ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঝালকাঠির বাসভবন থেকে বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় ৫ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ঝালকাঠি শহরের রোনালসে রোডের আমির হোসেন আমুর বাসভবনে আগুন নেভাতে এসে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাগেজ ভর্তি এই টাকাগুল দেখতে পান। পরে বিষয়টি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জানালে তারা এসে তা উদ্ধার করেন।

স্থানীয়রা জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সোমবার বিকেলে বিক্ষুব্ধ জনতা আমির হোসেন আমু ঝালকাঠির বাসভবনে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কয়েক দফা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু রাত ১২টার দিকে স্থানীয়রা ওই ভবনের তিন তলায় আবার আগুন দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সেখানে এসে আগুন নেভানোর সময় পানি নিক্ষেপ করলে কয়েকটি পোড়া লাগেজ থেকে টাকাগুলো বেড়িয়ে আসে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, একটি লাগেজ থেকে অক্ষত এক কোটি এবং অপর লাগেজগুলো থেকে গণনা করে আংশিক পোড়া দুই কোটি ৭৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরসঙ্গে ডলার, ইউরোসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যমানের মুদ্রাও ছিল।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন মাষ্টার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনটির তৃতীয় তলার কক্ষে অনেকগুলো কম্বলের লাগা আগুন নেভানোর সময় কিছু টাকা বেড়িয়ে আসে। এর সাথে কয়েকটি টাকাভর্তি লাগেজও পাওয়া যায়।  এরপর বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানাই। এরপর সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে টাকাগুলো উদ্ধার করে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক|| বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল থেকে ফিরোজ হাওলাদার নামে একজন
এতিমখানার পরিচালকের মোবাইল এবং টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া
গেছে। ভুক্তভোগী ফিরোজ হাওলাদার মোবাইল এবং টাকা ফেরত পেতে
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ডায়েরি সুত্রে জানা যায়, গত ৭ ই জুলাই সকালে শেবাচিমে চিকিৎসাধীন
পুত্রবধুকে দেখতে যান পলাশপুর রহমানিয়া ক্বিরাতুল কুরআন পাবলিক
মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নুরুল ইসলাম ফিরোজী।
এক পর্যায়ে তার পরিধানে থাকা পাঞ্জাবির পকেটে থাকা মোবাইল এবং
টাকা নিয়ে চম্পট দেয় অজ্ঞাত চোর। পরবর্তীতে অনেক খোজাখুজি
করেও চোরের সন্ধান পাওয়া যায় নি। পরবর্তীতে, ভুক্তভোগী নুরুল
ইসলাম ফিরোজী হারানো মোবাইল এবং টাকা ফেরত পেতে কোতোয়ালি
মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
তিনি জানান, আমি পুত্রবধূকে দেখতে হাসপাতালের ৫ ম তলায়
অবস্থানকালে কৌশলে আমার পকেট থেকে মোবাইল এবং টাকা
চুরি হয়ে যায়। মোবাইলে আমার মাদ্রাসার অনেক গুরুত্বপূর্ণ
ডকুমেন্ট ছিল। এছাড়াও ২০২৩ সালের ১২ মার্চ নগরীর ৫ নং
ওয়ার্ড পলাশপুর কাজির গোরস্থান এর পূর্ব পাশে ভাড়াটিয়া বাসা
রাঢ়ি বাড়ি থেকে তার ছেলে রাসেলে’র ব্যাবহারকৃত স্মার্ট ফোন,
কাগজপত্র এবং ৪/৫ টি পাঞ্জাবি ও নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়
অজ্ঞাত চোরচক্র। চুরি হওয়া ফোনের নাম্বারঃ-০১৩০৮৭২৩৫৪৬
ও ০১৯২৪-২০৬৭৮৮। আইএমই নম্বর ৮৬২০৬০০৫৯৫৫৪৮৯০,
862060059554৮৮২ ব্র্যান্ড ভিভো। ভুক্তভোগী রাসেল হারানো
মোবাইল এবং টাকা ফেরত পেতে পরে দিন ১৩/০৩/২০২৩ তারিখ
বরিশাল কাউনিয়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়। জিডি
নং: ৫২১। এবিষয়ে ফিরোজী বলেন, একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে
মাদ্রাসার ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এবং কি চক্রটি
কৌশলে কিছু দিন পূর্বে আমার বাসা থেকে ছেলে মোবাইল ও টাকা
চুরি করে নিয়ে যায়। আমি হাসপাতালের রোগী দেখতে গেলে
কৌশলে ওই চক্রটি আমার পকেট থেকে মোবাইল এবং টাকা চুরি
করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মোবাইল ফোনে আমার মাদ্রাসা ও
বাসার অনেক ফোন রেকর্ড ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ছিল। যা চক্রটি
চুরি করে নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে আমাকে ব্লাকমেইল করা চেষ্টা
চালিয়ে যাচ্ছে। তাই আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি যাতে
চক্রটিকে ধরা হয়।

 

 

পরিচয় গোপন করে আবারও বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাসপোর্ট সেবা দিতে গ্রাহক হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এরইমধ্যে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের বরিশাল কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মিরাজ হোসেন।

বুধবার (২৬ জুন) এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট সেবা প্রদানে গ্রাহক হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ছদ্মবেশে পাসপোর্ট অফিসে আসা সেবাগ্রহীতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তথ্য পাওয়া যায়, অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য বিভিন্ন ফটোকপির দোকান/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গেলে পাসপোর্টের আবেদনের জন্য ব্যবসায়ী/দোকানিরা প্রতি আবেদনে ২০০ টাকা বা তার বেশি নেয়। এছাড়াও ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করার অভিযোগও পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, অভিযানে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস বরিশালের উচ্চমান সহকারী মোশাররফের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্নভাবে হয়রানির বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়, যা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালককে অবগত করা হয়। তিনি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ সেবা প্রদান হয়রানিমুক্ত ও ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন মর্মে দুদক টিমকে আশ্বস্ত করেন। অভিযানে সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করে টিম কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে।

অন্যদিকে পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক জাকির হোসেনের এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদকের নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হচ্ছে। এরইমধ্যে তাকে ডেস্ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালায় দুদক। দুদকের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এইচএম আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানেও অনিয়মের প্রমাণ মিলেছিল।

ওই সময় আক্তারুজ্জামান জানান, একজন সেবাগ্রহীতা বরিশাল পাসপোর্ট অফিসের বিরুদ্ধে এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের দৌরাত্ম্যে হয়রানি, পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ দিলে আমরা অভিযান পরিচালনা করি।

আমরা অনিয়মের চিত্র দেখতে পেয়েছি। এখানে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনিয়ম রোধে সেবাপ্রত্যাশীদের সচেতন করেছি, পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বরত যুগ্ম-পরিচালককে পরামর্শ দিয়েছি অনিয়ম বন্ধে তিনি যেন কার্যকর ভূমিকা রাখেন। যুগ্ম পরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে আরও কঠোর হবেন।

 

বরিশাল নগরীর কাউনিয়ায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু কন্যাকে গলাকেটে হত্যা করে ঘাতক বাবা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। বুধবার (১২ জুন) সকালে কাউনিয়া পানির ট্যাংকের পূর্ব পাশে স্বপ্ন বিলাস ভবনের ৪তলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু রাবেয়া বশরী রোজা বয়স ৫ বছর ৪ মাস। তাকে হত্যার পর নিজের গলায় ধারালো অস্ত্র চালিয়ে আত্মহত্যা করেন বাবা মোহাম্মদ নাঈম হাওলাদার (৩৫)। নাঈম উজিরপুর উপজেলার বরাকোঠা এলাকার শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

কাউনিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরাফাত হাসান বলেন, চারমাস আগে স্ত্রীর সঙ্গে নাঈমের বিচ্ছেদ হয়। গত রাতে তার স্ত্রী কল করে জানান, সকালে মেয়েকে নিয়ে যাবে। তাই মেয়েকে হত্যা করেছে। পরে নিজে গলা কেটে আত্মহত্যা করেছে। সামনের রুমে বোন থাকলেও তারা কিছু টের পায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এরপর বিস্তারিত জানা যাবে।

সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে নড়াইলের একটি হোটেলে যান যশোরের এক পুলিশ সদস্য। সেখানে ওই পুলিশ সদস্যের বিশেষ অঙ্গ ব্লেড দিয়ে জখম করেন সাবেক স্ত্রী। মঙ্গলবার বিকালে নড়াইল পৌরশহরের একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় বিকাল ৫টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন ওই পুলিশ সদস্য। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

জানা যায়, যশোর পুলিশ লাইনে কর্মরত ওই পুলিশ সদস্যের বাড়ি নড়াইলে। সম্প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। সাবেক স্ত্রীকে নিয়েই মঙ্গলবার সকালে নড়াইলে যান ওই পুলিশ সদস্য। দুপুরে স্টেডিয়ামপাড়ার একটি হোটেলে ওঠেন তারা। সেখানে বিশেষ মুহূর্তে নারী ব্লেড দিয়ে সাবেক স্বামীর বিশেষ অঙ্গে আঘাত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি নড়াইল সদর হাসপাতালে ছুটে যান। সেখান থেকে ব্যান্ডেজ করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ বিষয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আব্দুস সামাদ জানান, ওই পুলিশ সদস্যের বিশেষ অঙ্গের বেশিরভাগই কেটে গেছে। সেলাই করা হয়েছে। তবে অঙ্গটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন জানান, দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সাংসারিক গোলযোগের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে পুলিশের করণীয় কিছু নেই।

জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় ব্যবসায়ীকে পথরোধ করে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১২ জুন) সকালে তাদের দোয়ানী পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। তারা হলেন কনস্টবল নারায়ণ বম্মর্ণ ও কনস্টবল মামুন মিয়া। তারা দুজনে হাতীবান্ধা থানার অধীন দোয়ানী পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের ফ্লাড বাইপাস হয়ে মঙ্গলবার রাতে তিস্তা ব্যারাজ অতিক্রম করে নীলফামারীর ডিমলা যাচ্ছিলেন স্থানীয় সাধুর বাজারের ভুট্টা ব্যবসায়ী হাসমত আলী। এ সময় ফ্লাড বাইপাসের মাঝামাঝি অন্ধকারে ব্যবসায়ী হাসমতের পথরোধ করে আটক করেন অপরিচিত দুই ব্যক্তি। এরপর ব্যবসায়ী হাসমত আলীর সঙ্গে থাকা ৪৩ লাখ টাকার একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ওই দুই ব্যক্তি। পরে ব্যবসায়ী হাসমত আলীর আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে ওই দুই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সদস্য দাবি করেন।

খবর পেয়ে দোয়ানী পুলিশ ফাঁড়ি ও হাতীবান্ধা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হন। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রাতেই দোয়ানী ফাঁড়িতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে হাতীবান্ধা থানার (ওসি) নির্মল চন্দ্র মোহন্ত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করেন। পরে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। রাতেই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নারায়ণ বম্মর্ণ ও মামুন মিয়াকে প্রত্যাহার করে দোয়ানী পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হাতীবান্ধা থানায় নিয়ে আসা হয়।

ওসি নির্মল চন্দ্র মোহন্ত বলেন, রাতেই কনস্টবল নারায়ণ বম্মর্ণ ও কনস্টবল মামুন মিয়াকে দোয়ানী ফাঁড়ি থেকে হাতীবান্ধা থানায় সড়িয়ে নেওয়া হয়। বুধবার সকালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ফেনীর সোনাগাজীতে সিনথিয়া ইসলাম খুসবু (২৪) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন স্বামী আলী আক্কাস রনি (২৫)। বুধবার (১২ জুন) সকালের দিকে পৌরসভার পূর্ব চরগনেশ শেখ পাড়া এলাকার আলমগীর হুজুরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

তারা দুইজনই বরিশালের ভোলা এলাকার বাসিন্দা। স্বামীর কর্মসূত্রে সিনথিয়া সোনাগাজীতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে সিনথিয়া ইসলাম খুসবুকে বিয়ে করেন রনি। রনি সোনাগাজীতে ফুটপাতে জুতার ব্যবসায় করতেন। সেই সুবাদে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তারা।

বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল। মঙ্গলবার রাতেও বাসায় বাজার আনা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ভোর ৫টার দিকে খুসবুকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে থানায় এসে পুলিশের কাছে রনি নিজেই এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন।

সোনাগাজী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদ্বীপ রায় বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তার হাত ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। আসামি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বরিশালের বানারীপাড়ায় ধারালিয়া গ্রামে বাথরুম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় জান্নাতুল (১৩) নামের সপ্তম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত জান্নাতুল ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী পাপনের মেয়ে এবং স্থানীয় সলিয়াবাকপুর ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বানারীপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিন উদ্দিন জানান, জান্নাতুলের মা শান্তা পরকীয়ায় আসক্ত। সোমবার (১০ জুন) রাতে তিনি প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। (মঙ্গলবার) সকালে জান্নাতুলকে বাসার বাথরুেেম গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মা পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ায় কষ্ট ও লজ্জায় জান্নাতুল আত্মহত্যা করেছে। তারপরেও তার প্রকৃত মৃত রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশালে শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আপাতত থানায় মামলা করা হয়েছে।

পিরোজপুরের নাজিরপুরের মোবাইলফোন কিনে না দেয়ায় শিক্তা বড়াল (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার দেউলবাড়ী ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্তা বড়াল ওই গ্রামের উত্তম বড়ালের মেয়ে ও নাওটানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার জন্য শিক্তা তার মা-বাবার কাছে বায়না ধরে। কিন্তু তারা মোবাইল কিনে দেননি। এ কারণে অভিমান করে শিক্তা ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে। শিক্তার বাবা উত্তম বড়াল ঘটনা দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

উপজেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জিন্নাত তসনিম বলেন, ‘রোগী হাসপাতালে আনার সাথে সাথেই আমরা তার চিকিৎসা শুরু করি, চিকিৎসা চলাকালীন সে মারা যায়।’

নাজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে প্রেরণ করেছি। নাজিরপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে।’

পিরোজপুরের নেছারাবাদে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ রোববার সকালে স্বরূপকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের কুনিয়ারি বেইলি ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নেছারাবাদ থানার উপপরিদর্শক মো. পনির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহতরা হলেন, উপজেলার জগন্নাথকাঠি গ্রামের মো. সাকিল (২৬) ও মো. সাইফুল (৩৭)। সাকিল মো. সহিদুল ইসলামের ও সাইফুল ফজলুল করিমের ছেলে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মো. বাদশা মিয়া বলেন, ‘সাকিল ও সাইফুল মোটরসাইকেলে করে বরিশালের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। তাঁরা বাসটি দেখে ধীরগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে কুনিয়ারি বেইলি ব্রিজের ওপর উঠেন। এ সময় সামনে থেকে শুভেচ্ছা নামের যাত্রীবাহী বাসটি দ্রুতগতিতে এসে তাদের চাপা দেয়। আমরা স্থানীয়রা হাত ইশারা দিয়ে ড্রাইভারকে থামতে বললেও তা না শুনে তাদের চাপা দিয়ে মোটরসাইকেলসহ অনেক দূর নিয়ে যায়। আমরা তাদের তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শাহারুখ মল্লিক বলেন, হাসপাতালে আনার পূর্বেই ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সান্টু সিকদার বলেন, স্বরূপকাঠি-বরিশাল লাইনের বেশির ভাগ বাস বরিশাল থেকে আসার সময় পথে থেমে থেমে যাত্রী তোলে। পরে টাইম রক্ষার জন্য স্বরূপকাঠির কাছাকাছি এসে বেপরোয়া গতিতে চালায়। এ কারণে এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

নেছারাবাদ থানার উপপরিদর্শক মো. পনির খান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে ও ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে।