পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আমেনা খাতুনের (২০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী শাকিব মৃধাকে (২২) আটক করেছে।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কলাপাড়া উপজেলায় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সুলতানগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

মৃতের পারিবারের অভিযোগ, দুই বছর আগে ধুলাসার গ্রামের বাসিন্দা শাকিবের সঙ্গে আমেনা খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। ২০ বছর বয়সী আমেনাকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে দড়ি দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। সাত মাসের অন্তঃস্বত্তা কোনো মা আত্মহত্যা করতে পারে না। এ ছাড়া আত্মহত্যার কোনো আলামতও দেখা যায়নি। এই ঘটনায় জড়িত শাকিব ও তাঁর পরিবারের লোকজনের বিচারের দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবার।

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহমেদ জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী শাকিবকে আটক করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে তৃতীয় ধাপে স্থগিত বরিশালের দুইটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। উপজেলা দুইটি হলো- গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া।

রোববার (৯ জুন) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এদিকে, সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে। আর সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ বজায় রাখতে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।

গৌরনদী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, আগৈলঝাড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে স্থগিত হওয়া ১৯টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। এ ১৯টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এর আগে, চার ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

 

ঘূর্ণিঝড় রিমালের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়নি। এখনো বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছেন হাজারো গ্রাহক। তবে দু-এক দিনের মধ্যে সব জায়গায় লাইন চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ওস্তাখান গ্রামের গ্রাহক আলেয়া বেগম, মিনার বেগম, শেফালী আক্তার, সেতার আক্তার, আজগর আলী ও কালাম ফরাজী বলেন, ‘অসহনীয় গরম, এমন অবস্থায় ১১ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। রাতে ঘুমাতে পারি না। বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে দৈনন্দিন কাজ করার জন্য পানি তুলতে পারছি না। এত বড় ঝড় গেল, আত্মীয়–স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করব যে, মোবাইলেও কল যায় না। আমরা একেবারে অন্ধকারে আছি। জীবন এত দুর্বিষহ যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান আকতার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে রিমালে এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৈদ্যুতিক তারে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ। ভেঙে গিয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, ছিঁড়েছে তার। দ্রুত বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের সঙ্গে এলাকার যুব সমাজ একত্রিত হয়ে স্বেচ্ছায় গাছ কাটায় সহযোগিতা করছে।’

ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের পর থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের সাড়ে চার শ স্টাফ কাজ করেছেন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়নি। হয়তোবা দু-এক দিনের মধ্যে সব জায়গায় লাইন চালু করা হবে।

 

বরিশালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর সেমিনারে হাতাহাতি হয়েছে। পরে লাঠিসোটা নিয়ে নগরীর সড়কে মহড়া দিয়েছে এক যুবদল নেতার শতাধিক অনুসারী।

বুধবার (৫ জুন) বিকেলে ৫টার দিকে নগরীর স্বরোডে এ মহড়ার ঘটনা ঘটে।

এসময় তারা প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালাতে সোনালী আইসক্রিম মোড় এলাকা হতে লাঠিসোটা নিয়ে মহড়া দিয়ে সেমিনারস্থল স্বরোডের দিকে আসে। তখন পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ ঘটনার আগে বিকেল ৩টার দিকে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নগরীর স্বরোডের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সেমিনার শুরু হয়। সেই সেমিনারে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল ইসলাম জাহানসহ তার অনুসারীরা যোগ দেন। তারা প্রবেশের আগেই বিকেল তিনটা থেকে সেমিনার হলের পিছনের সারির চেয়ারে বসে ছিলেন মহানগর যুবদল নেতা আরিফুর রহমান মুন্নার অনুসারীরা। এসময় মুন্নার অনুসারীদের চেয়ার ছেড়ে দিতে বললে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এরপর জাহানের অনুসারীরা প্রকাশ্যে লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা করতে মহড়ায় নামে বলে অভিযোগ যুবদল নেতা মুন্নার।বুধবার ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার অবদান’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে বরিশাল বিএনপি। এ সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বীরবিক্রম। প্রধান বক্তা ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার। সভাপতিত্ব করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরীন। তাদের সামনেই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মহড়ার সময়ও সেমিনার চলছিলো।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল জব্বার জানান, দিনের আলোতে হঠাৎ এমন মহড়া দেখার পর থেকে আতংকে আছি। লাঠিসোটা নিয়ে প্রকাশে ঘুরে বেড়ানোর এ দৃশ্য মেনে নেওয়া যায় না।

মহানগর যুবদল নেতা ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মুন্না বলেন, মাজাহারুল ইসলাম জাহানের অনুসারীরা তিনটায় শুরু হওয়া সেমিনারে সাড়ে ৪টায় প্রবেশ করে ইচ্ছে করে গ্যাঞ্জাম করেছে। আমার নেতাকর্মীরা আগে এসে চেয়ারে বসে ছিলো। তখন জাহানসহ তার অনুসারীরা সেমিনার হলে প্রবেশ করে আমার কর্মী সাকিবকে চেয়ার ছেড়ে দিতে বলে। তখন সে চেয়ার ছাড়তে রাজি না হওয়ায় জাহানের এক অনুসারী সাকিবকে থাপ্পর দেয়। তারপরই দুই গ্রুপ হাতাহাতিতে জড়ায়। এরপর জাহানের অনুসারীরা লাঠিসোটা আমার অনুসারীদের উপর হামলা চালাতে আসলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। এ বিষয়গুলো আমি সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছি।

এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল ইসলাম জাহান বলেন, আমি এখন সেমিনারে আছি। প্রধান অতিথি বক্তৃতা দিচ্ছেন, তাই এখন কথা বলা যাবেনা।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিচুল হক বলেন, তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

 

চতুর্থধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার তিনটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আজ বুধবার (৫ জুন) রাতে বেসরকারি ফলাফলে তারা বিজয়ী হয়েছেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ফারজানা বিনতে ওহাব। উজিরপুরে চেয়ারম্যান হয়েছেন হাফিজুর রহমান ইকবাল এবং বানারীপাড়ায় গোলাম ফারুক।

বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বরিশাল জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী ফারজানা বিনতে ওহাব। তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে ২৮ হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার খালেদ হোসেন স্বপন কাপ-পিরিচ মার্কা নিয়ে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩৭৯ ভোট। চার হাজার ১৯ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে জেলা মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা বিনতে ওহাব চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

উজিরপুর উপজেলায় কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ৩১ হাজার ২৫৮ ভোট পেয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফিজুর রহমান ইকবাল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৪৬০ ভোট। দুই হাজার ৭৯৮ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাফিজুর রহমান ইকবাল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

বানারীপাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দোয়াত-কলম প্রতীকের গোলাম ফারুক ৩৪ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলাদ হোসেন সানা পেয়েছেন ২৮ হাজার ৭৩১ ভোট। এর আগে আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ তিন উপজেলায় ভোটগ্রহণ হয়।

 

বরিশাল নগরীতে জমির মালিক কে জমি থেকে তাড়িয়ে দেবার ষড়যন্ত্র করছে প্রতিপক্ষরা।বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক, মানসিক, ও হত্যার হুমকি প্রদান করছে তারা।ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর পূর্ব বগুড়া রোড, ১৭নং ওয়ার্ড এলাকায়।জমির মালিক প্রতিপক্ষদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে কোতোয়ালি থানায় এসে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে দিয়েছেন লিখিত অভিযোগ।লিখিত অভিযোগসূত্রে জানা যায়, মৌজা : বগুড়া আলেকান্দা, জে.এল নং-৫০, এস.এ খতিয়ান
নং-২৯৬২, এস.এ দাগ নং-৪০৬০, জমির পরিমান ২৬ শতাংশ, তফসিল বর্নিত পৈত্রিক সূত্রে জমির মালিক বগুড়া রোড এলাকার মৃত মানিক সরকারের ছেলে পঙ্কজ সরকার(৪৯)।
বিবাদী নান্টু সরকার ছেলে সন্তু সরকার (২২),
গৌতমের ছেলে জয় সরকার (২৩),
মৃত মিন্টু সরকার স্ত্রী মঞ্জু সরকার (৬০), অজ্ঞতা নামা আরো ৪-৫ জন
জমি জোরপূর্বক দখলের জন্য পায়তারা
করে। উক্ত জমি নিয়া বিবাদীদের সাথে পূর্ববিরোধ বিদ্যমান। উপরোক্ত বিবাদীরা সহ অজ্ঞাতনামা
বিবাদীরা গতকাল দুপুর ১২ টার সময় লাঠিসোটা সহ দেশীয় অস্ত্রাদি
নিয়া আসিয়া জমি জোরপূর্বক দখলের পায়তারা করে এবং জমিতে থাকা গাছের আম পাড়িয়া
নিতে শুরু করে। বিবাদীদের বাঁধা দিলে তাহারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে
এবং খুনজখমের হুমকি প্রদান করে। জমির মালিকানা বিষয়ে কাগজপত্রাদি সহ বহু সাক্ষী প্রমান আছে।ভুক্তভোগী জানান, আমার এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বাজারে বিক্রি হওয়া অনুমোদনহীন ৫টি কোম্পানির ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকসের মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।  ড্রিংকগুলো হলো এসএমসি প্লাস, প্রাণের এক্টিভ, ব্রুভানা, আকিজের রিচার্জ, টারবো।

মঙ্গলবার (১৪ মে) বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক আলাউল কবীরের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন এ মামলা দায়ের করেন। এ সময় নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বলেন, এগুলোর একটিরও অনুমোদন নেই।

তিনি আরও বলেন, ওষুধ প্রশাসনও বলতে পারেনা এগুলো ওষুধ না ড্রিংকস। এর মধ্যে এসএমসি প্লাসের মডেল হয়ে পণ্যর প্রসারে প্রচারণা করছেন ক্রিকেটার তামীম ইকবাল। নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী এটি অপরাধ। আমরা বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে বলেছি, শোনেনি কোনো কোম্পানি। কাজেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

বরিশালে অর্থ আত্বসাতের দায়ে ওয়াই ডাব্লিউ সি এ’র দায়ের করা প্রতারনা মামলায় স্বামী-স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। জানাগেছে- আটককৃতরা হলেন, নগরীর ১০নং ওয়ার্ড আমবাগান এলাকার জব্বার মিয়ার সড়ক পোদ্দার রোড এলাকার বাসীন্দা রুবেল বিশ্বাস ও স্ত্রী

সুচিত্রা বাড়ৈ। শনিবার বিকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম বলেন, প্রতারনা করে স্বামী-স্ত্রী ওআই ডাব্লিউ সিএ’র ১৪ লক্ষ টাকা আত্বসাৎ করার অভিযোগে কতৃপক্ষ তাদের বিরুদ্বে মামলা দায়ের করলে পুলিশ রুবেল বিশ্বাসের বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী’কে আটক করে আদালতে সোপার্দ করেন।

বরিশাল নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগে ব্যবসা শাখার শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ মে) বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় তাকে বরখাস্ত করা হয়।

গত (৫ মে) ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আইসিটি ক্লাস ছিল। মাইদুল ইসলাম ক্লাসে গিয়ে ছাত্রীদের গায়ে পিঠে হাত দেয় বলে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের কাছে অভিযোগ করেন। ঘটনার পরদিন ৬ মে ষষ্ঠ শ্রেণির ১৩ শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

এ নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকের এমন আচারণ দীর্ঘ দিনের। এমন হলে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো দায় হয়ে উঠবে। এজন্য ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

এদিকে স্কুল থেকে গঠন করা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি শিক্ষক মাইদুল ইসলামের এমন আচারণের সত্যতা পান। তিনি যে ছাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দেন এ কথার প্রমাণ পেয়েছে বলে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক মাইদুল ইসলাম প্রথমে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, মূলত স্কুলের কিছু ভিতরগত রাজনৈতিক বিষয়ে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ফখরুজ্জামান বলেন, ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগে গেল (৯ মে) স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভা ডেকে তাকে পুরোপুরি বরখাস্ত করা হয়েছে।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল জানান, তারা এতেই ক্ষ‌্যান্ত থাকবেন না, দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

চুক্তি ভিত্তিক এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এরআগেও স্কুলে কোচিং করানো নিয়ে ছাত্রীদের হয়রানীর অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

সৌদি আরবের মুদ্রা রিয়াল ও মার্কিন ডলার নিয়ে প্রতারণার মামলায় বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জালাল হাওলাদারকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে বরিশাল মহানগর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয় নিশ্চিত করেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু। তিনি বলেন, ‘আজ শনিবার দুপুরে পুলিশ জালাল হাওলাদারকে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। এ সময় আদালতের বিচারক মো. আরিফুর রহমান তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুকুয়া ইউনিয়নের হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের বাসিন্দা জালাল হাওলাদার এবং তাঁর দুই ভাই দুলাল হাওলাদার ও চুন্নু হাওলাদার ৪০ বছর ধরে ডলার ও রিয়াল বিক্রির নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। ওই এলাকায় এই চক্রের ৪৫-৫০ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডলার ও রিয়াল বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

গত রোববার রাতে ইউপি সদস্য জালাল হাওলাদারসহ ছয়-সাতসদস্য উপজেলার গাজীপুর গ্রামের তৌকির খানের কাছে ৩ লাখ টাকার রিয়াল বিক্রির দেনদরবার করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বশিরুল আলম ওই গ্রামে অভিযান চালান।

সেখান থেকে চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু মূল হোতা জালাল হাওলাদার পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গত সোমবার আমতলী থানায় প্রতারণার অভিযোগে জালালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় চক্রের পাঁচ সদস্য কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গতকাল শুক্রবার রাতে বরগুনা গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাবের একটি যৌথ দল বরিশাল মহানগরের একটি সড়কে অভিযান চালায়। ওই সড়ক থেকে তারা জালাল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। আজ শনিবার দুপুরে ডিবি পুলিশ তাঁকে আমতলী থানায় সোপর্দ করে। থানা-পুলিশ তাঁকে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে। আদালতের বিচারক মো. আরিফুর রহমান তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বরগুনা পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বশিরুল আলম বলেন, ‘সৌদি রিয়াল প্রতারণা চক্রের মূল হোতা ইউপি সদস্য জালাল হাওলাদারকে বরিশাল মহানগরের একটি সড়ক থেকে গ্রেপ্তার করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ কাজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এই চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য রয়েছেন, তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’