বরিশাল নগরীতে ১২২ পিস ইয়াবাসহ নোমান খান (২৮) নামে এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগরীর বাংলাবাজার এলাকার বাজারসংলগ্ন সবদুল মহাজন বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক নোমান খান ওই এলাকার কবির খানের ছেলে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর হেলালুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নোমান খানের কাছ থেকে ১২২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে শনিবার আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নোমান খান দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা তার কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করত, যার ফলে এলাকায় বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। নোমান গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক //বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ এখন আর উন্নয়ন বাস্তবায়নের দপ্তর নয়, এটি পরিণত হয়েছে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নিরাপদ ঘাঁটিতে। সেই ঘাঁটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হিসাব সহকারী আবুল হাসান রুপক। একটি সাধারণ হিসাব সহকারী পদে থেকে কীভাবে কেউ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়, তার জীবন্ত দলিল হয়ে উঠেছেন তিনি।
প্রায় ১৬ বছর ধরে একই দপ্তরে বহাল থাকা রুপকের কোনো বদলি না হওয়া শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং প্রভাবশালী দুর্নীতির শক্ত ভিত্তির প্রমাণ। বছরের পর বছর একই চেয়ার আঁকড়ে ধরে তিনি গড়ে তুলেছেন অর্থ, ক্ষমতা ও ভয়ভীতির এক অদৃশ্য সাম্রাজ্য।
স্বৈরাচারী আমলে সম্পদের বিস্তার, এখন রাজনৈতিক রঙ বদল।
স্বৈরাচারী সরকারের সময় গণপূর্ত বিভাগের হিসাব সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে করতেই রুপক গড়ে তোলেন বিপুল অবৈধ সম্পদ। সরকার পরিবর্তনের পর নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে সেই অতীত ঢাকার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও অর্থের উৎস বদলায়নি।
কমিশন নির্ভর বিল ছাড়, ঠিকাদাররা জিম্মি।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে কাজ শেষ মানেই বিল পাওয়া নয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত কমিশন না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়, বিল ঝুলে থাকে মাসের পর মাস। কাউকে রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়। এই পদ্ধতিতেই ঠিকাদারদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জুন এলেই ভাউচার আর লুটপাটের উৎসব
প্রতিবছর জুন মাস এলেই শুরু হয় ভুয়া ভাউচারের মহড়া। অভিযোগে উঠে এসেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধ ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পিপিআর আইন অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে বিল পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা নিয়মিতভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
একই কাজ বারবার দেখিয়ে টাকা তোলা
এমবি বইয়ে একই রড, একই ঢালাই, একই গাঁথুনি একাধিকবার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের ভয়াবহ চিত্র স্পষ্ট করে। দুর্নীতি এতটাই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে যে অডিট ব্যবস্থাও অর্থের বিনিময়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্ত্রীর নামে সম্পদ, তথ্য ফাঁস হতেই স্ত্রী অস্বীকার
অভিযোগ অনুযায়ী, রুপকের অবৈধ সম্পদের বড় অংশই স্ত্রীর নামে। নগরীর সদর রোডের কাকলীর মোড় এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের স্টল বরাদ্দ নিয়ে তা বেআইনিভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও স্থাবর সম্পত্তি স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই স্ত্রীকে অস্বীকার করার অপচেষ্টা দুর্নীতি আড়ালের মরিয়া কৌশল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল থেকে ঢাকা পর্যন্ত সম্পদের বিস্তার
রুপকের নামে ও বেনামে বরিশাল জর্ডান রোডে একাধিক ফ্ল্যাট, ঢাকায় ফ্ল্যাট, রূপাতলীতে জমি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাড়ি, ভোলা ও বাকেরগঞ্জে জমি ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। একজন হিসাব সহকারীর আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
দুদকের নীরবতা বড় প্রশ্ন
লিখিত অভিযোগ, নথিপত্র ও সম্পদের তথ্য থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এই নীরবতা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাই যদি নিশ্চুপ থাকে, তাহলে এই লুটপাট বন্ধ হবে কীভাবে।
বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ আজ উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং লুটপাটের প্রতিচ্ছবি। আর সেই লুটপাটের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসাব সহকারী আবুল হাসান রুপক। প্রশাসনের নীরবতা ও দুদকের নিষ্ক্রিয়তা এই দুর্নীতিকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
এখন প্রশ্ন একটাই, এই দুর্নীতির দেয়াল ভাঙবে কে, নাকি সবকিছু জেনেও সবাই নীরব থাকবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের এক ঝাড়ুদারের অবৈধ সম্পদের পাহাড় এখন পুরো নগরজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি নিম্নপদে কর্মরত থেকেও অবৈধ বাংলা মদের ব্যবসার মাধ্যমে কোটিপতি বনে যাওয়া প্রদীপ নামের ওই কর্মচারী দুর্নীতি, মাদক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
নাজির মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা প্রদীপ সম্প্রতি কাউনিয়া এলাকার ছোট মিয়া গলিতে জমি কিনে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের ওপর দুইতলা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তার সরকারি আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বিলাসবহুল আসবাবপত্র, একাধিক মোটরসাইকেল, নগদ অর্থ ও অভিজাত জীবনযাপন স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এই অর্থ বৈধ উপায়ে অর্জিত নয়।
দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, প্রদীপ সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে অবৈধ বাংলা মদের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। নাজির মহল্লায় তার মদ বিক্রির আস্তানাকে ঘিরে নির্দিষ্ট পাহারাদার বাহিনী মোতায়েন থাকে, যারা প্রশাসনের গতিবিধির আগাম তথ্য দিয়ে ব্যবসা নির্বিঘ্ন রাখে। এর ফলে পুরো এলাকায় মাদক, বিশৃঙ্খলা ও অপরাধপ্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—আইনে কোথাও মদ বিক্রির অনুমতি নেই। কিছু ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে মদ্যপানের সীমিত অনুমোদন দেওয়া হলেও বাণিজ্যিকভাবে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। সেই হিসেবে প্রদীপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।
তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—একজন সিটি কর্পোরেশনের ঝাড়ুদার কীভাবে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে অবৈধ মদের ব্যবসা চালিয়ে গেল? কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে উঠল? কেন এখনো পর্যন্ত কার্যকর অভিযান বা সম্পদ জব্দের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই?
এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রদীপের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি ক্রয়, ভবন নির্মাণের অর্থের উৎস এবং নামে-বেনামে থাকা সম্পদের বিস্তারিত অনুসন্ধান জরুরি। সরকারি বেতনের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলেই বিপুল অস্বাভাবিকতা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরবাসীর দাবি—দুদক অবিলম্বে এই ঝাড়ুদার-কোটিপতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করুক, অবৈধ সম্পদ জব্দ করুক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায় নির্ধারণ করুক। তা না হলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দুর্নীতিবাজদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেই পরিচিত হয়ে থাকবে, আর আইন ও নৈতিকতার প্রশ্ন আরও গভীর সংকটে পড়বে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক // কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল কারাগারে থাকলেও বরিশালের বানারীপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন থেমে নেই। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও পর্যবেক্ষকদের মতে, বাবুলের অনুপস্থিতিতে বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগের নেপথ্য নেতৃত্বে রয়েছেন তার ছোট বোন, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী নাসিমা ইয়াসমিন। অভিযোগ রয়েছে, ভাই কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায়।
নাসিমা ইয়াসমিনের রাজনৈতিক পরিচয় শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং শেখ হাসিনা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এই রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করে তিনি বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগের পরাজিত ও বিতর্কিত কাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বানারীপাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দীর্ঘদিন ধরেই নাসিমা ইয়াসমিনের বাসা এবং তার ভাই ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের বাসাকে কেন্দ্র করে দেওয়া হতো। বাবুল কারাগারে যাওয়ার পরও এই নেপথ্য সাংগঠনিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দলীয় পুনর্গঠন, কর্মসূচির পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এসব স্থান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এদিকে শনিবার দুপুরে শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নাসিমা ইয়াসমিন এবং জয় বাংলা বাবুল কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর বানারীপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে জনরোষের মুখে পড়েন তারা। ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্র জনতা ফুঁসে ওঠে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মধ্য দিয়েই বানারীপাড়ায় ভাই–বোনের নেতৃত্বে পরিচালিত রাজনৈতিক কার্যক্রমের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পরিকল্পিতভাবে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন এবং আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছেন। ক্ষমতা হারানোর পরও ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে নাসিমা ইয়াসমিনের সক্রিয় ভূমিকায়—এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বানারীপাড়া–উজিরপুর এলাকায় যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের অভিযোগ উঠেছিল, তার ধারাবাহিক প্রভাব এখনও বিদ্যমান বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, এই অস্থিরতার পেছনে ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও নাসিমা ইয়াসমিনের পরিবারকেন্দ্রিক রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমানে ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল কারাগারে থাকলেও বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগের নেপথ্য রাজনীতি থেমে নেই। বরং নাসিমা ইয়াসমিনের সক্রিয় নেতৃত্বে তা আরও সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক রূপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ভাই–বোনের রাজনৈতিক তৎপরতা বানারীপাড়ার সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অশান্ত ও বিশৃঙ্খল করে তুলছে বলে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় নাম জড়ানোর পর অনুশোচনা কিংবা আত্মগোপন কোনোটিই নয়। বরং আরও দুঃসাহসী ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া। অভিযোগ উঠেছে, দুদকের জালে ধরা পড়ার পর তিনি উল্টো ঘুষের হার বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে এলজিইডির আওতাধীন প্রকল্পে কাজ করা ঠিকাদারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্র, অডিও রেকর্ড, ডিজিটাল চ্যাট ও মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে টেন্ডার বণ্টন, কাজ প্রদান, বিল ছাড় ও অর্থ মঞ্জুরি—প্রতিটি স্তরেই চলছে পরিকল্পিত দুর্নীতি, ঘুষ আদায় ও কমিশন বাণিজ্য। এলজিইডির ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয় কার্যত একটি নিয়ন্ত্রিত দুর্নীতির নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে, যার কেন্দ্রে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া।
কাজ না করেই কোটি টাকার বিল
রাজধানীর গাবতলী এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ প্রকল্পে অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে ভয়াবহ অনিয়ম। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান। অথচ কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বিল পাইয়ে দিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বাচ্চু মিয়া।
এই অনিয়মের বিষয়টি শুধু অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। দুদকের তদন্তেও এর সত্যতা উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা যায়, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া মেজারমেন্ট বুক তৈরি করা হয়। সেই মেজারমেন্ট বুক ব্যবহার করেই বাস্তবে কাজ না করেই সরকারি কোষাগার থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় কমিশনের বিনিময়ে সরাসরি সহায়তা দেন নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া।
মামলার পর তড়িঘড়ি নির্মাণ
দুদকের মামলা হওয়ার পর প্রকল্প এলাকায় শুরু হয় অস্বাভাবিক তৎপরতা। সেন্টারিং না খুলেই একসঙ্গে তিনটি ছাদের ঢালাই দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চলতে থাকে ইটের গাঁথুনি, প্লাস্টার ও বৈদ্যুতিক পাইপলাইন স্থাপনের কাজ। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কাজ ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
টেন্ডার আগেই বিক্রি, ঘুষের তালিকা
অনুসন্ধানে পাওয়া ডিজিটাল আলামতে দেখা যায়, টেন্ডার আহ্বানের আগেই নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাছে অর্থের বিনিময়ে দরপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘুষ আদায়ের জন্য ঠিকাদারদের নাম, মোবাইল নম্বর ও অর্থপ্রদানের হিসাব সংরক্ষণ করে নজরদারি চালানো হতো। টাকা না দিলে কাজ বাতিল, বিল আটকে রাখা কিংবা ছোটখাটো ভুল দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
নিজের ভাইয়ের নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠান
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়ার পর নিজেই নামে-বেনামে একাধিক ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন বাচ্চু মিয়া। তার ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম সুমনের নামে করা দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি টাকার কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে লাইসেন্সে উল্লেখিত ঠিকানায় গিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগ স্পষ্ট।
ঘুষের হার বাড়িয়ে দ্বিগুণ চাপ
ঠিকাদারদের ভাষ্যমতে, আগে কাজের মোট টাকার আট শতাংশ ঘুষ দিতে হলেও দুদকের মামলার পর সেই হার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর বাইরে বিল ছাড়ের সময় আরও চার থেকে পাঁচ শতাংশ আদায় করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট স্থানে ঠিকাদারদের হাজির হতে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। মামলা হলেও ঘুষ বাণিজ্যে কোনো ভাটা পড়েনি, বরং আরও সংগঠিত রূপ নিয়েছে।
ক্যামেরা দেখেই আতঙ্ক
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে এলজিইডি কার্যালয়ে গেলে ক্যামেরা দেখেই অস্বস্তিতে পড়েন নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া। তার সহযোগীরা ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। পরে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
দুদকের তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বলতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও চার মাস পার হলেও সেই প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—তদন্ত কি কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আদৌ কোনো জবাবদিহি হবে?

 

আসাদুজ্জামান শেখ |

সারা দেশে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যখন শোক ও ক্ষোভে উত্তাল জনমত, ঠিক সেই সময়ে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা–কড়াপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাঈম সোহাগের বিরুদ্ধে দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করে নতুন অফিস উদ্বোধনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন এক থেকে দেড়শ লোকের অংশগ্রহণে খিচুড়ি পার্টির আয়োজন করা হয়, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দেশের এমন সংকটময় মুহূর্তে আনন্দ আয়োজন করে তারা শহীদ হাদির আত্মার মাগফিরাত ও দোষীদের বিচারের দাবির প্রতি চরম অবহেলা প্রদর্শন করেছেন।

এই আয়োজনে ইউপি সদস্য নাঈমকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন সোহাগ কাজী, মানিক হাওলাদার, ফিরোজ তালুকদার, বাদু সোলনা, কাউসার খলিফা, জাহাঙ্গীর মল্লিকসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি।

এ বিষয়ে মানিক হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে অফিস উদ্বোধনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, “আমি শুনেছি মিলাদ মাহফিল হবে।” তিনি আরও স্বীকার করেন যে এক থেকে দুইশ লোকের জন্য খিচুড়ির আয়োজন করা হয়েছে। এটি কিসের আয়োজন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মিলাদের জন্যই এই ব্যবস্থা।”

অন্যদিকে ইউপি সদস্য নাঈম বলেন, “বিএনপির একটি অফিস উদ্বোধনের কথা ছিল, যেখানে সাবেক চেয়ারম্যান আমিন ভাইয়ের ছোট ভাই মিলন ভাই উপস্থিত থাকার কথা ছিল।” তবে তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং সবকিছু মানিক হাওলাদার ও সোহাগসহ ১০–১২ জন ব্যক্তি আয়োজন করেছেন। প্রশ্ন করা হলে কেন হাই কমান্ডের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা হলো—এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি মাদারীপুরে ছিলেন, যদিও স্থানীয়দের মতে তিনি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই আয়োজনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের একাধিক ব্যক্তি অর্থসহায়তা করেছেন। এ সংক্রান্ত তথ্য ও মুঠোফোনের কল রেকর্ডিং প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তারা জানান, “আমরা বর্তমানে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে ব্যস্ত। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কোনো অনুষ্ঠান বা অফিস উদ্বোধনের প্রশ্নই আসে না।” তারা আরও বলেন, “যদি দলের কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তারা বিএনপির আদর্শের প্রতিনিধি নন। আমরা ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে রয়েছি, যাতে হাদির পরিবার ন্যায়বিচার পায়।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে নজর রাখছেন রাজনৈতিক মহল।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক //
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারেকের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মিছিলে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছাত্রদল নেতা শাকিব, সোহেল ও বেলালসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে মিছিলটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে নির্ধারিত স্থানে এসে সমবেত হন। পরে জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিলটি বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল চলাকালে “মহান বিজয় দিবস অমর হোক”, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজ”, “শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”—এমন নানা স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

মিছিল শুরুর আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারেক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন,
“১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে এ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাদের স্মরণ করি।”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্রসমাজ সবসময় দেশের ক্রান্তিকালে নেতৃত্ব দিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অগ্রণী। মহান বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ছাত্রদলের প্রধান লক্ষ্য।”

কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা মহান বিজয় দিবসের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে মিছিলটি সম্পন্ন হওয়ায় নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই আয়োজন।

বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের এই বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল মহান বিজয় দিবস উদযাপনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। শিক্ষার্থীদের কাছে বাস ভাড়ার নামে আদায় করা ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। শুধু তাই নয়; পরীক্ষার আপ্যায়নে একদিনে কেবল খাসির মাংসের বিল করা হয়েছে দেড় লাখ টাকার বেশি। এসব অনিয়মের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।

মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান এবং উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) মো. শহিদুল ইসলাম আমিনুল ইসলামের অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্ত করে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি মোট ২১টি অভিযোগ পর্যালোচনা করে বিস্তারিত নথি, ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং বক্তব্যের ভিত্তিতে যাচাই করে প্রায় সবগুলো অভিযোগ সত্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান (বর্তমান মাউশির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মাউশির কাজ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া। আমরা তা করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা শিক্ষা মন্ত্রণালয় নেবে।’

কলেজের মাইক্রোবাস শহরের ভেতরে ব্যবহৃত হলেও মাত্র তিন মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকারও বেশি পরিবহন খরচ দেখানো হয়েছে। পূর্ববর্তী অধ্যক্ষের তুলনায় আমিনুল ইসলাম এ খাতে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন। এত বিপুল পরিমান জ্বালানি ও মেরামত ব্যয় কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ির খরচ কলেজের নামে ভাউচার করা হয়েছে। পরিবহন খাত থেকে পূর্ববর্তী অধ্যক্ষ তিন মাসে উত্তোলন করেছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৯২ টাকা, আর বর্তমান অধ্যক্ষ একই সময়ে উত্তোলন করেন প্রায় ৫ লাখ টাকা।

পরিবহন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষার্থীপ্রতি বিবিধ খাতে ১০০ টাকা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও অধ্যক্ষ ভর্তি ও ফরম পূরণের সময় দ্বিগুণ ফি নিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা বাড়তি আদায় করেন। এসব টাকা তার ব্যক্তিগত গাড়ির তেল, সিএনজি গ্যাস, ড্রাইভারের বেতনও কলেজ তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজের মাইক্রোবাস শহরের ভেতরে ব্যবহৃত হলেও মাত্র তিন মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকারও বেশি পরিবহন খরচ দেখানো হয়েছে। পূর্ববর্তী অধ্যক্ষের তুলনায় আমিনুল ইসলাম এ খাতে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন। এত বিপুল পরিমান জ্বালানি ও মেরামত ব্যয় কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ির খরচ কলেজের নামে ভাউচার করা হয়েছে।

এক হায়েসের পেছনেই বছরে ব্যয় ৬২ লাখ, দেড় লাখ হয়েছে মাউশি ডিজির একদিনের আপ্যায়ন বিল

মাইক্রোবাসের জ্বালানির ভাউচার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে ৩৩ হাজার ৬৩ টাকা, অক্টোবরে ৪১ হাজার ৫০৫, নভেম্বরে ৫৩ হাজার ৪১, ডিসেম্বরে ৭৩ হাজার ৩০১, জানুয়ারিতে ৭১ হাজার ৭৫৪, ফেব্রুয়ারিতে ৮০ হাজার ৯৭৮, মার্চে ৬৮ হাজার ৭৩ এবং এপ্রিলে ৫৬ হাজার ৫৮৫ টাকার ভাউচার করা হয়েছে। কলেজের মাইক্রোবাস মূলত শহরের ভেতরেই চলাচল করে। এ অবস্থায় এত বিপুল জ্বালানি খরচ কোনভাবেই সম্ভব নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাবেক অধ্যক্ষ যেখানে চার মাসে মোট ৩১১ লিটার অকটেন ব্যবহার দেখিয়েছিলেন, আমিনুল ইসলাম তিন মাসেই ৯৫২ লিটার তেল খরচ দেখিয়েছেন। এসব কিছুই তিনি ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে করেছেন।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট বিশ্লেষণেও অস্বাভাবিক লেনদেন পাওয়া যায়। পরিবহন খাত থেকে পূর্ববর্তী অধ্যক্ষ তিন মাসে উত্তোলন করেছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৯২ টাকা, আর বর্তমান অধ্যক্ষ একই সময়ে উত্তোলন করেন ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫৫৬ টাকা। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে একই খাত থেকে উত্তোলন করা হয় ৩৫ হাজার ৪১৭, ৮৮ হাজার ৯০৪, ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৮, ৩০ হাজার ৯৫০, ৫৮ হাজার ৭৫, ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি, ৩৩ হাজার ৯৩৮, ৬৩ হাজার ৫২০, ২২ হাজার ৯৬১, ২৪ হাজার ৩৫ এবং ১ লাখ ৬ হাজার ৪২৫ টাকা। এই ব্যয় কলেজের মাইক্রোবাসের পরিচালন ব্যয় হতে পারে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম ব্যক্তি খাতে এস অর্থ ব্যয় করেছেন। পরবর্তী ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে এটি সামঞ্জস্য করার চেষ্টা করেছেন।

ভর্তি ফি ও পরীক্ষার খাত থেকে ভুয়া বিল-ভাউচারে টাকা আত্মসাৎ
উচ্চমাধ্যমিক ভর্তি ফি, অনার্স ২য় বর্ষ, মাস্টার্স শেষবর্ষ, অনার্স ১ম বর্ষসহ বিভিন্ন পরীক্ষার আয়-ব্যয়ের খাত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রায় সব ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক হারে খরচ দেখানো হয়েছে। খাসির মাংসের ক্ষেত্রে একদিনেই এক লাখ ৫৫ হাজার ৬০৪ টাকা ব্যয়ের ভাউচার করা হয়েছে। অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৩ খাতে এ ব্যয় দেখানো হয়েছে।

২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি বাবদ শিক্ষাবোর্ড থেকে ৯১ হাজার ২০০ টাকা বরাদ্দ পায় সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ। ব্যয়ের ভাউচারে দেখা যায়, তিনটি ছোট খাতে ৩ হাজার ৫৫০, ২ হাজার ২০০ এবং ৩০ জন কর্মচারীকে জনপ্রতি ২ হাজার ৮৫০ টাকা দিয়ে মোট ৮৫ হাজার ৫০৮ টাকা দেখানো হয়েছে। তবে ৬ সদস্যের মনিটরিং কমিটিকে কোনো সম্মানী দেওয়া হয়নি। কেবল ৩০ কর্মচারীর নামে পুরো টাকার ভাউচার করা হয়েছে। যা অস্বাভাবিক।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা থেকে কলেজের আয় হয় ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা। এ অর্থ পরীক্ষা পরিচালনা বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। উত্তরপত্র বাবদ ৫৬ হাজার ৭৬০ এবং ডিউটি বাবদ ৩৪ হাজার ৮১৩ টাকা। এর বাইরে আপ্যায়ন খাতেই একাধিক আশ্চর্যজনক ভাউচার পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ৬ জুনের ভাউচারে ব্রয়লার মুরগি ৫ হাজার ৮০০ টাকা, ইলিশ-রুই মাছে ৩১ হাজার, খাসি ১৬ হাজার ৫০০, পরীক্ষা সামগ্রীতে ১১ হাজার ২৬৫ এবং একই মাসে অপর দুটি তারিখে আপ্যায়ন বাবদ ৪৭ হাজার ৭৮০ টাকা, ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৫ ও ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৬০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এই সময় সাবেক অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম দায়িত্বে না থাকলেও ভাউচারগুলো তিনি অনুমোদন করেছেন। ফলে পুরো ব্যয়ই সাজানো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনার্স কেন্দ্র ফি খাতেও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। তিন হাজার ৬৪৮ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কেন্দ্র ফি হিসেবে পাওয়া ৫ লাখ ৪৭ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৬০ টাকা। ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের ভাউচার অনুযায়ী একদিনের আপ্যায়নে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭০ টাকা।

মাস্টার্স শেষপর্ব পরীক্ষার অভ্যন্তরীণ তহবিলে আয় ছিল ৭ লাখ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা। পরীক্ষা পরিচালনা ৫ লাখ ২৮ হাজার, উত্তরপত্র ৬০ হাজার ৯৩০ এবং ডিউটি বাবদ ৫৬ হাজার ৫৫ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৪ মাত্র একদিনেই আপ্যায়নে খরচ দেখানো হয় ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৭০ টাকা। যা অযৌক্তিক বলে জানিয়েছে কমিটি। একইভাবে মাস্টার্স কেন্দ্র ফি আয় ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৯৫০ টাকার মধ্যে ব্যয় দেখানো হয় ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৬০ টাকা, যেখানে একদিনের আপ্যায়ন খরচ থাকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪১২ টাকা দেখানো হয়েছে।

সরকারি কলেজের সেই অধ্যক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হলো

সবচেয়ে আলোচিত ভুয়া ভাউচার পাওয়া গেছে অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষার ক্ষেত্রে। এ পরীক্ষায় কলেজের মোট আয় ছিল ১২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ টাকা, যার ১১ লাখ ৯৫ হাজারই পরীক্ষা পরিচালনা খাতে ব্যয় দেখিয়েছিলেন তৎকালীন অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম। এ ব্যয়ের মধ্যে ডিসি অফিস ৩০ হাজার, ট্রেজারি ২৫ হাজার, সিভিল সার্জন ২০ হাজার, পোস্ট অফিস ২৫ হাজার, মেডিকেল সহকারী ২০ হাজার, ভেন্যু পরিচালনা ৫০ হাজার, সকল কর্মচারী ৩ লাখ ১০ হাজার, কুলি মজুরি ৩৫ হাজার, লেবার বিল ১ লাখ, বেঞ্চে সিট লাগানো ১ লাখ ৩০ হাজার, পুলিশ রিকশাভাড়া ১৯ হাজার ৫০০ টাকা রয়েছে। এ পরীক্ষা চলাকালীন ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুধু একদিনে আপ্যায়ন ও খাসির মাংস বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬০৪ টাকা।

অনার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষায় আয় ছিল ১২ লাখ ৩ হাজার ৬০০ টাকা। ব্যয়ের মধ্যে পরীক্ষাকক্ষের ১১ দিনের কর্মচারী পারিশ্রমিকই দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা। ডিসি-ট্রেজারি-পোস্ট অফিসের পিয়নদের জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ৭২ হাজার, বেঞ্চ সাজানো ৬৬ হাজার ৫০০, সিট লাগানো ৫৫ হাজার ৭০০ এবং আপ্যায়ন হিসাবে দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। এ ব্যয়গুলোর ক্ষেত্রে তৈরি করা ভাউচারগুলোও ভুয়া বলে জানা গেছে।

গত ১৯ জুন মাউশির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খান সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে যান। মাউশি ডিজির আপ্যায়ন এবং উপহারের কথা বলে কলেজের ১৭টি বিভাগ থেকে ৫১ হাজার টাকা নেন আমিনুল ইসলাম। এছাড়া কয়েকটি কলেজ থেকে অর্ধ লাখ করে টাকা নেন তিনি। এই টাকা মাউশি ডিজির আপ্যায়নে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করেছেন আমিনুল ইসলাম।

পরিবহনহীন কলেজে পরিবহন ফি আদায় ৭০ লাখ, পুরোটাই আত্মসাৎ
সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে ছাত্র-ছাত্রী পরিবহনের কোনো ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে পরিবহন ফি নেওয়া আদায় করেন আমিনুল ইসলাম। এই খাতে উত্তোলিত অর্থের পরিমান ৭০ লাখ টাকা। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজে পরিবহন না থাকায় এ ফি আদায়ের যৌক্তিকতা নেই এবং অর্থ ব্যয়ের কোনো বৈধ খাতও নেই। ফলে যে টাকা ব্যয় করা হয়েছে তার পুরোটাই অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে ব্যয় করেছেন।

মাউশির মহাপরিচালকের আপ্যায়নের নামে তোলা টাকা আত্মসাৎ
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত ১৯ জুন মাউশির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খান সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে যান। মাউশি ডিজির আপ্যায়ন এবং উপহারের কথা বলে কলেজের ১৭টি বিভাগ থেকে ৫১ হাজার টাকা নেন আমিনুল ইসলাম। এছাড়া কয়েকটি কলেজ থেকে অর্ধ লাখ করে টাকা নেন তিনি। এই টাকা মাউশি ডিজির আপ্যায়নে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করেছেন আমিনুল ইসলাম।

প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ, নায়েম ভবনে দেখা করার প্রস্তাব প্রতিবেদককে
এসব অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে নেই। আমাকে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে বদলি করা হয়েছে। আমার চাকরিই আছে আর কয়েকবছর। আমি শিগগিরই ঢাকা যাব। দেখা করে কথা বলব।’

 

 

 

বরিশালের কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দুইটি অটোরিকশা ও টেম্পু পার্সের দোকান। রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো দোকান দুটিকে গ্রাস করে ফেলে।

পুড়ে যাওয়া দুটি প্রতিষ্ঠান হলো দয়াল খাজা অটোরিকশা পার্সের দোকান এবং দয়াল খাজা অটো টেম্পু পার্সের দোকান। উভয় দোকানের মালিক শামিম শরিফ জানান, বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই দুটি দোকানে ছিল প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মালামাল। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় তিনি এখন পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছেন।

শামিম শরিফ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এই দোকান দুটোই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র ভরসা। আগুনে একটাও জিনিস বাঁচেনি। এখন আমি জানি না কীভাবে পরিবার চালাবো।”
অগ্নিকাণ্ডের পর শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন এবং কোথাও থেকে সাহায্য পাওয়ার আশায় দিন কাটাচ্ছেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, দোকানের ভেতরে ইলেকট্রনিক্স শর্ট সার্কিট থেকেই এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মুহূর্তেই দোকানগুলোর ভেতরের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত মালিকের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় শামিম শরিফ সম্পূর্ণভাবে পথে বসে গেলেও তিনি এখনো পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় তাকিয়ে আছেন সরকারি কিংবা বেসরকারি সহযোগিতার দিকে।

 

সরকারি চাকরিজীবী হয়েও সীমাহীন সম্পদ, জমি–বাড়ির বিস্তার, জাল দলিল, বেনামি লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে যশোরের ঝিকরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার শাহীন আলমকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের ঝড় বইছে। তার জীবনযাত্রা, সম্পদের আকার ও আর্থিক প্রভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে স্থানীয় মহলে তাকে এখন “অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক” হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

অস্বাভাবিক সম্পদের বিস্তার—অভিযোগের মূল কেন্দ্র

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মোহাম্মদপুর ও ভাটারা এলাকাকে কেন্দ্র করে ডেভেলপার ও ভূমি ব্যবসায়ী চক্রের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এই অর্থ থেকেই গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি ও ভবন কেনা হয়।

ঢাকার তেজগাঁওয়ের বড় বেরাইদে দুইটি বাড়ি, লালবাগ–কামরাঙ্গীরচরে ফ্ল্যাট, সাভার–রূপগঞ্জ–কেরানীগঞ্জে জমি—সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিসর এক সময়ের সাধারণ সরকারি কর্মচারীর জন্য অস্বাভাবিক বলেই বিভিন্ন মহল মনে করছে।

পরিবারকে সম্পদের আড়াল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—নিজের সম্পদ গোপন করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মা, ভাই, স্ত্রী এমনকি শ্বশুর–শাশুড়ির নামেও জমি কিনেছেন। কাশিয়ানীর বিভিন্ন মৌজায় শুধু শ্বশুর–শাশুড়ির নামেই ৪০ বিঘার বেশি জমির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এসব জমির অর্থায়নও শাহীন আলমের মাধ্যমেই হয়েছে বলে অভিযোগ।

সম্পদ বিবরণীর নির্দেশ জারি হতেই দ্রুত সম্পদ স্থানান্তর

অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পদ বিবরণী জমার নির্দেশের পর হঠাৎ করেই নিজের ও স্ত্রীর নামে থাকা বহু জমি শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। যে পরিমাণ অস্থিরতা, তৎপরতা ও গোপন স্থানান্তর ঘটে, তা তার প্রকৃত সম্পদ নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তোলে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব দায়সারা—অভিযোগ আরও জোরালো

আয়কর নথিতে তিনি মাত্র সাড়ে তিন লাখ টাকার আয় দেখিয়েছেন। কিন্তু তার নামে–বেনামে যে বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ, তা এই সামান্য আয় দিয়ে কোনোভাবেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। স্থাবর–অস্থাবর সম্পদের হিসাবেও উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৫০ লাখ টাকা, যা তার দৃশ্যমান সম্পদের সামান্য অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

জাল দলিল, ঘুষ ও প্রতারণার অভিযোগ

ঝিকরগাছা এলাকার অধিগ্রহণকৃত জমি নিয়ে জাল কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল নথিভুক্ত করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নতুন নয়। পূর্বের সাব-রেজিস্ট্রার দলিলটি ফেরত দিলেও শাহীন আলম যোগদানের পর প্রতারণার মাধ্যমে এটি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।
কর্মজীবনের বিভিন্ন জায়গায় ভূয়া দলিল সৃজন, ঘুষ গ্রহণ এবং বেনামী রেজিস্ট্রি অনুমোদনের মতো কর্মকাণ্ডে তিনি বহুবার সমালোচিত হয়েছেন।

বিলাসী অভ্যাস ও নগদ অর্থ পরিবহনের অভিযোগ

প্রতি সপ্তাহে বিমানে যশোর–ঢাকা যাতায়াত, বিলাসী খরচ এবং ঢাকায় ফেরার সময় ব্যাগভর্তি নগদ অর্থ বহনের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একজন সরকারি কর্মচারীর এ ধরনের আচরণ অস্বাভাবিক বলেই মনে করা হচ্ছে।

বাড়ি, ভবন, ফ্ল্যাট—সব মিলিয়ে সম্পদের অস্বাভাবিক পাহাড়

ঢাকার তেজগাঁওয়ে তার নামে দুটি ১০ তলা ভবন, মোহাম্মদপুরে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বিভিন্ন জেলায় প্লট ও দোকান—সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ সাধারণ সরকারি বেতনের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সম্পদ বিবরণী বর্জনের আন্দোলনে নেতৃত্বের অভিযোগ

সম্পদ বিবরণীর নির্দেশ জারি হলে সাব-রেজিস্ট্রারদের একটি বড় অংশকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসময় সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি–ধামকিও দেওয়া হয়, যা আরও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।