পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফের প্রায় ৬ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে জেলেদের উপস্থিতিতে বস্তা গণনার সময় এই অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় তোপের মুখে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
কালাইয়া ইউপি সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৯২১ জন। তাদের জন্য মোট ৭৩.৬৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের মোট ২ হাজার ৪৫৬ বস্তা চাল ছাড় করা হয়।
কালাইয়া ইউপি সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৯২১ জন। তাদের জন্য মোট ৭৩.৬৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের মোট ২ হাজার ৪৫৬ বস্তা চাল ছাড় করা হয়।
কিন্তু বিকেল ৪টার দিকে ইউপি কার্যালয়ের সামনে জেলেদের উপস্থিতিতে বস্তা গণনা করতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২ হাজার ২৬৪ বস্তা চাল রয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ১৯২ বস্তা চাল কম পাওয়া যায়, যার পরিমাণ ৫.৭৬ মেট্রিক টন। বর্তমান বাজারমূল্যে এই চালের দাম আনুমানিক ২ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা।
চাল গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার, ইউপি সচিব আবু বক্কর ছিদ্দিক এবং তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন।
তদারকি কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক বস্তা আলাদা করার পর গণনায় ঘাটতি ধরা পড়ে। নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ১৯২ বস্তা কম পাওয়া গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকেই সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে চালের একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবালুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ইউপি সচিব আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, “গুদাম থেকে নির্ধারিত সব চালই গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ১৯২ বস্তা চাল কোথায় গেল, তা আমরা নিশ্চিত নই।”
এ প্রসঙ্গে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ভুল হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এমন আর হবে না।” এ সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”







