নিজস্ব প্রতিবেদক /
বরিশাল নগরীর কাজীপাড়া এলাকার চেরাগ আলী সড়কে নিজ বাসভবন থেকে রাহাত হোসেন আজাদ (৪০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত আজাদ ওই এলাকার মৃত চেরাগ আলী হাওলাদারের পুত্র।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ কক্ষের আড়ার সাথে আজাদকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,আজাদ বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিলেন। অভিযোগ উঠেছে,এই আত্মহত্যার পেছনে শ্লীলতাহানির অপবাদ ও পারিবারিক বিরোধের বড় ভূমিকা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,আজাদের বড় ভাই হুমায়ুন কবির ও ভাবি পারভীন বেগম ও এলাকাবাসির মাধ্যমে জানাজানি হয় আজাদ একই এলাকার দুই সন্তানের জননী তানিয়া নামক এক নারীর শ্লীলতাহানি করেছেন। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত সোমবার (১০ মার্চ) ভুক্তভোগী নারী কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে এলাকায় গেলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। ধারণা করা হচ্ছে,সামাজিক লোকলজ্জা এবং নিকটাত্মীয়দের তোলা এই অপবাদ সইতে না পেরেই আজাদ আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।
মৃত আজাদের আর দুই ভাই ভাবি অভিযোগ করে বলেন আমাদের ভাই আত্মহত্যা করতে পারে না ওকে কেউ মেরে ঘরের আরাড় সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। সঠিক তদন্ত করলে ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসবে এমনটাই দাবি করেছেন তারা।
ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেছেন আজাদের স্ত্রীর এক সন্তান রয়েছে। আজাদ একটু মাদকাসক্ত বিদায় স্ত্রীর রাগ হয়ে চট্টগ্রামের চলে যান সেখানেই বসবাস করেন তিনি। মৃত্যুর খবর স্ত্রী সন্তানকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে রওনা করেছেন তারা বরিশালের উদ্দেশ্যে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান,খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







