ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খয়রাবাদ নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে মো. শাকিল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাখাওয়াত হোসেন এই জরিমানা করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খয়রাবাদ নদীর ঘোপেরহাট এলাকায় রোববার (৯ মে) দুপুরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছিলেন কিছু লোক। খবর পেয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সাখাওয়াত হোসেন সেখানে গিয়ে একটি ড্রেজার জব্দ করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একটি ড্রেজারের মালিক মো. শাকিল হাওলাদারকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। দুপুরেই জরিমানার টাকা আদায় করা হয়েছে।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকবে।

২৫০ টাকার জের ধরে রিকশা চালক শুকুর আলীকে (২০) হত্যা করা হয়। খুনি তারই বন্ধু শাকিল মিয়া (২৩)। রোববার (০৯) ভোর রাতে বনানীপাড়া এলাকা থেকে আসামি শাকিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত শাকিল মিয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের সালাউর মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি শহরের বর্নানী পাড়া এলাকায় বাস করে। তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরি ও নারী নির্যাতন মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান।

শাকিলকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সারাবাংলাকে সহিদুর রহমান বলেন, ‘রিকশা চালক শুকুর আলীকে চুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন শাকিল মিয়া।’

প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের মল্লিকপুর এলাকার মৃত সেজুল মিয়ার ছেলে রিকশা চালক শুকুর ও শাকিল মিয়া একসময় বন্ধু ছিলেন। কিন্তু গত ছয়মাস আগে ২৫০ টাকা পয়না লেনদেন নিয়ে শুকুরের সঙ্গে শাকিলের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর জের ধরে গতকাল শনিবার (৮ মে) সুনামগঞ্জ পৌরসভার সামনে ডি. এস রোডে রিকশা চালক শুকুর আলীকে এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় শাকিল।

এ সময় শুকুর আলীকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শাকিল মিয়ার বিরুদ্ধে শনিবার রাতে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত শুকুর আলীর মা জাইরুন নেছা।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন “আলোকিত মুলাদী” বরিশাল এর আয়োজনে করোনার পাদুর্ভাবে কর্মহীন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ঈদ উপহার বিতরন করা হয়। গতকাল দুপর ২টায় ফিসাড়ি রোডস্থ দারুল কুরআন মাদরাসা প্রাঙ্গনে উক্ত ঈদ উপহার বিতরন- ২০২১ এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো: জসীম উদ্দিন হায়দার, বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল সমাজসেবা অধিপ্তরের প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ, বীর মুক্তিযোদ্বা মুকুল চন্দ্র মুখার্জী। উপহার বিতরন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আলোকিত মুলাদীর বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মো: দেলোয়ার হোসেন খান কনক। উল্লেখ্য প্রায় ৩ শতাদিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরন করা হয়।

মো:রাজিবুল হক(বরগুনা প্রতিনিধি)
বরগুনার বামনায় এক প্রতিবন্দী নারীর বসত ঘর দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়
বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত মুকুন্দ দাসের স্ত্রী উষা রানি ও ছেলে সুভাষ দাস তার পিতার জমিতে একটি ঘর নির্মান করে বসবাস করেন। একই সূত্রে জমের বাসিন্দা মৃত রাধেশ্যাম দাস এর দুই ছেলে সঞ্চিত দাস ও সুজিৎ দাস সহ আর ভারাটিয়া কিছু মাস্তান নিয়ে গতো ৫ মে দুপুর ১ টার সময় হতদারিদ্র উষা রানীর কে গাছের সাথে বেধে ও তার ছেলে সুভাষ কে মারধার করে বসবাস করা ঘরটি ভেঙে নিয়ে যায়।

মহিলার প্রতিবেশী বামনা মহিলা কলেজের শিক্ষক অমল চন্দ্র শীল বলেন তাদের নিজেদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিবাদ রয়েছে এ বিষয়ে অনেকবার শালিস বৈঠক হয়েছে।আমি পটুয়াখালী আছি মারামারির ঘটনা জানিনা।

এই জমি জমা নিয়ে উভয় পক্ষে অনেক বসর যাবত বিরোধ চলে আসছিলো, এই জমির বিরোধ মিমাংসা করার জন্য বামনা স্থানীয়রা গন্যমান্য ব্যক্তিদের ১৩ জনের উপস্থিতে গত বছর নভেম্বর মাসের ১ তারিখ শালিশি বৈঠক হয়, সেখানে শালিস গন সব কাগজ পত্র যাচাই বাচাই করে, অভিযোগ কারি সুভাষ দাস ৪৮৭ নং খতিয়ানের ৯৮৪ ও ৯৮৫ নং দাগের বিক্রি বাদে প্রায় ৩১ শতাংশ জমি পাবে। সেই রোয়দাত নামা অমান্য করে তারা বসত ঘর ভাংচুর করে। এই ঘটনায় অভিযোগ কারি সুভাষ বলেন, আমি বামনা থানায় অভিযোগ করছি। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সঞ্চিব ও সুজিৎ বলেন আমার বাবা মুকুন্দ দাসের নিকট হইতে ১৯৭৯ সনে ছাফ কবলা করেন। সেই থেকে আমরা জমিজমা ভোগ করে আসছি। আমারা কোন ঘর ভাংচুর করিনি। তারা নাটক করে আমাদের নামে অভিযোগ করছে । বামনা থানা ওসি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মো:রাজিবুল হক(বরগুনা সংবাদদাতা)
বরগুনা সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) বরগুনা উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে বরগুনা উপজেলা কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় ঠিকাদার মো. ফরহাদ জোমাদ্দার তাকে মারধর করেন। তবে ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা কার্যালয়ে সামনে মোটরসাইকেলে বসেছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। এ সময় ঠিকাদার ফরহাদ জমাদ্দার তাকে ঘুষখোর বলে গালামন্দ দিতে থাকেন। প্রতিবাদ করলে ঠিকাদার প্রকৌশলীর মোটরসাইকেলে লাথি মেরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর মিজানুর রহমান উঠে দাঁড়ালে ফরহাদ জমাদ্দার তাকে কিল-ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে সদর উপজেলা পরিষদের ও উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মচারীরাসহ সদর উপজেলার বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বরগুনা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম আহমদ সোহাগ বলেন, উপজেলা পরিষদে আমাদের একটি মিটিং ছিল। মিটিং শেষ করে ভবন থেকে নামার সময় আমরা দেখি মারামারি করছেন তারা। সেখানে আমিসহ কয়েকজন চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলাম। পরে আমরা পরিস্থিতি শান্ত করি। তবে কী নিয়ে ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. ফরহাদ জমাদ্দার বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান একজন অসৎ কর্মকর্তা। ঘুষ ছাড়া তার কলম চলে না। ঘুষের জন্য তিনি আমার জামানতের টাকা আটকে রেখেছেন। বরগুনার অনেক ঠিকাদারের টাকা তিনি আটকে রেখেছেন আবার অনেকে ঘুষ দিয়ে জামানতের টাকা পেয়েছেন। আমি ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমার কাজ করবেন না। এ জন্য আমি তাকে মেরেছি। পরে আবার তার পা ধরে মাফ চেয়েছি।
মো. মিজানুর রহমানের দাবি, ফরহাদ জমাদ্দার তার এলাকার বড় ভাই। কিছু ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বরগুনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস কে আরিফুল ইসলাম।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ সাংবাদিক এম. আর. মন্টুর পিতা ও নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড রুপাতলী এলাকার বাসিন্দা ব্যাবসায়ী আব্দুল মান্নান হাওলাদার’য়ের ২য় মৃত্যু বার্ষিকী। তিনি ৩ছেলে ও ২মেয়ের জনক ছিলেন। গত ২০১৯ সালের পবিত্র রমজান মাসের আজকের এই দিনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি……রজিউন)। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় আজ তার গ্রামের বাড়ি সহ বিভিন্ন স্থানে দোয়া মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।

ঝালকাঠির রাজাপুরে ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রিতম রায় (২৮) নামের এক মোটরসাইকেলের আরোহী নিহত হয়েছেন।

খুলনা থেকে প্রিতম রায় কর্মস্থল বরিশালে যাওয়ার পথে বুধবার (৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে খুলনা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজাপুর উপজেলার কাঠিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়।

রাজাপুর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত প্রিতম রায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলা সদরের মৃত গুরুপদো রায়ে ছেলে৷ তিনি বরিশালে টিউশনি করাতেন৷

রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, একটি ট্রলির সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। ট্রলিটি জব্দ করা হলেও চালক পলাতক রয়েছেন।

নিহতের পরিবার মামলা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে, জানান ওসি।’

পটুয়াখালীর বাউফলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আবদুল্লাহ (৪) ও হাসিনা বেগম (৩০) নামের দুইজন মারা গেছেন। আজ বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলার কারনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়ীয়া গ্রামের মোঃ খলিলুর রহমানের ছেলে মৃত্যু আবদুল্লাহর ও উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের দ্বিপাশা গ্রামের নয়া মাতব্বরের মেয়ে মৃত্যু হাসিনা বেগম।

মৃত্যু হাসিনার স্বজনদের অভিযোগ, হাসিনাকে বুধবার সকাল ৭টা৩৪ মিনিটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয় এবং ৮টা ৩মিনিটে তিনি মারা যান। (ভতির্ রেজিস্টার অনুযায়ি) ডা. অমিত কুমার তাকে ভর্তি করনে। কলেরা স্যালাইন দেয়ার ৫-৭ মিনিট পরে তিনি ওই রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় ইনচার্জ নার্স অর্পনা ও নার্স নুরুন্নাহার বেগম দায়িত্বে ছিলেন। রোগীর স্যালানাইন বন্ধ করে দেয়ার ৮-১০ মিনিট পরে নার্স হালিমা বেগম এসে রোগীকে নাড়াচড়া করতে দেখে ইনচার্জ অর্পনাকে অবহিত করেন। তিনি ডাক্তার অমিত কুমারকে ফোন দিলে তাকে ইসিজি করার জন্য বলেন। এ ঘটনার ২০-২৫ মিনিট পরে তার ইসিসিজি করা হয়। চিকিৎসকের দায়িত্ব অবহেলায় হাসিনার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেন।

এ নিয়ে সরকারি ভাবে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৫ জনের মৃত্যু হলেও বেসরকারী হিসাব অনুযায়ি এ উপজেলায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১৫ জন হবে। বাউফল উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার। এর মধ্যে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত দেড় মাসে প্রায় এক হাজারের অধিক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: প্রশান্ত কুমার সাহা চিকিৎসকের অবহেলার কারনে মারা যাওয়ার বিষয়টি অশ্বিকার করে বলেন, প্রচন্ড তাপমাত্রা, নদী ও খালে লবন পানি এবং পুকুরের পানি দিয়ে গৃহস্থালির কাজ করায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়াও পঁচা, বাশি খবার এ তরমুজ খেয়েও অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।’

ঝালকাঠিতে নলছিটি উপজেলা পরিষদের পরিত্যক্ত একটি ভবনের (এরশাদ ভবন) কলাপসিবল গেট চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোরস্থান রোডের একটি ভাঙারির দোকানে গেটটি বিক্রি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় কলাপসিবল গেটটি বিক্রেতাকে (চোর) ফেরত দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভাঙারি ব্যবসায়ী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইফতারির পর এক যুবক ভ্যান গাড়িতে করে কলাপসিবল গেটটি
ওই ভাঙারির দোকানের বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। দোকানদার ওজন করে গেটটি দোকানে তুলে রাখেন। ওই যুবক বিক্রির টাকা নিয়ে চলে যায়। এর কিছু সময় পর পরিত্যক্ত সরকারি ভবনের কলাপসিবল গেট চুরির বিষয়টি জানাজানি হয়।

কুষ্টিয়া থেকে নলছিটি এসে ভাঙারি ব্যবসা করা মো. মুনসুর বুধবার সকালে সাংবাদিকদের জনান, একজন অপরিচিত যুবক সন্ধ্যার দিকে চুরি করা কলাপসিবল গেটটি বিক্রির জন্য দোকানে নিয়ে আসেন।গেটটি ওজন করে দোকানে রাখা হয়। সেটি পরিত্যক্ত সরকারি ভবনের চুরি করা গেট; এমন তথ্য জানার পর কলাপসিবল গেটটি তাকে (বিক্রেতা) ফেরত দেয়া হয়েছে। তবে বিক্রেতার নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি ওই ভাঙারি ব্যবসায়ী।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এ বিষয়টি সম্পর্কে এখনও কিছু জানি না৷ তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলি আহম্মেদ বলেন, ভাঙারি ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

চাঁদপুরে আলোচিত ধর্ষণ ঘটনা মামলার প্রধান আসামি আমজাদ মাহমুদ নিলয়কে (২১) বরিশালের ভোলা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ মে) ভোরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীকে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল গৃহকর্মী কারও কাছে কোনো প্রতিকার না পেয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করলে চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়ে শারীরিক নির্যাতনের দায়ে ধর্ষকের মা শাহানাজ বেগমকে (৪৫) আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। ওই সময় ধর্ষক আমজাদ মাহমুদ নিলয় ও তার বাবা আব্দুল মাজেদ (৫৪) পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, আব্দুল মাজেদ ও শাহানাজ দম্পতি চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এ কর্মরত। তারা ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার চরশফী গ্রামের বাসিন্দা। চাঁদপুর ওয়ারলেছ বাজার সিরাজ বরকান্দাজের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে আসছিলো।

সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিতা গৃহকর্মীর মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। দীর্ঘ ৪ বছর যাবৎ এই দম্পতি তাকে দিয়ে বাসার কাজ করে আসছিল। এই চার বছরে তারা ধর্ষিতার কোন টাকা পয়সা পরিশোধ করেনি। লকডাউনের কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় তাদের ইউনিভাসিটিতে পড়ুয়া ছেলে আমজাদ মাহমুদ নিলয় বাড়িতে চলে আসে। এ সময় বাবা-মা কর্মস্থলে চলে গেলে সে তাদের কাজের মেয়েকে ১ বছর যাবৎ বাসার মধ্যে একা পেয়ে ধর্ষণ করে আসছিল। ভিকটিম বিষয়টি বাবা মাকে অবহিত করলেও তারা বিষয়টি কর্নপাত না করে ভিকটিমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করে।

পুলিশ জানায়- সর্বশেষ গত ১৪ এপ্রিল দুপুর ১২ টার সময় ধর্ষকের বাবা-মা আব্দুল মাজেদ দম্পতি অফিসে গেলে এই সুযোগে তাদের ছেলে আমজাদ মাহমুদ নিলয় ভিকটিমকে আবারও ধর্ষণ করে। ভিকটিম সর্বশেষ ঘটনার বিষয়টি আব্দুল মাজেদ দম্পতিকে জানিয়ে প্রতিকার চাইলে শাহনাজ বেগম ও তার ছেলে আমজাদ মাহমুদ নিলয় ভিকটিমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। ভিকটিম তাদের দীর্ঘদিনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ৩০ এপ্রিল আত্মহত্যার উদ্দেশে বাসা হতে রাস্তায় বের হয়।

এই বিষয়টি থানা পুলিশ জানতে পেরে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। এবং তার কাছ থেকে বিষয়টি পুরোপুরি অবহিত হয়। পরে ওই দিন শাহনাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এবং এই সংক্রান্তে তাদের বিরুদ্ধে ভিকটিমের আবেদনের প্রেক্ষিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা রুজু করে শাহনাজ বেগমকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রশিদ জানান, ভোরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভোলা থেকে আসামীকে আটক করা হয়েছে। আজ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

এছাড়াও মামলার অপর আসামি বাবা আবদুল মাজেদকে গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে।’