এস এম মিরাজ ||পুলিশ ও কোস্টগার্ড পাহারায় চলছে শত শত লোকের বেলতলা খেয়া পারাপার।গত ৪ জুলাই লকডাউন এর ভিতরে অতিরিক্ত লোক নিয়ে পারাপারের সময় ট্রলারডুবির ঘটনায় থেমে নেই তাদের পারাপারের ব্যবস্থা।

চলমান লকডাউনে নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বরিশাল বেলতল খেয়াঘাটের নৌকায় গাদাগাদি করে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। লকডাউনের অজুহাতে যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

জেলা প্রশাসন থেকে করোনাকালে প্রত্যেক খেয়ায় ১০ জন যাত্রী বহনের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না মাঝি-মাল্লারা। ঘাটে টানানো নেই জেলা পরিষদের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। তাই নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বরিশাল নগরীর বেলতলা খেয়াঘাট সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ খেয়াঘাটে বরিশাল জেলা পরিষদ কর্তৃক ভাড়ার তালিকা টাঙানোর কয়েক দিনের মধ্যেই তা উধাও হয়ে যায়। সেই সুযোগে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন মাঝি-মাল্লারা।

নগরীর বেলতলা খেয়াঘাটে দেখা গেছে প্রতি মোটরসাইকেল চালকসহ ১০০ টাকা, বাইসাইকেল ৫০ ও জনপ্রতি ৩০ টাকা হারে ভাড়া আদায় করতে। হেনস্তার ভয়ে সাধারণ যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিলেও রাতের অন্ধকারে তা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেওয়া হয়।

একই দৃশ্য নগরীর কাউরচর খেয়াঘাট ও চাঁদমারী খেয়াঘাটে। লকডাউনে জেলা প্রশাসন থেকে চরকাউয়া খেয়াঘাটে স্বাস্থ্যবিধি পাঁচ টাকা হারে ১০ জন যাত্রী পারাপারের জন্য বলা হলেও তা মানছেন না মাঝিরা। প্রত্যেক নৌকায় গাদাগাদি করে যাত্রী উঠিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা।

এতে প্রায়ই যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায় মাঝিমাল্লাদের। লকডাউনের পূর্বে চরকাউয়া খেয়াঘাটে নির্ধারিত ভাড়া ছিল ৩ টাকা। করোনাকালে তা বাড়িয়ে পাঁচ টাকা করা হলেও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

বেলতলা ঘাটে নূরজাহান নামে একজন মধ্যবয়স্ক নারী নিহত স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঘাটে আসলে মাঝি ২শ টাকা দাবি করেন। অবশেষে ওই দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করেই নদী পার হতে হয়েছে।

তিনি জানান, প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার কত তা জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি টাকায় নদী পার হতে হয়েছে।

বেলতলার বাসিন্দা সবজি ব্যবসায়ী জুলাস জানান, প্রতিদিন তিনি দুইবার কীর্তনখোলা নদী পার হতে হয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ফলে প্রতিদিনই তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত খেয়াঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দাবি করেছেন তিনি।

পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক মানুওয়ারুল ইসলাম অলি জানান, খেয়াঘাটের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়াটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলাপ করে করোনাকালে পাঁচ টাকা করে ১০ জন যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু তা অমান্য করে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন মাঝিরা।

শতশত লোক নিয়ে ট্রলারভর্তি করে নদী পারাপারের ঘটনায় বেলতলার ইজারাদার মোখলেসের কাছে জানতে চাইলে সে জানান,থানার ওসি আমাকে বলেছে পারাপার করতে (কথার অডিও রেকর্ড রয়েছে)।এ ব্যাপারে কাউনিয়া থানার ওসি জানান আমি বেলতলা খেয়াঘাটের পারাপারের জন্য কাউকে অনুমতি দেয়নি। শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তি ও রোগী পারাপার করতে পারবে সেটা আমি বলেছি।আপনাদের মিসগাইড করার জন্য ইজারাদার একথা বলেছে।

স্থানীয় সিরাজ নামের আরেক বাসিন্দা জানান,বরিশাল সিটি কলেজের প্রফেসর কাওছার এই খেয়ার ইজারা নেন। তার নেতৃত্বেই চলছে এই খেয়া পারাপারে জুলুম অত্যাচার।সে নির্ধারণ করেছে অতিরিক্ত ভাড়া।অদৃশ্য ক্ষমতার বলে প্রশাসনকে জিম্মি করে সে ৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা করে নিচ্ছে।সে আরও জানান, কাওসার নির্দেশ দিয়েছে যদি কেউ ভাড়া কম দিবে বলে তাহলে তাকে খেয়া পারাপার না করার জন্য।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে দেলোয়ার ও মোকলেস অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে।আলোকিত বরিশালের প্রতিবেদক তথ্য নিয়ে অফিসে আসলে কাউসার ফোন দিয়ে তাকে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং প্রতিবেদকের সাথে দেখা করে টাকা দেবার চেষ্টা করেন (সমস্ত কথা রেকর্ড রয়েছে)। ইজারাদার কাওসারের জুলুম অত্যাচার থেকে মুক্তি চাচ্ছে বেলতলা খেয়া পারাপারের যাত্রীসাধারণ। এব্যাপারে কোস্টগার্ডের সিসি কে ফোন দিলে সে জানান, এর আগেও ট্রলার ধরেছি,অতি শীঘ্রই তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়াও টাকা খুচরা না থাকার বাহানায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। তাই ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের উচিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা।

 বরিশালে কঠোর লকডাউনেও বরিশালের রাস্তায় থেমে নেই থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা। আর এ লকডাউনে রাস্তা ফাঁকা পেয়ে যাত্রীদের অভিনব কায়দায় করা হচ্ছে নানা হয়রানি।
 ৭ জুলাই দুপুরের দিকে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা ড্রাইভার মোঃ আলামিন মৃধা।
জানা যায়, বাবুগঞ্জ থেকে নতুন বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন শাকিরা বেগম নামে এক নারী যাত্রী পথিমধ্যে চাঁদপাশা তালতলা নামক স্থানে গাড়ি থামিয়ে গাড়ির পর্দা টেনে গাড়ির ভিতরে ঢুকে ড্রাইভার মোঃ আল আমিন নারীকে চেপে ধরে টানাটানি করছিলেন এসময় ওই মহিলা ডাক চিৎকার দিলে লম্পট ড্রাইভার ঐ নারী ও তার সাথে থাকা দুই শিশু বাচ্চাকে গাড়ি থেকে ফেলে রেখে ব্যাগ ও মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
তার ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তার আত্মীয় স্বজনকে খবর দিলে তারা তাৎক্ষণিক ঘটনা স্থানে উপস্থিত হন এবং তাকে উদ্ধার করে বিমানবন্দর থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বিমানবন্দর থানা পুলিশের এএসআই কামাল তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে ও শাকিরা বেগমের নিকট থেকে প্রাথমিক ঘটনা জেনে ওই নারীকে থানায় এসে অভিযোগ দিতে বলেন। এবং তিনি সাথে সাথে থানায় যান অভিযোগ দেয়ার জন্য।
ভুক্তভোগী শাকিলা বেগম ৭ নং দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহের চর গ্রামের মোঃ জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি বলেন আমার সাথে অশ্লীল আচরণ ও খারাপ কাজ করতে চাওয়া এ জানোয়ারের কঠিন বিচার চাই।
এদিকে এ ঘটনা কাশিপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক কাশিপুর ইউনিয়ন এর ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ রাসেল মল্লিক জানতে পেরে বিমানবন্দর থানার এএসআই কামাল হোসেন কে সাথে নিয়ে স্থানীয় ড্রাইভারদের মাধ্যমে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়ে লম্পট ড্রাইভার মোঃ আল-আমিন মৃধা আটক করা হয়।
লম্পট এ ড্রাইভার মোঃ আলামিন মৃধা কাশিপুর ইউনিয়নের বিহঙ্গল ৫ নং ওয়ার্ডের মোঃ কালাম মৃধা’র ছেলে ।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার এএসআই কামাল বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সহযোগিতায় লম্পট ড্রাইভারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সমর্থকের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল >> বাড়ির ছাদে আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের জামালপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ রসূলপুর গ্রামে।
মৃত যুবকের নাম স্বপন মণ্ডল। তিনি ওই গ্রামের নওশা মণ্ডলের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মণ্ডল বলেন, আর্জেন্টিনার ভক্ত স্বপন বুধবার দুপুরে নিজ বাড়ির ছাদে উঠে বাঁশের খুঁটিতে করে দেশটির পতাকা টাঙানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় অসাবধানতায় ৩৩ কেভি ভোল্টের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ছাদ থেকে ছিটকে নিচে পড়েন তিনি।
আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নুরুজ্জামান বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
 রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
বুধবার ভোরে অভিযানের সময় মুক্তারের স্ত্রী ও দুই ভাতিজাকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ওই বাড়ি থেকে চারটি বিদেশি অস্ত্র, নগদ প্রায় কোটি টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (চারঘাট সার্কেল) রুবেল আহমেদ।
তিনি জানান, বাঘা থানার একটি মামলার ঘটনায় পুলিশ পৌর মেয়রের বাড়িতে অভিযানে যায়। এ সময় বাড়িটিতে তল্লাশি চালালে চারটি পিস্তল, প্রায় ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ও ইয়াবা পাওয়া যায়। এ সময় মেয়র মুক্তার আলীকে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে থাকা তার স্ত্রী জেসমিন আকতার এবং দুই ভাতিজা শান্ত ইসলাম ও সোহান আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলছে। দুপুর ১২টায় বাঘা থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের বিস্তারিত জানানো হবে।
প্রসঙ্গত গত পৌরসভা নির্বাচনে মুক্তার আলী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে মেয়র নির্বাচিত হন। সে সময় মুক্তারের সমর্থকদের হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুক্তার আলীকে আড়ানী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
 ভোলার চরফ্যাসনে রাতের আধাঁরে হাত বেঁধে ১২ বছরের  জেলে কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দুই বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। ভিক্টিম শিশুর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে দুই ধর্ষক পালিয়ে যায়। এসময় হাত বাধা অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।
এঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ৫ জুলাই দক্ষিণ আইচা থানায় আনোয়ার ও রিয়াজ নামের দুই যুবককে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। গত ৪জুলাই রাতে নজরুল নগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ভুক্তভোগীর বসতঘরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষক আনোয়ার একই গ্রামের শামছু প্যাদার ছেলে ও রিয়াজ আনিছ প্যাদার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই রাতে শিশুর মা তার ভাশুরের নবজাতক সন্তানকে দেখতে যান। তার বাবা মাছ ধারার কাজে নদীতে ছিলেন। তার ছোট দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে তার মেয়ে একই ঘরে ছিলেন। গভীর রাতে প্রতিবেশী দুই যুবক বসত ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে ঘরে  ঢুকে তার ১২ বছর বয়সী শিশু কন্যাকে হাত বেধে মুখ চেপে ধরে জোরপুর্বক ধর্ষণ করেন। এসময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরে এসে প্রতিবেশীদের সহায়তায় হাত বাধাবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পরের দিন তিনি বাদী হয়ে দুই যুবককে আসামী করে দক্ষিণ আইচা থানায় মামলা দায়ের করেন।
দক্ষিণ আইচা থানার ওসি মোঃ হারুন অর রশিদ জানান, এঘটনায় মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী শিশু কন্যাকে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’
 বরিশাল নগরীর ডেফুলিয়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন সোনামিয়ার পুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল মশিউর রহমান ওরফে অরিন বাবুকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম। এসময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫০০ পিস ইয়াবা। মঙ্গলবার বিকেলের এই অভিযান চালানো হলেও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আজ বুধবার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করা হয়েছে।
আটক মশিউর রহমান ওরফে (বাবু) কোতয়ালি মডেল থানাধীন মুসলিম গোরস্থান রোডস্থ ‘তাসিন ভিলা’র বাসিন্দা মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, মশিউর রহমান ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশে সোনামিয়ার পুল এলাকায় অবস্থান করছে, এমন খবরে তাদের একটি টিম পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে সেখানে হানা দেয়। এবং ঘটনাস্থল থেকে বাবুকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার শরীরে তল্লাশি চালিয়ে ১৫০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এবং জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে ইয়াবা ক্রয়-বিক্রির সাথে জড়িত। এই অভিযানে ডিবি পুলিশের এসআই সৈয়দ খাইরুল আলমও অংশ নেন।
এই ঘটনায় ডিবি পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেছে। এবং সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার যুবককে আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়ে দেন।’
 ভোলা সদরের পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে মারিয়া নামে তিন মাসের এক কন্যাশিশুকে পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশু মারিয়া ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাঙ্গাসিয়া গ্রামের রিকশাচালক মো. মঞ্জুর আলমের মেয়ে। আজ বুধবার (০৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুর বাবা মঞ্জুর আলম ও মা শাহনাজ বেগমকে আটক করা হয়েছে।
ইলিশা ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সকালে খবর পেয়ে মঞ্জুর আলমের বাড়িতে যাই। মঞ্জুরের স্ত্রী শাহনাজ বেগম আমাকে জানিয়েছেন মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে চার ডাকাত মুখোশ পরে ঘরে ঢোকে। পরে শাহনাজ বেগমের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলেন তারা। এ অবস্থায় শিশুসন্তান কান্না করলে ডাকাতরা ঘরের দরজা খুলে পুকুরে ফেলে দেয়। সেই সঙ্গে ঘরে থাকা ১৩০০ টাকা ও স্বর্ণের চেইন, কানের দুলসহ প্রায় এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় ডাকাতরা। স্বামীর ঘুম ভাঙলে ঘটনা খুলে বলেন শাহনাজ। তবে ডাকাতদের চিনতে পারেননি বলে দাবি করেছেন শাহনাজ বেগম। বিষয়টি আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে না হওয়ায় পুলিশকে খবর দিই।
ভোলা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনায়েত হোসেন বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির বাবা মঞ্জুর আলম ও মা শাহনাজ বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক||বরিশাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনা প্রতিরোধে ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে বরিশাল জেলা প্রশাসনেরৎ পক্ষ থেকে আজ বুধবার সকালে ৩টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসেন, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত ফারাবী ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রয়া ত্রিপুরা। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে গীর্জা মহল্লার মোবাইল বাজার দোকান সহ ২৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কে ২৪ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয় যাতে করে ভবিষ্যতে সরকারি আইন অমান্য না করে। একটি সূত্র জানান,বরিশাল নগরীর গির্জামহল্লা মোবাইল বাজার মোবাইলের দোকান টি দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি আইন অমান্য করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দোকানের একটি শাটার খুলে রেখে দোকানের বেচাকিনা করে আসছে।ব্যবসায়ী সমিতির লোকজন তাকে নিষেধ করলো কারো কোন কথায় কর্ণপাত না করে নিজের ইচ্ছা খুশিমতো ব্যবসা করে আচ্ছে।লোক সমাগম করে তার প্রোডাক্ট গুলো বিক্রি করছে সকাল থেকে রাত অবধি।লোকের সমাগম করে দ্রুত করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক।স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান,দোকানের এক শাটার খুলে রেখে দোকানের সামনে একজন কর্মচারী রেখে সে এবং তার কর্মচারীরা ভিতরে বসে মোবাইল সহ বিভিন্ন মালামাল ও বিক্রি করছে।সামনের ওই কর্মচারী, ম্যাজিস্ট্রেট দেখলে দোকানের ওই শাটার বন্ধ করে দেয় এবং ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলে দোকানের শাটার টি খুলে ফেলে।বরিশাল শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান গীর্জা মহল্লা।গীর্জা মহল্লার আশেপাশেই বসে প্রশাসনের একাধিক চেকপোস্ট।কোন ক্ষমতার বলে প্রশাসনের সামনে সে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান খোলা রাখে।স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই দাবি সরকারি আইন অমান্য করলে ওই দোকান মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।সরকারি আইন আইন অমান্য করায় আজ ম্যাজিস্ট্রেট তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা খুশি হয়েছেন একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

মো:রাজিবুল হক (বরগুনা জেলা সংবাদদাতা):
সারাদেশের ন্যায় বামনায় ও করোনা পজেটিভ ব্যাপক হারে বাড়ছে। নমুনা পরীক্ষার ৫০% ই পজেটিভ। গত এক সপ্তাহে বামনায় মোট আক্রান্ত ৩৮ জন। এ দিকে ঘরে ঘরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মানুষ মনগড়া চিকিৎসা নিচ্ছে। তারপর টেস্ট করাতে অনিহা।তবে যাদের করোনা উপসর্গ আছে তাদের অবশ্যই বামনা হাসপাতালে গিয়ে টেষ্ট করানো উচিত এবং হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহন করা উচিত।বামনা হাসপাতালে করোনা রুগীর যথেষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্হা রয়েছে।সরকারের নির্দেশনা একটা লোকও যেন বিনাচিকিৎসায় মারা না যায়।
বামনা হাসপাতালের আরএমও ডাঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন আতংকিত না হয়ে হাসপাতালে এসে টেষ্ট করান এবং সেবা নিন।প্রয়োজন হলে ভর্তি হন।আমাদের সেবা দেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্হা রয়েছে।টেষ্ট করালে আপনী বাসায় চিকিৎসা নিলেও আলদা আইসোলেশনে থাকতে পারবেন নিজও নিরাপদে থাকতে পারেন পরিবারকে ও নিরাপদে রাখতে পারেন।
উপজেলা স্বাস্হ্য কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অসহায়দের ফ্রি টেষ্ট সহ ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্হা রয়েছে।তাই বাসায় না থেকে লক্ষন দেখা দিলেই হাসপাতালে আসুন।আমরা আপনাদের শতভাগ সেবা দিতে প্রস্তুুত আছি। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং আমরা স্বাস্হ্য বিভাগ বামনাকে করোনা মুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিবেক সরকার বলেন বামনার সকল মানুষের সহযোগিতায় আমরা লকডাউনের ৫ম দিন অতিবাহিত করলাম এবং অনেকটাই সফল হয়েছি।তবে মানুষ আর একটু সচেতন হলে বামনাকে করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবো বলে আশা করছি।

 

করোনাভাইরাসের (Coronavirus) উর্ধ্বগতি না কমায় সর্বাত্মক লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। আজ সোমবার (০৫ জুলাই) চলমান কঠোর বিধিনিষেধ ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

করোনা নিয়ন্ত্রণে গত ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে সারা দেশে। লকডাউনের চুতর্থ দিন রোববার চলমান কঠোর লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। আর আজ লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এলো সরকারের পক্ষ থেকে।

এর আগে কমিটির সুপারিশের আলোকে ২৮ জুন থেকে ৩০ জুন তিন দিন সীমিত পরিসরে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার।

এরপর ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী শুরু হয় কঠোর বিধিনিষেধ। যা শেষ হবে ৭ জুলাই। নতুন করে ৭ দিন সময় বাড়ানো হলে ১৪ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই কঠোর বিধিনিষেধ।

গত ৩০ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে লকডাউনের বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে।

লকডাউনে জরুরি সেবা দেয়া দপ্তর-সংস্থা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস, যন্ত্রচালিত যানবাহন, শপিংমল-দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে শিল্প-কারখানা খোলা থাকলেও জনসমাবেশ হয় এমন কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না এই সময়ে।

বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। বিনা প্রয়োজনে বের হলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। গত চারদিনে শুধু ঢাকায়ই সহস্রাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।