‎পিরোজপুর-১ আসনের (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) সাবেক সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের ছোট ভাই বেসরকারি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান-১ শাখার কর্মকর্তা শামীম শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

‎মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) পিরোজপুরের পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ আবু নাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, সোমবার দুপুরে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর সদর ও নাজিরপুর থানায় দায়ের হওয়া তিমটি মামলার অভিযুক্ত ছিলেন শামীম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে ডিবি পুলিশের একটি দল গুলশানের একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর শামীমকে সেখান থেকে পিরোজপুরে নিয়ে আসা হয়েছে।

‎পিরোজপুরের পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, পিরোজপুরে তিনটি মামলায় শামীমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে পিরোজপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। আজকেই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে সোপর্দ করা হবে।

 

বরিশাল সদর উপজেলার দিনারের পুল এলাকায় সড়কের পাশে থাকা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে চরকাউয়া-গোমা আঞ্চলিক সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা বিষয়টিকে নাশকতা দাবি করলেও এটি অগ্নিসংযোগ নাকি অগ্নিকাণ্ড, তা নিশ্চিত নয় পুলিশ।

বরিশাল মেট্রোপলিটনের বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় বাসের মধ্যে কেউ ছিল না। ঘটনাস্থলের অদূরে টহল পুলিশ ছিল। যে কারণে ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। এতে বাসের কয়েকটি সিট পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, সৌরভ পরিবহন নামের বাসটি ১৬-১৭ দিন ধরে রাস্তার পাশে রাখা হয়েছিল। তবে কীভাবে এটিতে আগুন লেগেছে তা বলা যাচ্ছে না। এটি অগ্নিসংযোগ নাকি অগ্নিকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি অগ্নিসংযোগ হয় তবে দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

যদিও স্থানীয়দের দাবি, থেমে থাকা বাসটিতে কেউ আগুন না দিলে মাঝরাতে সেটি পুড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ বাসটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় সড়কের পাশে রাখা ছিল।

 

শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গাছ ফেলে অবরোধ করার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আসামি করা হয়েছে ৫০ জনকে।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাতে মাদারীপুরের কালকিনি থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলাটি করা হয়। পরে রাতেই একজন এজাহারনামীয় আসামি মহিউদ্দিন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি কালকিনি পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, রবিবার ভোরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গোপালপুরে জড়ো হন মীর গোলাম ফারুক। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মাদারীপুর জেলা কমিটির সদস্য, কালকিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। পরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। এ সময় শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণা করা হলে দক্ষিণাঞ্চল অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরদূরান্তের যাত্রী ও চালকরা। পরে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ, উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রায় ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় রবিবার রাতে কালকিনি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় কালকিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক এবং কালকিনি পৌরসভার সাবেক মেয়র এনায়েত হোসেন হাওলাদারসহ ৫০ জনকে আসামি করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে মহিউদ্দিন হাওলাদারকে তার নিজ বাড়ি কালকিনি উপজেলার পশ্চিম মিনাজদী গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মাদারীপুরের কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, গোপালপুর ব্রিজের উপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় তারা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে সরকার বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। মহাসড়কে গাছ ফেলায় বেশ কিছু সময় যানচলাচল বন্ধ থাকে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং এক আওয়ামীলীগের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামীদেরও গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুকুল বেগম (৫০) নিশানবাড়িয়া গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান তালুকদারের স্ত্রী। হাবিবুর চাকামইয়া ইউনিয়নের মৌলভীরতবক গ্রামের জামে মসজিদের ইমামতী করেন বলে জানায় পুলিশ।

মুকুল বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ২৭ বছর বয়সী মুসা তালুকদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলাপাড়া থানার ওসি তদন্ত মো. ইলিয়াস তালুকদার।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, পাশের বাড়ির এক নারীর সঙ্গে মুকুল বেগমের বেশ ভাল সম্পর্ক ছিল। তাই উভয়ের বাড়িতে প্রায়ই তাদের আসা যাওয়া ছিল। সন্ধ্যার পর পাশের বাড়ির ওই নারী মুকুল বেগমের সঙ্গে দেখা করতে আসার পর ঘরে ঢুকে রক্ত দেখে চিৎকার করেন। তখন বাড়ির লোকজন এসে মুকুল বেগমের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

রোববার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। এ সময় মুকুল বেগমের স্বামী হাবিবুর রহমান বাড়িতে ছিলেন না বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

হাবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, আমার প্রথম স্ত্রী মারা গেছেন অনেক দিন আগে। মুকুল বেগম আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। গতকাল দুপুরে ভাত খাওয়ার পর আমি নামাজ পড়াতে মসজিদে যাই। ঘটনা শুনতে পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি আমার সব শেষ।”

কলাপাড়া থানার ওসি মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, মুসা তাদের নির্মানাধীণ ভবনের ছাদে পানি দিচ্ছিল। এ সময় সাথে পাশের বাড়ির আরও একটি ছেলে ছিল। সবাইকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে জানিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

বরগুনা প্রতিনিধি : তালাকপ্রাপ্তা এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিন বছর সংসার পেতে ধর্ষণ করার অভিযোগে মো. রুবেল মুন্সীর বিরুদ্ধে সোমবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী।

ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনার গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৭ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু।

অভিযুক্ত মো. রুবেল মুন্সী (২৮) বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকী গ্রামের মো. রুস্তুম আলী মুন্সীর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী ও আসামি পরস্পর প্রতিবেশী। চার বছর আগে বাদী তালাকপ্রাপ্ত হন। প্রতিবেশী মো. রুবেল মুন্সী বাদীর বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করেন। বাদী ও তার বাবার বিপদ-আপদে সব সময় এগিয়ে আসতেন রুবেল। এ কারণে বাদী ও তার পরিবার রুবেলের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করে। ৩ বছর পূর্বে রুবেল বাদীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রুবেল কুরআন শরীফ সাক্ষী রেখে স্থানীয় মৌলভী দিয়ে গোপনে বাদীকে বিয়ে করেন। রুবেল বাদীকে নিয়ে ঢাকায় বাসা রেখে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তিন বছর সংসার করেন।

বাদী বলেন, আমি ও আমার পরিবার রুবেলকে বারবার কাবিন দেওয়ার জন্য বলেছি। রুবেল বলে কিছু দিনের মধ্যেই কাবিন দেব। এমনিভাবে তিনটি বছর চলে যায়। ঢাকা থেকে আমরা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসতাম। কিছুদিন থেকে আবার ঢাকায় চলে যেতাম। কিছুদিন আগে আমরা আবার বাড়িতে বেড়াতে আসি।

তিনি বলেন, ১৪ নভেম্বর সকালে আমার বাবা ও আমি রুবেলের কাছে আবারও কাবিন রেজিস্ট্রি করে দিতে বলি। এ সময় রুবেল উত্তেজিত হয়ে বলে আমার সঙ্গে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তোমাকে বিয়ে করিনি। এই কথা বলে আসামি রুবেল চলে যায়। আমি রুবেলকে বোঝাতে চাই কাবিন না হলে বিয়ের স্বীকৃতি হয় না। রুবেল আমাকে সাফ জানিয়ে দেয় সে আমাকে বিয়ে করেনি। রুবেল আমাকে বিয়ে করে তিন বছর সংসার করার পরে এখন বিয়ে অস্বীকার করে। রুবেলকে আমি তিন বছর বিশ্বাস করে তার সংসার করেছি। অসংখ্যবার রুবেল আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। রুবেল আমার সঙ্গে প্রতারণা করে বিয়ের নাটক সাজিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করবে তা আমি ও আমার পরিবার বুঝতে পারিনি।

বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, আদালতের আদেশ পেলে তদন্ত শুরু করব। রুবেলের ফোন নাম্বার বাদীর কাছ থেকে সংগ্রহ করে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেন না। যার কারণে রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

 

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা রায়হান কাওছারকে বিদায়ী বেলায় ‌‘জুতা মারো তালে তালে’ স্লোগান দিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরপর তারা নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।

 

এ সময় তারা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলেন- ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট পতনের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেবেছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দালালমুক্ত হবে। বিভাগীয় কমিশনার পদাধিকার বলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে অসীন হয়ে বরিশালবাসীর জন্য স্মরণীয় কিছু রেখে যাবেন কিন্তু তার ১ বছর কর্মক্ষেত্রে নগরবাসীর সাথে রুর আচরণ এবং বিভিন্ন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের সাথেও বিভিন্ন সময় অসৌজন্যমূলক আচরন করেছে। যা সকলেই অবগত আছেন। ২০০২ সালে ৫৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ সিটি কর্পোরেশন হিসাবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন আত্মপ্রকাশ বা সৃষ্টি হয়। ২০০৩ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার তাদের অর্গানোগ্রামের পদ সৃষ্টির সাপেক্ষে বিভিন্ন পদে ১২১ জনকে নিয়োগ প্রদান করেন।

১/১১ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছ দেখিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাদের ভিন্ন ভিন্ন স্মারকে ২০০৭ সালের ১৮ অক্টোবর চাকুরীচ্যুত করা হয়। একই বছর ভিন্ন ভিন্ন রিটে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিবিশনে পিটিশন দাখিল করে। ২০১০ সালে হাইকোর্ট থেকে বহালের রায় পান তারা। ২০১০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের চাকরি বিধিমালার গেজেট প্রকাশ পায়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগপত্রে উল্লেখ রয়েছে সাংগঠনিক কাঠামোতে পদ সৃষ্টি সাপেক্ষে তাদের স্থায়ীকরণ করা হবে। তাদের সকলের পদ সাংগঠনিক কাঠামোতে সৃষ্টি হয়েছে এবং উল্লেখিত চাকরী বিধি মালা ২০১০ এর দশম অধ্যায়ের ৫৭ অনুচ্ছেদ এর ধারা ১ এর ক্ষমতা বলে তাদের শুন্য পদে স্থায়ীকরেণের কোন আইনগত বাধা নেই।

 

প্রশাসক সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে বারবার তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শূন্য পদে স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিলেও শূন্য পদে স্থায়ী করেনি বরং বিভিন্ন ভাবে তালবাহানা করতে থাকে। আইন, মানবিক বিভিন্নভাবে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি একাধিক বার তার রুম থেকে তাদের বের করে দেন। তাদের প্রশ্ন আইনগত বাধা না থাকলেও কেন তাদের স্থায়ীকরণ করা হচ্ছে না। বরিশালের একাধিক বিজ্ঞ আইনজীবী তাদের শূন্য পদে স্থায়ীকরণের আইনগত বাধা নেই মর্মে মতামত প্রধান করেছেন।

বিভাগীয় কমিশনার তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৫৯ জন শ্রমিককে চাকরিচুত্য করেছেন। যারা এখন মানবতার জীবনযাপন করছেন অথচ প্রশাসক শ্রমিক পদে বিভিন্ন সময় নতুনভাবে শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি বিপুল অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ, পদোন্নতি দিয়েছেন। যাদের মধ্যে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারি ফ্যাসিষ্টের দোসর হিসাবে পরিচিত। যা সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করলেই সত্যতা পেয়ে যাবেন। ঠিকাদারী, জমি ক্রয় বিভিন্ন কাজ থেকে টাকা না নিয়ে প্রশাসক কোন ফাইল এ স্বাক্ষর করে না।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৭ নভেম্বর কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশাসকের সাথে তাদের স্থায়ীকরণের বিষয়ে বলতে গেলে তিনি অসভ্য ভাষা ব্যবহার করে এবং গুলি করার হুমকি প্রদান করে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অতিরিক্ত সচিব মো. রায়হান কাওছারকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়। ৪ নভেম্বর বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এরপর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসকের দায়িত্বও পেয়েছিলেন। তবে তার এক বছর ৯ দিনের কার্যক্রমে বিবিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও নগরবাসী অতিষ্ঠ এমনটাই দাবি করেছেন নগর ভবনের সামনে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩ টার সংবাদ সম্মেলন করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সবশেষ ১৪ নভেম্বর বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কাওছারকে বদলি করা হয়।

 

বরিশালের বাবুগঞ্জে শেখ হাসিনার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মিষ্টি বিতরণকে ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রবিউল ইসলাম (৩০) নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে আগরপুর ইউনিয়নে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করছিলেন। এসময় জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোঃ আউয়াল হোসেন, মোঃ রাসেল এবং মোঃ শাকিলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে একই ইউনিয়নের রহমান হাওলাদারের পুত্র সেচ্ছাসেবক দলনেতা আউয়াল হাওলাদার দুলাল হাওলাদারের পুত্র রবিউল ইসলামের ওপর হামলা চালায়।

 

হামলায় ধারালো ছুরি দিয়ে রবিউল ইসলামকে কুপিয়ে ও আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রেরা এসআই জাহিদ হোসেন ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি জানিয়েছে।

 

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মোঃ সহিদুর রহমান। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

নানা উপায়ে অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম, প্রকৌশলীদের অনৈতিক সুবিধা আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে করে তিনি এই সম্পদের অধিকারী হয়েছেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুসন্ধানে তার সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি টাকারও বেশি! অথচ তিনি চাকুরীতে বহাল বাবদ এ পর্যন্ত সরকারি কোষাগার থেকে সর্বসাকল্য যে বেতন পেয়েছেন তার বিপরীতে স্বাভাবিকভাবেই তার এই বিপুল সম্পত্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাধারণ জনমনে। অবৈধ পন্থায় দূর্নীতি করে তিনি বরিশাল নগরীর সার্কুলার রোডে গড়ে তুলেছেন ৫ তলা আলীশান বাড়ী। বিএম স্কুল রোডে ট্রাফিক অফিসের বিপরীতেও রয়েছে আরেক আলীশান বাড়ী। গ্রামের বাড়ী গৌরনদীতে গড়েছেন ব্যাপক সম্পদ।স্ত্রী, নিকটাত্নীয়সহ নামে বেনামে গড়েছেন এসব সম্পদ।

অনিয়মই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে। দুর্নীতি-অনিয়ম কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এখানে। নানা উপায়ে অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম, প্রকৌশলীদের অনৈতিক সুবিধা আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির উৎসব চলছে এই দপ্তরে।

জানা যায়, কয়েকজন ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম কাজ পাইয়ে দেওয়া, নিজে নেওয়া, বিল ও জামানতের চেক পরিশোধের ক্ষেত্রে গুনে গুনে বুঝে নেন কমিশন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, বরিশালের বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া, মেহেন্দিগঞ্জ ও মুলাদীতে কারিগরি স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপনের কাজের বাবুগঞ্জ ও আগৈলঝাড়ার কারিগরি স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপনের দুইটি কাজ তিনি বসুন্ধরা হাউজিং (প্রাঃ) লিঃ নামক ঠিকাদারী লাইসেন্সের মাধ্যমে নিজে ভাগিয়ে নেন। পরবর্তীতে ৩২ কোটি টাকার কাজ দুইটি ৭% কমিশনে বিক্রী করে দেন। অবশ্য তিনি বরিশালে যোগদানের পর থেকেই অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন এবং বাছাই করা উন্নয়ন কাজগুলো নিজেই বিভিন্ন কৌশলে ভাগিয়ে নিয়ে বিক্রিী করে দিয়ে আসছেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের প্রকৌশলী মফিকুল ইসলাম বরিশাল এসেছিলেন বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া, মেহেন্দিগঞ্জ ও মুলাদীতে কারিগরি স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপনের কাজের কমিশন নিতে। বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বরিশাল সার্কিট হাউজে তার সাথে অবস্থান করতেছিলেন। এমন সময় কমিশনের অগ্রিম পয়ত্রিশ লক্ষ টাকা তার দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর রাশেদের নিকট জমা দেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধি। নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল কমিশনের টাকা নিয়ে কম্পিউটার অপারেটর রাশেদকে বরিশাল সার্কিট হাউজে আসতে বলেন। কিন্তু কম্পিউটার অপারেটর রাশেদ সমুদয় টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান, বন্ধ করে ফেলেন ব্যবহৃত মোবাইল। তার এমন কান্ডে নাজেহাল হয়ে পড়েন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল।

শুরু হয় তুলকালাম কান্ড, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কম্পিউটার অপারেটর রাশেদের গ্রামের বাড়ী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারী গাড়ীতে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে আনা হয় স্ত্রী, সন্তান ও ভাইকে। গভীর রাত পর্যন্ত তাদের দেয়া হুমকি-ধামকি। কিন্তু কম্পিউটার অপারেটর রাশেদের স্ত্রী পাল্টা হুমকি ছেড়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলেন- আমার স্বামীকে খুজে পাচ্ছি না, তার কিছু হলে আমি আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। এতে ঢের নাজেহাল হয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল- ছেড়ে দে মা কেদে বাচি অবস্থায় কম্পিউটার অপারেটর রাশেদের স্ত্রী, সন্তান ও ভাইকে ফের নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারী গাড়ীতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার গ্রামের বাড়িতে পৌছে দেন।

সকলের নিকট সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের কমিশন দূর্নীতি। বরিশালে যোগদানের পর থেকেই সে এভাবেই দূর্নীতির দূর্গ গড়েছেন। তার দূর্নীতির দূর্গ সচল রাখতে তিনি ঢাকাস্থ সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আলতাফ হোসেনকে প্রতি সপ্তাহে ইলিশের ঝুড়ি পাঠাতেন। এরফলে তিনি কোন নিয়মের তোয়াক্কা করেন না।

জানা যায়, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি, সমঝোতার নামে নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলীরা অনৈতিক সুবিধা আদায় করছেন। শিক্ষা প্রকৌশল সংশ্লিষ্টরা জানান, অসাধু প্রকৌশলী-ঠিকাদার সিণ্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ায় বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ঠিকাদারদের থেকে প্রতি প্রকল্পের নির্ধারিত অনৈতিক ঘুষ ও পার্সেন্টিস নিয়ে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী হয়েছেন আঙুল ফুলে কলাগাছ।

তিনি বর্তমানে নিজেকে জামায়াত সমর্থিত কর্মকর্তা দাবী করলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল কতৃক অনুমোদিত বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের গত ২৭/০৭/২০২২ ইং ঘোষিত আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এসব বিষয়ে দুদক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ অনুসন্ধান করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই দপ্তরের দুইজন কর্মকর্তা জানান, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ৭-৮ জনের একটি ঠিকাদার সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের ছত্রছায়ায় থেকে বড় বড় প্রকল্প হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের এসব কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মোটা অঙ্কের কমিশন দিচ্ছেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, বরিশাল জেলার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তের নির্বাহীকে ম্যানেজ করে অসাধু ঠিকাদার সিণ্ডিকেট অনেক প্রকল্পের কাজ হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রকৌশলী এতটাই বেপরোয়া ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন নিয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তাদেরকে প্রকল্পের কাজগুলো দিয়েছেন। তবে এই ঠিকাদাররা কাজ করে না, চড়া দামে সাধারণ ঠিকাদারদের কাছে প্রকল্প বিক্রি করে দেয়। এতে করে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ও তার সকল দুর্নীতি-অনিয়মের একান্ত সহযোগী উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, শহিদ-আশিক মিলে শিক্ষা প্রকৌশলে কায়েম করেছে অনিয়মের রাম-রাজত্ব। তাদের এসব অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্যের কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা অতিষ্ঠ। তবে প্রভাবশালী ৬-৮ জনের ঠিকাদাররাই এখানে সর্বেসর্বা। সাধারণ ঠিকাদারদের নানাভাবে হেনস্থা করেন তারা।

এসকল অনিয়ম-দুর্নীতির উৎসবের প্রধান সেনাপতি হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মোঃ সহিদুর রহমান। অনেক ঠিকাদারের মতে- ডাবল শহীদ আর আশিক বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মালিক। গণমাধ্যম থেকে তাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেন নাই।

তবে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের সকল দুর্নীতি-অনিয়মের একান্ত সহযোগী উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান এসকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যে কারো কোন দুর্নীতি-অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেব না, তদন্ত করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

 

 

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে খুলনায় আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিএনপির অভিভাবক, সাবেক হুইপ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বরিশাল সদর-৫ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ার।

সমাবেশে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শ্রমিক অধিকার, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপির চলমান আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি গৌরবময় দিন। এই দিন সেনা-জনতার ঐক্য দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ধারাকে আরও শক্তিশালী করে।”

প্রাণপ্রিয় এ নেতার সফরকে ঘিরে খুলনায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বরিশাল জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

সমাবেশ শেষে বরিশাল থেকে আগত নেতাকর্মীরা জানান, অ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারকে কেন্দ্র করেই বরিশালে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তার নেতৃত্বে সংগঠনের তৃণমূল আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

 

 

 

বরিশাল নগরীর বেলতলা খেয়াঘাট এলাকায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে হোসেন হাওলাদার ও মোঃ সাব্বির নামের দুই যুবককে আটক করেছে কাউনিয়া থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডস্থ পলাশপুর এলাকার মাসুম হাওলাদারের ছেলে হোসেন হাওলাদার ও একই এলাকার মোজাম্মেল শরীফের ছেলে মোঃ সাব্বির শরীফ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে বেলতলা খেয়াঘাট সংলগ্ন সুন্দরবন শিপইয়ার্ডের ভিতরে ১৪/১৫ জন যুবক মিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ সময় হুলস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে কাউনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হোসেন ও সাব্বিরকে আটক করা হয়।

আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বেলতলা খেয়াঘাট সংলগ্ন সুন্দরবন শিপইয়ার্ডের ভিতরে ১৪/১৫ জন যুবক মিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে থানা পুলিশ গিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আলী হোসেন ও মোঃ সাব্বিরকে আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনেই স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি স্বিকার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার তাদের কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার কোতয়ালী মডেল থানায় গেলে ও ওসির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে কল দিলে কয়েক দফা ঘুরিয়েও কোন তথ্য দেননি।