বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে ৫ জন নারীসহ ৬ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হলেও এখনো পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেফতার করেনি। আহত ময়না বেগম (৪০), খুকু বেগম (৩৫), রেশমি বেগম (২৮) ও মিথিলা বেগম (১৯) রক্তাক্ত জখম হলে চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া হেলাল খান (৪৮) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
উপজেলার পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৮ টার সময় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত মোঃ হেলাল উদ্দিন খান বাদী হয়ে ১২-১৩ জনকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৩৩।
মামলা সুত্রে জানা যায়, উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামের মোঃ হেলাল খানের সাথে জমিজমার ভাগ বটন নিয়া একই বাড়ীর মোঃ জহিরুল ইসলাম লিটন খানের বিরোধ চলছে। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করিয়া আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম লিটন খান, জাহাঙ্গীর হোসেন খান ও আব্দুল্লাহ খানের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার সময় পরিকল্পিতভাবে হাতে দা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে হেলাল উদ্দিনের বসতবাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করে তার শালিকা রেশমি বেগমকে অতর্কিতভাবে কিল ঘুষি লাথি মারিয়া ফুলা জখম করে। ওই সময় তার ডাক চিৎকার শুনিয়া ময়না বেগম, খুকু বেগম, মিথিলা বেগম এগিয়ে এলে খুনের উদ্দেশ্যে তাদেরকে দা দিয়ে কোপ দেয়। এতে ৩ জনের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।
আহত মোঃ হেলাল উদ্দিন খান জানান, স্বাধীনতা দিবসের দিন তার স্বাধীনতা খর্ব করে আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাকে ও তার স্ত্রী খাদিজাকে মারধর করে। ওইদিন তিনি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে ওই সুযোগে সন্ত্রাসীরা তার মেয়ে ও শালিকাসহ আরও ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো পুলিশের সহযোগিতায় আসামিরা তাদেরকে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং তাদেরকে গুম খুন করবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। তিনি ও তার পরিবার এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার কে এম সোহেল রানা বলেন, চরামদ্দি গ্রামে মারামারির ঘটনায় থানায় একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।







