TT Ads

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঝালকাঠির বাসন্ডা এলাকায় অবস্থিত আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজে উন্নয়ন বরাদ্দের নামে বড় ধরনের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে “মসজিদ উন্নয়ন” খাতে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য থাকলেও বাস্তবে ওই নামে কোনো মসজিদ বা নামাজের স্থানই নেই—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ঝালকাঠি জেলা পরিষদ থেকে কলেজটির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে এডিবির বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে “আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন জামে মসজিদ” উন্নয়নের নামে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

সরেজমিনে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ওই নামে কোনো মসজিদ তো দূরের কথা, নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত কোনো স্থাপনাও নেই। কলেজের আশপাশ ঘুরেও এমন কোনো স্থাপনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও রহস্যজনক করে তুলেছে জেলা পরিষদের তৎকালীন এক কর্মকর্তার বক্তব্য। তিনি জানিয়েছেন, এই নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। এমনকি পুরো ঝালকাঠি জেলাতেও এই নামে কোনো মসজিদ নেই বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সরকারি অর্থ লুটপাটের একটি কৌশল। তাদের মতে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তুষ্ট রাখতে তৎকালীন প্রশাসক, প্রকৌশলী এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এই ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এলাকার একাধিক শিক্ষানুরাগী বলেন, যেখানে বাস্তবে কোনো স্থাপনা নেই, সেখানে উন্নয়নের নামে টাকা ব্যয় দেখানো মানেই সরাসরি দুর্নীতি। এই অর্থ কোথায় গেছে, কারা উত্তোলন করেছে এবং কীভাবে বিল পাস হয়েছে—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য আরও কঠোর। তাদের অভিযোগ, কলেজে উন্নয়নের নামে একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দ এলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ রয়েছে। অনেক কাজই কাগজে সীমাবদ্ধ, মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই। ফলে এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একটি সুসংগঠিত অনিয়মের চক্র কাজ করছে বলে ধারণা করছেন তারা।

সচেতন মহল বলছে, সরকারি অর্থের এমন অপব্যবহার শুধু অনিয়ম নয়, এটি জনস্বার্থের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তারা দ্রুত এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তদন্তের দাবিতে স্থানীয়রা দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ যুথিকা মন্ডলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। কলেজের অফিস নম্বর ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি, যা পুরো ঘটনার সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে।

অন্যদিকে, ঝালকাঠি জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো ভুয়া প্রকল্প বা ভৌতিক বিল পাস করা হবে না। সকল প্রকল্প কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন একটাই—যে ১৫ লাখ টাকা ইতোমধ্যে খরচ দেখানো হয়েছে, তার জবাব কে দেবে? আর এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কবে নেওয়া হবে দৃশ্যমান ব্যবস্থা? এসব প্রশ্নের উত্তর না মিললে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

সূত্র : ইত্তেহাদ নিউজ

TT Ads