বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নে ৩২ পিস ইয়াবাসহ সিরাজ গাজী ওরফে সিজন গাজী নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে উপজেলার চরামদ্দি পুলিশ ক্যাম্পের এস আই আলমগীরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৩২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। রবিবার সকালে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আটক সিরাজ গাজী ওরফে সিজন গাজী চরামদ্দি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের দিয়ারচর পশ্চিম চরামদ্দি এলাকার জব্বার গাজীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, সিরাজ গাজী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তিনি একাধিকবার মাদকদ্রব্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

 

বরিশাল মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এ সময় মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও রুপা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বরিশাল মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিএমপির চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫৫ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১ কেজি ২২০ গ্রাম গাঁজাসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অভিযানের সময় নগদ ৪৭ হাজার টাকা, ২ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার এবং ৩ ভরি ৮ আনা রুপা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৩ জন, নিয়মিত মামলায় ৪ জন এবং বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বরিশাল মহানগর পুলিশ জানায়, নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

 

 

খুলনা মহানগরীর চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে র‌্যাব-৬ এর মিডিয়া সেল থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-৬ ও র‌্যাব-৮ এর সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে বরিশাল থেকে তাকে আটক করে।

র‌্যাব জানায়, নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় সংঘটিত শাশুড়ি ও সৎ দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডে আলোচিত ১ নম্বর আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬, সদর কোম্পানি ও র‌্যাব-৮ এর যৌথ আভিযানিক টিম বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল নগরীর কোতোয়ালি থানার কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম হাওলাদার খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকার আলমগীর হাওলাদারের ছেলে। সে পেশায় একজন ট্রাকচালক। তাকে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে রাতে পুলিশ নগরীর সোনাডাঙ্গার দারুল আমান মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বেবী বেগম (৫৮) ও তার দুই নাতি শামীম (১৩) ও মুস্তকিমের (৪) মরদেহ উদ্ধার করে। এদের মধ্যে বেবী বেগমের মুখ ও নাকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। বাকি দুজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সে পলাতক ছিল।

 

মহানগরীর কোতয়ালী থানা এলাকায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৮) গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩১২ বোতল নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল সদৃশ ‘উইনসেরেক্স’ ও ‘এসকাফ’ কাফ সিরাপসহ চারজন সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা।
র‍্যাব-৮, বরিশাল সদর কোম্পানীর নায়েব সুবেদার মোঃ বাবুল খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল ২৩ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাগরদী দরগাবাড়ী রোডের ‘শরীফ ভিলা’ নামক বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে ভাড়াটিয়া সিদ্দিকুর রহমান ওরফে জুয়েল এর শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ৩১১ বোতল ‘WINCEREX’ এবং ১ বোতল ‘ESKuf’ কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে জুয়েল (৩৭), কোতয়ালী, বরিশাল। বিশ্বজিৎ কুমার দাস (৪৫), দক্ষিণ সাগরদী, কোতয়ালী, বরিশাল। মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৩৬), কোতয়ালী, বরিশাল। মোঃ লাল্টু মিয়া (৪২), বেণুমরজিয়া বেগম, জীবননগর, ভোলা (বর্তমানে বরিশালে অবস্থানরত)।
অভিযানের সময় মাদক বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নগদ টাকা, বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন ও বাটন ফোন, একটি পেশাদার ‘PRESS’ কার্ড এবং একটি অপেশাদার মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্সও জব্দ করা হয়েছে।
র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারী ও খুচরা মূল্যে এই নিষিদ্ধ মাদক সরবরাহ ও বিক্রয় করে আসছিল।

র‍্যাব-৮-এর পক্ষ থেকে নায়েব সুবেদার মোঃ বাবুল খান কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃতরা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

 

বরিশাল শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জক স্মৃতি কলোনি (কেডিসি) এলকা থেকে ইয়াবা ও গাঁজাসহ তনহাদ আহমেদ নীরব (২৫) নামের একজন পুলিশ কনস্টেবল আটক হয়েছেন। মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডল থানা পুলিশের আওতাধীন এলাকা থেকে তাকে বৃহস্পতিবার স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের একটি টিম আটক করে।

তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনসের রেশন স্টোরে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।

বিস্তারিত আসছে…

 

 

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) এলাকার এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মধ্য বকশীরচর ৬ নং ওয়ার্ডের নুরুল হকের ছেলে
মোঃ সাগর আহম্মেদ নয়ন (২৩),

সারশী (৫ নং ওয়ার্ডের মোঃ জব্বার হাওলাদার ছেলে মোঃ নাঈম হাওলাদার (২৭) তারা উভয়েই বিএমপির এয়ারপোর্ট থানার বাসিন্দা।

গ্রেফতারের সময় আসামিদের হেফাজত থেকে ২৪১ পিস নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ ১,৯৫,৩৮০/- (এক লক্ষ পঁচানব্বই হাজার তিনশত আশি) টাকা উদ্ধার করা হয়।

​এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান  জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

​আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

 

 

পর্ব ১

​আসাদুজ্জামান শেখ //

​শিক্ষিত ও হজ পালনকারী হয়েও অন্ধ বিশ্বাসের আশ্রয় নিয়ে মেয়ের জামাই এবং জামাইয়ের মাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক (জাদুটোনা) করে পঙ্গু ও বোবা বানিয়ে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক ইঞ্জিনিয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর পশ্চিম বগুড়া রোডের মুন্সি গ্যারেজ এলাকার সালমা প্যালেসে।

ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক ও তার স্ত্রী সালমা (জোসনা)। তারা দুজনেই হজ পালন করেছেন (হাজী)। তাদের মেয়ে এশা (ছদ্মনাম) পেশায় একজন চিকিৎসক এবং জামাই একটি সরকারি দপ্তরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

​অনুসন্ধানে জানা যায়,বিয়ের পর থেকেই মায়ের প্ররোচনায় ডাক্তার মেয়ে এশা তার স্বামীর সংসারে অশান্তি করে আসছিলেন। জামাইয়ের বাড়ির লোকজনকে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছিলেন না এশার মা সালমা। জামাইকে সম্পূর্ণ নিজেদের কব্জিতে আনা এবং দাম্পত্য কলহ দূর করার অজুহাতে গত এপ্রিল মাসে এই ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি এক কবিরাজের শরণাপন্ন হন।

​শুরুতে কবিরাজকে তারা বলেন,মেয়ের সাথে জামাইয়ের বনিবনা হচ্ছে না, সংসারে অশান্তি লেগে থাকে। এর একটা ব্যবস্থা করে দিন। কবিরাজ মালামাল জোগাড়ের জন্য অগ্রিম টাকা দাবি করলে দম্পতি তা পরিশোধ করেন এবং কবিরাজও এক মাস ধরে তদবিরের কাজ চালান।

​ঘটনার এক মাস পর মে মাসে ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি কবিরাজের কাছে গিয়ে তাদের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করেন। তারা জামাইয়ের মায়ের মোট চার কপি ছবি কবিরাজের হাতে তুলে দিয়ে বলেন,মেয়ের শাশুড়িকে ব্ল্যাক ম্যাজিক করে চিরতরে পঙ্গু এবং বোবা বানিয়ে দিতে হবে।

​এহেন অমানবিক ও নৃশংস দাবি শুনে বিস্মিত হন কবিরাজ। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন,আমি ঘর-সংসারে মিল মহব্বত ফিরিয়ে আনার কাজ করি, কোনো ব্ল্যাক ম্যাজিক বা জাদুটোনা করে মানুষের ক্ষতি আমার দ্বারা সম্ভব নয়।

​পরবর্তীতে গত ২৪ মে (রবিবার) কবিরাজ অগ্রিম নেওয়া সমস্ত টাকা ইঞ্জিনিয়ার দম্পতিকে ফেরত দেন এবং এ বিষয়ে আর কখনো তার কাছে না আসার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি জামাইয়ের সরকারি পদের প্রভাব খাটিয়ে কবিরাজকে দেখে নেওয়ার হুমকি ও ধমক দিয়ে চলে আসেন।

​​এই বিষয়ে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার ফারুক সাহেবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাংবাদিকের জেরার মুখে একপর্যায়ে ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করেন। তার স্ত্রী সালমা জোসনার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেন।

​একজন উচ্চশিক্ষিত ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হয়ে কীভাবে এই ধরনের কাজ করতে পারলেন,এমন প্রশ্নের জবাবে এই দম্পতি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং গণমাধ্যমে নিউজ না করার জন্য আকুতি জানান। জামাই বা তার পরিবারের লোকজন এই বিষয়ে কিছু জানেন কি না জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক বলেন, দয়া করে আমার জামাই বা তাদের বাড়ির লোকজনকে ফোন দিয়ে এসব বলবেন না। তাহলে আমাদেরই ক্ষতি হবে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক মোটামুটি শান্ত প্রকৃতির মানুষ হলেও তার স্ত্রী সালমা অত্যন্ত চতুর, দাম্ভিক ও উগ্র স্বভাবের। মুন্সি গ্যারেজ এলাকার আশেপাশের বাড়ির মালিকদের সাথে তো বটেই, এমনকি নিজেদের ভবনের ভাড়াটিয়াদের সাথেও তিনি অত্যন্ত রুঢ় আচরণ করেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাড়িওয়ালা জানান,আমরা বাধ্য না হলে ওই পরিবারের সাথে কথাই বলি না। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রীর চালচলন ও কথাবার্তা সম্পূর্ণ উগ্র।

​সুশীল সমাজের ধিক্কার ​একজন প্রকৌশলী ও একজন চিকিৎসকের বাবা-মা হয়ে কীভাবে এমন বিকারগ্রস্ত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার পরিচয় দিতে পারলেন, তা নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই দম্পতির এমন হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন এবং তাদের এই মানসিক বিকারগ্রস্ততা থেকে বেরিয়ে এসে সুবুদ্ধির উদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘটনার পরবর্তী আপডেট এবং জামাই ও কবিরাজের বিস্তারিত বক্তব্য নিয়ে আসছি চোখ রাখুন আগামী পর্বে।

 

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বরিশালে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। বেচাকেনাও চলছে, তবে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর। বিশেষ করে তিন থেকে পাঁচ মণ ওজনের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে দরদাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার সব ধরনের গরুর দামই তুলনামূলক বেশি হাঁকানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, গো-খাদ্যের দামবৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গরুর দামও বেড়েছে।

বরিশ‍াল সদর ‍উপজেলার চরমোনাই, সুগন্ধা  পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি গরুর বেচাকেনা শুরু হলেও বড় গরুর বাজার এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তবে বড় গরুর ক্রেতারা হাটে এসে গরু দেখছেন, দাম যাচাই করছেন।

আমতলী থেকে আসা পাইকারি বেপারী মনির হোসেন জানান, তিনি এবার ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনটি গরু বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, বাজারে এখন মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। দামও মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

খুলনা থেকে আসা বেপারী হোচেন মিয়া বলেন, হাটে ক্রেতা আসতে শুরু করেছেন, অনেকে কিনছেনও। দাম খুব বেশি ভালো না, আবার খারাপও না। খরচের তুলনায় মাঝামাঝি দাম পাওয়া যাচ্ছে। এখন ক্রেতা বাড়ছে, এটিই ইতিবাচক দিক।

অন্যদিকে পিরোজপুর থেকে বড় তিনটি গরু নিয়ে আসা হোসাইন জানান, এখন পর্যন্ত তিনি কোনো গরু বিক্রি করতে পারেননি। তিনি বলেন, ক্রেতারা এখন কম দাম বলছেন। হয়তো বাজার যাচাই করছেন। বড় গরু সাধারণত ঈদের এক-দুই দিন আগে বেশি বিক্রি হয়। ২৬ তারিখের পর বড় গরুর বিক্রি বাড়তে পারে। তবে এবার গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় ভালো দাম না পেলে লোকসান গুণতে হবে।

দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারাও। চরমোনাই হাটে গরু দেখতে আসা মিজানুর রহমান বলেন, বেপারীরা এবার অনেক বেশি দাম বলছেন। সবাই গো-খাদ্যের দাম বাড়ার কথা বলছেন। আমরা দুই পরিবারের জন্য দুটি গরু কিনতে এসেছি। একটি মাঝারি গরু কিনেছি, আরেকটি কিনতে চাই। কিন্তু যেখানে যাচ্ছি, দাম গতবারের তুলনায় অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে।

 

ঈদুল আযহার বাকি আর মাত্র তিন দিন। কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি মাংস কাটতে খাটিয়ার (গাছের গুঁড়ি) গুরুত্ব অপরিহার্য। তাই কোরবানি উপলক্ষে বরিশালে তেঁতুল গাছের খাটিয়ার কদর সবচেয়ে বেশি। পশু জবাইয়ের পর ভাগবাটোয়ারার জন্য মাংসের টুকরা করতে গাছের এসব খাটিয়ার প্রয়োজন হওয়ায় অনেকেই ভীড় করছে নগরীর মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছে।

নগরীর চাঁদমারি, সাগরদীর পোল, নাজিরের পোল, বটতলা মোড়, জেলে বাড়ির পােল, বাংলা বাজার, চৌমাথা এলাকায় খাটিয়া বিক্রি করছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

আকারভেদে একেকটি খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ থেকে ১ হাজার টাকা দরে। আবার ছোট আকারের খাটিয়া ১৫০-২শ’ টাকায় মিলছে। বিক্রিও বেশ ভালো হওয়ায় খুশি বিক্রেতারাও।

খাটিয়ার পাশাপাশি হোগলা, খড়ও বিক্রি হচ্ছে। ছোট থেকে বড় আকারের হোগলা ১৫০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক আটি কুঠা বিক্রি হচ্ছে ১শ’ টাকা দরে।

মৌসুমি খাটিয়া ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর গাছের দাম বেশি। কিন্তু খাটিয়ার দাম আগের মতই আছে। বর্তমানে বেচাবিক্রি ভালো চলছে। তবে কোরবানির একদিন আগে বেচাকেনা আরো বাড়বে বলে জানান তারা।

খাটিয়া কিনতে আসা ক্রেতা রুবেল হোসেন জানিয়েছেন, গতবছরের মত এ বছরও একই দামে হোগলা ও খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে। কোরবানির আনুসঙ্গিক সরঞ্জাম হিসেবে এগুলো কিনতে আসছেন তারা। যেহেতু কোরবানির পশুর মাংস্য কাটতে খাটিয়া প্রয়োজন তাই তারা কিনে নিচ্ছেন।

কোরবানি উপলক্ষে নগরীতে প্রায় শতাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে খাটিয়ার ব্যবসা করেন।

 

বরিশালের সাগরদী এলাকায় ডিম বিক্রির আড়ালে ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৮। রোববার রাতে নগরীর সাগরদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, সিদ্দিকুর রহমান জুয়েল, বিশ্বজিৎ কুমার দাস, জাহিদুল ইসলাম ও লাল্টু মিয়া। সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৮ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ির চৌকির নিচ থেকে ৩১২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইকও জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা আলামতসহ তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।