ঝালকাঠির নলছিটিতে অভিযান চালিয়ে ২১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকার একটি আবাসন থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন নলছিটি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনিচ সরদারের ছেলে মো. শাহিন সরদার (৩২) এবং একই এলাকার সহিদ সরদারের ছেলে মো. ইমন সরদার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর আলম।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের কাছ থেকে ২১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।নলছিটি থানার ওসি আরিফুল আলম জানান, আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করে ঝালকাঠি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

বরগুনা সদর উপজেলায় ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার জেরে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম ইব্রাহিম হোসেন কালু। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি স্থানীয়ভাবে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম হোসেন কালু সম্প্রতি জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে এলাকায় আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। এতে বাধা দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা। এর জেরে শুক্রবার দুপুরে দুর্বৃত্তরা ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী কালু ও তার সহযোগীদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে গণপিটুনিতে ইব্রাহিম হোসেন কালুর মৃত্যু হয়। এ সময় তার সহযোগী তৌহিদ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে স্থানান্তর করা হয়।

বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আলীম বলেন, নিহত কালুর বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ ১৩–১৪টি মামলা রয়েছে। তিনি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। জামিনে বের হয়েই তিনি ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম করেন, এরপর গণপিটুনিতে তার মৃত্যু

 

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ১টার দিকে জিয়া উদ্যানের গ্লাস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, ছিনতাই করে অটোরিকশাযোগে পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করে টহল পুলিশ। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় তারা।

দুজনেরই বাম কাঁধে ছুরিকাঘাতের আঘাত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ২ ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গরু তাড়িয়ে দেওয়া ১০ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রকে গরুর সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গরুটি দৌড়ে গেলে শিশুটির গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের উপক্রম হয়। স্থানীয়রা দ্রুত এসে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কাওছার মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ।

আহত শিশু তামিম ইসলাম (১০) বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা। সে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়া গ্রামে লজিং থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে নওয়াপাড়া এলাকার মারকাজুল কুরআন মাদ্রাসার বাউন্ডারির ভেতরে স্থানীয় কাওছার মৃধার একটি গরু ঢুকে গাছপালা খেতে থাকে। এ সময় নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম গরুটি তাড়িয়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কাওছার মৃধা শিশুটিকে ওই গরুর রশি দিয়ে গরুর সঙ্গে বেঁধে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গরুটি ছুটে দৌড় দিলে তামিমকেও তার সঙ্গে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে রশি তার গলায় পেঁচিয়ে যায়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এসে তাকে উদ্ধার করে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুক্রবার সকালে নওয়াপাড়া ও কুচিয়াগ্রাম গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশের উদ্যোগ নিলেও কোনো সমাধান হয়নি।
এরপর অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেয়। তবে কর্মসূচি শুরুর আগেই শুক্রবার দুপুরে পুলিশ কাওছার মৃধাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘শিশুর ওপর এমন নির্মম আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’ লজিং মালিক চেরাগ আলী বলেন, ‘তামিম আমার বাড়িতে থাকত। সে আমার সন্তানের মতো। তার সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমি ঘটনার বিচার চাই।’
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। স্থানীয় মুরব্বিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা হলেও আমরা সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছি।’
অভিযুক্ত কাওছার মৃধার ছোট ভাই বিশু মৃধা বলেন, ‘ঘটনার বিস্তারিত আমি জানি না। পুলিশ আমার ভাইকে আটক করেছে। তদন্তে যদি তিনি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে অবশ্যই তাঁর বিচার হওয়া উচিত।’
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের অভিযোগে কাওছার মৃধা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।  অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :: রাজধানীর মিরপুর কাফরুলে চালকের মাথায় আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে (২৭) আটক করেছে র‌্যাব-৪।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ দিনে রাতে র‍্যাব-৪ এর একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

র‌্যাব জানায়, সম্প্রতি মোটরসাইকেল চালকের মাথায় আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি আলোচনায় আসার পর র‌্যাব-৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানতে পারে, ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে ভুক্তভোগী রাফির সঙ্গে অভিযুক্তদের আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন আগেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় কালু, পারভেজ ও তাদের সহযোগীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করে। কালু ব্যর্থ হলে কিছুটা সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো ছুড়ে রাফির মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে অভিযুক্তরা আহত রাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

র‌্যাব আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও আটক অভিযান শুরু করা হয়। আটককৃত ফয়সাল ওরফে কালুর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

 

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন।

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফায় দফায় বৈঠকের পরও দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে রোববার থেকে তারা এ ধর্মঘটে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পরিবহন নেতারা।

ধর্মঘট শুরু হলে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলা-বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশালে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ৩ দফা দাবিগুলো হল-

১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা।

২. আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।

 

শ্রমিক নেতা শহীদুল ইসলাম বলেন, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে সরকারি ১৮টি বিআরটিসি বাস চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে চলছে তার চেয়ে বেশি। মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রিহুইলারগুলো নিয়মিত চলাচল করছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ২০২৪ সাল থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সাতটি বাস মালিক সমিতি ও সাতটি শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েক দফা সভা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসন বারবার শুধু আশ্বাসের বাণীই শুনিয়েছে, কোনো সুরাহা করতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলার মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে গত ২০ মে একটি জরুরি সভা করে ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে চিঠি দিয়ে স্ব স্ব জেলার প্রশাসনকেও জানানো হয়।

“আমরা আশা করেছিলাম ১১ জুনের আগে প্রশাসন সমস্যার সমাধান করবে। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবির বিষয়গুলো সমাধান না করায় আগামী ১৪ জুন ভোর ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, বাস মালিক সমিতির তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে একটি বৈঠকও হয়েছে।

তিনি বলেন, “আগামী ১৪ জুন থেকে মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট যাতে না হয় তার উদ্যোগ নিচ্ছি। আশা করছি আগেই সমাধান হয়ে যাবে।”

 

 

 

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর এলাকায় ইয়েস পরিবহন ও মাদারীপুরগামী একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি লোকাল বাস গোপালপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ইয়েস পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

 

 

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় এক বিধবা নারীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ২ বছরের শিশুকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মোঃ নাছির (৩৫) নামের ১ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  শুক্রবার (১২ জুন) ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নাছির উপজেলার ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বাঁশখাইল্যাঝিরি পাড়ার বাসিন্দা মজু মাঝির ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার (১০ জুন) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বাঁশখাইল্যারিরি পাড়ায় ১ বিধবা নারী বাড়ির পাশের বিলে তরকারি কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ মোঃ নাছির পিছন থেকে এসে তাকে জাপটে ধরেন। এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ধর্ষণে বাধা দিলে অভিযুক্ত নাছির একটি ধারালো ছুরি বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে ওই নারী জীবন বাঁচাতে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

তিনি আরো দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত তার পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ফের ওই নারীর ২ বছরের শিশুসন্তানকে অপহরণেরও চেষ্টা চালায় মোঃ নাছির। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নাছির গা ঢাকা দেয়।

পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টার দিকে মোঃ নাছিরের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১২ জুন) ভোর তিনটার দিকে কুমারী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ জামিল আহমেদ’ র নেতৃত্বে সঙ্গীয় সদস্যরা অভিযান চালিয়ে নাছির’কে গ্রেফতার করেন।

বিধবা নারী’কে ধর্ষণ চেষ্টা ও শিশু অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে নাছির’কে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেন লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল। তিনি বলেন, গ্রেফতার নাছির’কে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

 

সুন্দরবনের জলদস্যুদের অস্ত্র ও খাদ্য সরবরাহকারী চক্রের অন্যতম হোতা সবুর শেখকে (৩৫) ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার গানসহ গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৬।

​র‍্যাব-৬ এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
​অভিযান ও উদ্ধারে

র‍্যাব সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সুন্দরবনের সক্রিয় জলদস্যু ও ডাকাত দলগুলোকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন রসদ সরবরাহ করে আসছিল। এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে।

​অবশেষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সবুর শেখকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি ও তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে রাখা ০৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়।

​র‍্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সবুর শেখ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুন্দরবনের জলদস্যুদের সাথে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছে। সে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে দস্যুদের কাছে অস্ত্র বিক্রি এবং দুর্গম বনের ভেতরে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিত।

​”সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত এবং জেলে-বাওয়ালীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের এই ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল সংকট ও এলসি সংকটের কারণে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক নোটিশে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, উৎপাদন বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। একইসাথে সব শ্রমিক তাদের প্রাপ্য পাওনা যথাযথ সময় পেয়ে যাবেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শ্রমিকদের নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে যাওয়া বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশালের সমন্বয়ক ড. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, মূলত প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্মচারীদের আন্দোলনের এই নেতা আরো বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিনশ’ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তাই আমাদের দাবি, মালিকানা পরিবর্তন হলে পরবর্তী মালিককে ওইসব শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। একইসাথে শ্রমিকদের পাওনা কতোদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়েও নিশ্চয়তা দিতে হবে।