নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাওদা বেগম হত্যা মামলার আসামি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র রাসেল মিয়ার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার (২৩ নভেম্বর) বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ এবং বিচারপতি এ, এস, এম আবদুল মোবিনের দ্বৈত বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স এবং আপিল নামঞ্জুর করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছাত্র রাসেলের সাজা কমিয়ে এই রায় দেওয়া হয়।

আদালতে প্রাথমিক শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। পরবর্তীতে মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এম. মাসুদ রানা, মো. আসাদ উদ্দিন ও মোহাম্মদ নোয়াব আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানিতে অংশ নেন।

মামলার ঘটনায় প্রকাশ, ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সওদা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনার দিন হত্যাকাণ্ডের শিকার সওদার মা সাহিদা বেগম বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা দু-তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে মা উল্লেখ করেন তার মেয়ে ও রাসেলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিক কারণে সাওদা রাসেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। ফলে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

২০১৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ আসামি রাসেল মিয়াকে গ্রেফতার করে। একই দিনে আসামি রাসেল মিয়া ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বরিশালের বিজ্ঞ ভারপ্রাপ্ত দায়রা জজ এস এম নাসিম রেজা ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

সব সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে ২০১৫ সালের ১ জুন আদালত আসামি রাসেলকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের বিরুদ্ধে আসামি হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ৯ মে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল শুনানি শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার (২৩ নভেম্বর) রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া এএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ১৩ বছরের এক ছাত্রীকে অপহরণের তিন দিন পর উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

পাশাপাশি এসময় অপহরণে অভিযুক্ত আমিন সরদার (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রোববার (২২ নভেম্বর) ভোররাতে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার জলিলপাড়া গ্রামের মাসুদ শেখের বাড়ি থেকে ওই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে শনিবার (২১ নভেম্বর) এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা গৌরনদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ নভেম্বর সকালে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ওই স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্ব অপহরণ করে গৌরনদীর লেবুতলী গ্রামের বখাটে আমিন সরদারের নেতৃত্বে ৩/৪ জন।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে শনিবার থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পাংশা থেকে অপহৃতাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী থানার এসআই মো. শাহাবুদ্দিন জানান, রোববার দুপুরে আসামি আমিন সরদারকে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

পাশাপাশি ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই ছাত্রীকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে এবং ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়।

ঝালকাঠির নলছিটিতে ২৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারী মো. শাহাদাৎ মোল্লাকে আটক করেছে র‌্যাব।

উপজেলা পশ্চিম কামদেপপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাকে আটক হয়।

আটকের সময় মো. শাহাদাৎ মোল্লার কাছ থেকে ২৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

আজ সোমবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‌্যাব-৮।

এর আগে র‌্যাব-৮ বরিশাল সিপিএসসি কোম্পানির একটি বিশেষ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে আটক মো. শাহাদাৎ মোল্লা (৩৫) ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানা এলাকার মৃত মতিউর রহমান মোল্লার ছেলে।

এ ঘটনায় র‌্যাব-৮ বরিশাল সিপিএসসির ডিএডি মো. নূর ইসলাম বাদী হয়ে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে ক্লাবের আজীবন সদস্য এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ্যাডভোকেট আবদুল কাইউম ইন্তেকাল ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রবিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি.শ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আছর সুপ্রীম কোর্ট মাজার মসজিদে প্রথম ও মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে সেখানেই তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

তাঁর মৃত্যুতে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনসহ ক্লাবের সকল সদস্যবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

পাশাপাশি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, ‘আব্দুল কাইউম বরিশাল ১৯৭২ থেকে ১৯৯০ সন পর্যন্ত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় তিনি ডেইলী অবজার্ভার পত্রিকায় সাংবাদিকতা করতেন। বর্তমানে তিনি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের আজিবন সদস্য।

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ রাজধানী ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ন্যায় বরিশাল শহরকেও ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল মুক্ত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে বিসিসি। নগরীতে যত্রতত্র ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং বিদ্যুতের তারগুলো সৌন্দর্যহানি করাসহ নগরবাসীকে অগ্নিঝুঁকিতে ফেলে দেওয়ার বিষয়টির ওপর বিসিসি কর্তৃপক্ষ অধিক গুরুত্ব দিয়েছে।

খুব শীঘ্রই নগর কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতায় এই তার অপসারণে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। রবিবার সকালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সূত্রমতে, ইতোমধ্যে এই তারের জঞ্জাল অপসারণ করা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনে বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। নগরীকে নিরাপদ রাখার প্রশ্নে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কিছুতেই চাইছেন না ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল থাকুক। ফলে বিসিসি কর্তৃপক্ষ তাদের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এখন যেকোনো দিন মেয়রের নির্দেশ অনুযায়ী মাঠে নামার অপেক্ষা।

অপর একটি সূত্র জানায়, ঝুলন্ত তারগুলো থেকে বড় ধরনের অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি থাকায় এবার সিটি কর্পোরেশন বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কারণ ইতিপূর্বে এই সমস্ত তার থেকে সদর রোড়, বগুড়া রোডসহ একাধিক এলাকায় আগুন লেগেছিলো। বিশেষ করে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির তারগুলো পথে পথে ঝুলে থাকায় নগরীরে সৌন্দর্য নষ্ট করছে। এ কারণেই সিটি কর্পোরেশন ঝুলন্ত তার অপসারণে কঠোর অবস্থান নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মেয়র স্যার নগরীকে নিরাপদ ও সৌন্দর্য রক্ষায় কার্যকরী বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাস্তবায়ন হলেও ঝুলন্ত তার অপসারণের এই বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যুত বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অপরদিকে কর্পোরেশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, তার অপসারণ করা হলে ইন্টারনেট ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটাসহ আরও কিছু সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভবনা থাকলেও তা সচল রাখতে সিটি কর্পোরেশন ব্যতিক্রম চিন্তা করে রেখেছে। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত পাইপ বসিয়ে তার ভেতর দিয়ে সংযোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এজন্য সিটি কর্পোরেশনকে মাসিক ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাসিক বা বাৎসরিক বিলের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

বরিশালের গৌরনদীতে বাসের ছাদে ব্যারেলের মধ্যে পাওয়া অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পরিচয় উদঘাটন হয়েছে।

শনিবার (২১ নভেম্বর) দিনভর চেস্টায় তার পরিচয় উদঘাটন এবং হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গৌরনদী থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, এই নারীর নাম সাবিনা ইয়াসমিন (৩৪)। তিনি গৌরনদী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিয়াসুর এলাকার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী শহিদুল ইসলাম শফিকুল স্ত্রী। মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর এলাকার সাহেব আলী তার বাবা। ৩ সন্তানের জননী সাবিনা ইয়াসমিন দিয়াসুর এলাকার বাসা ভাড়া দিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং কাতার প্রবাসী স্বামীর সহায়তায় বিদেশে লোক পাঠাতেন।

শহিদুল ইসলামের ছোট ভাই মনির হাওলাদার জানান, তার ভাই-ভাবীর মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার জন্য গৌরনদীর মাহিলাড়া এলাকার খালেক হাওলাদার বেশ কিছুদিন আগে ৪ লাখ টাকা দেয়। দেরি হওয়ায় খালেক বিদেশে যেতে অসম্মতি জানালে সাবিনা সম্প্রতি তাকে (খালেক) দেড় লাখ টাকা ফেরত দেয়। গত শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সকালে দুই সন্তান নিয়ে দিয়াসুরের বাড়ি আসে তার ভাবী। সকাল ১০টার দিকে খালেক ডাকছে বলে বরিশাল যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় সাবিনা। সারা দিনেও সে বাড়ি না ফেরায় বাড়ির লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়ে।

ওই রাতে গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে একটি বাসের ছাদে ব্যারেলের মধ্য থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে সাবিনার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দিনভর চেস্টা এবং তার আঙ্গুলের ছাপ ম্যাচিং করে সাবিনার পরিচয় শনাক্ত করা হয় বলে জানান গৌরনদী থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন।

ওসি আফজাল জানান, সাবিনার মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে শুক্রবার সে বরিশাল নগরীতে গিয়েছিলো। টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সাবিনার মাথার পেছনের দিকে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার লাশ গুম করতে ব্যারেলে লাশ ঢুকিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মুখমণ্ডলে শশ্রুমন্ডিত এক ব্যক্তি গড়িয়ারপাড় থেকে ভূরঘাটাগামী বাসের ছাদে ব্যারেলটি তুলে দেয়।

বাসটি ভূরঘাটা পৌঁছার পর মালিক দাবীদার কেউ ব্যারেল না নেওয়ায় বাসের শ্রমিকদের সন্দেহ হয়। বাসের শ্রমিকরা ব্যারেলের মুখ খুলে এক নারীর লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার দিনভর চেস্টার পর সন্ধ্যায় ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।

ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় থানার এসআই আব্দুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলা তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছেন ওসি আফজাল হোসেন নিজেই। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বরিশালের উজিরপুরে এক শিশুকে বলাৎকা‌রের অ‌ভি‌যো‌গে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উজিরপুর থানার ওসি জিয়াউল আহসান।

এর আগে সকালে ইমাম আবুল হাসান হাওলাদারের (৩১) বিরুদ্ধে উজিরপুর থানার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন শিশুটির মা।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে ওসি জিয়াউল জানান, উপজেলার দক্ষিণ বান্না জামে মসজিদে ইমামতির পাশপাশি মক্তবে শিশুদের আরবি শিক্ষা দেন আবুল হাসান হাওলাদার। এলাকার অন্য শিশুদের সঙ্গে ভোরে তার কাছে আরবি শিখতে যেত বাদীর ছেলে।

“শনিবার মক্তব থেকে বাড়ি ফিরলে তাকে বিমর্ষ দেখায়। খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ করে দেয় সে। কিন্তু পরিবারের কাউকে কিছু জানায়নি।”

ওসি বলেন, সন্ধ্যায় সে মাকে জানায়-মক্তব ছুটি হলে অন্য শিশুরা চলে গেলেও ইমাম আবুল হাসান তাকে যেতে নিষেধ করেন। পরে ইমামের কক্ষে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই ঘটনা কাউকে বললে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন আবুল হাসান।

এই ঘটনায় ছেলেটির মা সকালে থানায় অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বান্না গ্রাম থেকে ইমাম আবুল হাসান হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ওসি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশালের গৌরনদীতে যাত্রীবাহী বাসে ড্রামের ভেতরে পাওয়া নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। পঁচিশোর্ধ্ব নারীর সাবিনা বেগম। তিনি মুলাদী উপজেলার নাজিরপুরের বাসিন্দা কুয়েত প্রবাসী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। গৌরনদী পুলিশ একদিনের ব্যবধানে শনিবার নারীর পরিচয় নিশ্চিত হলেও হত্যারহস্য উন্মেচন করতে পারেনি। তবে এই খুনের ঘটনায় আরসি পরিবহনের চালক-হেলপারসহ তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার রাতে স্থানীয় ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে আরসি পরিবহনের বাস থেকে ড্রামভর্তি লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করেছে। এদিকে সকালে নারীর মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

গৌরনদী থানা পুলিশ বাস স্টাফদের বরাত দিয়ে জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসটি ভুরঘাটার উদ্দেশে রওনা দিয়ে আসলে পথিমধ্যে গড়িয়ারপাড় এলাকায় ড্রামটি নিয়ে এক ব্যক্তি ওঠেন। ভুরঘাটায় বাসটি পৌঁছানোর পরপরই সেই ব্যক্তি ড্রামটি ফেলে তড়িঘড়ি করে নেমে যায়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টাফরা ড্রামটির ভেতরে লাশটি দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে।

পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন মুঠোফোনে জানান, সুরতহাল রিপোর্টে ওই নারীর মাথার পেছনের দিকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ওই নারীকে হত্যা করে লাশ গুম করতে ড্রামে ঢুকিয়ে নিরাপদ কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, এমনটি ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন- এই খুনের নেপথ্য কারণ কী তা খুঁছতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। এবং ইতিমধ্যে প্রবাসীর স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু নারী কী ভাবে বরিশাল শহরে আসলেন বা কে তাকে নিয়ে এসেছেন এসব বিষয় অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’

বরিশালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ। এতে উভয়গ্রুপের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শহরের ভিআইপি গেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজের সামনে শনিবার বিকেলের এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত আনোয়ার হোসেন নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘাতে জড়ানো প্রদীপ দাস এবং ইয়াদের অনুসারীরা সকলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনুগত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলে প্রতিমন্ত্রী বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরে ভিআইপি গেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজের সামনে আকস্মিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হোসেন ইয়াদ এবং প্রদীপ দাসের অনুসারীরা। একপর্যায়ে উভয়গ্রুপের নেতাকর্মীরা সেখানে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দেয়। এসময় দুগ্রুপের সংঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা ইয়াদের অনুসারী আনোয়ার হোসেন (২৭) গুরুতর আহত হলে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এই সংঘাতের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ ও ইয়াদ একে অপরের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছেন।

ইয়াদের অভিযোগ, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তার ওপর প্রদীপ, বাকি এবং অপুসহ বেশ কয়েকজন হামলা করেছে। এসময় তাকে রক্ষায় আনোয়ার এগিয়ে গেলে আনোয়ার হোসেনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। পরে উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রদীপ দাস বলছেন, ছাত্রলীগ কর্মী বাকি প্রতিমন্ত্রীর রেস্ট হাউজে গেলে তাকে দেখে রেগে যান ইয়াদ। এবং এনিয়ে তার ওপর ইয়াদসহ তার অনুসারীরা চড়াও হলে তখন বাকির পক্ষ নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইয়াদসহ তার লোকজন হামলা করেছে। এসময় নিজেদের লোকে লাঠি দিয়ে পিটুনি দিলে আনোয়ার হোসেন নামের একজনের হাতে লাগে। কিন্তু এখন আইনি সুবিধা নিতে ইয়াদ তাদের ওপর হামলা অভিযোগ আনছেন।

তবে প্রতিমন্ত্রী সমর্থিত ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘাতের বিষয়ে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশে কিছুই জানেনা বা তাদের কেউ কিছুই বলেওনি। ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পিরোজপুরের কাউখালীতে মায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাত আরা তিথি এই দণ্ড দেন।

সাজাপ্রাপ্ত ওই যুবক হলেন কাউখালীর চিরাপাড়া পার-সাতুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ নিলতী গ্রামের মো.শাহাজাহান হাওলাদারের ছেলে চাঁন হাওলাদার (২২)। তাকে পুলিশের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে তারর মা হেলেনা বেগম মাদকাসক্ত ছেলের বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অভিযোগ করেন।

হেলেনা বেগম জানান, চাঁন অটোরিকশা চালাতেন। প্রায় তিন চার বছর বছর আগে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকের টাকার জন্য চাঁন প্রায়ই বাড়িতে অত্যাচার করতো। সম্প্রতি তার অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। শনিবার সে নিজের ঘরে ভাঙচুর চালায়। অতিষ্ঠ হয়ে কোনো উপায় না পেয়ে তিনি ও তার বড়ো ছেলে স্বপন হাওলাদার কাউখালীর ইউএনও’র কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন: গ্রামের সহজ সরল ছেলে থেকে যেভাবে জঙ্গি হলেন নাঈমুল ও কিরণ

ইউএনও মোছা.খালেদা খাতুন রেখা বলেন, অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষনিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জান্নাত আরা তিথি ও কাউখালী থানার পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। ভ্রাম্যমাণ আদালত বাড়ি গিয়ে চাঁনকে আটক করে। এ সময় তার কাছে দুই পিছ ইয়াবা ও মাদকদ্রব্য সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া যায়।

পরে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চাঁন মাদক সেবন ও অত্যাচারের কথা স্বীকার করেছেন।