পর্ব ১

​বরিশাল প্রতিনিধি:

বরিশাল নগরের ধোপা বাড়ির মোড় এলাকায় মোসাঃ শাম্মী আক্তার (৪৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সহায়তায় তিনি একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এই প্রতারণার কারণে ৫ থেকে ১০টি পরিবার চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

​ব্যবসার নামে ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ​অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল কোতোয়ালী থানার নবগ্রাম রোডের মানু মিয়ার লেনের বাসিন্দা মোসাঃ লিজা (৪০) (স্বামী: মোঃ সিদ্দিক খিজির মিয়া) এর সাথে শাম্মী আক্তারের একসময় পারিবারিক সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সুবাদে ব্যবসার কথা বলে শাম্মী আক্তার লিজার কাছ থেকে দুই দফায় মোট ৪৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নেন এবং এর বিপরীতে দুটি ব্যাংকের চেক প্রদান করেন।

​১. প্রথম দফায় সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্স ব্যাংকের (হিসাব নং: ০১১২০০০০০৫৩৫৫৬, চেক নং: SBA-0431507) মাধ্যমে ৪০ লক্ষ টাকা নেন।
২. দ্বিতীয় দফায় পূবালী ব্যাংক বরিশাল শাখার (হিসাব নং: ০৩৭৪১০১২৬৩১৭২, চেক নং: BF-29554) মাধ্যমে আরও ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নেন।

​ভুক্তভোগী লিজা জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে চেক দুটি ব্যাংকে নগদায়ন করতে গেলে জানা যায় শাম্মী আক্তারের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। এরপর লিজা ও তার স্বামী সিদ্দিক টাকা ফেরত চাইলে শাম্মী আক্তার বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন।
​চেক উদ্ধারের নামে পাল্টা ‘ভুয়া’ মামলা ও আইনি লড়াই
​টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শাম্মী আক্তার উল্টো লিজা ও তার স্বামী সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চেক চুরির অভিযোগ এনে একটি ভুয়া মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে আদালতে এই সংক্রান্ত একাধিক মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে এমপি মামলা নং- ২৯/২০২৬ এবং এমপি মামলা নং- ২২/২০২৬ অন্যতম। পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার লিজা নিজে বাদী হয়ে টাকা উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেন। ​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে এবং তার পিসিআর (স্থায়ী অপরাধ রেকর্ড) যাচাই করলে সত্যতা পাওয়া যায়।

​বাড়িওয়ালার নারাজি ও শাম্মী আক্তারের চাতুরি
​ভুক্তভোগী লিজা অভিযোগ করে বলেন,
​”পারিবারিক সম্পর্কের খাতিরে আমরা তাকে বিশ্বাস করে এই বিশাল অঙ্কের টাকা দিয়েছিলাম। বিনিময়ে তিনি আমাদের চেক দিয়েছেন। আর এখন বলছেন তার বাসা থেকে নাকি চেক হারিয়ে গেছে! তিনি আমাদের নামে মিথ্যা মামলা পর্যন্ত করেছেন। তিনি অত্যন্ত চতুর ও প্রতারক প্রকৃতির নারী।”

​আরও জানা গেছে, শাম্মী আক্তার যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন, সেই বাড়ির মালিক (এক ভদ্রমহিলা) কে ভুল বুঝিয়ে নিজের পক্ষে মামলার সাক্ষী করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে ঘটনার আসল সত্যতা জানতে পেরে ওই বাড়িওয়ালা নিজেকে শাম্মী আক্তারের দায়ের করা মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং আদালতে নারাজি দেন।
​নেপথ্য পরিচয় ও বর্তমান পরিস্থিতি ​অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোসাঃ শাম্মী আক্তার, বরিশাল গোরস্থান রোডের ধোপা বাড়ির মোড় এলাকার শামসুল হক হাওলাদার ও মোসাঃ লুৎফুন্নেসা ভূঁইয়ার কন্যা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাম্মী আক্তারের প্রথম স্বামী পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে অর্থলিপ্সার কারণে তাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য একজনকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্বামীর সাথেও বেশ কয়েক বছর মামলা-মোকদ্দমা চলার পর বর্তমানে আবারও তার সাথেই সংসার করছেন।

​এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত শাম্মী আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার আমার কাছে কোন টাকা পাবে না সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। তাহলে চেক গুলো তাদের দিয়েছে কে এমন প্রশ্নের জবাবে ডাক্তার দেখাচ্ছি বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনটা কেটে দেন। এমনকি ধোপা বাড়ির মোড় এলাকায় তার বর্তমান ভাড়া বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো

 

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের (সংরক্ষিত নারী আসন-২) সর্বস্তরের জনগণকে পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু। ঈদ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি ওয়ার্ডবাসীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও মানবিক ওয়ার্ড গঠনে জনগণের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

শুভেচ্ছা বার্তায় জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার এক অনন্য শিক্ষা বহন করে। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান ত্যাগের আদর্শ আমাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মত্যাগ ও মানবকল্যাণে কাজ করার শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র উৎসবের মাধ্যমে সমাজের ধনী-গরিব সকল মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগের মহিমা উপলব্ধি করা এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সমাজের সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে যদি আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াই, তাহলেই ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পাবে। আমি চাই ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে একটি মানবিক, উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠুক।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাই আগামী দিনে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে তিনি ওয়ার্ডবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন। বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তা, যুবসমাজের উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান।

জিতু বলেন, “আমি নেতৃত্বকে কখনও ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় হিসেবে দেখি না। জনগণের সেবা করাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তাই আপনাদের দোয়া ও সমর্থন পেলে ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, স্মার্ট ও রোল মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সুপেয় পানির সুবিধা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

ঈদের শুভেচ্ছা বার্তায় জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় শক্তি এই এলাকার সাধারণ মানুষ। আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার অঙ্গীকার। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই একটি সুন্দর, উন্নত ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভেদ, হিংসা ও প্রতিহিংসা পরিহার করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে। ঈদুল আযহার শিক্ষা ধারণ করে সবাইকে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করেন, পবিত্র ঈদুল আযহার বরকতে যেন সকলের জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। দেশ ও জাতির উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ এবং একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান কাউন্সিলর প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু।


আসাদুজ্জামান শেখঃ

​বরিশালের চরমোনাই মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক ভবনের ছয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে রিমি আক্তার (১৫) নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। গত শুক্রবার (২২ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসার ভেতরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে।

​এদিকে ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও, এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা থাকতে পারে বলে দাবি করছে শিক্ষার্থীর পরিবার।

​নিবিড় পর্যবেক্ষণে রিমি, যেকোনো সময় লাইফ সাপোর্ট
​হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহত রিমি আক্তারের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও মুমূর্ষু। উপর থেকে পড়ার কারণে তার ডান হাত ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় যেকোনো মুহূর্তে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
​আহত রিমি আক্তার বরিশালের চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাটি গ্রামের দিনমজুর মাসুদ হাওলাদারের মেয়ে। সে ওই মাদ্রাসার আবাসিক হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত।

​পরিবার ও মায়ের দাবি নেপথ্যে ‘ক্যাপ্টেন’ পদের দ্বন্দ্ব
​রিমির মা রেশমা বেগম এই ঘটনাটিকে রহস্যজনক দাবি করে বলেন,
​আমার মেয়েটা খুবই ভালো ও শান্ত স্বভাবের। গত কয়েকদিন ধরে মাদ্রাসার ‘ক্যাপ্টেন’ পদ নিয়ে অন্য ছাত্রীদের সাথে ওর তুমুল দ্বন্দ্ব চলছিল। আফিয়া নামের এক ছাত্রী এবং মাদ্রাসার শিক্ষিকারা সব কিছু জানেন। আমাদের জানানো হয়েছিল রিমি লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কেন সে আত্মহত্যা করবে? আজ (শনিবার) তো তার স্বাভাবিকভাবে বাড়ি আসার কথা ছিল।
​তিনি আরও যোগ করেন,আমাদের জানামতে ওর কোনো প্রেমের সম্পর্ক বা অন্য কোনো জটিলতা ছিল না। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এটাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে দায় এড়াতে চাইছে। আমাদের সন্দেহ—এটা আত্মহত্যা নয়, এর পেছনে অন্য কিছু আছে। আমরা গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মাধ্যমে সঠিক তদন্ত ও এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

​মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা
​ঘটনার পর থেকেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। মুমূর্ষু অবস্থায় এক নারী শিক্ষার্থী হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়লেও তার পাশে মাদ্রাসার কোনো নারী শিক্ষক বা দায়িত্বশীল গভর্নিং বডির কাউকে দেখা যায়নি।

​হাসপাতালে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট একজন পুরুষ শিক্ষককে তদারকি করতে দেখা গেলেও, গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। অনেক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কর্তৃপক্ষের এমন রহস্যজনক নীরবতা এবং দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা পুরো ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
​পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
​এই বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদ্রাসা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়নি।

​ওসি বলেন বিষয়টি আমাদের নলেজে ছিল না। তবে লোকমুখে ও বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর আমরা এর সত্যতা ও পেছনের মূল কারণ খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধ লুকিয়ে আছে—তা উদঘাটনে পুলিশি তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে রিমির পরিবার ও এলাকাবাসী।

 

বরিশালের উজিরপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগিদের হামলার শিকার হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। অভিযানের সময় ডিবি পুলিশের এক কনস্টেবলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২২ মে) দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল জেলা ডিবির সাত সদস্যর একটি আভিযানিক দল উজিরপুর পৌরসভার খেয়াঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

এসআই আরসেলের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মাদক উদ্ধারের সময় উজিরপুর পৌর শ্রমিকদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ মোল্লার নেতৃত্বে তার সহযোগি শামীম মোল্লা ও মুনসুর মোল্লা, আলাউদ্দিন পুলিশের কাজে বাঁধা প্রদান করে।

পুলিশের দাবি, অভিযানের একপর্যায়ে ডিবি সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

এ সময় শ্রমিক দল নেতা আরিফ মোল্লা তার কাছে থাকা মাদকের একটি পোটলা পাশের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেয়। পরে ডিবির কনস্টেবল মৃনাল চন্দ্র পুকুর থেকে ওই মাদকদ্রব্য উদ্ধারের চেষ্টাকালে আরিফ তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হয়।

খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত কনস্টেবল মৃনালকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ওসি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় মাদক উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আরিফ মোল্লার নেতৃত্বে উজিরপুরে দীর্ঘদিন থেকে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযোগ পেয়ে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তবে অভিযোগের ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি থানা হাজতে আটককৃত আরিফ মোল্লা।

 

বরিশাল নগরীর চরমোনাই ট্রলারঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক কেজি গাঁজাসহ বেবি আক্তার (২৩) নামে এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চরমোনাই ট্রলারঘাট এলাকার আবুল মিয়ার অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক বেবি আক্তার বেবি আক্তার চরমোনাই ট্রলারঘাট এলাকার আজাহার মৃধার মেয়ে বলে জানা গেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে বেবি আক্তারকে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

 

বরিশাল নগরীর প্যারারা রোড এলাকায় তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ কীট ব্যবহার, টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং যথাযথ সনদ না থাকার অভিযোগে মোট ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিচালিত এ যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী। অভিযানটি পরিচালিত হয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) বরিশাল জেলা কার্যালয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে।

অভিযানে জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, দি হিউম্যান কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস-কে ৭ হাজার টাকা, মেট্রো ডায়াগনস্টিক সেন্টার-কে ২০ হাজার টাকা এবং সাউথ এভার কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এনএসআই সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সদস্যরা গোপন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে, প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ কীট ব্যবহার, টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং প্রয়োজনীয় সনদ ছাড়াই নিম্নমানের সেবা দিয়ে আসছিল। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হলে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে জেলা এনএসআই বরিশাল কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সদস্য এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স অংশ নেয়।

এদিকে গোয়েন্দা সদস্যরা জানিয়েছেন, অসাধু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাদের গোপন নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

 

 

বরিশালের হিজলা থানায় করা ধর্ষণ মামলার আসামি সৌরভ খানকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার লালবাগ থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সৌরভ খান (২০) হিজলা উপজেলার পশ্চিম গঙ্গাপুর গ্রামের মো. হানিফ খানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে ৪ মে হিজলা থানায় মামলা করা হয়েছিল।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২৫ এপ্রিল হিজলার এক তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় রওনা দেন সৌরভ। পথে বরিশাল-ঢাকা নৌপথের একটি লঞ্চে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরদিন সকালে ঢাকার সদরঘাট এলাকায় তরুণীকে রেখে পালিয়ে যান সৌরভ। পরে ওই তরুণী বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে তাঁর মা বাদী হয়ে হিজলা থানায় মামলা করেন।হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান বলেন, ধর্ষণ মামলার আসামি সৌরভ খানকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. কামরুল ইসলাম নামে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

 

সোমবার (১৮ মে) বেলা ১২টার দিকে নগরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের রুপাতলীস্থ জমজম নার্সিং ইন্সটিটিউটের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত মো. কামরুল ইসলাম একজন অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার রুপাতলি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাস্তা পারাপারের সময় একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় পথচারীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

 

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মাপুন উল ইসলাম জানান, মৃতের মরদেহ শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাশ রাখা কক্ষে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রীয় নীতি অনুযায়ী তার দাফন কার্য সম্পাদন করা হবে, সেইসাথে স্বজনরা ময়নাতদন্ত করতে না চাইলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অটোরিকশা ও চালককে শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

স্টাফ রিপোর্টার
বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত প্রসেস সার্ভেয়ার (জারি কারক) দিপক চন্দ্র দাসকে ঘিরে নানা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে নিজ বাড়ির পাশের অফিসে কর্মরত থাকার সুযোগে তিনি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে শক্তিশালী বলয় তৈরি করে অঘোষিত নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অস্বাভাবিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তিনি পুরো উপজেলা প্রশাসনকে কার্যত জিম্মি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।” “তার প্রভাব নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও দৃশ্যমান নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।” সূত্র জানায়, বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানের দায়িত্বকালীন সময়ে ২০১৭ সালের শেষ দিকে ডিসি অফিসের সাবেক বিতর্কিত নাজির হাবিবের তদবিরে নাইট গার্ড পদে চাকরি পান দিপক চন্দ্র দাস। চাকরিতে যোগদানের আগে তিনি বরিশাল ডিসি অফিসে ওমেদার হিসেবে কাজ করতেন। এমনকি কিছুদিন ডিসি বাংলোতেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত আছেন তিনি। তার বাড়ি উপজেলা পরিষদ ও ইউএনও বাংলোর দুই মিনিটের পথ হওয়ায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের অভিযোগ, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হলেও তিনি কার্যত ইউএনও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতীত ও বর্তমান একাধিক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নীরব সহযোগিতা ও প্রশ্রয়ে দিপক চন্দ্র দাস বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইউএনওদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি বিভিন্ন কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ইউএনওদের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং অভিযোগকারীরাই বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দিপক একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হলেও তিনি নিজেকে অনেকটা কর্মকর্তার মতো আচরণ করেন। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, প্রকল্পের কাজ, আর্থিক কাগজপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন সিদ্ধান্তমূলক কার্যক্রমেও তার অস্বাভাবিক প্রভাব রয়েছে।” হিসাব সহকারী ও অফিস সহকারীদের দায়িত্ব থাকা বিভিন্ন ফাইলও দিপক নিজেই পরিচালনা করেন। এমনকি প্রকল্প সংক্রান্ত নথি টাইপিং, বিল প্রস্তুত ও চেক লেখার কাজও তাকে করতে দেখা যায়। সরেজমিনে গতকাল ১৬ মে শনিবার সরকারি ছুটির দিনে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিস সহকারী (নাজির) সৈয়দ বসির আহমেদের কম্পিউটারে বসে বিভিন্ন প্রকল্পের কাগজপত্র টাইপ করছেন দিপক চন্দ্র দাস। এ সময় তাকে ইউএনও’র স্বাক্ষরযুক্ত ঠিকাদারদের বিল সংক্রান্ত চেক প্রস্তুত করতেও দেখা যায়। এ সংক্রান্ত ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ৪র্থ শ্রেণীর এ কর্মচারী প্রায় প্রতিদিনই অফিসের কর্মকর্তাদের চেয়ার দখল করে নিজেই কর্মকর্তা বনে গিয়ে ইউএনও অফিসের বেশিরভাগ ফাইল করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর এমন অস্বাভাবিক ক্ষমতা ও দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল থাকা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দিপক চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসমূহ খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জানাগেছে, একই স্থানে প্রায় ৮ বছর ধরে কর্মরত থাকায় তিনি প্রশাসনের ভেতরে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরের বরাদ্দ,
প্রকল্প, বিল-ভাউচার ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) ছবি রানী প্রায় আড়াই বছর আগে আমতলী থেকে বদলি হয়ে বাবুগঞ্জ ইউএনও অফিসে আসলেও তার বেশির ভাগ ফাইল দিপক করেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছবি রানীকে শুধু চেয়ার টেবিল দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি বরিশাল সদর উপজেলা থেকে বদলি হয়ে হিসাব সহকারী মোঃ ফারহান বাবুগঞ্জ ইউএনও অফিসে যোগদান করলে তাকেও কোন দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তার বেশিরভাগ ফাইল অঘোষিতভাবে করে যাচ্ছেন জারি কারক দিপক চন্দ্র দাস। গত ৯ মাস পূর্বে বাকেরগঞ্জ উপজেলা থেকে বদলি হয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যোগদান করা অফিস সহকারী এনামুল হককেও শুধু চেয়ার টেবিল দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। যদিও অফিস সহকারী এনামুল হক কয়েক দিন পূর্বে বরিশাল ডিসি অফিসে বদলি হয়ে আসেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দিপকের বাড়ি উপজেলা পরিষদের পাশে হওয়ায় সার্বক্ষনিক ইউএনও’র চোখের সামনেই থাকেন তিনি। ‘‘যে কারনে বাবুগঞ্জে আসা সকল ইউএনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।” একাধিক সূত্রের দাবি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, উপজেলা বন কর্মকর্তা, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকাণ্ডেও প্রভাব বিস্তার করে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোনো কর্মকর্তা তার কথামতো না চললে তাদের বিরুদ্ধে ইউএনও’র কাছে নেতিবাচক তথ্য দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে এ পিওনের বিরুদ্ধে। এছাড়া স্থানীয় কতিপয় সাংবাদিককে ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের চাপে রাখার অভিযোগও উঠেছে। তবে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তার দ্বারা হয়রানীর শিকার একাধিক কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি বার্তা বিভাগের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বরাদ্দ ও বিল-ভাউচারের অর্থ আত্মসাতে অফিস সহকারী (নাজির) সৈয়দ বসির আহমেদের সঙ্গে দিপকের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে সূত্রের দাবী। আপ্যায়ন খাত, টিএ বিল, প্রসেস বিল, কম্পিউটার মেরামত, অফিস সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাতের সরকারি বরাদ্দের অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তোলন ও ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা সভা, সমন্বয় সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতের বরাদ্দ থেকেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে দিপক-বসিরের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দিপক দাস পূর্বের ন্যায় বর্তমান ইউএনও স্যারের কাছের লোক। তার মাধ্যমে সকল আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। ৫ আগস্টের পর দিপক উপজেলার সকল অফিসারের দপ্তর থেকে বরাদ্দ নিয়ে লুটপাট করেছেন। বেশিরভাগ বরাদ্দ নিয়েছেন পিআইও অফিস ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে। বরাদ্দ ভাগিয়ে তার ঘনিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের প্রকল্পের সিপিসি বানিয়ে প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে দিপকের বিরুদ্ধে। একই সাথে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের সাথে আতাত করে প্রকল্প ভাগিয়ে নিয়ে কাজ না করেই বিল তুলে ভাগভাটোয়ার করেছেন বলে একাধিক সূত্র দাবী করেছেন। তার মূল দায়িত্ব চিঠিপত্র বিলি করা হলেও সে মেতেছে লুটপাটের মহাৎসবে। প্রতিটি চিঠি জারির জন্য সরকার থেকে ৪৫০ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়। প্রতিবছর বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার অধিক বরাদ্দ আসে। অভিযোগ উঠেছে অর্থ বরাদ্দের সমপরিমান চিঠি উপজেলায় জারি না হলেও অফিস সহকারী সৈয়দ বসির আহমেদ ভুয়া বিলের মাধ্যমে উক্ত টাকার তুলে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ারা করে আত্নসাত করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে যত বরাদ্দ আসে, তা দিয়ে প্রতি অর্থ বছরে অফিসের কাজ না করে উক্ত টাকা দিপক ও নাজির আত্নসাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাজির বসিরও এই উপজেলায় সাড়ে ৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর এমন অস্বাভাবিক ক্ষমতা, ৮ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল থাকা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বিরুদ্ধে এত বিস্তর অভিযোগ ওঠার পরও দীর্ঘদিন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই অভিযোগসমূহ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।” এসব অভিযোগের বিষয়ে দিপক চন্দ্র দাস এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এমন কোন ক্ষমতা নেই। কেউ আপনাকে ভুল তথ্য দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনার সরকারী নাম্বারে একাধিকবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক : আবু নাসের মোঃ রহমাতুল্লাহ বরিশাল মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন—এই আলোচনাটি বরিশাল অঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে বেশ জোরালো এবং এর যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বরিশালের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
আবু নাসের মোঃ রহমাতুল্লাহ বরিশাল মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন—এই আলোচনাটি বরিশাল অঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে বেশ জোরালো এবং এর যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বরিশালের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে আসার ক্ষেত্রে তাঁর সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
কমিটি পুনর্গঠন ও আলোচনার শীর্ষে: বরিশাল মহানগর বিএনপির পূর্ববর্তী মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত করার পর থেকেই নতুন নেতৃত্বের খোঁজ চলছে। দলের তৃণমূল কর্মী থেকে শুরু করে হাইকমান্ডের আলোচনায় আবু নাসের মোঃ রহমাতুল্লাহর নাম শীর্ষস্থানীয় নেতাদের তালিকায় রয়েছে।
তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশ ও আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশে থাকায় সাধারণ কর্মীদের মাঝে তাঁর প্রতি বেশ ভালো সমর্থন সৃষ্টি হয়েছে। কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে দলের একটি বড় অংশ তাঁকে মহানগরের শীর্ষ নেতৃত্বে দেখতে চায়।
সাংগঠনিক সক্রিয়তা ও কেন্দ্রীয় আস্থা: দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় বরিশালে নিয়মিত সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে তিনি নিজের অবস্থানকে শক্ত করেছেন। দলের ভেতর বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজের সফল দায়িত্ব পালনের কারণে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের কাছেও তিনি বেশ আস্থাশীল।
সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক তৎপরতা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল-৫ (সদর) আসনের একজন শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী। একই সাথে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) ঘিরেও তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতা ও লবিং বেশ দৃশ্যমান।

দলটির হাইকমান্ড যেকোনো মুহূর্তে বরিশাল মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিগত দিনের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার মূল্যায়নে আবু নাসের মোঃ রহমাতুল্লাহর বরিশাল মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কোনো শীর্ষ পদে (যেমন সভাপতি/আহ্বায়ক বা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী পদ) আসার সম্ভাবনা প্রবল।