ফেনীর সোনাগাজীতে সিনথিয়া ইসলাম খুসবু (২৪) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন স্বামী আলী আক্কাস রনি (২৫)। বুধবার (১২ জুন) সকালের দিকে পৌরসভার পূর্ব চরগনেশ শেখ পাড়া এলাকার আলমগীর হুজুরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

তারা দুইজনই বরিশালের ভোলা এলাকার বাসিন্দা। স্বামীর কর্মসূত্রে সিনথিয়া সোনাগাজীতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে সিনথিয়া ইসলাম খুসবুকে বিয়ে করেন রনি। রনি সোনাগাজীতে ফুটপাতে জুতার ব্যবসায় করতেন। সেই সুবাদে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তারা।

বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল। মঙ্গলবার রাতেও বাসায় বাজার আনা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ভোর ৫টার দিকে খুসবুকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে থানায় এসে পুলিশের কাছে রনি নিজেই এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন।

সোনাগাজী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদ্বীপ রায় বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তার হাত ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। আসামি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বরিশালের বানারীপাড়ায় ধারালিয়া গ্রামে বাথরুম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় জান্নাতুল (১৩) নামের সপ্তম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত জান্নাতুল ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী পাপনের মেয়ে এবং স্থানীয় সলিয়াবাকপুর ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বানারীপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিন উদ্দিন জানান, জান্নাতুলের মা শান্তা পরকীয়ায় আসক্ত। সোমবার (১০ জুন) রাতে তিনি প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। (মঙ্গলবার) সকালে জান্নাতুলকে বাসার বাথরুেেম গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মা পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ায় কষ্ট ও লজ্জায় জান্নাতুল আত্মহত্যা করেছে। তারপরেও তার প্রকৃত মৃত রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশালে শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আপাতত থানায় মামলা করা হয়েছে।

পিরোজপুরের নাজিরপুরের মোবাইলফোন কিনে না দেয়ায় শিক্তা বড়াল (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার দেউলবাড়ী ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্তা বড়াল ওই গ্রামের উত্তম বড়ালের মেয়ে ও নাওটানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার জন্য শিক্তা তার মা-বাবার কাছে বায়না ধরে। কিন্তু তারা মোবাইল কিনে দেননি। এ কারণে অভিমান করে শিক্তা ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে। শিক্তার বাবা উত্তম বড়াল ঘটনা দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

উপজেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জিন্নাত তসনিম বলেন, ‘রোগী হাসপাতালে আনার সাথে সাথেই আমরা তার চিকিৎসা শুরু করি, চিকিৎসা চলাকালীন সে মারা যায়।’

নাজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে প্রেরণ করেছি। নাজিরপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে।’

পিরোজপুরের নেছারাবাদে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ রোববার সকালে স্বরূপকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের কুনিয়ারি বেইলি ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নেছারাবাদ থানার উপপরিদর্শক মো. পনির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহতরা হলেন, উপজেলার জগন্নাথকাঠি গ্রামের মো. সাকিল (২৬) ও মো. সাইফুল (৩৭)। সাকিল মো. সহিদুল ইসলামের ও সাইফুল ফজলুল করিমের ছেলে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মো. বাদশা মিয়া বলেন, ‘সাকিল ও সাইফুল মোটরসাইকেলে করে বরিশালের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। তাঁরা বাসটি দেখে ধীরগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে কুনিয়ারি বেইলি ব্রিজের ওপর উঠেন। এ সময় সামনে থেকে শুভেচ্ছা নামের যাত্রীবাহী বাসটি দ্রুতগতিতে এসে তাদের চাপা দেয়। আমরা স্থানীয়রা হাত ইশারা দিয়ে ড্রাইভারকে থামতে বললেও তা না শুনে তাদের চাপা দিয়ে মোটরসাইকেলসহ অনেক দূর নিয়ে যায়। আমরা তাদের তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শাহারুখ মল্লিক বলেন, হাসপাতালে আনার পূর্বেই ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সান্টু সিকদার বলেন, স্বরূপকাঠি-বরিশাল লাইনের বেশির ভাগ বাস বরিশাল থেকে আসার সময় পথে থেমে থেমে যাত্রী তোলে। পরে টাইম রক্ষার জন্য স্বরূপকাঠির কাছাকাছি এসে বেপরোয়া গতিতে চালায়। এ কারণে এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

নেছারাবাদ থানার উপপরিদর্শক মো. পনির খান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে ও ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আমেনা খাতুনের (২০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী শাকিব মৃধাকে (২২) আটক করেছে।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কলাপাড়া উপজেলায় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সুলতানগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

মৃতের পারিবারের অভিযোগ, দুই বছর আগে ধুলাসার গ্রামের বাসিন্দা শাকিবের সঙ্গে আমেনা খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। ২০ বছর বয়সী আমেনাকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে দড়ি দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। সাত মাসের অন্তঃস্বত্তা কোনো মা আত্মহত্যা করতে পারে না। এ ছাড়া আত্মহত্যার কোনো আলামতও দেখা যায়নি। এই ঘটনায় জড়িত শাকিব ও তাঁর পরিবারের লোকজনের বিচারের দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবার।

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহমেদ জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী শাকিবকে আটক করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে তৃতীয় ধাপে স্থগিত বরিশালের দুইটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। উপজেলা দুইটি হলো- গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া।

রোববার (৯ জুন) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এদিকে, সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে। আর সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ বজায় রাখতে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।

গৌরনদী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, আগৈলঝাড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে স্থগিত হওয়া ১৯টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। এ ১৯টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এর আগে, চার ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

 

ঘূর্ণিঝড় রিমালের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়নি। এখনো বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছেন হাজারো গ্রাহক। তবে দু-এক দিনের মধ্যে সব জায়গায় লাইন চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ওস্তাখান গ্রামের গ্রাহক আলেয়া বেগম, মিনার বেগম, শেফালী আক্তার, সেতার আক্তার, আজগর আলী ও কালাম ফরাজী বলেন, ‘অসহনীয় গরম, এমন অবস্থায় ১১ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। রাতে ঘুমাতে পারি না। বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে দৈনন্দিন কাজ করার জন্য পানি তুলতে পারছি না। এত বড় ঝড় গেল, আত্মীয়–স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করব যে, মোবাইলেও কল যায় না। আমরা একেবারে অন্ধকারে আছি। জীবন এত দুর্বিষহ যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান আকতার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে রিমালে এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৈদ্যুতিক তারে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ। ভেঙে গিয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, ছিঁড়েছে তার। দ্রুত বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের সঙ্গে এলাকার যুব সমাজ একত্রিত হয়ে স্বেচ্ছায় গাছ কাটায় সহযোগিতা করছে।’

ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের পর থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের সাড়ে চার শ স্টাফ কাজ করেছেন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়নি। হয়তোবা দু-এক দিনের মধ্যে সব জায়গায় লাইন চালু করা হবে।

 

বরিশালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর সেমিনারে হাতাহাতি হয়েছে। পরে লাঠিসোটা নিয়ে নগরীর সড়কে মহড়া দিয়েছে এক যুবদল নেতার শতাধিক অনুসারী।

বুধবার (৫ জুন) বিকেলে ৫টার দিকে নগরীর স্বরোডে এ মহড়ার ঘটনা ঘটে।

এসময় তারা প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালাতে সোনালী আইসক্রিম মোড় এলাকা হতে লাঠিসোটা নিয়ে মহড়া দিয়ে সেমিনারস্থল স্বরোডের দিকে আসে। তখন পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ ঘটনার আগে বিকেল ৩টার দিকে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নগরীর স্বরোডের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সেমিনার শুরু হয়। সেই সেমিনারে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল ইসলাম জাহানসহ তার অনুসারীরা যোগ দেন। তারা প্রবেশের আগেই বিকেল তিনটা থেকে সেমিনার হলের পিছনের সারির চেয়ারে বসে ছিলেন মহানগর যুবদল নেতা আরিফুর রহমান মুন্নার অনুসারীরা। এসময় মুন্নার অনুসারীদের চেয়ার ছেড়ে দিতে বললে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এরপর জাহানের অনুসারীরা প্রকাশ্যে লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা করতে মহড়ায় নামে বলে অভিযোগ যুবদল নেতা মুন্নার।বুধবার ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার অবদান’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে বরিশাল বিএনপি। এ সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বীরবিক্রম। প্রধান বক্তা ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার। সভাপতিত্ব করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরীন। তাদের সামনেই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মহড়ার সময়ও সেমিনার চলছিলো।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল জব্বার জানান, দিনের আলোতে হঠাৎ এমন মহড়া দেখার পর থেকে আতংকে আছি। লাঠিসোটা নিয়ে প্রকাশে ঘুরে বেড়ানোর এ দৃশ্য মেনে নেওয়া যায় না।

মহানগর যুবদল নেতা ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মুন্না বলেন, মাজাহারুল ইসলাম জাহানের অনুসারীরা তিনটায় শুরু হওয়া সেমিনারে সাড়ে ৪টায় প্রবেশ করে ইচ্ছে করে গ্যাঞ্জাম করেছে। আমার নেতাকর্মীরা আগে এসে চেয়ারে বসে ছিলো। তখন জাহানসহ তার অনুসারীরা সেমিনার হলে প্রবেশ করে আমার কর্মী সাকিবকে চেয়ার ছেড়ে দিতে বলে। তখন সে চেয়ার ছাড়তে রাজি না হওয়ায় জাহানের এক অনুসারী সাকিবকে থাপ্পর দেয়। তারপরই দুই গ্রুপ হাতাহাতিতে জড়ায়। এরপর জাহানের অনুসারীরা লাঠিসোটা আমার অনুসারীদের উপর হামলা চালাতে আসলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। এ বিষয়গুলো আমি সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছি।

এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল ইসলাম জাহান বলেন, আমি এখন সেমিনারে আছি। প্রধান অতিথি বক্তৃতা দিচ্ছেন, তাই এখন কথা বলা যাবেনা।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিচুল হক বলেন, তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

 

চতুর্থধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার তিনটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আজ বুধবার (৫ জুন) রাতে বেসরকারি ফলাফলে তারা বিজয়ী হয়েছেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ফারজানা বিনতে ওহাব। উজিরপুরে চেয়ারম্যান হয়েছেন হাফিজুর রহমান ইকবাল এবং বানারীপাড়ায় গোলাম ফারুক।

বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বরিশাল জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী ফারজানা বিনতে ওহাব। তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে ২৮ হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার খালেদ হোসেন স্বপন কাপ-পিরিচ মার্কা নিয়ে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩৭৯ ভোট। চার হাজার ১৯ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে জেলা মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা বিনতে ওহাব চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

উজিরপুর উপজেলায় কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ৩১ হাজার ২৫৮ ভোট পেয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফিজুর রহমান ইকবাল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৪৬০ ভোট। দুই হাজার ৭৯৮ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাফিজুর রহমান ইকবাল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

বানারীপাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দোয়াত-কলম প্রতীকের গোলাম ফারুক ৩৪ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলাদ হোসেন সানা পেয়েছেন ২৮ হাজার ৭৩১ ভোট। এর আগে আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ তিন উপজেলায় ভোটগ্রহণ হয়।

 

বরিশাল নগরীতে জমির মালিক কে জমি থেকে তাড়িয়ে দেবার ষড়যন্ত্র করছে প্রতিপক্ষরা।বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক, মানসিক, ও হত্যার হুমকি প্রদান করছে তারা।ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর পূর্ব বগুড়া রোড, ১৭নং ওয়ার্ড এলাকায়।জমির মালিক প্রতিপক্ষদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে কোতোয়ালি থানায় এসে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে দিয়েছেন লিখিত অভিযোগ।লিখিত অভিযোগসূত্রে জানা যায়, মৌজা : বগুড়া আলেকান্দা, জে.এল নং-৫০, এস.এ খতিয়ান
নং-২৯৬২, এস.এ দাগ নং-৪০৬০, জমির পরিমান ২৬ শতাংশ, তফসিল বর্নিত পৈত্রিক সূত্রে জমির মালিক বগুড়া রোড এলাকার মৃত মানিক সরকারের ছেলে পঙ্কজ সরকার(৪৯)।
বিবাদী নান্টু সরকার ছেলে সন্তু সরকার (২২),
গৌতমের ছেলে জয় সরকার (২৩),
মৃত মিন্টু সরকার স্ত্রী মঞ্জু সরকার (৬০), অজ্ঞতা নামা আরো ৪-৫ জন
জমি জোরপূর্বক দখলের জন্য পায়তারা
করে। উক্ত জমি নিয়া বিবাদীদের সাথে পূর্ববিরোধ বিদ্যমান। উপরোক্ত বিবাদীরা সহ অজ্ঞাতনামা
বিবাদীরা গতকাল দুপুর ১২ টার সময় লাঠিসোটা সহ দেশীয় অস্ত্রাদি
নিয়া আসিয়া জমি জোরপূর্বক দখলের পায়তারা করে এবং জমিতে থাকা গাছের আম পাড়িয়া
নিতে শুরু করে। বিবাদীদের বাঁধা দিলে তাহারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে
এবং খুনজখমের হুমকি প্রদান করে। জমির মালিকানা বিষয়ে কাগজপত্রাদি সহ বহু সাক্ষী প্রমান আছে।ভুক্তভোগী জানান, আমার এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।