TT Ads

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবান ফ্যাক্টরি মসজিদ গলিতে সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গিয়ে উল্টো হামলার শিকার হয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্য। ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় রশিদ ব্যাপারীর বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন আলামিন দম্পতি। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আলামিনের সঙ্গে রূপা নামের এক নারীর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধে রূপাকে আশ্রয় দেন তার দুলাভাই খলিল।

ঘটনার দিন ১৪ এপ্রিল স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিএনপির কর্মী পরিচয়ধারী মেহেদির মধ্যস্থতায় একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রূপা তার সঙ্গে ২০-২৫ জন যুবক নিয়ে আলামিনের বাসায় চড়াও হন।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে আলামিনের স্ত্রী ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় জানালার ফাঁক দিয়ে তার চুল ও হাত ধরে টানাটানি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ঘটনাস্থলেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রতিবেশী কবির মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম, তার সন্তান নিরব নিলয় ও জামাতা আদিব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের ওপরই চড়াও হয় হামলাকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে চারজন আহত হন।

আহতদের রক্ষা করতে গিয়ে রিনা বেগম তার সন্তানদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। এরপরও হামলাকারীরা থেমে থাকেনি। পরে তারা দলবল নিয়ে কবির মিয়ার বাড়িতে গিয়ে গেট, গ্রিল ও দেয়ালে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে না পারলেও ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন চালানো হয়।

ঘটনার ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যায়—পরবর্তীতে সুযোগ পেলে আবারও হামলা চালানো হবে।

এ ঘটনায় আহত পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কবির মিয়া ও তার স্ত্রী জানিয়েছেন, তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন। ইতোমধ্যে কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সালিশে উপস্থিত মেহেদি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের কারণে। তিনি বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, একটি সালিশ বৈঠক কীভাবে মুহূর্তেই সহিংসতায় রূপ নিল—তা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের বেপরোয়া হামলা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না এলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

TT Ads