বরগুনার পাথরঘাটায় এক কিশোরের বিরুদ্ধে ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে।

বুধবার (২৫ মে) সকালে পাথরঘাটা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর নানা। ধর্ষণের শিকার এই শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়েছে।

পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রোববার (২২ মে) বিকেলে বাড়ির সামনের ক্ষেতে ভুক্তভোগী শিশুর মা-বাবা বাদাম তুলছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত কিশোর অন্য এক শিশুর মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিশুকে খেলাধুলার কথা বলে বাড়ির পেছনে খালপাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভুক্তভোগী শিশুকে হুমকি দেয়। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী শিশু তার মাকে ঘটনাটি বলে।

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য ভুক্তভোগী শিশুকে বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আবুল বাশার জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ভারের আশুলিয়ায় একটি ই-কর্মাস ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে প্রায় ৬০০ জনের কাছ থেকে প্রতারণা করে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় সেই প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৪ মে) সকালে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) সুব্রত রায়।

 

এরআগে, মঙ্গলবার (২৪ মে) বিকেলে আশুলিয়ার জামগড়ায় অবস্থিত স্বাধীন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গত সোমবার (২৩ মে) চক্রটির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাজু মিয়া নামে একজন ভুক্তভোগী।

গ্রেফতাররা হলেন- মাদারীপুর জেলার সদর থানার পাঁচখোলা গ্রামের  আলী হোসেনর ছেলে ইলিয়াস মৃধা (৩৬)। তিনি প্রতষ্ঠানের স্বত্ত্বাধীকারী ও অপরজন ঝালকাঠি জেলার সদর থানার দক্ষিণ মানকশা গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম (৩২)। তিনি প্রতিষ্ঠানের ডিলার ছিলেন।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী সাজু মিয়া বলেন, একজনের মাধ্যমে তাদের প্রতিষ্ঠানে কয়েক ধাপে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। তারা বলেছিলেন অনলাইনে তারা ওষুধ বিক্রি করেন। তাদের একটি ওয়েবসাইট আছে। একটি আইডি নম্বরও খুলে দেন। লাভের একটি অংশ প্রতিদিন আমার সেই অনলাইন আইডিতে জমা হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন চলে গেলেও কোনো টাকা আসে না। জানতে চাইলে তারা তালবাহানা শুরু করেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তারা অনলাইনে কোরো ব্যবসা করেন না। অনলাইন সাইট খুলে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছেন। টাকা চাইতে গেলে হুমকি দেন তারা। এরপরই তাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

তিনি আরও বলেন, আমার মতো প্রায় ৬০০ জন এভাবে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। একটি আইডির জন্য নূন্যতম ১৫০০ টাকা দিতে হয়। একেক জনের কাছ থেকে নূন্যতম ১০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত তারা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার এস আই সুব্রত রায় বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে মঙ্গলবার রাতে দুজনকে আটক করি। পরে প্রতারণার মামলা তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। আজ আদালতে পাঠানো হবে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, এখানে ৬০০জন বিনিয়োগকারী রয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে চক্রটি।

তিনি আরও বলেন, টাকা হাতিয়ে নিতে অনলাইনের ব্যবসার ফাঁদ পেতেছিল। তারা এখানে গত দুইবছর আগে প্রতিষ্ঠান চালু করেছিলেন। নতুন করে পাশের উপজেলা ধামরাইয়েও অফিস খোলার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

 

ব‌রিশা‌লের মুলাদী‌ উপজেলায় ম‌নির হাওলাদার (৩২) না‌মে এক যুব‌কের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ জামাল মৃধা ও আলম হো‌সেন না‌মে দুইজন‌কে আটক করেছে। আটককৃতরা একই এলাকার বা‌সিন্দা বলে জানা গেছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে ম‌নি‌রের বা‌ড়ি সংলগ্ন আবুল সরদা‌রের বা‌ড়ির জ‌মির সীমানার ওপর থে‌কে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত ম‌নির হাওলাদার মুলাদী উপ‌জেলার কা‌জিরচর এলাকার চরক‌মিশনারের ছালাম হাওলাদা‌রের ছে‌লে। তিনি মুলাদী বাস কাউন্টারের কেরানি প‌দে চাকরি করতেন।

ম‌নি‌রের ছোট ভাই পা‌ভেল হা‌ওলাদার জানান, ম‌নির দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার কামাল সরদা‌রের গরুর খামা‌রে কাজ কর‌তেন। ত‌বে তাকে কো‌নো টাকা দেয়‌া হয়নি। এই নি‌য়ে দ্বন্দ্ব চ‌লছিলো তাদের ম‌ধ্যে। একা‌ধিকবার টাকা চে‌য়েও পায়‌নি ম‌নির বরং তাকে হুম‌কি দেয়া হ‌য়ে‌ছি‌লো জেল খাটা‌নোর।

পাভেল বলেন, গত সোমবার রাত ৯টায় আমার কাছ থে‌কে ম‌নির ৫০ টাকা চে‌য়ে নি‌য়ে‌ছি‌লো। এরপর আর দেখা হয়‌নি। মঙ্গলবার সকা‌ল ৯টায় খবর পাই ম‌নি‌রের মরদেহ পাওয়া গে‌ছে।

মুলাদী থানা পু‌লি‌শের অফিসার ইনচার্য (ও‌সি) এস এম মাকসুদুর রহমান জানান, সকা‌লে খবর পে‌য়ে ঘটনাস্থ‌ল থে‌কে ওই যুব‌কের গলাকাটা মৃত‌দেহ উদ্ধার ক‌রা হ‌য়ে‌ছে।

ময়নাতদ‌ন্তের জন‌্য ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে প্রেরণ করা হ‌বে। এই ঘটনার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এর সা‌থে কেউ জ‌ড়িত র‌য়ে‌ছে কি না সে‌টি তদন্ত চল‌ছে।

গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার ভোররাতে
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা

ইউনিয়নের পাশের্^মারী গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় স্বামীকে আটক করেছে গ্রামবাসী। নিহত আশরাফুন্নেছা বেগম (৩০) পাশের্^মারী গ্রামের শফিকুল গাজীর (৪৫) স্ত্রী।

শ্যামনগর থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মুর্শিদ জানান, শফিকুল গাজীর দুই স্ত্রী। মাঝেমধ্যে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে থাকতেন তিনি। দ্বিতীয় বউয়ের পরামর্শে তিনি প্রথম স্ত্রীকে চার মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় তাকে বেদম মারধর করেন। এরপর সোমবার (২৩ মে) তাকে মারধরে করে চলে যান। রাতে আবারও প্রথম স্ত্রী আশরাফুন্নেছার কাছে আসেন শফিকুল। ভোররাতের দিকে প্রথমে মারধর করে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করেন। তারপর বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন। এলাকাবাসী শফিকুল গাজীকে আটক করে রেখে পুলিশে খবর দেয়।

শফিকুল এভাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সবার সামনে হত্যার কথা স্বীকার করে বলে জানান গাবুরা ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য মশিউর রহমান।

ওসি কাজী ওয়াহিদ মুর্শিদ বলেন, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে আটক করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

বরিশালে ২ হাজার ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যাক্তির নাম লিটন হাওলাদার।

 

সে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতী ইউনিয়নের মো. চান্দে আলী হাওলাদার এর ছেলে। রবিবার (২২ মে) বিকেল ৪ টার দিকে নগরীর ফরেস্টার বাড়ির পুল এলায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, রবিবার (২২ মে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা’ র পুলিশ পরিদর্শক বিপ্লব মিস্ত্রি এর নেতৃত্বে এসআই মো. সাইদুর রহমান সহ একটি দল নগরীর ফরেস্টার বাড়ির পুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ২৫ পিচ ইয়াবা সহ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করেছে।

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে মান মর্যাদা হানিকর, আক্রমণাত্মক তথ্য প্রচারের অভিযোগে রুবেল চৌধুরী ওরফে অপূর্ব মাহমুদ চৌকিদার (৩০) ও মহিউদ্দীন সাগর (২৫) নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত এদের দুই জনকে পটুয়াখালী কারাগারে প্রেরণ করেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে আসামী রুবেল চৌধুরীকে ঢাকা থেকে এবং মহিউদ্দীন সাগরকে উপজেলার লালুয়া থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এরা দীর্ঘদিন ধরে এক শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে ফেসবুকে মান মর্যাদা হানীকর, আক্রমণাত্মক, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করায় এদের বিরুদ্ধে সেই শিক্ষক দম্পতি ১১ মে জিডি দায়ের করেন।

এরপরও আসামীরা বিভিন্ন তারিখ ও সময় তাদের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে মিথ্যা, ভিত্তিহীন নানান তথ্য উপাত্ত প্রচার করায় খেপুপাড়া সরকারী মোজাহার উদ্দীন বিশ্বাস কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো: শাহআলম বাদী হয়ে ২৩ মে কলাপাড়া থানায় উল্লিখিত দুই আসামীসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫/২৬/২৯/৩১ ও ৩৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধানখালী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভিকটিম সহকারী শিক্ষিকা মোসা: চারচিয়াস কলি স্বাক্ষী রয়েছেন।

মামলার বিবরনে জানা যায়, আসামী রুবেল চৌধুরী তার ফেসবুক আইডি এবং অপর আসামী মহিউদ্দীন সাগর তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন তারিখ ও সময় ওই শিক্ষক দম্পতি ও তার পরিবারকে অপমান, অপদস্থ এবং হেয়প্রতিপন্ন মূলক পোষ্ট প্রচার করে।

এতে সেই দম্পতির কর্মরত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের মধ্যে ঘৃণার উদ্রেক করে দীর্ঘবছর ধরে গড়ে ওঠা সম্প্রীতি বিনষ্ট করা সহ সমাজের আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উপক্রম হয়েছে।

কলাপাড়া থানার ওসি মো: জসিম জানান, আসামী রুবেল চৌধুরী ও মহিউদ্দীন সাগর আইন শৃংখলা অবনতি ঘটানোর লক্ষে অনুমতি ব্যতীত পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ করে মান মর্যাদা হানীকর, আক্রমণাত্মক তথ্য প্রচারের দায়ে অভিযুক্ত।

এদের দু’জনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের স্বার্থে আসামীদের নিবিড় ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে রিমাণ্ড আবেদন করবেন বলে জানান তিনি।

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন এবং আওয়ামী লীগের সমাবেশ কে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশসহ দু’গ্রুপের কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা দিকে উপজেলার বাঘড়ি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শহরের বাইপাস মোড়ে উপজেলা বিএনপি দলীয় কাযার্লয়ে সম্মেলনের আয়োজন করে। এর কাছেই বাইপাস সড়কের পাশে উপজেলা আওয়ামী লীগও একই সময় সমাবেশ ডাকে। এতে সকাল থেকেই দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধে উপজেলা বিএনপির আয়োজন সরিয়ে বাঘড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। দুপুরে সেখানে দু’পক্ষ মিছিল-স্লোগান নিয়ে অবস্থান নিলে সংঘর্ষ বাধে। এসময় লাঠি সোটা আর ইটপাটকেলের আঘাতে এক পুলিশ সদস্যসহ দুই পক্ষের কমপক্ষে ১০জন আহত হন।
এরপর ব্যপক সংখ্যক পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা জুড়ে আতংক বিরাজ করছে। ঝালকাঠি সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাসুদ রানা বলেন, পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

 

ব‌রিশা‌লে হাসপাতা‌লের টয়‌লে‌টের পাইপ কে‌টে এক নবজাতক‌কে উদ্ধার করা হ‌য়ে‌ছে‌। শ‌নিবার (৭ মে) বিকা‌লে ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লের প্রসূ‌তি ওয়া‌র্ডে এই ঘটনা ঘ‌টে।

নবজাতকের পিতার নেয়ামত উল্লাহ পেশায় জে‌লে এবং মা শিল্পী বেগম গৃহবধূ। তারা পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠির গণমান শেখপাড়া বাজার এলাকার বা‌সিন্দা।

নবজাত‌কের পিতা নেয়ামত উল্লাহ জানান, আমার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভ‌র্তি করা হয়। শেষে ডাক্তার সিজারিয়ানের সিদ্ধান্ত নেয়। বিকা‌লে অপারেশনের ওষুধ কিনে আনতে বললে আমি সেগুলো কিনে আনতে যাই। ওষুধ নিয়ে ফিরে এসে দেখি টয়লেটে অনেক লোকজন ভিড় করে আছেন। আমার স্বজনরা কান্নাকাটি করছেন।

অন্য লোকজন আমাকে বলেন আমার স্ত্রী টয়লেটেই সন্তান প্রসব করেছেন। হাসপাতালের একজন আমাকে টয়লেটের মধ্যে হাত দিতে বলেন। আমি পুরো হাত ঢুকিয়ে দিয়েও কিছু পাইনি। কান দিয়ে শুনি টয়লেটের পাইপের মধ্য থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। হাসপাতালের লোকজন বলেছেন, ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়েছে। আমি কারো অপেক্ষা না করে দ্রুত দোতলায় গিয়ে টয়লেটের পাইপ ভেঙে আমার মেয়ে সন্তানকে বের করে নিয়ে আসি।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রী আমাকে বলেছেন প্রসব বেদনায় সে টেরই পায়নি কখন টয়লেটের ক‌মো‌ডে সন্তান প্রসব হয়ে গেছে। তার সাথে আমার এক আত্মীয় ছিলেন। তিনি না দেখলে হয়তো আমার মেয়েকে আর পেতাম না।

ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মেডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে বলেন, উদ্ধার করা শিশুকে নবজাতক শিশুর বিশেষ সেবা ইউনিটে (স্ক্যানু) ও তার মা প্রসূতি ওয়ার্ডে বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তাদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

জেলার মেঘনা, তেঁতুলিয়াসহ দখিনের বিভিন্ন নদীতে অবাধে মশারি

জাল, বিহিন্দী ও কারেন্ট জাল দিয়ে নির্বিচারে চিংড়ির রেনু পোনা (গলদা চিংড়ি)

নিধনের মহোৎসব চলছে। এসব রেনু পোনা ধরতে গিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য মাছের রেনু পোনা ধ্বংস হচ্ছে প্রতিদিন।

 

অভিযোগ রয়েছে, এ সব নিষিদ্ধ রেনু পোনা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিরাপদ

হিসেবে সড়ক ও নদী পথ দিয়ে বড় বড় ড্রাম কিংবা পাতিল ভর্তি করে খুলনা, বাগেরহাট,

সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে চালান করছে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র। ফলে জলজ

প্রাণির ওপর মারাত্মক প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা মৎস্য

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, একটি চিংড়ির রেনু পোনা (পিএল-পোস্ট লাম্বা) ধরার

জন্য অন্য প্রজাতির নয় থেকে ১২টি রেনু পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে। এরমধ্যে দুই হাজার

প্রজাতির মাছ ও বিভিন্ন প্রকারের জলজপ্রাণি প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে। যেকারনে মেঘনা,

তেঁতুলিয়াসহ দখিনের নদীতে অন্য প্রজাতির মাছ ও অনান্য জলজপ্রাণির ওপর মারাত্মক

ক্ষতিকর প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণেই সরকার বাগদা ও গলদা প্রজাতির রেনু পোনা আহরণ ও সংরক্ষণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

 

মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, জেলেরা মশারি জাল ও বিহিন্দী জাল

দিয়ে রেনু পোনা (গলদা চিংড়ি) ধরছে। প্রতিবার জাল ফেলে সাত থেকে আটটি চিংড়ির

রেনু পোনা পেলেও তার সাথে উঠে আসছে টেংরা, পোয়া, তপসিসহ অসংখ্য প্রজাতির

মাছের পোনা। চিংড়ি পোনা আলাদা করে মাটি ও অন্যান্য পাত্রে জিইয়ে রাখলেও অন্য

প্রজাতির মাছের পোনাগুলো ডাঙায় অথবা চরে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো মারা যাচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিরা জানান, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পোর্টরোডের

রনির ছত্রছায়ায় কতিপয় প্রভাবশালী দালাল ক্ষমতার দাপটে জেলেদের একপ্রকার জোরপূর্বক

বাধ্য করে বিহিন্দী জাল, মশারী জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে রেনু পোনা নিধন করাচ্ছেন

দেদারছে। সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, নেহালগঞ্জ ফেরীঘাট, লাহারহাট ফেরিঘাট, গোমা

ফেরিঘাটসহ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে জেলেদের

কাছ থেকে রেনু পোনা ক্রয় করে তা বড় বড় ড্রাম ভর্তি করে প্রতিদিন ১৮টি ট্রাকে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে চালান করছেন।

প্রতিদিন ট্রাকভেদে ১৮ থেকে ৩০টি ড্রাম বহন করা হয়। একেকটি ড্রামে ১০

হাজার করে রেনু বহন করা হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাকে এক লাখ ৮০ হাজার থেকে তিন

লাখ পোনা বহন করা হয়। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ৬০ লাখ রেনু পোনা পাচার হচ্ছে।

এছাড়া নদীপথে ট্রলারে পাতিল ভর্তি করে পাচার হয় আরও কমপক্ষে ৪০ লাখ রেনু পোনা।

রনি বলেন,
মাসোয়ারা দিয়েই ট্রাক ভর্তি করে রেনু পোনা পাচার করা হয়। মাঝে মধ্যে মাসিক টাকা

দিতে বিলম্ব হলেই অভিযানের নামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রেনু পোনা ভর্তি ট্রাক আটক করে থাকেন।

 

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন

সুলতান মাহমুদ বলেন, নদী থেকে চিংড়ির রেনু ধরায় মৎস্য ভান্ডার বিরাট হুমকির মুখে

পরেছে। বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে বিষয়টি দীর্ঘদিন থেকে সতর্ক করা হলেও এ বিষয়ে কার্যকরী

কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় নদী থেকে চিংড়ির রেনু ধরা আজও বন্ধ হয়নি। এজন্য এখনই

কৃত্রিম উপায়ে (হ্যাচারি পদ্ধতি) চিংড়ির রেণু উৎপাদন করা হলে নদী থেকে চিংড়ির রেনু ধরা অনেকটাই বন্ধ হবে।

 

বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল কর্তৃপক্ষ।

আটককৃতরা হলেন, মো. মনির হোসেন হাওলাদার (৩২), মো. গোলাম কিবরিয়া (৩৮), শুভ দত্ত (২৭) ও মো. সাব্বির আকন (২৬)।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১২টায় নগরীর ২০ নং ওয়ার্ডের হাজী জালাল উদ্দিন লেনস্থ ‘বানাত মঞ্জিল’ নামক বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ঐ বাসার সামনে থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ কাশিপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ মৃত সামসুল হক হাওলাদারের ছেলে মো. মনির হোসেন হাওলাদার ও এনায়েতুর রহমানের ছেলে মো. গোলাম কিবরিয়াকে আটক করা হয়।

অপরদিকে পুলিশের পৃথক টিম বুধবার রাত ১১টায় নগরীর ১৯ নং ওয়ার্ড নাজিরের পুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ পিস ইয়াবাসহ ২ জনকে আটক করে। এ সময় নগরীর ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্বপন দত্তের ছেলে শুভ দত্তকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে মাদক সংশ্লিষ্ট কাজে সহায়তা করার জন্য মো. সিদ্দিকুর রহমান আকনের ছেলে মো. সাব্বির আকনকে আটক করা হয়।

পরে মামলা দায়ের শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম জানান, উভয় আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।