বরিশাল নগরীর হাটখোলা এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টায় চালিয়েছে কিশোর সন্ত্রাসীরা। রোববার গভীর রাতে এই ঘটনায় আমানগতগঞ্জ থানা পুলিশ ধারালো অস্ত্রসহ দুই কিশোর সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করলেও আরও দুইজন পালিয়ে যায়। হামলা ও মারধরের শিকার মিথুন বাবু (৩২) নামের ব্যবসায়ী এই ঘটনায় কোতয়ালি থানা পুলিশে একটি মামলা করেছেন। থানা পুলিশ গ্রেপ্তার কিশোর দুই সন্ত্রাসী কায়েস শিকদার এবং সুজন মাঝিকে সোমবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
শহরের জোর মসজিদ এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মিথুন বাবু অভিযোগে উল্লেখ করেন, রোববার রাত ৯টার দিকে তিনি মাছ কিনতে পোর্টরোড বাজারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে মাসুদ শিকদার ওরফে কালা মাসুদ, কায়েস শিকদার, অভি হাওলাদার এবং সুজন মাঝি তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে। এবং তারা ধারালো অস্ত্র উচিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরাসহ মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তারা পকেটে থাকা টাকা নিয়ে যায়। শেষে মোটরসাইকেলটির চাবি নিতে গেলে ব্যবসায়ী ডাক-চিকৎকার দিলে আশপাশে জনতা ছুটে আসলে অভি ও কালা মাসুদ অস্ত্র সড়কে ফেলে পালিয়ে যায়। এসময় উত্তেজিত জনতা কায়েস এবং সুজন মাঝিকে আটক করে একচোট পিটুনি দেয়।
পুলিশ জানায়, এই খবর পেয়ে আমানতগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একটি টিম এসে তাদের দুইজনকে দুটি ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। এবং রাতেই থানা পুলিশে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী।
কোতয়ালি থানা পুলিশ জানায়, ব্যবসায়ীর মামলায় গ্রেপ্তার দুইজনকে সোমবার সকালে আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
এদিকে বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সশস্ত্র এই বাহিনীটি গভীর রাতে প্রায়শই তাদের বসবাসস্থল কলাপট্টি, পোর্টরোডসহ আশপাশ এলাকাসমূহে রাতের বেলা মহড়া দেয় এবং গভীর রাতে চলাচলরত পথচারিসহ সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়
বরিশালে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু গোরস্থান থেকে লাশ মর্গে
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকা থেকে রুহুল আমিন (২০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে ওই এলাকার কাজির গোরস্থান এলাকায় দাফন করার সময় রুহুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। রুহুল আমিন পলাশপুর এলাকার ১৭ নম্বর গলির বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে এবং সে পেশায় একজন দিনমজুর। স্থানীয়রা জানান, রোববার রাতে রুহুলের ঘর থকে তার চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পায় এলাকাবাসী। তবে সকালে ওই এলাকার এক ফার্মাসিস্টকে ঘরে নিয়ে যায় আব্দুর রহমান। ওই ফার্মাসিস্ট রহুল আমিনের মুত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করে। কিন্তু রুহুলের গলায় দাগ ছিলো। এরপর রুহুলের পরিবার তরিঘরি করে পার্শ্ববর্তী কাজির গোরস্থানে দাফনের জন্য চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয় এবং লাশ উদ্ধার করে। তবে রুহুলের পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে রুহুলের। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ওসি আজিমুল করিম বলেন, ওই যুবকের মুত্যুর বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তার লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে ‘লকডাউন’ শুরু হচ্ছে। আর সাত দিনের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হবে বৃহস্পতিবার থেকে।
তবে আগের চেয়ে এবারের লকডাউন আরও কঠোর হবে বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মাঠ পর্যায়ে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও নামানো হতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না।
শুধু জরুরি সেবা ছাড়া আর কোনো কিছুই চলবে না। গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক) লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। আপাতত এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে পরামর্শ কমিটি কঠোর বিধিনিষেধ জারির সুপারিশ করেছে। সেই আলোকে সারাদেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সময় আরও বাড়ানো হতে পারে। মাঠ পর্যায়ে লকডাউন পালনে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও নামতে পারে।
শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সোমবার সাত দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হবে। কিন্তু শনিবার রাতে সে সিদ্ধান্ত বদলে যায়।
জানানো হয়, দেশব্যাপী কঠোরভাবে সর্বাত্মক লকডাউন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে। তবে সোমবার থেকে ‘সীমিত পরিসরে’ লকডাউন থাকবে। গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে সীমিত পরিসরে কিছু প্রতিষ্ঠান বা ক্ষেত্র খোলা থাকবে। এ ছাড়া শিল্প ও কলকারখানা লকডাউনের আওতার বাইরে থাকতে পারে বলে জানা গেছে। এই সময়ে রপ্তানিমুখী কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে ব্যাংকিং সেবাও খোলা রাখা হতে পারে।
শনিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠি>> ঝালকাঠির রাজাপুরে একটি ওয়ার্কশপ থেকে অন্তু মাতুব্বর নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৭ জুন) সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত অন্তুর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকায়। অন্তুর বাবার নাম শুক্কুর মাতুব্বর। সে রাজাপুরের ওই ওয়ার্কশপে বেশ কয়েকমাস যাবত কাজ করে আসছিল।
রাজাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ‘শনিবার (২৬ জুন) রাত ১০টার দিকে ওয়ার্কশপের ভেতরে থাকা একটি কক্ষ থেকে অন্তুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় রাজাপুর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাতেই রাজাপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পটুয়াখালীর বাউফলে প্রেমের সালিশ করতে গিয়ে কিশোরী মেয়েকে দেখে পছন্দ হওয়ার পর বিয়ে করা ৬০ বছর বয়সী সেই চেয়ারম্যানকে তালাক দিল কিশোরী নসিমন বেগম। শনিবার সন্ধ্যায় তালাক সম্পন্ন হয় বলে মেয়ের বাবা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি জানান, মেয়ে এখন আমার বাড়িতেই আছে।
এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই কিশোরীকে বিয়ে করেছিলেন।
জানা যায়, কনকদিয়া ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের মেয়ে নসিমনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামের রমজান নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে তারা দুজন পালিয়ে যায়। বিষয়টি কিশোরীর বাবা কনকদিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান। এরপরে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার কনকদিয়া ইউপি কার্যালয়ে ছেলে ও মেয়ের পরিবারকে যেতে বলেন।
সেই অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দুই পরিবারের সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে যান। সেখানে মেয়েটিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার আগ্রহ দেখান।
শুক্রবার দুপর ১টায় স্থানীয় কাজী মো. আবু সাদেককে বাড়িতে ডেকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই কিশোরীকে বিয়ে করেন চেয়ারম্যান।
এদিকে এই বিয়ের পর তা জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। শনিবার ওই একই কাজীর মাধ্যমেই তালাক সম্পন্ন হয়।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার জানান, ওই মেয়ে তাকে স্বামী হিসেবে মেনে না নেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেয়েটিকে তার বাবার সঙ্গে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।





