TT Ads

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) যেন একের পর এক নৈতিক বিপর্যয়ের ল্যাবরেটরিতে পরিণত হয়েছে।সর্বশেষ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে,কারণ,রোগীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই আলোচিত সিনিয়র স্টাফ নার্স রফিকুল ইসলাম আবারও কর্মস্থলে ফিরেছেন!যে ব্যক্তি চিকিৎসা পেশার ন্যূনতম নৈতিকতা ভেঙে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুখ্যাত হয়েছেন, তাকেই আবার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বসানো হয়েছে,এমন দৃষ্টান্ত শেবাচিমের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ভাইরাল কেলেঙ্কারি, তবু পুনর্বাসন!

 

কয়েক বছর আগে রফিকুল ইসলামের প্রায় ২০ মিনিটের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একজন রোগীর সঙ্গে তার অনৈতিক আচরণ দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার জন্ম দেয়। বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি নয়,এটি ছিল চিকিৎসা পেশার ওপর সরাসরি আঘাত।

তৎকালীন তদন্তে বেরিয়ে আসে,একাধিক পরকীয়ার অভিযোগ,নিজের স্ত্রী (যিনি নিজেও একজন নার্স) এর ওপর নির্যাতনের তথ্য,এবং শেবাচিমের আওতাধীন আওয়ামী লীগপন্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বানাপ) থেকে বহিষ্কারসব মিলিয়ে রফিকুল ছিলেন নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অযোগ্য,এমনটাই মত দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ম্যানেজ বাণিজ্য আর মোটা অঙ্কের প্রশ্ন।

 

অভিযোগ রয়েছে, গত ছয় বছরে,বিভাগীয় মামলা,সাময়িক বরখাস্ত,শাস্তিমূলক বদলি,শেষ পর্যন্ত মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে” ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো, সব বাধা পেরিয়ে তিনি আবারও অর্থোপেডিক পুরুষ বিভাগে কর্মরত!এই পুনর্বহাল কি নিছক প্রশাসনিক ভুল!নাকি এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট,তা নিয়েই এখন তোলপাড়।

 

আতঙ্কে সহকর্মী, অনিরাপদ রোগী

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নার্স ও কর্মচারীর বক্তব্য ভয়ংকর বাস্তবতা তুলে ধরে,যার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর নৈতিক অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে ডিউটি করতে আমরা নিরাপদ নই।আজ সে রোগীর সাথে যা করেছে, কাল সহকর্মীর সাথে করবে না,এর নিশ্চয়তা কে দেবে?রোগীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অনাস্থা হাসপাতাল যেখানে নিরাপত্তার প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে এখন ভয়ের পরিবেশ।

 

বেপরোয়া আচরণ ও ওপেন সিক্রেট বাণিজ্য!

 

হাসপাতালে ফেরার পর রফিকুল আরও বেপরোয়া ও দম্ভী হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ। রোগীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নানাভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এখন শেবাচিমে ওপেন সিক্রেট।প্রশাসনের নীরবতা এই অপকর্মকে আরও উৎসাহিত করছে,এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।

 

প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই!

 

এর আগে হাসপাতাল পরিচালক বলেছিলেন, প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কিন্তু প্রশ্ন হলো,প্রমাণ থাকার পরও কীভাবে একজন বিতর্কিত ব্যক্তি পুনর্বহাল হন?কার স্বাক্ষরে, কার সুপারিশে এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত?

 

বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়া,দায় ঝেড়ে ফেলা!

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি।বাংলাদেশ নার্স এসোসিয়েশন (বিএনএ), বরিশালের সহ-সভাপতি শাহে আলম বলেন,বিষয়টি স্পর্শকাতর,এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করবো না।

 

শেবাচিমের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এইচ এম মশিউর রহমান জানান, ঘটনাটি তার আগে জানা ছিল না, তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শেবাচিম কি তবে অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে?রোগীদের নিরাপত্তা, হাসপাতালের মর্যাদা আর চিকিৎসা পেশার গরিমা রক্ষায় এখনই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ইতিহাস প্রশাসনকে ক্ষমা করবে না।

 

TT Ads