তেতুলিয়া এলজিইডির প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম,দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে শত কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে জানাগেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, তেতুলিয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান পাবনা সদরের হেমায়েতপুরের দরিদ্র কৃষক আকবর আলী খানের পুত্র। সামান্য একটু কৃষিজমি ছাড়া পিতার তেমন কোন জমি জমা ছিল না । অর্থসংকটের ভেতরেই জীবন অতিবাহিত হয়েছে ইদ্রিস আলী খানের। তবে এলজিইডির প্রকৌশলী হওয়ার পরে পরিবারে ফিরে আসতে শুরু করে আর্থিক স্বচ্ছলতা। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সাবেক সংসদ সদস্য পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার গোলাম ফারুক প্রিন্সের ছত্রছায়ায় হয়ে ওঠেন ব্যাপক প্রভাবশালী ।
অভিযোগ আছে, ইদ্রিস আলী খান পাবনায় এলজিডি প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজের সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করেন ও সড়কের নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার গোলাম ফারুক প্রিন্সের প্রভাবে সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যায় এবং তাকে সেখান থেকে বদলি করা হয় তেতুলিয়ায়। ৫ ই আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পতনের পর ভোল পাল্টিয়ে নিজেকে প্রচার করেন বিএনপিপন্থী প্রকৌশলী হিসেবে।
তেঁতুলিয়ার প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পরই এখানেও শুরু করে দেন নানা অনিয়ম দুর্নীতি। তবে বরাবর তিনি থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাহিরে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে তেতুলিয়ায় সড়ক নির্মাণের ১৫ দিনের ভিতর দেবে যায়, তখন এই অনিয়মের সংবাদ গত মে মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে , চলতি অর্থবছরে বুড়াবুড়ি বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৬৫ মিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য ১ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ১৭৯ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, এই বরফদের বড় একটা অংশ ইদ্রিস আলী খান কমিশন হিসেবে ঘুষ নেন তখন এটা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল তবে সেই ঘটনা তিনি ধামাচাপা দিয়ে থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
অভিযোগ আছে, গত ১৮ জুলাই তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনই আরএন্ডএইচ-সিপাইপাড়া রোড হয়ে কাশিমগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি সড়ক প্রকল্পে কাজের এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন না করে কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছিল। এটা নিয়ে পঞ্চগড়ে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়।
প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান বিবাহ করেছেন পাবনা সদরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতিয়ানীর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মৃত ওয়াজ উদ্দিন শেখের কন্যা রোকেয়া বেগম স্বপ্নাকে। এখানেই তিনি করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ। রয়েছে তার একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি, গাড়ি, ছেলেদের জন্য ক্রয় করে রেখেছেন ছয়টি মোটরসাইকেল। চলাচলের জন্য রয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা দামের একটি আলিশান গাড়ি। যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ ১৬-৪৩৪৫। এখানে তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। গাড়িটি ক্রয় করেছেন: মোঃ মনোয়ার হোসেন পাইলট, পিতা মোঃ মুখলেসুর রহমান, ঠিকানা বাড়ি ৪০/৪২, সেকশন ৭, আরামবাগ মিরপুর ঢাকা। কিন্তু গাড়িটি ক্রয় করার পর তিনি নাম পরিবর্তন করেননি। একটি স্টাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে মালিকানা করে নিয়েছেন। কারণ তার নামে রেজিস্ট্রেশন হলে এই অর্থের হিসাব তিনি দিতে পারবেন না। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ অর্থে ক্রয় করা। এই মালিকানা পরিবর্তন না করার জন্য তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গাড়িটি ভাড়া দিতে পারেননি।তিনি এলাকায় কারো সঙ্গে তেমন একটা চলাফেরা বা কথা বলেন না । বিশেষ করে ৫ ই আগস্টের পরে খুব সতর্ক অবস্থায় থাকেন। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তার মোট তিনটি বাড়ি রয়েছে। একটি আট তালা বাড়ি নির্মানাধীন; যেখানে প্রায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করছেন। বড় ছেলে ইমন একটি ব্যয়বহুল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়নরত । ছোট ছেলে শিরোন উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে । দুই ছেলের বিলাসিতার জন্য ছয়টি মোটরসাইকেল ক্রয় করে দিয়েছেন। স্ত্রী সন্তানদেরকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান দেশ-বিদেশ। পাবনা মেইন শহরে তার তিনটি দোকান রয়েছে; যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা। পাবনা সদর ও আশেপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলায় স্ত্রী সন্তান ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার।
ইদ্রিস আলীর এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন,তিনি কারোর সঙ্গে তেমন কথা বলেন। তার বাড়িতে কোন লোকজনকে সহজে ঢুকতে দেন না। সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার গোলাম ফারুক প্রিন্সের নির্বাচনে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন। এছাড়াও ইদ্রিস আলী ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে অবৈধ অর্থ ব্যয় করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী ইদ্রিস আলীর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।







