TT Ads

 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এলজিইডির কার্যক্রম এখন উন্নয়নের বদলে অনিয়ম, ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের এক ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরছে। কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প পড়ে আছে অচল, আর তার খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রকল্পের গাফিলতি ও দুর্নীতির মূল কেন্দ্রে রয়েছেন রাজাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজাপুর এলজিইডি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই এগোয় না। ঠিকাদারদের কাছ থেকে ওয়ার্ক অর্ডার, কাজের অগ্রগতি অনুমোদন, বিল ছাড় এমনকি জামানত ফেরতের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় করা হয়। টাকা না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। এতে একদিকে প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে সরকারের উন্নয়ন অর্থ কার্যত জিম্মি হয়ে পড়ছে একটি অফিসকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের হাতে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজাপুর উপজেলায় একাধিক আরসিসি গার্ডার ব্রিজ ও আয়রন ব্রিজ নির্মাণে বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেড় বছর পার হলেও অনেক প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি। কোথাও আবার পুরোনো ব্রিজ ভেঙে নতুন নির্মাণ শুরু করে মাঝপথে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে গ্রামের সঙ্গে গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় নৌকাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, কয়েকটি ব্রিজের মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। উন্নয়নের নামে এই অবহেলা জনদুর্ভোগ কমানোর বদলে বহুগুণ বাড়িয়েছে।

হাশেমের পুল নামে পরিচিত একটি কালভার্ট ভাঙার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীর মতে, কালভার্টটি এখনও ব্যবহারযোগ্য ছিল। সামান্য সংস্কার করলেই বহু বছর চলত। তবুও নতুন প্রকল্প দেখিয়ে এটি ভাঙার চেষ্টা চলছে, যা অনেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও প্রকল্প বাণিজ্যের অংশ বলে মনে করছেন।

দুর্নীতির অভিযোগ রাজাপুরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানীতেও রাজাপুর এলজিইডির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এলজিইডির নির্মিত একটি ব্রিজের কারণে একটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সেখানে উপস্থাপন করা হয়। লিখিত অভিযোগের পরও দীর্ঘদিন কোনো সমাধান না পাওয়ার তথ্য উঠে আসে। গণশুনানীতে উপজেলা প্রকৌশলীকে ডাকা হলেও এরপর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভ্রমণ ভাতা বা টিএ বিল আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। অনুমোদনের পর দীর্ঘদিন বিলের টাকা আটকে রাখা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর চাপের মুখে টাকা ফেরত দেওয়া হলেও এতে ভেতরের অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যোগদানের পর থেকে রাজাপুর এলজিইডিতে একই পদে বহাল রয়েছেন অভিজিৎ মজুমদার। বদলির আলোচনা শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দীর্ঘদিন একই পদে থাকার সুযোগেই একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

রাজাপুরের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন স্পষ্ট—সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প কি জনগণের জন্য, নাকি অফিসকেন্দ্রিক দুর্নীতির জন্য। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে রাজাপুরে উন্নয়ন শব্দটি শুধু কাগজেই থেকে যাবে।

এ বিষয়ে রাজাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন,

“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়। তবে দুদকের গণশুনানীতে আমাকে ডাকা হয়েছিল, সেটি সত্য।”

সূত্র : barisal Khabar

 

TT Ads