বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ঘাগুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ থেকে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া ভর্তি দেখিযে পকেট কমিটি গঠন সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুলের কয়েকজন জমি দাতা এবং কয়েকজন অভিভাবক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ শিক্ষা অফিসার বরাবরে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় চরাদী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা মোঃ হোসেন আলী, দাতা মোঃ সুলতান হোসেন আকন্দ, সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান এবং দাতা মোঃ আমীর আলী হাওলাদার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির বিচার চেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান নেই বলেই চলে। ২০২০ সালের পর থেকে কোন অভিভাবক সভা হয়নি। পে স্লিপের অর্থ সভাপতির স্বামীর সাথে ভাগাভাগি করেছেন প্রধান শিক্ষক। যার প্রমাণ ব্যাংক স্টেমেন্ট পরখ করলে পাওয়া যাবে। এছাড়াও নীতিবহি:র্ভূতভাবে সোহেল এবং কামরুল বরিশালে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও তাদের সন্তান এই বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখানো হয় এবং জাতীয় পার্টির নাম করে তাদেরকে কমিটির সদস্য বানানো হয়। একইভাবে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনে ২ বার কমিটি গঠন করে জাতি গঠনের প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দাড়প্রান্তে নিয়ে গেছে। স্থানীয় অভিভাবক যার কারণে সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করছে ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে।
২০১৯ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম সরকারের কোন বরাদ্দ স্কুলের কাজে ব্যয় করেন নাই। চিলি কোঠার বরাদ্দ ২ লক্ষ টাকা মাত্র ১২/১৫ খানা ইট গেথে লুটপাট করেন। কমিটি গঠনের নানা অপকৌশল অবলম্বন করেন। অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ পত্র সংগ্রহে রেখে নিজের সুবিধামত অভিভাবকদের কমিটির সদস্য রাখেন। যে সকল অভিভাবক শিক্ষিত ও সৃজনশীল তাদেরকে দূরে রাখেন। তার অপছন্দনীয় ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবকদের ভোটার তালিকা পর্যন্ত বোর্ডে প্রদর্শন করেন না। পছন্দনীয় অভিভাবকদের নামমাত্র তালিকা দেয়ালে প্রদর্শন করেন। উল্লেখ্য, স্কুলবিহীন গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালে সরকারী অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালে ৫১ জন ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু হয়। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৮৪ থেকে ৯০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত অধ্যয়নরত ছিল। প্রধান শিক্ষক হিসেবে মোঃ শহিদুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে তার একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনে রানীরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সাফিন আনাসকে অত্র বিদ্যালয়ে ভুয়া ভর্তি দেখিয়ে তার মা নুসরাতকে ১ লাখ টাকার বিনিময় বিদ্যালয়ের সভাপতি দেখানো হয় বিধি লংঘন করে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, অভিযোগ গুলো ভিত্তিহীন। আমি কোন অনিয়ম করিনি। আর চিলেকোঠা নির্মাণে কিছু টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু কোন টাকা ভাগবাটোয়ারা করিনি। এছাড়া অন্যান্য অনিয়মের কথাও একবাক্যে অস্বীকার করেন শহিদুল ইসলাম তালুকদার।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমীন বলেন, এখন পর্যন্ত আমার হাতে অভিযোগটি পৌছেনি। অভিযোগ হাতে পেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই স্বাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

ঝালকাঠির নলছিটিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের তারে স্পৃষ্ট হয়ে রবিউল (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত রবিউল হাসপাতাল রোড এলাকার বাসিন্দা মালেক সিকদারের নাতি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে হাসপাতাল মাঠে ফুটবল খেলছিল রবিউল। খেলার একপর্যায়ে মাঠের পাশে টানানো একটি বৈদ্যুতিক তারকে দড়ি মনে করে স্পর্শ করলে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। সঙ্গে সঙ্গে তার হাত তারের সঙ্গে আটকে যায়। এ সময় তার চিৎকার শুনে অন্য শিশুরা ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ড্রেনের ওপর স্থাপিত একটি চায়ের দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দোকানদার মিলন তার বাসা থেকে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়েছিলেন। সেই ঝুঁকিপূর্ণ তারই মাঠের পাশে ঝুলে থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

 

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ অপসারণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত দোকানদার মিলন জানান তিনি বাসা থেকে বৈধ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিছে দূর্ঘটনা ঘটলে তার কিছু করার নেই। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে মাদক কারবারি নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা, একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়। মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার নারীকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘রকেট’-এর মাধ্যমে ভুল নম্বরে পাঠানো ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানা পুলিশ।

জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে বরিশালের বেলতলা এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা সরকারের স্ত্রী নাসিমা বেগম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘রকেট’-এর মাধ্যমে ভুলবশত অন্য একটি নম্বরে ৫০ হাজার টাকা পাঠান। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বিপাকে পড়েন এবং কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত তদন্ত শুরু করে। লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভুলভাবে স্থানান্তরিত অর্থ শনাক্ত করে তা উদ্ধারে সক্ষম হয় পুলিশ।পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর উদ্ধারকৃত ৫০ হাজার টাকা প্রকৃত মালিক নাসিমা বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

টাকা ফেরত পেয়ে নাসিমা বেগম পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় সন্তোষ জানান।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ জানান, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভুল লেনদেন হলে দ্রুত থানায় যোগাযোগ করলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অর্থ উদ্ধার করে ভুক্তভোগীকে ফেরত দেয়া হয়। তিনি সকলকে এ ধরনের আর্থিক লেনদেনে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

 

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের চরআবদানি এলাকায় মাদকসেবী ও মাদকবিক্রেতাদের অপতৎপরতার প্রতিবাদে আয়োজিত উঠোন বৈঠকে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় স্থানীয়রা হামলাকারী তিনজনকে আটক করে কাউনিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
শুক্রবার (তারিখ উল্লেখিত) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়রা মাদকবিক্রেতা মো. কামাল সরদার, তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে উঠোন বৈঠকের আয়োজন করেন। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম শেখ, ইউপি সদস্য রেহেনা বেগম, স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং স্থানীয়রা আটক তিনজনকে থানায় সোপর্দ করেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধকে স্বাগত জানানো হলেও কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না।

 

বরিশাল মহানগরের কাউনিয়া থানার আলোচিত মাছ ব্যবসায়ী জসিম সিকদার বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অপু (২৫)কে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে র‌্যাব-৮, বরিশাল এবং র‌্যাব-৪, মিরপুরের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত অপু বরিশাল মহানগরের কাউনিয়া থানার পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাবু হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে গত ১৫ মে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে জসিম সিকদার বাবুকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে কাউনিয়া থানাধীন বিসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর ৭ নম্বর গুচ্ছগ্রামের চার রাস্তার মোড়ে তাকে মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে বাবু পাশের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে আশ্রয় নিলে অভিযুক্তরা সেখানে ঢুকে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অপু আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার পল্লবী থানাধীন মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

 

বরগুনার তালতলী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যার দিকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মাঠ প্রশাসন-১ শাখার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরসান হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বর্তমানে বরগুনার তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাকে ইউএনও পদ থেকে প্রত্যাহারপূর্বক সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তার প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

২০২৫ সালের শেষদিকে বৃহৎ প্রশাসনিক রদবদলের সময় মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তালতলীর ইউএনও হিসেবে পদায়ন পেয়েছিলেন। তিনি প্রায় সাত মাস তালতলীতে দায়িত্ব পালন করেন।

 

বরগুনার পাথরঘাটায় মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক রিকশাচালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সফেজ উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে মিজানুর রহমান বাসার সামনে তাঁর রিকশা চার্জে রেখে রাত ১১টার দিকে ঘরে ফেরেন। রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে গভীর রাতে কখন তিনি ঘর থেকে বের হয়েছেন, তা পরিবারের কেউ টের পাননি।

শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের পর স্থানীয় লোকজন বাড়ির সামনের সড়কে মিজানুর রহমানের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার জানান, রাতে স্বাভাবিকভাবেই সবাই ঘুমাতে যান। সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে স্বামীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তাঁরা।

এদিকে নিহতের বড় ভাই শাহজাহান মিয়া অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর আগে প্রতিপক্ষ নিজেদের ঘরে আগুন দিয়ে তাঁদের পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে। তাঁর ধারণা, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই মিজানুর রহমানকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার খবর পেয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) শাহেদ আহমেদ চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।

 

 

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বরিশালে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মিলনমেলা হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতিতে নগরীর বেলস পার্ক এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে নগরীর বেলস পার্কের সামনে থেকে পৃথকভাবে দুটি র‍্যালি বের হয়। প্রথমে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা প্রায় দেড়শত মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা বের করেন। আর্জেন্টিনার জার্সি ও পতাকা হাতে র‍্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার বেলস পার্ক মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

অন্যদিকে বিকেল ৪টার দিকে ব্রাজিল সমর্থকরাও সবুজ হলুদ পতাকা ও জার্সি পরে একটি র‍্যালি বের করেন। তাদের শোভাযাত্রাও নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বেলস পার্ক মাঠে এসে শেষ হয়।

পরে উভয় দলের সমর্থকদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। এতে ফুটবলপ্রেমীরা পারস্পরিক সৌহার্দ্য, খেলাধুলার ইতিবাচক চর্চা এবং বিশ্বকাপ ঘিরে নিজেদের আবেগ অনুভূতি ভাগাভাগি করেন।

আয়োজকরা জানান, ফুটবলকে কেন্দ্র করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বন্ধুত্বই সবচেয়ে বড় বিষয়।

উভয় র‍্যালি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং এতে বিভিন্ন বয়সী সমর্থকরা অংশ নেন

 

বরগুনা প্রতিনিধি//
বরগুনার এক স্কুলছাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ঢাকার সাভার থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সমকামী সম্পর্কের সূত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে চার নারীকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কালেক্টরেট স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা আক্তার জুঁই (১৩) নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার নানা মো. মজিবুল হক মধু বরগুনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে জুঁইয়ের মা নয়নতারা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বরগুনা থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার সাভার উপজেলার হেমায়েতপুর এলাকার জয়নাবাড়ি উত্তরপাড়া থেকে জুঁইকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে সাথী আক্তার মারিয়া (২৮), আর্থি আক্তার (১৭), জান্নাত আক্তার যতী (১৬) এবং আরও এক নারীকে আটক করা হয়।

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারের একটি অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন যোগাযোগের ফলে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ জুন নাটোর থেকে জান্নাত আক্তার যতী এবং ৭ জুন ধামরাই থেকে আর্থি আক্তার সাভারের হেমায়েতপুরে সাথী আক্তার মারিয়ার বাসায় আসে। পরে মিথিলা আক্তার জুঁইয়ের অনুরোধে তারা একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে ৮ জুন সকালে বরগুনায় পৌঁছায়। সকাল ৯টার দিকে বরগুনা সরকারি কালেক্টরেট স্কুলের সামনে জুঁইয়ের সঙ্গে দেখা করে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পরবর্তীতে তারা সাভারে সাথী আক্তার মারিয়ার এক সহকর্মীর ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিল।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বাসা থেকে জুঁইকে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করে।

বরগুনা থানার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া মিথিলা আক্তার জুঁইকে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে আটক ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সূত্র ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।