জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেলেন আশোকাঠির হালিম ইঞ্জিনিয়ারের ছেলে সুমন মোল্লা। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ২০১৬ সনে কাজ শুরু করলেও, সম্প্রতি জতিসংঘের মহাসচিব তাকে জাতিসংঘের দীর্ঘ মেয়াদী স্থায়ী আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দান করেন।

কনিষ্ঠতম বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ মেয়াদী নিয়োগ প্রাপ্তিতে বাংলাদেশ মিশন তাকে অভিনন্দন জানায়।

বর্তমানে তিনি দক্ষিণ সুদানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অপরাধী শনাক্ত করা দলের দলনেতা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখার পূর্বে তিনি ‘সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থ্যা’ তে কর্মরত ছিলেন।

গৌরনদীতে শিক্ষার্থী ছিলেন আশোকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পালরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, পরবর্তীতে টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটার সায়েন্স ও কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন একাধিক দেশি ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মস্থল দক্ষিণ সুদানেই তার বসবাস তবে তার স্ত্রী ও মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।

মো:রাজিবুল হক(বরগুনা জেলা সংবাদদাতা):
প্রথম স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে কনডেম সেলে বন্দি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর স্বপন কুমার বিশ্বাস। নিম্ন আদালতের ফাঁসির রায় হাইকোর্টেও বহাল থাকায় এর বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। এ অবস্থায় কারাগার থেকে তাঁর মামলাটি পরিচালনার জন্য এক আবেগঘন চিঠি লেখেন দেশবরেণ্য ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেনের কাছে। চিঠি পেয়ে মাহবুব হোসেন সিদ্ধান্ত নেন, বিনা পয়সায় ওই আসামির মামলা পরিচালনা করবেন। করলেনও তা-ই। আর এ মামলায় শুনানি শেষে গতকাল সোমবার স্বপনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর স্বপন কুমারকে অবিলম্বে কনডেম সেল থেকে বের করে সাধারণ সেলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে সাজার ক্ষেত্রে রেয়াতসংক্রান্ত আইনের সব সুবিধা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বপন কুমারের পক্ষে বিনা পয়সায় মামলা পরিচালনাকারী খন্দকার মাহবুব হোসেনকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রের নিযুক্ত আরেক আইনজীবী ছিলেন হাসিনা আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।

এদিকে খন্দকার মাহবুব হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘আপনার এই কার্যক্রম আমরা লিখিত রায়ের মধ্যে উল্লেখ করব।’ প্রধান বিচারপতি এ রকম বিনা পয়সায় আরো মামলা পরিচালনার জন্য খন্দকার মাহবুব হোসেনের প্রতি আহবান জানান। জবাবে মাহবুব হোসেন বলেছেন, আদালত দায়িত্ব দিলে তিনি এ রকম মামলা করতে রাজি আছেন।

 কোপা আমেরিকার ফাইনালে আগামীকাল রোববার ভোর ৬টায় মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। আর এই খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘাত এড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে আজ শনিবার সকাল থেকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে।
এই বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘প্রচারণা চালাতে আমার গাড়িতেও মাইক লাগিয়েছি। এ ছাড়া সদর মডেল থানাধীন ১৫টি বিটের কর্মকর্তারা মাইকিং শুরু করেছে। বাইরে প্রজেক্টরে গণজমায়েত হয়ে খেলা দেখা যাবে না, বাসায় বসে খেলা দেখতে হবে। এ ছাড়া খেলা পরবর্তী কোনো বিজয় মিছিল করা যাবে না।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘রোববার ভোর ৬টা থেকে কোপা আমেরিকার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এই খেলা নিয়ে এরইমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাই জেলা পুলিশ থেকে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থার নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল খেলা যেন খোলা জায়গায় বড় স্ক্রিনে, কোনো ক্লাবে বা চায়ের দোকানে দেখার আয়োজন না করা হয়, তা আমরা মাইকিং করে জানিয়ে দিচ্ছি। ফাইনাল খেলার দিন ভোর ৫টা থেকে মাঠে থাকবে পুলিশের বিশেষ টিম। এ ছাড়া জেলার ১১৬টি বিটে চারজন করে কাজ করবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। খেলা শেষ হওয়ার পর কোনো অবস্থাতেই বিজয় মিছিল করা যাবে না। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা চাইব।’
উল্লেখ্য, খেলা নিয়ে তর্কবিতর্কের জেরে গত ৬ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নে রেজাউল নামের এক ব্রাজিল সমর্থকের চাচা নোয়াব মিয়াকে (৬০) মারধর করেন আর্জেন্টিনা সমর্থক জীবন মিয়ার লোকজন। এই মারধরের জেরে একই দিন রাতেই আর্জেন্টিনা সমর্থক জীবনের তিন সহযোগীকে মারধর করেন ব্রাজিল সমর্থক রেজাউলের লোকজন। বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ খবর উঠে আসে সুদূর আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমেও!
বরিশালে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বরিশাল সদর ছাড়া বিভাগের অন্য জেলা বা উপজেলা থেকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) সাধারণ রোগী পাঠাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর।
শনিবার দুপুরে বিষয়টি নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: বাসুদেব কুমার দাস।
এই মধ্যে বরিশাল বিভাগের সব জেলা সিভিল সার্জন, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই চিঠি পাঠানো হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা ওই চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাসুদেব কুমার দাস বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বরিশালজুড়ে দিন দিন বাড়ছে। যার মধ্যে বরিশাল মহানগরীতে আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ রোগী যারা রয়েছেন- যেমন অল্প জখম, সর্দি বা কাশির রোগী, যাদের চিকিৎসা জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে সম্ভব ওইসব রোগী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। এছাড়া বহির্বিভাগে রোগী সংখ্যা তো এমনিতেই অনেক। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই রোগীর সংখ্যা আরো বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। যেসব রোগীর চিকিৎসা জেলা বা উপজেলা হাসপাতালে দেয়া সম্ভব তারাও ভিড় করছেন এই হাসপাতালে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে বাসুদেব দাস বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার পরও যদি কোনো রোগী বরিশাল মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয় তাহলে ওই রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হবে। ফিরিয়ে দেয়া হবে না।’
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওই চিঠির বিষয়টি ঝালকাঠীর সাধারণ মানুষের মধ্যে জানাজানি হলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই বলছেন, মানুষ বাধ্য না হয়ে কেউ টাকা খরচ করে বরিশাল মেডিক্যালে যায় না। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে যাদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয় কেবল তাদেরকেই তো উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে বলেই মনে করেন তারা।
র‍্যাব-৮,সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প আজ শনিবার আনুমানিক পৌনে ৩ টায় একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনাকালে আনুমানিক ১২:১০ ঘটিাকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বরগুনা জেলার আমতলী থানাধীন আমতলী ফেরীঘাট সংলগ্ন শুভ্রত দাসের চায়ের দোকানের সামনে বট গাছের নিচে কে বা কাহারা মাদক দ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়/বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করিতেছে।
প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোম্পানী অধিনায়ক লেঃ কমান্ডার জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম, (এস), পিসিজিএমএস, বিএন এর নের্তৃত্বে বিকাল আনুমানিক ১৪:৪৫ ঘটিকায় উক্ত স্থানে উপস্থিত হলে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে র‍্যাব- সদস্যরা ঘেরাও পূর্বক ০১ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম হলো মোঃ ইব্রাহিম খলিল(২৪), পিতা-মোঃ জাহাঙ্গীর মাতুব্বর, সাং-চালিতাবুনিয়া চাওরা বাঁশতলা, ০৬ নং ওয়ার্ড, থানা-আমতলী, জেলা-বরগুনা।
আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে পেশায় সে একজন মোটরসাইকেল চালক হলেও ইয়াবাই তারদের প্রকৃত ব্যবসা। উক্ত আসামীর নিকট হতে ৩৩(তেত্রিশ) পিস কথিত ইয়াবা, ০১ টি মোবাইল ফোন এবং ০১ টি সীম উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত কথিত ইয়াবা ট্যাবলেটের বাজারমূল্য অনুমানিক মূল্য (৩৩×৩০০) = ৯,৯০০/- (নয় হাজার নয়শত টাকা)। এলাকায় দীর্ঘ দিন যাবত কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়/বিক্রয় করিয়া আসিতেছে।
উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামীকে বরগুনা জেলার আমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে র‍্যাব-বাদী হয়ে বরগুনা জেলার আমতলী থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
 নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, রূপগঞ্জে নির্মম অগ্নীকান্ডে নিহত শ্রমিক হত্যার দায় স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও।
কেননা, তাঁর পুলিশ-প্রশাসন-ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের আমলারা দুর্নীতির মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ এই কারখানার অনুমোদন দিয়েছে। যার পেছনে তাঁরও ইন্ধন রয়েছে।
আর তাই নতুন প্রজন্ম তাঁকে অব্যহতি দেয়ার পাশাপাশি গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানাচ্ছে।
একই সাথে সেজান জুসের মালিক, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক, কলকারখানা সংশ্লিষ্ট সকল আমলাকে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় না আনা হলে অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেয়া হবে।
১০ জুলাই বিকেল ৫ টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ ও শোকসভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।
প্রেসিডিয়াম মেম্বার রাবেয়া বেগম চৌধুরীর সভাপতিত্বে তোপখানা রোডস্থ কার্যালয়ে এসময় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল হক খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিপুন মিস্ত্রী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা এসময় অনতিবিলম্বে অর্ধশতাধিক নিহত শ্রমিকের পরিবারকে কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পাশাপাশি সরকারিভাবে আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানান।
 মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেন পষন্ড স্বামী। শনিবার রাতে বরিশাল নগরীর ১০নং ওয়ার্ড বরফকল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ওই গৃহবধূর নাম সাহিদা বেগম, সে ওই এলাকার মাদকসেবী বাচ্চু সরদারের স্ত্রী। তিনি জানায়, ‘আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করতেছে। আর মাদক সেবনের কারনে প্রায়ই বাসায় ঝামেলা করে।
আমি মাদক সেবন করতে বারন করায় সে আমাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। তাকে সহযোগীতা করেছেন তার মা। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।’ এদিকে হামলার পর বাচ্চু সরদার ও তার মা নিজেদের রক্ষায় বাসা থেকে পালিয়ে যায়।
পরে এলাকাবাসীর সহযেগীতায় সাহিদা বেগমকে রাতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় সাহিদা বেগম।
 গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৬ হাজার ১৮৯ জনের।
নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৭৭২ জন। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জনে। মৃত ১৮৫ জনের মধ্যে পুরুষ ১২১ জন এবং ৬৪ জন নারী।
গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ০১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ।
শনিবার (১০ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাছিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৭৫৫ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৬৮ হাজার ১৩৯ জন।
সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১৩টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৩০টি, জিন এক্সপার্ট ৪৮টি, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ৪৩৫টি।
এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৭ হাজার ২৩১টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ হাজার ৮৮৪টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ১৫২টি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৮৫ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩ জন, খুলনা বিভাগে ৫১ জন, বরিশাল বিভাগে ১০ জন, সিলেট বিভাগে সাত জন, রংপুর বিভাগে ১১ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে তিনজন রয়েছেন।
মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরে ঊর্ধ্বে ৯২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন ও শূন্য থেকে ১০ বছরের নিচে একজন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ দিন আগে অসুস্থ মা মাহিনুরকে (৫০) রেখে চলে যান ছোট ছেলে ইব্রাহিম। এরপর থেকে মায়ের আর কোনো খোঁজখবর নেননি তিনি। জানতে পেরে মিন্টু নামের স্থানীয় এক যুবক অসুস্থ ওই নারীর দেখভাল করেন। অবশেষে শুক্রবার (৯ জুলাই) ইব্রাহিমের সন্ধান পাওয়া যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫ জুলাই সকালে মাহিনুরকে কলাপাড়া হাসপাতালে রেখে কাউকে কিছু না বলে সটকে পড়ে ছেলে ইব্রাহিম (১৬)। সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও রোগীর পাশে কাউকে না দেখতে পেয়ে হাসপাতালের আয়ারা মিন্টুকে নামের এক যুবকের কাছে জানান। পরে ওই যুবক অসুস্থ নারীর দেখাশোনা করেন।

এ বিষয়ে মিন্টু বলেন, ‘আমি হাসপাতালে একটি কাজে এসেছিলাম। আমাকে তার ব্যাপারে বলা হয়। তার কাছে গিয়ে দেখি তিনি উঠতে পারে না, কান্নাকাটি করেন। আমি তাকে কোলে করে তার সব কাজ করে দিয়েছি এই পাঁচদিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার থেকেই তার পরিবারের খোঁজ করি। তারপর শুক্রবার সন্ধ্যায় কুয়াকাটা জন্মভূমি ক্লাবের সভাপতি কেএম বাচ্চু ভাই আমাকে তার ছেলের সন্ধান দেন।’

খোঁজ নিয়ে গেছে, মাহিনুর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটার আলীপুর বাজার সংলগ্ন মৃত আ. অলিউল্লাহর স্ত্রী। গত ১৫ বছর আগে তিন ছেলে-মেয়ে রেখে মাহিনুরের স্বামী মারা যান। বড় ছেলে স্ত্রীকে নিয়ে চট্রগ্রামে ও মেয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকে তারা কেউ মায়ের খোঁজ রাখে না। বেশকিছু দিন মাহিনুর কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত। তার ছোট ছেলে ইব্রাহিম একটি ট্রলি গাড়ির হেলপারির কাজ করে সংসার চালান।

ইব্রাহিম বলেন, ‘লকডাউন থাকায় কাজ বন্ধ। আমি নিজেই চলতে পারি না, কি করব। মাকে হাসপাতালে রেখে আসছি। আর আমি খোঁজ নিতে যাইনি। মায়ের চিকিৎসার জন্য ভাইকে বলেছিলাম। তিনিও লকডাউনে কর্মহীন। তারও কষ্ট করে সংসার চলছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘আমি আজ সন্ধ্যায় ওই পরিবারের কথা শুনতে পাই, পরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দুই হাজার টাকা দিয়েছি। পরবর্তী খোঁজ খবর রেখে চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা করব।’

 

এস এম মিরাজ ||পুলিশ ও কোস্টগার্ড পাহারায় চলছে শত শত লোকের বেলতলা খেয়া পারাপার।গত ৪ জুলাই লকডাউন এর ভিতরে অতিরিক্ত লোক নিয়ে পারাপারের সময় ট্রলারডুবির ঘটনায় থেমে নেই তাদের পারাপারের ব্যবস্থা।

চলমান লকডাউনে নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বরিশাল বেলতল খেয়াঘাটের নৌকায় গাদাগাদি করে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। লকডাউনের অজুহাতে যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

জেলা প্রশাসন থেকে করোনাকালে প্রত্যেক খেয়ায় ১০ জন যাত্রী বহনের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না মাঝি-মাল্লারা। ঘাটে টানানো নেই জেলা পরিষদের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। তাই নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বরিশাল নগরীর বেলতলা খেয়াঘাট সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ খেয়াঘাটে বরিশাল জেলা পরিষদ কর্তৃক ভাড়ার তালিকা টাঙানোর কয়েক দিনের মধ্যেই তা উধাও হয়ে যায়। সেই সুযোগে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন মাঝি-মাল্লারা।

নগরীর বেলতলা খেয়াঘাটে দেখা গেছে প্রতি মোটরসাইকেল চালকসহ ১০০ টাকা, বাইসাইকেল ৫০ ও জনপ্রতি ৩০ টাকা হারে ভাড়া আদায় করতে। হেনস্তার ভয়ে সাধারণ যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিলেও রাতের অন্ধকারে তা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেওয়া হয়।

একই দৃশ্য নগরীর কাউরচর খেয়াঘাট ও চাঁদমারী খেয়াঘাটে। লকডাউনে জেলা প্রশাসন থেকে চরকাউয়া খেয়াঘাটে স্বাস্থ্যবিধি পাঁচ টাকা হারে ১০ জন যাত্রী পারাপারের জন্য বলা হলেও তা মানছেন না মাঝিরা। প্রত্যেক নৌকায় গাদাগাদি করে যাত্রী উঠিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা।

এতে প্রায়ই যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায় মাঝিমাল্লাদের। লকডাউনের পূর্বে চরকাউয়া খেয়াঘাটে নির্ধারিত ভাড়া ছিল ৩ টাকা। করোনাকালে তা বাড়িয়ে পাঁচ টাকা করা হলেও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

বেলতলা ঘাটে নূরজাহান নামে একজন মধ্যবয়স্ক নারী নিহত স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঘাটে আসলে মাঝি ২শ টাকা দাবি করেন। অবশেষে ওই দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করেই নদী পার হতে হয়েছে।

তিনি জানান, প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার কত তা জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি টাকায় নদী পার হতে হয়েছে।

বেলতলার বাসিন্দা সবজি ব্যবসায়ী জুলাস জানান, প্রতিদিন তিনি দুইবার কীর্তনখোলা নদী পার হতে হয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ফলে প্রতিদিনই তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত খেয়াঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দাবি করেছেন তিনি।

পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক মানুওয়ারুল ইসলাম অলি জানান, খেয়াঘাটের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়াটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলাপ করে করোনাকালে পাঁচ টাকা করে ১০ জন যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু তা অমান্য করে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন মাঝিরা।

শতশত লোক নিয়ে ট্রলারভর্তি করে নদী পারাপারের ঘটনায় বেলতলার ইজারাদার মোখলেসের কাছে জানতে চাইলে সে জানান,থানার ওসি আমাকে বলেছে পারাপার করতে (কথার অডিও রেকর্ড রয়েছে)।এ ব্যাপারে কাউনিয়া থানার ওসি জানান আমি বেলতলা খেয়াঘাটের পারাপারের জন্য কাউকে অনুমতি দেয়নি। শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তি ও রোগী পারাপার করতে পারবে সেটা আমি বলেছি।আপনাদের মিসগাইড করার জন্য ইজারাদার একথা বলেছে।

স্থানীয় সিরাজ নামের আরেক বাসিন্দা জানান,বরিশাল সিটি কলেজের প্রফেসর কাওছার এই খেয়ার ইজারা নেন। তার নেতৃত্বেই চলছে এই খেয়া পারাপারে জুলুম অত্যাচার।সে নির্ধারণ করেছে অতিরিক্ত ভাড়া।অদৃশ্য ক্ষমতার বলে প্রশাসনকে জিম্মি করে সে ৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা করে নিচ্ছে।সে আরও জানান, কাওসার নির্দেশ দিয়েছে যদি কেউ ভাড়া কম দিবে বলে তাহলে তাকে খেয়া পারাপার না করার জন্য।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে দেলোয়ার ও মোকলেস অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে।আলোকিত বরিশালের প্রতিবেদক তথ্য নিয়ে অফিসে আসলে কাউসার ফোন দিয়ে তাকে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং প্রতিবেদকের সাথে দেখা করে টাকা দেবার চেষ্টা করেন (সমস্ত কথা রেকর্ড রয়েছে)। ইজারাদার কাওসারের জুলুম অত্যাচার থেকে মুক্তি চাচ্ছে বেলতলা খেয়া পারাপারের যাত্রীসাধারণ। এব্যাপারে কোস্টগার্ডের সিসি কে ফোন দিলে সে জানান, এর আগেও ট্রলার ধরেছি,অতি শীঘ্রই তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়াও টাকা খুচরা না থাকার বাহানায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। তাই ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের উচিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা।