নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ||
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মতাশা এলাকার সাপানিয়া এলাকায় বালু তোলার কাজে নিয়োজিত এক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্সধারী ছাদ্দাম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালি উত্তোলনের কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের দাবি, বিএনপি হেভিওয়েট নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত কোটন, আবেদ, নোমান, আলতাব, তাবিব ও মিলন নামের কয়েকজন তাদের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিলো। এর আগেও বিসিক এলাকায় বালি ফেলার সময় অভিযুক্তরা তাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছিল। সম্প্রতি মতাশার এলাকায় পুনরায় কাজ শুরু হলে তারা আবার চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় গতকাল রাত ৯টার দিকে দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে ড্রেজার পাইপসহ যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ছয় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৃত ব্যক্তির নাম দিয়ে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার আসামি চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শাহ আলম চুন্নু প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এরপরও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
শাহ আলম চুন্নু বরিশাল সদর উপজেলা ১০ নং চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের সুবিধাভোগী দোষর ও ৩নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য। দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন করে তার রাজনৈতিক পরিচয়। আওয়ামী লীগের সময় বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম জাকিরের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন সময়কালীন উপজেলা রাজনৈতিক কমিটির সমন্বয়ক ছিল দুর্নীতিবাজ ও প্রতারক শাহ আলম চুন্নু। বর্তমানে হয়ে গেছে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। নিজের অপরাধ ও দুর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য বিএনপির নাম ব্যবহার করে চলছে। তবে বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ বিষয়টির ব্যাপারে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন।
ইউপি সদস্য থাকা কালীন সময়ে গত বছর খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল চুরির অভিযোগ স্মারক নং-৪৬.০০.০৬০০.০১৭.০০৩.২০-১৫৬ আদেশ বলে ইউপি সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ শাখার সহযোগিতা ও হাই কোর্টের রিটপিটিশনের মধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, তার পিতা ডিলার ইউসুফ আলী সিকদার চাল চুরির অভিযোগে ডিলার শিপ থেকে বহিস্কার হওয়ার পরে হাই কোর্টে রিট পিটিশনের মাধ্যমে ফের ডিলার শিপের দায়িত্বে আছেন। প্রকল্প আত্মসাতের প্রমাণিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অন্ধকারে পরে আছে। দুদকের করা মামলা চলমান থাকা কলীন সময়ে ফের অর্থ বছরে তিনটি প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে কমিটি দিয়েছে, চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের সার্বিক সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী অফিসে। এমনকি গত বছর রাস্তার নাম দিয়ে প্রকল্প নিয়ে কাজ না করে, বিল উত্তোলণ করা রাস্তা ফের চলতি বছরে ওই রাস্তায় প্রকল্প দিয়েছে দুর্নীতিবাজ ইউপি সদস্য শাহ আলম চুন্নু।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সিদ্ধ হস্ত সচিব মোঃ মেহেদী হাসান অনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতা ও সমর্থনের অভিযোগ উঠেছে।
মৃত ব্যাক্তির নামে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, সাহেবেরহাট শাখায় হিসাব নং-০৩৩১৯০১০১৫৪০৫ থেকে শ্রমিক মজুরি বাবদ প্রতারণার আশ্রায়ে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও অপরাধমূলক অসদাচরনের মাধ্যমে চেক/ভাউচারে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের সতত্যা পেয়ে গত বছর তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সমম্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মনিরুন নেছা।

মামলার এজাহারের তথ্য মতে, মো. শাহ আলম (চুন্নু) দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত মামলায় শ্রমিক মজুরি বাবদ ১৪ হাজার ৫শত টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি মো. শাহ আলম (চুন্নুর) বিরুদ্ধে ইজিপিপি প্রকল্পের শ্রমিক আবু সুফিয়ানের মৃত্যুর পর তার নামীয় সোনালী ব্যাংক পিএলসি সাহেবের হাট শাখা থেকে প্রতারণার আশ্রায়ে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও অপরাধমূলক অসদাচরনের মাধ্যমে চেক/ভাউচারে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাত দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০ তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুনীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে বর্ণিত ধারায় মামলা রুজু হয়।

দুদকের আইনজীবী বিপ্লব কুমার রায় বলেন, ‘দুদকের করা মামলা অজামিনযোগ্য। শাহ আলম চুন্নুর বিরুদ্ধে মৃত্যুর ব্যক্তির নামে ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদক যদি মনে করে তবে তাকে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করতে পারে। এক্ষেত্রে দুদক চাইলে পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারে।’
মামলার পরও শাহ আলম চুন্নুকে গ্রেপ্তার করা হয়নি জানতে দুদকের সমম্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহপরিচালক মনিরুন নেছার সঙ্গে একাধিক বার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে উপ-পরিচালক এইচ.এম আখতারুজ্জান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনি আদালতে আমাদের মামলার কপি দিয়ে আরও একটি মামলা করেন।
দুদকের মামলার বিষয়ে পরিচালক মোঃ মোজাহার আলী সরদার বলেন, আপনি বিষয়টি উপ-পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করেন।
সম্প্রতি দুর্নীতিবাজ ইউপি সদস্য শাহ আলম চুন্নু টিসিবি ডিলারশিপের জন্য শিকদার ট্রেডার্স প্রোপাইটার তার স্ত্রী মোসা: হাসিনা বেগমের নামে আবেদন করে টিসিবির কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরিত চিঠিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।
উপজেলা পরিষদের সূত্রমতে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সার্বিক সহযোগিতা ও চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের জোরালো সুপারিশের পরিপেক্ষিতে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ এবং বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মচারী সিকদার ট্রেডার্স এর প্রোপাইটার মোছাঃ হাসিনা বেগম প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী না হওয়া সত্ত্বেও মিথ্যা তথ্য সমৃদ্ধ প্রতিবেদন টিসিবির প্রধান কার্যালয় প্রেরণ করেন।
তবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে টিসিবি সূত্র দাবি করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ আলম চুন্নুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে দুই একটি বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক । বরিশাল সদর উপজেলার তালতলি বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা এখনও কোণঠাসা প্রভাবশালীদের দাপটে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের শাসনামলে যারা প্রভাব খাটিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন, তারা এখন খোলস পাল্টে বিএনপির অনুসারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এক বছর তিন মাস পার হলেও এসব নেতার প্রভাব এখনও বাজারে অটুট রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পলাতক বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা এখনও তালতলি বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক খাজনা আদায় অব্যাহত রেখেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও এসব প্রভাবশালী নেতা ও তাদের অনুসারীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ওই গোষ্ঠীর নেতা কালু সিকদার ও তার অনুসারীরা উপজেলা বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম আব্বাস আকন—এর সঙ্গে ফুলের তোড়া দিয়ে দেখা করে নিজেদের বিএনপি অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এমনকি কেন্দ্রীয় বিএনপির এক নেতার হাতেও ফুল দিয়ে ‘নতুন পরিচয়ে’ আত্মপ্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কালু সিকদার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক সিটি মেয়র ও সাংসদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার সঙ্গে থাকা মিরাজ, মজিবুর, নাইম, সেলিম, সবুজ, লোকমান, নিজাম, ইয়ারসহ অর্ধশতাধিক সহযোগী তালতলির মাছ ব্যবসা থেকে চাঁদা আদায় করতেন। বর্তমানে তাদের মধ্যে কয়েকজন আত্মগোপনে এবং কয়েকজন কারাগারে রয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিএনপি নেতা বলেন,“ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর টাকার জোরে ও ফুলের রাজনীতির আশ্রয় নিয়ে কালু এখন বিএনপির কাঁধে ভর করেছে। অথচ এদের হাতেই আগে বিএনপি–জামায়াতের অনেক কর্মী হয়রানির শিকার হয়েছেন।”
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ নুরুল আমিন। তিনি বলেন,“আমার জানা মতে আওয়ামী লীগের কেউ আমাদের সঙ্গে চলতে পারে না। যদি এমন কেউ থেকে থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম আব্বাস আকন এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন,আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি, পরে কথা বলব।”

 

বরিশাল প্রতিনিধি ॥ বরিশালে কর্মরত ৩৫টি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (সোমবার) দুপুর ২টায় বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোঃ দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং। এসময় উপস্থিত ছিলেন ৩৫ সংগঠনের নেতা সিনিয়র সাংবাদিক মামুনুর রশীদ নোমানী,শেখ শামিম,তরিকুল ইসলাম,এস এম আলামিন,বেলাল সিকদার,এস আলালসহ অর্ধ শতাধিক সাংবাদিক।
মতবিনিময় সভায় বরিশালের সংবাদমাধ্যম অঙ্গনের বিভিন্ন সমস্যা, তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, পেশাগত নিরাপত্তা, সাংবাদিকদের কল্যাণ ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। প্রশাসন ও গণমাধ্যম একসাথে কাজ করলে সমাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।”
সভায় উপস্থিত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার, তথ্যপ্রবাহে সহজতা এবং সংবাদপেশার মানোন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

‘বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি’র একজন সহযোগী সদস্য পদত্যাগ করেছেন। ৯ নভেম্বর রোববার সরকারি ডাকযোগে তিনি এই পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। পদত্যাগকারী সহযোগী সদস্যের নাম এম সাইফুল ইসলাম। তিনি দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এবং বরিশাল বাণী ডটকমের বার্তা সম্পাদক পদে কর্মরত।
পদত্যাগপত্রে এম সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ১ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোন কারন ছাড়াই বিআরইউর সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ ফোন দিয়ে আমাকে ভৎসনামূলক কথাবার্তা বলেন। তার কথা মত না চললে সদস্য পদ ‘বক কাটা’ যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরদিন আমি সহযোগি সদস্য পদ থেকে অব্যাহিত চেয়ে একটি আবেদন নিয়ে বিআরইউতে যাই। এ সময় সাধারণ সম্পাদক আমার অব্যাহতির আবেদনপত্রটি রাখেননি। আমি তাকে রাখার জন্য অনুরোধ করলে তিনি আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং বের হয়ে যেতে বলেন। এতে উপস্থিত সদস্যদের সামনে আমি অত্যন্ত অপমানিত ও লজ্জিত বোধ করেছি। তাই অব্যাহতির আবেদনপত্রটি সরকারি ডাক যোগে পাঠিয়েছি। এদিকে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের একজন ব্যুরো প্রধানকে সহযোগী সদস্য পদ থেকে কোন মিটিং, কারণ দর্শানো ও তদন্ত ছাড়াই অগঠণতান্ত্রিকভাবে অব্যাহতিপত্র পাঠানো হয়। যাতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাংবাদিক সমাজে। এ ঘটনায় বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন উদ্বেগ জানিয়ে বিষয়টির লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআরইউর একজন সিনিয়র সদস্য।

ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি-নলছিটি) আসনে বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা (ইলেন) দলের এক নেতার বাসায় শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে সঙ্গে নিয়ে শহরের মহিলা কলেজ রোডে সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেনের বাসায় যান। ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে সেখানে প্রশ্ন তোলেন উপস্থিত নেতা-কর্মীরা।

ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনীতিতে এ নিয়েওই ভিডিওতে দেখা যায়, শাহাদাৎ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসরাত সুলতানার উদ্দেশে বলেন, দলের দুঃসময়ে যাঁরা নির্যাতিত হয়েছেন, তাঁদের পাশে ছিলেন না ইলেন ভুট্টো। বরং মনোনয়ন পেয়ে তিনি এমন এক প্রার্থী হয়েছেন, যাঁকে দেখে আওয়ামী লীগের নেতারাই বেশি খুশি।

শাহাদাৎ হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না। কিন্তু দলের দুঃসময়ে যেসব নেতা-কর্মী জেল খেটেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের আপনি জনসংযোগে পাশে রাখুন। নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর রাখুন।’ এ সময় ইসরাত সুলতানাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখা যায়।এরপর গতকাল দুপুরে ইসরাত সুলতানা নেছারাবাদ কায়েদ সাহেব হুজুরের কবর জিয়ারত শেষে গণসংযোগ ও ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।

গত বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জিয়া হায়দার (স্বপন), দলটির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও একই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য জীবা আমিনা আল গাজীর রাজধানীর বাসায় দেখা করে দোয়া চান ইসরাত সুলতানা। তাঁদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় জীবা আমিনা আল গাজী এক-এগারোর সময় সংস্কারবাদী হিসেবে ইসরাত সুলতানার সমালোচনা করেন। তিনি ইসরাত সুলতানাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কোন আন্দোলন-সংগ্রামে দলের নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন? ২০১৮ সালে আপনি দলের মনোনয়ন পেয়েও কেন নির্বাচন করলেন না? সে সময় আমি বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের হামলার শিকার হয়েছি।’এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণার আগে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর পক্ষে নেতা-কর্মীরা প্রচার চালিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি ইসরাত সুলতানাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরাত সুলতানা বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি সবার সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচন করার। আমার প্রত্যাশা বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন দিয়ে বিপুল ভোটে আমাকে বিজয়ী করবেন। দলীয় কাউকে আমার প্রতিপক্ষ মনে করি না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে সবাই সম্মিলিতভাবে দল ও দেশের স্বার্থে মাঠে নেমে পড়বেন। আমি সবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।’

 

নলছিটিতে ওজোপাডিকোর আবাসিক প্রকৌশলীর খাম্বা বাণিজ্য : অতিষ্ঠ জনতা।

ঝালকা‌ঠির নলছিটিতে ওজোপাডিকোর আবাসিক প্রকৌশলী মো. সোহেল রানার খাম্বা বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় তিনি প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খুঁটি সরবরাহে অনিয়ম ও বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরজাগুয়া এলাকার বাসিন্দা বাকি মৃধার কাছ থেকে তিনটি বৈদ্যুতিক খুঁটি দেওয়ার কথা বলে ৫১ হাজার টাকা নেন প্রকৌশলী সোহেল রানা। কিন্তু বাস্তবে তিনি দিয়েছেন মাত্র দুটি খুঁটি। বাকি একটি খুঁটি অবৈধভাবে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় সরবরাহ করা হয়েছে যা তার দায়িত্ব ও এখতিয়ার বহির্ভূত।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে কয়েকজন চিহ্নিত দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে তিনি খুঁটি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহের নামে অনিয়ম ও অবৈধ আর্থিক লেনদেন করে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবাসিক প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা সাংবাদিকদের বলেন, “লাইনের বিষয় আমি কিছু জানি না, জেনে জানাতে পারবো,” বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থেকে তার এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ সাধারণ গ্রাহক ও স্থানীয় জনগণ। তারা দ্রুত তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 

 

আসাদুজ্জামান শেখ//বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কলস গ্রামে সাবেক প্রেমিকার মোবাইলে প্রেমিকের গোপন তথ্য থাকায়,চক্রান্ত করে তুলে এনে বন্ধুর বাসায় ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ধর্ষিতা নারী মরিয়ম আক্তার নিশী (ছদ্মনাম) ।

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়,বরিশালের লাকুটিয়া এলাকার ফারুকুল ইসলাম এর ছেলে অন্তু (৩০) সাথে উজিরপুর উপজেলার মরিয়ম আক্তার নিশী নামের একটি মেয়ের অনলাইনে সম্পর্ক হয়।কিছুদিন পরে নিশী জানতে পেরে ছেলেটির চরিত্র ভাল নয়,মাদকাসক্ত ও লম্পট।এমন তথ্য জানার পরে নিশী সম্পর্ক ছিন্ন করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।কিন্তু অন্তু ভিবিন্ন ভাবে নিশীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।

বরিশালের আলোচিত-সমালোচিত ল্যাডি টিকটকার মারিয়া আক্তারকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে। মারিয়া অন্তুর সোর্স হিসেবে নিশীর সাথে ফেইসবুকে বন্ধুর সম্পর্ক তৈরী করে।গত ৪ নভেম্বর মারিয়া অন্তুর হৃদয় উজিরপুর জান। হৃদয়ের বাসা কাশিপুর ইউনিয়নের কলস গ্রামে। নিশীর উজিরপুরের বাড়িতে গিয়ে মোবাইল করে অনুষ্ঠানের কথা বলে বাসা বের হতে বলেন মারিয়া।

নিশী বের হলে মারিয়া,অন্তু ও রিদয় মিলে ছক করে বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন কাশিপুর ইউনিয়নের কলস গ্রামের অন্তুর বন্ধু রিদয়ের বাসায় আটকে রেখে মারধর করে,এবং কৌশলে নেশা খাইয়ে দেয়া হয় ও ধর্ষণ করে।
পরের দিন ৫ ই নভেম্বর দুপুরের দিকে ধর্ষণের শিকার মেয়েটি সুজোক বুজে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী এয়ারপোর্ট থানায় এসে অভিযোগ করেন।

এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন মহিলা পুলিশ দিয়ে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে মামলা রুজু করতে বলেন এবং আসামীদের গ্রেফতার করার আদেশ দেন।যার মামলা নং ০৯/০৫নবেম্বর ২৫।
অভিযোগকারী মেয়ে মরিয়ম আক্তার নিশীকে সাথে নিয়েই বিমানবন্দর থানার এস আই আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযানে নামে।প্রথমে ভিকটিমের তথ্য অনুযায়ী অন্তুর বন্ধু ও যেই বাসায় ধর্ষণ করা হয়েছে সেই বাসা থেকে রিদয়কে গ্রেফতার করেন,পরে রিদয়ের স্বীকারোক্তি অনুসারে অন্তুকে হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা হতে গ্রেফতার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যতম সদস্য মারিয়া আক্তার এখনো পালাতক রয়েছে।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,নিশী নামের একটি মেয়ে থানায় এসে ধর্ষণ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন,আমরা ঘটনাটি আমলে নিয়ে মামলা নেই,এবং ধর্ষক সহ দুইজন আমরা গ্রেফতার করি এবং এর সাথে জড়িত অপর একজন মারিয়া আক্তারকেও গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ বিষয়ে ভিকটিমের এক ভাই(কাজিন) তুষার জানান,অন্তু নামের ছেলের পুর্বে এক স্ত্রী ও সন্তান আছে,একাধিক মামলার আসামি। সেই স্ত্রীর সাথে ডিভোর্স হয়ে যায়।ডিভোর্স হয়ে যাওয়া স্ত্রীর খোজ এবং সন্তানের কাছে যেতে নিশীর সাথে পরিচয় হয়,এবং নিশীও ডিভোর্স প্রাপ্ত জেনে সেই সুজোক কাজে লাগিয়ে ভিবিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিশীর সাথে সম্পর্ক করেন অন্তু।নিশী যখন জানতে পারে অন্তু একজন মাদকাসক্ত তখন অন্তুর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।তখন অন্তুর একটি গোপন ভিডিও নিশীর মোবাইলে ধারন করা ছিলো।সেই গোপন ভিডিও নেওয়ার জন্য এত পরিকল্পনা করে নিশীকে তুলে আনে,এবং ধর্ষণ করে।

এ বিষয়ে অন্তুর বন্ধু রিদয়ের মা জেসমিন বেগম জানান,ঘটনার দিন তিনি এবং তার ছোট ছেলে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলো।ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না,তবে তার ছেলে ধর্ষনের সাথে জড়িত নন বলে দাবী করেন রিদয়ের মা।
এদিকে ধর্ষকদের ছারাতে বেশ কয়েকটি মহল ভিবিন্ন ভানে তদবির চালাচ্ছে।সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারনে তাদের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।

এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন আসামীদের সকালেই চালান করে দেওয়া হবে।এটা সমাজের জন্য একটা বেদী। কোন অসাধুচক্রকে তদবির কিংবা ছারানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভিকটিমকে শেরই বাংলা মেডিকেলে ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে মেডিকেল টেষ্টের জন্য।এবং আসামীদের ডিএন এ টেষ্ট করানো হবে,যাদের প্রমান মিলে যাবে তাদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যাবস্থা নিবেন বলে জানান ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

 

বরিশালের নীরব পাড়ায় শান্তিময় এক বারান্দা। সেখানেই বসে পর্দাশীল, স্বল্পশিক্ষিত মেহেরুন্নেছা তার জীবনের সঞ্চয় হারানোর কথা বলতে গিয়ে চোখের কোণা ভিজিয়ে ফেলেন। ছেলের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন, মেয়ের ভবিষ্যৎ, বয়সের শেষভাগে নিশ্চিন্ত জীবন। সব মিলিয়ে একটুকরো আশ্রয়ের মতো ছিল প্রায় আটষট্টি লাখ টাকা। সেই টাকা তিনি বিশ্বাস করে বড় কর্মকর্তা মনে করে জমা রাখেন বরিশাল ডাক বিভাগের আর্মগার্ড আলাউদ্দিন শিকদার ও তার সহকর্মী শহিদুলের হাতে। যদিও এই চক্রের কাজই এমন যে,তারা সিভিল পোশাখে চলতেন একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার মতই।

অভিযোগ অনুযায়ী, নিজেদেরকে কর্মকর্তা ও সহকারী পোস্ট মাস্টার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতেন তারা। মেহেরুন্নেছা জানান, তিনি ব্যাংকে যেতে জানতেন না, আর পর্দাশীল হওয়ায় সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে লেনদেনও করতেন না। আলাউদ্দিন ও শহিদুলই বারবার আশ্বস্ত করেন, তার নামে একাউন্ট খোলা হয়েছে, টাকা নিরাপদে জমা থাকছে।

“তারা আমার ছেলে-মেয়ের নামেও একাউন্ট খুলে দিয়েছে বলে বলত। আমি বিশ্বাস করেছি। এত টাকা হাতে হাতে দিতে আমারও ভয় হতো। কিন্তু তারা বলত, আমরাই সব করি,” বলেন মেহেরুন্নেছা।

প্রমাণ হিসেবে তার কাছে রয়েছে আলাউদ্দিন শিকদারের হাতের লেখা হিসাবের কাগজ এবং ভয়েস রেকর্ড যেখানে অভিযোগকারী দাবি করেন, আলাউদ্দিন টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন সাক্ষীদের সামনে। ভুক্তভোগীর ছেলে ইব্রাহিম মুন ও মেয়ে শারীকা মোস্তফাও ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন এবং মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সংবাদকর্মী, মানবাধিকার কর্মীদের সামনেই আলাউদ্দিনের ফোনের কথা লাউড স্পিকারে সরাসরি শোনান ভুক্তভোগী।

এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব চলছে এবং ডাক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তিনজনের নামে কোনো একাউন্ট খোলা হয়েছে কি না ও করলে তার স্টেটমেন্ট চেয়ে আবেদন দেওয়া হয়েছে ভুক্তভোগীর । লক্ষ্য একটাই: আটষট্টি লাখ টাকা কোথায় গেল, কিভাবে গেল এবং কাদের হাতে গেল তা সরকারি নথিতে পরিষ্কার করা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন সরকারি অফিসে কর্মরত ব্যক্তি পরিচয়ের সুবিধা নিয়ে অসহায় মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। “বিশ্বাসের দেয়ালটাই ভেঙে গেছে,” বললেন এক প্রতিবেশী।

বরিশাল ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত আলাউদ্দিন শিকদার মেহেরুন্নেছাকে ফোন দিয়ে অনুরোধ করেন বিষয়টি চেপে যেতে আগামী রবিবার সব টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে।

মেহেরুন্নেছা শুধু টাকা চান না, চান বিচার। “টাকা গেছে, কিন্তু ইজ্জতও গেছে। আমাকে বোকা ভাবা হয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি সত্য যেন প্রকাশ পায়,” বলেন তিনি।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আলাউদ্দিন টাকা,বই কিছুই ফেরত দেননি ভুক্তভোগীকে।

 

বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয়ে ৩ ভাইয়ের রাজ্যের অঘোষিত রাজা।বরিশালের সাবেক বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ কর কর্মকর্তা নেফাউল ইসলাম সরকারের দোসর মোঃ রতন মোল্লা।স্টেনো টাইপিস্ট পদে কর্মরত।তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হলেও নিজ স্বার্থ আদায়ে কর কমানো -বাড়ানোসহ তদবির ও সুপারিশের মাধ্যমে করের যাবতীয় কার্য্যক্রম সম্পন্ন করেন।এক সময়ের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী কর বিভাগে স্টেনো টাইপিস্ট পদে চাকুরী লাভের পরেই ভাগ্য খুলে যায়। এখন তিনি অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক,বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর, কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র,জায়গা-জমি,বহুতল ভবনের মালিক।আলাদিনের চেরাগও যেন হার মানিয়েছে রতন মোল্লার কাছে।এখন তিনি একজন ধনকুব।সহায়-সম্পদে ছুয়েঁছেন পাহাড়।

রতন মোল্লার বিরুদ্ধে কর কমিশনার ও এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হলেও রহস্যজনক কারনে নেয়া হয়নি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা। ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তারদের করের ফাইল আটকিয়ে জিম্মী করে অনৈতিকভাবে ঘুস আদায় করাই যেন রতন মোল্লার পেশা।তিনি কাউকে থোরাই কেয়ার করেন না।ঘুস আদায়ে বেপরোয়া । কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলার কারনে একজন প্রিয় কর্মচারীতে পরিনত হয়েছেন বরিশাল কর বিভাগে।একই কর্মস্থলে সার্কেল -২ ও সার্কেল -৮ এ রয়েছেন ১০ বছর।সকলের বদলী হলেও রতন যেন কর ভবনের স্থায়ী কর্মচারী।তার বদলী না হওয়ায় কর বিভাগের সকলেই বিস্মিত।

কে এই রতন মোল্লা :

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয় সার্কেল-৮ এ স্টোনো পদে মোঃ রতন মোল্লা চাকুরী নেয়ার পূর্বে বরিশাল নগরীর সদর রোড সংলগ্ন বাটার গল্লির একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকুরী করতেন। এ সময় তিনি জমির দালালিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। কর বিভাগে চাকুরী হবার পরও পূর্বের অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। বরিশাল পূর্ব বগুড়া রোড ‘সাউথ ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানে শেয়ার রয়েছে।

যেভাবে জড়িয়েছে দুর্নীতিতে :

রতন মোল্লা।স্টোনো টাইপিস্ট পদে থাকায় অফিসের নির্দেশে তার দায়িত্ব বিভিন্ন ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ডাক্তারদের কর এর তালিকা করার। তালিকা অনুযায়ী রতন মোল্লা সকল ডায়াগনস্টিক ,ক্লিনিক থেকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। বরিশালের ছোট-বড় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তারদের আয়ের অনুকূলে কর দেয়ার সঠিক তালিকা করেন না। অফিসের বড় বড় ফাইলের ট্রাক্স কমানো, অডিটের কথা বলে ব্যবসায়ীদের হয়রানী, কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বদলি বাণিজ্য করাই যেন তার পেশা । বরিশালে কর অফিসে রতনকে অর্থ দিলে নিয়মের কাজ অনিয়মে হয়, আবার অনিয়মের কাজ নিয়মে হয়। দীর্ঘদিন ধরে একতরফাভাবে এ সব কার্যক্রম করে আসছেন রতন মোল্লা। একাধিক স্থানে ক্রয় করেছেন জমি, হয়েছেন ভবন মালিক।

রতন মোল্লার যত সহায় সম্পদ :

কর অফিসে তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হয়েও রতন মোল্লার সম্পত্তি আকাঁশছোঁয়া।তিনি বরিশাল নগরীর সাউথ ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিক,গ্রামের বাড়ি চরফ্যাশনে ৫ একর জায়গা ক্রয় করেছেন। বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডে ২ কোটি টাকা দিয়ে জায়গা ক্রয় করেছেন। সেখানে ৫ তলা ভবন নির্মাণাধীন। এছাড়া চরফ্যাশন শহরে একটি দ্বিতল ভবনের কাজ নির্মাণাধীন। রতন মোল্লা সার্কেল -২ ও সার্কেল-৮ এই দুই সার্কেলে কর্মরত থাকাকালিন কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । যার বড় অংশ অফিসারদের দিয়ে বাকি অংশ নিজে নিয়েছেন। তিনি তার শ্বশুর বাড়ি ভোলায় শ্বশুর এবং শ্বাশুড়ির নামে ১ কোটি টাকায় ৩০ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেছেন। অজপাড়াগায়ের কৃষক বাবার সন্তান স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লার চালচলন যেন মস্তবড় অফিসার। বরিশাল সোনালী ব্যাংক এর কর্পোরেট শাখা, সিএন্ডবি রোড শাখা, জনতা ব্যাংক-বাংলা বাজার শাখায় তার ২ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। নিজ ও স্ত্রীর নামে ১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে।কর আইনজীবীদের থেকে করদাতাদের ফাইল নিয়ে তিনি ঢিল করেন।কর বিভাগে তিনি একজন অঘোষিত কর আইনজীবীও।

রতন মোল্লার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ :

মোঃ রতন মোল্লা। একজন স্টেনো টাইপিস্ট, যিনি বর্তমানে সার্কেল-৮ কর অঞ্চল বরিশালে কর্মরত। ২০১৩ সালে নিয়োগের পর থেকে তিনি একমাত্র স্টেনো-টাইপিস্ট যিনি বরিশালের সার্কেল-২ এবং সার্কেল-৮ ব্যতীত অন্য কোনো সার্কেলে চাকুরি করেননি। এ দুই সার্কেলে কর্মরত থাকার কারণে সে সবসময় হেডকোয়ার্টার এডমিন ও টেকনিক্যাল এর সাথে থাকেন। যে কারণে তার দুই সার্কেল ব্যতিত অন্য কোথাও পদায়ন হয় না। এই দুই সার্কেলে বেশিরভাগ ফাইলই তার দখলে। এই দুই সার্কেলে বড় বড় করদাতাদের সাথে যোগসাজসে অনেক ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া ফাইল গায়েব করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে । বড় বড় দাবি নিস্পত্তি করেন বড় অংকের ঘুস নিয়ে। বিভিন্ন ডাক্তারদের ফাইল অডিটের ভয় দেখিয়ে তিনি নিয়মিত হারে চাঁদাবাজি করছেন। ডাক্তাররা সংশ্লিষ্ট সার্কেলের অফিসারের নাম না জানলেও স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লার নাম মুখস্থ।এ বিষয়ে বরিশালের কর আইনজীবীরা একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে কর কমিশনারকে অবগত করানোর পরেও কোন এক অদৃশ্য কারণে তিনি বহাল তবিয়তে থেকে যান বলে একাধিক আইনজীবী জানিয়েছে।

সম্প্রতি হেমায়েত উদ্দিন নামে একজন এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট রতন মোল্লার দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে লিখিত আবেদন করেছেন।আবেদনে তার ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়।আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বরিশালের বেশিরভাগ ডাক্তারদের ফাইল করেন মাহমুদুর রহমান তপু নামক একজন এ্যাডভোকেট। তার বোনের বিবাহে সহযোগিতা করে রতন মোল্লা তার খুব কাছের লোক হয়ে গেছেন। তপু এবং রতন মোল্লা যোগসাজসে
বেশিরভাগ ডাক্তারদেরকেই বিপদগ্রস্থ করেন। কোনো কোনো ডাক্তারদের অফিসে ডেকে বড় অঙ্কের ঘুসের বিনিময়ে দফারফা করেন। এক্ষেত্রে রাজস্বের পরিবর্তে সবটাই তাদের নিজস্ব। লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়,তদন্ত করলেই যার সত্যতা পাওয়া যাবে। রতন মোল্লার ক্ষমতার প্রভাবে তার ভাই নাইটগার্ড ইব্রাহিম দীর্ঘদিন যাবৎ সার্কেল-১৬ লালমোহনে কর্মরত। তার আরেক ভাই লিটন মোল্লা নোটিশ সার্ভার, কর সার্কেল-১৯, গলাচিপায়।

রতন মোল্লা ও তার ভাই ইব্রাহিম মোল্লা, লিটন মোল্লাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি -অনিয়মের ব্যাপারে ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা মোঃ আতাহার উদ্দিন।এছাড়া  রতন মোল্লার বিরুদ্ধে কর আইনজীবীগন রেজুলেশন করে অভিযোগ দিয়েছিলেন কর কমিশনারের নিকট।সর্বশেষ চলতি বছরের ১০ আগষ্ট এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি।

সূত্র : বরিশাল খবর