স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
বাংলা নববর্ষের উৎসবমুখর আবহে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে নতুন এক আশার নাম হয়ে উঠছেন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু। পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে তার আন্তরিক শুভেচ্ছা বার্তা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ইতিবাচক সাড়া জাগিয়েছে।
নববর্ষকে কেন্দ্র করে দেওয়া তার বার্তায় ছিল না কোনো রাজনৈতিক কৌশলের কড়াকড়ি ভাষা, বরং ছিল একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের আন্তরিকতা, একজন নারীর সহমর্মিতা এবং একজন সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধির দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি দ্রুতই হয়ে উঠছেন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য একটি নাম।
গণমাধ্যমে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতু বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। এই উৎসব আমাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে, নতুনভাবে ভাবতে শেখায় এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা বাড়িয়ে দেয়। নতুন বছর ১৪৩৩ সবার জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা বয়ে আনবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতের সব সংকীর্ণতা ও বিভেদ ভুলে গিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ, উন্নত ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার এখনই সময়। তার ভাষায়, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবনমান, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির উন্নয়নই প্রকৃত অগ্রগতি।
নগরীর ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় নাগরিক সেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের সুযোগ থাকলেও অনেক সমস্যাই এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। এমন বাস্তবতায় একজন সচেতন, সক্রিয় এবং মানুষের পাশে থাকা প্রার্থীর প্রতি মানুষের প্রত্যাশা দিন দিন বাড়ছে। আর ঠিক এই জায়গাতেই জিতু নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জিতু দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে পরামর্শ দেওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
একজন গৃহিণী বলেন, “আমরা এমন একজন কাউন্সিলর চাই, যিনি আমাদের কথা বুঝবেন, আমাদের পাশে থাকবেন। জিতুকে দেখে মনে হয়, তিনি আমাদের মনের কথা বোঝেন।”
একজন তরুণ ভোটার জানান, “নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এমন প্রার্থী খুব দরকার। জিতু আপা সেই জায়গায় এগিয়ে আছেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় গুণ হলো মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার ক্ষমতা। শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় নয়, বরং সারাবছর মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাই একজন নেতাকে আলাদা করে তোলে। এই দিক থেকে জিতুর কার্যক্রম ও বক্তব্য তাকে একটি ইতিবাচক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
নববর্ষের শুভক্ষণে দেওয়া তার বার্তায় তিনি বরিশাল নগরীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে চান তিনি।
নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়েও তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী—তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। তাই নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করতে চান।
নতুন বছরের এই শুভক্ষণে তিনি ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি সবাইকে উৎসবমুখর পরিবেশে, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আহ্বান জানান।
নির্বাচনের আগমুহূর্তে যখন নানা প্রতিশ্রুতি আর প্রতিযোগিতার ভিড়ে প্রার্থীরা ব্যস্ত, তখন জান্নাতুল ফেরদৌসী জিতুর এই মানবিক ও ইতিবাচক বার্তা অনেকের কাছেই ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তার এই সহজ-সরল উপস্থাপন, মানুষের প্রতি আন্তরিকতা এবং উন্নয়ন ভাবনা তাকে ইতোমধ্যে ভোটারদের কাছে সম্ভাবনাময় এক প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
সময়ই বলে দেবে নির্বাচনের ফলাফল কী হবে। তবে এটুকু স্পষ্ট, নববর্ষের শুভেচ্ছার মাধ্যমে যে আস্থার বীজ তিনি বপন করেছেন, তা ধীরে ধীরে শক্ত ভিত্তিতে পরিণত হচ্ছে।







