শামীম আহমেদ :: বরিশালে পৃথকভাবে বিভিন্ন নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে যুবদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সকাল সাড়ে ১০ টায় বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক এইচ এম তছলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে নগরীর বগুড়া রোডস্থ চৈতন্য স্কুলের সামনে থেকে বিশাল বর্ণাঢ্য র‌্যালি বেড় করে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বরিশাল প্রেস ক্লাবে এসে শেষ করে।

পরে প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উপলক্ষে কেক কেটে বর্ষপূর্তি উদযাপন করে। এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, বরিশাল মহানগর বিএনপি সহ-সভাপতি মনিরুল আহসান মনির, সাবেক মহানগর সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক যুবদল মীর জাহিদুল কবীর জাহিদ, জেলা যুবদল সহ-সভাপতি খসরুল আলম তপন, সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন নাহিদ ও এ্যাড আজাদ হোসেন প্রমুখ।

অপরদিকে সকাল টায় ১১টায় অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে জেলা যুবদলের সভাপতি এ্যাড, পারভেজ আকন বিপ্লবের সভাপতিত্বে টাউন হল চত্বরে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন।

এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক সংসদ মেজবা উদ্দিন ফরহাদ, বিশেষ অতিথি দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাড, আবুল কালাম শাহিন, জেলা যুবদল সহ-সভাপতি মামুন রেজা খান, যুগ্ম সম্পাদক উলফৎ রানা রুবেল। এসময় অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন জেলা যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড, হাফিজ উদ্দিন বাবলু। পরে প্রায় তিন শতাধিক যুবদলের পক্ষ থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে কারাবরনকারী যুবদল নেতা ও কর্মীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা ছাড়াও দলের অসচ্ছল নেতা-কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সেলাই মেশিন ও নগদ আর্থিক সাহায্য করা হয়।

এছাড়া দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর যুবদল এক যুব সমাবেশের আয়োজন করে। এখানে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের যুবদলের সদস্যরা মিছিল সহকারে এসে যুব সমাবেশে অংশ গ্রহণ করে।

মহানগর যুবদল সভাপতি এ্যাড, আখতারুজ্জামান শামীমের সভাপতিত্বে এখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বক্তব্য রাখেন মহানগর যুবদল সাধারন সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল হাসান রতন, সাজ্জাদ হোসেন, এ্যাড. মাজহারুল হক জাহান।

জেলা যুবদলের সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লবের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাউদ্দিন ফরহাদ বলেন, বর্তমান সরকার ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আছে। যার কারণে দেশে এখন আর গণতন্ত্র নেই। তারা বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের জেলে দিয়ে নির্যাতন করছে। তাই যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মধ্যদিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশাল ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) কর্পোরেশন উন্নয়ন কাজে অনিয়ম দুর্নীতিসহ নানান সেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ এলাকাবাসীর আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে নগরীর উত্তর-পশ্চিম কাউনিয়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেখানে কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়ে কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিলে সমূহ সংঘাত-সহিংসতা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেই সাথে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। সংস্থাটির দুটি টহল গাড়ি এলাকাবাসীর প্রতিবাদ মানববন্ধন থেকে কিছুটা দুরত্বে থাকতে দেখা যায়। এর আগে আজকের মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকেই বিসিক এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয় কাউনিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মানববন্ধন কর্মসূচিতে যোগ দিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিসিকের সামনের উত্তর-পশ্চিম কাউনিয়া সড়কে হাজার হাজার লোক সমাবেত হতে থাকে। সমাবেশে অংশগ্রহণ করে উন্নয়ন কাজে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমানের সেচ্ছাচারিতার নানান অভিযোগ তুলে ধরে প্রতিকার চেয়ে সিটি মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সেই সাথে সিটি কর্পোরেশনের সড়কের ওপর বিসিকের নির্মাণাধীন প্রাচীর অপসারণ করতে কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এই মানবন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিসিক শিল্পনগরীতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুলিশ সদস্যরা হার্ডলাইনে অবস্থান নেয়। রাতে কাউনিয়া থানা পুলিশ সেখানে অবস্থান নিলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনার আলোকে সকাল আরও সদস্য মোতায়েন করা হয়। বলা চলে মানববন্ধনকারীদের চতুরদিক থেকে ঘিরে রাখে পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, ধারণা করা হচ্ছিল মানববন্ধকারীরা তাদের কর্মসূচি শেষে বা আগে প্রতিবাদস্বরুপ বিসিক নগরীতে প্রবেশ করতে পারে এবং এতে পরিবেশ জটিত হওয়ার সম্ভবনা আছে। এমন শঙ্কায় পুলিশ সদস্যরা সেখানে শক্তপোক্ত অবস্থান নেয়। এবং মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে নজর রাখে যাতে করে তৃতীয় কোন পক্ষ অঘটন সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে না পারে।

কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম জানান, মানববন্ধনকে ঘিরে তাদের সদস্যরা কঠোর অবস্থান নেয়। এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হওয়া পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় কোনো ধরনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

 

মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে বরিশালের হিজলার বদরপুরে নৌ পুলিশ সদস্যেদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় নৌ পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আবুপুর-হরিনাথপুর ভাসমান নৌ পুলিশ ইউনিট-১ এর উপ পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে হিজলার বদরপুর সংলগ্ন নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আকস্মিক সাত/আটটি নৌকা করে দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং টহল অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান টিমের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আকরাম হোসেন।

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ওই কলেজছাত্রী ও ধর্ষককে আটক রেখে পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের জোবারপাড় গ্রামের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় বাকাল গ্রামের নয়ন মণ্ডল নামে এক যুবকের। পরিচয়ের সূত্র ধরে নয়ন শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ওই কলেজছাত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যান। পরে জোবারপাড় ইটের ভাটা এলাকায় নয়ন কলেজছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনা দেখে ফেলে বাকাল গ্রামের বখাটে যুবক ইমু মিয়া, সুজন, সুমন মিয়াসহ পাঁচজন। পরে তারা ওই কলেজছাত্রী ও নয়নকে তুলে নিয়ে বাকালহাট একটি বিদ্যালয়ে আলাদা দু’টি কক্ষে আটকে রাখেন। সেখানে কলেজছাত্রীকে পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টা করেন তারা। পরে কলেজছাত্রীর ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে বখাটেরা পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে নয়নের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অন্য যুবকদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৈয়বুর রহমান জানান, দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। েওই কলেজছাত্রীকে মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এসআই তৈয়বুর।

 

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার গ্রাম অঞ্চলের সহজ সরল মানুষের আঁধার কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার প্রবল ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিদ্যুতের খাম্বা স্থাপনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের চিহিৃত এক দালাল।

চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত টাকা না দেওয়ায় হুমকি দেওয়া হচ্ছে অনেক পরিবারকে। ওই দালালের হাতে লাঞ্ছনার শিকারও হয়েছে এক গৃহবধূ। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে ছোট ডালিমা গ্রামে। চিহিৃত ওই দালালের নাম মো. মহসিন হাওলাদার (৩৫)।

তিনি ছোট ডালিমা গ্রামের মো. হানিফ হাওলাদারের ছেলে। নাজিরপুর ইউনিয়নের ছোট ডালিমা গ্রামে ২০টি পরিবার কাছ থেকে মিটারের ১০ হাজার এবং বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করতে দিয়ে হয় ৩০ হাজার টাকা নেয় মহসিন। চুক্তির টাকা না দিলে নেমে আসে হুমকি, লাঞ্ছনা। লাঞ্ছনার শিকার ছোট ডালিমা গ্রামের নুরনাহার বেগম নামের এক গৃহবধূ জানান, একটি খাম্বার জন্য মহসিনের সাথে ৩০ হাজার টাকা চুক্তি হয়। ২০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয় তাকে। তবে টাকা নেওয়ার ৩ মাসের মধ্যেও বিদ্যুতের খুটি দিতে পারেনি মহসিন। পরে অপর এক দালালের মাধ্যমে বিদ্যুতের খুঁটি পান তারা। তবে তারপরেও মহসিনকে বাকি ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। একই গ্রামের খলিল পেশকার বলেন আমার খামারে সরকারি ভাবে বিদ্যুতের খুঁটি দেওয়া হয়। তারপরও মহসিন টাকা দাবি করে হুমকি দিয়ে আসছে।

 

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে ৬ জনের ১০ বছর, ৪ জনের ৫ বছর ও ১ জনের তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় ৩ জনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার সময় জেলা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় দেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে জেলা শিশু আদালতে এ রায় পড়া শুরু করেন বিচারক মো. হাফিজুর রহমান।

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই বছর ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আসামি করা হয়।

গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। এরপর ১৩ জানুয়ারি থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত। মোট ৭৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এ মামলায়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। রায়ে নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দেন বিচারক। আর বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

বরিশালের উজিরপুরে দু’সন্তানের জননী এক গৃহবধু( ৪০) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের দোসতিনা গ্রামের শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা গৃহবধুর স্বামী স্থানীয় নারায়নপুর বাজারের সেলুন মালিক রবিন শীল জানান সোমবার দুপুরে তিনি বাড়িতে এসে দেখতে পান ঘরের বারান্দার মেজেতে ফেলে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করছেন একই বাড়ির বাদল শীল। এসময় তার উপস্থিতি টের পেয়ে লম্পট বাদল দৌড়ে পালিয়ে যায়। তিনি এসময় ভুল বুঝতে পেরে স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে স্ত্রী তাকে জানান ঘরে একা থাকার সুযোগে বাদল শীল এসে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ প্রসঙ্গে ধর্ষিতা গৃহবধু মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান সোমবার দুপুরে তাকে ঘরে একা পেয়ে একই বাড়ির মামা সম্পর্কীয় বাদল শীল ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বাদল শীল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের ঝালকাঠিতে শ্বশুরালয়ে বেড়াতে পাঠিয়ে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) জিয়াউল আহসান বলেন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে লম্পট ওই ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

লিটন বাইজিদঃ বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর ইছাপুরা গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী জাকিয়া বেগম (৩৫) এর সাথে একই বাড়ির বাবুল(২৫) নামের এক যুবকের সাথে অবৈধ মেলামেশার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সূত্রে সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায় চরমোনাই ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের হাওলাদার বাড়ির গৃহবধূ জাকিয়া বেগমের সাথে দীর্ঘ দুই বছর যাবত একই বাড়ির বাবুল হাওলাদার নামের এক যুবকের সাথে অবৈধ সম্পর্ক চলছিল। বিগত ছয় মাস আগে স্থানীয় লোকজন কর্তৃক তাদের হাতেনাতে ধরে ফেললে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সালিশির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়। তারপর অভিযুক্ত বাবুলকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেয়া হয় যে সে কোনভাবেই জাকিয়া বেগম এর সাথে কোন ধরনের সম্পর্ক না রাখে। কিন্তু প্রেমের টানে বাবুল আবারো ছুটে যায় ঐ নারীর কাছে এবং ওই নারীও তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক বিদ্যমান রাখে। পরে বিগত কোরবানির সময় বিষয়টি আবারো জানাজানি হলে মহিলার স্বামীর সাথে এই বিষয়টি নিয়ে তার সাথে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে জাকিয়া বেগম কে তার স্বামী ১৪ ই অক্টোবর জাকিয়া বেগমকে ডিভোর্স দেয়। পরে দিশেহারা হয়ে মহিলা বাবুলের কাছে ছুটে গেলে বাবুল জাকিয়া বেগমকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। তথ্যসূত্রে আরো জানা যায় অভিযুক্ত বাবুল জাকিয়া বেগম এর তিন মাসের একটি গর্ভের সন্তান নষ্ট করে, ব্যাবসার কথা বলে জাঁকিয়ার কাছ থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ধার বাবদ নেয়। জাকিয়া বেগমের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে যে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। জাকিয়া বেগমের বাবা মা কেউ নেই সে এখন মানবেতর জীবনযাপন পার করতেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় ভুক্তভোগী জাকিয়া বেগম একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

ঝালকাঠির রাজাপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরে ভিকটিম শিক্ষার্থীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে বলাৎকারের ঘটনা ধামা চাপা দিয়ে স্থানীয় মেম্বার এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে ম্যানেজ মিশনে নেমেছেন বলে অভিযুক্ত রাজাপুরের নাড়িকেল বাড়িয়া কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক রহমত উল্লাহ্’র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ভিকটিম মাদ্রাসা ছাত্র’র পরিবারকে তিনি হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এর শিক্ষক কর্তৃক বলাৎকারের শিকার শিশুটি গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসা থেকে পারিয়ে যায়। পরে সে মাদ্রাসার অদূরে একটি চায়ের দোকানে গিয়ে ঘটনাটি খুলে বলে।

এ খবর জানতে পেরে শিক্ষক রহমত উল্লাহ স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নূরে আলমসহ স্থানীয় কয়েকজন লোক নিয়ে সেখানে হাজির হয়। এসময় তারা ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য শিক্ষার্থীর পরিবারকে হুমকি দেয়।

তবে শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে শিশুর পরিবারকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নূরে আলম। এমনকি বলাৎকারের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবিও যোগ করেন তিনি।

স্থানীয় শুকতাঘর নারিকেল বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজল মোল্লা বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে যেটা ঘটেছে সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় অপরাধী যেই হোক তার শাস্তি হওয়া উচিত।

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ধরনের কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। ভিকটিম বা তার পরিবারের কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ উপ- নির্বাচনে কারচুপি ও জালিয়াতির প্রতিবাদে এবং পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা ও মহানগর বিএনপি।

তবে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে সদর রোডে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ নিয়ে পুলিশের সাথে কিছু সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায় বিএনপির মিছিল পন্ড হয়ে যায়।

এর আগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে আজ সোমবার সকাল ১১ টায় নগরীর সদর রোডস্থ বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বরিশাল উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি।

সমাবেশে প্রধান অতিখির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, বর্তমান অবৈধ ভোটার বিহীন সরকার বাংলাদেশকে ধর্ষনের রাষ্ট্রে পরিনত করেছে। সর্বত্র এখন ধর্ষনের মহাউৎসব চলছে।

তিনি বলেন, সরকার দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রজাতন্ত্রের পুলিশ বাহিনীকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে তাদেরকে আওয়ামী লীগের বাহিনীতে পরিনত করে মানুষর বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। একের পর এক নির্বাচনে কারচুপি করে নিজেরা ক্ষমতা দখল করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের লুটপাটের কারণে দেশের নিত্যপণ্যের দাম এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। তাই এখন থেকে এদেশের মানুষর গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য সকলকে এক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ সরকার হটিয়ে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব এবায়েদুল হক চাঁনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি মেজবা উদ্দিন ফরহাদ, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিন, কোতয়ালী বিএনপি’র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন লাবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপি দপ্তর সম্পাদক আলহাজ মন্টু খান, উত্তর জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক এ্যাড, নুরুল আলম রাজু,

দক্ষিণ জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক এ্যাড, এইচ এম তছলিম উদ্দিন, বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাক জে.এম আমিনুল ইসলাম লিপন, সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক জাবের আব্দুল্লাহ সাদি, দক্ষিণ জেলা মহিলাদল সভাপতি অধ্যাপক ফারহানা তিথি, উত্তর জেলা মহিলাদল সভাপতি শায়লা শারমিন মিমু, বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম আতায়ে রাব্বি, জেলা ছাত্রদল সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন প্রমুখ।

এদিকে একই দাবিতে বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বরিশাল মহানগর বিএনপি। মহানগর বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রুনু সরদারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আকবর হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আনয়ারুল হক তারিন, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন, মহানগর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফয়েজ আহমেদ খান, মহিলাদল নেত্রী ফাতেমা-তুজ-জোহরা মিতু প্রমুখ।