পটুয়াখালীর দশমিনায় নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছেন সুমি (৩০) নামে এক গৃহবধূ। তিনি দশমিনা থানার এএসআই সহিদুল আলমের স্ত্রী। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে থানাসংলগ্ন ওই পুলিশকর্তার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সুমির শরীরের ৫০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন চিকিৎসক। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দশমিনা থানাসংলগ্ন বাড়ির মালিক হারুন ফরেস্টার যুগান্তরকে জানান, তার তৃতীয়তলা ভবনের নিচতলায় স্ত্রী নিয়ে থাকতেন দশমিনা থানার এএসআই সহিদুল আলম। বিয়ের পর দীর্ঘদিন ধরে বাচ্চা না হওয়ার কারণে প্রায়ই দুশ্চিন্তা ও পাগলামি করতেন সুমি।

এ নিয়ে অনেক চিকিৎসক ও কবিরাজ দেখিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তবে সহিদুল তার স্ত্রীর প্রতি সব সময় সন্তুষ্ট ছিলেন ও পারিবারিক কোনো কলহ ছিলনা বলে বাড়ির মালিকের দাবি।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন সহিদুলের স্ত্রী নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। পরে তিনিসহ সুমির স্বামী ও থানার পুলিশরা তাকে উদ্ধার করে দশমিনা হাসপাতালে নিয়ে যান।

দশমিনা হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার মিঠুন চন্দ্র হাওলাদার জানিয়েছেন, ওই পুলিশ কর্তার স্ত্রী সুমির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরের ৫০ শতাংশের বেশি আগুনে পুড়ে গেছে। তাকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিমে প্রেরণ করা হয়েছে। সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয় দশমিনা থানার এএসআই সহিদুল আলমের নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। দশমিনা থানার ওসি (তদন্ত) অনুপ দাস বলেন, এএসআই সহিদুলের স্ত্রী ঢাকায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তাদের পারিবারিক কোনো কলহ ছিল না।

 

ঝালকাঠির বাস শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে ঝালকাঠি-বরিশাল রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু করে ঝালকাঠি আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।

আকস্মিক বাস ধর্মঘটের কারণে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অন্যান্য যানবাহনে করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে বিপাকে পড়েছেন ঝালকাঠি থেকে বরিশাল রুটের যাত্রীরা।

জেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, দুপুর ১১টার দিকে রূপাতলী বাস টার্মিনালে গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির বাস শ্রমিকদের ওপর দলবদ্ধ হয়ে হামলা করে রূপাতলী বাস টার্মিনালের শ্রমিকরা। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার দাবিতে ঝালকাঠি-বরিশাল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এ ঘটনার পর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা তাৎক্ষণিক বৈঠক ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের ডাক দেন।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, বরিশালের ররূপাতলী বাস মালিক সমিতি ঝালকাঠির মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের ওপর সবসময় অত্যাচার চালিয়ে আসছে। শ্রমিকদের মারধরের ঘটনাও প্রায়ই ঘটে। এ জন্য চালক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাবে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে বাস ও মিনি বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে সেটি সমাধানের চেষ্টা চলছে। সমস্যা সমাধান হয়ে গেলেই বাস চলাচল শুরু হবে।

 

জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে বিভিন্ন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন। মনোনয়নপত্র বিতরণ ৮ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আনিছুর রহমান।

বুধবার রাজধানীর ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে তা জামা দেন তিনি। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন, ছেলে সৈয়দ শামসুদ্দোহা আবিদ, মেয়ে জামাতা মামুন হোসেন, আনোয়ার হাওলাদার প্রমুখ। সৈয়দ আনিছুর রহমান ১৯৭১ সালে বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর আহবানে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। ১৯৭২ সালের ১৬ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরীতে যোগদান এবং ৭৫ এর ১৫ আগস্ট মর্মান্তিক হত্যা কান্ডের পরে ১৯ আগস্ট সেচ্ছায় চাকুরী থেকে অব্যহতি গ্রহন করে প‍ুনরায় আওয়মী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন। ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে যুবলীগের বরিশাল জেলা শাখার সমাজ সেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে বরিশাল জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক, এবং জেলা কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, ২০১৬ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি রাজনীতি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধ ৭১ সেক্টর কমান্ডারস্ এর সভাপতি, বরিশাল বিভাগীয় বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের উপদেষ্টা, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টা, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র জেলা কমিটির উপদেষ্টা, শায়েস্তাবাদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে বরিশাল থেকে পাচ জন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সরকারী কৌশলী এ্যাডভোকেট এ কে এম জাহািঙ্গর, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রশাসক মাইদুল ইসলাম, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খান আলতাব হোসেন ভুলু, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আনোয়ার হোসাইন (ভিপি আনোয়ার)।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমমিন (ইসি)। আগামী ১৭ অক্টোবর স্থানীয় এই সরকারের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ষষ্ঠতম কমিশন সভা শেষে গত মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ নির্বাচনের এ তফসিল ঘোষণা দেন। তফসিল অনুযায়ী-মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৮ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর, আপিল নিষ্পত্তি ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ২৬ সেপ্টেম্বর। আর ভোটগ্রহণ ১৭ অক্টোবর।

 

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে টিকটক তৈরি করার দায়ে তিন ছাত্রীকে ছাড়পত্র দিয়েছে বরিশালের হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ছাড়পত্র পাওয়া শিক্ষার্থীদের নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম ফখরুজ্জামান।

শিক্ষক এসএম ফখরুজ্জামান বলেন, ‘তিনছাত্রী স্কুলড্রেস পরা অবস্থায় ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ছেলে বন্ধুদের নিয়ে নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। তারা টিকটক তৈরিতে ব্যস্ত থাকতেন।

এছাড়া শ্রেণি শিক্ষকদের দেওয়া মতামতে তাদের ক্লাস পারর্ফমেন্সও নূন্যতম ছিল না। পরে আমরা তাদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়া এবং ঘুরে বেড়ানোর ভিডিও পাই। সেগুলো তাদের অভিভাবকদের ডেকে উত্থাপন করি এবং ছাত্রীদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিয়ম মেনে না চলার প্রভাব হয়তো বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ওপর পরতে পারে এমন ধারণা থেকেই আমাদের কঠোর হতে হয়েছে।

 

বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বাকেরগঞ্জের কাঠেরপুল এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মালবাহী ট্রলির চালক ও হেলপারসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ আলাউদ্দিন মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন-বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের তবিরকাঠী গ্রামের জহিরুল ইসলাম, বায়েজিদ হোসেন ও রকিবুল ইসলাম।

ওসি আলাউদ্দিন মিলন বলেন, কুয়াকাটা থেকে যাত্রীবাহী বাস হুমায়ুন পরিবহন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বরিশালে যাবার পথে বাখরকাঠী একটা মালবাহী খালি ট্রলি মহাসড়কের কাঠেরপুল এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলে ট্রলি চালক নিহত হন এবং ট্রলির অন্য দুজন যাত্রীকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক|| বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শামসুদ্দোহা আবিদের এর পক্ষ থেকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকল শহীদের রূহে্র মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত এর আয়োজন করা হয়েছে।গতকাল জোহর নামাজ বাদ নগরীর অদুদিয়া জামে মসজিদ, কলমি লজ জামে মসজিদ এবং রোকেয়া আজিম রোড জামে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।এরপর নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।

 

বরিশালে ৫ কেজি গাঁজা ও ৭ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (১৫ আগস্ট) রাত থেকে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত নগরীতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়াসেল।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের মো. ফারুক জোমাদ্দার (৬৫), নগরীর সাগরদী দারোগা বাড়ী মসজিদ এলাকার মো. জামাল মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া মো. রাব্বি হোসেন (১৯), গগন গলি শিশু পার্ক কলোনীর মো. মিরাজ হাওলাদার ওরফে কডা মিরাজ (২২) এবং বন্দর থানাধীন চরকরঞ্জী হাজী বা‌ড়ি এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে তানভীর খান (২৫)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত পৌনে ৪ টায় নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডের রকেট ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ৪ কেজি গাঁজাসহ মো. ফারুক জোমাদ্দারকে গ্রেফতার করা হয়। একইদিন ভোরে ৯নং ওয়ার্ডের দুইতলা লঞ্চ ঘাটের পল্টুনে অভিযান চালিয়ে মো. রাব্বি হোসেনকে গ্রেফতার করে ১ কেজি গাঁজা উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁরই তথ্য সহযোগি মো. মিরাজ হাওলাদার ওরফে কডা মিরাজকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৭ টায় সদর উপজেলার ৪নং ওয়ার্ডের বেলতলা-ঘো‌পেরহাট গামী রাস্তার উপর অভিযান চালিয়ে ৭ পিস ইয়াবাসহ মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে তানভীর খানকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে জানায় পুলিশের মিডিয়াল সেল।

 

রাজধানীর চকবাজারে চারতলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার বরিশাল হোটেল মালিক মো. ফখর উদ্দিনকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম এর আদালত এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই রাজীব কুমার সরকার আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে এই রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নাকচ করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর চকবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তাচ্ছিল্যভাবে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা, যার ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গত ১৫ আগস্ট চকবাজারের পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানার অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তারা ওই ভবনের নিচতলায় বরিশাল হোটেলের কর্মচারী।

 

জয় (ছদ্মনাম) নামে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক ছাত্র প্রতিষ্ঠানটির শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের সামনে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি শেরে বাংলা হলের থাকেন।
জানা গেছে, তার প্রেমিকা মেঘা (ছদ্মনাম) ববির শেখ হাসিনা হলে থাকেন। মেঘার সঙ্গে জয়ের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের।

দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যের কারণে জয় নিজেকে শেষ করে দেওয়া চেষ্টা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা হলের গেটম্যানরা জানান, জয় ও মেঘা দুজনই হলের গেটের সামনে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় জয় তার প্রেমিকাকে আত্মহত্যার হুমকি দেন। এ সময় এক শিক্ষক সেখানে আসেন, দুজনকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

কিছুক্ষণ পরে জয় তার প্রেমিকার হলের সামনে আসেন, এবং চাকু দিয়ে নিজেকে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর ড. মো. খোরশেদ আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে জয়কে নিরস্ত্র করেন।

এ ব্যাপারে প্রোক্টর খোরশেদ আলম বলেন, ঘটনা জেনেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। তারপর শেখ হাসিনা হলে যাই দ্রুত। ঘটনাস্থল থেকে ওই ছাত্রকে নিরস্ত্র করে পরিস্থিতি শান্ত করি। ছেলেটি খুবই আবেগী, তাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট ও শেখ হাসিনা হলের আবাসিক শিক্ষকদের উপস্থিতিতে আমরা তাদের দুজনের সঙ্গে কথা বলেছি। সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক আমাদের নজর থাকবে।

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে বরগুনায় ছাত্রলীগের সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। আজ মঙ্গলবার ছাত্রলীগের দপ্তর সেল থেকে দেওয়া সংগঠনের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বিদ্যুৎ এবং উপ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুর রশিদ রাফি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক সিদ্ধান্ত মোতাবেক সোমবার বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনার তদন্তের স্বার্থে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগামী তিনি কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার বরগুনায় জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনের ভেতরে থাকা ছাত্রলীগের একপক্ষের নেতাকর্মীদের পিটিয়ে বের করে দেয় পুলিশ।

পুলিশের পিটুনির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনের ভেতরে ঢুকে যায়। এ সময় পুলিশ সেখানে ভবনে ঢুকে ছাত্রলীগ কর্মীদের পিটিয়ে বের করে দেয়। দৌড়ে বের হওয়ার সময় একাডেমির সড়কে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে পুলিশ সদস্যরাও তাদের পেটাতে থাকেন। পিটুনি খেয়ে অনেকে সড়কে পড়ে যান। সেখানেও তাদের পেটানো হয়।

ওই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশেষ করে এমপির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই আলোচনার মধ্যেই তাকে বরগুনা থেকে বরিশাল রেঞ্জে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।