁটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হিসাব সহকারী আবুল হাসান রুপক। একটি সাধারণ হিসাব সহকারী পদে থেকে কীভাবে কেউ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়, তার জীবন্ত দলিল হয়ে উঠেছেন তিনি।
প্রায় ১৬ বছর ধরে একই দপ্তরে বহাল থাকা রুপকের কোনো বদলি না হওয়া শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং প্রভাবশালী দুর্নীতির শক্ত ভিত্তির প্রমাণ। বছরের পর বছর একই চেয়ার আঁকড়ে ধরে তিনি গড়ে তুলেছেন অর্থ, ক্ষমতা ও ভয়ভীতির এক অদৃশ্য সাম্রাজ্য।
স্বৈরাচারী আমলে সম্পদের বিস্তার, এখন রাজনৈতিক রঙ বদল।
স্বৈরাচারী সরকারের সময় গণপূর্ত বিভাগের হিসাব সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে করতেই রুপক গড়ে তোলেন বিপুল অবৈধ সম্পদ। সরকার পরিবর্তনের পর নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে সেই অতীত ঢাকার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও অর্থের উৎস বদলায়নি।
কমিশন নির্ভর বিল ছাড়, ঠিকাদাররা জিম্মি।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে কাজ শেষ মানেই বিল পাওয়া নয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত কমিশন না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়, বিল ঝুলে থাকে মাসের পর মাস। কাউকে রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়। এই পদ্ধতিতেই ঠিকাদারদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জুন এলেই ভাউচার আর লুটপাটের উৎসব
প্রতিবছর জুন মাস এলেই শুরু হয় ভুয়া ভাউচারের মহড়া। অভিযোগে উঠে এসেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধ ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পিপিআর আইন অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে বিল পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা নিয়মিতভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
একই কাজ বারবার দেখিয়ে টাকা তোলা
এমবি বইয়ে একই রড, একই ঢালাই, একই গাঁথুনি একাধিকবার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের ভয়াবহ চিত্র স্পষ্ট করে। দুর্নীতি এতটাই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে যে অডিট ব্যবস্থাও অর্থের বিনিময়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্ত্রীর নামে সম্পদ, তথ্য ফাঁস হতেই স্ত্রী অস্বীকার
অভিযোগ অনুযায়ী, রুপকের অবৈধ সম্পদের বড় অংশই স্ত্রীর নামে। নগরীর সদর রোডের কাকলীর মোড় এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের স্টল বরাদ্দ নিয়ে তা বেআইনিভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও স্থাবর সম্পত্তি স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই স্ত্রীকে অস্বীকার করার অপচেষ্টা দুর্নীতি আড়ালের মরিয়া কৌশল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল থেকে ঢাকা পর্যন্ত সম্পদের বিস্তার
রুপকের নামে ও বেনামে বরিশাল জর্ডান রোডে একাধিক ফ্ল্যাট, ঢাকায় ফ্ল্যাট, রূপাতলীতে জমি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাড়ি, ভোলা ও বাকেরগঞ্জে জমি ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। একজন হিসাব সহকারীর আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
দুদকের নীরবতা বড় প্রশ্ন
লিখিত অভিযোগ, নথিপত্র ও সম্পদের তথ্য থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এই নীরবতা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাই যদি নিশ্চুপ থাকে, তাহলে এই লুটপাট বন্ধ হবে কীভাবে।
বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ আজ উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং লুটপাটের প্রতিচ্ছবি। আর সেই লুটপাটের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসাব সহকারী আবুল হাসান রুপক। প্রশাসনের নীরবতা ও দুদকের নিষ্ক্রিয়তা এই দুর্নীতিকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
এখন প্রশ্ন একটাই, এই দুর্নীতির দেয়াল ভাঙবে কে, নাকি সবকিছু জেনেও সবাই নীরব থাকবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের এক ঝাড়ুদারের অবৈধ সম্পদের পাহাড় এখন পুরো নগরজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি নিম্নপদে কর্মরত থেকেও অবৈধ বাংলা মদের ব্যবসার মাধ্যমে কোটিপতি বনে যাওয়া প্রদীপ নামের ওই কর্মচারী দুর্নীতি, মাদক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
নাজির মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা প্রদীপ সম্প্রতি কাউনিয়া এলাকার ছোট মিয়া গলিতে জমি কিনে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের ওপর দুইতলা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তার সরকারি আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বিলাসবহুল আসবাবপত্র, একাধিক মোটরসাইকেল, নগদ অর্থ ও অভিজাত জীবনযাপন স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এই অর্থ বৈধ উপায়ে অর্জিত নয়।
দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, প্রদীপ সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে অবৈধ বাংলা মদের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। নাজির মহল্লায় তার মদ বিক্রির আস্তানাকে ঘিরে নির্দিষ্ট পাহারাদার বাহিনী মোতায়েন থাকে, যারা প্রশাসনের গতিবিধির আগাম তথ্য দিয়ে ব্যবসা নির্বিঘ্ন রাখে। এর ফলে পুরো এলাকায় মাদক, বিশৃঙ্খলা ও অপরাধপ্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—আইনে কোথাও মদ বিক্রির অনুমতি নেই। কিছু ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে মদ্যপানের সীমিত অনুমোদন দেওয়া হলেও বাণিজ্যিকভাবে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। সেই হিসেবে প্রদীপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।
তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—একজন সিটি কর্পোরেশনের ঝাড়ুদার কীভাবে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে অবৈধ মদের ব্যবসা চালিয়ে গেল? কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে উঠল? কেন এখনো পর্যন্ত কার্যকর অভিযান বা সম্পদ জব্দের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই?
এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রদীপের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি ক্রয়, ভবন নির্মাণের অর্থের উৎস এবং নামে-বেনামে থাকা সম্পদের বিস্তারিত অনুসন্ধান জরুরি। সরকারি বেতনের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলেই বিপুল অস্বাভাবিকতা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরবাসীর দাবি—দুদক অবিলম্বে এই ঝাড়ুদার-কোটিপতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করুক, অবৈধ সম্পদ জব্দ করুক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায় নির্ধারণ করুক। তা না হলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দুর্নীতিবাজদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেই পরিচিত হয়ে থাকবে, আর আইন ও নৈতিকতার প্রশ্ন আরও গভীর সংকটে পড়বে।