TT Ads

 

নিজস্ব প্রতিবেদক//

সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার পরও মৎস্য কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতায় বরিশাল থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার জাটকা ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকি ও নিয়মিত অভিযানের অভাবে অবৈধ এই ব্যবসা দিন দিন আরও বিস্তার লাভ করছে।

বরিশালের পোর্ট রোড ও তালতলী দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে কোটি টাকার জাটকা ইলিশ। তবে অভিযোগ উঠেছে মৎস্য অধিদপ্তেরে অসাধু কিছু যোগসাজশে এইসব অবৈধ জাটকা মাছ খুব সহজে পার হয়ে যাচ্ছে।বরিশাল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও জেলা কর্মকর্তাদের কোন মনিটরনিং না থাকা অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা খুব সহজে বরিশালের বাহিরে পাঠাতে পারছে।বরিশাল নগরীর পোর্টরোড ও সদর উপজেলার তালতলী থেকে জাটকা প্যাকেটজাত হয়ে  চলে যায় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। ২৫০টাকা থেকে শুরু হয়ে ৩০০ টাকায় এক কেজি জাটকা কিনলে ১০-১৫টি পাওয়া যায়। এর সঙ্গে রয়েছে চাপিলাসহ ছোট মাছ।

অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল সদর উপজেলা ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের কার্যকর কোনো মনিটরিং বা নিয়মিত অভিযান নেই। অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে জাটকা পাচার করতে পারছে।অন্যদিকে দক্ষিঞ্চলের পটুয়াখালী ও বরগুনা থেকে প্রতিদিন বিকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত মৎস্য অফিসের সামনে দিয়ে রাজধানীতে শতাধিক বাস ট্রাকে করে জাটকা যায়।অথচ নগরীর সিএন্ডবি রোড সংলগ্ন বরিশাল মৎস্য অফিস হওয়া স্বত্বেও কোন অভিযান না থাকায় অবৈধ এই ব্যবসা দিন দিন আরও বিস্তার লাভ করছে।

 

অন্যদিকে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, কোস্টগার্ড, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) নিয়মিত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাটকা আটক করলেও মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা নেই।সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিপুল পরমানে জাটকা মাছ আটক হলেও বরিশাল মৎস্য অফিসের নেই কোন অভিযান ও নেই কোন আটকও।বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে মাছ আটক হলে মৎস্য কর্মকর্তাদের জানালেও সেখানে যেতে অনীহা দেখা যাচ্ছে বরিশাল জেলা ও বরিশাল সদর মৎস্য কর্মকর্তাদের।  জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই,সেনাবাহিনী,কোষ্টগার্ড,পুলিল,সবাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করছেন এবং সফল ও হচ্ছেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা করছেন না কোন অভিযান। এ ব্যাপারে মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেহই সঠিক তথ্য দেওয়ার পরেও অভিযান পরিচালনা করতে অনীহা দেখা দিয়েছে। এমনকি অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট যখন অবৈধ ঝাটকা ইলিশ আটক করেন তখন তাদের খবর দিলেও আসেন না বলে অভিযোগ আছে।

জাটকা ধরায় আট মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা। চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। মা ইলিশ ধরায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে জাটকা (১০ ইঞ্চির কম আকারের ইলিশ) ধরার ওপর এই বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এর লক্ষ্য মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় যেসব ইলিশ ডিম ছেড়েছে, সেগুলো যাতে বড় হওয়ার সুযোগ পায়।

জাটকা ধরার নিষেধাজ্ঞার এই আট মাসে জাটকা আহরণ, ক্রয়—বিক্রয় ও পরিবহন বন্ধে জেলা—উপজেলার মাছঘাট, বাজার ও জেলেপল্লিগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও থেমে নেই জাটকা শিকার। কিন্তু এরপরও বরিশালে জাটকা নিধন বন্ধ হচ্ছে না। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এসব মাছ। এতে ভরা মৌসুমে ইলিশ—সংকটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।বরিশাল থেকে প্রতিনিয়ত দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে জাটকা মাছ সরবরাহ করছে দক্ষিনঞ্চলের মোকামগুলো।তবে প্রশ্ন উঠছে এত কঠোর নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও কিভাবে বরিশালসহ দক্ষিঞ্চল থেকে জাটকা ইলিশ কিভাবে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

বরিশাল কাশিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা সংস্থা সেখান থেকে বিপুল পরিমান জাটকা আটক করে।এরপর নগরীর কাশিপুরে সেনাবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে ৬৪মন জাটকা আটক করে।শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১২ টায় বরিশাল মহানগরীর আমতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালায় বরিশাল কোতয়ালি থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী সেখান থেকে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় ৩হাজার কেজি জাটকা ইলিশ।এত অভিযানের মাঝেও বরিশাল পোর্ট ও তালতলি থেকে বিভিন্ন রুট দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত যাচ্ছে টনকে টন জাটকা ইলিশ।

 

জেলে সংগঠকেরা বলছেন, মৎস্য অধিদপ্তর প্রতি বছর রেকর্ড পরিমাণ জাটকা উৎপাদন দেখিয়ে ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির কৃতিত্ব দেখাচ্ছে। কিন্তু ভরা মৌসুমে নদীতে ইলিশ পাওয়া যায় না। সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরে ইলিশের দাম মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলাঘেঁষা মেঘনা হলো জাটকা আহরণের মূল কেন্দ্রস্থল। এখানকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীরা ইলিশঘাটের মালিক। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় শত শত জেলে প্রতিদিন মেঘনায় বেপরোয়াভাবে জাটকা নিধন করেন।তবে মেঘনায় নিয়মত অভিযান থাকায় জেলেরা তেমন জাটকা শিকার করতে না পারলেও অন্যদিকে হাইমচর ও কালীগঞ্জ মেহেন্দীগঞ্জ কালাবদর নদীতে জাটকা শিকার হচ্ছে দেদারচ্ছে।

মেঘনা তীরের ধুলখোলা ইউনিয়ন জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মনির মাতুব্বর বলেন, গত কয়েক বছর ভরা মৌসুমে মেঘনায় ইলিশ পাওয়া যায় না। এখন জাল ফেললেই প্রচুর জাটকা উঠছে।তবে হিজলাতে মৎস্য কর্মকর্তার কারণে জাটকা শিকার নিয়ন্ত্রনে থাকলেও মেহেন্দিগঞ্জের আশেপাশে প্রচুর জাটকা শিকার হচ্ছে।

মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়ার জেলে শাওন বলেন, জাল ফেললেই এখন জাটকা আর জাটকা। শুনেছি, অভিযানে নেমেছে প্রশাসন।

বরিশাল জেলায় নিষেধাজ্ঞার ভিতর জাটকা শিকার ও অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন আপনি আমার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আপনার সাথে কথা বলবে।সে আপনাকে তথ্য দিবে।

বরিশাল সদরে মৎস্য অধিদপ্তের অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

TT Ads