বরিশাল॥ বরিশালের গৌরনদীতে সাকুরা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দুপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (এবি সিদ্দিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার সাথে ) দুপুরের দিকে গৌরনদী উপজেলার দক্কিন বিজয়পুর এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ছিল। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়ে আহত হন।

খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় ।

কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা মাঝারি পর্যায়ে হলেও সবাই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি ও চালকের অসাবধানতাকে দায়ী করছে।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে হাইওয়ে পুলিশ।স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের ওই অংশটিতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

বরিশাল নগরের চাঁদমারি এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে সন্দেহজনক অবস্থায় ভোলার প্রবাসীর স্ত্রী লাবনী বেগম এর সাথে তার পরকীয়া প্রেমিক  বাচ্চু আহমেদকে আটক করে স্থানীয়রা।  ঘটনাটি সম্প্রতি ঘটে বলে জানান এলাকাবাসী। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি গোপনে সমাধানের প্রচেষ্টা চলে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, চাঁদমারি ও আশপাশের আবাসিক হোটেলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটছে। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় এসব হোটেল দিন দিন অবৈধ কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে বলে দাবি করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

তাদের মতে, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও কড়া তদারকি না থাকায় এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। জননিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলার স্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

 

 

 

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে অটোরিকশায় চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে আরিফ সরদার (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার কাজিরহাট থানার চরসোনাপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আরিফ সরদার চরসোনাপুর গ্রামের হেলাল সরদারের ছেলে। তিনি অটোরিকশা চালাতেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের ভাই রিয়াজ সরদার জানান, বুধবার দুপুরে অটোরিকশার চার্জ শেষ হয়ে গেলে আরিফ একাই ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে যান। ওই সময় তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে মারাত্মক আহত হন।

পরে বাড়ির লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আরিফকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সাইয়েদুর রহমান বলেন, বিদ্যুতায়িত যুবককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিলো।

কাজিরহাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে লাশ দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ কালাম ওরফে লুডু কালামকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে ধান গবেষণা রোড এলাকার নিজ বাসা থেকে মোহাম্মদ কালাম ওরফে লুডু কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সহসভাপতি। কালাম ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মোতালেবের ছেলে।

কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার কালামকে বিএনপির অফিস পোড়ানোসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা লুডু কালাম ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এলাকায় মানুষকে জুলুম-নির্যাতন ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে ভোগান্তিতে ফেলেছিলেন। এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান।

 

রুপাতলী গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন খাল দখল করে গুদাম নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে বর্ষা মৌসুমে রুপাতলীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের উকিলবাড়ী সড়কসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বহু বছর ধরে এমন ভোগান্তি চললেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।

স্থানীয়রা জানান, বরিশাল জেলা পরিষদের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই বহু বছর আগে খালের ওপর গুদামটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের প্রতিবাদে কোনো ফল হয়নি বলেও তারা অভিযোগ করেন।

উকিলবাড়ী সড়কের বাসিন্দা কামাল জানান, “রুপাতলী বটতলা হয়ে মহাসড়কের পাশে এই খালটি একসময় নৌকা ও ট্রলার চলাচলের পথ ছিল। এখন দখলের কারণে খালটি মৃতপ্রায়। খাল দখল করে গুদাম তুলে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছে তারা, আর বর্ষায় আমরা পানি বন্দি হয়ে থাকি।”

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি।

 

বরিশালে টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ, দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক।

বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের প্রতাপ এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭নভেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যার দিকে গাবখান ব্রিজের পশ্চিম ঢাল এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেলসহ তাদের আটক করে।

আটক যুবকরা হলেন—ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের টিপু হাওলাদার, যিনি উপজেলা ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য বলে পরিচিত, এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পারদেশীপুর ইউনিয়নের ওলি, যিনি বাকেরগঞ্জ পারদেশীপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ৪ জন যুবক দুটি মোটরসাইকেলে করে ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের প্রতাপ এলাকায় এসে টায়ারে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে দ্রুতস্থান ত্যাগ করে। কিছুক্ষণের মধ্যে সড়কে আগুন দেওয়ার সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ বলছে, আটক টিপু হাওলাদার ও ওলি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিব মাহমুদ অপু ও সদস্য দিপুসহ তাদের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় গাছ কেটে অবরোধ সৃষ্টি, বাড়িতে ভাঙচুরসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। ওলিকে স্থানীয়ভাবে “ভাড়াটিয়া খুনি” হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানায়, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আটক দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পেছনে কারা জড়িত আছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

 

বিশেষ সূত্রে জানা যায় :- এর আগেও ৭৫ পিস ইয়াবা সহ নগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে ওয়ালিদ হোসেন অলি (২০)। নগরীর বাংলাবাজার ইঞ্জিনিয়ার সড়কস্থ জনৈক মুসা মিয়ার ভবনের নীচ তলা ভাড়ার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বিএমপি গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. ফিরোজ আলম বাদি হয়ে ওয়ালিদ হোসেন অলি আসামি করে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিকে থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করলে সোমবার (২৫ আগস্ট) বিচারক জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এই অলি হলেন- নগরীর ১১ নং ওয়ার্ড আরশেদ আলী সড়ক এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং নগরীর বাংলাবাজার এলাকার আ.লীগ ক্যাডার, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ রুবেল শরীফ (৪০) ওরফে নাক কাটা রুবেল ও তার ভাই রাজনের বিশ্বস্ত সহযোগী।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিক্তিতে রোববার (২৪ আগস্ট) রাত আট টায় অলির ভাড়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে কেবিনেটের মধ্যে থাকা জামা প্যান্টের নীচ থেকে দায়েরকৃত মামলার স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে ৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

 

 

বরিশালে মজিবুর রহমান সরোয়ার এর নেতৃত্বে বিএনপির ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ।

বরিশাল নগরীর ৩০ নং ওয়ার্ডস্থ গড়িয়ারপাড় এলাকায় বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার এর নেতৃত্বে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে হাতে লিফলেট তুলে দেন এবং বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনার মূল ধারনাগুলো জনসাধারণের কাছে ব্যাখ্যা করেন।

সরোয়ার বলেন, “বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রাষ্ট্রে পরিণত করতে ৩১ দফা বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে সরোয়ারের সাথে ছিলেন ৩০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সজীব বেগ মিসাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী নিজাম উদ্দিনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

নেতারা বলেন, জনগণের সাথে বিএনপির সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়াতে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের এই দফাগুলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তাদের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় এলাকাবাসী সরোয়ারের এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি জনগণের মতামত ও প্রত্যাশা বোঝার এই উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল অনেক আগেই।

 

 

বরিশাল বিভাগের  ভোলার লালমোহন উপজেলায় মো. ফরিদ (৩৭) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বসতঘর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ফরিদ ওই এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গ্রেফতার ফরিদ নিজেকে কবিরাজ পরিচয় দিতেন। তার টার্গেট ছিল নারীরা। যেসব বাড়িতে পুরুষরা থাকতেন না, সেসব বাড়িতে গিয়ে নারীদের বলতেন স্বামী তাকে ভালোবাসেন না। তার স্বামীর ওপর জিন ভর করেছে। ওই জিন দূর করলে স্বামী তাকে ভালোবাসবেন। যার জন্য ঘরের সকল স্বর্ণালঙ্কার একটি গøাসে রাখতে বলতেন নারীদের। এরপর তার টার্গেটে থাকা নারীকে বিভিন্ন খাল এবং পুকুর থেকে পানি আনতে পাঠাতেন। এই সুযোগে দামি সব স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চম্পট দিতেন ফরিদ।

ওসি বলেন, কয়েকদিন আগে লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চরউমেদ এলাকার এক ভুক্তভোগী নারী থানায় অভিযোগ করেন। ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে ফরিদের অভিনব এই প্রতারণার ঘটনা। এরপর মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মো. এরশাদ উকিল সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে প্রতারক ফরিদকে নিজ বসতঘর থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণা করে নেওয়া স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম আরো বলেন, ভোলাসহ অন্য জেলায় গিয়েও এ ধরনের প্রতারণা করতেন ফরিদ। তার বিরুদ্ধে এমন প্রতারণার অভিযোগে নোয়াখালী ও ভোলাসহ বিভিন্ন থানায় কয়েকটি মামলা রয়েছে। লালমোহন থানায়ও তার বিরুদ্ধে নতুন করে আরেকটি প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতারণার বিষয়ে আরো জানতে ফরিদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরের দিন মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বারে ভাঙ্গা থেকে ঢাকার দিকে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহনে ভোর থেকেই ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই কার্যক্রম তদারকিতে ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল, ভাঙ্গা থানার ওসি আশরাফ হোসেন এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি রোকিবুজ্জামানসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।

ফরিদপুর পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল জানান, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে।

সকাল থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালিয়েছে। এছাড়া হাইওয়ের এক্সপ্রেসপথের চতুর্মুখী স্থানে সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

ভাঙ্গা উপজেলার মাধ্যমে চলাচলকারী প্রতিটি সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহাসড়কে টহল দিচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে মারাত্মক আহত করার অভিযোগে হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা হয়। যার রায়ে সোমবার (১৭ নভেম্বর) হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেয় বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

 

 

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গাছ ফেলে ২ ঘণ্টা অবরোধ।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে জেলার রাজৈর উপজেলার কামালদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

এর আগে, মহাসড়কের গোপালপুর ও মেলকাইসহ প্রায় ৮টি স্থানে ১২টি মোটা গাছ ফেলে অবরোধ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের আমগ্রাম ব্রিজ ও কামালদি ব্রিজের মাঝামাঝি একটি স্থানে গাছ কেটে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় তারা। এ সময় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রী ও চালকদের।

পরে রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হয়। রাজৈর থানা ও মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে গাছ সরিয়ে সকাল ৭টার দিকে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেকেরহাট পোর্ট স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার মো. ইসমাইল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা খবর পেয়ে ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করি। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সকাল ৭টার দিকে সড়কের ওপর থেকে গাছটি সরাতে সক্ষম হই। গাছটি মহাসড়কের পাশ থেকে কেটে সড়কের ওপরে ফেলা হয়েছে।

মাদারীপুরের মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভোরের দিকে মহাসড়কে গাছ ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন বাস্তবায়নে গত রোববার (১৬ নভেম্বর) ভোরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গাব্রিজ থেকে ভূরঘাটার মাঝামাঝি ৮টি স্থানে ১২টি গাছ ফেলে অবরোধ করা হয়। এ সময় মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন দলটির নেতাকর্মীরা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করেন তারা।

এতে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর কালকিনি থানা, ডাসার থানা ও মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।