মন্দিরের ফটক খোলার সময় মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আমন্ত্রণ না করায় ওই মন্দির কমিটির সভাপতিকে বেদম পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কালিবাড়ি রোডস্থ ধর্মরক্ষ্মীনি সভাগৃহে ডেকে জিয়া সড়কের জয়দুর্গা কামেশ্বরী মন্দির পূজা কমিটির সভাপতি জগদীশ বৈদ্যকে মারধর করা হয়। পরে জগদীশ বৈদ্যকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

জগদীশকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তমাল মালাকার, সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল দাস পাপ্পা ও সদস্য খোকন চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে।

জগদীশ বৈদ্য বলেন, জয়দুর্গা কামেশ্বরী মন্দির প্রতি বছর এক মাস করে বন্ধ থাকে। সেই মন্দির কমিটির সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে’র সাথে কথা হলে তিনি মন্দিরের ফটক খুলতে বলেন। সেই মোতাবেক মন্দিরের ফটক খোলা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাসায় ফেরার পথে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পাপ্পা ফোন দিয়ে ধর্মরক্ষ্মিনী সভাগৃহে আসতে বলে। কিছুক্ষণ পর সভাপতি তমালও যেতে বলে সেখানে। ধর্মরক্ষ্মিনীতে যাওয়ার পর তাদের কেন মন্দির খোলার সময় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এই অজুহাত দেখিয়ে খোকন আমাকে মারধর শুরু করে। পরক্ষণে তমাল ও পাপ্পাও এলোপাতাড়ি মারধর করে। এরপর স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

জগদীশ আরও বলেন, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি জোড়পূর্বক বিভিন্ন মন্দিরে হস্তক্ষেপ করছে। তারা জোড়-জুলুম করছে। বিগত দিনের কমিটিগুলো থেকে এমন আচরণ আমরা পাইনি।

অভিযোগ রয়েছে, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের এই কমিটি অনেকটা দখল করেছে বর্তমান পদপ্রাপ্তরা। বিতর্কিত লোকজনকে এই পরিষদের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে, এই নিয়ে ক্ষুব্ধ সচেতন সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও। যারা শহরজুড়ে বিতর্কিত, তাদেরকে জোড় খাটিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আসন দেওয়া সমীচীন হয়নি বলেও অভিমত তাদের।

করোনাকালীন সময়ে তমাল মালাকার শ্মাশানে সাধারণ মানুষদের দাহ করতে দেয়নি। পরে তৎকালীন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমানের হস্তক্ষেপে দাহ হতো।

এই বিষয়ে জানতে বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তমাল মালাকারকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল দাস পাপ্পা বলেন, ‘জগদীশকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, কেন মন্দির খোলার সময় আমাদের জানানো হয়নি। কিন্তু তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা গুজব ছড়িয়েছে তৃতীয় পক্ষ। মহানগরের সব মন্দিরে আমাদের হস্তক্ষেপ করার বৈধতা রয়েছে। তবে আমরা কোনো কমিটির উপর জোড় জুলুম করি না। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক পরিচালিত হয় আমাদের কমিটি। এখানে কারো হস্তক্ষেপ নেই।’

বরিশাল নগরীর চাঁদমারি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগর গোয়েন্দা বিএমপির একটি চৌকস টিম আজ দুপুর ১:৩০ ঘটিকা সময় ১০নং ওয়ার্ডস্থ গ্রীন সিটি পার্কের ”গ্রীন ক্যাফে অ্যান্ড মিনি চাইনিজ” এর উত্তর পশ্চিম পার্শ্বে পাকা রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করেন।

আটককৃতরা হলেন বান্দরবন জেলা সদরের ৫ নং ওয়ার্ডস্থ হালাকাটা, বর্তমান ঠিকানা কক্সবাজার সদর টেকপাড়া (টেকপাড়া, পুরাতন ম্যালেরিয়া সড়ক এর সুলতান আহম্মদ ও রোকেয়া বেগম এর মেয়ে এবং বদিউল আলম এর স্ত্রী মাদক ব্যবসায়ী রেহেনা আকতার (৩৮) কে ৫০০ শত পিস ইয়াবা সহ আটক করা হয়।

রেহানা আকতার একাধিক মাদক মামলার এজাহারভুক্ত,ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

 

বরিশাল নগরীর বিএম কলেজে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় মটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে নাদিম হোসেন (২৩) নামে এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাটি বুধবার বিকাল ৫ দিকে বিএম কলেজের মসজিদ গেটের সামনে সড়কে ঘটেছে। নিহত নাদিম বরিশাল সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অর্নাসের ইতিহাস বিভাগের ৩য় বর্ষের পরীক্ষার্থী ও লাকুটিয়া সড়কের আর আর এফ সংলগ্ন সিমেন্টের র্পোল এলাকার মনিরুল ইসলাম আশ্রাস এর ছেলে।

নিহতর বন্ধু মাসুম বিল্লাহ জানান, আমি আর নাদিম এক ডিপাটমেন্টের পড়ি। পরীক্ষা শেষে নাদিম তার মটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় মসজিদ গেটের সামনে বসে বিপরীত দিক থেকে বেপোয়ারা গতিতে আসা একটি প্রাইভেটকার এসে নাদিমের মটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে নাদিম ছিটকে নামায় পড়ে গিয়ে গুরুত্বর আহত হয়।

পরে তাকে আমরা গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত্যু বলে ঘোষনা করে।

তবে ঘটনাস্থ থেকে পুলিশ মটরসাইকেলটি আটক করলেও ঘাতক প্রাইভেটকারটিকে আটক করতে পারেনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিমুল করিম। এদিকে নাদিমের মৃত্যুতে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল এলাকা।

 

বরিশালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজায় আব্দুল হালিম (৪৬) নামে দণ্ডিত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৬ মার্চ) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হালিম বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে। ওই ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. জাহিদুল ইসলাম রিপন জানান, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে বাউফল উপজেলার এক নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আটক হয় আব্দুল হালিমসহ চারজন।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে আদালত তাদের এক বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে তাদের পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ১৩ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হন হালিম। পরে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করায় কারা কর্তৃপক্ষ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যরা হালিমের মরদেহ গ্রহণ করেছেন।

 

বিএনপির পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর দুমকিতে যুবলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিক, পুলিশসহ দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় গ্রামীণ ব্যাংক সড়কে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে সাতজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং তিনজনকে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করতে শতাধিক নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। একইসময় সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে আওয়ামী যুবলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিল ওই এলাকা অতিক্রমকালে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এসময় দুই পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। যুবলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে আসবাবপত্র ও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন।

দুই পক্ষের সহিংসতায় পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে বিএনপির আহ্বায়ক খলিলুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হাওলাদার, ফারুক হাওলাদার, যুবদলের সদস্যসচিব রিপন শরীফ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামীম হাওলাদার, শ্রমিক দলের সভাপতি হাবিবুর রহমান, পুলিশ কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেনসহ সাতজনকে দুমকি উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ জনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলা-সংঘর্ষের ঘটনাটিকে যুবলীগ-বিএনপি পরস্পরকে দায়ী করেছে।

আহত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে দলীয় অফিস ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’

অন্যদিকে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম তুহিন বলেন, ‘সারা দেশে জামায়াত-বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবলীগের মিছিলে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করলে দুই পক্ষে সহিংসতা হয়।’

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহত পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

 

বরিশালের মুলাদীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে বিপাকে পড়েছেন এক দম্পতি। জানা গেছে, মামলার আসামি ইউপি সদস্য সরোয়ার বেপারী ও তার লোকজন ওই দম্পতিকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনের সময় সরোয়ার বেপারীকে ২০ হাজার টাকা ধার দেন ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী। নির্বাচনের ধারের টাকা দিতে সময়ক্ষেপণ করছিলেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি পাওনা টাকা চাইতে গেলে আসামি সরোয়ার বেপারী ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন।এ ঘটনায় মামলার জন্য মুলাদী থানায় গেলে পুলিশ অভিযুক্ত সরোয়ার বেপারীকে থানায় ডেকে আনে এবং মামলা না নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করে।

পরে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে সরোয়ার বেপারীকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর থেকেই আসামি ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী ও তার স্বামীকে হত্যাসহ এলাকাছাড়া করার ধারাবাহিক হুমকি দিতে থাকেন।ফলে, জীবনের নিরাপত্তার জন্য তারা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন, ভূক্তভোগী ওই গৃহবধূ। তিনি জানান, দ্বারে দ্বারে ঘুরে মামলা করলেও এখন জীবন নিয়েই হুমকির মুখে পড়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য সরোয়ার বেপারী বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে পরাজিত লোকজন আমার বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে এবং ওই নারীকে দিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করিয়েছেন’।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাকসুদুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলার তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার বাদী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, এমন কোন তথ্য তার কাছে নেই বলেও জানান।

 

ঝালকাঠির তারাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি স্কুল ‘বন্ধ করে’ তার ছেলের বৌভাতের অনুষ্ঠান করেছেন।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

তবে প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান দাবি করেন, “স্কুল খোলা ছিল। একটি ক্লাস নিয়ে পরে স্কুল ছুটি দেওয়া হয়েছে।”

প্রধান শিক্ষকের বাড়ি স্কুলের পাশে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শনিবার স্কুলে গিয়ে তারা দেখেন ক্লাসরুমে তালা দেওয়া। গ্রন্থাগার ও শিক্ষকদের কক্ষ বন্ধ। পরে তারা বাড়ি ফিরে যান।

দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীতে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল খোলার শুরুতেই প্রধান শিক্ষকের ছেলের বিয়েতে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাও আবার পূর্বঘোষণা ছাড়াই।

তবে শিক্ষা দপ্তরে কোনো অভিভাবক অভিযোগ দেয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম হারুন অর রশীদ বলেন, তিনি বিষয়টি শোনার পর খোঁজখবর নিয়ে দেখছেন।

 

পিরোজপুর: পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলিচাপায় মো. দেলোয়ার হোসেন সরদার (৬০) নামে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানচালক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (৫ মার্চ) সকালে উপজেলা সদরের জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দেলোয়ার ওই উপজেলার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত্যু রুস্তম আলী সরদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সোহরাব হোসেন সরদার জানান, সকালের দিকে ইটবাহী একটি ট্রলি উপজেলার গাজীপুর থেকে পৌরসভা শহরের দিকে যাচ্ছিল।

পথে ভুবনেশ্বর ব্রিজ পার হয়ে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দেলোয়ারকে চাপা দেয় ট্রলিটি। এতে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ারের মৃত্যু হয়।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস বাংলানিউজকে জানান, ঘাতক ট্রলিটি জব্দ করলেও চালক পলাতক রয়েছেন। তবে তাকে আটকের চেষ্টা
চলছে।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ক্লাসে পড়া দিতে না পারায় মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে চিকিৎসা না দিয়ে আটক করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

থানায় দায়ের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইমন মুন্সী (১২) আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের আল জামিয়াতুন নাফিছিয়া আল ইসলামিয়া (মারকাজ) মাদ্রাসার ছাত্র ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দক্ষিণ কয়খা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ক্লাসে পড়া দিতে না পারায় মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মো. মিজানুর রহমান ও মিনহাজ খন্দকার বেত্রাঘাতসহ ওই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেন।

ইমনের বাবা আলমগীর হোসেন জানান, মাদ্রাসার শিক্ষকের নির্যাতনে ইমন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে মাদ্রাসায় আটক করে রাখা হয়।

নির্যাতনের শিকার ইমন আহত অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (০৩ মার্চ) বিকেলে কৌশলে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে তার বাকে ঘটনাটি জানায়।

ওই দিন রাতে ইমনের বাবা বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে যান।
মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মো. মিজানুর রহমান জানান, পড়া না পারায় ওই শিক্ষার্থীকে সামান্য গালমন্দ করা হয়েছে।

আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীতে ট্রাকচাপায় বিক্রম বেপারী (১৮) না‌মে এক মোটরসাই‌কেল চালকের মৃত্যু হয়েছে।

শ‌নিবার (৫ মার্চ) দুপু‌রে গৌরনদী বাসস্ট‌্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘ‌টে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বেলাল হোসেন জানান, গৌরনদী বাসষ্টান্ডের দক্ষিণ পাশের জামাল হোসেন বেপারীর মোটরসাইকেল গ্যারেজের মিস্ত্রি ও তার ভাতিজা বিক্রম বেপারী খাবার স্যালাইন ক্রয়ের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে গৌরনদী বাসষ্টান্ডে রওয়ানা হয়। দুপুর ১টার দিকে গৌরনদী বাসষ্টান্ডের কাছাকাছি পৌঁছালে বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রাক বিক্রম বেপরীকে চাপা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ গয়নাঘাটা সেতুর কাছে ট্রাকটি আটক করে।
তবে চালক পালিয়ে যায়।
এদিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডি‌ক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লের মর্গে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহাবুব হোসেন বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।