আমতলী-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ডাক্তার বাড়ী নামক স্থানে বৃহস্পতিার দুপুর পৌনে ১২ টায় সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আলহাজ¦ মো. আব্দুস ছোবাহান হাওলাদার (অব:) সহকারী পুলিশ সুপার (৭৫) সড়ক পারাপাড়ের সময় একটি রোগীবাহী এ্যাম্বুলেসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন।

নিহত আব্দুস ছোবাহান গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানি গ্রামের মৃত আব্দুল গনি হাওলাদারের ছেলে। আব্দুস ছোবাহান স্থায়ী ভাবে ঢাকায় বসবাস করতেন।

দুদিন আগে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। এঘটনায় এ্যামবুলেন্সটিকে আটক করেছে পুলিশ। চালক পালিয়ে যায়। আমতলী থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলহাজ¦ মো. আব্দুস ছোবাহান ১৮ নভেম্বর নিজ বাড়ির মসজিদের সংস্কার কাজ দেখার জন্য গ্রামের বাড়ি আসেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২ টায় সময় আমতলী আসার জন্য তিনি আমতলী-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ডাক্তার বাড়ী নামক স্থানে এসে সড়ক পাড়াপার হচ্ছিলেন।

এসময় তালতলী থেকে বরিশালগামী বেপরোয়া গতির একটি প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্সের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

স্থানীয়রা তাৎক্ষনিক তাকে উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এসময় হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জগলুল হাসান বলেন, ঘাতক এ্যাম্বুলেন্সটিকে আটক করা হয়েছে। চালক পালিয়ে যায়। আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে দিয়ে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ- এই রায় দেন। এর ফলে ১৪ বছর আগে বাতিল ঘোষণা করা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরল আবারও। যা কার্যকর হবে চতুর্দশ নির্বাচন থেকে।

পরে ব্রিফিংয়ে আইনজীবীরা বলেন, গত ১১ নভেম্বর শুনানি শেষ হলে আজ রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। বহুল আলোচিত এই আপিলে বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। টানা ১০ কর্মদিবস শুনানি হয়।

আপিলকারী ও রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরা উচিত। এই সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পরই দেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়।

বিএনপির আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে দেশের মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারবেন, গণতন্ত্র রক্ষা হবে। আজ আমরা সংঘাতের রাজনীতি থেকে মুক্ত হলাম।

 

ভোলার লালমোহন উপজেলায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতরা হলেন- পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মফিজ উদ্দিন হাওলাদার বাড়ির মৃত আলী হোসেনের ছেলে মো. আল-আমিন (৩০), ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অহিদুর রহমানের ছেলে মো. হাসান (৩৬) এবং তার সহযোগি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ পাড়া এলাকার জেবল হকের ছেলে মো. নাঈম (৩২)।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি চৌকিস টিম অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় আল-আমিনের কাছ থেকে ৫৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও হাসান এবং তার সহযোগি নাঈমের কাছ থেকে ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক বিরোধী এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ওসি।

 

ভোলার চরফ্যাশনে চতুর্থ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মো. আনচার (৪৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

‎বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯ টার দিকে ছাত্রীর বাবার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ।গ্রেফতারকৃত আনচার উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বেড়িবাঁধের পাশের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বেপারীর ছেলে।

‎ভুক্তভোগী ও তার পরিবার এবং পুলিশ জানায়, ছাত্রী চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। সে স্কুলে যাওয়ার পথে কথা বলার একপর্যায়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আনচার। এরপর বুধবার রাত ৮ টার দিকে ছাত্রীর বাবার বাসায় গিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। ছাত্রীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত আনচারকে রাতে আটক করে সকাল ৯ টার দিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

‎এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মাদ্রাসার মাঠে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অভিযুক্ত আনচারের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয়রা অংশ নেন।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আনচার পূর্বেও ২০২১ সালে পাশ্ববর্তী গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে আকলিমা বেগম নামে এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ করেছিলেন। পরে আনচারের সাথে কিশোরী বিয়ে না হওয়ায় ওই কিশোরীর বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে পরিবার ন্যায় বিচার পাননি।

‎দক্ষিণ আইচা থানার (ওসি) এরশাদুল হক ভুঁইয়া জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামি আনচারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ভিকটিম শিক্ষার্থীকে ডিএনএ টেস্টের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।

 

গৌরনদীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে পৃথক দুই ঘটনায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (১৯ নভেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যা ও দুপুরে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

‎থানার জিডি নং-৭২৬ এর সূত্র ধরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লাখেরাজ কসবার আকুব্বর সরদারের পুরাতন পানের বরজের পাশে একটি টংঘরে মাদক সেবন ও বিক্রয় চলছে—এমন তথ্য পেয়ে এসআই (নিঃ) আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযানে যায়।

‎পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনজন পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। তারা হল ১. মোঃ মিরাজ বেপারী (২৫) ২. মোঃ রাহাত লাদেন সরদার (২২) তাদের সহযোগী মোঃ শাহাদুল সরদার (৩৫) পালিয়ে যায়।

‎পরে দুইজনের দেহ তল্লাশিতে মিরাজের কাছ থেকে ৬ পিস ইয়াবা, রাহাতের কাছ থেকে ৪ পিস ইয়াবা, এবং বিক্রয় কাজে ব্যবহৃত একটি ফয়েল রোল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মোট ১০ পিস ইয়াবার ওজন ১ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ হাজার টাকা।

‎আটক আসামিরা পুলিশকে জানায়, পলাতক শাহাদুলের সহায়তায় তারা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচার ও বিক্রয়ের সাথে জড়িত। এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

‎এদিকে একইদিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে থানার জিডি নং-৭০৪ এর ভিত্তিতে গৌরনদীর চর গাধাতলী এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করেন এসআই (নিঃ) মোঃ সোহেল মোল্লা। স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপের সামনে দুই ব্যক্তি মাদকদ্রব্য নিয়ে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

‎পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুজনকে আটক করা হয়। তারা হল ১. মনির হাওলাদার (৩৫) ২. সোহেল বেপারী (৪২) জিজ্ঞাসাবাদে মনির স্বীকার করে যে তার কাছে গাঁজা আছে। পরে তার হাতে থাকা কালো রঙের ব্যাগ থেকে ১০০ গ্রাম মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা।

‎অপর আসামী সোহেলের কাছ থেকে কিছু না মিললেও তিনি মনিরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা বিক্রিতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।জব্দ গাঁজার মধ্যে ৫ গ্রাম নমুনা হিসেবে আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক)/৪১ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

‎গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে রক্তদান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর প্রজন্ম জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মজিবর রহমান সরোয়ার।

এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সহ–সভাপতি নুরুল আলম ফরিদ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি আজিজুল হক আক্কাস।

রক্তদান ও বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, আমরা ত্যাগের মাধ্যমে আমাদের নেতার জন্মবার্ষিকী পালন করতে চাই। যাতে করে তরুণ প্রজন্মকে মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক মহসিন মোর্শেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিতসহ সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী।

 

আসাদুজ্জামান শেখ ::

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এলসিএস প্রজেক্টের অর্গানাইজার সানজিদার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডি তে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই অনৈতিক পথে অর্থ উপার্জন সহ নানাবিধ অবৈধ অপকর্ম ও ক্ষমতাসীনদের দ্বারস্থ হয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধের জন্য সচেষ্ট থেকেছেন। উপজেলা এলসিএস অর্গানাইজার পদে দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে অবৈধ ও অনৈতিক পন্থায় অর্থ উপার্জনই ছিল তার একমাত্র উদ্দেশ্য যা তিনি সিদ্ধ হস্তে বাস্তবায়ন করেছেন। অর্গানাইজার পদে দায়িত্ব পালন কালীন সময় এলসিএস শ্রমিকদের নিয়োগ ক্ষেত্রে বড় অংকের ঘুষ বাণিজ্যর এবং এলসিএস শ্রমিকদের বেতনের টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে নিজে বিশাল অর্থ বৃত্তের মালিক বনে গেছেন। পরবর্তী পর্যায়ে পরিচয় হন বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব কাজী ইমদাদুল হক দুলালের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসারদের নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে উপজেলা এলজিইডি অফিসের সকল ক্ষমতা বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন তিনি।এলসিএস টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর লেবার কন্ট্রাক্ট সোসাইটি যা গ্রামীণ সড়ক মেরামতের মতো প্রকল্পের জন্য স্থানীয় দরিদ্র ও দুস্থ নারী শ্রমিকদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে। অর্গানাইজার সানজিদা তার এই প্রকল্পের জন্য সুপারভাইজার পদে আপন ভাই কাওছারকে নিয়োগ দিয়েছেন। সরকারী নিয়ম তোয়াক্কা না করে রেকসোনা নামে এক শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে তার ছেলে মিরাজকে দিয়ে হাজিরা দেখিয়ে সরকারী টাকা আত্মসাত করেছেন অর্গানাইজার সানজিদা। এবং সরকারী সমস্ত নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বারবার একই ব্যক্তিদের শ্রমিক পদে নিয়োগ দিয়ে আসছেন সানজিদা। এলজিইডি তে নিজেকে একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত করেন, তার ইশারা ছাড়া এল জি ডি ই তে অনেক কিছুই হত না এ কারণে প্রজেক্টের সুপারভাইজার পদে আপন ভাই কাওসারকে নিয়োগ দিয়ে সব ধরনের অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। এছাড়াও এই প্রকল্পে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে নুরনাহার ও তার মা তহমিনাকে নিয়োগ দিয়ে তার ব্যক্তিগত বাসায় কাজ করানো অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান কালে আরও জানাজায়, তহমিনা এই প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে ৮ বছর এবং মেয়ে নুরনাহারকে ৭ বছর ধরে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন সানজিদা আক্তার।
এভাবে বাবুগঞ্জ উপজেলায় এলসিএস শ্রমিক নিয়োগে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন এবং মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি ইউপি সদস্যদের দেওয়া প্রকল্পের কাজ এলসিএস শ্রমিক দিয়ে বাস্তবায়ন করে সেখান থেকেও আর্থিক লাভবান হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই প্রজেক্টে শ্রমিক নিয়োগে তিনি অনৈতিক পন্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এবং প্রকল্প সুপারভাইজার পদে ভাইদের নিয়োগ দেন। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে অনেক অসহায় দুস্থ নারীরা প্রজেক্টে কাজ করার জন্য এলজিইডি অফিসে ঘোরাঘুরি করেও কোন কাজ পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন একাধিক অসহায় দুস্থ নারীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে অফিসের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করছি একটু কাজের জন্য, কিন্তু যখনই সানজিদার কাছে যাই তিনি বলেন, ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে স্থানীয় মেম্বারদের সাথে নিয়ে আমার অফিসে আসবে। তারা জানান, টাকাও যোগাতে পারি না,আর কাজও পাই নাই। যা সম্পূর্ণ চাকরির বিধি-বিধান লঙ্ঘিত।
এইভাবে সানজিদা আক্তারের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রজেক্টে শ্রমিক নিয়োগে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছেন যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে এ ব্যাপারে প্রকল্প অর্গানাইজার সানজিদা আক্তার তিনি বলেন,আসলে কেউ যদি তার কাজের পরে অন্য কাজ করে তাহাতে তো কোন বাধা নেই। জানতে চাওয়া হয়, এক পরিবারের দুইজনকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান আছে কি! তিনি বলেন, আসলে আপনি তো আমাকে আগেও চিনেন অফিসে আসেন সব বলিব। জানতে চাওয়া হয়, মাঠ সুপার ভাইর আপনার আপন ভাই তাকেও নিয়োগ দিলেন কিভাবে। তিনি জানান, সুপারভাইজার কাওছার আমার কোন আত্মীয় না। শ্রমিক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যর বিষয়ে জানতে চাই তিনি বলেন, আমার অনেক মাথা ব্যথা হচ্ছে। আপনি অফিসে আসেন তখন বলব।
অর্গানাইজারের দুর্নীতি বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী এমদাদুল হক আলিম বলেন, আসলে আমি এই বিষয়গুলো জানিনা।

 

বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি।
নারী নির্যাতন মামলায় বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী আক্তার নিপার দায়ের করা মামলায় বরগুনা জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস এই আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে ১ কোটি ২২ লাখ ৬৬৬ টাকার মামলা দায়ের করেন জসিম উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী আক্তার নিপা।

অভিযোগ রয়েছে, বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এক প্রবাসী স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন। ওই সভাপতির নাম লাভলী আক্তার নিপা। তিনি বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্যের বোনের মেয়ে। নিপার প্রবাসী স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন জসিম। পরে ২০২২ সালের ২৫ জুন দশ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করেন তিনি।

দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী আক্তারের (নিপা) তথ্যমতে, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন অবিবাহিত দাবি করে এই বিয়ে করেন। তার বিয়ের খবর চট্টগ্রামে বসবাসরত প্রথম স্ত্রী জানতে পারলে এ নিয়ে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে নিপাকে এড়িয়ে চলতে থাকেন জসিম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে পুনরায় নিপার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। শিক্ষা কর্মকর্তা তখন স্থানীয় লোকজন ধরে নিপাকে পুনরায় চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল ৯১ লাখ টাকা দেনমোহর দিয়ে বিবাহ করেন এবং তার সঙ্গে বসবাস করতে থাকেন।

পরবর্তীতে জসিম উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী এই বিয়ের বিষয় জানতে পারলে পারিবারিক চাপে তিনি নিপাকে তালাক দেন। এমনকি গত ২ অক্টোবর প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম স্বামী জসিমকে নিয়ে নিপার বাসায় গিয়ে হুমকি দিয়ে আসেন। এতে নিপা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে নিপা কাবিনের টাকা ও খোরপোশ দাবি করে জেলা জজ কোর্টে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ মামলা আমলে নিয়ে আদালত বরগুনা শিক্ষা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে হাজির করার নির্দেশ দেন অভিযুক্ত জসিমের নিজ এলাকা চট্টগ্রামের পাহারতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন।

 

বরিশালে সরকারি অফিসে ঢুকে গত কয়েক বছরের উন্নয়ন কাজের কাগজপত্র দাবি এবং অফিস স্টাফদের হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এম.এম. কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার মাহফুজুর রহমান মিলনের বিরুদ্ধে। বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের প্রধান সহকারী লুৎফর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাবেক কথিত যুবলীগ নেতা এবং বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারে চেষ্টা করা ঠিকাদার মিলন নতুনবাজারস্থ সামাজিক বন বিভাগের কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান সহকারী লুৎফর রহমান ও হিসাবরক্ষক সিরাজুল ইসলামের কাছে গত কয়েক বছরের সকল উন্নয়ন কাজের কাগজপত্র দাবি করেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কাগজ দেওয়া সম্ভব নয় জানালে ঠিকাদার মিলন ক্ষিপ্ত হয়ে কৌশলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান সহকারী লুৎফর রহমান জানান “তিনি বহু বছরের কাগজপত্র একসাথে চান। তাকে বলেছি তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী সব দেওয়া হবে। কিন্তু তিনি আমার কথা শুনেননি; বরং চাপ সৃষ্টি করেছেন।”

সদর রেঞ্জ অফিসার আরিফ হোসেন এবং হিসাবরক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান নিয়ম মেনে কাগজ চাইতে বললে মিলন তার দলবল নিয়ে ভয়ভীতি দেখান। ডিএফও বদলি হলেও মিলনের প্রভাব কমেনি। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের সাবেক ডিএফও ড. মো. আব্দুল আউয়ালকে ওএসডি করা হলেও তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার মিলনের দাপট এখনো কমেনি। আবারও অন্য ডিএফওকে কেন্দ্র করে একই ধরনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ডিএফও কবির হোসেন পাটোয়ারী ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণে রাজি না হওয়ায় মিলন তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচার চালান। চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কাশিপুর বন সংরক্ষক কার্যালয়ের সামনে মিলনের ভাড়াটে কিছু মানুষকে দিয়ে মানববন্ধনও করানো হয়। আউটসোর্সিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ।

অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে- কয়েক বছর আগে মিলন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তার ঘনিষ্ঠ ৬ জনকে নিয়োগ দেন। বর্তমান সরকার আউটসোর্সিং নীতিমালা পরিবর্তন করলে তাদের নিয়োগ বাতিল হয়ে যায়। এরপর শূন্য পদে নতুন নিয়োগের জন্য ডিএফও টেন্ডার আহ্বান করলে মিলন টেন্ডারে অংশ না নিয়ে পূর্ববর্তী ৬ জনকে পুনরায় নিয়োগ দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। ডিএফও তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিতর্কিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন ঠিকাদার মিলন। বিএনপির নাম ভাঙানোয় রাজনৈতিক ক্ষোভ। ঠিকাদার মিলন তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য বিএনপির নাম ব্যবহার করায় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের মন্তব্য “ব্যক্তিগত স্বার্থে বিএনপির নাম ব্যবহার করে সরকারি দপ্তরে ভয়ভীতি দেখানো বিএনপির জন্যই চরম বদনাম ডেকে আনছে। কোনো রাজনৈতিক দল কখনোই এমন আচরণ সমর্থন করে না। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

এবিষয়ে ঠিকাদার মাহফুজুর রহমান মিলনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

বরিশাল॥ বরিশালের বাবুগঞ্জে ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম হত্যা মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৮-৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দিবাগত রাতে নিহত ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলামের বাবা মিজানুর রহমান ওরফে দুলাল হাওলাদার বাদী হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আউয়াল হাওলাদারকে ১ নম্বর আসামি করে এ মামলা করেন।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) পলাশ চন্দ্র সরকার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত আক্রোশবশত হয়রানি করা হবে না।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সুযোগ নেই। যারা প্রকৃতভাবে ঘটনায় জড়িত, শুধু তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হোক— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বানিয়ে কাউকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা মোটেও বরদাস্ত করা হবে না।
উল্লেখ্য, সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করছিলেন।

এ সময় ইউনিয়ন ছাত্রদল সহসভাপতি রবিউল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. আউয়াল হাওলাদারের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আউয়াল হাওলাদার ধারালো অস্ত্র দিয়ে রবিউল ইসলামকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।