স্বদেশপ্রত্যাবর্তন দিবসে বরিশালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন।

বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে নগরীর সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত জাতীর জনকের প্রতিকৃতিতে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা আওয়ামী লীগ। এরপর মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এর আগে, দিবসটি উপলক্ষে সকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

 

অপর দিকে বরিশাল সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত) বেলা সাড়ে ১১টায় কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃর্তিতে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

এরপরে বরিশাল মহানগর যুবলীগের আহবায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম,যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন,মেজবা উদ্দিন জুয়েল সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পর এবার মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। এরই মধ্যে তাদেরকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন করা হয়েছে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য।

বুধবার রাতে গণমাধ্যমে বিষয়টি জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

এবার মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন ২৫ জন। আর প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন ১১ জন।

এরআগে বুধবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের অনুমতি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিকালে মন্ত্রিসভা গঠনের অনুমোদনের পর মন্ত্রিসভা গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে ডাক পেয়েছেন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম, আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, ফারুক খান, আবদুর রহমান, মোহাম্মদ এ আরাফাত।

আগের মন্ত্রিসভায় যারা ছিলেন এবং নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণের জন্য যাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তারা হলেন- ওবায়দুল কাদের, আব্দুর রাজ্জাক ও তাজুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান খান, আনিসুল হক, ডা. দীপু মনি, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, আ. ক. মোজাম্মেল হক, ড. হাসান মাহমুদ, নসরুল হামিদ বিপু, মহিবুল হাসান নওফেল, সাধন চন্দ্র মজুমদার, ফরহাদ হোসেন, শাহরিয়ার আলম, জুনায়েদ আহম্মেদ পলক।

পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন যারা-

ওবায়দুল কাদের (নোয়াখালী-৫), নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (নরসিংদী-৪), মো তাজুল ইসলাম (কুমিল্লা-৯), মুহাম্মদ ফারুক খান (গোপালগঞ্জ-১), আবুল হাসান মাহমুদ আলী (দিনাজপুর-৪), আনিসুল হক (বাহ্মণবাড়িয়া-৪), মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৭), মো. আব্দুস শহীদ (মৌলভীবাজার-৪), সাধন চন্দ্র মজুমদার (নওগাঁ-১), র, অ, ম, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩), মো. আব্দুর রহমান (ফরিদপুর-১), নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (খুলনা-৫), আব্দুস সালাম (ময়মনসিংহ-৯), জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৯), ফরহাদ হোসেন মেহেরপুর-১), মো. ফরিদুল হক খান (জামালপুর-২), মো. জিল্লুল হাকিম (রাজবাড়ী-২), সাবের হোসেন চৌধুরী (ঢাকা-৯), জাহাঙ্গীর কবির নানক (ঢাকা-১৩), নাজমুল হাসান পাপন (কিশোরগঞ্জ-৬), ডা দীপু মনি (চাঁদপুর-৩) ও আসাদুজ্জামান খান (ঢাকা-১২)।

এছাড়া টেকনোক্রেট কোটায় পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন স্থপতি ইয়াফেস ওসমান ও সামন্ত লাল সেন।

প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন যারা

বেগম সিমিন হোমেন রিমি (গাজীপুর), নসরুল হামিদ (ঢাকা-৩), জুনাইদ আহমেদ পলক (নাটোর-৩), মোহাম্মাদ আলী আরাফাত (ঢাকা ১৭) মো. মহিববুর রহমান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (দিনাজপুর-২), জাহিদ ফারুক (বরিশাল-৫), জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি), বেগম বুমানা আলী (গাজীপুর-৩), শফিকুর রহমান চৌধুরী (সিলেট-২) ও আহসানুল ইসলাম টিটু (টাঙ্গাইল-৬)।

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের পাশাপাশি তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সম্মতিও জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনেও সম্মতি দিয়েছেন।

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও গণ্য করার কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

এর আগে সকাল ১০টায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ নবনির্বাচিত ২৯৮ জন সংসদ সদস্য। তার আগে সংসদ সদস্য হিসাবে প্রথমে শপথ গ্রহণ করেন বর্তমান স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী। এরপর স্পিকার হিসেবে তিনি শেখ হাসিনাসহ অন্য সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ীরাও এদিন শপথ নিয়েছেন।

সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সংসদ নেতা হলেন তিনি। একাদশ সংসদে মতিয়া চৌধুরী ছিলেন সংসদ উপনেতা। এবারও এ পদে তাকে বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। চিফ হুইপ হয়েছেন গত সংসদে এ পদে দায়িত্ব পালন করা নূর-ই-আলম চৌধুরী।

শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে দ্বাদশ সংসদ গঠিত হয়। বাকি ছিল প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি। রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়ার পর যে কর্মকাণ্ডও সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাকি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হবে বলে জানা গেছে।

গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয় পেয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে ২২২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে নৌকার। জোট শরিকরাও নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে দুটি আসন পেয়েছেন। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১১; কল্যাণ পার্টি পেয়েছে একটি আসন। প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে বাগিয়ে নিয়েছেন। যদিও তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নেতা।

 

জাতীয় সংসদ নিবাচনের আগমুহূর্তে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরিশালের সমাবেশে ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটাবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

বরিশাল সার্কিট হাউজের সামনে অবস্থানকালে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। এর আগে সার্কিট হাউজের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশ বাস্তবায়নে স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা হয়।

পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদা) আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, আমরা দক্ষিণাঞ্চলবাসী অবহেলিত ছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি ক্ষমতায় আসার পর পদ্মাসেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত কোথাও কোন উন্নয়ন বাকি নেই। তাই এই অঞ্চলের জনগণ তাকে অভ্যর্থনা জানাবে। পাশাপাশি তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করবে।

বরিশাল সদর আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ ফারুক বলেন, আমরা আজকে (বুধবার) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেছি। আগামী শনিবার জেলা ও উপজেলার নেতাদের নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করবো। প্রধামন্ত্রী বরিশালে এসে এই সরকারের আমলে দক্ষিণাঞ্চলে কি কি উন্নয়ন হয়েছেন তা বলবেন। পাশাপাশি নৌকার প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেবেন। এটাই তার মুখ্য উদ্দেশ্য।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, সহ-সভাপতি ও বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস, মহানগর সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৯ ডিসেম্বর বরিশাল সফর করবেন। ওইদিন বিকেল ৩টায় বরিশাল নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। তার আগমনের খবরে উজ্জীবীত স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের আগমুহূর্তে দলীয় প্রধানের এমন আগমনে দক্ষিণাঞ্চলে নৌকার পক্ষে ভোট বিপ্লব ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

 

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহিদ ফারুকের পক্ষে মিছিল এবং গণসংযোগ করেছে নেতাকর্মীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর দক্ষিণ সদর রোডের নির্বাচনী কার্যালয় চত্বর থেকে মিছিল ও গণসংযোগ শুরু করেন তারা।

প্রতীক পাওয়ার পর ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সার্কিট হাউজের সামনে থেকে নৌকার পক্ষে একটি মিছিল বের করেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। মিছিলটি সদর রোড গিয়ে শেষ হয়। পথিমধ্যে পথচারীদের সঙ্গে গণসংযোগ করে নৌকার লিফলেট বিতরণ করেন তারা। এ সময় বরিশালের উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আবারও নৌকায় ভোট চান আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

গণসংযোগকালে মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আফজালুল করিমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বরিশালের উন্নয়ন তরান্বিত করতে আবারও নৌকা বিজয়ী করা প্রয়োজন। নৌকা বিজয়ী হলে বরিশালে ভোলার গ্যাস আসবে। সার্বিক উন্নতি হবে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকা বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন….

 

বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রার্থিতা ফেরত পেতে ফের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়। তার আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে হাইকোর্টে গিয়ে নিজের পক্ষে রায় পেলেও মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগে আটকে যায় সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার তা স্থগিত করে দেন।

পরে সাদিক আবদুল্লাহর আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, চেম্বার কোর্ট বাতিল করেছেন। এখন আমরা নিয়মিত লিভ টু আপিল করবো। বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ দলের মনোনয়ন না পেয়ে বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। গত ১৫ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।

কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে তার মনোনয়ন বাতিল চেয়ে পরে ইসিতে আপিল করেন ওই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম। শুনানি শেষে সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করে কমিশন।

অন্যদিকে জাহিদ ফারুক মামলার বিষয়ে তথ্য গোপন করেছেন অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতা বাতিলের আপিল করেছিলেন সাদিক আব্দুল্লাহ। সেই আপিল নির্বাচন কমিশনে নামঞ্জুর করা হয়। ফলে জাহিদ ফারুকের প্রার্থিতা বহাল থাকে।নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এরপর হাইকোর্টে রিট করেন সাদিক।

সেই আবেদনের শুনানি করে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বরিশাল-৫ আসনের এ স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে এরপর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম। সেই আবেদনেই হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এখন সাদিক আব্দুল্লাহ পাল্টা আবেদন করেছেন।

 

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হক শামীমের ট্রাক প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা ক্যাম্প স্থাপন নিয়ে দুপক্ষের মারামারিতে রফিকুল ইসলাম (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুইজন।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার সিরতা কোনাপাড়া হুতারবাড়ির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল স্থানীয় চর ভবানীপুর কোনাপাড়া এলাকার মৃত নুর হোসেনের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম জানা যায়নি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাঈন উদ্দিন এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কোনাপাড়া হুতারবাড়ির মোড়ে আইনুদ্দিনের দোকানের সামনে ট্রাক প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনকে কেন্দ্র করে নিহতের ছোট ভাই মো. ফারুকের (৪০) সঙ্গে অপর ভাই ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে রাজু (২৮) ও সাজুদের (২৫) কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কিলঘুসির ঘটনা ঘটে।

পরে রফিকুল ঘটনাস্থলে এলে কিলঘুষি মারা শুরু করে ভাতিজারা। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি আরও জানান, দুই পক্ষই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক।

তবে কে এই ক্যাম্পের নেতৃত্ব দেবে মূলত এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি। কারণ নিহত রফিকুলের সঙ্গে ভাতিজাদের আগে থেকেই বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ চরে আসছিল। এছাড়াও রফিকুল এর আগে দুইবার স্ট্রোক করেছিল বলেও জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। ঘটনার তদন্ত চলছে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে এ আদেশ দেন।

সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন একই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

এরপর গত ১৫ ডিসেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এরপর হাইকোর্টে রিট করে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হাইকোর্টের দেওয়া সে রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন না।

 

গত ২১ বছর ধরে পৌরসভা ভবনে চলছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কার্যক্রম। বিভিন্ন সময়ে ভবনের কক্ষ এবং বাইরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে কার্যক্রমে গতি আনার চেষ্টা চালিয়েছেন মেয়ররা। এক যুগ আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা ভবনে বছরের পর বছর চলছে নগরবাসীর সেবা। তবে বর্তমান মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত দায়িত্ব নেওয়ার আগে এটি অপসারণ করে বহুতল ভবন তৈরির উদ্যোগ নেন। এজন্য সরকার থেকে প্রায় ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ নিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হয়। ওই সময় দোতলা পৌর ভবনে শুরু হয় কার্যক্রম। মেয়রসহ ২৪টি দফতরের তিন শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে হিমশিম খেতে হয়। এরপর ভবনটিকে তিনতলায় রূপ দেওয়া হয়েছিল।

তাতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জায়গা দেওয়া এবং নগরবাসীকে সেবা দিতে সমস্যায় পড়তে হয়। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সাবেক মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরন নগরীর তিন স্থানে পৃথক তিনটি অফিস স্থাপন করেন। কিন্তু নতুন অফিসে যেতে নগরবাসীর অনীহা থাকায় পরবর্তীতে ওসব অফিস সরিয়ে নেওয়া হয়।

এদিকে দিন দিন পৌর ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। এজন্য ২০১১ সালে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভবন কর্তৃপক্ষ। তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরন জরাজীর্ণ ভবন থেকে উত্তরণে পৌর ভবনকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। ওই সময় ভবনের ভেতর-বাইরে চাকচিক্য আনা হয়।

কিন্তু সেই চাকচিক্য ধরে রাখা যায়নি। বৃষ্টির সময় ভবনের দেয়াল পানি চুষে নেওয়ায় পলেস্তারা খসে পড়ে। ফাটল আরও বড় আকার ধারণ করে। পিলারের রড বের হয়ে মরিচা ধরে। এমনকি ছাদের রড বের হয়ে মরিচা পড়ে। তার পরের মেয়রের সময়ে নিচতলা ও দোতলার চার কক্ষ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। এ কারণে আমানতগঞ্জে সিটি করপোরেশনের দুটি শাখা এবং এনেক্স ভবনে প্ল্যান শাখা স্থানান্তর করা হয়। এ অবস্থায় নগর ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মেয়রের একান্ত সচিব রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার আগেই জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার করা হয়। ভবনের নিচ থেকে ছাদ পর্যন্ত জরাজীর্ণ ছিল। ছাদে বড় বড় গাছ ছিল। মেয়রের কক্ষের পলেস্তারা খসে পড়েছে। এখন প্রতিটি কক্ষ সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমান মেয়রের সময়েই বহুতল নগর ভবন তৈরি হবে। ভবনটি এমনভাবে নির্মিত হবে; যার সৌন্দর্য দেখতে ভিড় করবেন নগরবাসী।’

আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নগর ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানালেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘পুরো ভবনটি অপসারণ করে পাশে ও পেছনের সম্পূর্ণ জমি নিয়ে ১৫তলা ভবন নির্মিত হবে।

৪০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হবে এটি। এতে চারটি লিফট এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য দুটি স্থান করা হবে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৫ কোটি ৬৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা। যার নকশা এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। আশা করছি, বর্তমান মেয়রের সময় শেষ হওয়ার আগেই ভবনটি নির্মাণ হয়ে যাবে। কাজ শুরু হলে বিকল্প ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এজন্য আরেকটি ভবন খুঁজছি আমরা।’

এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮৫ সালে বরিশালে পৌরসভা ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল। তিনি বলেন, ‘সাবেক এলজিইডিমন্ত্রী নাজিউর রহমান মঞ্জু ওই সময়কার পৌরসভার চেয়ারম্যান গোলাম মাওলাকে জমি দেখতে বলেছিলেন। গোলাম মাওলা পৌরসভার জিরো পয়েন্টে খাস জমি খুঁজে বের করেন। সেখানে পৌরসভা ভবন নির্মাণ করা হয়। সেই ভবনে এখনও চলছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম। নতুন ভবন আজও হয়নি।’

 

ঝালকাঠি শাহী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুনা খানমকে আদালত থেকে হত্যাচেষ্টা মামলা তুলে নেয়ার জন্য উপর্যপুরি হুমকি দিয়ে যাচ্ছে মামলার আসামী মো. আতিকুল ইসলাম ওরফে স্বপন (৩৮)। আতিক ও তার সহযোগীদের হুমকিতে দুটি নাবালক শিশু সন্তান নিয়ে রুনা খানম নিরাপত্তাহীনতায় আতংকে দিন কাটাচ্ছে। এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করা হলেও হুমকি দাতা আসামী আতিককে আটক করা হয়নি।

গত ৪ এপ্রিল সকাল ১০ টার দিকে শহরের রোনাল্ডসে রোডের নিজ বাসা থেকে বাহের রোডে শাহী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে সেকশন কালিবাড়ির সামনে রুনা খানমের (৩০) পথরোধ করে তার পেটে ও বুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৬টি আঘাত করে গুরতর জখম করে তার সাবেক স্বামী আতিকুল ইসলাম। রক্তাক্ত জখম হয়ে শিক্ষিকা রুনা খানম রাস্তায় লুটিয়ে পরে।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার সময় সাধনার মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই শাখাওয়াত হোসেন স্থানীয়দের সহযোগিতায় রক্তমাখা ছুরিসহ আতিকুল ইসলামকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আহত রুনা খানমের বড় বোন রোজি খানম (৩৮) বাদী হয়ে আতিকুল ইসলামকে একমাত্র আসামী করে ঝালকাঠি থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করে। এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৫ এপ্রিল ২০২৩ আতিকুল ইসলামকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় চারমাস জেল হাজতে থাকার পর হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করে আতিক।

এদিকে এরই মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝালকাঠি থানার এস আই মাসুদ রানা গত ৩০ জুন আতিককে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ঝালকাঠির আমলী আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করে। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজ শাহরিয়ার আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পরার পর থেকেই আতিক এবং তার সহযোগিরা স্কুলে যাওয়া আসার পথে রুনা খানমকে নানা রকম হুমকি এবং রাস্তাঘাটে অনুসরন করা শুরু করে।

রুনা খানম অভিযোগ করে বলেন, “ জামিন পাওয়ার পর থেকে আতিক একাধিকবার আমাকে সরাসরি মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। আমার বাসায় লোক পাঠিয়ে আমার শিশু দুই সন্তানকে অপহরণের হুমকি দিয়ে বলেছে “ একবারতো জানে বেচেঁ গেছো, এবার আর জানে বাচঁতে পরবিনা ”।

রুনা খানম আরও বলেন, আতিকের ভয়ে শিশু সন্তানদের নিয়ে বাসার বাইরে বের হই না, শুধু ভয়ে ভয়ে স্কুলে যাই। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন বাতিলের আবেদন করেছি কোন লাভ হয়নি। আতিক হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছে তাই ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন বাতিল করেনি। সর্বশেষ আতিক গত ২৪ নভেম্বর রুনা খানমকে স্কুলে যাওয়ার পথে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে। ওই দিনই রুনা খানম ঝালকাঠি সদর থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নং ১০৩৩ তারিখ ২৪/১১/২০২৩।

উল্লেখ্য গত ২০২১ সালের ১৮ জুলাই তারিখ আতিক ও রুনার দ্বিতীয় বিয়ে হয় এবং পারিবারিক কলহের কারনে পরের বছর ২০২২ সালের ১৫ জুন বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। রুনার আগের ঘরের দুটি সন্তান আছে। আতিক পুনরায় রুনাকে নিয়ে ঘর সংসার করতে চাইলেও রুনা তা প্রত্যাখান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার জন্য রুনার ওপর হামলা চালায় আতিক।

অভিযুক্ত আতিকুল ইসলাম আতিক বলেন, জামিন পেয়ে আমি তাকে (রুনাকে) কোন হুমকি দেইনি, তবে লোক মারফত সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য অনুরোধ করেছি, এটা অপরাধের কিছু নয়। ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ইয়েন বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আতিকুল ইসলাম আমাদের সমিতির সদস্য রুনা খানমকে কুপিয়ে হত্যার চেস্টা করেছে।

আমরা আতিকের কঠোর বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। এখন আবার হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে আমরা আবার রাস্তায় আন্দোলন করবো। রুনা খানমের জিডির তদন্ত কর্মকর্তা ঝালকাঠি থানার এস.আই মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জিডির তদন্তের অনুমতি চেয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছি। এখনও অনুমতি পাইনি।