বরিশাল নগরীর কেডিসি কলোনির একসময়ের চিহ্নিত মাদক কারবারি ছিলেন আব্দুল মালেক ওরফে গাঁজা মালেক। ইতোপূর্বে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে নগরীসহ গোটা বরিশাল অঞ্চলে মাদকের হোলসেলার ছিলেন।

পরবর্তীতে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন মাদক সম্রাট গাঁজা মালেক। তার মৃত্যুর পর স্বামীর মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করেন স্ত্রী নিলুফা বেগম নিলু। পরবর্তীতে তিনি সাইদুল ইসলামকে বিয়ে করেন। এরপর দুজনে মিলেই নগরীসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে গাঁজার হোলসেল করতেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।
এদিকে অভিযান চালিয়ে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা। উদ্ধার হওয়া গাঁজার মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে নগরীর কেডিসি বালুর মাঠ এলাকায় শিল্পকলা একাডেমির পেছনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। তবে অভিযান টের পেয়ে আগেভাগেই আত্মগোপনে চলে যায় মাদকের ডিলার সাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নিলুফা বেগম নিলু।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) আব্দুল মান্নান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মো. ছগির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে দোতলা টিনশেড ঘরে তল্লাশি করে পাটের বাস্তা এবং ব্যাগের মধ্য থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। যার মূল্য ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নিলুফা বেগম নিলুসহ তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

তাছাড়া মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাইদুল ও তার স্ত্রী নিলুফাকে নামধারী এবং অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নিলুফা এবং সাইদুল দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে নিলুফার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৯টি এবং সাইদুলের বিরুদ্ধে একই থানায় ১২টি মাদক মামলার তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। অন্য থানায় আরও মামলা আছে কিনা সেগুলো খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

খেলনা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত এনায়েত খান (৫০) স্থানীয়দের ম্যানেজ করে বিষয়টি রফাদফার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ব্যর্থ হয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন। ঘটনাটি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের কাজীরহাট থানার।

খবর পেয়ে কাজীরহাট থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠিয়েছেন। এর আগে বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কাজীরহাট এলাকায় এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে।

এ ঘটনায় শিশুর দাদা বাদি হয়ে কাজীরহাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ওই এলাকার আক্কেল আলী খানের ছেলে এনায়েত খানকে (৫০) আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও মামলার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে শিশুটির মা কাজে বের হন। পরবর্তীতে এনায়েত খান শিশুটিকে খেলনা দেওয়ার কথা বলে বাহিরে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে চলে যায় এনায়েত।

পরে শিশুটির মা বাড়ি ফিরে মেয়ের কান্না শুনে তাকে খুঁজে পেয়ে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এ সময় বিষয়টি জানাজানি হয়। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পল্লী চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুলিশে খবর দিতে এবং বরিশালে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে শিশুর অভিভাবকরা লোকলজ্জার ভয়ে শুরুতে থানায় অভিযোগ করতে রাজি হননি। এদিকে বুধবার রাতে এনায়েত খান স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বিষয়টি টাকা-পয়সা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজীরহাট থানা পুলিশ শিশুটিকে অভিভাবকসহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

কাজীরহাট থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 


বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ এক সফল অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবাসহ এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।

​থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০:১৫ ঘটিকায় এয়ারপোর্ট থানাধীন ডেফুলিয়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) আখতার হোসেন, এএসআই (সহকারী উপ-পরিদর্শক) হালিম, এএসআই সুমন মিয়া-১ এবং এএসআই সুজন সহ পুলিশের একটি চৌকস টিম ডেফুলিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে কুদঘাটা ২৭নং ওয়ার্ডের ডেফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শওকত হোসেন হাওলাদার (৪৮)-কে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।

​গ্রেফতারকৃত আসামির ​নাম: মোঃ শওকত হোসেন হাওলাদার (৪৮)​পিতা: মৃত আঃ আজিজ হাওলাদার​ মাতা: মোসাঃ শামসুন নাহার ​ঠিকানা: সাং-ডেফুলিয়া, কুদঘাটা ২৭নং ওয়ার্ড, বিসিসি,থানা-এয়ারপোর্ট, জেলা-বরিশাল।

গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

​বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ পৃথক দুটি সফল অভিযান চালিয়ে ৭৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। গত ৯ ও ১০ জুন গভীর রাতে থানার কাশিপুর ও ডেফুলিয়া এলাকায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানার এসআই (নিঃ) মোঃ আল মোমেন, এএসআই (নিঃ) মোঃ দেলোয়ার হোসেন, এএসআই (নিঃ) মোঃ সুমন মিয়া এবং কং/১৩৪৪ মোঃ রনি’র সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।

​গত ৯ জুন (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় এয়ারপোর্ট থানাধীন ২৮নং ওয়ার্ডের কাশিপুর তেতুলতলা হাউজিং এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালানো হয়। সেখানে মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের বসতবাড়ির সামনের রাস্তা থেকে মাদক বিক্রির সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় মোঃ ওমর ফারুক (৩০) নামের এক যুবককে। ধৃত ওমর ফারুক বরিশাল কোতয়ালী থানার জাগুয়া ইউনিয়নের আস্থাকাঠী এলাকার মৃত জয়নাল খানের ছেলে। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ২৫ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

ডেফুলিয়ায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক কালু ​এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর, ১০ জুন (বুধবার) রাত ৩:৩০ ঘটিকায় এয়ারপোর্ট থানার একই টিম ২৭নং ওয়ার্ডের ডেফুলিয়া এলাকার দরগা বাড়িতে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়ার বর্তমান বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়াকে (৪১) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত কালু মিয়া নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার কুমরাদি এলাকার মৃত হিরন মিয়ার ছেলে। সে বর্তমানে বরিশালের ডেফুলিয়া এলাকার দরগা বাড়িতে বসবাস করে আসছিল।

​এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত উভয় আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১০(ক) ধারায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বিএমপির এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

 

 

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি চাকরি আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) চিফ অ্যাসেসর মো. নুরুল ইসলামকে প্রশাসক দপ্তরে বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন ২০২৬) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, মো. নুরুল ইসলামের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

আদেশে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগ ও প্রকাশিত সংবাদের কারণে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাকে প্রশাসক মহোদয়ের দপ্তরে বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান-উজ্জামান এবং আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শাহ আমিনুল ইসলামকে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, তথ্য-উপাত্ত ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি শহরের শীতলাখোলা এলাকা থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কালিবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত সুমন চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত সুমন চক্রবর্তী ঝালকাঠি কালিবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ঝালকাঠি আদি সাবিহা কেমিক্যাল ওয়ার্কসের ম্যানেজার মিঠুন চক্রবর্তীর শ্যালক।

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শীতলাখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন চক্রবর্তীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে গ্রেফতার হওয়া সুমন চক্রবর্তীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল সদর উপজেলার ৩ নম্বর চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কাকাসুরা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সেকান বয়াতির ছেলে রিয়াজ বয়াতি, যিনি এলাকায় “গাঁজা রিয়াজ” নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।

সম্প্রতি প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তার আরেক সহযোগীকে নিয়ে গ্রামের একটি মাঠের পাশে বসে গাঁজা সেবন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিডিওটি সামাজিকভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন কর্মকাণ্ড নতুন নয়; দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও কেনাবেচার ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাঁজার তীব্র গন্ধে আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, মাদক সেবনের কারণে এলাকার পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে এবং তরুণ সমাজ বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

এলাকার এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একাধিকবার এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সতর্ক করার পরও তিনি তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা বলছেন, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে তরুণদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং কাকাসুরা গ্রামকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

 

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নে ৩২ পিস ইয়াবাসহ সিরাজ গাজী ওরফে সিজন গাজী নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে উপজেলার চরামদ্দি পুলিশ ক্যাম্পের এস আই আলমগীরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৩২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। রবিবার সকালে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আটক সিরাজ গাজী ওরফে সিজন গাজী চরামদ্দি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের দিয়ারচর পশ্চিম চরামদ্দি এলাকার জব্বার গাজীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, সিরাজ গাজী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তিনি একাধিকবার মাদকদ্রব্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

 

বরিশাল মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এ সময় মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও রুপা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বরিশাল মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিএমপির চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫৫ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১ কেজি ২২০ গ্রাম গাঁজাসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অভিযানের সময় নগদ ৪৭ হাজার টাকা, ২ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার এবং ৩ ভরি ৮ আনা রুপা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৩ জন, নিয়মিত মামলায় ৪ জন এবং বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বরিশাল মহানগর পুলিশ জানায়, নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

 

 

খুলনা মহানগরীর চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে র‌্যাব-৬ এর মিডিয়া সেল থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-৬ ও র‌্যাব-৮ এর সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে বরিশাল থেকে তাকে আটক করে।

র‌্যাব জানায়, নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় সংঘটিত শাশুড়ি ও সৎ দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডে আলোচিত ১ নম্বর আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬, সদর কোম্পানি ও র‌্যাব-৮ এর যৌথ আভিযানিক টিম বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল নগরীর কোতোয়ালি থানার কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম হাওলাদার খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকার আলমগীর হাওলাদারের ছেলে। সে পেশায় একজন ট্রাকচালক। তাকে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে রাতে পুলিশ নগরীর সোনাডাঙ্গার দারুল আমান মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বেবী বেগম (৫৮) ও তার দুই নাতি শামীম (১৩) ও মুস্তকিমের (৪) মরদেহ উদ্ধার করে। এদের মধ্যে বেবী বেগমের মুখ ও নাকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। বাকি দুজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সে পলাতক ছিল।