নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নাজির) মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন তহবিলের টাকা পরিকল্পিতভাবে লুটপাটের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ভুয়া ও কাগুজে প্রকল্প দেখিয়ে তিনি বছরের পর বছর সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বাস্তবে কাজ না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি করে বিপুল অঙ্কের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় সূত্রের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচির আওতায় নিজের গ্রামের মসজিদের নামে ধারাবাহিকভাবে বরাদ্দ এনে টাকা তুলেছেন আনোয়ার হোসেন। উত্তর ভিটাবাড়িয়া ডাকুয়াবাড়ি জামে মসজিদের নামে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫০ হাজার টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ লাখ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, কাগজে বরাদ্দ দেখানো হলেও মসজিদে সে অনুপাতে কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি।

এখানেই শেষ নয়। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও বাসভবনকেন্দ্রিক একাধিক প্রকল্পের নামেও বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রয়েছে,

  • বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বাগান “দৃষ্টিনন্দন ও ব্যবহার উপযোগী” করার নামে ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ লাখ টাকা।
  • বাংলোর অভ্যন্তরের মসজিদ মেরামতে ৫০ হাজার টাকা।
  • বাংলোর পশ্চিম পাশের পুকুর পাড় ও ঘাটলা মেরামতে ২ লাখ টাকা।
  • বাসভবনের গাড়ির গ্যারেজ মেরামতে ১ লাখ টাকা।
  • বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিবের জর্ডন রোডের সরকারি বাসভবন সংস্কারের নামে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
  • বিভাগীয় সদর দপ্তরের মসজিদ সংস্কারের নামে ২ লাখ টাকা।
  • বাসভবনের অভ্যন্তরে মাল্টিপারপাস সেড সংস্কারের নামে ২ লাখ টাকা।
  • দোলনার চারপাশে সেড নির্মাণ ও ডেকোরেটিভ গাছ রোপণের নামে ২ লাখ টাকা।

এরপরও থেমে থাকেননি তিনি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তিতে একান্ত সচিবের বাসভবন মেরামতের নামে আরও ২ লাখ টাকা এবং তৃতীয় কিস্তিতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একই বছরে “পুকুর দৃশ্যমান করার” অজুহাতে গাড়ির গ্যারেজ ভেঙে পুকুরঘাট পর্যন্ত পথ তৈরির নামে ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে, যদিও বাস্তবে সে ধরনের কোনো বড় কাজ চোখে পড়েনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে আবারও একই বাসভবন মেরামতের নামে ২ লাখ টাকা, সদর দপ্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ড্রাইভার সেড সংস্কারের নামে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং অফিস চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ এনে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগই ছিল কাগুজে। বাস্তবে কাজ না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এতে সরকারি কোষাগারের বড় অঙ্কের অর্থ অপচয় হয়েছে, অথচ দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীর মতে, আনোয়ার হোসেন টানা ১৪ বছর একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে শক্ত একটি বলয় তৈরি করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি নিজের ও আত্মীয়-স্বজনের নামে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি উন্নয়ন তহবিল থেকে অর্থ সরিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই সবকিছু করা হয়েছে।” তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কার নির্দেশে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

দৈনিক বরিশাল সময় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোঃ ফরিদুল ইসলাম ও সোহাগি বেগমের পুত্র মোঃ সাদমান ইসলামের সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার বরিশাল নগরীর মোহনা ক্লাবে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পারিবারিক আবহে আয়োজিত হলেও অনুষ্ঠানটি ছিল পরিপাটি ও প্রাণবন্ত, যেখানে শুভানুধ্যায়ী, গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বরিশাল সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আনোয়ার হোসেন, দৈনিক আলোকিত বরিশালের সম্পাদক ও প্রকাশক আলাল মিয়া, সাহসী সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক এস এম মিরাজ, দৈনিক সুন্দরবন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আসাদুজ্জামান, জনকণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক তানভীর আহমেদ অভি , দৈনিক ভোরের অঙ্গীকারের সিনিয়র রিপোর্টার শাওন ইসলাম এবং ফটো সাংবাদিক সোহাগসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।

এ সময় বরিশাল মহানগর ও জেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা পরিবারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং শিশুটির সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী খতনা সম্পন্ন হওয়ার পর দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় সাদমান ইসলামের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করা হয়। পরে অতিথিদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা ছিল।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিবারের এই আনন্দের মুহূর্তে যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) যেন একের পর এক নৈতিক বিপর্যয়ের ল্যাবরেটরিতে পরিণত হয়েছে।সর্বশেষ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে,কারণ,রোগীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই আলোচিত সিনিয়র স্টাফ নার্স রফিকুল ইসলাম আবারও কর্মস্থলে ফিরেছেন!যে ব্যক্তি চিকিৎসা পেশার ন্যূনতম নৈতিকতা ভেঙে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুখ্যাত হয়েছেন, তাকেই আবার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বসানো হয়েছে,এমন দৃষ্টান্ত শেবাচিমের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ভাইরাল কেলেঙ্কারি, তবু পুনর্বাসন!

 

কয়েক বছর আগে রফিকুল ইসলামের প্রায় ২০ মিনিটের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একজন রোগীর সঙ্গে তার অনৈতিক আচরণ দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার জন্ম দেয়। বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি নয়,এটি ছিল চিকিৎসা পেশার ওপর সরাসরি আঘাত।

তৎকালীন তদন্তে বেরিয়ে আসে,একাধিক পরকীয়ার অভিযোগ,নিজের স্ত্রী (যিনি নিজেও একজন নার্স) এর ওপর নির্যাতনের তথ্য,এবং শেবাচিমের আওতাধীন আওয়ামী লীগপন্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বানাপ) থেকে বহিষ্কারসব মিলিয়ে রফিকুল ছিলেন নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অযোগ্য,এমনটাই মত দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ম্যানেজ বাণিজ্য আর মোটা অঙ্কের প্রশ্ন।

 

অভিযোগ রয়েছে, গত ছয় বছরে,বিভাগীয় মামলা,সাময়িক বরখাস্ত,শাস্তিমূলক বদলি,শেষ পর্যন্ত মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে” ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো, সব বাধা পেরিয়ে তিনি আবারও অর্থোপেডিক পুরুষ বিভাগে কর্মরত!এই পুনর্বহাল কি নিছক প্রশাসনিক ভুল!নাকি এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট,তা নিয়েই এখন তোলপাড়।

 

আতঙ্কে সহকর্মী, অনিরাপদ রোগী

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নার্স ও কর্মচারীর বক্তব্য ভয়ংকর বাস্তবতা তুলে ধরে,যার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর নৈতিক অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে ডিউটি করতে আমরা নিরাপদ নই।আজ সে রোগীর সাথে যা করেছে, কাল সহকর্মীর সাথে করবে না,এর নিশ্চয়তা কে দেবে?রোগীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অনাস্থা হাসপাতাল যেখানে নিরাপত্তার প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে এখন ভয়ের পরিবেশ।

 

বেপরোয়া আচরণ ও ওপেন সিক্রেট বাণিজ্য!

 

হাসপাতালে ফেরার পর রফিকুল আরও বেপরোয়া ও দম্ভী হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ। রোগীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নানাভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এখন শেবাচিমে ওপেন সিক্রেট।প্রশাসনের নীরবতা এই অপকর্মকে আরও উৎসাহিত করছে,এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।

 

প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই!

 

এর আগে হাসপাতাল পরিচালক বলেছিলেন, প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কিন্তু প্রশ্ন হলো,প্রমাণ থাকার পরও কীভাবে একজন বিতর্কিত ব্যক্তি পুনর্বহাল হন?কার স্বাক্ষরে, কার সুপারিশে এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত?

 

বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়া,দায় ঝেড়ে ফেলা!

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি।বাংলাদেশ নার্স এসোসিয়েশন (বিএনএ), বরিশালের সহ-সভাপতি শাহে আলম বলেন,বিষয়টি স্পর্শকাতর,এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করবো না।

 

শেবাচিমের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এইচ এম মশিউর রহমান জানান, ঘটনাটি তার আগে জানা ছিল না, তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শেবাচিম কি তবে অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে?রোগীদের নিরাপত্তা, হাসপাতালের মর্যাদা আর চিকিৎসা পেশার গরিমা রক্ষায় এখনই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ইতিহাস প্রশাসনকে ক্ষমা করবে না।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কাগজে কলমে উন্নয়ন প্রকল্প, বাস্তবে মাঠে নেই কোনো কাজ। অথচ সরকারি কোষাগার থেকে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে গেছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এলজিইডির নামে অনুমোদিত এসব প্রকল্পের অর্থ শেষ পর্যন্ত জমা হয়েছে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের পাহাড়ে।
দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ভয়াবহ এই অর্থ লুটের চিত্র সামনে এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই এক দশকে প্রায় ২৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দম্পতির নামে মিলেছে শত শত কোটি টাকার অজানা সম্পদের হদিস।
এই অনিয়ম ও মানিলন্ডারিংয়ের ঘটনায় বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

দুদকের এজাহার বলছে,

মিরাজুল ইসলাম তাঁর মালিকানাধীন ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে এলজিইডির একাধিক প্রকল্পের বিল উত্তোলন করেন। কিন্তু এসব প্রকল্পের বাস্তব কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে অন্তত দুই হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এটি ছিল সুপরিকল্পিত মানিলন্ডারিংয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক।
সম্পদের পাহাড়, আয়ের খাতায় শূন্যতা

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অবাক করা তথ্য। মিরাজুল ইসলামের নামে রয়েছে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকানসহ বিপুল স্থাবর সম্পদ। পাশাপাশি ব্যাংক আমানত, ব্যবসার মূলধন, কোম্পানির শেয়ার এবং ৯টি বিলাসবহুল গাড়ি মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি।
অন্যদিকে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের হিসাব মাত্র ১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। কোনো দায় বা ঋণের তথ্য না থাকায় প্রায় ৯৯ কোটি টাকার সম্পদকে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদক।
স্ত্রীর হিসাবেও ভয়ংকর গরমিল
মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শামীমা আক্তারও ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। অভিযোগ রয়েছে, তিনিও এলজিইডির প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলনে যুক্ত ছিলেন।
দুদকের হিসাবে তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অথচ বৈধ আয়ের উৎস দেখানো হয়েছে মাত্র সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ২৪ কোটি টাকার সম্পদ সম্পূর্ণভাবে আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
আরও গুরুতর বিষয় হলো, তাঁর ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণে সরকারি অর্থ সংশ্লিষ্ট অন্তত ১২২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে, যা মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ক্ষমতার ছায়ায় বেড়ে ওঠা মিরাজ
মিরাজুল ইসলাম পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী এক পারিবারিক বলয়।
তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য মহিউদ্দীন মহারাজের ভাই। রাজনীতিতে বারবার দল বদল করে ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান গড়ে তোলা মহারাজ বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলে প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই মহারাজ পরিবারের একাধিক সদস্য আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
প্রশ্নের মুখে প্রশাসন ও তদারকি ব্যবস্থা
দুদকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো অস্তিত্ব না থাকা, বিপুল অঙ্কের ব্যাংক লেনদেন এবং আয়ের সঙ্গে সম্পদের চরম বৈষম্য একসঙ্গে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এলজিইডির প্রকল্প অনুমোদন, বিল ছাড় ও তদারকি ব্যবস্থার ভূমিকাও গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
মামলার তদন্ত চলছে। অনুসন্ধানের অগ্রগতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

 

 

সূত্র : কালের কন্ঠ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি |
বরিশাল-৫ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যখন মাঠে রাজনীতির উত্তাপ চরমে, ঠিক তখনই বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে সাবেক আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ও আলোচিত ভূমিদস্যু নুরুল ইসলামের বিএনপিতে যোগদান।
ফ্যাসিবাদ পতনের পর আত্মগোপনে থাকা সুবিধাবাদী একটি চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল বিএনপির ভেতর থেকেই। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, যাদের অতীত জুড়ে রয়েছে দখল, হামলা, মামলা আর ভয়ভীতি—তাদেরই এখন বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নতুন করে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান সরোয়ারের হাতে ফুল দিয়ে দলে যোগদান করেন। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে দেখা দেয় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও তার নাম উঠে আসে। সে সময় সিএনবি চৌমাথা এলাকায় হামলার পুরো ব্যয়ভার বহন করেছিলেন নুরুল ইসলাম—এমন অভিযোগ এখনো মুখে মুখে ঘুরছে এলাকাজুড়ে।
ভূমি বাণিজ্যেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে ভয়াবহ অভিযোগ। একাধিক জমির মালিক দাবি করেছেন, বায়না নেওয়ার পর জমি বিক্রি করলেও প্রকৃত মালিকদের টাকা আজও পরিশোধ করা হয়নি। কোথাও আংশিক টাকা দিয়ে বছরের পর বছর মানুষকে ঘুরিয়েছেন তিনি। টাকা চাইলে হামলা-মামলার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নুরুল ইসলামের কাছে এখনো বহু মানুষের জমির মূল দলিল আটকে রয়েছে। দলিল ফেরত না দিয়ে বরং ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মানসম্মান ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকেই আজও প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের ভাষায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় এমন কোনো অপকর্ম নেই যা নুরুল ইসলাম করেননি। ক্ষমতা যেখানে, সেখানেই অবস্থান—এটাই ছিল তার রাজনৈতিক নীতি। আর এখন সেই একই সুবিধাবাদী কৌশলে বিএনপির ছায়ায় ঢোকার চেষ্টা বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশাল মহানগর বিএনপির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে প্রকাশ্য বিভাজন। অনেক নেতা-কর্মী স্পষ্টভাবে বলছেন, এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে টানলে আদর্শিক রাজনীতিই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
একজন তৃণমূল নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“নুরুল ইসলামের মতো আরও অনেকে আছে, যারা শুধু সময়ের অপেক্ষায়। সুযোগ পেলেই তারা বিএনপির ঘাড়ে চেপে বসতে চাইবে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরিশাল জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা মন্তব্য করে লেখেন,
“এ ধরনের বিতর্কিত লোকজনকে দলে না নেওয়াই উত্তম।”
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার স্পষ্ট অবস্থান জানান। তিনি বলেন,
“আমাদের হাইকমান্ডের নির্দেশ পরিষ্কার—ফ্যাসিবাদী শক্তির কেউ বিএনপির সদস্য হতে পারবে না। যাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তিনি মহানগর বিএনপির কেউ নন এবং তার যোগদান দলীয় সিদ্ধান্ত নয়।”
সব মিলিয়ে নুরুল ইসলামের এই যোগদান বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির ভেতরের রাজনীতিতে নতুন করে অস্বস্তি, ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখনই লাগাম না টানলে সুযোগসন্ধানীদের এই অনুপ্রবেশ ভবিষ্যতে দলীয় রাজনীতিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দূর্নীতির ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বরিশাল বিআরটিএ এর সাবেক সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ-আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

 

বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলায় থ্রি হুইলার এবং ১১শ মিনি ট্রাক ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করেন সাবেক সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ-আলম।

আজ ২৬ জানুয়ারী এ আদেশ দেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। অবৈধ যান বাহন রেজিষ্ট্রেশন প্রদান ও অবৈধ সম্পদ অর্জন কারায় গত বছর একটি মামলা দায়ের করে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন সহকারী পরিচালক শাহ-আলম প্রায় ১২শ অবৈধ গাড়ির লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছেন।শাহ আলমের মতো চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী থেকে শুরু করে বড় কর্মকর্তারাও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দুর্নীতির আঁখড়া বানিয়েছেন বিআরটিএকে।

গত ৮ বছরে শাহ-আলমের বিরুদ্ধে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুরে বছরে বিআরটিএতে প্রায় ২০কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ  অভিযোগে পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিআরটিএর দায়িত্বে ছিলেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা শাহ-আলম।

এর পূর্বে পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে দায়িত্বে থেকে প্রায় ৯থেকে ১হাজার অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে ২২ সালে বরিশাল বিআরটিএতে যোগদান করেই মার্চে ৪টি (এপ্রিলে ২টি), (মে ৫টি),(জানুয়ারি মাসে ২১টি),(জুলাই মাসে ৪৫টি), (অক্টোবর মাসে১০টি) অর্থাৎ ২২সালের মার্চ হইতে অক্টোবর পর্যন্ত অবৈধ ২৫৫টি গাড়ি অসংগতিপূর্ণভাবে রেজিষ্ট্রেশন করেন।

এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে শাহআলমের অর্পকর্মের বিরুদ্ধে উপ পরিচালক (প্রশাসন) ঢাকা তিনি গত ২৯/১১/২০২২সালে, ৩৫,০৩,০০০০,০০১,২৭,০২২৭ স্বারক নাম্বারে ৩ জনের একটি কমিটি করে ১৫ দিনের ভিতর তদন্ত প্রতিবেদক জমা দিতে আদেশে উল্লেখ করেন। তবে অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ করেননি শাহ-আলম।

এদিকে ভূয়া রেজিষ্ট্রেশনকৃত ২৫৫টি গাড়ির তদন্ত চলাকালীন সময় তিনি পূনরায় আবার ২২সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর বরিশাল-ন-১১-০৭২০, বরিশাল-ন-১১-০৭৪৮,  নাম্বারসহ প্রায় ৮৯টি অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন  প্রদান করেন।

যার প্রতিটি রেজিষ্ট্রেশন মালিকের ঠিকানা চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এবং রেজিষ্ট্রেশনকৃত গাড়ির মালিক ওই বিভাগের স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটার। যা বিআরটিএর আইন ও অফিস আদেশ অমান্য করে মোটা অংকের বিনিময় এসব রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন বরিশাল বিআরটিএর দুর্নীতিবাজ সাবেক সহকারী পরিচালক শাহআলম।

 

উল্লেখ্য অবৈধভাবে যান বাহন রেজিষ্ট্রেশন করার অপরাধে দুদকের করা মামলায় শাহ-আলম উচ্চ আদালত থেকে জামিন ছিলেন। তবে আজ সেই মামলা থেকে শাহ-আলম স্থায়ীভাবে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক//

সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার পরও মৎস্য কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতায় বরিশাল থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার জাটকা ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকি ও নিয়মিত অভিযানের অভাবে অবৈধ এই ব্যবসা দিন দিন আরও বিস্তার লাভ করছে।

বরিশালের পোর্ট রোড ও তালতলী দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে কোটি টাকার জাটকা ইলিশ। তবে অভিযোগ উঠেছে মৎস্য অধিদপ্তেরে অসাধু কিছু যোগসাজশে এইসব অবৈধ জাটকা মাছ খুব সহজে পার হয়ে যাচ্ছে।বরিশাল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও জেলা কর্মকর্তাদের কোন মনিটরনিং না থাকা অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা খুব সহজে বরিশালের বাহিরে পাঠাতে পারছে।বরিশাল নগরীর পোর্টরোড ও সদর উপজেলার তালতলী থেকে জাটকা প্যাকেটজাত হয়ে  চলে যায় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। ২৫০টাকা থেকে শুরু হয়ে ৩০০ টাকায় এক কেজি জাটকা কিনলে ১০-১৫টি পাওয়া যায়। এর সঙ্গে রয়েছে চাপিলাসহ ছোট মাছ।

অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল সদর উপজেলা ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের কার্যকর কোনো মনিটরিং বা নিয়মিত অভিযান নেই। অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে জাটকা পাচার করতে পারছে।অন্যদিকে দক্ষিঞ্চলের পটুয়াখালী ও বরগুনা থেকে প্রতিদিন বিকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত মৎস্য অফিসের সামনে দিয়ে রাজধানীতে শতাধিক বাস ট্রাকে করে জাটকা যায়।অথচ নগরীর সিএন্ডবি রোড সংলগ্ন বরিশাল মৎস্য অফিস হওয়া স্বত্বেও কোন অভিযান না থাকায় অবৈধ এই ব্যবসা দিন দিন আরও বিস্তার লাভ করছে।

 

অন্যদিকে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, কোস্টগার্ড, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) নিয়মিত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাটকা আটক করলেও মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা নেই।সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিপুল পরমানে জাটকা মাছ আটক হলেও বরিশাল মৎস্য অফিসের নেই কোন অভিযান ও নেই কোন আটকও।বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে মাছ আটক হলে মৎস্য কর্মকর্তাদের জানালেও সেখানে যেতে অনীহা দেখা যাচ্ছে বরিশাল জেলা ও বরিশাল সদর মৎস্য কর্মকর্তাদের।  জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই,সেনাবাহিনী,কোষ্টগার্ড,পুলিল,সবাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করছেন এবং সফল ও হচ্ছেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা করছেন না কোন অভিযান। এ ব্যাপারে মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেহই সঠিক তথ্য দেওয়ার পরেও অভিযান পরিচালনা করতে অনীহা দেখা দিয়েছে। এমনকি অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট যখন অবৈধ ঝাটকা ইলিশ আটক করেন তখন তাদের খবর দিলেও আসেন না বলে অভিযোগ আছে।

জাটকা ধরায় আট মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা। চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। মা ইলিশ ধরায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে জাটকা (১০ ইঞ্চির কম আকারের ইলিশ) ধরার ওপর এই বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এর লক্ষ্য মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় যেসব ইলিশ ডিম ছেড়েছে, সেগুলো যাতে বড় হওয়ার সুযোগ পায়।

জাটকা ধরার নিষেধাজ্ঞার এই আট মাসে জাটকা আহরণ, ক্রয়—বিক্রয় ও পরিবহন বন্ধে জেলা—উপজেলার মাছঘাট, বাজার ও জেলেপল্লিগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও থেমে নেই জাটকা শিকার। কিন্তু এরপরও বরিশালে জাটকা নিধন বন্ধ হচ্ছে না। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এসব মাছ। এতে ভরা মৌসুমে ইলিশ—সংকটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।বরিশাল থেকে প্রতিনিয়ত দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে জাটকা মাছ সরবরাহ করছে দক্ষিনঞ্চলের মোকামগুলো।তবে প্রশ্ন উঠছে এত কঠোর নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও কিভাবে বরিশালসহ দক্ষিঞ্চল থেকে জাটকা ইলিশ কিভাবে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

বরিশাল কাশিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা সংস্থা সেখান থেকে বিপুল পরিমান জাটকা আটক করে।এরপর নগরীর কাশিপুরে সেনাবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে ৬৪মন জাটকা আটক করে।শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১২ টায় বরিশাল মহানগরীর আমতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালায় বরিশাল কোতয়ালি থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী সেখান থেকে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় ৩হাজার কেজি জাটকা ইলিশ।এত অভিযানের মাঝেও বরিশাল পোর্ট ও তালতলি থেকে বিভিন্ন রুট দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত যাচ্ছে টনকে টন জাটকা ইলিশ।

 

জেলে সংগঠকেরা বলছেন, মৎস্য অধিদপ্তর প্রতি বছর রেকর্ড পরিমাণ জাটকা উৎপাদন দেখিয়ে ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির কৃতিত্ব দেখাচ্ছে। কিন্তু ভরা মৌসুমে নদীতে ইলিশ পাওয়া যায় না। সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরে ইলিশের দাম মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলাঘেঁষা মেঘনা হলো জাটকা আহরণের মূল কেন্দ্রস্থল। এখানকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীরা ইলিশঘাটের মালিক। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় শত শত জেলে প্রতিদিন মেঘনায় বেপরোয়াভাবে জাটকা নিধন করেন।তবে মেঘনায় নিয়মত অভিযান থাকায় জেলেরা তেমন জাটকা শিকার করতে না পারলেও অন্যদিকে হাইমচর ও কালীগঞ্জ মেহেন্দীগঞ্জ কালাবদর নদীতে জাটকা শিকার হচ্ছে দেদারচ্ছে।

মেঘনা তীরের ধুলখোলা ইউনিয়ন জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মনির মাতুব্বর বলেন, গত কয়েক বছর ভরা মৌসুমে মেঘনায় ইলিশ পাওয়া যায় না। এখন জাল ফেললেই প্রচুর জাটকা উঠছে।তবে হিজলাতে মৎস্য কর্মকর্তার কারণে জাটকা শিকার নিয়ন্ত্রনে থাকলেও মেহেন্দিগঞ্জের আশেপাশে প্রচুর জাটকা শিকার হচ্ছে।

মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়ার জেলে শাওন বলেন, জাল ফেললেই এখন জাটকা আর জাটকা। শুনেছি, অভিযানে নেমেছে প্রশাসন।

বরিশাল জেলায় নিষেধাজ্ঞার ভিতর জাটকা শিকার ও অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন আপনি আমার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আপনার সাথে কথা বলবে।সে আপনাকে তথ্য দিবে।

বরিশাল সদরে মৎস্য অধিদপ্তের অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এলজিইডির কার্যক্রম এখন উন্নয়নের বদলে অনিয়ম, ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের এক ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরছে। কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প পড়ে আছে অচল, আর তার খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রকল্পের গাফিলতি ও দুর্নীতির মূল কেন্দ্রে রয়েছেন রাজাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজাপুর এলজিইডি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই এগোয় না। ঠিকাদারদের কাছ থেকে ওয়ার্ক অর্ডার, কাজের অগ্রগতি অনুমোদন, বিল ছাড় এমনকি জামানত ফেরতের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় করা হয়। টাকা না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। এতে একদিকে প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে সরকারের উন্নয়ন অর্থ কার্যত জিম্মি হয়ে পড়ছে একটি অফিসকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের হাতে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজাপুর উপজেলায় একাধিক আরসিসি গার্ডার ব্রিজ ও আয়রন ব্রিজ নির্মাণে বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেড় বছর পার হলেও অনেক প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি। কোথাও আবার পুরোনো ব্রিজ ভেঙে নতুন নির্মাণ শুরু করে মাঝপথে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে গ্রামের সঙ্গে গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় নৌকাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, কয়েকটি ব্রিজের মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। উন্নয়নের নামে এই অবহেলা জনদুর্ভোগ কমানোর বদলে বহুগুণ বাড়িয়েছে।

হাশেমের পুল নামে পরিচিত একটি কালভার্ট ভাঙার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীর মতে, কালভার্টটি এখনও ব্যবহারযোগ্য ছিল। সামান্য সংস্কার করলেই বহু বছর চলত। তবুও নতুন প্রকল্প দেখিয়ে এটি ভাঙার চেষ্টা চলছে, যা অনেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও প্রকল্প বাণিজ্যের অংশ বলে মনে করছেন।

দুর্নীতির অভিযোগ রাজাপুরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানীতেও রাজাপুর এলজিইডির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এলজিইডির নির্মিত একটি ব্রিজের কারণে একটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সেখানে উপস্থাপন করা হয়। লিখিত অভিযোগের পরও দীর্ঘদিন কোনো সমাধান না পাওয়ার তথ্য উঠে আসে। গণশুনানীতে উপজেলা প্রকৌশলীকে ডাকা হলেও এরপর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভ্রমণ ভাতা বা টিএ বিল আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। অনুমোদনের পর দীর্ঘদিন বিলের টাকা আটকে রাখা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর চাপের মুখে টাকা ফেরত দেওয়া হলেও এতে ভেতরের অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যোগদানের পর থেকে রাজাপুর এলজিইডিতে একই পদে বহাল রয়েছেন অভিজিৎ মজুমদার। বদলির আলোচনা শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দীর্ঘদিন একই পদে থাকার সুযোগেই একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

রাজাপুরের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন স্পষ্ট—সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প কি জনগণের জন্য, নাকি অফিসকেন্দ্রিক দুর্নীতির জন্য। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে রাজাপুরে উন্নয়ন শব্দটি শুধু কাগজেই থেকে যাবে।

এ বিষয়ে রাজাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন,

“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়। তবে দুদকের গণশুনানীতে আমাকে ডাকা হয়েছিল, সেটি সত্য।”

সূত্র : barisal Khabar

 

 

আসাদুজ্জামান শেখ // বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়ন বকশির চরে আত্মঘাতী ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমি নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে সজল ওরফে-ব্লাক সজলের বিরুদ্ধে।

সজল সম্বন্ধে জানা যায় বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদ পাশা ইউনিয়নের ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। তৎকালীন ফেসিস্ট সরকারের আমলে মাদক,নারী,অবৈধ দখলবাজ সহ সব ধরনের অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত ছিল এই সজল। তার রয়েছে চোরা গ্যাং ও কিশোর গ্যাং এবং মাদক বিক্রির লোকজন। সজলের কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তাকে সহযোগিতায় রয়েছে শামীম।

শামীম সম্বন্ধে জানা যায় তার বাড়ি চাঁদপাশা ইউনিয়নের বকশির চরে। সজল এবং মাদক কারবারি জমি দখল এই সমস্ত লোকদের সাথে রয়েছে শামীমের সখ্যতা। শামীম স্বীকার করেন সজলের সাথে তার সখ্যতার কথা। আরো বলেন আমি আত্মঘাতী ড্রেজারের মালিক নই জমির মালিকও নই। প্রতিদিন ৮শত টাকা বেতনে দুইটি ড্রেজার চালাই এবং আমার সাথে আরও তিনজন লেবার রয়েছে। সমস্ত কিছুর মালিক এবং দিকনির্দেশকই সজল ওরফে ব্ল্যাক সজল। ড্রেজারের মাটি কাটার পর কোথায় বিক্রি করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন এক ঠিকাদারের কাছে সজল মাটি বিক্রি করেছে।

স্থানীয় এলাকার একাধিক কৃষক আত্মঘাতিক ড্রেজার যখন লাগায় তখন সজল এবং শামীমকে একাধিকবার নিষেধ করেন। কৃষকরা বলেন আমরা অনেকবার নিষেধ করেছি কিন্তু তারা আমাদের কোন কথায় কর্নপাত না করে আত্মঘাতী ড্রেজার লাগিয়ে চড়া দামে মাটি বিক্রি করছে।এভাবে চলতে থাকলে এক সময় আমাদের ফসলের জমি আর থাকবে না। রাতদিন সমান-তালে চালাচ্ছে এই আত্মঘাতী ড্রেজার। যার ফলে আমাদের আশপাশের ফসলি জমি রয়েছে হুমকির মুখে। স্থানীয়রা এবং কৃষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন ওদের সাথে এখন গ্যাঞ্জাম করা লাগে কিন্তু আমরা গরিব মানুষ ওদের সাথে পারবোনা। আপনারা আমাদের জন্য কিছু একটা করেন। ওরা খুব প্রতাপশালী ও ধান্দাবাজ অসৎ প্রকৃতির লোক।ওদের রয়েছে অবৈধ কারি কারি টাকা।

মুঠো ফোনে সজলকে একাধিকবার ফোন দিলে অনেকবার তা বাজলেও রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় তথ্যদাতা বলেন সজলরা এর আগে বাবুগঞ্জে আত্মঘাতি ড্রেজার লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং নষ্ট করেছে অনেক ফসলি জমি। যার খেসারত দিতে হয় গরিব কৃষকদের। যে জমিতে আত্মঘাতী ড্রেজার লাগিয়েছে সেই জমির মালিক আবুল বাসার। তিনি নাকি একজন ঠিকাদার। বাড়ি কাশিপুর ইউনিয়নে। মুঠোফোন নাম্বার না পাওয়ার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমরা তথ্য পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নিব। ছার পাবে না অবৈধ ড্রেজার মালিকও পরিচালনাকারী।

 

দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আরাফাত রহমান কোকো এবং চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি মোঃ শহীদুল শিকদারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন টুমচর বাজার বায়তুল আমান জামে মসজিদে মাগরিব নামাজের পর এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় মুসল্লি ও বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ আবদুল কাদের মোল্লা। দোয়া মাহফিলে মরহুমদের আত্মার শান্তি ও জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এসময় দেশ, জাতি ও দলের শান্তি, কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনাও করা হয়।