এস এম মিরাজ|| ভোজনপ্রিয় বাঙালির খাবার তালিকায় পিঠা-পুলির স্থান শীর্ষেই বলা চলে। শীত এলে তো কথাই নেই। বাসাবাড়ির পাশাপাশি বাজারে বসে পিঠা বিক্রির ধুম। প্রতিবারের মতো এবারও শীতের আমেজ প্রকৃতিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশাল বিভিন্ন স্থানে বসছে পিঠার আসর।

জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতো শিশির ঝরিয়ে প্রকৃতিতে আসতে শুরু করেছে শীতকাল। রাস্তার মোড়ে মোড়ে শীতের পিঠার দোকানে পসরা সাজতে শুরু করেছে। বিক্রিবাট্টাও চলছে বেশ।

 

চিতই পিঠা। নগরীসহ সারাদেশের অতিপরিচিত একটি নাম। প্রায় সারাবছরই এ পিঠার দেখা মিললেও শীত এলে কদর বেড়ে যায় কয়েকগুণ। মৌসুমী পিঠা বিক্রেতারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন পিঠা তৈরিতে।

শহরের রাস্তার পাশে মাটির চুলোয় টাটকা খেজুরের রসের পিঠাসহ নানান ধরনের পিঠা পাওয়া গেলেও বরিশাল শহরে মূলত ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, চাপটি পিঠা ও তেল পিঠার আধিক্য।

 

ভাপা পিঠা মূলত সকাল ও সন্ধ্যায় বিক্রি হয়। বেলা বাড়লে এ পিঠা পাওয়া যায় না। খুব ভোরে শুরু হয়ে বেলা ১০/১১টা পর্যন্ত এবং বিকালে শুরু হয়ে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত এ পিঠা বিক্রি হয়। তবে অন্যান্য পিঠা সারাদিনই পাওয়া যায়।

শীতের শুরুতেই বিএম কলেজ এলাকায় বিভিন্ন পদের পিঠার কদর বেড়েছে। ফলে পিঠা ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের চাহিদামতো তৈরি করছেন বৈচিত্র্যময় সব পিঠা। এর মধ্যে রয়েছে— পাটিসাপটা, খেজুর পিঠা, ভাজা পুলি, সিদ্ধ পুলি, দিপ পিঠা, নকশী পিঠা, মালপোয়া, পোয়া পিঠা, চিতই পিঠা, চাপটি পিঠা, তেল পিঠা প্রভৃতি।

চৌমাথা মোড়ে কাছে চার জন পিঠা বিক্রি করেন। তাদের একজন সালাউদ্দিন দৈনিক ভোরের অঙ্গীকারকে বলেন, শীত শুরু হওয়ায় পিঠার কদর বেড়েছে। সারাবছরের তুলনায় শীতে পিঠার বিক্রি বেশি হয়। পিঠার অর্ডারও বেড়েছে। অর্ডার দিয়ে পিঠা নিতে হলে অন্তত একদিন আগে অর্ডার দিতে হয়।

শহরে সারাবছর যেসব পিঠা পাওয়া যায়, তার অধিকাংশ থাকে চিতই পিঠা। দোকানিরা পিঠা-প্রেমিকদের আকর্ষণ করার জন্য সরিষাসহ হরেক রকমের ভর্তার ব্যবস্থা করে রাখেন, যেন পিঠা-প্রেমিকরা এ পিঠা তৃপ্তি নিয়ে খেতে পারেন।

সদরঘাট এলাকার দোকানি সিরাজ বলেন, ১২ মাসই চিতই পিঠা বিক্রি করি। তবে অন্যান্য সময়ের চাইতে শীতে পিঠা বিক্রি অনেকগুণ বেড়ে যায়। কারণ সেই সময় চিতই পিঠার সঙ্গে খেজুরের গুড়ের ভাপা পিঠাও বিক্রি হয়।’ শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করে প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাভ থাকে বলে জানান তিনি।

রুপাতলী থেকে সদরঘাট, সদর রোড এলাকায় পিঠা খেতে আসেন শাকিল আহমেদ। তিনি জানান, পিঠা আমার খুব পছন্দ। সদর রোড সারাবছরই পিঠা পাওয়া যায়। তাই এ পথে এলেই নিয়মিত পিঠা খেয়ে যাই। তবে শীতের পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। এসময় পিঠা খেতে দারুণ লাগে।

হাসপাতাল রোড এলাকার ফুটপাথের পিঠার দোকানি পারভেজ বলেন, ১২ মাসই পিঠার ব্যবসা রমরমা চলে। পিঠা গ্রাহকদের জন্য পিঠার সাথে কয়েক পদের ভর্তা দেওয়া হয়; যেন মানুষ খেয়ে মজা পায়, আর বারবার খেতে আসে। শীতের মধ্যে কয়েক রকমের পিঠা তৈরি করে থাকি। পিঠার বিক্রি এখনই বেড়েছে। শীত আরেকটু বাড়লে পিঠার বেচাবিক্রি আরও বাড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বরিশাল নগরীতে অটো মালিক সমিতির অবৈধ টোকেন বাণিজ্যর সংবাদ প্রকাশের পর নিজেদের বাঁচাতে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করেছেন চাঁদাবাজ নিজাম। আজ মঙ্গলবার বরিশাল রিপোটার্স ইউনিটিতে সংবাদ সন্মেলনে হাজির হয়ে নিজেদের বাঁচাতে মিথ্যা বানোয়াট কথা বলতে থাকলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন এই চাঁদাবাজ নিজাম। সূত্রে জানা যায়, গত বছর বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নাম ভাঙ্গিয়ে স্টিকার বানিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতান এই নিজাম, মোর্শেদ গংরা।

সেই ঘটনায় জেল হাজতেও যায় এই নিজাম, মোর্শেদ। এরপর কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পরে চলতি মাসে আবারো শুরু করে অবৈধ টোকেন বাণিজ্য। সেই টোকেন বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নিজেদের বাঁচাতে ও টোকেন বাণিজ্য চালিয়ে যেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন নিজাম গংরা। বিসিসির নিবন্ধন ছাড়া টোকেনের কি কারনে তারা টোকেন ভাড়া আদায় করছেন? তার কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেননি চাঁদাবাজি সংগঠনের মূল হোতা নিজাম।

বরিশাল জেলা মহানগর অটো মালিক সমিতি’র নামে শ্রমিকদের জিন্মি করে টাকা হাতানো এই প্রতারক বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে চায় শ্রমিকরা।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হানিফ নামে এক হাজতির ঝুলন্ত মরদেহ শনিবার উদ্ধার করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। শনিবার ভোরে কারা অভ্যন্তরের হাসপাতালের বাথরুমে এ ঘটনা ঘটে। হানিফ খলিফার (৪০) গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। তবে বসবাস করতেন সদর উপজেলার চৌহুতপুর এলাকায়। এর আগে গত বছরের ১ মার্চ শুক্রবার দুপুরে দশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কারাগারের ডিভিশন ভবনের রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় গামছা দিয়ে সে আত্মহত্যা করে।
এসব ঘটনার পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কারা অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার ইব্রাহীমের বিরূদ্ধে। যদিও তাকে রক্ষায় অন্য দুই কারারক্ষিকে বরখাস্ত করেই দায় সাড়তে চাইছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও কারা অভ্যন্তরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরূদ্ধে। তার সচিত্র প্রতিবেদন বিস্তারিত আসছে………

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর ৩ নং ওয়ার্ড ভাটিখানা শুনিয়া মসজিদ গলিতে প্রকাশ্যে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ বছর পূর্বে মোছাম্মদ সুরাইয়া বেগম এবং জাফর আলী মৃধা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে একত্রে তিন শতাংশ জমি ক্রয় করেন যার মৌজা গাউয়ারশার জে এল নং৪৬। এস এ খতিয়ান নং১৫, এস এ দাগ নং৫০৪। উল্লিখিত জমি ক্রয় করার পর স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক এর উপস্থিতিতে ক্রয় কৃত জমির মাপজোপ সম্পন্ন করে জমি ভোগ দখলে আসেন। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন হইতে প্লান পাস করিয়ে নেন। জমির মালিক জাফর আলী মির্ধা। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জমির মালিক স্থানীয় মৃত ইউনুস এর ছেলে মোহাম্মদ অপু(৩৫) জাফর আলী মৃধার প্লান পাস করানো ভবনটি তুলতে বাধা দিয়ে রাস্তা দেখিয়ে জমি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এ সময় জমির মালিক জাফর আলী মৃধা নিজের ক্রয়কৃত জমি না ছাড়ার কথা জানিয়ে দেন। এদিকে ক্ষমতার বলে গতকাল উল্লেখিত জমিতে রাতের আধারে অবৈধভাবে জোর দখলের উদ্দেশ্যে লোকজন নিয়ে নিজেই ঘর তুলে নেয় অপু। জানা যায়, উল্লেখিত জমির মালিক জাফর আলী মৃধা ও সুরাইয়া বেগম এবং এই জমিতে উপর কোন অংশীদারিত্ব নেই। আমার কোন কাগজ পত্র বা অংশীদারিত্ব না থাকা সত্ত্বেও গায়ের জোরে রাতের আধারে ঘর তুলে খুঁটি গেড়ে অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এখনো পর্যন্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলেও খুব শীঘ্রই প্রশাসনের শরণাপন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছেন জমির মালিক জাফর আলী মৃধা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুরে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে ঐ ঘটনায় ছাত্রীর চাচাতো ভাই বদল আকনকে প্রধান আসামি এবং মিম নামের একজনকে সহযোগিতার অভিযোগ জানিয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেছেন ভুক্তোভোগীর পরিবার।

বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঐ হোটেলের রেজিস্ট্রার খাতায় নাম থাকায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বাদল ও সহযোগী মিমকে আটক করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানায়, নতুন পোষাক কিনে দেয়ার কথা বলে গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে নগরীর হাজী মহসিন মার্কেটে নিয়ে যায় চাচাতো ভাই বাদল। পরে, নগরীর আবাসিক হোটেল শামসের ৪র্থ তলার একটি রুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সেসময় ছাত্রী ডাক চিৎকার দিলে বাদল ধর্ষণ করতে পারেনি। লোক লজ্জার ভয়ে এতদিন কাউকে জানায়নি। তবে আর যেন কারো সাথে এমন অপকর্ম করতে না পারে সেজন্য বিচারের দাবিতে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশালে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এজন্য বুধবার (১১ নভেম্বর) সকাল সোয়া নয়টায় নগরের সোহেল চত্বরে আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এবং যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় এর আগে এখানেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।পরে দলীয় কার্যালয়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুচ।

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড রুপাতলীতে অন্যের জমি দখল, পুকুরের মাছ ধরে নেওয়া ও অবৈধ ভাবে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়ায় ২৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাফিন মাহমুদ তারিক সহ ৬জনকে আসামী করে গত ১১/১০/২০২০ তারিখ “মোকাম বরিশাল যুগ্ন জেলা জজ ১ম আদালতে” মামলা করেছেন ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরীফ মো: আনিছুর রহমান ও একই ওয়ার্ডের বাসীন্দা মৃত আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের পুত্র আরিফুল ইসলাম সবুজ। মামলার বাকি আসামীরা হলেন- ২৪ নং ওয়ার্ড রুপাতলী এলাকার শাহজাহান হাওলাদারের পুত্র সোহেল হাওলাদার, আমির আলী শিকদারের পুত্র সোহান সিকদার, আরজ আলী খান’র ছেলে চান খাঁ, জাহাঙ্গীর কাজীর ছেলে ফেরদৌস কাজী, দুলাল দাসের ছেলে প্রশান্ত দাস (মন্টু)। মামলা নং- ৫৮/২০২০. মামলায় উল্লেখ করা হয়, ১নং আসামী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাফিন মাহমুদ তারিক ও ৬নং আসামী প্রশান্ত দাস মন্টু জে.এল ৫৬নং রুপতলী মৌজার বিবাদীগন বাদীপক্ষকে গত ৮’ই অক্টোবর বিরোধীয় ভূমি বে-দখল করার হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে এবং তাতে বাকি আসামীরা সায় দেন।এরই সুত্র ধরে আসামীগন রাতের আধারে দলবল নিয়ে বাদীর দখলীয় দিঘী থেকে বিপুল পরিমান মাছ ধরে নিয়ে যায়।এছাড়াও ১ নং আসামীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শরীফ আনিচুর রহমান।তিনি তার মাছ রক্ষা এবং ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বিচারক এবং পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বরগুনায় শ্বশুর বাড়ি থেকে শিকলে বাঁধা জামাতাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে দশটার দিকে জামাতাকে উদ্ধারের সময় তাকে বেঁধে রাখার অভিযোগে তার স্ত্রী মৌসুমি আক্তার কাকলী, শ্যালক সোহাগ সরদার ও শাশুড়ি খাদিজা বেগমকে আটক করা হয়।

বরগুনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক ওবায়দুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানান, সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বুড়িরচর গ্রামের পনু সরদারের ঘরে শিকলে বাঁধা অবস্থায় আবুল খায়েরকে পাওয়া যায়।

পনু সরদারের মেয়ে মৌসুমি আক্তার কাকলী জানিয়েছেন, ২ বছর আগে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার ছোট আমতলা গ্রামের আবদুল ওহাব শেখের ছেলে আবুল খায়েরের (২৬) সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের ৮ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

খাদিজা বেগম বলেন, রোববার সন্ধ্যায় তার জামাতা আবুল খায়ের তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে।

আবুল খায়ের বলেন, শ্বশুর বাড়িতে যাবার পরেই শ্যালক সোহাগ সরদার তার পায়ে শিকল বেঁধে তালাবদ্ধ করে রাখে।

সোহাগ সরদার বলেন, তার বোনকে বিয়ের পর কাবিন না করায় ভগ্নীপতিকে বেঁধে রাখা হয়। কাবিন করলেই তাকে ছেড়ে দেয়া হতো।

বরগুনা থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা জামাতাকে উদ্ধার ও ৩ জনকে আটক করেছেন।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কারখানা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে কারখানার তীর, পশ্চিম কাছিপাড়া ও বাহেরচর লঞ্চঘাট এলাকার আবাদি জমি, ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সাত দিনের অব্যাহত ভাঙনে বাহেরচর লঞ্চঘাট, পশ্চিম কাছিপাড়া, কারখানা লঞ্চঘাট এলাকার প্রায় ১০০ একর আবাদি জমি, আকনবাড়ি, খানবাড়িসহ অর্ধশত ভিটেবাড়ি, ঈদগাহ মাঠ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় ২০ বছর ধরে ভাঙছে ওই নদীর তীরবর্তী কারখানা, পশ্চিম কাছিপাড়া ও বাহেরচর লঞ্চঘাট এলাকা।

কারখানা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম খলিফা বলেন, কারখানা নদীর অব্যাহত ভাঙনে এই গ্রামের দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পাঁচ শতাধিক পরিবার সব হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। অনেক অসহায় পরিবার এলাকা ছেড়েছে। দুই শতাধিক পরিবার কারখানার চরে ঘর তুলে বসবাস শুরু করছে। তিনি আরও বলেন, অমরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে আবার নতুন ভবন নির্মাণ করে পাঠদান চলছে। বর্তমানে ভাঙনের কবলে রয়েছে কারখানা দারুল ইসলাম সিনিয়র মাদ্রাসা, কারখানা রাহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারখানা সুফিয়া খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক।

কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আগুনে পুড়লে জমি থাকে। কিন্তু নদীর ভাঙনে কিছুই থাকে না। ভাঙনের কবলে পড়ে কারখানা, পশ্চিম কাছিপাড়া ও বাহেরচর লঞ্চঘাট এলাকার কত পরিবার যে নিঃস্ব হয়ে গেছে, তার হিসাব নেই।’ তিনি ভাঙন রোধে টেকসই ভাঙন রক্ষা প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের নদীপ্রধান দেশ। প্রাকৃতিকভাবেই এক পাড় ভাঙবে, আরেক পাড় গড়বে (চর জাগবে)। এটা একটা স্বাভাবিক নিয়ম। সরকার ভাঙন রোধে ব্যাপক কাজ করছে। বাউফলেও কাজ হচ্ছে। তবে খুব শিগগির ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মহামারী করোনা মোকাবিলায় সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এবং মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নগরীর ৫টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জিয়াউর রহমান সুজন।

পাশাপাশি যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন না তাদেরকে সচেতন করা হয়। এ সময়ে নগরীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জানান, ‘সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান আরও জোরালো করা হবে।’