ভোলায় মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা উল্টে নুরে আলম (৫৫) নামে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  শুক্রবার (২০ মার্চ ) ঈদের আগের দিন সকালে জীবিকার তাগিদে মাছ ধরতে গিয়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
জানা যায়, ঘরে খাবার না থাকায় নুরে আলম  ছোট্ট নৌকায় দুই ছেলে শাহিন ও শাকিলকে নিয়ে পাড়ি জমান সাগরমোহনায়। তাঁদের স্বপ্ন ছিল মাছভর্তি জাল নিয়ে ঘরে ফেরা, আর সেই মাছ বিক্রি করে ঈদের বাজার করা। কিন্তু সন্ধ্যার আগেই সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। দক্ষিণের সাগরমোহনায় হঠাৎ শুরু হয় প্রবল ঝড়। মুহূর্তেই উত্তাল হয়ে ওঠে নদী। বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ে নৌকার ওপর—এক নিমেষেই ডুবে যায় সবকিছু। নৌকার নিচে চাপা পড়েন তিনজনই। প্রাণপণ চেষ্টা করে পানির ওপর ভেসে উঠলেও তলিয়ে যায় নৌকা, জাল ও জীবিকার সব সম্বল।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়ে যান তাঁরা। দুই ছেলে অর্ধমৃত বাবাকে নিয়ে টানা সাঁতরে তীরে ফেরার চেষ্টা করে। উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে করতে তারা বাবাকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু প্রকৃতির নির্মমতার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানেন নুরে আলম। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন তিনি।
তবু থামেনি সন্তানেরা। বুকভরা কান্না আর অদম্য শক্তি নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সাঁতরে তারা তীরে পৌঁছায়—বাবাকে ফেলে নয়, বুকে আগলে নিয়েই। তবে জীবিত নয়, লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি।
আজ শনিবার ভোরে চর ফারুকী গ্রামের বাড়িতে যখন নুরে আলমের মরদেহ পৌঁছায়, তখন পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ঈদের আনন্দের দিনে যখন মানুষ নতুন পোশাকে নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন সেই বাড়িতে চলছিল আহাজারি। নামাজ শেষে জানাজা আদায় করেন গ্রামবাসী।

স্থানীয় মানুষেরা জানান, নুরে আলমের পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। মার্চ-এপ্রিল দুই মাস সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও ঈদের আগে ঘরে খাবার না থাকায় বাধ্য হয়েই গোপনে মাছ ধরতে যান তিনি।

নিহতের ছেলে শাহিন জানান, বিকেলে হঠাৎ ঝড় শুরু হলে তাদের ট্রলার উল্টে যায়। ভাই শাকিল জালের বয়া ধরে বেঁচে যান। পরে বাবাকে নিয়ে সাঁতরে তীরে উঠলেও ততক্ষণে সব শেষ।

দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবির জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার বলেন, জেলে নিবন্ধিত থাকলে পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে। স্থানীয় মানুষেরা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এমসিকিউ, রিটেন ও ভাইভা পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হলেন সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন সিকদার।

সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন সিকদার চরমোনাই আহসানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল এমএ পাস করেন, বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন, বরিশাল ল কলেজ থেকে এলএলবি সম্পূর্ণ করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর সকল পরীক্ষায় প্রথমবারে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন শিকদার দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে সুনাম ও দক্ষতার সাথে সংবাদকর্মীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন।তিনি বরিশালের বিভিন্ন লোকাল পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক,যুগ্ম সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও দৈনিক জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকার বিভিন্ন দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করে আসছেন।

অ্যাডভোকেট,সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন সিকদার বলেন আমি দীর্ঘদিন আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি সংবাদ কর্মী হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পাঠকের কাছে তুলে ধরার সাদা কে সাদা কালোকে কালাই উপস্থাপনা করার চেষ্টা করেছি, বর্তমানে আমি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে অ্যাডভোকেটের সনদ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় বরিশাল জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত হয়েছি। তিনি আরো বলেন সত্য, ন্যায় ইনসাফ, দেশ জাতি, মানবতার ও ইসলামের পক্ষে আইনি সেবা দিতে পারি জনগণকে এজন্য সাংবাদিক বেলাল হোসেন সকলের কাছে দোয়ার আবেদন করেছেন। অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন সিকদার এর শ্রদ্ধেয় পিতা দীর্ঘ ১০ বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন) বর্তমানে তার স্ত্রী,এক কন্যা,মমতাময়ী মা,দুই ভাই ও এক বোন রয়েছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশাল নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় জান আহমেদ (২৪) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পরেশ সাগর মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ পরান সড়কের বাসিন্দা মো. সুমন আহমেদ কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই ঘটনার দিন রাতে এজাহারভুক্ত আসামি সৌরভ, রাকিব, সজিব, অরিন, সায়মন ও ইয়াসিনসহ আরও কয়েকজন জান আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা এসএস লোহার পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জান আহমেদকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। এতে তার মুখমণ্ডল, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। চিকিৎসকরা জানান, হামলায় আহত জান আহমেদের শরীরে প্রায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জান আহমেদ মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পিছন থেকে দুইটি মোটরসাইকেলে করে পাঁচ থেকে ছয়জন কিশোর গ্যাং সদস্য এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। হামলার সময় তার মাথার হেলমেট ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
রাজনীতির প্রকৃত অর্থ মানুষের সেবা করা এবং মানুষের সুখ-দুঃখের সময় পাশে দাঁড়ানো—এমনটাই মনে করেন বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান শাকিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বরিশাল নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নানা সমস্যা ও দুর্দশা কাছ থেকে দেখছেন এবং সেগুলো সমাধানে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন শাকিল। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিজ উদ্যোগে এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রায় দেড়শত অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এসব খাদ্যসামগ্রী পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে মিজানুর রহমান শাকিল বলেন, রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়; বরং মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই রাজনীতির আসল উদ্দেশ্য।

তিনি বরিশাল নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মানিত নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুখের সময় না হলেও দুঃখের সময় যেন সাধারণ মানুষ তার শরণাপন্ন হন। যেকোনো সমস্যায় তিনি তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

এ সময় এলাকাবাসী জানান, সামাজিক ও মানবিক কাজে মিজানুর রহমান শাকিলের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছেন।

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক /

​বরিশাল নগরীর কাজীপাড়া এলাকার চেরাগ আলী সড়কে নিজ বাসভবন থেকে রাহাত হোসেন আজাদ (৪০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত আজাদ ওই এলাকার মৃত চেরাগ আলী হাওলাদারের পুত্র।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ কক্ষের আড়ার সাথে আজাদকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।

প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,আজাদ বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিলেন। অভিযোগ উঠেছে,এই আত্মহত্যার পেছনে শ্লীলতাহানির অপবাদ ও পারিবারিক বিরোধের বড় ভূমিকা রয়েছে।

​স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,আজাদের বড় ভাই হুমায়ুন কবির ও ভাবি পারভীন বেগম ও এলাকাবাসির মাধ্যমে জানাজানি হয় আজাদ একই এলাকার দুই সন্তানের জননী তানিয়া নামক এক নারীর শ্লীলতাহানি করেছেন। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত সোমবার (১০ মার্চ) ভুক্তভোগী নারী কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে এলাকায় গেলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। ধারণা করা হচ্ছে,সামাজিক লোকলজ্জা এবং নিকটাত্মীয়দের তোলা এই অপবাদ সইতে না পেরেই আজাদ আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

মৃত আজাদের আর দুই ভাই ভাবি অভিযোগ করে বলেন আমাদের ভাই আত্মহত্যা করতে পারে না ওকে কেউ মেরে ঘরের আরাড় সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। সঠিক তদন্ত করলে ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসবে এমনটাই দাবি করেছেন তারা।

ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেছেন আজাদের স্ত্রীর এক সন্তান রয়েছে। আজাদ একটু মাদকাসক্ত বিদায় স্ত্রীর রাগ হয়ে চট্টগ্রামের চলে যান সেখানেই বসবাস করেন তিনি। মৃত্যুর খবর স্ত্রী সন্তানকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে রওনা করেছেন তারা বরিশালের উদ্দেশ্যে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান,খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি বরাদ্দ প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নলছিটি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়, নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি ভরাটের একটি টিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার কাজ বরাদ্দ হয়। তবে ওই কাজের বিপরীতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন অতিরিক্ত খরচ বাবদ মোট ৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী অলিউল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে এবং বিভিন্ন চাপের কারণে তারা বাধ্য হয়ে ওই টাকা দেন। ধর্মীয় উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এমনভাবে ঘুষ নেওয়া অনৈতিক এবং সরকারি সেবার পরিপন্থি বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেনকে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিডি এলজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। পরে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে

 

মামুনুর রশীদ নোমানী :
বরিশাল সিটি করপোরেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনকে কেন্দ্র করে নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থাপনের চেয়ে অতিরিক্ত সংখ্যা দেখিয়ে এবং প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি বিল করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও আইটি কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) আহসান উদ্দিন রোমেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালন করার আড়ালে তিনি ঠিকাদারি কাজেও জড়িত এবং বিভিন্ন প্রকল্পে নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

সিটি করপোরেশনের ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়, রোমেলের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রমও ভেস্তে যায়। প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবা চালুর সব প্রস্তুতি শেষ হলেও উদ্বোধনের ঠিক আগমুহূর্তে পুরো কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়। এতে সিটি করপোরেশনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর সময়ে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে একবার চাকরি হারানো এই কর্মকর্তা পরবর্তীতে আবার প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই আইটি খাতসহ বিভিন্ন প্রকল্পে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজের প্রতিষ্ঠান পিপলো বিডির মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন আইটি প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করেন রোমেল। গোপনে নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে আইটি বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের সুযোগ-সুবিধা নেন। এক পর্যায়ে পিপলো বিডির করা প্রকল্পের বিল আটকে দেয় সিটি করপোরেশনের সচিব মাসুমা আক্তার। পরে ভাগাভাগির মাধ্যমে সেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। কমিশনের সম্পর্কের জেরে রোমেল জনসংযোগ কর্মকর্তার পাশাপাশি আইটি বিভাগের দায়িত্বও নিজের হাতে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইটি বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা প্রকল্পে অতিরিক্ত বিল, ভুয়া ভাউচার এবং কাগুজে খরচ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে। মেয়রের ঈদ শুভেচ্ছা ব্যানার, সাইনবোর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত প্রচারণার নামে বিপুল অঙ্কের বিল তোলা হয় বলে জানা গেছে।

নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য দুই লাখ টাকা বিল দেখিয়ে মাত্র ৭৬ হাজার টাকার কাজ সম্পন্ন করে বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঈদ শুভেচ্ছা ব্যানার, সাইনবোর্ড ও ফেস্টুন বাবদ ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে প্রায় ৭ লাখ টাকার ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামমাত্র বুস্টিং করে এক লাখ ৫৮ হাজার ২৩৭ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এদিকে রোমেলের নানা অপকর্মের তথ্য জানতে সম্প্রতি তরিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছেন। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্প, বিল ও আইটি খাতের ব্যয়ের হিসাব চেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জমা দেন।

অন্যদিকে সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও রোমেলের বিষয়টি সামনে আসে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবিই ছিল দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আহসান উদ্দিন রোমেলকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা।

সব মিলিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভেতরে জনসংযোগ কর্মকর্তা রোমেলকে ঘিরে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি দায়িত্বে থেকে ঠিকাদারি, বিল জালিয়াতি ও প্রকল্প বাণিজ্যের অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ্রকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব, ক্ষমতার দাপট এবং সিটি কর্পোরেশনের এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এখন বিসিসির ভেতরেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক কানাঘুষা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিগত স্বৈরাচার আমলে সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সুপারিশে ২০১৯ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে স্বাস্থ্যকর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ্র। অভিযোগ রয়েছে, মেয়রের আশীর্বাদ পেয়ে অল্প সময়েই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি। ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে নানা রাজনৈতিক তৎপরতায়ও সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে খুশি করতে শেরে-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু ক্লাবের পরিচালনা কমিটিতে সদস্য পদও বাগিয়ে নেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ক্লাবের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার নানা ছবি ও বক্তব্যও প্রচার করেন। এমনকি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া তার রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এরই মধ্যে বিসিসির স্বাস্থ্য শাখার এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সঙ্গে ডা. শুভ্রর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী কর্মচারীকে প্রায়ই নিজের কক্ষে ডেকে দীর্ঘ সময় কাটাতেন তিনি। শুধু অফিসেই নয়, নগরীর বেলভিউ এলাকায় তার ব্যক্তিগত চেম্বারেও ওই নারীকে নিয়ে সময় কাটানোর গুঞ্জন রয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, (ছদ্মনাম) মিতা নামে ওই কর্মচারীর একটি সন্তান রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে ওই যুবক জানতে পারেন, গোপনে ডা. শুভ্রর সঙ্গেও তার সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

তিনি আরও জানান, মিতা যখনই ছুটি চাইতেন, ডা. শুভ্র তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন দিতেন। অনেক সময় তাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার কথাও শোনা গেছে। এমনকি অফিসে ডা. শুভ্রর কক্ষে ওই নারী কর্মচারীর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করার ঘটনাও অনেকের নজরে এসেছে। ফলে বিসিসির ভেতরে ডা. শুভ্রর ব্যক্তিগত আচরণ ও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কর্মচারীদের ভাষ্য, বাহ্যিকভাবে মার্জিত ও সুদর্শন চেহারার আড়ালে ডা. শুভ্র একজন নারীলোভী চরিত্র বহন করেন বলেও অনেকের মন্তব্য।

সূত্র আরও জানায়, এর আগেও ডা. শুভ্রর বিরুদ্ধে নারী সংশ্লিষ্টতা ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। তবে তৎকালীন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি।

অন্যদিকে বিসিসির ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগের এক নেতাকে দীর্ঘ আট বছর ধরে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন দায়িত্বে রাখার পেছনেও তার প্রভাব রয়েছে।

এ নিয়ে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পৃক্ত থাকার পরও সরকার পরিবর্তনের পরেও ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ্র এখনো সিটি কর্পোরেশনে বহাল রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ্রর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

 

 

 

সূত্র : দৈনিক সময়ের বার্তা

 

 

রাজধানীর গুলশানে পুলিশি অভিযান চলাকালে ফোনে হুমকি পাওয়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক আলমকে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে ডিএমপির আরও তিন কর্মকর্তাসহ মোট চারজন ডিসিকে বিভিন্ন বিভাগে রদবদল করা হয়েছে।

রবিবার (১ মার্চ) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, গুলশান বিভাগের ডিসি রওনক আলমকে মহানগর ডিবির (লালবাগ) বিভাগে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রমনা বিভাগের (ট্রাফিক) ডিসি এম তানভীর আহমেদকে গুলশান বিভাগে, ডিবি লালবাগ বিভাগের ডিসি মো. মোস্তাক সরকারকে মিরপুর বিভাগে এবং মিরপুর বিভাগের ডিসি মো. মইনুল হককে রমনা বিভাগে (ট্রাফিক) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদেশটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গুলশান এলাকায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানের সময় গুলশান ডিসি রওনক আলম একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি ও কাগজপত্র যাচাই করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তির পক্ষে বিদেশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোনের মাধ্যমে ডিসি রওনক আলমকে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় হুমকি দেন। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ফোনের অপর পাশে থাকা ব্যক্তি ডিসিকে শাসিয়ে বলছেন, ‘আপনার নাম কী? আপনি কোন ব্যাচের পুলিশ? আপনি কার সঙ্গে কথা বলছেন জানেন?’ এর জবাবে ডিসি রওনক আলমকে শান্তভাবে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ব্যাচ জেনে আপনি কী করবেন? আমি ২৮তম ব্যাচের।’ কথোপকথনের একপর্যায়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিটি ডিসির অবস্থান এবং ডিউটি সম্পর্কেও আক্রমণাত্মক প্রশ্ন তোলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, এটি সংস্থার চলমান প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নেওয়া একটি স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের বদলি হয়ে থাকে এবং এখানে অন্য কোন বিষয় নেই।

 

 

 

স্ত্রীর মামলায় ওয়ারেন্ট জারির পর থানা পুলিশ গ্রেফতর করে সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে আদালতে সোর্পদ করে স্বামী সফিকুল ইসলামকে (৪১)।

আদালত থেকে ওইদিন বিকেলে জামিনে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে সিএনজিযোগে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সফিকুল ও তার চাচী রিজিয়া পারভীন নিহত এবং আরো দুইজন আহত হয়েছেন।

নিহত সফিকুল ইসলাম বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চরদিয়াশুর গ্রামের হাচেন বেপারীর ছেলে। তিনি (সফিকুল) দীর্ঘদিন থেকে কর্মের সুবাদে সৌদি আরবে ছিলেন। অপর নিহত রিজিয়া পারভীন সফিকুলের প্রতিবেশী চাচা মজিবর ফরাজীর স্ত্রী।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সফিকুল ইসলাম ছুটিতে বাড়িতে আসেন।

একটি ওষুধ কোম্পানির পিকআপের সাথে যাত্রীবাহি সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষের এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট নামক এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেদ আহমেদ জানান, গত দুই বছর পূর্বে প্রবাসী সফিকুলের প্রথম স্ত্রীর লাশ ড্রাম ভর্তি অবস্থায় যাত্রীবাহী একটি লোকাল বাস থেকে ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে সফিকুল ছুটিতে দেশে ফিরে তার শিশু সন্তানদের কথা চিন্তা করে দ্বিতীয় বিয়ে করে পুনরায় সৌদি আরবে পাড়ি জমায়।

সূত্রে আরো জানা গেছে, বিদেশে থাকা অবস্থায় সফিকুলের সাথে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মনোমালিন্য হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সফিকুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত থেকে সফিকুলের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়।

এরইমধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সফিকুল ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে রবিবার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে গৌরনদী মডেল থানার এসআই শিমুল হোসেন আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সফিকুলকে নিজবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন।

সোমবার গ্রেফতারকৃত সফিকুলকে আদালতে সোর্পদ করার পর তার জামিন মঞ্জুর হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সাথে সিএনজিযোগে বাড়ি ফেরার পথে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী সফিকুল ইসলাম ও তার চাচী রিজিয়া পারভীন নিহত হন। অপর আহত দুইজনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।