মামুনুর রশিদ নোমানী //

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির চক্র এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে টেন্ডার কারসাজি, জালিয়াতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অন্তত ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। তদন্তের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে বেরিয়ে আসছে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের নাম, যা নগরজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন সচিব মাসুমা আক্তার, প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির, সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমান, জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল, সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান শাকিল, উপসহকারী প্রকৌশলী এইচ এম কামাল, সাইফুল ইসলাম মুরাদ, সার্ভেয়ার সাইদুর রহমান, প্ল্যান শাখার সহকারী খায়রুল হাসান এবং কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ হোসেন।

এই তালিকা সামনে আসতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বিসিসির ভেতরে একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মে জড়িত ছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র থেকে শুরু করে সম্পত্তি বরাদ্দ, ক্রয় প্রক্রিয়া থেকে নিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই এই চক্রের প্রভাব ছিল বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো হলেও অন্তত ১০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া কয়েকজনের ক্ষেত্রে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের নামে নাটক সাজিয়ে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রেও ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়েছে। ল্যাপটপ, ড্রোন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করে সরকারি অর্থ লুটপাটের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের পুনঃনিয়োগ এবং উৎসবভিত্তিক ব্যয়ে অস্বচ্ছতার মতো ঘটনাও এই দুর্নীতির চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে। সব মিলিয়ে বিসিসির প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে গভীরভাবে প্রোথিত অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে অভিযুক্তদের দুদক কার্যালয়ে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার অসামঞ্জস্য ধরা পড়ায় তদন্ত আরও জোরালো হয়।

এই তলবের পর থেকেই বিসিসির ভেতরে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

বর্তমানে অনুসন্ধান রিপোর্ট অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই মামলা দায়ের, চার্জশিট প্রস্তুত এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। চার্জশিট আদালতে গৃহীত হলে সংশ্লিষ্টদের সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে স্থায়ী অপসারণের পথও খুলে যাবে।

এই ঘটনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে। দুর্নীতির এই জাল ভেঙে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কিনা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

 

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
বরিশাল নগরীর বুকেই প্রকাশ্যে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর জুয়ার সাম্রাজ্য। ‘ওয়ান-টেন’ নামের এই অবৈধ জুয়ার আসর ঘিরে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে রফিক সিন্ডিকেট। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেনের এই খেলায় সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসছে শত শত পরিবার। অথচ সবকিছু যেন দেখেও না দেখার ভান করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে ক্ষোভ, আতঙ্ক আর হতাশায় ফুটছে পুরো নগরবাসী।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বাঘিয়া খ্রিষ্টান কলোনির একাধিক স্থানে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হয়েছে এই জুয়ার জাল। স্থানীয় রফিক যিনি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করছেন এই সিন্ডিকেট। নগরীর ভাটার খাল ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকা, কাটপট্টি এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি স্পটে নিয়মিত বসছে এসব জুয়ার বোর্ড। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় জুয়ার আসর, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে নির্বিঘ্নে।

তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ান-টেন’ নামের এই জুয়ার ফাঁদ মূলত সাধারণ মানুষকে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে টেনে আনে। শুরুতে সামান্য জিতিয়ে আসক্ত করে ফেলে, এরপর ধাপে ধাপে নিঃস্ব করে দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। অনেকেই নিজের সঞ্চয় শেষ করে, এমনকি ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করেও বাজি ধরছে। ফলে পরিবারে নেমে আসছে চরম আর্থিক ও সামাজিক বিপর্যয়।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব জুয়ার আসর পরিচালনায় রয়েছে সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। সিন্ডিকেটটির রয়েছে নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী, যারা জুয়ার বোর্ড পাহারা দেয় এবং বাইরের কেউ যেন বাধা দিতে না পারে তা নিশ্চিত করে। স্থান পরিবর্তন করে প্রতিদিন নতুন নতুন জায়গায় বসানো হয় বোর্ড, যাতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়। তবে স্থানীয়দের দাবি—এত বড় পরিসরে এই কর্মকাণ্ড চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অজানা থাকার কোনো সুযোগ নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জুয়ার আসর ঘিরে আশপাশে বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন ও বখাটেপনা। সন্ধ্যার পর থেকেই সাধারণ মানুষ চলাচলে ভয় পাচ্ছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন। অনেক পরিবারে অশান্তি, বিচ্ছেদ ও সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কোনো গোপন যোগসাজশ রয়েছে? নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য কারণে থমকে আছে আইন প্রয়োগ?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের অজ্ঞাতসারে এত বড় জুয়ার সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। পুলিশ সব জানে, কিন্তু কোনো অজানা কারণে তারা নীরব। আমরা এখন আর কোথাও বিচার পাচ্ছি না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান না চালালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। একটি নগরীর সামাজিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—সবকিছুই হুমকির মুখে পড়বে।

এখন প্রশ্ন একটাই—বরিশাল কি জুয়ার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে, নাকি প্রশাসন জেগে উঠবে?

এ ব্যাপারে রফিক কে ফোন দেওয়া হলে সে ফোন রিসিভ করেনি।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঝালকাঠির বাসন্ডা এলাকায় অবস্থিত আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজে উন্নয়ন বরাদ্দের নামে বড় ধরনের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে “মসজিদ উন্নয়ন” খাতে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য থাকলেও বাস্তবে ওই নামে কোনো মসজিদ বা নামাজের স্থানই নেই—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ঝালকাঠি জেলা পরিষদ থেকে কলেজটির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে এডিবির বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে “আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন জামে মসজিদ” উন্নয়নের নামে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

সরেজমিনে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ওই নামে কোনো মসজিদ তো দূরের কথা, নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত কোনো স্থাপনাও নেই। কলেজের আশপাশ ঘুরেও এমন কোনো স্থাপনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও রহস্যজনক করে তুলেছে জেলা পরিষদের তৎকালীন এক কর্মকর্তার বক্তব্য। তিনি জানিয়েছেন, এই নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। এমনকি পুরো ঝালকাঠি জেলাতেও এই নামে কোনো মসজিদ নেই বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সরকারি অর্থ লুটপাটের একটি কৌশল। তাদের মতে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তুষ্ট রাখতে তৎকালীন প্রশাসক, প্রকৌশলী এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এই ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এলাকার একাধিক শিক্ষানুরাগী বলেন, যেখানে বাস্তবে কোনো স্থাপনা নেই, সেখানে উন্নয়নের নামে টাকা ব্যয় দেখানো মানেই সরাসরি দুর্নীতি। এই অর্থ কোথায় গেছে, কারা উত্তোলন করেছে এবং কীভাবে বিল পাস হয়েছে—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য আরও কঠোর। তাদের অভিযোগ, কলেজে উন্নয়নের নামে একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দ এলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ রয়েছে। অনেক কাজই কাগজে সীমাবদ্ধ, মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই। ফলে এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একটি সুসংগঠিত অনিয়মের চক্র কাজ করছে বলে ধারণা করছেন তারা।

সচেতন মহল বলছে, সরকারি অর্থের এমন অপব্যবহার শুধু অনিয়ম নয়, এটি জনস্বার্থের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তারা দ্রুত এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তদন্তের দাবিতে স্থানীয়রা দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ যুথিকা মন্ডলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। কলেজের অফিস নম্বর ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি, যা পুরো ঘটনার সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে।

অন্যদিকে, ঝালকাঠি জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো ভুয়া প্রকল্প বা ভৌতিক বিল পাস করা হবে না। সকল প্রকল্প কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন একটাই—যে ১৫ লাখ টাকা ইতোমধ্যে খরচ দেখানো হয়েছে, তার জবাব কে দেবে? আর এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কবে নেওয়া হবে দৃশ্যমান ব্যবস্থা? এসব প্রশ্নের উত্তর না মিললে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

সূত্র : ইত্তেহাদ নিউজ

 

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বরিশালের বানারীপাড়ায় অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে এক ডিলারকে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আলম কমিশনারের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাইজিদুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও এনএসআই-এর যৌথ অভিযানে স্থানীয় ডিলার মো. শামসুল আলম শিমুকে আটক করা হয়।

অভিযানে জানা যায়, শামসুল আলম শিমুর নামে সর্বোচ্চ ৪০টি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের অনুমতি থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২০০০ থেকে ২৫০০টি সিলিন্ডার অবৈধভাবে নিজ বাড়িতে মজুদ করে রেখেছিলেন। এসব সিলিন্ডার তিনি উপজেলা সদরের বন্দর বাজারের ফেরিঘাট সংলগ্ন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘বৈশাখী প্লাস’ থেকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন।

এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪০ ও ৪৩ ধারায় তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে তার বাড়ি ও দোকানে অভিযান চালিয়ে মজুদকৃত সিলিন্ডার দ্রুত বাজারে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অনুমতিপত্র অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার শর্তে ১ হাজার টাকার মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে জেলা এনএসআই বরিশাল কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসন ও বানারীপাড়া থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক// বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদকৃত ডিজেল ও মবিল জব্দ এবং অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত গৌরনদী উপজেলার ৫নং ওয়ার্ডের সুরেন শিকদার হাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে স্থানীয় হালিম মিয়ার দোকান ও বাসায় তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৩০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, এনএসআই সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নজরদারিতে রাখছিলেন। পরে ছদ্মবেশে তেল ক্রয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে, প্রতিষ্ঠানটি কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছে।

ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধভাবে মজুদকৃত তেল জব্দ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে দোকানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এদিকে একই অভিযানের অংশ হিসেবে গৌরনদীর শরিকল বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগে আল মদিনা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও নবীন স্টোরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানকে যথাক্রমে ৫ হাজার ও ৩ হাজার টাকা, মোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক |বরিশাল মহানগরীর ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রিয়াজের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জোহর নামাজ শেষে নগরীর খালেদাবাদ কলোনি মসজিদে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মিজানুর রহমান রিয়াজ বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সদস্য ও বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শুভ শিকদার, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির রহমান, ১৪নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম, এবং বিএনপি নেতা মিঠু খান ও হারুন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ১৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ইমরান হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শামীম মল্লিক, মামুন মল্লিক, শ্রমিক দল নেতা ইব্রাহিম হাওলাদারসহ ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মোনাজাতে উপস্থিত সকলে মিজানুর রহমান রিয়াজের শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য মহান আল্লাহতালার দরবারে প্রার্থনা করেন। নেতৃবৃন্দ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবদান স্মরণ করে বলেন, “রিয়াজ ভাই দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। আমরা মহান রবের কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে পুনরায় আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।”

দোয়া শেষে উপস্থিত মুসল্লি ও নেতাকর্মীদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাস।

ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে গাফিলতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তিনি চাকুরীর শুরু থেকেই বরিশাল জেলায় ঘুরে ফিরে রয়েছেন। চাকুরীর শুরু উপজেলা মুলাদী থেকে শুরু করে বরিশাল ও বাবুগঞ্জে বিতর্ক আর প্রতিরোধের মুখে বদলী হয়েছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নাই।

বাবুগঞ্জ থেকে বাকেরগঞ্জে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত আচরন শুরু করেন।তার ওপরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকলেই ক্ষুব্ধ। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা।

বরিশাল ও বাবুগঞ্জের মত বাকেরগঞ্জে ও  তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা হয়নি।  জানা গেছে, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন  একই জেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় নানা অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও কর্মচারীদের প্রতি অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে আলোর মুখ দেখেনি। ডা.সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ওপর  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনার চিকিৎসা সেবা প্রদানের দায়িত্ব থাকলেও তিনি নিয়মিতভাবে তা পালন করছেন না।  যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ।

বরিশাল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মেহবুব মোর্শেদের সাথে সু সম্পর্ক থকার কারনে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন। এতে করে সাধারন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নিয়মিত ইউনিয়নগুলোতে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করেই ভুয়া টিএ (ভ্রমণ ভাতা) ও ডিএ (দৈনিক ভাতা) বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিকবার একই ধরণের বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটের প্রমাণ রয়েছে বলে জানা যায়। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে হরহামেশাই খারাপ আচরন করে থাকেন। এমনকি রোগীকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ব্যাপারে জানা যায়, দীর্ঘ মেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ইমপ্লান্ট পড়ানো ও খোলা দুইটিই ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের দায়িত্ব থাকলেও এফডাব্লিউভি (পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা) দ্বারা জোরপূর্বক তা করিয়ে থাকেন। যার ফলে প্রায়শই ব্যবস্থাটি ত্রুটিপূর্ন হয়ে থাকে। যা নিয়ে হর-হামেশাই সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বাবুগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে মাধবপাশা ইউনিয়ন থেকে ইমপ্লান্ট এর চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রাবেয়া নামে এক নারী জানিয়েছিলেন আগে দুইবার এ পদ্ধতি নিলেও এইবারের মতো কষ্ট কখোনই পাইনি। ডা.নিজে তার কাজ না করে অনভিজ্ঞদের দ্বারা ইমপ্লান্ট পড়ায়। এতে অসহ্য রকমের ব্যাথা অনুভূত হয়। এভাবেই বাকেরগঞ্জে তিনি কর্ম করে যাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারীদের টিএ বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিলের ৩০-৪০% টাকা ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনকে ঘুষ দিতে হয়। কারন হিসেবে তিনি বলেন এ অর্থ বরিশাল অফিসে ও হিসাব শাখায় জমা দিতে হয়। এ টাকা কেউ না দিতে চাইলে তাকে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের রোষাণলে পরতে হয়। এমনকি বিল আটকে দেয়ার হুমকিও প্রদান করা হয়। এছাড়াও কথায় কথায় কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার ও অসংখ্য নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়,মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা (সোনিয়া) কর্মস্থলে অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন, টি.এ বিল আত্মসাৎ করেন, এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ (খারা ৩ ও ৭)-এর পরিপন্থী। তিনি চিকিৎসা সেবা সম্পর্কেও দায়িত্বহীন আচরণ করেন, ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বহুবার উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, বরিশাল বরাবর মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও, তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা দুর্নীতি দমন আইন ও সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।আবেদনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন।

প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: 

অন্যদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়—

মুসলিম নারী কর্মীদের পোষাক নিয়ে বিদ্রুপ আচরন

ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আচরণ

গর্ভবতী কর্মীদের অপমান করা

হিন্দু কর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া

এছাড়া তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থেকে তার ঘনিষ্ঠ সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সবুর হোসেনের মাধ্যমে অফিস পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সবুর হোসেনের মাধ্যমে কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা আমি জানিনা।তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার জন্য আমার বিভাগ তদন্ত করে যে শাস্তি দিবে তা মেনে নিবো।তিনি বলেন, আমি কর্মস্থলেই আছি,ফাঁকি কেন দিবো।

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূত্র ইত্তেহাদ নিউজ

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফের প্রায় ৬ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে জেলেদের উপস্থিতিতে বস্তা গণনার সময় এই অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় তোপের মুখে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

কালাইয়া ইউপি সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৯২১ জন। তাদের জন্য মোট ৭৩.৬৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের মোট ২ হাজার ৪৫৬ বস্তা চাল ছাড় করা হয়।

কালাইয়া ইউপি সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৯২১ জন। তাদের জন্য মোট ৭৩.৬৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের মোট ২ হাজার ৪৫৬ বস্তা চাল ছাড় করা হয়।

কিন্তু বিকেল ৪টার দিকে ইউপি কার্যালয়ের সামনে জেলেদের উপস্থিতিতে বস্তা গণনা করতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২ হাজার ২৬৪ বস্তা চাল রয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ১৯২ বস্তা চাল কম পাওয়া যায়, যার পরিমাণ ৫.৭৬ মেট্রিক টন। বর্তমান বাজারমূল্যে এই চালের দাম আনুমানিক ২ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা।

চাল গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার, ইউপি সচিব আবু বক্কর ছিদ্দিক এবং তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন।

তদারকি কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক বস্তা আলাদা করার পর গণনায় ঘাটতি ধরা পড়ে। নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ১৯২ বস্তা কম পাওয়া গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকেই সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে চালের একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবালুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ইউপি সচিব আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, “গুদাম থেকে নির্ধারিত সব চালই গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ১৯২ বস্তা চাল কোথায় গেল, তা আমরা নিশ্চিত নই।”

এ প্রসঙ্গে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ভুল হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এমন আর হবে না।” এ সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

 

বরিশাল: শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মো. সোহাগ নামে এক  কর্মচারী দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করছেন—যা একটি জাল সনদপত্রের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।

সোহাগ বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মগড়পাড়া গ্রামের মো. আবদুল মহিন আকন ও রহিমা খাতুনের ছেলে। সূত্র জানায়,  তিনি লাকুটিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮ম শ্রেণি পাসের সনদপত্র জমা দিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে কোনো প্রক্রিয়া বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই তিনি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ একটি দাপ্তরিক প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন, মো. সোহাগ কখনোই মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেননি। নথিপত্র বা রেজিস্টারও তার ছাত্রত্বের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “একজন ভুয়া সনদধারীর দীর্ঘকাল সরকারি চাকরিতে থাকা প্রশাসনিক চরম অবহেলার পরিচয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়, সরকারি ব্যবস্থার এক গভীর ফাঁক।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা এবং যাচাই ব্যবস্থার ত্রুটি এই ধরনের ঘটনা জন্ম দেয়।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “ভুয়া সনদ ও দীর্ঘকাল চাকরিতে থাকার ঘটনা শুধু বরিশাল নয়, সারাদেশে সরকারি নিয়োগে সম্ভাব্য দুর্নীতির প্রতীক। সমন্বিত যাচাই-বাছাই, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ছাড়া এই ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করা যাবে না।”

এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজে ক্ষোভের স্রোত তৈরি হয়েছে। বহু নাগরিক মনে করছেন, শুধু অভিযুক্তকে বরখাস্ত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রশাসনিক দায়িত্ব ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুনঃমূল্যায়ন জরুরি।

জাল সনদ ও দীর্ঘকাল চাকরিতে থাকার এই কাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি দাবি করছে।

 

ঝালকাঠির নলছিটিতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব রুম্পা সিকদারকে শাস্তি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

লঘুদণ্ড হিসেবে তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নলছিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

তার দায়িত্বকালেই আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ে মোট ৩০২টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে পরবর্তীতে নতুন ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। দেখা যায়, বরাদ্দ পাওয়া ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘরের কোনো নির্মাণকাজই হয়নি।

এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অনির্মিত ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে ঘরপ্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হিসেবে এবং পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রুম্পা সিকদার অনির্মিত ঘরগুলোর বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, ঘর নির্মাণের অর্থ রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে ৫৫টি ঘরের কাজ সম্পন্ন হয়নি। এমনকি বদলির সময় তিনি এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দাপ্তরিক নথিতে লিপিবদ্ধ করেননি।

এসব কারণে তার প্রশাসনিক দক্ষতার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। পরে সব দিক বিবেচনায় এনে তাকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।