স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
বরিশাল নগরীর বুকেই প্রকাশ্যে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর জুয়ার সাম্রাজ্য। ‘ওয়ান-টেন’ নামের এই অবৈধ জুয়ার আসর ঘিরে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে রফিক সিন্ডিকেট। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেনের এই খেলায় সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসছে শত শত পরিবার। অথচ সবকিছু যেন দেখেও না দেখার ভান করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে ক্ষোভ, আতঙ্ক আর হতাশায় ফুটছে পুরো নগরবাসী।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বাঘিয়া খ্রিষ্টান কলোনির একাধিক স্থানে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হয়েছে এই জুয়ার জাল। স্থানীয় রফিক যিনি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করছেন এই সিন্ডিকেট। নগরীর ভাটার খাল ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকা, কাটপট্টি এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি স্পটে নিয়মিত বসছে এসব জুয়ার বোর্ড। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় জুয়ার আসর, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে নির্বিঘ্নে।
তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ান-টেন’ নামের এই জুয়ার ফাঁদ মূলত সাধারণ মানুষকে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে টেনে আনে। শুরুতে সামান্য জিতিয়ে আসক্ত করে ফেলে, এরপর ধাপে ধাপে নিঃস্ব করে দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। অনেকেই নিজের সঞ্চয় শেষ করে, এমনকি ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করেও বাজি ধরছে। ফলে পরিবারে নেমে আসছে চরম আর্থিক ও সামাজিক বিপর্যয়।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব জুয়ার আসর পরিচালনায় রয়েছে সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। সিন্ডিকেটটির রয়েছে নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী, যারা জুয়ার বোর্ড পাহারা দেয় এবং বাইরের কেউ যেন বাধা দিতে না পারে তা নিশ্চিত করে। স্থান পরিবর্তন করে প্রতিদিন নতুন নতুন জায়গায় বসানো হয় বোর্ড, যাতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়। তবে স্থানীয়দের দাবি—এত বড় পরিসরে এই কর্মকাণ্ড চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অজানা থাকার কোনো সুযোগ নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জুয়ার আসর ঘিরে আশপাশে বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন ও বখাটেপনা। সন্ধ্যার পর থেকেই সাধারণ মানুষ চলাচলে ভয় পাচ্ছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন। অনেক পরিবারে অশান্তি, বিচ্ছেদ ও সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কোনো গোপন যোগসাজশ রয়েছে? নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য কারণে থমকে আছে আইন প্রয়োগ?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের অজ্ঞাতসারে এত বড় জুয়ার সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। পুলিশ সব জানে, কিন্তু কোনো অজানা কারণে তারা নীরব। আমরা এখন আর কোথাও বিচার পাচ্ছি না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান না চালালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। একটি নগরীর সামাজিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—সবকিছুই হুমকির মুখে পড়বে।
এখন প্রশ্ন একটাই—বরিশাল কি জুয়ার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে, নাকি প্রশাসন জেগে উঠবে?
এ ব্যাপারে রফিক কে ফোন দেওয়া হলে সে ফোন রিসিভ করেনি।







