ঝালকাঠিতে মৃত ছেলের পেনশনের টাকা না পেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন হতভাগ্য অসুস্থ মা। সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনাইকাঠি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বারেদিয়া গ্রামের মৃত. সৈয়দ আব্দুল ওহাবের ছেলে সৈয়দ গোলাম ফারুক বরিশাল নগরীর রূপাতলী গ্যাস টারবাইন এলাকার বিদ্যুত কেন্দ্র (বিউবি) তে ফোরম্যান-বি পদে কর্মরত অবস্থায় গত ২০১৯ সালে ২১ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
তার ঘরে তার স্ত্রী, মা, এক পুত্র, অবিবাহিত দুই বোন ও প্রতিবন্ধি এক ভাই রয়েছেন। গোলাম ফারুক তার চাকুরীরত অবস্থায় তার পেনশনভোগী হিসেবে কাউকে নমিনী শেণীভূক্ত করে যায় নি। তার মৃত্যুর পরে পেনশনের মোট ৭৯ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য ওই দপ্তর কিন্তু সেই টাকা আত্মসতের অভিযোগ উঠেছে গোলাম ফারুকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গোলাম ফারুকের এ অভিযোগ এনে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসের ২৯ তারিখ বরিশাল গ্যাসটারবাইন বিদ্যুত কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক বরাবর, ২০২০ সালে ১৩ জুলাই ঝালকাঠির বিনাইকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তাদের কাছে কোন সহযোগিতা না পেয়ে গোলাম ফারুকের অসুস্থ মা ২০২০ সালের ১৬জুলাই বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (জেনারেশন) বরাবর আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গোলাম ফারুকের দাফন কাফন বাবদ ৯লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, জিপি ফান্ডের ১৬ লক্ষ টাকা, ছুটির নগদায়নের ৮২ হাজার টাকা তার অসুস্থ মায়ের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তুলে নেয় তার স্ত্রী সৈয়দা জেসমিন আক্তার। এছাড়া অবশিষ্ট থাকা ৫৩ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়ার পায়তারা চালানোর অভিযোগও উঠেছে সৈয়দা জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে।
গোলাম ফারুকের মা সেতারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, এই জালিয়াতিতে সহযোগিতা করেছেন তৎকালীন এক্সিয়ান হাসান মাহমুদ এবং ওই অফিসের কর্মচারী (অবসারপ্রাপ্ত) ফজলু। তারা নিয়মঅনুযায়ী আমাকে না জানিয়ে জেসমিনের জালিয়াতিতে সহযোগীতা করেন। মুসলিম ফরায়েজ মোতাবেক ১হাজার অংশের ১৬৭ অংশের অংশিদার আমি। কিন্তু আমার পুত্রবধু জেসমিন আক্তার তা দিতে আমাকে অসম্মতি জানান। মূলত আমি একজন প্যারালাইজড রোগী। আমি চলাফেরা করতে পারি না। আমি আমার ছেলের উপরেই নিরর্ভরশীল ছিলাম। এছাড়া আমার ছোট ছেলেটাও প্রতিবন্ধি, দুইটা মেয়ে বিবাহযোগ্য।
আমার পূত্রবধূ জেসমিন আমাদের কোন খোঁজ খবর রাখেনা, ভরন-পোষণ দেয় না, সব মিলিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছে আমাদের। আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন করছি যাতে আমি আমার প্রাপ্য অর্থটুকু পাই, তাহলে আমি কোনমতে জীবনযাপন করতে পারবো।
 কথায় আছে, মানুষের দেহ থেকে প্রাণ গেলে আর কিছু থাকেনা। সেই লাশের সাথে এবার অমানবিক ঘটনা ঘটালেন বরিশালের মীরগঞ্জ খেয়াঘাটের কর্তাবাবুরা। জানা যায়, মুলাদী উপজেলার ৯নং ওয়ার্ড নিবাসী তপন সরদারের মা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
তার লাশ ঢাকা থেকে গত ২৪ শে জুন বৃহস্পতিবার মুলাদীর উদ্দেশ্যে লাশবাহী এম্বুলেন্সযোগে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। এম্বুলেন্সটি মীরগঞ্জ ঘাটে আসলে শুরু হয় তুলকালাম কান্ড! ফেরীতে এম্বুলেন্স পারাপারে বাঁধা দেয় ঘাটের কর্তাবাবুরা। তাদের দাবী লাশবাহী এম্বুলেন্স পার হতে ৫ হাজার টাকা প্রয়োজন।
মৃত ওই নারীর স্বজন রিপন অভিযোগ করে বলেন,‘মীরগঞ্জ খেয়াঘাটে মানুষের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে আগে শুনেছি কিন্তু একটা লাশের গাড়ি আটকে রেখে টাকা দাবী করবে এটা ভাবতেও পারিনি। লাশ নিয়ে মীরগঞ্জ ঘাটে গেলে তারা এম্বুলেন্স পারাপারের জন্য ৫ হাজার টাকা দাবী করেন।
আমাদের কাছে ১৫শ’ টাকার বেশি ছিলোনা, আমরা অনেক আকুতি-মিনতি করে ১৫শ’ টাকা রাখার কথা বললেও তারা সাফ জানিয়ে দেয় যে ৫হাজার টাকার এক টাকাও কম হবে না। পরে আমরা লাশ এম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে ট্রলারে করে ওপার নেই।’ খেয়াঘাটে দীর্ঘদিনের জিম্মিদশায় থেকে পরিত্রাণ মিলছে না মুলাদীবাসীর। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ পাহাড় সমান অবস্থানে চলে আসলেও স্থানীয় প্রভাব ও আধিপত্যের কাছে তা সব হার মেনে যাচ্ছে।
যদিও এই ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের নিশ্চুপ থাকার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মনে জায়গা পেয়েছে চাপা ক্ষোভ। এলাকাবাসী ও যাত্রীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে দৈনিক আজকের তালাশ। সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় এর বাস্তব প্রমাণ চিত্র। পাঠকদের সুবিধার্থে তুলে ধরা হলো অনুসন্ধানের প্রতিটি মূহুর্ত। বরিশাল থেকে যাত্রা শুরু করে মীরগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকায় উপস্থিত হয় সংবাদকর্মীরা। স্থানীয়দের সাথে আলাপ হলে জানা যায়, হিজলা-মুলাদী এলাকার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই খেয়াঘাটে ইজারাকৃত ট্রলার রয়েছে দুইটি (যা কিনা লাল নিশান টানিয়ে নির্ধারণ করা রয়েছে)।
নদী পারাপারে সময় লাগে (এপার-ওপার) প্রায় ২০ মিনিটের মতো। সেমতে নির্ধারিত ইজারার ট্রলার ঘাটের দুই প্রান্তে অবস্থান করার কথা। দীর্ঘক্ষণ ঘাটে ইজারার কোন ট্রলারের কোন খোঁজ না পাওয়া গেলে পরে উপায়ন্তর হয়ে একটি ট্রলারে নদী পারাপারের জন্য ট্রলারে ওঠে অনুসন্ধানী দল।
মাঝ নদীতে ১২/১৩ বছরের একটি শিশু ভাড়া নিতে অগ্রসর হয়। মটরসাইকেল বাবদ ৪০ টাকা এবং জনপ্রতি ১০ টাকা করে সর্বমোট নেয়া হয় ৫০ টাকা। খেয়ার নির্ধারিত টাকা দিয়ে পার হতেই হঠাৎ পথরোধ করে একজন লোক। ৪০ টাকা দেন? এমন আবদার ছুড়ে দেয়। অনুসন্ধানী দলের প্রশ্ন কিসের টাকা? প্রতিত্তোর আসে এমনভাবে, “কিসের টাকা জানেন না, ঘাডের টাকা”।
কোন রশিদ বিহীন টাকা পরিশোধ করে আমরা এগিয়ে গেলাম কিছুদূর। চায়ের দোকানে অপেক্ষা করতে লাগলাম যাত্রীদের। কিছুক্ষন পরে কথা হয় ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ মন্নান মিয়ার সাথে কথা । প্রশ্ন করলাম দুইবার কিসের টাকা । তিনি জানান- বাবা এটা সুমন রাঢ়ীর। তারা যেমনি মন চায় তেমনি চলে এ ঘাট। ইউএনও কিছু বলেনা। কে এই সুমন রাঢ়ি ? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুমন রাঢ়ীর পরিচয়। তিনি মুলাদী প্রেসক্লাবের সভাপতি। গত ১০ বসর প্রেসক্লাব তার দখলে। তার সম্বন্ধে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মুলাদী প্রেসক্লাবসহ সকল সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে নির্দেশনা রয়েছে তার। কথা হয় ইসমাঈল সাহেবের সাথে।
তিনি এই এলাকার বাসিন্দা। তার দেয়া তথ্যমতে জানা যায়, ইজারাদার সুমন রাঢ়ির নিয়োজিত একটি মহল ব্যস্ত থাকেন টোল আদায়ের কাজে। নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র ইজারাদারের ট্রলারে যাত্রি পারাপার করার কথা। কিন্তু ২ টি ট্রলার রয়েছে বাকিগুলো তাদের ইচ্ছে মতো ব্যক্তি মালিকানাধিন । রিজাভের নামে ২ বার ভাড়া আদায় করা হয়। এই পথে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের যাতায়ত বলে দাবি করেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুলাদীর একজন শিক্ষক। তিনি জানান এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে হতে হয় লাঞ্চিত।
গতমাসে ভুক্তভোগীদের এই অবস্থা থেকে মুলাদী পুলিশ বেশ কয়েকদিন ঘাট পরিদর্শন করেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তাদের চোখে এমন ঘটনা অপরাধ বলে মনে হয়নি বলে টিমকে জানান তিনি। স্থানীয় বেশ কিছু বিশ্বস্ত সূত্রের দেয়া তথ্য, অভিযোগ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রয়েছে এর অন্তরালের খবর।
 নার্সিং পড়ুয়া কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার আশোকাঠী হাসপাতালের সামনের একটি ফার্মেসীতে ওষুধ ক্রয় করতে গিয়ে পরিচয় হয় আশোকাঠী গ্রামের হাসান সরদারের পুত্র ফার্মেসী মালিক কাওসার হোসেনের সাথে।
পরবর্তীতে ফার্মেসী মালিক কাওসার তাকে (ভুক্তভোগী ছাত্রী) প্রেমের ফাঁদে ফালায়। গত তিনবছর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো।
এরইমধ্যে ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে বিভিন্নস্থানে নিয়ে ছাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাওসার একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ওই ছাত্রী বিয়ের জন্য চাঁপ প্রয়োগ করলে কাওসারকে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, গত ২৭ জুন ওই ছাত্রীকে আশোকাঠী হাসপাতালের সামনে ডেকে আনে কাওসার।
সেখানে ওই ছাত্রীকে ধর্ষক কাওসারের সাথে মীমাংসা হয়ে যাওয়ার কথা বলে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনটি সাদা ষ্ট্যাম্পে ওই ছাত্রীর স্বাক্ষর আদায় করে। পরবর্তীতে ওই ছাত্রীর হাতে জোরপূর্বক ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ছবি তুলে টাকা রেখে দেয়া হয়।
লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

 

 অশ্লীল শর্ট ফিল্ম ও টিকটক তৈরির অভিযোগে দুই নারী ও তিন যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে সিনেমা ও ভিডিও তৈরির কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা জব্দ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রাজিবুল আলম এই কারাদণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চর সারোটিয়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে কায়েস, রায়গঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাইকপাড়া গ্রামের জয়নাল আবদীনের ছেলে আইয়ুব আলী, উল্লাপাড়া উপজেলার ব্রক্ষকপালিয়া গ্রামের গোলবার আলীর ছেলে মুকুল হোসেন, দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে শামসুন্নাহার বিউটি ও বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ এলাকার জান্নাতী।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মুকুল হোসেনকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা, আইয়ুব আলী ও কায়েসকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, শামসুন্নাহার বিউটি ও জান্নাতীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রায়গঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার রাজিবুল আলম বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তরা অর্থের বিনিময়ে অশ্লীল শর্টফিল্ম ও টিকটক তৈরি করে ফেসবুক ও ইউটিউবে ছাড়তো। মঙ্গলবার সকালে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়াতে ফিল্ম তৈরির সময় তাদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদানের পর তাদেরকে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
 পরকীয় প্রেমের ফাঁদে পড়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মধ্যপূর্ব কারগাাঁও আল আকসা জামেমসজিদ রোডের এম আর ফুট অ্যান্ড ক্যামিক্যাল কোম্পানিতে নিয়ে গৃহবধূকে নিয়ে এ গণধর্ষণ করা হয়।
ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ জানান, বরিশালের উজিরপুর থানার গাববাড়ি গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে ইমরান হাওলাদারের (২১) সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইমরান শ্রীনগর উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের এম আর ফুট অ্যান্ড ক্যামিক্যাল ফেক্টরিতে চাকরি করতেন।
তিনি জানান, ইমরান তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শ্রীনগর আসতে বলেন। তিনি বরিশাল থেকে শ্রীনগর উপজেলার কামারগাঁও আসেন। পরে ইমরান ও ওই এলাকার খলিল শেখের ছেলে রিপন শেখসহ (৩৬) চার-পাঁচজন বখাটে তাকে এম আর ফুট অ্যান্ড ক্যামিক্যাল ফেক্টরিতে তাকে আটক করে পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই গৃহবধূ ফেক্টরি থেকে পালিয়ে বেড় হয়ে ঘটনাটি এলাকাবাসীকে জানান। পরে তিনি শ্রীনগর থানায় গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
এ বিষয়ে ফ্যাক্টরির মালিক লিটনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি স্বপন ঘোষের কাছ থেকে জায়গাটি ভাড়া নিয়ে সেমাই ফেক্টরি করে ছিলাম। তখন রিপন, ইমরানসহ অনকেই আমার এ ফেক্টরিতে কাজ করতেন। তবে দু’বছর ধরে ফেক্টরিটি বন্ধ রয়েছে। রিপন শেখ হয়তো আগেই ফেক্টরির চাবি বানিয়ে রেখে ছিল। ওই চাবি দিয়েই বখাটেরা ফেক্টরির তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেছে। মেয়েটিকে গণঘর্ষণ করেছে।
এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হেদায়েতুল ইসলাম ভুইঞা বলেন, মামলা হয়েছে। দু’জন আসামিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদেরকেও ছাড় দেয়া হবে না। সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বরিশাল নগরীর হাটখোলা এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টায় চালিয়েছে কিশোর সন্ত্রাসীরা। রোববার গভীর রাতে এই ঘটনায় আমানগতগঞ্জ থানা পুলিশ ধারালো অস্ত্রসহ দুই কিশোর সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করলেও আরও দুইজন পালিয়ে যায়। হামলা ও মারধরের শিকার মিথুন বাবু (৩২) নামের ব্যবসায়ী এই ঘটনায় কোতয়ালি থানা পুলিশে একটি মামলা করেছেন। থানা পুলিশ গ্রেপ্তার কিশোর দুই সন্ত্রাসী কায়েস শিকদার এবং সুজন মাঝিকে সোমবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

শহরের জোর মসজিদ এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মিথুন বাবু অভিযোগে উল্লেখ করেন, রোববার রাত ৯টার দিকে তিনি মাছ কিনতে পোর্টরোড বাজারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে মাসুদ শিকদার ওরফে কালা মাসুদ, কায়েস শিকদার, অভি হাওলাদার এবং সুজন মাঝি তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে। এবং তারা ধারালো অস্ত্র উচিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরাসহ মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তারা পকেটে থাকা টাকা নিয়ে যায়। শেষে মোটরসাইকেলটির চাবি নিতে গেলে ব্যবসায়ী ডাক-চিকৎকার দিলে আশপাশে জনতা ছুটে আসলে অভি ও কালা মাসুদ অস্ত্র সড়কে ফেলে পালিয়ে যায়। এসময় উত্তেজিত জনতা কায়েস এবং সুজন মাঝিকে আটক করে একচোট পিটুনি দেয়।

পুলিশ জানায়, এই খবর পেয়ে আমানতগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একটি টিম এসে তাদের দুইজনকে দুটি ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। এবং রাতেই থানা পুলিশে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী।

কোতয়ালি থানা পুলিশ জানায়, ব্যবসায়ীর মামলায় গ্রেপ্তার দুইজনকে সোমবার সকালে আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

এদিকে বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সশস্ত্র এই বাহিনীটি গভীর রাতে প্রায়শই তাদের বসবাসস্থল কলাপট্টি, পোর্টরোডসহ আশপাশ এলাকাসমূহে রাতের বেলা মহড়া দেয় এবং গভীর রাতে চলাচলরত পথচারিসহ সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়

বরিশালে যুব‌কের রহস্যজনক মৃত্যু গোরস্থান থে‌কে লাশ ম‌র্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব‌রিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকা থে‌কে রুহুল আ‌মিন (২০) না‌মে এক যুব‌কের লাশ উদ্ধার ক‌রে‌ছে পু‌লিশ। সোমবার দুপু‌রে ওই এলাকার কা‌জির গোরস্থান এলাকায় দাফন করার সময় রুহু‌লের লাশ উদ্ধার ক‌রা হয়। রুহুল আ‌মিন পলাশপুর এলাকার ১৭ নম্বর গ‌লির বা‌সিন্দা আব্দুর রহমানের ছে‌লে এবং সে পেশায় একজন দিনমজুর। স্থানীয়রা জানান, রোববার রা‌তে রুহু‌লের ঘর থ‌কে তার চিৎকা‌রের আওয়াজ শুন‌তে পায় এলাকাবাসী। ত‌বে সকা‌লে ওই এলাকার এক ফার্মা‌সিস্ট‌কে ঘ‌রে নি‌য়ে যায় আব্দুর রহমান। ওই ফার্মা‌সিস্ট রহুল আ‌মি‌নের মুত‌্যু হ‌য়ে‌ছে ব‌লে নি‌শ্চিত ক‌রে। কিন্তু রুহু‌লের গলায় দাগ ছি‌লো। এরপর রুহু‌লের প‌রিবার ত‌রিঘ‌রি ক‌রে পার্শ্ববর্তী কা‌জির গোরস্থা‌নে দাফ‌নের জন‌্য ‌চেষ্টা কর‌লে ঘটনাস্থ‌লে পু‌লিশ উপ‌স্থিত হয় এবং লাশ উদ্ধার ক‌রে। ত‌বে রুহু‌লের প‌রিবার পু‌লিশ‌কে জা‌নি‌য়ে‌ছে অসুস্থ হ‌য়ে মৃত‌্যু হ‌য়ে‌ছে রুহু‌লের। ব‌রিশাল মে‌ট্রোপ‌লিটন পু‌লি‌শের কাউ‌নিয়া থানার ও‌সি আ‌জিমুল ক‌রিম ব‌লেন, ওই যুব‌কের মুত‌্যুর বিষয়‌টি স‌ন্দেহজনক হওয়ায় তার লাশ উদ্ধা‌রের পর ময়নাতদ‌ন্তের জন‌্য ব‌রিশাল শের ই বাংলা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে প্রেরণ করা হ‌য়ে‌ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে ‘লকডাউন’ শুরু হচ্ছে। আর সাত দিনের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হবে বৃহস্পতিবার থেকে।

তবে আগের চেয়ে এবারের লকডাউন আরও কঠোর হবে বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মাঠ পর্যায়ে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও নামানো হতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না।

শুধু জরুরি সেবা ছাড়া আর কোনো কিছুই চলবে না। গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক) লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। আপাতত এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে পরামর্শ কমিটি কঠোর বিধিনিষেধ জারির সুপারিশ করেছে। সেই আলোকে সারাদেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সময় আরও বাড়ানো হতে পারে। মাঠ পর্যায়ে লকডাউন পালনে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও নামতে পারে।

শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সোমবার সাত দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হবে। কিন্তু শনিবার রাতে সে সিদ্ধান্ত বদলে যায়।

জানানো হয়, দেশব্যাপী কঠোরভাবে সর্বাত্মক লকডাউন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে। তবে সোমবার থেকে ‘সীমিত পরিসরে’ লকডাউন থাকবে। গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে সীমিত পরিসরে কিছু প্রতিষ্ঠান বা ক্ষেত্র খোলা থাকবে। এ ছাড়া শিল্প ও কলকারখানা লকডাউনের আওতার বাইরে থাকতে পারে বলে জানা গেছে। এই সময়ে রপ্তানিমুখী কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে ব্যাংকিং সেবাও খোলা রাখা হতে পারে।

শনিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠি>> ঝালকাঠির রাজাপুরে একটি ওয়ার্কশপ থেকে অন্তু মাতুব্বর নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৭ জুন) সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত অন্তুর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকায়। অন্তুর বাবার নাম শুক্কুর মাতুব্বর। সে রাজাপুরের ওই ওয়ার্কশপে বেশ কয়েকমাস যাবত কাজ করে আসছিল।

রাজাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ‘শনিবার (২৬ জুন) রাত ১০টার দিকে ওয়ার্কশপের ভেতরে থাকা একটি কক্ষ থেকে অন্তুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় রাজাপুর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাতেই রাজাপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পটুয়াখালীর বাউফলে প্রেমের সালিশ করতে গিয়ে কিশোরী মেয়েকে দেখে পছন্দ হওয়ার পর বিয়ে করা ৬০ বছর বয়সী সেই চেয়ারম্যানকে তালাক দিল কিশোরী নসিমন বেগম। শনিবার সন্ধ্যায় তালাক সম্পন্ন হয় বলে মেয়ের বাবা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি জানান, মেয়ে এখন আমার বাড়িতেই আছে।

এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই কিশোরীকে বিয়ে করেছিলেন।

জানা যায়, কনকদিয়া ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের মেয়ে নসিমনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামের রমজান নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে তারা দুজন পালিয়ে যায়। বিষয়টি কিশোরীর বাবা কনকদিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান। এরপরে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার কনকদিয়া ইউপি কার্যালয়ে ছেলে ও মেয়ের পরিবারকে যেতে বলেন।

সেই অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দুই পরিবারের সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে যান। সেখানে মেয়েটিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার আগ্রহ দেখান।
শুক্রবার দুপর ১টায় স্থানীয় কাজী মো. আবু সাদেককে বাড়িতে ডেকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই কিশোরীকে বিয়ে করেন চেয়ারম্যান।

এদিকে এই বিয়ের পর তা জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। শনিবার ওই একই কাজীর মাধ্যমেই তালাক সম্পন্ন হয়।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার জানান, ওই মেয়ে তাকে স্বামী হিসেবে মেনে না নেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেয়েটিকে তার বাবার সঙ্গে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।