স্টাফ রিপোর্টার:
মাদারীপুরের শিবচর থানার চাঞ্চল্যকর আলতাফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি বারেক মাদবর (৫০) কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, র‍্যাব-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্প এবং র‍্যাব-১১, সিপিসি-১, নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল গত ২৮ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন বর্ণমালা স্কুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত বারেক মাদবর শিবচর উপজেলার সাড়ে এগার রশি গ্রামের মৃত মোসলেম মাদবরের ছেলে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত আলতাফ মাদবর (৪৫) ও বারেক মাদবর সম্পর্কে চাচাতো ভাই। অভিযুক্তের বাড়ির পানি ভুক্তভোগীর বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৪ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আলতাফ মাদবর বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে গেলে সেখানে উপস্থিত বারেক মাদবর তাকে দেখে গালিগালাজ শুরু করেন। আলতাফ গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে বারেক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি মারেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে স্থানীয়দের চিৎকার শুনে আলতাফের স্ত্রী ঘটনাস্থলে এসে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে পাচ্চর ইসলামি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোড এলাকায় বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিপা আক্তার (৪৬) নামে এক দুই সন্তানের জননী নিহত হয়েছেন। তিনি সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের একজন প্রশিক্ষক ছিলেন।

​গত সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৯ঃ৩০ মিনিটের দিকে নবগ্রাম রোডের শামসু মিয়ার গ্যারেজ সংলগ্ন ‘মাইন্ড কেয়ার’ হাসপাতালের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত নিপা আক্তার স্থানীয় বাসিন্দা এবং বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সপেক্টর মোস্তফা জামানের সহধর্মিণী। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী ও দুই অবুঝ সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

​পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে সন্তানকে কোচিং থেকে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন নিপা আক্তার। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তিনি শক্ত রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়।

​দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে রেফার করেন। পরে ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রাত ২টা ৩০ মিনিটে উপস্থিত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় চরম শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নবগ্রাম রোড এলাকায় ইদানীং কিশোর ও তরুণদের বেপরোয়া বাইক চালানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে।

প্রতিনিয়ত গতিসীমা অমান্য করে বাইক চালানোর কারণে সাধারণ পথচারীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।
​এলাকাবাসী এই সড়ক দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়ী মোটরসাইকেল চালক তামিমের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:

বাকেরগঞ্জ থানার চাঞ্চল্যকর আব্দুল হালিম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মনসুর ডাকুয়া (৫০)কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রোববার (২৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর খিলখেত থানাধীন কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে র‌্যাব-৮, বরিশাল সদর কোম্পানি এবং র‌্যাব-১, সিপিসি-১, উত্তরা, ঢাকার যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সংস্থাটি কাজ করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রধান আসামি শফিকুল ইসলামসহ মনসুর ডাকুয়া ও অন্যান্য অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলার হেলেঞ্চা ব্রিজ সংলগ্ন মেসার্স হাওলাদার এন্টারপ্রাইজে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন হাওলাদারের বড় ভাই আব্দুল হালিম হাওলাদার হামলা প্রতিহত করতে এগিয়ে এলে তাকে লক্ষ্য করে শাবল, রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান আসামি শফিকুল ইসলাম শাবল দিয়ে আব্দুল হালিমের বুকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর মনসুর ডাকুয়াসহ অন্য আসামিরা তার হাত-পা চেপে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে শাবল ও রড দিয়ে একাধিক আঘাত করে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল হালিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর নিহতের ভাই দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র‌্যাব-৮ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। গ্রেপ্তার এড়াতে মনসুর ডাকুয়া বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে অবস্থান পরিবর্তন করলেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মনসুর ডাকুয়াকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগরীর বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

ঝালকাঠির রাজাপুরে বহুল আলোচিত মিলন হাওলাদার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৩)। রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর ও রামপুরা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার (২৭ জুন) তাদের রাজাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের আদাখোলা এলাকার মো. বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুল হাওলাদার (২৫) এবং একই এলাকার মো. বাদল হাওলাদারের ছেলে মো. আলিম হাওলাদার (২৩)।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, রাজাপুর থানার বাসিন্দা মিলন হাওলাদার (২৫) হত্যা মামলার পর থেকেই ওই দুই আসামি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাব জানায়, গত ২৫ জুন রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৬ জুন রাতে রামপুরা থানার মালিবাগ বাজার রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আলিম হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়।

রাজাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মালেক হাওলাদার বলেন, মিলন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাদের ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মামলার দুই গুরুত্বপূর্ণ আসামি গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পিরোজপুরের কাউখালী থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে ৯৫ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবাসহ চারজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

শনিবার (২৭ জুন) ভোররাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

 

থানা সূত্রে জানা যায়, কাউখালী থানার এসআই মোঃ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেউন্দ্রিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে হাসিবুল ইসলাম (২৩), আসপদ্দি গ্রামের বাবুল রায়ের ছেলে সজল রায় (২৬), উজিয়ালখান গ্রামের সুলতান খানের ছেলে সোহান খান (২৫) ও চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের ডোমজুরি গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে সোয়াইন হোসেন (২৪)-কে গ্রেফতার করা হয়।

 

এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে মোট ৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই চার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারের খবরে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা কাউখালী উপজেলাকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি।

 

দেশব্যাপী বহুল আলোচিত বরিশাল বিভাগের বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের সাত বছর পূর্ণ হয়েছে ২৬ জুন। ২০১৯ সালের এইদিনে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির উপস্থিতিতে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে। নেট দুনিয়ার বদৌলতে দেশ-বিদেশে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আলোচিত মামলায় মিন্নিসহ কয়েকজনকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারত। বর্তমানে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি রয়েছেন মিন্নি।

 

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে মিন্নি কনডেম সেলে অধিকাংশ সময় বেশ নিরিবিলি থাকেন। নিয়মিত নামাজ আদায় ও ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মধ্যদিয়েই তার দিন কাটে। কারাগারের অন্য বন্দি বা কারারক্ষীদের সঙ্গে তিনি খুব একটা কথা বলেন না। কেবল নির্দিষ্ট নিয়মে বাবা-মা কিংবা নিকটাত্মীয়রা সাক্ষাৎ করতে আসলে তাদের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, কারাগারে তার আচরণ স্বাভাবিক এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ড নেই।

 

কনডেম সেলে কেমন আছেন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সেই মিন্নি : মামলা ও কারাসূত্রে জানা গেছে, সাজা ঘোষণার পর মিন্নিকে প্রথমে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া ও পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় রিফাত শরীফের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় স্থানীয় গ্যাং ‘বন্ড বাহিনী’র সদস্যরা। গুরুত্বর আহতাবস্থায় রিফাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

 

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে তা দেশ-বিদেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দেয়। হত্যাকান্ডের পরেরদিন রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা সদর থানায় ১২ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নির সম্পৃক্ততার দাবি করা হয়। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। এতে মোট ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে মামলার বিচার চলে। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মামলায় আদালতের বিচারক মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদন্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন। একই বছরের ২৭ অক্টোবর শিশু আদালত অপ্রাপ্তবয়স্ক কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে।

 

মামলার শুরু থেকেই মিন্নির পরিবার দাবি করে আসছে, তাকে (মিন্নি) পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তদন্তের সময় প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে একজন সাক্ষীকে আসামিতে পরিণত করা হয়েছে।

 

বরিশালে আট বছর বয়সী এক নূরানী মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী কড়াপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কড়াপুর এলাকার নুরিয়া তালিমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত মোঃ মুস্তাকিম বিল্লাহ ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২২ জুন) সাড়ে ১১ টার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষকদের ব্যবহৃত প্রসাবখানার ভেতরে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত মোঃ মুস্তাকিম বিল্লাহ। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি বাবা-মাকে জানান। এ ঘটনায় ২৩ জুন ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা মোসাঃ রুবিনা আক্তার বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ওই দিনই পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মুস্তাকিম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এয়ারপোর্ট থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন- ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ মুস্তাকিম বিল্লাহকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল বরিশাল নগরীতে তরুণীদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি ভয়ঙ্কর ‘হানিট্র্যাপ’ সিন্ডিকেটের সন্ধান পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানাযায়, এই চক্রের মূল হোতা ও মাস্টারমাইন্ড রাব্বি,সামিয়া ও বৃষ্টি নামের যুবক-যুবতী। রাব্বি নিজেকে কথিত ‘ক্রাইম রিপোর্টার’  ও মহানগর জিয়া মঞ্চের সভাপতি এবং প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৫ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরিশাল নগরীর স্ব-রোড এলাকার কমিশনার গলির আজাদ হোসেনের মালিকানাধীন বাসা ভাড়া নিয়ে হানিট্র‍্যাপের মত অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে লোক চক্ষুর অন্তরালে থেকে।

এই চক্রের নারী সদস্যদের ফাঁদে পড়ে জিম্মি হন বাখেরগঞ্জ দূর্গাপাশা ইউনিয়নের দুই যুবক। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে কৌশলে ২১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা। ভুক্তভোগীদের দাবি, পুরো ঘটনাটির নেপথ্যে থেকে মূল কলকাঠি নেড়েছে রাব্বি ও তার সহযোগীরা।

ঘটনাস্থাল থেকে জানা যায়, রাব্বির নেতৃত্বে ৬-৮ জনের একটি সুসংগঠিত দল বরিশাল শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বাসা-বাড়িতে এই অনৈতিক ফাঁদ পেতে রেখেছে। চক্রের নারী সদস্যরা প্রথমে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সাথে মোবাইল ফোনে সখ্যতা গড়ে তুলে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়।

এরপর রাব্বির নির্দেশে চক্রের অন্য সদস্যরা আকস্মিক হানা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুয়া পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের মারধর করে। পরে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে সামিয়া নামের আরেক নারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।

তারা টার্গেট করা ব্যাক্তিকে তাদের নির্ধারিত বাসায় নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে দলের অন্য সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে।

দুইজন ভুক্তভোগী বলেন হানিট্র‍্যাপের নামে আমাদের কাছ থেকে প্রথম নগদ ১১ হাজার পরে ঘরের ভিতর জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের (০১৭১২—০৮৩) মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।

হানিট্র‍্যাপের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাব্বি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে বলে সবাই টাকা ভাগ করে নিয়ে গেছি আমি পারি আমার ৩ হাজার টাকা ফেরত দিতে,পরে প্রতিবেদক বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে চাইলে মীমাংসার করার কথায় ৫ হাজার ও পরে ১৩ হাজার টাকা দিতে সম্মত হয়।মীমাংসার নামে তালবাহানা করে রাত দীর্ঘ করে মীমাংসা না করে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করে রাব্বি।

বাসার মালিকের কাছে জানতে চাইলে বাসা মালিক আজাদ হোসেন বলেন আমি এই বিষয় জানি না।তবে ৪ দিন আগে আমাকে ফোন দিয়ে এক সাংবাদিক জানিয়েছিল দুই মেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে।আর আমি বাসা ভাড়া দিয়েছি ইব্রাহিম নামে এক নওমুসলিমের কাছে সে আর তার মা থাকে।আমার সামনে ও একদিন একটা মেয়ে পড়েছে তার কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে এড়িয়ে চলে যায়।আমি বিষয়টি থানাকে অবহিত করে তাদেরকে বাসা ছাড়ার জন্য বলে দিব।আমার বাসা ভাড়া নিয়ে এমন কাজ কোন ভাবে করতে দেওয়া যাবে না।

হানিট্র‍্যাপের মাধ্যমে জিম্মি করে টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ সনজিত চন্দ্র নাথ বলেন আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করে নি।অভিযোগ পেলে এই সকল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্টাফ রিপোর্টার:
বরিশাল নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ মো. হোসেন আলী মোল্লা (৫২) নামে এক অভিযুক্ত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে এয়ারপোর্ট থানার কোলচর এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, এয়ারপোর্ট থানার চৌকস অভিযান-৪ পার্টির এসআই (নিরস্ত্র) মো. আকতার হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই আব্দুল হালিম, এএসআই সুজন চন্দ্র দে, এএসআই সুমন মিয়া, এএসআই সোহেল রানা, এএসআই মো. সাইফুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হোসেন আলী মোল্লার কাছ থেকে ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নগরীতে মাদক নির্মূলে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

 

পটুয়াখালীর বাউফলে পৃথক অভিযানে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক সাধারণ সম্পাদকসহ চারজনকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার সূর্যমনি ও কনকদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সূর্যমনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল ভূঁইয়া (২৫)। তিনি মালেক ভূঁইয়ার ছেলে। সূর্যমনি ইউনিয়নের বারেক জোমাদ্দারের ছেলে সেফাতুল জোমাদ্দার (৩৪)।কনকদিয়া ইউনিয়নের আয়লা যৌতা এলাকার আবুল প্যাদার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৫)। কনকদিয়া ইউনিয়নের হোগলা এলাকার মান্নান হাওলাদারের ছেলে ইরান হাওলাদার (৪৫)।

থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মিজানুর রহমান ও এসআই সম্ভিতের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের কাছ থেকে মোট ৩৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।