বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় এক বিধবা নারীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ২ বছরের শিশুকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মোঃ নাছির (৩৫) নামের ১ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  শুক্রবার (১২ জুন) ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নাছির উপজেলার ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বাঁশখাইল্যাঝিরি পাড়ার বাসিন্দা মজু মাঝির ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার (১০ জুন) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বাঁশখাইল্যারিরি পাড়ায় ১ বিধবা নারী বাড়ির পাশের বিলে তরকারি কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ মোঃ নাছির পিছন থেকে এসে তাকে জাপটে ধরেন। এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ধর্ষণে বাধা দিলে অভিযুক্ত নাছির একটি ধারালো ছুরি বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে ওই নারী জীবন বাঁচাতে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

তিনি আরো দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত তার পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ফের ওই নারীর ২ বছরের শিশুসন্তানকে অপহরণেরও চেষ্টা চালায় মোঃ নাছির। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নাছির গা ঢাকা দেয়।

পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টার দিকে মোঃ নাছিরের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১২ জুন) ভোর তিনটার দিকে কুমারী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ জামিল আহমেদ’ র নেতৃত্বে সঙ্গীয় সদস্যরা অভিযান চালিয়ে নাছির’কে গ্রেফতার করেন।

বিধবা নারী’কে ধর্ষণ চেষ্টা ও শিশু অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে নাছির’কে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেন লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল। তিনি বলেন, গ্রেফতার নাছির’কে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

 

সুন্দরবনের জলদস্যুদের অস্ত্র ও খাদ্য সরবরাহকারী চক্রের অন্যতম হোতা সবুর শেখকে (৩৫) ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার গানসহ গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৬।

​র‍্যাব-৬ এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
​অভিযান ও উদ্ধারে

র‍্যাব সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সুন্দরবনের সক্রিয় জলদস্যু ও ডাকাত দলগুলোকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন রসদ সরবরাহ করে আসছিল। এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে।

​অবশেষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সবুর শেখকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি ও তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে রাখা ০৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়।

​র‍্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সবুর শেখ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুন্দরবনের জলদস্যুদের সাথে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছে। সে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে দস্যুদের কাছে অস্ত্র বিক্রি এবং দুর্গম বনের ভেতরে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিত।

​”সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত এবং জেলে-বাওয়ালীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের এই ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল সংকট ও এলসি সংকটের কারণে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক নোটিশে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, উৎপাদন বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। একইসাথে সব শ্রমিক তাদের প্রাপ্য পাওনা যথাযথ সময় পেয়ে যাবেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শ্রমিকদের নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে যাওয়া বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশালের সমন্বয়ক ড. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, মূলত প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্মচারীদের আন্দোলনের এই নেতা আরো বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিনশ’ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তাই আমাদের দাবি, মালিকানা পরিবর্তন হলে পরবর্তী মালিককে ওইসব শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। একইসাথে শ্রমিকদের পাওনা কতোদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়েও নিশ্চয়তা দিতে হবে।

 

বরিশাল নগরীর কেডিসি কলোনির একসময়ের চিহ্নিত মাদক কারবারি ছিলেন আব্দুল মালেক ওরফে গাঁজা মালেক। ইতোপূর্বে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে নগরীসহ গোটা বরিশাল অঞ্চলে মাদকের হোলসেলার ছিলেন।

পরবর্তীতে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন মাদক সম্রাট গাঁজা মালেক। তার মৃত্যুর পর স্বামীর মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করেন স্ত্রী নিলুফা বেগম নিলু। পরবর্তীতে তিনি সাইদুল ইসলামকে বিয়ে করেন। এরপর দুজনে মিলেই নগরীসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে গাঁজার হোলসেল করতেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।
এদিকে অভিযান চালিয়ে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা। উদ্ধার হওয়া গাঁজার মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে নগরীর কেডিসি বালুর মাঠ এলাকায় শিল্পকলা একাডেমির পেছনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। তবে অভিযান টের পেয়ে আগেভাগেই আত্মগোপনে চলে যায় মাদকের ডিলার সাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নিলুফা বেগম নিলু।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) আব্দুল মান্নান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মো. ছগির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে দোতলা টিনশেড ঘরে তল্লাশি করে পাটের বাস্তা এবং ব্যাগের মধ্য থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। যার মূল্য ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নিলুফা বেগম নিলুসহ তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

তাছাড়া মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাইদুল ও তার স্ত্রী নিলুফাকে নামধারী এবং অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নিলুফা এবং সাইদুল দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে নিলুফার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৯টি এবং সাইদুলের বিরুদ্ধে একই থানায় ১২টি মাদক মামলার তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। অন্য থানায় আরও মামলা আছে কিনা সেগুলো খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

খেলনা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত এনায়েত খান (৫০) স্থানীয়দের ম্যানেজ করে বিষয়টি রফাদফার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ব্যর্থ হয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন। ঘটনাটি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের কাজীরহাট থানার।

খবর পেয়ে কাজীরহাট থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠিয়েছেন। এর আগে বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কাজীরহাট এলাকায় এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে।

এ ঘটনায় শিশুর দাদা বাদি হয়ে কাজীরহাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ওই এলাকার আক্কেল আলী খানের ছেলে এনায়েত খানকে (৫০) আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও মামলার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে শিশুটির মা কাজে বের হন। পরবর্তীতে এনায়েত খান শিশুটিকে খেলনা দেওয়ার কথা বলে বাহিরে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে চলে যায় এনায়েত।

পরে শিশুটির মা বাড়ি ফিরে মেয়ের কান্না শুনে তাকে খুঁজে পেয়ে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এ সময় বিষয়টি জানাজানি হয়। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পল্লী চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুলিশে খবর দিতে এবং বরিশালে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে শিশুর অভিভাবকরা লোকলজ্জার ভয়ে শুরুতে থানায় অভিযোগ করতে রাজি হননি। এদিকে বুধবার রাতে এনায়েত খান স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বিষয়টি টাকা-পয়সা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজীরহাট থানা পুলিশ শিশুটিকে অভিভাবকসহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

কাজীরহাট থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 


বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ এক সফল অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবাসহ এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।

​থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০:১৫ ঘটিকায় এয়ারপোর্ট থানাধীন ডেফুলিয়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) আখতার হোসেন, এএসআই (সহকারী উপ-পরিদর্শক) হালিম, এএসআই সুমন মিয়া-১ এবং এএসআই সুজন সহ পুলিশের একটি চৌকস টিম ডেফুলিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে কুদঘাটা ২৭নং ওয়ার্ডের ডেফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শওকত হোসেন হাওলাদার (৪৮)-কে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।

​গ্রেফতারকৃত আসামির ​নাম: মোঃ শওকত হোসেন হাওলাদার (৪৮)​পিতা: মৃত আঃ আজিজ হাওলাদার​ মাতা: মোসাঃ শামসুন নাহার ​ঠিকানা: সাং-ডেফুলিয়া, কুদঘাটা ২৭নং ওয়ার্ড, বিসিসি,থানা-এয়ারপোর্ট, জেলা-বরিশাল।

গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

​বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ পৃথক দুটি সফল অভিযান চালিয়ে ৭৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। গত ৯ ও ১০ জুন গভীর রাতে থানার কাশিপুর ও ডেফুলিয়া এলাকায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানার এসআই (নিঃ) মোঃ আল মোমেন, এএসআই (নিঃ) মোঃ দেলোয়ার হোসেন, এএসআই (নিঃ) মোঃ সুমন মিয়া এবং কং/১৩৪৪ মোঃ রনি’র সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।

​গত ৯ জুন (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় এয়ারপোর্ট থানাধীন ২৮নং ওয়ার্ডের কাশিপুর তেতুলতলা হাউজিং এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালানো হয়। সেখানে মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের বসতবাড়ির সামনের রাস্তা থেকে মাদক বিক্রির সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় মোঃ ওমর ফারুক (৩০) নামের এক যুবককে। ধৃত ওমর ফারুক বরিশাল কোতয়ালী থানার জাগুয়া ইউনিয়নের আস্থাকাঠী এলাকার মৃত জয়নাল খানের ছেলে। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ২৫ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

ডেফুলিয়ায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক কালু ​এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর, ১০ জুন (বুধবার) রাত ৩:৩০ ঘটিকায় এয়ারপোর্ট থানার একই টিম ২৭নং ওয়ার্ডের ডেফুলিয়া এলাকার দরগা বাড়িতে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়ার বর্তমান বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়াকে (৪১) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত কালু মিয়া নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার কুমরাদি এলাকার মৃত হিরন মিয়ার ছেলে। সে বর্তমানে বরিশালের ডেফুলিয়া এলাকার দরগা বাড়িতে বসবাস করে আসছিল।

​এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত উভয় আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১০(ক) ধারায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বিএমপির এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

 

 

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি চাকরি আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) চিফ অ্যাসেসর মো. নুরুল ইসলামকে প্রশাসক দপ্তরে বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন ২০২৬) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, মো. নুরুল ইসলামের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

আদেশে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগ ও প্রকাশিত সংবাদের কারণে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাকে প্রশাসক মহোদয়ের দপ্তরে বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান-উজ্জামান এবং আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শাহ আমিনুল ইসলামকে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, তথ্য-উপাত্ত ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি শহরের শীতলাখোলা এলাকা থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কালিবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত সুমন চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত সুমন চক্রবর্তী ঝালকাঠি কালিবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ঝালকাঠি আদি সাবিহা কেমিক্যাল ওয়ার্কসের ম্যানেজার মিঠুন চক্রবর্তীর শ্যালক।

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শীতলাখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন চক্রবর্তীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে গ্রেফতার হওয়া সুমন চক্রবর্তীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল সদর উপজেলার ৩ নম্বর চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কাকাসুরা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সেকান বয়াতির ছেলে রিয়াজ বয়াতি, যিনি এলাকায় “গাঁজা রিয়াজ” নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।

সম্প্রতি প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তার আরেক সহযোগীকে নিয়ে গ্রামের একটি মাঠের পাশে বসে গাঁজা সেবন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিডিওটি সামাজিকভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন কর্মকাণ্ড নতুন নয়; দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও কেনাবেচার ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাঁজার তীব্র গন্ধে আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, মাদক সেবনের কারণে এলাকার পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে এবং তরুণ সমাজ বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

এলাকার এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একাধিকবার এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সতর্ক করার পরও তিনি তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা বলছেন, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে তরুণদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং কাকাসুরা গ্রামকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।